📄 তাঁর নিকট মানুষের মর্যাদা
তিনি একজন দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিমুখ, আল্লাহভীরু, পবিত্র আত্মা, ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু, বুদ্ধিমান, দৃঢ় সংকল্প ইত্যাদি গুণসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তাঁর যাবতীয় কর্ম তৎপরতার মূল চেতনা ছিল মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, কল্যাণ চিন্তা, সর্বোপরি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা। দেশের একজন অতি সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্টেও তিনি কাতর হয়ে পড়তেন এবং তা দূর করার যাবতীয় পন্থা অবলম্বন করতেন। তাঁর জীবন-ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা দেখা যায় যাতে তাঁর মহত্ব ও তীব্র মানবতাবোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি প্রায়ই বলতেন: ৪৮৬ 'দুনিয়াতে কোন মানুষ কোন মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখালে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রতিও দয়া ও সহানুভূতি দেখাবেন।' একবার কা'বার হাজেব তথা রক্ষণা-বেক্ষণকারীগণ কা'বার গিলাফের জন্য খলীফার নিকট আবেদন জানালেন। পূর্ববর্তী খলীফাগণের সময় থেকে গিলাফ দানের নিয়ম চলে আসছিল। জবাবে 'উমার লিখলেন: ৪৮৭ 'আমি মনে করেছি ঐ গিলাফ ক্ষুধার্তদের কলিজায় লাগাবো। কারণ, ঘরের চেয়ে তারাই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত।'
এই মহান খলীফার বিবেচনায় মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কা'বা ঘর তো মানুষের জন্য। সেই মানুষ যদি অনাহারে মারা যায় তাহলে সেই ঘর আবাদ করবে কে? মানুষ যদি সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকে তাহলে কা'বা ঘরের জৌলুষও বাড়াবে।
রোমানদের সাথে মুসলমানদের বহু বছর যাবত যুদ্ধ হয়। এ সকল যুদ্ধে উভয়পক্ষের সৈনিক প্রতিপক্ষের হাতে বন্দী হতো। আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট মুসলমানের জীবন, সুখ-শান্তি ও মর্যাদা এত বেশী প্রাধান্যযোগ্য ছিল যে, একবার মাত্র একজন মুসলিম বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে দশ হাজার রোমান সৈনিককে মুক্তি দেন। ৪৮৮ অপর একটি ঘটনায় একজন মুসলমান বন্দীকে এক লাখ দিরহাম মুক্তি পণ দিয়ে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেন। তিনি খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের লেখেন: ৪৯০ 'মুক্তি পণ দিয়ে মুসলমান বন্দীদের মুক্ত করুন, তাতে যদি সকল সম্পদও ব্যয় হয় তাতেও পরোয়া করবেন না।'
কনস্টান্টিনোপল অভিযানের সময় বহু মুসলিম সৈনিক রোমানদের হাতে বন্দী হয়। তাদের বন্দী জীবনের কষ্টের কথা চিন্তা করে 'উমার ভীষণ কাতর হয়ে পড়তেন। মাঝে মধ্যে পত্র লিখে বন্দীদের খোঁজ-খবর নিতেন, তাদেরকে সাহস দিতেন ও সমবেদনা জানাতেন। কনস্টান্টিনোপলের যুদ্ধ বন্দীদের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর একটি পত্র নিম্নরূপ: ৪৯১
'অতঃপর এই যে, তোমরা হয়তো নিজেদেরকে যুদ্ধবন্দী মনে করছো, আসলে তোমরা যুদ্ধবন্দী নও। আল্লাহর পানাহ্ চাই! আসলে তোমরা আল্লাহর পথে নিজেদেরকে অবরুদ্ধকারী। তোমরা জেনে রাখ, আমি আমার জনগণের মধ্যে কোন কিছু বণ্টন করলে তোমাদের পরিবারবর্গকে বেশী পরিমাণে এবং ভালো জিনিসটি দিয়ে থাকি। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দীনার করে পাঠালাম, বেশী পাঠালে রোমানরা আটকে দেবে, এ ভয় আমার না থাকলে আমি আরো বেশী করে পাঠাতাম। আমি তোমাদের নিকট অমুকের ছেলে অমুককে পাঠালাম। সে তাদের দাবী মত তোমাদের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস প্রত্যেকের মুক্তি পণ আদায় করবে। তোমাদের জন্য সুসংবাদ, তোমাদের জন্য সুসংবাদ।'
