📄 দুঃস্থ ও অভাবীদের সাহায্য
যে সকল মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতো 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তাদের সাহায্য করতেন। তাঁর বৈঠকী সহচর-সঙ্গী হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত নির্ধারণ করেন তার মধ্যে একটি শর্ত ছিল এ রকম: আমার বৈঠকী সহচরদের উচিত হবে, যে সকল মানুষ তাদের অভাব ও প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না, তাদের কথা আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। একবার তাঁর সামনে এক চোরকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অভাবের কারণে চুরি করেছে। তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং দশ দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।
একবার এক বেদুঈন তাঁর নিকট আসে এবং অত্যন্ত মন গলানো ভাষায় নিজের অভাবের কথা জানায়। তার কথা শুনে 'উমার কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে থাকেন। তখন তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। মাথা উঠিয়ে তিনি লোকটির কাছে জানতে চান, তোমার পরিবারে মোট কতজন লোক? সে বলে, আমি এবং আমার আট কন্যা। তিনি বায়তুল মাল থেকে তাদের সবার জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অর্থ থেকে তার হাতে তুলে দেন একশ' দিরহাম। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ যা খুমুস নামে পরিচিত, বায়তুল মালে জমা হয়। যখন এই খাতের দাসের সংখ্যা বেড়ে যেত তখন তিনি দু'জন পঙ্গুর জন্য একজন এবং একজন অন্ধের সেবার জন্য একজন করে দাস দান করতেন।
নিয়ম ছিল যখন তাঁর কোন ডাক যেত তখন যে কেউ তার চিঠি-পত্র দিলে তা বহন করা হতো। একবার মিসর থেকে একটি ডাক যাত্রা করলো। সেখানকার জনৈক ব্যক্তির দাসী খলীফার নামে একটি চিঠি ডাকে দিল। চিঠিতে সে খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লিখলো যে, তার বাড়ীর প্রাচীর এত নীচু যে চোর তা ডিঙ্গিয়ে তার মুরগীগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। চিঠিটি পেয়ে মিসরের ওয়ালীকে লিখলেন, আমার এ চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে তুমি এই দাসীর বাড়ীতে যাবে এবং প্রাচীরটি উঁচু করে দেবে। দাসীকে আমার এ নির্দেশের কথা জানাবে। ৫৪০
একবার ইরাক থেকে এক মহিলা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট আসলো। বাড়ীর দরজায় পৌঁছে সে মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলো: আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে দারোয়ান নেই? লোকেরা বললো: না। ইচ্ছা করলে ভিতরে ঢুকতে পার। সে ভিতরে বেগম সাহেবা ফাতিমার নিকট গেল। তখন তার হাতে কিছু তুলা, যা দিয়ে তিনি আমীরুল মু'মিনীনের সেবা করে থাকেন। সে সালাম দিয়ে বসলো। তারপর চোখ উঠিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে ঘরে কোথাও কোন জিনিস নেই। বললো আমি এসেছি আমার ঘরকে পূর্ণ করার জন্য এই শূন্য ঘরে? জবাবে ফাতিমা তাকে বললেন: তোমাদের মত মানুষের ঘর পূর্ণ করতে গিয়ে তিনি নিজের ঘর শূন্য করে ফেলেছেন।
