📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) সন্তানরা কেমন ছিলেন

📄 ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) সন্তানরা কেমন ছিলেন


‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) চার স্ত্রী ছিলেন। প্রত্যেকেরই সন্তান ছিল। লুমাইস বিন্ত ‘আলীর ছিল তিন সন্তান ‘আবদুল্লাহ, বাকর, ও উম্মু ‘আম্মার। উম্মু ‘উছমান বিন্ত শুআইবের ছিল এক ছেলে- ইবরাহীম। ফাতিমা বিন্ত ‘আবদিল মালিকের ছিল তিন ছেলে- ইসহাক, ইয়া’কূব ও মূসা। আর উম্মু ওয়ালীদের ছিল নয় ছেলে-মেয়ে। যথা: ‘আবদুল মালিক, ওয়ালীদ, ‘আসিম, ইয়াযীদ, ‘উবায়দুল্লাহ, ‘আবদুল ‘আযীয, যাবানা, আমাতা ও উম্মু ‘আবদিল্লাহ। আল-ইয়া’কূবী বলেন, মৃত্যুর সময় তিনি নয়জন পুত্র সন্তান রেখে যান।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 ‘আবদুল মালিক- ‘আবদুল ‘আযীয- ‘আবদুল্লাহ

📄 ‘আবদুল মালিক- ‘আবদুল ‘আযীয- ‘আবদুল্লাহ


‘আবদুল মালিক: অতিপ্রিয় সন্তান ‘আবদুল মালিক তাঁর জীবদ্দশায় অল্প বয়সে ইনতিকাল করেন এবং তিনি নিজে তাঁকে কবর দেন। এই ‘আবদুল মালিক ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, আল্লাহভীরু, পার্থিব ভোগ-বিলাস বিমুখ উঁচু পর্যায়ের তাপস ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানে আলোকিত একজন মানুষ। একবার তাঁর স্ত্রী খুব সেজেগুজে সামনে এলে তিনি বলেন, ‘এবার তোমার ‘ইদ্দত পালন করতে বসা উচিত।’ শামের কিছু ইসলামী ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করেছেন, ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) তাঁর ছেলে ‘আবদুল মালিককে দেখেই ‘ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সায়্যার ইবন আল-হাকাম বলেন, ‘আবদুল মালিক তাঁর পিতা ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয অপেক্ষা উত্তম ছিলেন। মায়মূন ইবন মিহরান বলেন, আমি এক বাড়ীতে তিনজন ভালো মানুষ থাকে, এর চাইতে ভালো বাড়ী আর দেখিনি। তাদের একজন ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয, দ্বিতীয়জন তাঁর ছেলে ‘আবদুল মালিক এবং তৃতীয়জন তাঁদের দাস মুযাহিম। এ কারণে ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয তাঁকে খুব ভালোবাসতেন। তাঁর উপর নির্ভরও করতেন। শৈশব থেকেই ‘আবদুল মালিকের অন্তরে আল্লাহর ভয় শক্তভাবে গেঁথে বসে।

‘আবদুল ‘আযীয: আমীরুল মু'মিনীন ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) পুত্র ‘আবদুল ‘আযীয পরবর্তী খলীফা ইয়াযীদ ইবন ‘আবদিল মালিক ও মারওয়ান ইবন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে মক্কা ও মদীনার গভর্ণর ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অন্যতম হাদীছ বর্ণনাকারী।

‘আবদুল্লাহ: তাঁর আরেক পুত্র ‘আবদুল্লাহ খলীফা ইয়াযীদ ইবন আল-ওয়ালীদের পক্ষ থেকে কৃষ্ণার গভর্ণর ছিলেন। তিনি যখন গভর্ণরের দায়িত্ব নিয়ে কৃষ্ণায় আসেন তখন বসরার অধিবাসীরা সেখানে একটি খাল খননের আবেদন জানায়। তিনি বিষয়টি খলীফা ইয়াযীদকে অবহিত করেন। খলীফা তাঁকে লেখেন: ‘ইরাক থেকে আদায়কৃত সকল রাজস্ব যদি ব্যয় হয়ে যায় তবুও সেখানে একটি খাল খনন করে দাও।’ তিনি তিন লাখ দিরহাম ব্যয় করে একটি খাল খনন করেন যা ইতিহাসে তাঁর নামে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে।

টিকাঃ
৫৬৩. সুওয়ারুন মিন হায়াত আত-তাবি'ঈন-৮৪
৫৬৪. সূরা আশ-শু'আরা': ২০৫-২০৭
৫৬৯. প্রাগুক্ত-৩/৩০৯
৫৭১. ফুতুহ আল-বুলদান-৩৭৭

