📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর বিচার ও রায়

📄 তাঁর বিচার ও রায়


আমাদের পূর্বের আলোচনা থেকে হাদীছ ও ফিকহ বিষয়ে 'উমারের গভীর জ্ঞান ও ইসলামের বিধি বিধানের প্রাণসত্তা সম্পর্কে তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানে তাঁর বিচার-ফয়সালা ও রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করে এ প্রসঙ্গটির সমাপ্তি টানবো। ইসলামী শরী'আতের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও প্রাণসত্তা সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানের কারণে মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ নিষ্পত্তি ও বিচার-ফয়সালার ক্ষেত্রে সবসময় তিনি সঠিক রায়টি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের একথার স্বপক্ষে ইমাম আল-লাইছ ইবন সা'দের বর্ণনাটি উপস্থাপন করাই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। তিনি বলেন: ৪২২
'কাদিম আল-বারবারী আমাকে বলেছেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় থাকাকালে যে সকল বিচার-ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তিনি রাবী'আ ইবন আবদির রহমানের সাথে কিছু আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে রাবী'আ বলেন: তুমি যেন বলতে চাচ্ছো, তিনি ভুল করেছেন। যাঁর হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার শপথ! তিনি কখনো ভুল করেননি।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই রাবী'আ হলেন, মদীনার সেই বিখ্যাত ইমাম, ফকীহ ও মুজতাহিদ। তাঁর সময়ের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'আলিম এবং যিনি 'রাবী'আতুর রায়' নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। পূর্বে উল্লেখিত তাঁর মন্তব্যে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের জ্ঞান-গরিমা ও সঠিক রায় ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বিরাট সাক্ষ্য।

অপরাধীকে শাস্তি দানের ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য ও বিচক্ষণতা সম্পর্কে ইমাম আল-আওযা'ঈ বলেন: ৪২৩
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যখন কোন ব্যক্তিকে শাস্তিদানের ইচ্ছা করতেন তখন তিনদিন তাকে আটকে রাখতেন। তারপর শাস্তি দিতেন। রাগের প্রথম পর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে শাস্তি দান পছন্দ না করার কারণে এমন করতেন।'

বিচার কাজ পরিচালনা ও রায় দানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ভীষণ বিনয়ী। রায় দানের পরেও ভুল বুঝতে পারলে খুব সহজেই পূর্ববর্তী রায় থেকে ফিরে আসতেন। প্রকাশিত সত্যের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতেন। 'আবদুর রহমান ইবন আল-হাসান আল-আযরুকী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দরবারে বসা ছিলেন। তখন কুরায়শদের পরস্পর বিবদমান দু'টি দল নিজেদের বিবাদ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়। 'উমার উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত দিলেন। তখন রায়টি যার বিপক্ষে গেল সে বললো: আমার একটি প্রমাণ আছে যা উপস্থিত করা হয়নি। 'উমার বললেন: আমি যখন দেখেছি সত্য তোমার প্রতিপক্ষের দিকে আছে তখন সিদ্ধান্ত দানে বিলম্ব করতে পারিনে। তবে তুমি দ্রুত চলে যাও এবং তোমার প্রমাণ উপস্থিত কর। যদি দেখি সত্য তোমার পক্ষে, তাহলে আমি হবো প্রথম ব্যক্তি যে তার পূর্ববর্তী রায়কে বাতিল করে নতুন রায় দিবে। ৪২৪

তিনি আরো বলতেন: একটি মাটির ঢেলা টুকরো টুকরো করে ফেলা, অথবা একটি পত্র পাঠানোর পর তা আবার ফিরিয়ে আনার চেয়ে আমার একটি বিচারের রায় টুকরো টুকরো ফেলা আমার নিকট অধিক সহজ, যখন আমি দেখতে পাই যে, সত্য আমার প্রদত্ত রায়ের বিপক্ষে রয়েছে। ৪২৫

এ প্রসঙ্গে আরেকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে আমাদের বক্তব্য শেষ করছি। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) তাঁর নিজস্ব সনদে মাখলাদ ইবন খুফাফ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি একটি দাস খরিদ করে কিছু আয়ের জন্য তাকে কাজে লাগালাম। কয়েকদিন পর দাসটির দোষ ধরা পড়লো। বিক্রেতার সংগে এ নিয়ে ঝগড়া হলো। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বিচারক মানলাম। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দাসটি এবং আমার যিম্মাদারিতে থাকা অবস্থায় তার আয়ের অর্থ ফেরত দানের নির্দেশ দিলেন। অপরদিকে বিক্রেতাকেও নির্দেশ দিলেন মূল্য ফেরতদানের জন্য। এরপর আমি গেলাম 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা)-এর নিকট এবং তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, আমি আজ সন্ধ্যায় 'উমারের নিকট যাব এবং তাঁকে জানাবো যে, আয়িশা (রা) আমাকে বলেছেন, রাসূল (সা) এমনই একটি বিচার করেছিলেন এবং রায়ে বলেছিলেন:
'যিম্মাদারির কারণে আয় পাবে যিম্মাদার বা ক্রেতা।' কারণ, এ সময়ে দাসটি মারা গেলে বিক্রেতার উপর কোন কিছুই বর্তাতো না; সবটুকু ক্ষতি হতো ক্রেতার। আমি আবার 'উমারের নিকট গেলাম এবং তাঁকে 'উরওয়ার মুখে শোনা 'আয়িশার (রা) সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহর (সা) বিচার ও রায়ের কথা জানালাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি যে বিচার করেছি, তাতে সত্য ছাড়া আর কোন কিছুই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। এখন আমার নিকট রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ পৌঁছেছে। আমি 'উমারের সিদ্ধান্ত বাতিল করছি এবং রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর 'উরওয়া তাঁর কাছে যান। অতঃপর আমাকে দাসের আয় গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ৪২৬

