📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণ এবং এ ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা

📄 হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণ এবং এ ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা


ইসলামের প্রাথমিক পর্বে হযরত রাসূলে কারীম (সা) কেবল কুরআন ছাড়া আর কোন কিছু লেখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অন্য যা কিছু লেখা হবে তা হয়তো কালক্রমে কুরআনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে এবং মানুষ তা কুরআন মনে করে চর্চা শুরু করে দেবে। পরবর্তীকালে রাসূল (সা) এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন এবং কুরআনের সাথে সাথে হাদীছও লেখার অনুমতি দান করেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: কিতাবুল্লাহর সাথে যাতে অন্য কোন কিছু মিলেমিশে না যায় অথবা মানুষ কুরআন ছেড়ে অন্য কোন কিছু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে না দেয়, এ কারণে ইসলামের প্রথম পর্বে হাদীছ লেখা অপছন্দনীয় কাজ মনে করা হয়েছে। তাছাড়া সে সময় ইসলামের তত্ত্বজ্ঞানী লোকের সংখ্যা ছিল অনেক কম। পল্লী এলাকার যে সকল বেদুঈন ইসলাম গ্রহণ করেছিল, দীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল খুবই অপ্রতুল। তারা ওহী এবং ওহী বহির্ভূত বাণীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। লিখিত কোন কিছু দেখলেই তারা কুরআন মনে করে ভুল করতে পারতো। এ কারণে তখন হাদীছ লেখালেখির জন্য অনুমতি বা উৎসাহ দেওয়া হয়নি।

'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের চিন্তা করেন। দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তার পর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা) বর্ণনা করেছেন: ৩৮৯
'উমার ইবন আল-খাত্তাব সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের ইচ্ছা করেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের মতামত তলব করেন। তাঁরা লেখার প্রতি ইঙ্গিত করেন। অতঃপর 'উমার (রা) এক মাস যাবত এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইসতিখারা (সঠিক ও কল্যাণকর কোনটি তা জানার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা) করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফীক দান করেন। তিনি বলেন: আমি ইচ্ছা করেছিলাম সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের। সাথে একথাও স্মরণ করলাম, তোমাদের পূর্ববর্তী সেই সম্প্রদায়ের কথা যারা গ্রন্থ রচনা করেছিল এবং আল্লাহর কিতাব ছেড়ে তাই নিয়ে মেতে উঠেছিল। আল্লাহর কসম! আমি কখনো আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছু সংমিশ্রণ ঘটাবো না।'

যখন উপরোক্ত আশঙ্কা দূর হয়ে যায় এবং সুন্নাহ লেখার প্রয়োজনও দেখা দেয়, তখন আর লেখালেখি খারাপ মনে করা হতো না। একথা প্রমাণিত যে, বহু সাহাবী হাদীছ লিপিবদ্ধ করা দোষণীয় মনে করেননি, তাঁরা নিজেদের জন্য কিছু কিছু হাদীছ লিখে রেখেছেন, তাঁদের ছাত্র-শিষ্যরা তাঁদের সামনে হাদীছ লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা হাদীছ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও লেখার জন্য উপদেশ দিতেন। ইবনুস সালাহ বলেন:
'অতঃপর এই মতবিরোধ দূর হয়ে যায় এবং মুসলমানরা হাদীছ লেখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে। যদি তা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা না হতো তাহলে পরবর্তীকালে তা বিলীন হয়ে যেত।'

একথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) সর্বপ্রথম সরকারীভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ফরমান জারি করেন। তবে একথা সত্য যে, তাঁর পিতা 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান মিসরের ওয়ালী থাকাকালে হাদীছ লিপিবদ্ধকরণের প্রয়োজন অনুভব করেন। এ ব্যাপারে তাঁর লেখা একটি পত্র ইবন সা'দ লাইছ ইবন সা'দের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
'ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব আমাকে বলেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান কুছায়্যির ইবন মুররা আল-হাদরামীকে লেখেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের নিকট থেকে যে সকল হাদীছ শুনেছেন তা যেন তাঁকে লিখে পাঠান। তবে আবূ হুরায়রার (রা) হাদীছ পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, তা আমাদের নিকট আছে। উল্লেখ্য যে, এই কুছায়্যির ইবন মুররা হিমসে রাসূলুল্লাহর (সা) সত্তরজন বদরী সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন। লাইছ বলেন, তাঁকে 'অগবর্তী সৈনিক' নামে আখ্যায়িত করা হতো।'

