📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 নিজ খান্দানের সপক্ষে

📄 নিজ খান্দানের সপক্ষে


'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যদিও ধর্মীয়ভাবে নিজ খান্দানের সর্বেসর্বা মর্যাদার দাবীদার হওয়াকে মোটেই সমর্থন করতেন না, তবে নিজ খান্দানের মান-মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে একেবারে উদাসীন ছিলেন না। একবার বিদ্রোহী খারিজীরা বিতর্ক চলাকালে বললো, যতক্ষণ আপনি আপনার খান্দানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের প্রতি অভিশম্পাত না করবেন, আমরা আপনার আনুগত্য করবো না। জবাবে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করেন, তোমরা কি ফির'আউনের প্রতি অভিশাপ দিয়ে থাক? তারা না সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, যখন তোমরা ফির'আউনকে ক্ষমা করেছো তখন আমি আমার খান্দানের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখবো না কেন? বিশেষতঃ যখন তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ বিদ্যমান? ৫৩৫

একবার এক ব্যক্তি তাঁর সামনে হযরত মু'আবিয়া (রা)-কে নিন্দামন্দ করলে তিনি তাকে তিনটি চাবুক মারেন। তিনি তাঁর গোটা খিলাফতকালে নিজ হাতে এই তিনটি চাবুকই মারেন। ৫৩৬

টিকাঃ
৫৩৫. ইবনুল জাওযী-৭৭
৫৩৬. তাবাকাত-৫/৩৮৩

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যদিও ধর্মীয়ভাবে নিজ খান্দানের সর্বেসর্বা মর্যাদার দাবীদার হওয়াকে মোটেই সমর্থন করতেন না, তবে নিজ খান্দানের মান-মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে একেবারে উদাসীন ছিলেন না। একবার বিদ্রোহী খারিজীরা বিতর্ক চলাকালে বললো, যতক্ষণ আপনি আপনার খান্দানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের প্রতি অভিশম্পাত না করবেন, আমরা আপনার আনুগত্য করবো না। জবাবে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করেন, তোমরা কি ফির'আউনের প্রতি অভিশাপ দিয়ে থাক? তারা না সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, যখন তোমরা ফির'আউনকে ক্ষমা করেছো তখন আমি আমার খান্দানের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখবো না কেন? বিশেষতঃ যখন তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ বিদ্যমান? ৫৩৫

একবার এক ব্যক্তি তাঁর সামনে হযরত মু'আবিয়া (রা)-কে নিন্দামন্দ করলে তিনি তাকে তিনটি চাবুক মারেন। তিনি তাঁর গোটা খিলাফতকালে নিজ হাতে এই তিনটি চাবুকই মারেন। ৫৩৬

টিকাঃ
৫৩৫. ইবনুল জাওযী-৭৭
৫৩৬. তাবাকাত-৫/৩৮৩

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 আপনজনদের প্রতি ভালোবাসা

📄 আপনজনদের প্রতি ভালোবাসা


তিনি আপনজন ও নিকট আত্মীয়দের ভীষণ ভালোবাসতেন। তাঁর চাচা 'আবদুল্লাহ ইবন মারওয়ানের মৃত্যু হলে, যদিও তিনি তখন বিলাসী জীবন যাপন করতেন, আয়েশী জীবন ত্যাগ করে অতি সাদামাটা জীবন ধারণ করেন। প্রায় দু'আড়াই মাস এভাবে চলার পর অবশেষে মুহাম্মাদ ইবন কাসিমের অনুরোধে নিজের প্রকৃত অবস্থায় ফিরে আসেন। পুত্র সন্তানদের মধ্যে আবদুল মালিক ছিলেন তাঁর বেশী প্রিয়। একবার মায়মুন ইবন মাহরানকে তিনি বলেন, আমার পুত্র 'আবদুল মালিক আমার চোখের পুত্তলিতে পরিণত হয়েছে। আমার ভয় হয়, আমার আবেগ আমার বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে না ফেলে। আমার ইচ্ছা, আপনি এসে তার শিক্ষা ও জ্ঞানের পরীক্ষা নিন।