টিকাঃ
৪২২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৮
৪২৩. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১৩৩; তারীখ আল-খুলাফা'-২৩৬
৪২৪. তাবাকাত-৫/৩৮৬
৪২৫. ইবনুল জাওযী-৯৩
৪২৬. ইমাম শাফি'ঈ (রহ) তাঁর আর-রিসালা-তে এবং আল-বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া 'লিসানুল 'আরাব'-১/৮০৮ দ্রঃ।

আমাদের পূর্বের আলোচনা থেকে হাদীছ ও ফিকহ বিষয়ে 'উমারের গভীর জ্ঞান ও ইসলামের বিধি বিধানের প্রাণসত্তা সম্পর্কে তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানে তাঁর বিচার-ফয়সালা ও রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করে এ প্রসঙ্গটির সমাপ্তি টানবো। ইসলামী শরী'আতের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও প্রাণসত্তা সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানের কারণে মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ নিষ্পত্তি ও বিচার-ফয়সালার ক্ষেত্রে সবসময় তিনি সঠিক রায়টি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের একথার স্বপক্ষে ইমাম আল-লাইছ ইবন সা'দের বর্ণনাটি উপস্থাপন করাই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। তিনি বলেন: ৪২২
'কাদিম আল-বারবারী আমাকে বলেছেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় থাকাকালে যে সকল বিচার-ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তিনি রাবী'আ ইবন আবদির রহমানের সাথে কিছু আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে রাবী'আ বলেন: তুমি যেন বলতে চাচ্ছো, তিনি ভুল করেছেন। যাঁর হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার শপথ! তিনি কখনো ভুল করেননি।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই রাবী'আ হলেন, মদীনার সেই বিখ্যাত ইমাম, ফকীহ ও মুজতাহিদ। তাঁর সময়ের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'আলিম এবং যিনি 'রাবী'আতুর রায়' নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। পূর্বে উল্লেখিত তাঁর মন্তব্যে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের জ্ঞান-গরিমা ও সঠিক রায় ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বিরাট সাক্ষ্য।

অপরাধীকে শাস্তি দানের ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য ও বিচক্ষণতা সম্পর্কে ইমাম আল-আওযা'ঈ বলেন: ৪২৩
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যখন কোন ব্যক্তিকে শাস্তিদানের ইচ্ছা করতেন তখন তিনদিন তাকে আটকে রাখতেন। তারপর শাস্তি দিতেন। রাগের প্রথম পর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে শাস্তি দান পছন্দ না করার কারণে এমন করতেন।'

বিচার কাজ পরিচালনা ও রায় দানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ভীষণ বিনয়ী। রায় দানের পরেও ভুল বুঝতে পারলে খুব সহজেই পূর্ববর্তী রায় থেকে ফিরে আসতেন। প্রকাশিত সত্যের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতেন। 'আবদুর রহমান ইবন আল-হাসান আল-আযরুকী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দরবারে বসা ছিলেন। তখন কুরায়শদের পরস্পর বিবদমান দু'টি দল নিজেদের বিবাদ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়। 'উমার উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত দিলেন। তখন রায়টি যার বিপক্ষে গেল সে বললো: আমার একটি প্রমাণ আছে যা উপস্থিত করা হয়নি। 'উমার বললেন: আমি যখন দেখেছি সত্য তোমার প্রতিপক্ষের দিকে আছে তখন সিদ্ধান্ত দানে বিলম্ব করতে পারিনে। তবে তুমি দ্রুত চলে যাও এবং তোমার প্রমাণ উপস্থিত কর। যদি দেখি সত্য তোমার পক্ষে, তাহলে আমি হবো প্রথম ব্যক্তি যে তার পূর্ববর্তী রায়কে বাতিল করে নতুন রায় দিবে। ৪২৪

তিনি আরো বলতেন: একটি মাটির ঢেলা টুকরো টুকরো করে ফেলা, অথবা একটি পত্র পাঠানোর পর তা আবার ফিরিয়ে আনার চেয়ে আমার একটি বিচারের রায় টুকরো টুকরো ফেলা আমার নিকট অধিক সহজ, যখন আমি দেখতে পাই যে, সত্য আমার প্রদত্ত রায়ের বিপক্ষে রয়েছে। ৪২৫

