📄 লিপিবদ্ধকরণে তাঁর রীতি-পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:
ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০
তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২
খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।
এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩
টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯
রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:
ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০
তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২
খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।
এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩
টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯
📄 এই লিপিবদ্ধকরণের ফলাফল
প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।
প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।
📄 তাঁর বর্ণিত হাদীছের কিছু নমুনা
হাদীছের গ্রন্থাবলী 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের বহু হাদীছ বর্ণনা করেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের কয়েকটি হাদীছ এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে পাঠকবর্গ এক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করতে পারেন।
১. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ وَابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة : أنصت - والإمام يخطب - فقد لغوت. ৪০৪
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয 'আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব থেকে এবং তাঁরা আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি ভুল করলে।'
২. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أبي هريرة قال : سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم : في "إذا السَّمَاءُ انشقت ৪০৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আবূ বকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ ইবন হিশাম থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর (সা) সঙ্গে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَتْ পাঠের পর সিজদা করেছি।'
৩. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِي عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الْمُتْعَةِ ، وقال : ألا أنها حرام من يومكم هذا إلى يوم القيامة، ومن كان أعطى شيئًا فلا يأখধো الحديث رواه بهذا اللفظ (مسلم والبيهقي.)
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয রাবী' ইবন সাবরা আল-জাহনী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) "মুত'আ” বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: শুনে রাখ, তোমাদের এই আজকের দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই বিয়ে হারাম ঘোষণা করা হলো। আর কেউ কাউকে কিছু দিয়ে থাকলে তা ফেরত নিবে না।'
৪. عن ابن الهاد أن زياد بن أبي زيাদ - مولى ابن عياش - حدثه عن عراك بن مالك سمعته يحدث عمر بن عبد العزيز عن عائشة رض أنها قالت : جاءتنى مسكينة تحمل ابنتين لها، فأطعمتها ثلاث تمرات، فأعطت كل واحدة منهما تمرة، ورفعت إلى فيها تمرة لتأكلها ، فاستطعمتها ابنتاها ، فشقت التمرة التي كانت تريد أن تأكلها بينهما، فأعجبنى شأنها ، فذكرت الذي صنعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال : إن الله قد أوجب لها بها بالجنة، أو أعتقها من النار. (رواه مسلم في صحيحه ٢٠٢٧/৪ ، وأحمد في مسندة
'ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ- ইবন আয়্যাশের আযাদকৃত দাস-'ইরাক ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বলতে শুনেছি যে, আয়িশা (রা) বলেছেন: একবার এক হত দরিদ্র মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসলো। আমি তাকে তিনটি খোরমা দিলাম। সে দু'টি খোরমা তার দুই কন্যার হাতে দিল এবং অন্যটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে উদ্যত হলো। এমন সময় কন্যা দু'টি সেটি নেওয়ার জন্য হাত পাতলো। সে নিজের খোরমাটি দু'ভাগ করে দু'কন্যার হাতে তুলে দিল। আমি তার কাণ্ড দেখে বিস্মিত হলাম। রাসূল (সা) ঘরে আসলে আমি তাঁকে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন: আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি একথা বলেন যে, আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।'
৫. عن عمر بن عبد العزيز عن أبيه عن أبي الدرداء قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا خَشِي أَحَدَكُمْ نِسْيَانَ القرآن فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بِتَرْكِ الْمَعَاصِي أَبَدًا أَبْقَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي بِتَرْكِ مَالاً يَعْنِينِي، وَارْزُقْنِي حُسْنَ النَّظْرِ فِيْمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى، وَأَلْزَمْ قَلْبِي حِفْظُ كِتَابِكَ كَمَا عَلَّمْتَنِي، وَنور به قَلْبِي، وَاشْرَحْ به صَدْرِي، وَاجْعَلْنِي أَتْلُوهُ كَمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى ، وَافْتَحْ به قَلْبِي، وَأَطْلِقَ بِه لِسانِي ৪০৬
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবুদ দারদা' (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন কুরআন ভুলে যাওয়ার ভয় করে তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যতদিন জীবিত রাখ, চিরদিনের জন্য পাপ কাজ পরিহারের ব্যাপারে আমার প্রতি দয়া কর, বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আমার যে কাজ তোমাকে সন্তুষ্ট করে সে কাজ সুদৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা দাও। তুমি যেভাবে তোমার কিতাব শিখিয়েছো আমার অন্তরকে সেভাবে ধারণ করার তাওফীক দাও। তার দ্বারা আমার অন্তরকে আলোকিত কর, আমার বক্ষকে প্রশস্ত কর। তুমি সন্তুষ্ট হও তেমনভাবে তা পাঠ করার ক্ষমতা দাও। তার দ্বারা আমার অন্তর উন্মুক্ত করে দাও এবং তার দ্বারা আমার জিহ্বাকে সাবলীল করে দাও।'
টিকাঃ
৪০৪. ইবনুল জাওযী-২৩; হাদীছটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
৪০৫. ইবনুল জাওযী-২৬; বুখারী ও মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
৪০৬. ইবনুল জাওযী-৩০-৩১
হাদীছের গ্রন্থাবলী 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের বহু হাদীছ বর্ণনা করেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের কয়েকটি হাদীছ এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে পাঠকবর্গ এক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করতে পারেন।
১. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ وَابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة : أنصت - والإمام يخطب - فقد لغوت. ৪০৪
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয 'আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব থেকে এবং তাঁরা আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি ভুল করলে।'
২. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أبي هريرة قال : سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم : في "إذا السَّمَاءُ انشقت ৪০৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আবূ বকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ ইবন হিশাম থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর (সা) সঙ্গে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَتْ পাঠের পর সিজদা করেছি।'
৩. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِي عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الْمُتْعَةِ ، وقال : ألا أنها حرام من يومكم هذا إلى يوم القيامة، ومن كان أعطى شيئًا فلا يأখধো الحديث رواه بهذا اللفظ (مسلم والبيهقي.)