তাদের কথার মাঝখানে 'উমার এসে ঢুকলেন। আগন্তুক মহিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কি প্রয়োজন? মহিলা বললো আমি একজন ইরাকী মহিলা, আমার বিবাহযোগ্য পাঁচটি মেয়ে আছে; কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাদের বিয়ে দিতে পারছিনে। তাদের প্রতি আপনার সুদৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমি এসেছি। সাথে সাথে তিনি কালি, কলম ও কাগজ নিয়ে ইরাকের ওয়ালীকে লিখতে বসলেন। তিনি মহিলার নিকট এক এক করে চারজন মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা নির্ধারণ করে পত্রটি শেষ করেন। আর ৫ম জনের ব্যাপারে বলেন, চার জনের ভাতা থেকে তার প্রয়োজন পূরণ হবে। মহিলাটি আল্লাহর হামদ ও আমীরুল মু'মিনীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকে। অতঃপর পত্রটি নিয়ে সে ইরাকের দিকে যাত্রা করে। ৫৪১
টিকাঃ
৫৪০. সীরাত ইবন 'আবদিল হাকাম-৫৫, ৬৫
৫৪১. প্রাগুক্ত-১৭৭; আল-খলীফা আয-যাহিদ-১৭৬
যে সকল মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতো 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তাদের সাহায্য করতেন। তাঁর বৈঠকী সহচর-সঙ্গী হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত নির্ধারণ করেন তার মধ্যে একটি শর্ত ছিল এ রকম: আমার বৈঠকী সহচরদের উচিত হবে, যে সকল মানুষ তাদের অভাব ও প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না, তাদের কথা আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। একবার তাঁর সামনে এক চোরকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অভাবের কারণে চুরি করেছে। তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং দশ দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।
একবার এক বেদুঈন তাঁর নিকট আসে এবং অত্যন্ত মন গলানো ভাষায় নিজের অভাবের কথা জানায়। তার কথা শুনে 'উমার কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে থাকেন। তখন তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। মাথা উঠিয়ে তিনি লোকটির কাছে জানতে চান, তোমার পরিবারে মোট কতজন লোক? সে বলে, আমি এবং আমার আট কন্যা। তিনি বায়তুল মাল থেকে তাদের সবার জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অর্থ থেকে তার হাতে তুলে দেন একশ' দিরহাম। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ যা খুমুস নামে পরিচিত, বায়তুল মালে জমা হয়। যখন এই খাতের দাসের সংখ্যা বেড়ে যেত তখন তিনি দু'জন পঙ্গুর জন্য একজন এবং একজন অন্ধের সেবার জন্য একজন করে দাস দান করতেন।
নিয়ম ছিল যখন তাঁর কোন ডাক যেত তখন যে কেউ তার চিঠি-পত্র দিলে তা বহন করা হতো। একবার মিসর থেকে একটি ডাক যাত্রা করলো। সেখানকার জনৈক ব্যক্তির দাসী খলীফার নামে একটি চিঠি ডাকে দিল। চিঠিতে সে খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লিখলো যে, তার বাড়ীর প্রাচীর এত নীচু যে চোর তা ডিঙ্গিয়ে তার মুরগীগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। চিঠিটি পেয়ে মিসরের ওয়ালীকে লিখলেন, আমার এ চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে তুমি এই দাসীর বাড়ীতে যাবে এবং প্রাচীরটি উঁচু করে দেবে। দাসীকে আমার এ নির্দেশের কথা জানাবে। ৫৪০
একবার ইরাক থেকে এক মহিলা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট আসলো। বাড়ীর দরজায় পৌঁছে সে মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলো: আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে দারোয়ান নেই? লোকেরা বললো: না। ইচ্ছা করলে ভিতরে ঢুকতে পার। সে ভিতরে বেগম সাহেবা ফাতিমার নিকট গেল। তখন তার হাতে কিছু তুলা, যা দিয়ে তিনি আমীরুল মু'মিনীনের সেবা করে থাকেন। সে সালাম দিয়ে বসলো। তারপর চোখ উঠিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে ঘরে কোথাও কোন জিনিস নেই। বললো আমি এসেছি আমার ঘরকে পূর্ণ করার জন্য এই শূন্য ঘরে? জবাবে ফাতিমা তাকে বললেন: তোমাদের মত মানুষের ঘর পূর্ণ করতে গিয়ে তিনি নিজের ঘর শূন্য করে ফেলেছেন।