হিমসের এই 'আলিমের নিকট মিসরের আমীরের এ পত্রটি লেখা হয় সম্ভবতঃ হিজরী ৭৫ সনে বা তার কাছাকাছি সময়ে। কারণ, কুছায়্যির হিজরী ৭৫ থেকে ৮০ সনের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে ইনতিকাল করেন। ৩৯০

তবে 'আবদুল 'আযীযের পরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমীরুল মু'মিনীন 'উমার হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের সত্যিকার ফলপ্রসু উদ্যোগ ও ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি সর্বত্র ও সর্বদা একথাটি উচ্চারণ করতে থাকেন: ৩১১
'ওহে জনগণ! দান-অনুগ্রহকে কৃতজ্ঞতা দ্বারা এবং জ্ঞানকে গ্রন্থের দ্বারা বন্দী কর।'

তিনি মানুষকে শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের 'আলিমদেরকে হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, বহু তাবি'ঈ যাঁরা তাঁদের বক্ষে রাসূলুল্লাহর (সা) বহু বাণী ধারণ করে রেখেছিলেন, 'উমার আশঙ্কা করেছিলেন, সাহাবীগণের যুগ শেষ হতে চলেছে, আর তাবি'ঈদের এই প্রজন্মটি দুনিয়া থেকে চলে গেলে এই হাদীছও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া স্মৃতিতে ধারণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গও সবসময় পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গ্রন্থে লিখিত না থাকায় প্রয়োজনের সময় হাদীছ দ্বারা উপকারও পাওয়া যায় না। এ সকল কারণের পাশাপাশি আরো একটি বড় বিপদ তখন দেখা দেয়- আর তা হলো, বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভবের ফলে জাল ও মিথ্যা হাদীছ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে কোনটি বিশুদ্ধ হাদীছ, আর কোনটি জাল হাদীছ তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কালক্রমে এ বিপদ আরো বৃদ্ধি পাবে, এ আশঙ্কায় 'উমারের মত আরো অনেক 'আলিম, তাবি'ঈ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন।

টিকাঃ
৩৮৯. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪-৭৫
৩৯০. তাবাকাত-৭/৪৪৮; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬, ২১৮-২১৯
৩৯১. ইবনুল জাওযী-২৭৬
৩৯২. উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭, ১৮৬

ইসলামের প্রাথমিক পর্বে হযরত রাসূলে কারীম (সা) কেবল কুরআন ছাড়া আর কোন কিছু লেখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অন্য যা কিছু লেখা হবে তা হয়তো কালক্রমে কুরআনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে এবং মানুষ তা কুরআন মনে করে চর্চা শুরু করে দেবে। পরবর্তীকালে রাসূল (সা) এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন এবং কুরআনের সাথে সাথে হাদীছও লেখার অনুমতি দান করেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: কিতাবুল্লাহর সাথে যাতে অন্য কোন কিছু মিলেমিশে না যায় অথবা মানুষ কুরআন ছেড়ে অন্য কোন কিছু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে না দেয়, এ কারণে ইসলামের প্রথম পর্বে হাদীছ লেখা অপছন্দনীয় কাজ মনে করা হয়েছে। তাছাড়া সে সময় ইসলামের তত্ত্বজ্ঞানী লোকের সংখ্যা ছিল অনেক কম। পল্লী এলাকার যে সকল বেদুঈন ইসলাম গ্রহণ করেছিল, দীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল খুবই অপ্রতুল। তারা ওহী এবং ওহী বহির্ভূত বাণীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। লিখিত কোন কিছু দেখলেই তারা কুরআন মনে করে ভুল করতে পারতো। এ কারণে তখন হাদীছ লেখালেখির জন্য অনুমতি বা উৎসাহ দেওয়া হয়নি।