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয রাবী' ইবন সাবরা আল-জাহনী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) "মুত'আ” বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: শুনে রাখ, তোমাদের এই আজকের দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই বিয়ে হারাম ঘোষণা করা হলো। আর কেউ কাউকে কিছু দিয়ে থাকলে তা ফেরত নিবে না।'
৪. عن ابن الهاد أن زياد بن أبي زيাদ - مولى ابن عياش - حدثه عن عراك بن مالك سمعته يحدث عمر بن عبد العزيز عن عائشة رض أنها قالت : جاءتنى مسكينة تحمل ابنتين لها، فأطعمتها ثلاث تمرات، فأعطت كل واحدة منهما تمرة، ورفعت إلى فيها تمرة لتأكلها ، فاستطعمتها ابنتاها ، فشقت التمرة التي كانت تريد أن تأكلها بينهما، فأعجبنى شأنها ، فذكرت الذي صنعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال : إن الله قد أوجب لها بها بالجنة، أو أعتقها من النار. (رواه مسلم في صحيحه ٢٠٢٧/৪ ، وأحمد في مسندة
'ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ- ইবন আয়্যাশের আযাদকৃত দাস-'ইরাক ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বলতে শুনেছি যে, আয়িশা (রা) বলেছেন: একবার এক হত দরিদ্র মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসলো। আমি তাকে তিনটি খোরমা দিলাম। সে দু'টি খোরমা তার দুই কন্যার হাতে দিল এবং অন্যটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে উদ্যত হলো। এমন সময় কন্যা দু'টি সেটি নেওয়ার জন্য হাত পাতলো। সে নিজের খোরমাটি দু'ভাগ করে দু'কন্যার হাতে তুলে দিল। আমি তার কাণ্ড দেখে বিস্মিত হলাম। রাসূল (সা) ঘরে আসলে আমি তাঁকে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন: আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি একথা বলেন যে, আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।'
৫. عن عمر بن عبد العزيز عن أبيه عن أبي الدرداء قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا خَشِي أَحَدَكُمْ نِسْيَانَ القرآن فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بِتَرْكِ الْمَعَاصِي أَبَدًا أَبْقَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي بِتَرْكِ مَالاً يَعْنِينِي، وَارْزُقْنِي حُسْنَ النَّظْرِ فِيْمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى، وَأَلْزَمْ قَلْبِي حِفْظُ كِتَابِكَ كَمَا عَلَّمْتَنِي، وَنور به قَلْبِي، وَاشْرَحْ به صَدْرِي، وَاجْعَلْنِي أَتْلُوهُ كَمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى ، وَافْتَحْ به قَلْبِي، وَأَطْلِقَ بِه لِسانِي ৪০৬
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবুদ দারদা' (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন কুরআন ভুলে যাওয়ার ভয় করে তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যতদিন জীবিত রাখ, চিরদিনের জন্য পাপ কাজ পরিহারের ব্যাপারে আমার প্রতি দয়া কর, বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আমার যে কাজ তোমাকে সন্তুষ্ট করে সে কাজ সুদৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা দাও। তুমি যেভাবে তোমার কিতাব শিখিয়েছো আমার অন্তরকে সেভাবে ধারণ করার তাওফীক দাও। তার দ্বারা আমার অন্তরকে আলোকিত কর, আমার বক্ষকে প্রশস্ত কর। তুমি সন্তুষ্ট হও তেমনভাবে তা পাঠ করার ক্ষমতা দাও। তার দ্বারা আমার অন্তর উন্মুক্ত করে দাও এবং তার দ্বারা আমার জিহ্বাকে সাবলীল করে দাও।'
টিকাঃ
৪০৪. ইবনুল জাওযী-২৩; হাদীছটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
৪০৫. ইবনুল জাওযী-২৬; বুখারী ও মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
৪০৬. ইবনুল জাওযী-৩০-৩১
📄 তাঁর ফিক্হ ও ফাতওয়া বিষয়ক জ্ঞানের কিছু দৃষ্টান্ত