তিনি আপনজন ও নিকট আত্মীয়দের ভীষণ ভালোবাসতেন। তাঁর চাচা 'আবদুল্লাহ ইবন মারওয়ানের মৃত্যু হলে, যদিও তিনি তখন বিলাসী জীবন যাপন করতেন, আয়েশী জীবন ত্যাগ করে অতি সাদামাটা জীবন ধারণ করেন। প্রায় দু'আড়াই মাস এভাবে চলার পর অবশেষে মুহাম্মাদ ইবন কাসিমের অনুরোধে নিজের প্রকৃত অবস্থায় ফিরে আসেন। পুত্র সন্তানদের মধ্যে আবদুল মালিক ছিলেন তাঁর বেশী প্রিয়। একবার মায়মুন ইবন মাহরানকে তিনি বলেন, আমার পুত্র 'আবদুল মালিক আমার চোখের পুত্তলিতে পরিণত হয়েছে। আমার ভয় হয়, আমার আবেগ আমার বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে না ফেলে। আমার ইচ্ছা, আপনি এসে তার শিক্ষা ও জ্ঞানের পরীক্ষা নিন।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 শত্রুর সাথে কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ

📄 শত্রুর সাথে কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ


শত্রুর সাথে কোমল আচরণ করতে পারে কেবল অতি ভদ্র ও উদার চিত্তের মানুষেরা। 'উমার ছিলেন এ জাতীয় একজন মানুষ। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায় খারিজীদের একটি উপদল সব সময় খলীফাদের দুশমন ভেবেছে। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সারা জীবন তাদের সাথে কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন। একবার জনৈক খারিজী ব্যক্তি খলীফা সুলায়মান ইবন 'আবদিল মালিককে পাপাচারী ও পাপিষ্ঠ পিতার সন্তান বলে গালি দেয়। খলীফা সুলায়মান লোকটিকে কি শাস্তি দেওয়া যায় সে ব্যাপারে 'উমারের পরামর্শ চান। 'উমার বললেন, সে যেমন আপনাকে গালি দিয়েছে আপনিও তাকে কিছু গালি দিতে পারেন। ৫৩৭

একবার কয়েকজন খারিজী তাঁর নিকট এসে বিতর্ক শুরু করে। 'উমারের সাথে বসা তাঁর এক বন্ধু তাঁকে বললেন, আপনি উত্তেজিত হয়ে তাকে একটু ভয় দেখান। কিন্তু তার কথায় কান না দিয়ে তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও কোমলভাবে তার সাথে আলোচনা করতে থাকেন। অবশেষে তারা একটি বিশেষ শর্তের উপর রাজী হয়ে চলে যায়। তারপর 'উমার তাঁর বন্ধুর হাঁটুতে হাত রেখে বলেন, যদি ঔষধে কাজ হয় তাহলে কাঁটা-ছেঁড়া করা উচিত নয়। ৫৩৮

খারিজীদের সাথে সংঘাত-সংঘর্ষের পর্যায় শুরু হলে তিনি কয়েকটি শর্তে তাদের সাথে যুদ্ধের অনুমতি দেন। শর্তগুলো নিম্নরূপ: ১. নারী, শিশু ও বন্দীদের হত্যা করা যাবে না। ২. আহতদের পিছু ধাওয়া করা যাবে না। ৩. গণীমতের যে সম্পদ হস্তগত হবে তা তাদের পরিবার-পরিজনকে ফেরত দিতে হবে। ৪. সঠিক পথে ফিরে আসা পর্যন্ত বন্দীকে আটক রাখা যাবে।

তাঁর নিকট হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ এত পরিমাণ অভিশপ্ত ছিল যে, তিনি তার গোটা খান্দানকে দেশান্তর করেন। তাছাড়া তাঁর সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তারা যেন হাজ্জাজের রূপ ধারণ না করে। এতদসত্ত্বেও যখন তাঁর সামনে রায়‍্যাহ ইবন 'উবাইদা হাজ্জাজকে গালি দেয় তখন তিনি তাকে বারণ করেন। রায়‍্যাহকে বলেন: যখন কোন মজলুম ব্যক্তি জালিমকে গালি দিয়ে বদলা নেয় তখন জালিম তার উপর মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে যায়।

তাঁর এমন কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কথা দুশমনদের সকলের জানা ছিল। এ কারণে তাঁরই নির্দেশে যখন জারাহ মাখলাদ ইবন ইয়াযীদ ইবন আল-মুহাল্লাবকে বন্দী করেন তখন বন্দী অবস্থায় তার সাথে অত্যধিক কোমল আচরণ করেন। সে খবর 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কানে গেলে তিনি জারাহকে লেখেন: তুমি তো আল মুহাল্লাবের মা, যে তার জন্য বিছানা বিছিয়ে তার উপর শোয়ায়। তা সত্ত্বেও জারাহ যখন 'উমারের সামনে উপস্থিত হন তখন তাঁর বিশ্রাম ও আরাম-আয়েশের প্রতি ভীষণ তৎপর হন। অতঃপর মাখলাদ ইবন ইয়াযীদকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেন। ৫৩৯