'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের চিন্তা করেন। দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তার পর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা) বর্ণনা করেছেন: ৩৮৯
'উমার ইবন আল-খাত্তাব সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের ইচ্ছা করেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের মতামত তলব করেন। তাঁরা লেখার প্রতি ইঙ্গিত করেন। অতঃপর 'উমার (রা) এক মাস যাবত এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইসতিখারা (সঠিক ও কল্যাণকর কোনটি তা জানার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা) করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফীক দান করেন। তিনি বলেন: আমি ইচ্ছা করেছিলাম সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের। সাথে একথাও স্মরণ করলাম, তোমাদের পূর্ববর্তী সেই সম্প্রদায়ের কথা যারা গ্রন্থ রচনা করেছিল এবং আল্লাহর কিতাব ছেড়ে তাই নিয়ে মেতে উঠেছিল। আল্লাহর কসম! আমি কখনো আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছু সংমিশ্রণ ঘটাবো না।'

যখন উপরোক্ত আশঙ্কা দূর হয়ে যায় এবং সুন্নাহ লেখার প্রয়োজনও দেখা দেয়, তখন আর লেখালেখি খারাপ মনে করা হতো না। একথা প্রমাণিত যে, বহু সাহাবী হাদীছ লিপিবদ্ধ করা দোষণীয় মনে করেননি, তাঁরা নিজেদের জন্য কিছু কিছু হাদীছ লিখে রেখেছেন, তাঁদের ছাত্র-শিষ্যরা তাঁদের সামনে হাদীছ লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা হাদীছ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও লেখার জন্য উপদেশ দিতেন। ইবনুস সালাহ বলেন:
'অতঃপর এই মতবিরোধ দূর হয়ে যায় এবং মুসলমানরা হাদীছ লেখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে। যদি তা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা না হতো তাহলে পরবর্তীকালে তা বিলীন হয়ে যেত।'

একথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) সর্বপ্রথম সরকারীভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ফরমান জারি করেন। তবে একথা সত্য যে, তাঁর পিতা 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান মিসরের ওয়ালী থাকাকালে হাদীছ লিপিবদ্ধকরণের প্রয়োজন অনুভব করেন। এ ব্যাপারে তাঁর লেখা একটি পত্র ইবন সা'দ লাইছ ইবন সা'দের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
'ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব আমাকে বলেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান কুছায়্যির ইবন মুররা আল-হাদরামীকে লেখেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের নিকট থেকে যে সকল হাদীছ শুনেছেন তা যেন তাঁকে লিখে পাঠান। তবে আবূ হুরায়রার (রা) হাদীছ পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, তা আমাদের নিকট আছে। উল্লেখ্য যে, এই কুছায়্যির ইবন মুররা হিমসে রাসূলুল্লাহর (সা) সত্তরজন বদরী সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন। লাইছ বলেন, তাঁকে 'অগবর্তী সৈনিক' নামে আখ্যায়িত করা হতো।'

হিমসের এই 'আলিমের নিকট মিসরের আমীরের এ পত্রটি লেখা হয় সম্ভবতঃ হিজরী ৭৫ সনে বা তার কাছাকাছি সময়ে। কারণ, কুছায়্যির হিজরী ৭৫ থেকে ৮০ সনের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে ইনতিকাল করেন। ৩৯০

তবে 'আবদুল 'আযীযের পরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমীরুল মু'মিনীন 'উমার হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের সত্যিকার ফলপ্রসু উদ্যোগ ও ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি সর্বত্র ও সর্বদা একথাটি উচ্চারণ করতে থাকেন: ৩১১
'ওহে জনগণ! দান-অনুগ্রহকে কৃতজ্ঞতা দ্বারা এবং জ্ঞানকে গ্রন্থের দ্বারা বন্দী কর।'