'উমার ছিলেন একজন মহান তাবি'ঈ। তাঁর গভীর জ্ঞান ও সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতা ইসলামী শরী'আতের প্রাণসত্তা বুঝতে, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। শরী'আতের বিধিবিধানের বিভিন্ন কারণ ও গূঢ় রহস্য সম্পর্কে যে কত গভীর জ্ঞান রাখতেন তা বুঝা যায় তাঁর জীবন-ইতিহাস, কর্ম-পদ্ধতি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নিকট তাঁর পত্রাদি পর্যালোচনা দ্বারা। যেমন ইমাম আদ-দারিমী ইমাম আল-আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
كتب عمر بن عبد العزيز أنه لا رأى لأحد في كتاب الله، وإنما رأى الأئمة فيما لم ينزل فيه كتاب ولم تمض به سنة من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا رأى لأحد في سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم . ৪০৭
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয একটি পত্রে লেখেন, আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে কারো কোন মতামত দেওয়ার অধিকার নেই। ইমামদের মতামত কেবল সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ব্যাপারে আল্লাহর কিতাবে নাযিলকৃত কিছু নেই এবং নেই কোন দিক-নির্দেশনা রাসূলুল্লাহর সুন্নাতেও। রাসূলুল্লাহ (সা) প্রবর্তিত সুন্নাতের ব্যাপারেও কারো মতামত দানের অধিকার নেই।'
তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বোধ ও বুদ্ধিমত্তার মানুষ ছিলেন। ইসলামী বিধিবিধানের বিভিন্ন শাখায় ছিল গভীর অন্তর্দৃষ্টি। বুদ্ধি-বিবেক ও কিয়াসের ভিত্তিতে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করার সীমাহীন যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। এ কারণে তাঁকে "মুজতাহিদ ইমাম" অভিধায় ভূষিত করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ তাঁর কিছু গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত এখানে উপস্থাপন করা হলো:
১. 'তিলা' পানের ব্যাপারে তিনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
'তিলা' (الطلاء) হলো আঙ্গুল ছাড়া অন্য কোন কিছু ভিজানো পানি, যা পান করলে নেশার উদ্রেক করে। ইবন 'আওন বলেন: 'ইবন সীরীনকে যখন 'তিলা' পানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: সত্য-সঠিক পথের অনুসারী ইমাম অর্থাৎ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তা পান করতে নিষেধ করেছেন।' এ ব্যাপারে 'উমারের যুক্তি হলো, এই 'তিলা'র মধ্যে মুসলমানদের কোন কল্যাণ নেই। 'তিলা' নামে যা বুঝানো হয় আসলে তা মদ (খমর)। এর পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা বহু হালাল পানীয় আমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং নেশাদায়ক পানীয়কে হারাম বিশ্বাস করে তা পান থেকে বিরত থাকা মুসলমানদের উচিত। কারণ, মদ সকল পাপের সদর দরজা। এই 'তিলা' পান করতে করতে এক সময় মুসলিম সমাজ ব্যাপকভাবে মাদকদ্রব্য পানে আসক্ত হওয়ার আশংকার হয়। ৪০৮
২. তিনি নামাযে জোরে 'বিসমিল্লাহ' পাঠ করতেন না।
'আবদুল হাকীম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন আবী ফারওয়া বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় আমাদের নামাযের ইমামতি করতেন। তিনি জোরে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পড়তেন না। ৪০৯
৩. সাহু সিজদা সালামের পরে করা।
মুহাম্মাদ ইবন মুহাজির থেকে বর্ণিত। তিনি সাহু সিজদার ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লক্ষ্য করে ইমাম যুহরীকে বলতে শোনেন যে, উহা সালামের পূর্বে। কিন্তু 'উমার তা মানতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, ওহে ইবন শিহাব! এ ব্যাপারে আবু সালামা ইবন 'আবদির রহমান আমাদেরকে অবহিত করেছেন। মতান্তরে তিনি যুহ্রীকে বলেন: আমাদের সামনে আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান ইবন 'আওফ একথা মানতে অস্বীকার করেছেন। ৪১০
বিশ্বস্ত লোকদের মুখ থেকে তিনি যা শুনেছিলেন তার প্রতি এবং নিজের গভীর চিন্তা-গবেষণার প্রতি কি পরিমাণ আস্থা থাকলে ইমাম যুহরীর মতো মানুষের মত ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন তা ভেবে দেখার বিষয়।