টিকাঃ
৫৩৭. ইবনুল জাওযী-৩৫, ৩৯, ২৬৩
৫৩৮. প্রাগুক্ত-৬৩
৫৩৯. প্রাগুক্ত: ৮৯-৯০, ৯৬

শত্রুর সাথে কোমল আচরণ করতে পারে কেবল অতি ভদ্র ও উদার চিত্তের মানুষেরা। 'উমার ছিলেন এ জাতীয় একজন মানুষ। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায় খারিজীদের একটি উপদল সব সময় খলীফাদের দুশমন ভেবেছে। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সারা জীবন তাদের সাথে কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন। একবার জনৈক খারিজী ব্যক্তি খলীফা সুলায়মান ইবন 'আবদিল মালিককে পাপাচারী ও পাপিষ্ঠ পিতার সন্তান বলে গালি দেয়। খলীফা সুলায়মান লোকটিকে কি শাস্তি দেওয়া যায় সে ব্যাপারে 'উমারের পরামর্শ চান। 'উমার বললেন, সে যেমন আপনাকে গালি দিয়েছে আপনিও তাকে কিছু গালি দিতে পারেন। ৫৩৭

একবার কয়েকজন খারিজী তাঁর নিকট এসে বিতর্ক শুরু করে। 'উমারের সাথে বসা তাঁর এক বন্ধু তাঁকে বললেন, আপনি উত্তেজিত হয়ে তাকে একটু ভয় দেখান। কিন্তু তার কথায় কান না দিয়ে তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও কোমলভাবে তার সাথে আলোচনা করতে থাকেন। অবশেষে তারা একটি বিশেষ শর্তের উপর রাজী হয়ে চলে যায়। তারপর 'উমার তাঁর বন্ধুর হাঁটুতে হাত রেখে বলেন, যদি ঔষধে কাজ হয় তাহলে কাঁটা-ছেঁড়া করা উচিত নয়। ৫৩৮

খারিজীদের সাথে সংঘাত-সংঘর্ষের পর্যায় শুরু হলে তিনি কয়েকটি শর্তে তাদের সাথে যুদ্ধের অনুমতি দেন। শর্তগুলো নিম্নরূপ: ১. নারী, শিশু ও বন্দীদের হত্যা করা যাবে না। ২. আহতদের পিছু ধাওয়া করা যাবে না। ৩. গণীমতের যে সম্পদ হস্তগত হবে তা তাদের পরিবার-পরিজনকে ফেরত দিতে হবে। ৪. সঠিক পথে ফিরে আসা পর্যন্ত বন্দীকে আটক রাখা যাবে।

তাঁর নিকট হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ এত পরিমাণ অভিশপ্ত ছিল যে, তিনি তার গোটা খান্দানকে দেশান্তর করেন। তাছাড়া তাঁর সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তারা যেন হাজ্জাজের রূপ ধারণ না করে। এতদসত্ত্বেও যখন তাঁর সামনে রায়‍্যাহ ইবন 'উবাইদা হাজ্জাজকে গালি দেয় তখন তিনি তাকে বারণ করেন। রায়‍্যাহকে বলেন: যখন কোন মজলুম ব্যক্তি জালিমকে গালি দিয়ে বদলা নেয় তখন জালিম তার উপর মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে যায়।

তাঁর এমন কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কথা দুশমনদের সকলের জানা ছিল। এ কারণে তাঁরই নির্দেশে যখন জারাহ মাখলাদ ইবন ইয়াযীদ ইবন আল-মুহাল্লাবকে বন্দী করেন তখন বন্দী অবস্থায় তার সাথে অত্যধিক কোমল আচরণ করেন। সে খবর 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কানে গেলে তিনি জারাহকে লেখেন: তুমি তো আল মুহাল্লাবের মা, যে তার জন্য বিছানা বিছিয়ে তার উপর শোয়ায়। তা সত্ত্বেও জারাহ যখন 'উমারের সামনে উপস্থিত হন তখন তাঁর বিশ্রাম ও আরাম-আয়েশের প্রতি ভীষণ তৎপর হন। অতঃপর মাখলাদ ইবন ইয়াযীদকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেন। ৫৩৯