তাদের কথার মাঝখানে 'উমার এসে ঢুকলেন। আগন্তুক মহিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কি প্রয়োজন? মহিলা বললো আমি একজন ইরাকী মহিলা, আমার বিবাহযোগ্য পাঁচটি মেয়ে আছে; কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাদের বিয়ে দিতে পারছিনে। তাদের প্রতি আপনার সুদৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমি এসেছি। সাথে সাথে তিনি কালি, কলম ও কাগজ নিয়ে ইরাকের ওয়ালীকে লিখতে বসলেন। তিনি মহিলার নিকট এক এক করে চারজন মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা নির্ধারণ করে পত্রটি শেষ করেন। আর ৫ম জনের ব্যাপারে বলেন, চার জনের ভাতা থেকে তার প্রয়োজন পূরণ হবে। মহিলাটি আল্লাহর হামদ ও আমীরুল মু'মিনীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকে। অতঃপর পত্রটি নিয়ে সে ইরাকের দিকে যাত্রা করে। ৫৪১
টিকাঃ
৫৪০. সীরাত ইবন 'আবদিল হাকাম-৫৫, ৬৫
৫৪১. প্রাগুক্ত-১৭৭; আল-খলীফা আয-যাহিদ-১৭৬
📄 রোগগ্রস্ত মানুষের পাশে বসা ও সান্ত্বনা দেওয়া
সাধারণতঃ রাজা-বাদশা ও আমীর-উমারাগণ খুব কমই প্রাসাদ থেকে বের হন। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয শত্রু-মিত্র কারো অসুস্থতার খবর পেলে দেখার জন্য ছুটে যেতেন। তাদের শয্যা পাশে বসে কুশল জিজ্ঞেস করতেন, সান্ত্বনা দিতেন। একবার আবূ কিলাবা সিরিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁকে দেখতে যান। তাঁর শয্যা পাশে বসে বলেন, আবু কিলাবা: তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো। মুনাফিকরা যেন আমাদেরকে নিয়ে হাসা-হাসি করার সুযোগ না পায়।
একবার এক ব্যক্তির পুত্র-বিয়োগ ঘটে। তিনি লোকটিকে সান্ত্বনা দানের জন্য যান। লোকটি ছিল দারুণ কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল। তাই লোকেরা লোকটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলাবলি করতে লাগলো যে, এরই নাম সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণ। তিনি সংশোধন করে দিয়ে বললেন, না। এ হচ্ছে সবর বা ধৈর্য।
'উমার ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'উতবার পিতার মৃত্যু হলে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর নিকট শোকবাণী পাঠান। তাতে তিনি লেখেন: আমরা সকলে তো আখিরাতের অধিবাসী, দুনিয়াতে এসে বসবাস করছি। মৃত নারী ও পুরুষের সন্তান। তাহলে এ তো খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার সেই মৃতের জন্য যে আরেকজন মৃতের নিকট চিঠি লিখছে এবং আরেকজন মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করছে।
সাধারণতঃ রাজা-বাদশা ও আমীর-উমারাগণ খুব কমই প্রাসাদ থেকে বের হন। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয শত্রু-মিত্র কারো অসুস্থতার খবর পেলে দেখার জন্য ছুটে যেতেন। তাদের শয্যা পাশে বসে কুশল জিজ্ঞেস করতেন, সান্ত্বনা দিতেন। একবার আবূ কিলাবা সিরিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁকে দেখতে যান। তাঁর শয্যা পাশে বসে বলেন, আবু কিলাবা: তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো। মুনাফিকরা যেন আমাদেরকে নিয়ে হাসা-হাসি করার সুযোগ না পায়।