৪. মৃত জন্তুর হাড় অপবিত্র।
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এক দাসী বলেন: একবার 'উমার আমাকে তেল আনতে বললেন। আমি তেল ও হাতীর হাড়ের একটি চিরুনী নিয়ে আসলাম। তিনি চিরুনীটি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা মৃত জন্তুর অংশ। আমি বললাম: এটা মৃত হলো কিভাবে? বললেন: তোমার জন্য আফসোস! হাতীটি কে জবাই করেছিল? ৪১১
উল্লেখ যে, এটা একটি মতবিরোধমূলক মাসয়ালা। ইমাম যুহরী হাতী বা এ জাতীয় মৃত জন্তু-জানোয়ারের হাড় সম্পর্কে বলেন : আমি পূর্ববর্তী বহু আলিমকে পেয়েছি যাঁরা এ রকম হাড়ের তৈরি চিরুনী দ্বারা চুল আঁচড়িয়েছেন এবং এ রকম হাড়ের পাত্রে তেল রেখে ব্যবহার করেছেন। কোন রকম দোষ মনে করেননি। ৪১২
৫. অর্থের বিনিময়ে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা। তিনি এ কাজ বৈধ মনে করতেন। বায়তুল মালের অর্থ দিয়ে মাঝে মাঝে এ কাজ করেছেন। এ লক্ষ্যে একবার এক বিশপকে এক লক্ষ দীনার দান করেন। ৪১৩
৬. মুরতাদ ব্যক্তিকে তাওবার সুযোগ দান। রাবী'আ ইবন 'আতা' 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : মুরতাদ ব্যক্তিকে তিন দিন পর্যন্ত তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে তাহলে ভালো, অন্যথায় তার শিরচ্ছেদ করা হবে। ৪১৪
৭. কারারুদ্ধ ব্যক্তির স্ত্রীর বিয়ে। এ বিষয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বলেন : কারারুদ্ধ ব্যক্তি যতদিন কারাগারে থাকবে তার স্ত্রীকে বিয়ে করা যাবে না। ৪১৫
৮. মধুর যাকাত দিতে হবে না। ইমাম বুখারী বলেন : 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মধুতে যাকাত আছে বলে মনে করেননি। ইমাম মালিক তাঁর “আল-মুওয়াত্তা” গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর ইবন হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমার পিতার নিকট 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের একটি পত্র আসে। তখন তিনি মিনায়। তাতে লেখা ছিল, ঘোড়া ও মধুতে যাকাত নেই। ৪১৬ 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমারের (রা) দাস নাফে' বলেন : 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আমাকে ইয়ামনে পাঠালেন। আমি সেখানে মধুর 'উশর (এক দশমাংশ) গ্রহণের ইচ্ছা করলাম। তখন মুগীরা ইবন হাকীম আস-সান'আনী আমাকে বললেন : মধুর যাকাত নেই। আমি বিষয়টি জানিয়ে 'উমারকে পত্র লিখলাম। জবাবে তিনি লিখলেন : মুগীরা সত্য বলেছেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ, মধুতে কিছু নেই। ৪১৭ তবে একটি দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'উমার মধুতে 'উশর আছে বলে মনে করতেন। ৪১৮
৯. তাঁর মতে ছোলা, মটর কলাই, মসুরি, শিমজাতীয় শস্যের বীচি ইত্যাদির যাকাত দিতে হবে।
ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: ছোলা ও মসুরির যাকাত গ্রহণ করা হোক।
ইয়াযীদ ইবন আবী মালিক তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর খাতায় লেখা ছিল: শিম জাতীয় শস্যের বীচির যাকাত গ্রহণ করতে হবে, যেভাবে গম-যব থেকে গ্রহণ করা হয়। ৪১৯
১০. ব্যবসায়ীর লাভের অর্থের উপর এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত দিতে হবে না।
কাতন ইবন ফুলান বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময় আমি একবার ওয়াসিত গেলাম। সেখানকার লোকেরা আমাকে বললো, আমাদেরকে আমীরুল মু'মিনীনের একটি পত্র পাঠ করে শোনানো হয়েছে এবং তাতে লেখা আছে: তোমরা ব্যবসায়ীর লাভের থেকে কোন কিছু গ্রহণ করবে না, যতক্ষণ না তা এক বছর পূর্ণ হবে। ইবন 'আওন বলেন, আমি মসজিদে গেলাম। শুনলাম, আমি যাওয়ার পূর্বেই একটি পত্র পাঠ করে শোনানো হয়েছে। আমার পাশের লোকটি আমাকে বললো, ব্যবসায়ীর লাভের ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পত্রটি পাঠের সময় যদি আপনি উপস্থিত থাকতেন! তিনি লিখেছেন, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লাভের অর্থ থেকে কোন কিছু গ্রহণ করা যাবে না।
