📄 ‘উমারের ভাষা দক্ষতা
একদিন ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয বসে আছেন খলীফা আল-ওয়ালীদ ইবন ‘আবদিল মালিকের নিকট। আল-ওয়ালীদ ছিলেন একজন অশুদ্ধ ভাষী ব্যক্তি। তিনি চাকরকে বললেন: ‘ইয়া গুলামু আদউ লি সালিহ’ (ইয়া গুলামু আদউ লি সালিহুন) অর্থাৎ তিনি বলতে চাচ্ছেন: চাকর। সালিহকে আমার কাছে ডেকে আন। যেমন মনিব তেমন চাকর। সে ডাকলো : ‘ইয়া সালিহান’ (ওহে সালিহ)। তার ডাক শুনে আল-ওয়ালীদ চাকরকে বললেন: তুমি আলিফ ফেলে দাও। অর্থাৎ ‘ইয়া সালিহু’ বল। তখন ‘উমার বললেন: আমীরুল মু'মিনীন, আপনিও একটি আলিফ বাড়িয়ে দিন। অর্থাৎ ‘আদউ লি সালিহান’ বলুন। আসলে মনিব ও চাকর উভয়ে স্বর ধ্বনির ব্যাপারে ভুল করেছিল। চাকরকে মনিব শুদ্ধ করেন এবং মনিবকে করেন ‘উমার।
টিকাঃ
৬০৬. প্রাগুক্ত-২/৪৮০, ৪/৪২৩
📄 আমীরুল মু’মিনীন ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ)-কে লেখা হাসান আল-বসরীর (রহ) কয়েকটি পত্র
‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর ন্যায়পরায়ণ শাসকের গুণাবলী কি তা জানতে চেয়ে হাসান আল-বসরীকে (রহ) একটি পত্র লেখেন। জবাবে হাসান (রহ) ন্যায়পরায়ণ শাসকের পরিচয় তুলে ধরে খলীফাকে একটি পত্র লেখেন। পত্রটির কিছু অংশ নিম্নরূপ:
‘হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ তা'আলা ন্যায়পরায়ণ শাসককে প্রত্যেক ঝোঁক-প্রবণ মানুষের জন্য অবলম্বন, প্রত্যেক অত্যাচারীর জন্য সত্য-সঠিক পথ, প্রত্যেক বিনষ্ট ও বিকৃত মানুষের জন্য সংশোধন, প্রত্যেক দুর্বলের জন্য শক্তি, প্রত্যেক অত্যাচারিতের জন্য সুবিচার এবং প্রত্যেক দুঃখিতজনের আশ্রয়স্থল করে দিয়েছেন। হে আমীরুল মু'মিনীন! ন্যায়পরায়ণ শাসক হলেন সেই রাখালের মতো যে তার উটের প্রতি দয়া ও মমতাশীল। ন্যায়পরায়ণ শাসক হলেন সেই স্নেহপ্রবণ পিতার মতো যিনি তাঁর সন্তানদেরকে শৈশবকালে আদর-স্নেহ দিয়ে লালন-পালন করেন। ন্যায়পরায়ণ শাসক হলেন সেই স্নেহময়ী পবিত্র মায়ের মতো। ন্যায়পরায়ণ শাসক আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে দণ্ডায়মান। তিনি আল্লাহর কথা শোনেন, বান্দাদের শোনান; আল্লাহকে দেখেন, তাদেরকে দেখান; আল্লাহর আনুগত্য করেন এবং তাদেরকে সে দিকে চালিত করেন।
হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি মৃত্যু ও তার পরবর্তী অবস্থা এবং সেখানে আপনার লোক-লস্কর ও সাহায্যকারীর স্বল্পতার কথা স্মরণ করুন। আপনি মৃত্যু ও তার পরবর্তী বিভীষিকাময় অবস্থার জন্য পাথেয় প্রস্তুত করুন। জেনে রাখুন, আপনি যে বাড়ীতে আছেন, সেটি ছাড়াও আপনার আরেকটি বাড়ী আছে। সেখানে আপনার অবস্থান হবে অনেক দীর্ঘ। আপনার আত্মীয়-বন্ধুরা আপনাকে একাকী কবরের গর্তে রেখে আপনার থেকে পৃথক হয়ে যাবে।
মৃত্যুর আগমন এবং আশা-আরজু বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে আপনি সুযোগের ব্যবহার করুন। আপনি আল্লাহর বান্দাদেরকে জাহিলী আইন ও রীতি-পদ্ধতিতে শাসন করবেন না। আপনি তাদের সাথে অত্যাচারী শাসকদের মতো আচরণ করবেন না। আমীরুল মু'মিনীন! আমি আমার এই উপদেশ দ্বারা সেই কাজ করতে পারবো না যা আমার পূর্বে জ্ঞানী ব্যক্তিরা করেছেন। তবে আমি আপনার প্রতি দরদ ও সহানুভূতি প্রকাশ করতে ও উপদেশ দান করতে বিরত থাকিনি। আমার এই পত্রটিকে আপনি সেই বন্ধুর মতো মনে করুন, যে তার অসুস্থ বন্ধুকে অত্যন্ত তিক্ত ঔষুধ জোর করে পান করায় তার সুস্থতার আশায়। আমীরুল মু'মিনীন! আস-সালামু ‘আলায়কা ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!’
টিকাঃ
৬০৭. প্রাগুক্ত-১/৩৫-৩৮; ইবনুল জাওযী, আল-হাসান আল-বাসরী-৫৬; জামহারাতু খুতাব আল- 'আরাব-২/৪৯৫-৪৯৭
৬০৮. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৩/১৫২
৬০৯. জামহারাতু খুতাব আল-'আরাব-২/৪৯৭
৬১০. প্রাগুক্ত-২/৪৯৮-৪৯৯; ইবনুল জাওযী, আল-হাসান আল-বাসরী-৫৪