একবার এক ব্যক্তির পুত্র-বিয়োগ ঘটে। তিনি লোকটিকে সান্ত্বনা দানের জন্য যান। লোকটি ছিল দারুণ কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল। তাই লোকেরা লোকটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলাবলি করতে লাগলো যে, এরই নাম সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণ। তিনি সংশোধন করে দিয়ে বললেন, না। এ হচ্ছে সবর বা ধৈর্য।
'উমার ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'উতবার পিতার মৃত্যু হলে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর নিকট শোকবাণী পাঠান। তাতে তিনি লেখেন: আমরা সকলে তো আখিরাতের অধিবাসী, দুনিয়াতে এসে বসবাস করছি। মৃত নারী ও পুরুষের সন্তান। তাহলে এ তো খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার সেই মৃতের জন্য যে আরেকজন মৃতের নিকট চিঠি লিখছে এবং আরেকজন মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করছে।
📄 সর্বজনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব
হাদীছে এসেছে: ৫৪২ 'আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে (আ) বলেন, আমি অমুককে ভালোবাসি তোমরাও তাকে ভালোবাস। এ কারণে জিবরীল (আ) তাকে ভালোবাসেন। অতঃপর তিনি আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাস। অতঃপর আসমানের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে থাকে। এরপর আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতে তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দান করেন।'
মানুষের প্রীতিভাজন হওয়া এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় এটাই। আদর্শ মানের উত্তম নৈতিকতার বদৌলতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এই মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। একবার হজ্জ মওসুমে তিনি 'আরাফা অতিক্রম করছিলেন, হঠাৎ করে মানুষের দৃষ্টি তাঁর প্রতি গিয়ে পড়ে। সুহায়ল ইবন আবী সালিহ, উপরোক্ত হাদীছের রাবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে নিজের পিতাকে বলেন, আমার বিশ্বাস আল্লাহ 'উমারকে ভালোবাসেন। তিনি পুত্রের এমন বিশ্বাসের কারণ জানতে চাইলেন। সুহায়ল বললেন, মানুষের অন্তরে তাঁর স্থান আছে। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদীছ শোনান।
কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়, বরং আদল ও ইনসাফ দ্বারা তিনি অমুসলিমদের অন্তরকেও জয় করেছিলেন। একবার তাঁর পুত্র 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয জাযীরা দিয়ে যাচ্ছিলেন। একজন খ্রীস্টান পাদ্রী যিনি কখনো তার গীর্জা থেকে বের হন না, 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পেয়ে বেরিয়ে আসেন এবং 'আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জান আমি কেন আমার গীর্জার একান্ত নিরিবিলি স্থান থেকে বেরিয়ে এসেছি? তিনি বলেন না। পাদ্রী বললেন: কেবল তোমার পিতার সম্মানে। কারণ, আমরা তাঁকে ন্যায়পরায়ণ শাসকদের মধ্যে পেয়ে থাকি। ৫৪৩
টিকাঃ
৫৪২. যুরকানী, শারহু মুওয়াত্তা-৪/১৭৬
৫৪৩. তারীখ আল-খুলাফা'-২৩৩