ইমাম মালিকের মতে লাভকে মূলধনের সাথে যোগ করতে হবে। আবূ 'উবায়িদ বলেন, এ ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যা বলেছেন তাই আমাদের মত। আর তিনি বলেছেন, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লাভের অর্থের যাকাত দিতে হবে না। ইমাম লাইছও এমন কথাই বলেছেন।
১১. মহিষের যাকাত
ইবন শিহাব বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: গরুর যাকাত যেভাবে গ্রহণ করা হয় মহিষের যাকাতও সেভাবে গ্রহণ করতে হবে। ৪২০
১২. যিম্মীর জিযিয়া গ্রহণ করার পূর্ব মুহূর্তে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তা রহিত হয়ে যাবে। 'আমর ইবন আল-মুহাজির 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বছর পূর্ণ হওয়ার একদিন পূর্বেও যদি কোন যিম্মী মুসলমান হয় তাহলে তার থেকে জিযিয়া নেওয়া যাবে না।
সুওয়াইদ ইবন হুসায়ন বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: জিযিয়া যদি পাল্লার এক প্রান্তে থাকে, আর তখন যিম্মী মুসলমান হয়ে যায়, তাহলেও তার নিকট থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা যাবে না। ৪২১
টিকাঃ
৪০৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১২৫-১২৬
৪০৮. ইবনুল জাওযী-৭৪; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১৩০; হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/২৫৭
৪০৯. তাবাকাত-৫/৩৩৫
৪১০. ফিকহুস সুন্নাহ-১/২২৫
৪১১. তাবাকাত-৫/৪০১
৪১২. ফিকহুস সুন্নাহ-১/২৪
৪১৩. তাবাকাত-৫/৩৫০
৪১৪. প্রাগুক্ত; ফিকহুস সুন্নাহ-২/৪৫৭-৪৫৯
৪১৫. তাবাকাত-৫/৩৫১
৪১৬. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮৯
৪১৭. ফাতহুল বারী-৩/৩৪৭-৩৪৮; আল-আমওয়াল-৩০০
৪১৮. ফিকহুস সুন্নাহ-১/৩৬২-৩৬৩
৪১৯. প্রাগুক্ত-১/৩৪৭-৩৬১; 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৯০
৪২০. তাবাকাত-৫/৩৫৩
৪২১. প্রাগুক্ত
'উমার ছিলেন একজন মহান তাবি'ঈ। তাঁর গভীর জ্ঞান ও সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতা ইসলামী শরী'আতের প্রাণসত্তা বুঝতে, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। শরী'আতের বিধিবিধানের বিভিন্ন কারণ ও গূঢ় রহস্য সম্পর্কে যে কত গভীর জ্ঞান রাখতেন তা বুঝা যায় তাঁর জীবন-ইতিহাস, কর্ম-পদ্ধতি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নিকট তাঁর পত্রাদি পর্যালোচনা দ্বারা। যেমন ইমাম আদ-দারিমী ইমাম আল-আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
كتب عمر بن عبد العزيز أنه لا رأى لأحد في كتاب الله، وإنما رأى الأئمة فيما لم ينزل فيه كتاب ولم تمض به سنة من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا رأى لأحد في سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم . ৪০৭
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয একটি পত্রে লেখেন, আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে কারো কোন মতামত দেওয়ার অধিকার নেই। ইমামদের মতামত কেবল সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ব্যাপারে আল্লাহর কিতাবে নাযিলকৃত কিছু নেই এবং নেই কোন দিক-নির্দেশনা রাসূলুল্লাহর সুন্নাতেও। রাসূলুল্লাহ (সা) প্রবর্তিত সুন্নাতের ব্যাপারেও কারো মতামত দানের অধিকার নেই।'
তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বোধ ও বুদ্ধিমত্তার মানুষ ছিলেন। ইসলামী বিধিবিধানের বিভিন্ন শাখায় ছিল গভীর অন্তর্দৃষ্টি। বুদ্ধি-বিবেক ও কিয়াসের ভিত্তিতে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করার সীমাহীন যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। এ কারণে তাঁকে "মুজতাহিদ ইমাম" অভিধায় ভূষিত করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ তাঁর কিছু গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত এখানে উপস্থাপন করা হলো:
১. 'তিলা' পানের ব্যাপারে তিনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