জা'ঊনা ইবন আল-হারিছকে তিনি 'মালতিয়া'র শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। জা'ঊনা সেখানে একটি যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেন এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বহু ছাগল- ভেড়া লাভ করেন। অভিযান শেষে তিনি নিজ পুত্রকে এ সংবাদসহ আমীরুল মু'মিনীন 'উমারের নিকট পাঠান। যথাসময়ে সে দিমাকে পৌঁছে এবং খলীফাকে অভিযান সম্পর্কে অবহিত করে। খলীফা তাঁকে জিজ্ঞেস করেন : মুসলমানদের কেউ নিহত হয়েছে কি? এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে সে জানালো। খলীফা অত্যন্ত দুঃখের সাথে এক ব্যক্তি, এক ব্যক্তি, একথাটি দু'বার উচ্চারণ করলেন। তুমি একজন মুসলমানের বিনিময়ে ছাগল-গরু প্রাপ্তির সংবাদ নিয়ে এসেছো? আমার জীবদ্দশায় তোমরা বাপ-বেটা দু'জনের কেউই আর কোন দায়িত্ব পাবে না। ৪৯২
একবার তিনি রোমান সম্রাটের নিকট পাঠানো দূতের মারফত জানতে পারলেন যে, একজন মুসলমান বন্দীকে রোমানরা ভীষণ অপমান করেছে। তারা সেই বন্দীর দ্বারা আটা পেষা ও রুটি বানানোর কাজ করাচ্ছে। সংগে সংগে তিনি রোমান সম্রাটকে লেখেন: ৪৯৩ 'অতঃপর এই যে, আমি অমুকের বিষয়ে অবগত হয়েছি। আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, যদি তাকে আমার নিকট ফেরত না পাঠান তাহলে আপনার বিরুদ্ধে এমন এক বিশাল বাহিনী পাঠাবো যার প্রথম সৈনিকটি থাকবে আপনার নিকট, আর শেষ সৈনিকটি থাকবে আমার নিকট।' খলীফার এ পত্র রোমান সম্রাট পাঠ করার পর বললেন : আমরা এই সৎ লোকটিকে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি না। এই ব্যক্তিকে আমরা তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেব।'
উল্লেখিত ঘটনার অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ইতিহাসে দেখা যায়। আর তা হলো, যে সকল সৈনিক কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করেছিল তাদের মধ্য থেকে একজন দুঃসাহসী লড়াকু সৈনিক রোমানদের হাতে বন্দী হয়। আমীরুল মু'মিনীন জানতে পারলেন, তাকে রোমান সম্রাটের সামনে হাজির করা হয় এবং সম্রাট তাকে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য প্রবল চাপ প্রয়োগ করেন। আর সৈনিকটি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে আল্লাহদ্রোহী সম্রাট তার দু'টি চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। খবরটি 'উমারের কানে পৌঁছালো। সাথে সাথে তিনি সম্রাটকে এই সংক্ষিপ্ত পত্রটি লিখলেন: ৪৯৪ 'অতঃপর এই যে, আপনি আপনার অমুক বন্দীর সাথে যে আচরণ করেছেন, তা আমার কানে পৌছেছে। আমি আল্লাহ্ নামে কসম করেছি, যদি আপনি তাকে এই মুহূর্তে আমার নিকট পাঠিয়ে না দেন তাহলে এমন এক বিশাল বাহিনী পাঠাবো যার প্রথম দিক থাকবে আপনার নিকট, আর শেষ দিক থাকবে আমার নিকট।' 'উমারের এই ধমক খেয়ে রোমান সম্রাট ভীত-শঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিলম্ব না করে সেই মুসলমান বন্দীকে মুক্তি দিয়ে স্বদেশে পাঠিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪৮৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/২০১-২০২
৪৮৭. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩০৬; ইবনুল জাওযী-৯৪
৪৮৮. তাবাকাত-৫/৩৫৪
৪৮৯. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-২/২২
৪৯০. ইবনুল জাওযী-১২০
৪৯১. কিতাবুল আসানী-৯/৩০৪
৪৯২. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩৩৪
৪৯৩. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৩২৫
৪৯৪. প্রাগুক্ত-৩২৬