হাদীছে এসেছে: ৫৪২ 'আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে (আ) বলেন, আমি অমুককে ভালোবাসি তোমরাও তাকে ভালোবাস। এ কারণে জিবরীল (আ) তাকে ভালোবাসেন। অতঃপর তিনি আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাস। অতঃপর আসমানের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে থাকে। এরপর আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতে তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দান করেন।'
মানুষের প্রীতিভাজন হওয়া এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় এটাই। আদর্শ মানের উত্তম নৈতিকতার বদৌলতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এই মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। একবার হজ্জ মওসুমে তিনি 'আরাফা অতিক্রম করছিলেন, হঠাৎ করে মানুষের দৃষ্টি তাঁর প্রতি গিয়ে পড়ে। সুহায়ল ইবন আবী সালিহ, উপরোক্ত হাদীছের রাবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে নিজের পিতাকে বলেন, আমার বিশ্বাস আল্লাহ 'উমারকে ভালোবাসেন। তিনি পুত্রের এমন বিশ্বাসের কারণ জানতে চাইলেন। সুহায়ল বললেন, মানুষের অন্তরে তাঁর স্থান আছে। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদীছ শোনান।
কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়, বরং আদল ও ইনসাফ দ্বারা তিনি অমুসলিমদের অন্তরকেও জয় করেছিলেন। একবার তাঁর পুত্র 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয জাযীরা দিয়ে যাচ্ছিলেন। একজন খ্রীস্টান পাদ্রী যিনি কখনো তার গীর্জা থেকে বের হন না, 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পেয়ে বেরিয়ে আসেন এবং 'আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জান আমি কেন আমার গীর্জার একান্ত নিরিবিলি স্থান থেকে বেরিয়ে এসেছি? তিনি বলেন না। পাদ্রী বললেন: কেবল তোমার পিতার সম্মানে। কারণ, আমরা তাঁকে ন্যায়পরায়ণ শাসকদের মধ্যে পেয়ে থাকি। ৫৪৩
টিকাঃ
৫৪২. যুরকানী, শারহু মুওয়াত্তা-৪/১৭৬
৫৪৩. তারীখ আল-খুলাফা'-২৩৩
📄 জ্ঞানী ব্যক্তিদের পরামর্শ শুনতেন
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট একবার ইরাক থেকে একদল লোক আসে। তিনি দেখলেন, তাদের মধ্য থেকে একটি যুবক কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি যুবকটিকে বললেন, বড়দের বলতে দাও। যুবকটি বললো: হে আমীরুল মু'মিনীন! কথা বলার যোগ্যতা বয়সের দ্বারা হয়না। আর যদি সবকিছু বয়সের দ্বারা হতো তাহলে মুসলমানদের মধ্যে আপনার চেয়ে বেশী বয়সের অনেক লোক আছে। 'উমার বললেন: আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন, তুমি সত্য বলেছো। তুমি কথা বল। যুবক বললো: আমরা কোন প্রত্যাশা নিয়ে ও ভীতিসহকারে আপনার নিকট আসিনি। প্রত্যাশা— তা তো আমাদের গৃহে পৌঁছে গেছে, আর ভীতি— তা আল্লাহ আপনার আদল ও ইনসাফের দ্বারা আপনার জুলুম-অত্যাচার থেকে আমাদের নিরাপদ করেছেন। 'উমার জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কি উদ্দেশ্যে এসেছো? যুবক বললো আমরা একটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী প্রতিনিধি দল। সেই মজলিসে উপস্থিত মুহাম্মাদ ইবন কা'ব আল-কুরাজী 'উমারের মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে দেখেন তা খুশীতে ঝলমল করছে। তিনি বললেন: হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা যেন কোনভাবে আপনার নিজের সম্পর্কে আপনার জানার উপর বিজয়ী হতে না পারে। প্রশংসা বহু মানুষকে প্রতারিত করেছে এবং মানুষের কৃতজ্ঞতা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে। অতঃপর তারা ধ্বংস হয়েছে। আপনি তাদের মত না হন এজন্য আমি আল্লাহর পানাহ চাই। একথা শুনে 'উমার তাঁর বুকের উপর মাথা নীচু করে দিলেন। ৫৪৪
একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এক ব্যক্তিকে কোন কারণে দণ্ডাদেশ দেন। তখন রাজা' ইবন হায়ওয়া তাঁকে বলেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনি যে বিজয় ভালোবাসেন তা তো আল্লাহ পূর্ণ করেছেন। এখন তিনি যে ক্ষমা ভালোবাসেন তা পূর্ণ করুন। ৫৪৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যখন মদীনার ওয়ালী ছিলেন তখন হযরত সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা) তাঁর দরবারে আসা-যাওয়া করতেন। পরবর্তীকালে 'উমার খলীফা হওয়ার পর সালিম ও মুহাম্মাদ ইবন কা'ব আল-কারাযীকে দরবারে ডেকে পাঠান। তারা উপস্থিত হলে খলীফা বলেন: আপনারা কিছু উপদেশ দিন। সালিম বললেন : 'আপনি মানুষকে পিতা, পুত্র ও ভ্রাতা জ্ঞান করবেন। তারপর পিতার সেবা ও ভ্রাতার নিরাপত্তা বিধান করবেন। আর পুত্রের প্রতি দয়া ও স্নেহপরায়ণ হবেন।' মুহাম্মাদ ইবন কা'ব বললেন: 'আপনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন মানুষের জন্যও তাই পছন্দ করুন, নিজের জন্য যা অপছন্দ করেন তাদের জন্যও তা অপছন্দ করুন। আর জেনে রাখুন, আপনিই এ পৃথিবীর মৃত্যুবরণকারী প্রথম খলীফা নন।' ৫৪৬
যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ আল-মাদীনী বলেন, ইবন 'আমির ইবন আবী রাবী'আ তার এক প্রয়োজনে আমাকে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট পাঠালেন। আমি যখন তাঁর নিকট পৌঁছলাম তখন তাঁর একজন সেক্রেটারী তাঁর পাশে বসে কি যেন লিখছিলেন। আমি সালাম দিলাম এভাবে : আস-সালামু 'আলাইকুম। জবাবে তিনি বললেন: ওয়া 'আলাইকাস সালাম। তারপর আমি সতর্ক হলাম এবং বললাম: আস- সালামু 'আলাইকা ইয়া আমীরাল মু'মিনীন ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি বললেন: ইবন আবী যিয়াদ! তুমি প্রথম যেভাবে সালাম দিয়েছিলে তাতে আমি অখুশী হইনি। সেক্রেটারী বসরা থেকে জুলুম-অত্যাচারের যে রিপোর্ট এসেছিল তা পড়ে শোনাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: বস। আমি দরজার চৌকাঠের কাছে বসলাম। সেক্রেটারী পড়ছেন, আর 'উমার জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ছেন। রিপোর্ট পাঠ শেষ হলে তিনি সকলকে ঘর থেকে বের করে দিলেন। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার সামনে বসেন এবং তাঁর দু'টি হাত আমার হাঁটুর উপর রেখে বলেন: ওহে ইবন আবী যিয়াদ! আমি তোমার গায়ের পশমী 'আবার (জোব্বা) মধ্যে আমার হাতটি রেখে একটু গরম করে নিই। তারপর তিনি মদীনার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সৎ মানুষদের হাল- হাকীকত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। কারো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে বাকী রাখলেন না। মদীনার এমন কিছু বিষয় ছিল যা তিনি করতে বলেছিলেন, সে সম্পর্কেও আমি তাঁকে অবহিত করলাম। ৫৪৭
মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিকের আযাদকৃত দাস 'আবদুস সালাম বলেন, একদিন 'উমার ভীষণ কাঁদলেন। তা দেখে স্ত্রী ফাতিমাও কাঁদলেন। আর তাঁদেরকে কাঁদতে দেখে বাড়ীর অন্যরাও কাঁদলেন। কান্না থামলে স্ত্রী ফাতিমা জিজ্ঞেস করলেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনি এভাবে কাঁদলেন কেন? বললেন: আমার স্মরণ হলো, মানুষ আল্লাহর সামনে থেকে ফিরে যাচ্ছে— একদল জান্নাতর দিকে, আরেকদল জাহান্নামের দিকে। একথা বলে তিনি চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন। ৫৪৮