'তিলা' (الطلاء) হলো আঙ্গুল ছাড়া অন্য কোন কিছু ভিজানো পানি, যা পান করলে নেশার উদ্রেক করে। ইবন 'আওন বলেন: 'ইবন সীরীনকে যখন 'তিলা' পানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: সত্য-সঠিক পথের অনুসারী ইমাম অর্থাৎ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তা পান করতে নিষেধ করেছেন।' এ ব্যাপারে 'উমারের যুক্তি হলো, এই 'তিলা'র মধ্যে মুসলমানদের কোন কল্যাণ নেই। 'তিলা' নামে যা বুঝানো হয় আসলে তা মদ (খমর)। এর পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা বহু হালাল পানীয় আমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং নেশাদায়ক পানীয়কে হারাম বিশ্বাস করে তা পান থেকে বিরত থাকা মুসলমানদের উচিত। কারণ, মদ সকল পাপের সদর দরজা। এই 'তিলা' পান করতে করতে এক সময় মুসলিম সমাজ ব্যাপকভাবে মাদকদ্রব্য পানে আসক্ত হওয়ার আশংকার হয়। ৪০৮
২. তিনি নামাযে জোরে 'বিসমিল্লাহ' পাঠ করতেন না।
'আবদুল হাকীম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন আবী ফারওয়া বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় আমাদের নামাযের ইমামতি করতেন। তিনি জোরে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পড়তেন না। ৪০৯
৩. সাহু সিজদা সালামের পরে করা।
মুহাম্মাদ ইবন মুহাজির থেকে বর্ণিত। তিনি সাহু সিজদার ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে লক্ষ্য করে ইমাম যুহরীকে বলতে শোনেন যে, উহা সালামের পূর্বে। কিন্তু 'উমার তা মানতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, ওহে ইবন শিহাব! এ ব্যাপারে আবু সালামা ইবন 'আবদির রহমান আমাদেরকে অবহিত করেছেন। মতান্তরে তিনি যুহ্রীকে বলেন: আমাদের সামনে আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান ইবন 'আওফ একথা মানতে অস্বীকার করেছেন। ৪১০
বিশ্বস্ত লোকদের মুখ থেকে তিনি যা শুনেছিলেন তার প্রতি এবং নিজের গভীর চিন্তা-গবেষণার প্রতি কি পরিমাণ আস্থা থাকলে ইমাম যুহরীর মতো মানুষের মত ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন তা ভেবে দেখার বিষয়।
৪. মৃত জন্তুর হাড় অপবিত্র।
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এক দাসী বলেন: একবার 'উমার আমাকে তেল আনতে বললেন। আমি তেল ও হাতীর হাড়ের একটি চিরুনী নিয়ে আসলাম। তিনি চিরুনীটি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা মৃত জন্তুর অংশ। আমি বললাম: এটা মৃত হলো কিভাবে? বললেন: তোমার জন্য আফসোস! হাতীটি কে জবাই করেছিল? ৪১১
উল্লেখ যে, এটা একটি মতবিরোধমূলক মাসয়ালা। ইমাম যুহরী হাতী বা এ জাতীয় মৃত জন্তু-জানোয়ারের হাড় সম্পর্কে বলেন : আমি পূর্ববর্তী বহু আলিমকে পেয়েছি যাঁরা এ রকম হাড়ের তৈরি চিরুনী দ্বারা চুল আঁচড়িয়েছেন এবং এ রকম হাড়ের পাত্রে তেল রেখে ব্যবহার করেছেন। কোন রকম দোষ মনে করেননি। ৪১২
৫. অর্থের বিনিময়ে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা। তিনি এ কাজ বৈধ মনে করতেন। বায়তুল মালের অর্থ দিয়ে মাঝে মাঝে এ কাজ করেছেন। এ লক্ষ্যে একবার এক বিশপকে এক লক্ষ দীনার দান করেন। ৪১৩
৬. মুরতাদ ব্যক্তিকে তাওবার সুযোগ দান। রাবী'আ ইবন 'আতা' 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : মুরতাদ ব্যক্তিকে তিন দিন পর্যন্ত তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে তাহলে ভালো, অন্যথায় তার শিরচ্ছেদ করা হবে। ৪১৪
৭. কারারুদ্ধ ব্যক্তির স্ত্রীর বিয়ে। এ বিষয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বলেন : কারারুদ্ধ ব্যক্তি যতদিন কারাগারে থাকবে তার স্ত্রীকে বিয়ে করা যাবে না। ৪১৫