তিনি একজন দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিমুখ, আল্লাহভীরু, পবিত্র আত্মা, ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু, বুদ্ধিমান, দৃঢ় সংকল্প ইত্যাদি গুণসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তাঁর যাবতীয় কর্ম তৎপরতার মূল চেতনা ছিল মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, কল্যাণ চিন্তা, সর্বোপরি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা। দেশের একজন অতি সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্টেও তিনি কাতর হয়ে পড়তেন এবং তা দূর করার যাবতীয় পন্থা অবলম্বন করতেন। তাঁর জীবন-ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা দেখা যায় যাতে তাঁর মহত্ব ও তীব্র মানবতাবোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি প্রায়ই বলতেন: ৪৮৬ 'দুনিয়াতে কোন মানুষ কোন মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখালে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রতিও দয়া ও সহানুভূতি দেখাবেন।' একবার কা'বার হাজেব তথা রক্ষণা-বেক্ষণকারীগণ কা'বার গিলাফের জন্য খলীফার নিকট আবেদন জানালেন। পূর্ববর্তী খলীফাগণের সময় থেকে গিলাফ দানের নিয়ম চলে আসছিল। জবাবে 'উমার লিখলেন: ৪৮৭ 'আমি মনে করেছি ঐ গিলাফ ক্ষুধার্তদের কলিজায় লাগাবো। কারণ, ঘরের চেয়ে তারাই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত।'
এই মহান খলীফার বিবেচনায় মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কা'বা ঘর তো মানুষের জন্য। সেই মানুষ যদি অনাহারে মারা যায় তাহলে সেই ঘর আবাদ করবে কে? মানুষ যদি সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকে তাহলে কা'বা ঘরের জৌলুষও বাড়াবে।
রোমানদের সাথে মুসলমানদের বহু বছর যাবত যুদ্ধ হয়। এ সকল যুদ্ধে উভয়পক্ষের সৈনিক প্রতিপক্ষের হাতে বন্দী হতো। আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট মুসলমানের জীবন, সুখ-শান্তি ও মর্যাদা এত বেশী প্রাধান্যযোগ্য ছিল যে, একবার মাত্র একজন মুসলিম বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে দশ হাজার রোমান সৈনিককে মুক্তি দেন। ৪৮৮ অপর একটি ঘটনায় একজন মুসলমান বন্দীকে এক লাখ দিরহাম মুক্তি পণ দিয়ে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেন। তিনি খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের লেখেন: ৪৯০ 'মুক্তি পণ দিয়ে মুসলমান বন্দীদের মুক্ত করুন, তাতে যদি সকল সম্পদও ব্যয় হয় তাতেও পরোয়া করবেন না।'
কনস্টান্টিনোপল অভিযানের সময় বহু মুসলিম সৈনিক রোমানদের হাতে বন্দী হয়। তাদের বন্দী জীবনের কষ্টের কথা চিন্তা করে 'উমার ভীষণ কাতর হয়ে পড়তেন। মাঝে মধ্যে পত্র লিখে বন্দীদের খোঁজ-খবর নিতেন, তাদেরকে সাহস দিতেন ও সমবেদনা জানাতেন। কনস্টান্টিনোপলের যুদ্ধ বন্দীদের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর একটি পত্র নিম্নরূপ: ৪৯১
'অতঃপর এই যে, আপনারা নিজেদেরকে যুদ্ধবন্দী মনে করছেন, আসলে আপনারা যুদ্ধবন্দী নন। আল্লাহর পানাহ্ চাই! আপনারা আল্লাহর পথে নিজেদেরকে অবরুদ্ধকারী। আপনারা জেনে রাখুন, আমি আমার জনগণের মধ্যে কোন কিছু বণ্টন করলে আপনাদের পরিবারবর্গকে বেশী পরিমাণে এবং ভালো জিনিসটি দিয়ে থাকি। আমি আপনাদের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দীনার করে পাঠালাম, বেশী পাঠালে রোমানরা আটকে দেবে, এ ভয় আমার না থাকলে আমি আরো বেশী করে পাঠাতাম। আমি আপনাদের নিকট অমুকের ছেলে অমুককে পাঠালাম। সে তাদের দাবী মত আপনাদের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস প্রত্যেকের মুক্তি পণ আদায় করবে। আপনাদের জন্য সুসংবাদ, আপনাদের জন্য সুসংবাদ।'
