📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের মর্যাদা দিতেন

📄 জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের মর্যাদা দিতেন


একবার 'উমার একজন অল্প বয়সী নওজোয়ানকে কোন একটি দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। তখন কেউ একজন 'উমারকে বললেন: এ একজন অল্প বয়সী যুবক, আপনার অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না। 'উমার তাকে ডেকে বললেন: তোমার বয়স অল্প, আমার মনে হয় তুমি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। যুবকটি তখন নিম্নের চরণটি আবৃত্তি করে : 'যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে বয়সের স্বল্পতা তার মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা বৃদ্ধি করতে পারে না।' 'উমার বললেন: সত্য বলেছো। তার নিয়োগ বহাল রাখেন। ৫৫১

খিলাফত পরিচালনার সুবাদে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে যদিও সব ধরনের মানুষের সাথে উঠাবসা করতে হতো, তবে তাঁর প্রকৃত ঝোঁক ছিল জ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রতি। এ কারণে নানাভাবে তাঁদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও সমীহ ভাব প্রকাশ করতেন। আঞ্চলিক শাসক 'আদী ইবন আরতাত যখন সকল শর'ঈ মাসয়ালায় তাঁর পরামর্শ নিতে আরম্ভ করলেন তখন তাঁকে হাসান আল-বসরীর পরামর্শ নিলেই চলবে বলে জানিয়ে দেন। তিনি নিজেও কোন বিচার-ফয়সালা করলে অথবা সিদ্ধান্ত দিলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হযরত সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়িয়বের (রহ) পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

একবার তিনি এক ব্যক্তিকে সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিবের নিকট পাঠালেন একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার জন্য। লোকটি তাঁকে সঙ্গে করে 'উমারের নিকট উপস্থিত হলে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, আমার পাঠানো লোকটি ভুলক্রমে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে শুধু আপনার নিকট থেকে মাসয়ালাটি জেনে আসতে বলেছি। ৫৫২

সর্বদা জ্ঞানী ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করতেন। বিসর ইবন সা'ঈদ কপর্দকহীন অবস্থায় মারা গেলন। এমন কি কাফনের কাপড় ক্রয়ের অর্থও রেখে গেলেন না। আর 'আবদুল্লাহ ইবন 'আবদিল মালিক নগদ লক্ষাধিক দিরহাম রেখে মারা যান। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) তাঁদের দু'জনের মৃত্যুর অবস্থা জানার পর বললেন, যদি উভয়ের একই পরিণাম হতো তাহলে আমি 'আবদুল্লাহ ইবন 'আবদিল মালিকের জীবনকেই প্রাধান্য দিতাম। তখন মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিক বললেন, বিসর ইবন সা'ঈদের জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করা আপনার খান্দানের মধ্যে আপনার আত্মহত্যার মতো হতো। তিনি বললেন, যা কিছুই হোক না কেন, আমরা মহৎ ব্যক্তিদের মহত্বের আলোচনা তো ছেড়ে দিতে পারিনে। সমকালীন অধিকাংশ 'আলিমের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। তাঁদের কেউ সাক্ষাৎ করতে এলে অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন, নিরিবিলি তাঁর সাথে কথা বলতেন। ৫৫৩

তিনি দিনের সবটুকু সময় মুসলমানদের বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও কর্মতৎপরতায় কাটিয়ে দিতেন। রাতের একাংশও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে অতিবাহিত করতেন। এ অবস্থা দেখে একদিন রাজা' ইবন হায়ওয়া (রহ) তাঁকে বললেন: 'হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার দিনের পুরোটাই ব্যস্ততায় কাটে। রাতের একাংশ আমাদের সাথে আলোচনায় অতিবাহিত হয়। বললেন: ওহে রাজা'! মানুষের সাক্ষাৎকার তাদের নেতাদেরকে পরিপূর্ণ করে। আর পরামর্শ ও তর্ক-বিতর্ক হলো দয়া ও অনুগ্রহের দ্বার এবং বরকত ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। আর এ দু'টির সাথে কোন মতামত ও সিদ্ধান্ত যেমন ভুল হয় না, তেমনি কোন বিচক্ষণ মানুষ এ দু'টি জিনিস নিয়ে বসেও থাকে না।' ৫৫৪

ইমাম আয-যুহরী বলেন: একদিন আমি 'উমারের নিকট গেলাম। আমি বসা থাকা অবস্থায় কোন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার একটি চিঠি এলো। চিঠিতে তিনি তার কর্তৃত্বাধীন একটি নগরের নিরাপত্তার জন্য দুর্গ তৈরির প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। আমি তাঁকে বললাম: 'আলী ইবন আবী তালিবকেও (রা) তাঁর কোন এক কর্মকর্তা এমন একটি চিঠি লিখেছিলেন। তিনি জবাবে লিখেছিলেন: 'অতঃপর এই যে, তুমি ন্যায় বিচার দ্বারা নগরীকে নিরাপদ কর এবং জুলুম-অত্যাচার থেকে এর রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখ।' 'উমারও একথাগুলোই লিখে পাঠান। ৫৫৫

টিকাঃ
৫৫০. ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান-১/২৩৩; তাবি'ঈদের জীবনকথা-১/১৩২
৫৫১. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-২/২৯; 'আলী ফা'উর, সীরাতু উমার-২০৫
৫৫২. তাবাকাত-৫/৩৯০
৫৫৩. প্রাগুক্ত-৫/৩০৮, ৩২৫
৫৫৪. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩০৬
৫৫৫. প্রাগুক্ত