৮. মধুর যাকাত দিতে হবে না। ইমাম বুখারী বলেন : 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মধুতে যাকাত আছে বলে মনে করেননি। ইমাম মালিক তাঁর “আল-মুওয়াত্তা” গ্রন্থে 'আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর ইবন হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমার পিতার নিকট 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের একটি পত্র আসে। তখন তিনি মিনায়। তাতে লেখা ছিল, ঘোড়া ও মধুতে যাকাত নেই। ৪১৬ 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমারের (রা) দাস নাফে' বলেন : 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আমাকে ইয়ামনে পাঠালেন। আমি সেখানে মধুর 'উশর (এক দশমাংশ) গ্রহণের ইচ্ছা করলাম। তখন মুগীরা ইবন হাকীম আস-সান'আনী আমাকে বললেন : মধুর যাকাত নেই। আমি বিষয়টি জানিয়ে 'উমারকে পত্র লিখলাম। জবাবে তিনি লিখলেন : মুগীরা সত্য বলেছেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ, মধুতে কিছু নেই। ৪১৭ তবে একটি দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'উমার মধুতে 'উশর আছে বলে মনে করতেন। ৪১৮
৯. তাঁর মতে ছোলা, মটর কলাই, মসুরি, শিমজাতীয় শস্যের বীচি ইত্যাদির যাকাত দিতে হবে।
ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: ছোলা ও মসুরির যাকাত গ্রহণ করা হোক।
ইয়াযীদ ইবন আবী মালিক তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর খাতায় লেখা ছিল: শিম জাতীয় শস্যের বীচির যাকাত গ্রহণ করতে হবে, যেভাবে গম-যব থেকে গ্রহণ করা হয়। ৪১৯
১০. ব্যবসায়ীর লাভের অর্থের উপর এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত দিতে হবে না।
কাতন ইবন ফুলান বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময় আমি একবার ওয়াসিত গেলাম। সেখানকার লোকেরা আমাকে বললো, আমাদেরকে আমীরুল মু'মিনীনের একটি পত্র পাঠ করে শোনানো হয়েছে এবং তাতে লেখা আছে: তোমরা ব্যবসায়ীর লাভের থেকে কোন কিছু গ্রহণ করবে না, যতক্ষণ না তা এক বছর পূর্ণ হবে। ইবন 'আওন বলেন, আমি মসজিদে গেলাম। শুনলাম, আমি যাওয়ার পূর্বেই একটি পত্র পাঠ করে শোনানো হয়েছে। আমার পাশের লোকটি আমাকে বললো, ব্যবসায়ীর লাভের ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পত্রটি পাঠের সময় যদি আপনি উপস্থিত থাকতেন! তিনি লিখেছেন, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লাভের অর্থ থেকে কোন কিছু গ্রহণ করা যাবে না।
ইমাম মালিকের মতে লাভকে মূলধনের সাথে যোগ করতে হবে। আবূ 'উবায়িদ বলেন, এ ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যা বলেছেন তাই আমাদের মত। আর তিনি বলেছেন, এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লাভের অর্থের যাকাত দিতে হবে না। ইমাম লাইছও এমন কথাই বলেছেন।
১১. মহিষের যাকাত
ইবন শিহাব বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: গরুর যাকাত যেভাবে গ্রহণ করা হয় মহিষের যাকাতও সেভাবে গ্রহণ করতে হবে। ৪২০
১২. যিম্মীর জিযিয়া গ্রহণ করার পূর্ব মুহূর্তে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তা রহিত হয়ে যাবে। 'আমর ইবন আল-মুহাজির 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বছর পূর্ণ হওয়ার একদিন পূর্বেও যদি কোন যিম্মী মুসলমান হয় তাহলে তার থেকে জিযিয়া নেওয়া যাবে না।
সুওয়াইদ ইবন হুসায়ন বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন: জিযিয়া যদি পাল্লার এক প্রান্তে থাকে, আর তখন যিম্মী মুসলমান হয়ে যায়, তাহলেও তার নিকট থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা যাবে না। ৪২১
টিকাঃ
৪০৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১২৫-১২৬
৪০৮. ইবনুল জাওযী-৭৪; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১৩০; হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/২৫৭
৪০৯. তাবাকাত-৫/৩৩৫
৪১০. ফিকহুস সুন্নাহ-১/২২৫
৪১১. তাবাকাত-৫/৪০১
৪১২. ফিকহুস সুন্নাহ-১/২৪
৪১৩. তাবাকাত-৫/৩৫০
৪১৪. প্রাগুক্ত; ফিকহুস সুন্নাহ-২/৪৫৭-৪৫৯
৪১৫. তাবাকাত-৫/৩৫১
৪১৬. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮৯
৪১৭. ফাতহুল বারী-৩/৩৪৭-৩৪৮; আল-আমওয়াল-৩০০
৪১৮. ফিকহুস সুন্নাহ-১/৩৬২-৩৬৩
৪১৯. প্রাগুক্ত-১/৩৪৭-৩৬১; 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৯০
৪২০. তাবাকাত-৫/৩৫৩
৪২১. প্রাগুক্ত