জা'ঊনা ইবন আল-হারিছকে তিনি 'মালতিয়া'র শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। জা'ঊনা সেখানে একটি যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেন এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বহু ছাগল- ভেড়া লাভ করেন। অভিযান শেষে তিনি নিজ পুত্রকে এ সংবাদসহ আমীরুল মু'মিনীন 'উমারের নিকট পাঠান। যথাসময়ে সে দিমাকে পৌঁছে এবং খলীফাকে অভিযান সম্পর্কে অবহিত করে। খলীফা তাঁকে জিজ্ঞেস করেন : মুসলমানদের কেউ নিহত হয়েছে কি? এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে সে জানালো। খলীফা অত্যন্ত দুঃখের সাথে এক ব্যক্তি, এক ব্যক্তি, একথাটি দু'বার উচ্চারণ করলেন। তুমি একজন মুসলমানের বিনিময়ে ছাগল-গরু প্রাপ্তির সংবাদ নিয়ে এসেছো? আমার জীবদ্দশায় তোমরা বাপ-বেটা দু'জনের কেউই আর কোন দায়িত্ব পাবে না। ৪৯২
একবার তিনি রোমান সম্রাটের নিকট পাঠানো দূতের মারফত জানতে পারলেন যে, একজন মুসলমান বন্দীকে রোমানরা ভীষণ অপমান করেছে। তারা সেই বন্দীর দ্বারা আটা পেষা ও রুটি বানানোর কাজ করাচ্ছে। সংগে সংগে তিনি রোমান সম্রাটকে লেখেন: ৪৯৩ 'অতঃপর এই যে, আমি অমুকের বিষয়ে অবগত হয়েছি। আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, যদি তাকে আমার নিকট ফেরত না পাঠান তাহলে আপনার বিরুদ্ধে এমন এক বিশাল বাহিনী পাঠাবো যার প্রথম সৈনিকটি থাকবে আপনার নিকট, আর শেষ সৈনিকটি থাকবে আমার নিকট।' খলীফার এ পত্র রোমান সম্রাট পাঠ করার পর বললেন : আমরা এই সৎ লোকটিকে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি না। এই ব্যক্তিকে আমরা তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেব।'
উল্লেখিত ঘটনার অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ইতিহাসে দেখা যায়। আর তা হলো, যে সকল সৈনিক কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করেছিল তাদের মধ্য থেকে একজন দুঃসাহসী লড়াকু সৈনিক রোমানদের হাতে বন্দী হয়। আমীরুল মু'মিনীন জানতে পারলেন, তাকে রোমান সম্রাটের সামনে হাজির করা হয় এবং সম্রাট তাকে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য প্রবল চাপ প্রয়োগ করেন। আর সৈনিকটি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে আল্লাহদ্রোহী সম্রাট তার দু'টি চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। খবরটি 'উমারের কানে পৌঁছালো। সাথে সাথে তিনি সম্রাটকে এই সংক্ষিপ্ত পত্রটি লিখলেন: ৪৯৪ 'অতঃপর এই যে, আপনি আপনার অমুক বন্দীর সাথে যে আচরণ করেছেন, তা আমার কানে পৌছেছে। আমি আল্লাহ্ নামে কসম করেছি, যদি আপনি তাকে এই মুহূর্তে আমার নিকট পাঠিয়ে না দেন তাহলে এমন এক বিশাল বাহিনী পাঠাবো যার প্রথম দিক থাকবে আপনার নিকট, আর শেষ দিক থাকবে আমার নিকট।' 'উমারের এই ধমক খেয়ে রোমান সম্রাট ভীত-শঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিলম্ব না করে সেই মুসলমান বন্দীকে মুক্তি দিয়ে স্বদেশে পাঠিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪৮৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/২০১-২০২
৪৮৭. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩০৬; ইবনুল জাওযী-৯৪
৪৮৮. তাবাকাত-৫/৩৫৪
৪৮৯. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-২/২২
৪৯০. ইবনুল জাওযী-১২০
৪৯১. কিতাবুল আসানী-৯/৩০৪
৪৯২. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩৩৪
৪৯৩. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৩২৫
৪৯৪. প্রাগুক্ত-৩২৬
📄 উপদেশ গ্রহণ
আত্ম-অহমিকা শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিবর্গকে সব সময় উপদেশ গ্রহণ থেকে বিরত রাখে কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের অন্তরটি ছিল ভীষণ কোমল। তিনি বিশ্বাস করতেন, খিলাফতের বোঝাটি এমন যে, যদি তা সততার সাথে বহনের ইচ্ছে থাকে, তবে তা একা বহন করা সম্ভব না। এজন্য তিনি জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট উপদেশ চাইতেন। তাঁদের উপদেশ শুনে দারুণ প্রভাবিত হতেন। একবার তিনি ইমাম হাসান আল-বসরীকে (রহ) লেখেন যে, আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ লিখে পাঠান। জবাবে তিনি কিছু উপদেশ লিখেও পাঠান।
