📄 আরবীয় স্বভাব, দেশ জয় ও উন্নয়নমূলক কাজ
আরবীয় স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখা: এ তাদের একটি বড় কৃতিত্ব যে, খিলাফত পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে তারা আরবীয় প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখে। আরবদের সরলতা ও ঐতিহ্য তারা সংরক্ষণ করে। তাদের ভিত্তি ছিল শক্তি, সাহস ও বীরত্ব। অনারবদের জীবনের কোন কৃত্রিমতা ব্যক্তি, সমাজ, আচার-অনুষ্ঠান কোথাও কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
দেশ জয়: উমাইয়্যা যুগে এত বেশী দেশ ও অঞ্চল বিজিত হয় যে, গোটা ইসলামের ইতিহাসে তার কোন নজীর খুঁজে পাওয়া যাবে না। ত্রিপলি, তিউনিসিয়া, মরক্কো, স্পেন, কনস্টান্টিনোপল, ইরাক, খুরাসান, তাবারিস্তান, জুরজান, সিজিস্তান, আফগানিস্তান, ভারতবর্ষ, চীন ইত্যাদি দেশ ইসলামী খিলাফতের অংশে পরিণত হয়। এ ক্ষেত্রে খলীফা আল-ওয়ালীদের শাসনকালকে গৌরবজনক অধ্যায় বলে গণ্য করা হয়। ৬৩৪ নিয়মতান্ত্রিকভাবে নৌ অভিযানের সূচনা হয় এই উমাইয়্যা যুগে এবং তা ব্যাপকতা লাভ করে। এ সময় যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভূমি জরিপ: ভূমি জরিফের কাজ শুরু হয় উমাইয়্যা যুগে। ইয়াযীদ ইবন 'আবদিল মালিক ভূমি জরিফ করান এবং 'উমার ইবন হুবাইরাকে ইরাকের ভূমি বন্দোবস্ত দানের নির্দেশ দেন। ৬৬
সেচের জন্য কূপ-খাল খনন: হযরত মু'আবিয়া (রা) সেচ ব্যবস্থার প্রতি ভীষণ গুরুত্ব দেন। তিনি নাহ্রু কাজামা, নারু আযরাক, নারু শুহাদা' ইত্যাদি খাল খনন করেন। ৬৩৭
পানীয় জলের জন্য খাল খনন: খলীফা সুলায়মান ইবন 'আবদিল মালিক মক্কায় একটি খাল খনন করেন। খলীফা আল-ওয়ালীদ বসরায় 'নাহরু 'উমার' নামক খাল খনন করেন।
রাস্তা-ঘাট সমতলকরণ: আল-ওয়ালীদ আরবের রাস্তা-ঘাট সমতল করে জনগণের চলাচলের জন্য সুগম করেন, আর সেই সংগে পথচারীদের পানির প্রয়োজন মেটানোর জন্য মাঝে মাঝে কূপ খনন করান।
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা: আল-ওয়ালীদ প্রথম মুসলিম শাসক যিনি জনগণের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ৬৩৯
ভাতা প্রবর্তন: আল-ওয়ালীদ অন্ধ, আঁতুড়, খঞ্জ, কুষ্ঠরোগী, দুঃস্থ ও ইয়াতীমদের জন্য ভাতা চালু করেন। ৬৪১
ভবন নির্মাণ: স্থাপত্য শিল্পের উন্নতি বানু উমাইয়্যাদের যুগে হয়েছে। দিমাশকের জামে' মসজিদ, মসজিদে নববী, মসজিদে আকসা পুনর্নির্মাণ এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ।
টিকাঃ
৬৩৩. আদাবুস সুলতানিয়্যা-৩২
৬৩৪. তারীখ আল-খুলাফা'-২২৪
৬৩৫. মুরূজ আয-যাহাব (নাফহুত তীব-এর পার্শ্বটীকা)-৩/২১
৬৩৬. তারীখ আল-ইয়া'কুবী-২/৩৭৬
৬৩৭. খুলাসাতুল ওয়াফা-২৩৭
৬৩৮. তারীখ আল-ইয়া'কুবী-২/৩৫২
৬৩৯. প্রাগুক্ত-২/৩৪৮
৬৪০. প্রাগুক্ত-২/৩৩৮
৬৪১. প্রাগুক্ত-২/৩৪৫; তারীখ আল-খুলাফা'-২৪৪
৬৪২. তারীখ আল-ইয়া'কুবী-২/২৭৬
৬৪৩. আদাব আস-সুলতানিয়্যা-১১৪
📄 আওলিয়াত বা উমাইয়্যাদের সম্পূর্ণ নতুন কার্যক্রম
উমাইয়্যাদের উন্নত রাষ্ট্র ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই যে, তারা বিভিন্ন রকমের নতুন ব্যবস্থাপনা চালু করেন।
📄 ডাক ব্যবস্থার প্রচলন
হযরত মু'আবিয়ার (রা) খিলাফতের পূর্বে কোন ডাক ব্যবস্থার প্রচলন ছিল না। এ কারণে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক খবরাখবর দ্রুত আদান-প্রদান সম্ভব হতো না। হযরত মু'আবিয়া (রা) এ সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত গতির ঘোড়া প্রস্তুত রাখেন। এতে খবর আদান-প্রদান অনেকটা সহজ হয়ে যায়। আরবীতে এই বিভাগের নাম 'বারীদ' (বরিদ)।
📄 দিওয়ানুল খাতাম
হযরত মু'আবিয়ার (রা) খিলাফতের পূর্বে খলীফাগণ আদেশ-নিষেধ সম্বলিত যে সকল চিঠিপত্র লিখতেন, তা কোন নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে লেখা হতো না। এ কারণে কেউ জালিয়াতি করতে চাইলে সহজেই তা করতে পারতো। হযরত মু'আবিয়া (রা) 'দিওয়ানুল খাতাম' নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু করেন। এরপর যে সকল চিঠি-পত্র লেখা হতো তার কপি করে নথিভুক্ত ও সীল-মোহর করা হতো। ৬৪৪
টিকাঃ
৬৪৪. প্রাগুক্ত: ৯৭-৯৮