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কাব্য প্রতিভা

📄 কাব্য প্রতিভা


‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) মধ্যে কাব্য চর্চার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ও রুচি ছিল না। তবে উঁচু আদর্শ ও নৈতিকতার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ কবিতা মাঝে মাঝে তিনি আবৃত্তি করতেন, আবার কখনো অন্যের মুখ থেকেও শুনতেন। সে সকল কবিতা ইবনুল জাওযী তাঁর গ্রন্থের ৩০তম অধ্যায়ে সংকলন করেছেন।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কবিদের সাথে ‘উমারের সম্পর্ক

📄 কবিদের সাথে ‘উমারের সম্পর্ক


একথা সত্য যে, কবিতা জ্ঞানের একটি উত্তম ও কল্যাণকর শাখা। তবে কবিতা কেবল তখনই সাধারণ মানুষের শিক্ষা এবং সমাজ ও পরিবেশ পরিশুদ্ধির কাজে আসতে পারে যখন কবিগণ পরিশুদ্ধ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়। কিন্তু এটাকে দুর্ভাগ্য বা দুর্ঘটনা যাই বলা হোক না কেন, সে সময়ের কবিগণ ইসলামী নৈতিকতার মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল। তারা গোত্রীয় অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ও বংশীয় গর্ব ও গৌরবের পতাকাবাহী তো ছিল, কিন্তু কোন নীতি-নৈতিকতার ধারে-কাছেও ছিল না। তা সত্ত্বেও হযরত ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীযের (রহ) পূর্বে উমাইয়্যা খলীফাগণ তাদের প্রতি অত্যধিক আনুকূল্য প্রদর্শন করতেন।

খলীফাগণ তাদের দ্বারা নানা রকম অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতেন। বিশেষতঃ আন্ত-গোত্রীয় কোন্দল সৃষ্টিতে কবিদেরকে বেশী ব্যবহার করা হতো। বিনিময়ে তারা লাভ করতো সম্মান ও বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ। উমাইয়্যা আমলের সবচেয়ে বড় তিন কবি— ফারাযদাক, আখতাল ও জারীর তো এক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

হযরত ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) খিলাফতের মসনদে আসীন হওয়ার পর সেকালের বড় বড় আরব কবিগণ তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে কাসীদা পাঠ করার জন্য দিমাশকে সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে নুসাইব, জারীর, ফারাযদাক, আহওয়াস, কুছায়্যির, হাজ্জাজ আল-কুদা'ঈ, ‘উমার ও আখতালের মত শ্রেষ্ঠ কবিগণও ছিলেন। নতুন খলীফার ক্ষমতা গ্রহণের খবর শুনে তাঁরা খুশীতে ডগমগ হয়ে এবং বড় ধরনের প্রাপ্তির আশায় দিমাশকে আসলেন। খলীফার সংগে সাক্ষাতের আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকলেন। কিন্তু ‘উমার ইবন ‘আবদিল ‘আযীয (রহ) তাঁদের কাউকে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন না। অন্যদিকে তাঁর দরবারে ‘আলিম, ফকীহ ও মুহাদ্দিছদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তাঁদের প্রতি কোন রকম নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু কবিদের সাক্ষাতের কোন সুযোগ ছিল না।

উমাইয়্যা খান্দানের পূর্ববর্তী খলীফা ও আমীর-উমারাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সে যুগের কবিগণ একেবারেই লাগামহীন হয়ে পড়েছিল এবং সমাজে মানুষের নৈতিকতার যে চরম ধস নেমেছিল তার পিছনে তাদের রচিত কবিতার বিরাট অবদান ছিল। এ কারণে ‘উমার (রহ) যেখানে জ্ঞানী-গুণী, ও ‘আলিম-‘উলামাদের দারুণ সম্মান ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, বিভিন্ন ভাষার অনুবাদকদের উঁচুমানের সম্মানী দিয়েছেন, সেখানে কোন বড় কবিকে দু'-এক শ' দিরহামের বেশী দেননি। অবশ্য এতে কবিদের মন-মানসিকতায় দারুণ পরিবর্তনও ঘটেছিল।

টিকাঃ
৫৭৩. ইবন কুতায়বা, আশ-শি'র ওয়াশ শু'আরা-১/৫; কিতাবুল আগানী-৭/৪১, ৪৪, ৫১, ৫২, ১৭২
৫৭৪. কিতাবুল আগানী-৭/১৭২-১৭৩
৫৭৫. প্রাগুক্ত-১/১৩৫-১৩৬, ১৪৫
৫৭৬. ইবনুল জাওযী-১৬২; আল-'ইকদ আল-ফারীদ-২/৯১-৯২

ফন্ট সাইজ
15px
17px