তিনি ফকীহ, 'আলিম ও আল-কুরআনের কারীদের খুবই সমাদর করতেন। দূর-দূরান্ত থেকে গুণীজনদের ডেকে এনে দরবারের বিশিষ্টজনদের মধ্যে স্থান করে দিতেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'উমার (রা), মুহাম্মাদ ইবন কুরাজী, রাজা' ইবন হায়ওয়া এবং রিয়াহ ইবন 'উবায়দার সংগে খিলাফত পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতেন। মায়মূন ইবন মিহরান, রাজা' ইবন হায়ওয়া এবং রিয়াহ ইবন 'উবায়দা ছিলেন তাঁর বিশেষ সভাসদ। এছাড়া আরো অনেক 'আলিম তাঁর সাথে ওঠা-বসা করতেন। ৫৪৯
টিকাঃ
৫৪৪. আল-'ইদ আল-ফারীদ-৪/১৪০-১৪১
৫৪৫. প্রাগুক্ত-২/১৮৭
৫৪৬. প্রাগুক্ত-১/৪০; তাবি'ঈদের জীবনকথা-১/১২২
৫৪৭. সিফাতুস সাফওয়া-২/১২২
৫৪৮. প্রাগুক্ত-২/১২০-১২১
৫৪৯. তাবাকাত-৫/৩৯২
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট একবার ইরাক থেকে একদল লোক আসে। তিনি দেখলেন, তাদের মধ্য থেকে একটি যুবক কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি যুবকটিকে বললেন, বড়দের বলতে দাও। যুবকটি বললো: হে আমীরুল মু'মিনীন! কথা বলার যোগ্যতা বয়সের দ্বারা হয়না। আর যদি সবকিছু বয়সের দ্বারা হতো তাহলে মুসলমানদের মধ্যে আপনার চেয়ে বেশী বয়সের অনেক লোক আছে। 'উমার বললেন: আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন, তুমি সত্য বলেছো। তুমি কথা বল। যুবক বললো: আমরা কোন প্রত্যাশা নিয়ে ও ভীতিসহকারে আপনার নিকট আসিনি। প্রত্যাশা— তা তো আমাদের গৃহে পৌঁছে গেছে, আর ভীতি— তা আল্লাহ আপনার আদল ও ইনসাফের দ্বারা আপনার জুলুম-অত্যাচার থেকে আমাদের নিরাপদ করেছেন। 'উমার জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কি উদ্দেশ্যে এসেছো? যুবক বললো আমরা একটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী প্রতিনিধি দল। সেই মজলিসে উপস্থিত মুহাম্মাদ ইবন কা'ব আল-কুরাজী 'উমারের মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে দেখেন তা খুশীতে ঝলমল করছে। তিনি বললেন: হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা যেন কোনভাবে আপনার নিজের সম্পর্কে আপনার জানার উপর বিজয়ী হতে না পারে। প্রশংসা বহু মানুষকে প্রতারিত করেছে এবং মানুষের কৃতজ্ঞতা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে। অতঃপর তারা ধ্বংস হয়েছে। আপনি তাদের মত না হন এজন্য আমি আল্লাহর পানাহ চাই। একথা শুনে 'উমার তাঁর বুকের উপর মাথা নীচু করে দিলেন। ৫৪৪
একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এক ব্যক্তিকে কোন কারণে দণ্ডাদেশ দেন। তখন রাজা' ইবন হায়ওয়া তাঁকে বলেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনি যে বিজয় ভালোবাসেন তা তো আল্লাহ পূর্ণ করেছেন। এখন তিনি যে ক্ষমা ভালোবাসেন তা পূর্ণ করুন। ৫৪৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যখন মদীনার ওয়ালী ছিলেন তখন হযরত সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা) তাঁর দরবারে আসা-যাওয়া করতেন। পরবর্তীকালে 'উমার খলীফা হওয়ার পর সালিম ও মুহাম্মাদ ইবন কা'ব আল-কারাযীকে দরবারে ডেকে পাঠান। তারা উপস্থিত হলে খলীফা বলেন: আপনারা কিছু উপদেশ দিন। সালিম বললেন : 'আপনি মানুষকে পিতা, পুত্র ও ভ্রাতা জ্ঞান করবেন। তারপর পিতার সেবা ও ভ্রাতার নিরাপত্তা বিধান করবেন। আর পুত্রের প্রতি দয়া ও স্নেহপরায়ণ হবেন।' মুহাম্মাদ ইবন কা'ব বললেন: 'আপনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন মানুষের জন্যও তাই পছন্দ করুন, নিজের জন্য যা অপছন্দ করেন তাদের জন্যও তা অপছন্দ করুন। আর জেনে রাখুন, আপনিই এ পৃথিবীর মৃত্যুবরণকারী প্রথম খলীফা নন।' ৫৪৬
যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ আল-মাদীনী বলেন, ইবন 'আমির ইবন আবী রাবী'আ তার এক প্রয়োজনে আমাকে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট পাঠালেন। আমি যখন তাঁর নিকট পৌঁছলাম তখন তাঁর একজন সেক্রেটারী তাঁর পাশে বসে কি যেন লিখছিলেন। আমি সালাম দিলাম এভাবে : আস-সালামু 'আলাইকুম। জবাবে তিনি বললেন: ওয়া 'আলাইকাস সালাম। তারপর আমি সতর্ক হলাম এবং বললাম: আস- সালামু 'আলাইকা ইয়া আমীরাল মু'মিনীন ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি বললেন: ইবন আবী যিয়াদ! তুমি প্রথম যেভাবে সালাম দিয়েছিলে তাতে আমি অখুশী হইনি। সেক্রেটারী বসরা থেকে জুলুম-অত্যাচারের যে রিপোর্ট এসেছিল তা পড়ে শোনাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: বস। আমি দরজার চৌকাঠের কাছে বসলাম। সেক্রেটারী পড়ছেন, আর 'উমার জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ছেন। রিপোর্ট পাঠ শেষ হলে তিনি সকলকে ঘর থেকে বের করে দিলেন। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার সামনে বসেন এবং তাঁর দু'টি হাত আমার হাঁটুর উপর রেখে বলেন: ওহে ইবন আবী যিয়াদ! আমি তোমার গায়ের পশমী 'আবার (জোব্বা) মধ্যে আমার হাতটি রেখে একটু গরম করে নিই। তারপর তিনি মদীনার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সৎ মানুষদের হাল- হাকীকত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। কারো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে বাকী রাখলেন না। মদীনার এমন কিছু বিষয় ছিল যা তিনি করতে বলেছিলেন, সে সম্পর্কেও আমি তাঁকে অবহিত করলাম। ৫৪৭
মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিকের আযাদকৃত দাস 'আবদুস সালাম বলেন, একদিন 'উমার ভীষণ কাঁদলেন। তা দেখে স্ত্রী ফাতিমাও কাঁদলেন। আর তাঁদেরকে কাঁদতে দেখে বাড়ীর অন্যরাও কাঁদলেন। কান্না থামলে স্ত্রী ফাতিমা জিজ্ঞেস করলেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনি এভাবে কাঁদলেন কেন? বললেন: আমার স্মরণ হলো, মানুষ আল্লাহর সামনে থেকে ফিরে যাচ্ছে— একদল জান্নাতর দিকে, আরেকদল জাহান্নামের দিকে। একথা বলে তিনি চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন। ৫৪৮
তিনি ফকীহ, 'আলিম ও আল-কুরআনের কারীদের খুবই সমাদর করতেন। দূর-দূরান্ত থেকে গুণীজনদের ডেকে এনে দরবারের বিশিষ্টজনদের মধ্যে স্থান করে দিতেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'উমার (রা), মুহাম্মাদ ইবন কুরাজী, রাজা' ইবন হায়ওয়া এবং রিয়াহ ইবন 'উবায়দার সংগে খিলাফত পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতেন। মায়মূন ইবন মিহরান, রাজা' ইবন হায়ওয়া এবং রিয়াহ ইবন 'উবায়দা ছিলেন তাঁর বিশেষ সভাসদ। এছাড়া আরো অনেক 'আলিম তাঁর সাথে ওঠা-বসা করতেন। ৫৪৯
টিকাঃ
৫৪৪. আল-'ইদ আল-ফারীদ-৪/১৪০-১৪১
৫৪৫. প্রাগুক্ত-২/১৮৭
৫৪৬. প্রাগুক্ত-১/৪০; তাবি'ঈদের জীবনকথা-১/১২২
৫৪৭. সিফাতুস সাফওয়া-২/১২২
৫৪৮. প্রাগুক্ত-২/১২০-১২১
৫৪৯. তাবাকাত-৫/৩৯২