একবার তিনি ইরাকের সকল ফকীহকে এ উদ্দেশ্যে ডেকে পাঠান। তাঁরা উপস্থিত হলেন। কেবল ইমাম হাসান আল-বসরী (রহ) অসুস্থতার কথা বলে অনুপস্থিত থাকেন এবং উপদেশমূলক কিছু কথা লিখে পাঠান। লেখাটি পেয়ে 'উমার সেটি নিজের দু'চোখের উপর রাখেন। তারপর তা পাঠ করে এত প্রভাবিত হন যে, তাঁর দু'চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর একদিন বিখ্যাত তাবি'ঈ সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন কা'ব (রহ) দেখা করতে আসলেন। খলীফা একের পর এক দু'জনের নিকট কিছু উপদেশমূলক কথা শোনার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। তাঁরা কিছু উপদেশমূলক কথা শোনালেন। তিনি এতই প্রভাবিত হলেন যে, কেঁদে ফেললেন। কোন কোন 'আলিম তাঁর নিকট যেতেন এবং নিজেরাই তাঁকে কিছু উপদেশ বাণী শোনানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করতেন। তিনি খুশী মনে অনুমতি দিতেন এবং তাঁরা উপদেশমূলক কথা শোনাতেন। একবার ইবন আত্তাম তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, আপনাকে আমি একটু খুশী করবো। বললেন, না। বরং উপদেশমূলক কথা শোনান। একথার পর ইবন আহ্বাম একটি সাধারণ ভাষণ দেন এবং তাতে বিশেষভাবে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে সম্বোধন করেন। তৎকালীন 'আলিমগণ তাঁকে যে সকল উপদেশমূলক কথা বলেছেন তা সবই 'আল্লামা ইবনুল জাওযী তাঁর "সীরাতু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয" গ্রন্থে ২১তম অধ্যায়ে সংকলন করেছেন।
আত্ম-অহমিকা শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিবর্গকে সব সময় উপদেশ গ্রহণ থেকে বিরত রাখে কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের অন্তরটি ছিল ভীষণ কোমল। তিনি বিশ্বাস করতেন, খিলাফতের বোঝাটি এমন যে, যদি তা সততার সাথে বহনের ইচ্ছে থাকে, তবে তা একা বহন করা সম্ভব না। এজন্য তিনি জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট উপদেশ চাইতেন। তাঁদের উপদেশ শুনে দারুণ প্রভাবিত হতেন। একবার তিনি ইমাম হাসান আল-বসরীকে (রহ) লেখেন যে, আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ লিখে পাঠান। জবাবে তিনি কিছু উপদেশ লিখেও পাঠান।
একবার তিনি ইরাকের সকল ফকীহকে এ উদ্দেশ্যে ডেকে পাঠান। তাঁরা উপস্থিত হলেন। কেবল ইমাম হাসান আল-বসরী (রহ) অসুস্থতার কথা বলে অনুপস্থিত থাকেন এবং উপদেশমূলক কিছু কথা লিখে পাঠান। লেখাটি পেয়ে 'উমার সেটি নিজের দু'চোখের উপর রাখেন। তারপর তা পাঠ করে এত প্রভাবিত হন যে, তাঁর দু'চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর একদিন বিখ্যাত তাবি'ঈ সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবন কা'ব (রহ) দেখা করতে আসলেন। খলীফা একের পর এক দু'জনের নিকট কিছু উপদেশমূলক কথা শোনার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। তাঁরা কিছু উপদেশমূলক কথা শোনালেন। তিনি এতই প্রভাবিত হলেন যে, কেঁদে ফেললেন। কোন কোন 'আলিম তাঁর নিকট যেতেন এবং নিজেরাই তাঁকে কিছু উপদেশ বাণী শোনানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করতেন। তিনি খুশী মনে অনুমতি দিলেন এবং তাঁরা উপদেশমূলক কথা শোনাতেন। একবার ইবন আত্তাম তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, আপনাকে আমি একটু খুশী করবো। বললেন, না। বরং উপদেশমূলক কথা শোনান। একথার পর ইবন আহ্বাম একটি সাধারণ ভাষণ দেন এবং তাতে বিশেষভাবে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে সম্বোধন করেন। তৎকালীন 'আলিমগণ তাঁকে যে সকল উপদেশমূলক কথা বলেছেন তা সবই 'আল্লামা ইবনুল জাওযী তাঁর "সীরাতু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয" গ্রন্থে ২১তম অধ্যায়ে সংকলন করেছেন।