একবার 'উমার একজন অল্প বয়সী নওজোয়ানকে কোন একটি দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। তখন কেউ একজন 'উমারকে বললেন: এ একজন অল্প বয়সী যুবক, আপনার অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না। 'উমার তাকে ডেকে বললেন: তোমার বয়স অল্প, আমার মনে হয় তুমি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। যুবকটি তখন নিম্নের চরণটি আবৃত্তি করে : 'যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে বয়সের স্বল্পতা তার মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা বৃদ্ধি করতে পারে না।' 'উমার বললেন: সত্য বলেছো। তার নিয়োগ বহাল রাখেন। ৫৫১

খিলাফত পরিচালনার সুবাদে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে যদিও সব ধরনের মানুষের সাথে উঠাবসা করতে হতো, তবে তাঁর প্রকৃত ঝোঁক ছিল জ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রতি। এ কারণে নানাভাবে তাঁদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও সমীহ ভাব প্রকাশ করতেন। আঞ্চলিক শাসক 'আদী ইবন আরতাত যখন সকল শর'ঈ মাসয়ালায় তাঁর পরামর্শ নিতে আরম্ভ করলেন তখন তাঁকে হাসান আল-বসরীর পরামর্শ নিলেই চলবে বলে জানিয়ে দেন। তিনি নিজেও কোন বিচার-ফয়সালা করলে অথবা সিদ্ধান্ত দিলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হযরত সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়িয়বের (রহ) পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

একবার তিনি এক ব্যক্তিকে সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিবের নিকট পাঠালেন একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার জন্য। লোকটি তাঁকে সঙ্গে করে 'উমারের নিকট উপস্থিত হলে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, আমার পাঠানো লোকটি ভুলক্রমে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে শুধু আপনার নিকট থেকে মাসয়ালাটি জেনে আসতে বলেছি। ৫৫২

সর্বদা জ্ঞানী ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করতেন। বিসর ইবন সা'ঈদ কপর্দকহীন অবস্থায় মারা গেলন। এমন কি কাফনের কাপড় ক্রয়ের অর্থও রেখে গেলেন না। আর 'আবদুল্লাহ ইবন 'আবদিল মালিক নগদ লক্ষাধিক দিরহাম রেখে মারা যান। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) তাঁদের দু'জনের মৃত্যুর অবস্থা জানার পর বললেন, যদি উভয়ের একই পরিণাম হতো তাহলে আমি 'আবদুল্লাহ ইবন 'আবদিল মালিকের জীবনকেই প্রাধান্য দিতাম। তখন মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিক বললেন, বিসর ইবন সা'ঈদের জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করা আপনার খান্দানের মধ্যে আপনার আত্মহত্যার মতো হতো। তিনি বললেন, যা কিছুই হোক না কেন, আমরা মহৎ ব্যক্তিদের মহত্বের আলোচনা তো ছেড়ে দিতে পারিনে। সমকালীন অধিকাংশ 'আলিমের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। তাঁদের কেউ সাক্ষাৎ করতে এলে অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন, নিরিবিলি তাঁর সাথে কথা বলতেন। ৫৫৩

তিনি দিনের সবটুকু সময় মুসলমানদের বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও কর্মতৎপরতায় কাটিয়ে দিতেন। রাতের একাংশও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে অতিবাহিত করতেন। এ অবস্থা দেখে একদিন রাজা' ইবন হায়ওয়া (রহ) তাঁকে বললেন: 'হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার দিনের পুরোটাই ব্যস্ততায় কাটে। রাতের একাংশ আমাদের সাথে আলোচনায় অতিবাহিত হয়। বললেন: ওহে রাজা'! মানুষের সাক্ষাৎকার তাদের নেতাদেরকে পরিপূর্ণ করে। আর পরামর্শ ও তর্ক-বিতর্ক হলো দয়া ও অনুগ্রহের দ্বার এবং বরকত ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। আর এ দু'টির সাথে কোন মতামত ও সিদ্ধান্ত যেমন ভুল হয় না, তেমনি কোন বিচক্ষণ মানুষ এ দু'টি জিনিস নিয়ে বসেও থাকে না।' ৫৫৪

ইমাম আয-যুহরী বলেন: একদিন আমি 'উমারের নিকট গেলাম। আমি বসা থাকা অবস্থায় কোন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার একটি চিঠি এলো। চিঠিতে তিনি তার কর্তৃত্বাধীন একটি নগরের নিরাপত্তার জন্য দুর্গ তৈরির প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। আমি তাঁকে বললাম: 'আলী ইবন আবী তালিবকেও (রা) তাঁর কোন এক কর্মকর্তা এমন একটি চিঠি লিখেছিলেন। তিনি জবাবে লিখেছিলেন: 'অতঃপর এই যে, তুমি ন্যায় বিচার দ্বারা নগরীকে নিরাপদ কর এবং জুলুম-অত্যাচার থেকে এর রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখ।' 'উমারও একথাগুলোই লিখে পাঠান। ৫৫৫

টিকাঃ
৫৫০. ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান-১/২৩৩; তাবি'ঈদের জীবনকথা-১/১৩২
৫৫১. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-২/২৯; 'আলী ফা'উর, সীরাতু উমার-২০৫
৫৫২. তাবাকাত-৫/৩৯০
৫৫৩. প্রাগুক্ত-৫/৩০৮, ৩২৫
৫৫৪. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩০৬
৫৫৫. প্রাগুক্ত

ফন্ট সাইজ
15px
17px