টিকাঃ
৫৩৭. ইবনুল জাওযী-৩৫, ৩৯, ২৬৩
৫৩৮. প্রাগুক্ত-৬৩
৫৩৯. প্রাগুক্ত: ৮৯-৯০, ৯৬

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 দুঃস্থ ও অভাবীদের সাহায্য

📄 দুঃস্থ ও অভাবীদের সাহায্য


যে সকল মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতো 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তাদের সাহায্য করতেন। তাঁর বৈঠকী সহচর-সঙ্গী হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত নির্ধারণ করেন তার মধ্যে একটি শর্ত ছিল এ রকম: আমার বৈঠকী সহচরদের উচিত হবে, যে সকল মানুষ তাদের অভাব ও প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না, তাদের কথা আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। একবার তাঁর সামনে এক চোরকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অভাবের কারণে চুরি করেছে। তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং দশ দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।

একবার এক বেদুঈন তাঁর নিকট আসে এবং অত্যন্ত মন গলানো ভাষায় নিজের অভাবের কথা জানায়। তার কথা শুনে 'উমার কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে থাকেন। তখন তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। মাথা উঠিয়ে তিনি লোকটির কাছে জানতে চান, তোমার পরিবারে মোট কতজন লোক? সে বলে, আমি এবং আমার আট কন্যা। তিনি বায়তুল মাল থেকে তাদের সবার জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অর্থ থেকে তার হাতে তুলে দেন একশ' দিরহাম। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ যা খুমুস নামে পরিচিত, বায়তুল মালে জমা হয়। যখন এই খাতের দাসের সংখ্যা বেড়ে যেত তখন তিনি দু'জন পঙ্গুর জন্য একজন এবং একজন অন্ধের সেবার জন্য একজন করে দাস দান করতেন।

নিয়ম ছিল যখন তাঁর কোন ডাক যেত তখন যে কেউ তার চিঠি-পত্র দিলে তা বহন করা হতো। একবার মিসর থেকে একটি ডাক যাত্রা করলো। সেখানকার জনৈক ব্যক্তির দাসী খলীফার নামে একটি চিঠি ডাকে দিল। চিঠিতে সে খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লিখলো যে, তার বাড়ীর প্রাচীর এত নীচু যে চোর তা ডিঙ্গিয়ে তার মুরগীগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। চিঠিটি পেয়ে মিসরের ওয়ালীকে লিখলেন, আমার এ চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে তুমি এই দাসীর বাড়ীতে যাবে এবং প্রাচীরটি উঁচু করে দেবে। দাসীকে আমার এ নির্দেশের কথা জানাবে। ৫৪০

একবার ইরাক থেকে এক মহিলা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট আসলো। বাড়ীর দরজায় পৌঁছে সে মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলো: আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে দারোয়ান নেই? লোকেরা বললো: না। ইচ্ছা করলে ভিতরে ঢুকতে পার। সে ভিতরে বেগম সাহেবা ফাতিমার নিকট গেল। তখন তার হাতে কিছু তুলা, যা দিয়ে তিনি আমীরুল মু'মিনীনের সেবা করে থাকেন। সে সালাম দিয়ে বসলো। তারপর চোখ উঠিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে ঘরে কোথাও কোন জিনিস নেই। বললো আমি এসেছি আমার ঘরকে পূর্ণ করার জন্য এই শূন্য ঘরে? জবাবে ফাতিমা তাকে বললেন: তোমাদের মত মানুষের ঘর পূর্ণ করতে গিয়ে তিনি নিজের ঘর শূন্য করে ফেলেছেন।

তাদের কথার মাঝখানে 'উমার এসে ঢুকলেন। আগন্তুক মহিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কি প্রয়োজন? মহিলা বললো আমি একজন ইরাকী মহিলা, আমার বিবাহযোগ্য পাঁচটি মেয়ে আছে; কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাদের বিয়ে দিতে পারছিনে। তাদের প্রতি আপনার সুদৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমি এসেছি। সাথে সাথে তিনি কালি, কলম ও কাগজ নিয়ে ইরাকের ওয়ালীকে লিখতে বসলেন। তিনি মহিলার নিকট এক এক করে চারজন মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা নির্ধারণ করে পত্রটি শেষ করেন। আর ৫ম জনের ব্যাপারে বলেন, চার জনের ভাতা থেকে তার প্রয়োজন পূরণ হবে। মহিলাটি আল্লাহর হামদ ও আমীরুল মু'মিনীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকে। অতঃপর পত্রটি নিয়ে সে ইরাকের দিকে যাত্রা করে। ৫৪১

টিকাঃ
৫৪০. সীরাত ইবন 'আবদিল হাকাম-৫৫, ৬৫
৫৪১. প্রাগুক্ত-১৭৭; আল-খলীফা আয-যাহিদ-১৭৬