এ প্রসঙ্গে আরেকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে আমাদের বক্তব্য শেষ করছি। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) তাঁর নিজস্ব সনদে মাখলাদ ইবন খুফাফ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি একটি দাস খরিদ করে কিছু আয়ের জন্য তাকে কাজে লাগালাম। কয়েকদিন পর দাসটির দোষ ধরা পড়লো। বিক্রেতার সংগে এ নিয়ে ঝগড়া হলো। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বিচারক মানলাম। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দাসটি এবং আমার যিম্মাদারিতে থাকা অবস্থায় তার আয়ের অর্থ ফেরত দানের নির্দেশ দিলেন। অপরদিকে বিক্রেতাকেও নির্দেশ দিলেন মূল্য ফেরতদানের জন্য। এরপর আমি গেলাম 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা)-এর নিকট এবং তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, আমি আজ সন্ধ্যায় 'উমারের নিকট যাব এবং তাঁকে জানাবো যে, আয়িশা (রা) আমাকে বলেছেন, রাসূল (সা) এমনই একটি বিচার করেছিলেন এবং রায়ে বলেছিলেন:
'যিম্মাদারির কারণে আয় পাবে যিম্মাদার বা ক্রেতা।' কারণ, এ সময়ে দাসটি মারা গেলে বিক্রেতার উপর কোন কিছুই বর্তাতো না; সবটুকু ক্ষতি হতো ক্রেতার। আমি আবার 'উমারের নিকট গেলাম এবং তাঁকে 'উরওয়ার মুখে শোনা 'আয়িশার (রা) সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহর (সা) বিচার ও রায়ের কথা জানালাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি যে বিচার করেছি, তাতে সত্য ছাড়া আর কোন কিছুই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। এখন আমার নিকট রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ পৌঁছেছে। আমি 'উমারের সিদ্ধান্ত বাতিল করছি এবং রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর 'উরওয়া তাঁর কাছে যান। অতঃপর আমাকে দাসের আয় গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ৪২৬

টিকাঃ
৪২২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৮
৪২৩. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১৩৩; তারীখ আল-খুলাফা'-২৩৬
৪২৪. তাবাকাত-৫/৩৮৬
৪২৫. ইবনুল জাওযী-৯৩
৪২৬. ইমাম শাফি'ঈ (রহ) তাঁর আর-রিসালা-তে এবং আল-বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া 'লিসানুল 'আরাব'-১/৮০৮ দ্রঃ।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 গ্রীক গ্রন্থের প্রকাশনা

📄 গ্রীক গ্রন্থের প্রকাশনা


হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের যদিও মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলের প্রচার ও প্রসার এবং সম্ভাব্য সকল পন্থায় তিনি একাজ করেছেনও, তা সত্ত্বেও অন্যান্য জাতির কল্যাণকর জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে মুসলমানদের একেবারে অজ্ঞাতও রাখেননি। 'আহরান আল-কুস' ছিলেন একজন বিখ্যাত গ্রীক চিকিৎসক। চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর তাঁর একখানি বিখ্যাত গ্রন্থ ছিল। খলীফা মারওয়ান ইবন আল-হাকামের সময় 'মাসিরজুয়া' নামক এক ব্যক্তি গ্রন্থটি আরবীতে অনুবাদ করেন। অনূদিত পাণ্ডুলিপিটিসহ গ্রন্থটি সরকারী গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ছিল। সেটি খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দৃষ্টিতে পড়ে। গ্রন্থটির অনুবাদ মানুষের মাঝে প্রকাশ করা ঠিক হবে কি হবে না, এ ব্যাপারে তিনি চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহর নিকট ইসতিখারা করেন। তারপর সেটি খিলাফতের সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। ৪২৭

টিকাঃ
৪২৭. আখবারুল হুকামা'-২১৩

হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের যদিও মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলের প্রচার ও প্রসার এবং সম্ভাব্য সকল পন্থায় তিনি একাজ করেছেনও, তা সত্ত্বেও অন্যান্য জাতির কল্যাণকর জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে মুসলমানদের একেবারে অজ্ঞাতও রাখেননি। 'আহরান আল-কুস' ছিলেন একজন বিখ্যাত গ্রীক চিকিৎসক। চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর তাঁর একখানি বিখ্যাত গ্রন্থ ছিল। খলীফা মারওয়ান ইবন আল-হাকামের সময় 'মাসিরজুয়া' নামক এক ব্যক্তি গ্রন্থটি আরবীতে অনুবাদ করেন। অনূদিত পাণ্ডুলিপিটিসহ গ্রন্থটি সরকারী গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ছিল। সেটি খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দৃষ্টিতে পড়ে। গ্রন্থটির অনুবাদ মানুষের মাঝে প্রকাশ করা ঠিক হবে কি হবে না, এ ব্যাপারে তিনি চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহর নিকট ইসতিখারা করেন। তারপর সেটি খিলাফতের সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। ৪২৭

টিকাঃ
৪২৭. আখবারুল হুকামা'-২১৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px