📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কাব্য প্রতিভা

📄 কাব্য প্রতিভা


‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) মধ্যে কাব্য চর্চার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ও রুচি ছিল না। তবে উঁচু আদর্শ ও নৈতিকতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ কবিতা মাঝে মাঝে তিনি আবৃত্তি করতেন, আবার কখনো অন্যের মুখ থেকেও শুনতেন। সে সকল কবিতা ইবনুল জাওযী তাঁর গ্রন্থের ৩০তম অধ্যায়ে সংকলন করেছেন।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কবিদের সাথে ‘উমারের সম্পর্ক

📄 কবিদের সাথে ‘উমারের সম্পর্ক


একথা সত্য যে, কবিতা জ্ঞানের একটি উত্তম ও কল্যাণকর শাখা। তবে কবিতা কেবল তখনই সাধারণ মানুষের শিক্ষা এবং সমাজ ও পরিবেশ পরিশুদ্ধির কাজে আসতে পারে যখন কবিগণ পরিশুদ্ধ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়। কিন্তু এটাকে দুর্ভাগ্য বা দুর্ঘটনা যাই বলা হোক না কেন, সে সময়ের কবিগণ ইসলামী নৈতিকতার মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল। তারা গোত্রীয় অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ও বংশীয় গর্ব ও গৌরবের পতাকাবাহী তো ছিল, কিন্তু কোন নীতি-নৈতিকতার ধারে-কাছেও ছিল না। তা সত্ত্বেও হযরত ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) পূর্বে উমাইয়্যা খলীফাগণ তাদের প্রতি অত্যধিক আনুকূল্য প্রদর্শন করতেন।

খলীফাগণ তাদের দ্বারা নানা রকম অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতেন। বিশেষতঃ আন্ত-গোত্রীয় কোন্দল সৃষ্টিতে কবিদেরকে বেশী ব্যবহার করা হতো। বিনিময়ে তারা লাভ করতো সম্মান ও বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ। উমাইয়্যা আমলের সবচেয়ে বড় তিন কবি— ফারাযদাক, আখতাল ও জারীর তো এক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

হযরত ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) খিলাফতের মসনদে আসীন হওয়ার পর সেকালের বড় বড় আরব কবিগণ তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে কাসীদা পাঠ করার জন্য দিমাশকে সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে নুসাইব, জারীর, ফারাযদাক, আহওয়াস, কুছায়্যির, হাজ্জাজ আল-কুদা'ঈ, ‘উমার ও আখতালের মত শ্রেষ্ঠ কবিগণও ছিলেন। নতুন খলীফার ক্ষমতা গ্রহণের খবর শুনে তাঁরা খুশীতে ডগমগ হয়ে এবং বড় ধরনের প্রাপ্তির আশায় দিমাশকে আসলেন। খলীফার সংগে সাক্ষাতের আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকলেন। কিন্তু ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) তাঁদের কাউকে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন না। অন্যদিকে তাঁর দরবারে ‘আলিম, ফকীহ ও মুহাদ্দিছদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তাঁদের প্রতি কোন রকম নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু কবিদের সাক্ষাতের কোন সুযোগ ছিল না।

উমাইয়্যা খান্দানের পূর্ববর্তী খলীফা ও আমীর-উমারাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সে যুগের কবিগণ একেবারেই লাগামহীন হয়ে পড়েছিল এবং সমাজে মানুষের নৈতিকতার যে চরম ধস নেমেছিল তার পিছনে তাদের রচিত কবিতার বিরাট অবদান ছিল। এ কারণে ‘উমার (রহ) যেখানে জ্ঞানী-গুণী, ও ‘আলিম-‘উলামাদের দারুণ সম্মান ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, বিভিন্ন ভাষার অনুবাদকদের উঁচুমানের সম্মানী দিয়েছেন, সেখানে কোন বড় কবিকে দু'-এক শ' দিরহামের বেশী দেননি। অবশ্য এতে কবিদের মন-মানসিকতায় দারুণ পরিবর্তনও ঘটেছিল।

টিকাঃ
৫৭৩. ইবন কুতায়বা, আশ-শি'র ওয়াশ শু'আরা-১/৫; কিতাবুল আগানী-৭/৪১, ৪৪, ৫১, ৫২, ১৭২
৫৭৪. কিতাবুল আগানী-৭/১৭২-১৭৩
৫৭৫. প্রাগুক্ত-১/১৩৫-১৩৬, ১৪৫
৫৭৬. ইবনুল জাওযী-১৬২; আল-'ইকদ আল-ফারীদ-২/৯১-৯২

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কবি কুছায়্যির

📄 কবি কুছায়্যির


কবি কুছায়্যির দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর খলীফা ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের নিকট পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সাহায্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ‘উমার কুছায়্যিরকে লক্ষ্য করে বললেন: ওহে কুছায়্যির! সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। তুমি কি এর কোন একটিতেও পড়? কুছায়্যির বললেন: হাঁ, আমি পাথেয় শেষ হয়ে যাওয়া পথিকের মধ্যে পড়ি। ‘উমার জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আবু সা'ঈদের অতিথি নও? কুছায়্যির বললেন: হাঁ, আমি তাঁর অতিথি। ‘উমার বললেন: আমি আবূ সা'ঈদের অতিথির পাথেয় শেষ হয়েছে বলে মনে করি না। এরপর কুছায়্যির ‘উমারের অনুমতি নিয়ে তাঁকে একটি দীর্ঘ কবিতা শোনান। অতঃপর ‘উমার কবি কুছায়্যিরকে তিন শ' দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।

টিকাঃ
৫৭৭. সূরা আত-তাওবা-৬০
৫৭৮. ইবন কুতায়বা, আশ-শি'র ওয়াশ-শু'আরা'-২৫৪-২৫৬; আল-'ইকদ আল-ফারীদ-২/৮৬-৯১

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কবি নুসাইব

📄 কবি নুসাইব


কবি নুসাইব ইবন রাবাহ একদিন ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি অনুমতি দিলেন না। কবি তখন দ্বাররক্ষীদের বললেন, তোমরা আমীরুল মু'মিনীনকে অবহিত কর যে, আমি এমন একটি কবিতা রচনা করেছি যার প্রথম কথাটি হলো “আল-হামদু লিল্লাহ”। তারা আমীরুল মু'মিনীন ‘উমারকে অবহিত করলো। এবার তিনি কবিকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। ভিতরে প্রবেশ করে তিনি যে কবিতাটি শোনালেন তার প্রথম দু'টি চরণ এই:
সকল প্রশংসা আল্লাহর। অতঃপর হে ‘উমার! নানাবিধ প্রয়োজন ও ভাগ্য আমাদেরকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছে। আপনি হলেন কুরায়শদের মাথা এবং ঐ গোত্রের নেতার বংশধর। আর মাথায় থাকে কান ও চোখ।

‘উমার তাঁকে দেড় শ' দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।

টিকাঃ
৫৬৯. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/২৯২
৫৮০. প্রাগুক্ত-৫/২৯২, ২/৮৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px