যে সকল মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতো 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তাদের সাহায্য করতেন। তাঁর বৈঠকী সহচর-সঙ্গী হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত নির্ধারণ করেন তার মধ্যে একটি শর্ত ছিল এ রকম: আমার বৈঠকী সহচরদের উচিত হবে, যে সকল মানুষ তাদের অভাব ও প্রয়োজনের কথা আমার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না, তাদের কথা আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। একবার তাঁর সামনে এক চোরকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অভাবের কারণে চুরি করেছে। তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং দশ দিরহাম দানের নির্দেশ দেন।

একবার এক বেদুঈন তাঁর নিকট আসে এবং অত্যন্ত মন গলানো ভাষায় নিজের অভাবের কথা জানায়। তার কথা শুনে 'উমার কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে থাকেন। তখন তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। মাথা উঠিয়ে তিনি লোকটির কাছে জানতে চান, তোমার পরিবারে মোট কতজন লোক? সে বলে, আমি এবং আমার আট কন্যা। তিনি বায়তুল মাল থেকে তাদের সবার জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অর্থ থেকে তার হাতে তুলে দেন একশ' দিরহাম। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ যা খুমুস নামে পরিচিত, বায়তুল মালে জমা হয়। যখন এই খাতের দাসের সংখ্যা বেড়ে যেত তখন তিনি দু'জন পঙ্গুর জন্য একজন এবং একজন অন্ধের সেবার জন্য একজন করে দাস দান করতেন।

নিয়ম ছিল যখন তাঁর কোন ডাক যেত তখন যে কেউ তার চিঠি-পত্র দিলে তা বহন করা হতো। একবার মিসর থেকে একটি ডাক যাত্রা করলো। সেখানকার জনৈক ব্যক্তির দাসী খলীফার নামে একটি চিঠি ডাকে দিল। চিঠিতে সে খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লিখলো যে, তার বাড়ীর প্রাচীর এত নীচু যে চোর তা ডিঙ্গিয়ে তার মুরগীগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। চিঠিটি পেয়ে মিসরের ওয়ালীকে লিখলেন, আমার এ চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে তুমি এই দাসীর বাড়ীতে যাবে এবং প্রাচীরটি উঁচু করে দেবে। দাসীকে আমার এ নির্দেশের কথা জানাবে। ৫৪০

একবার ইরাক থেকে এক মহিলা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট আসলো। বাড়ীর দরজায় পৌঁছে সে মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলো: আমীরুল মু'মিনীনের বাড়ীতে দারোয়ান নেই? লোকেরা বললো: না। ইচ্ছা করলে ভিতরে ঢুকতে পার। সে ভিতরে বেগম সাহেবা ফাতিমার নিকট গেল। তখন তার হাতে কিছু তুলা, যা দিয়ে তিনি আমীরুল মু'মিনীনের সেবা করে থাকেন। সে সালাম দিয়ে বসলো। তারপর চোখ উঠিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখে ঘরে কোথাও কোন জিনিস নেই। বললো আমি এসেছি আমার ঘরকে পূর্ণ করার জন্য এই শূন্য ঘরে? জবাবে ফাতিমা তাকে বললেন: তোমাদের মত মানুষের ঘর পূর্ণ করতে গিয়ে তিনি নিজের ঘর শূন্য করে ফেলেছেন।

তাদের কথার মাঝখানে 'উমার এসে ঢুকলেন। আগন্তুক মহিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কি প্রয়োজন? মহিলা বললো আমি একজন ইরাকী মহিলা, আমার বিবাহযোগ্য পাঁচটি মেয়ে আছে; কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাদের বিয়ে দিতে পারছিনে। তাদের প্রতি আপনার সুদৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমি এসেছি। সাথে সাথে তিনি কালি, কলম ও কাগজ নিয়ে ইরাকের ওয়ালীকে লিখতে বসলেন। তিনি মহিলার নিকট এক এক করে চারজন মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা নির্ধারণ করে পত্রটি শেষ করেন। আর ৫ম জনের ব্যাপারে বলেন, চার জনের ভাতা থেকে তার প্রয়োজন পূরণ হবে। মহিলাটি আল্লাহর হামদ ও আমীরুল মু'মিনীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকে। অতঃপর পত্রটি নিয়ে সে ইরাকের দিকে যাত্রা করে। ৫৪১

টিকাঃ
৫৪০. সীরাত ইবন 'আবদিল হাকাম-৫৫, ৬৫
৫৪১. প্রাগুক্ত-১৭৭; আল-খলীফা আয-যাহিদ-১৭৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px