তিনি মানুষকে শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের 'আলিমদেরকে হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, বহু তাবি'ঈ যাঁরা তাঁদের বক্ষে রাসূলুল্লাহর (সা) বহু বাণী ধারণ করে রেখেছিলেন, 'উমার আশঙ্কা করেছিলেন, সাহাবীগণের যুগ শেষ হতে চলেছে, আর তাবি'ঈদের এই প্রজন্মটি দুনিয়া থেকে চলে গেলে এই হাদীছও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া স্মৃতিতে ধারণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গও সবসময় পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গ্রন্থে লিখিত না থাকায় প্রয়োজনের সময় হাদীছ দ্বারা উপকারও পাওয়া যায় না। এ সকল কারণের পাশাপাশি আরো একটি বড় বিপদ তখন দেখা দেয়- আর তা হলো, বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভবের ফলে জাল ও মিথ্যা হাদীছ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে কোনটি বিশুদ্ধ হাদীছ, আর কোনটি জাল হাদীছ তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কালক্রমে এ বিপদ আরো বৃদ্ধি পাবে, এ আশঙ্কায় 'উমারের মত আরো অনেক 'আলিম, তাবি'ঈ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন।

টিকাঃ
৩৮৯. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪-৭৫
৩৯০. তাবাকাত-৭/৪৪৮; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬, ২১৮-২১৯
৩৯১. ইবনুল জাওযী-২৭৬
৩৯২. উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭, ১৮৬

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 লিপিবদ্ধকরণে তাঁর রীতি-পদ্ধতি

📄 লিপিবদ্ধকরণে তাঁর রীতি-পদ্ধতি


রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:

ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০

তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২

খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।

এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।

গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩

টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯

রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:

ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০

তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২

খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।

এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।

গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩

টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 এই লিপিবদ্ধকরণের ফলাফল

📄 এই লিপিবদ্ধকরণের ফলাফল


প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।

প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর বর্ণিত হাদীছের কিছু নমুনা

📄 তাঁর বর্ণিত হাদীছের কিছু নমুনা


হাদীছের গ্রন্থাবলী 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের বহু হাদীছ বর্ণনা করেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের কয়েকটি হাদীছ এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে পাঠকবর্গ এক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করতে পারেন।

১. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ وَابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة : أنصت - والإمام يخطب - فقد لغوت. ৪০৪
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয 'আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব থেকে এবং তাঁরা আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি ভুল করলে।'

২. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أبي هريرة قال : سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم : في "إذا السَّمَاءُ انشقت ৪০৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আবূ বকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ ইবন হিশাম থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর (সা) সঙ্গে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَتْ পাঠের পর সিজদা করেছি।'

৩. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِي عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الْمُتْعَةِ ، وقال : ألا أنها حرام من يومكم هذا إلى يوم القيامة، ومن كان أعطى شيئًا فلا يأখধো الحديث رواه بهذا اللفظ (مسلم والبيهقي.)
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয রাবী' ইবন সাবরা আল-জাহনী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) "মুত'আ” বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: শুনে রাখ, তোমাদের এই আজকের দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই বিয়ে হারাম ঘোষণা করা হলো। আর কেউ কাউকে কিছু দিয়ে থাকলে তা ফেরত নিবে না।'

৪. عن ابن الهاد أن زياد بن أبي زيাদ - مولى ابن عياش - حدثه عن عراك بن مالك سمعته يحدث عمر بن عبد العزيز عن عائشة رض أنها قالت : جاءتنى مسكينة تحمل ابنتين لها، فأطعمتها ثلاث تمرات، فأعطت كل واحدة منهما تمرة، ورفعت إلى فيها تمرة لتأكلها ، فاستطعمتها ابنتاها ، فشقت التمرة التي كانت تريد أن تأكلها بينهما، فأعجبنى شأنها ، فذكرت الذي صنعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال : إن الله قد أوجب لها بها بالجنة، أو أعتقها من النار. (رواه مسلم في صحيحه ٢٠٢٧/৪ ، وأحمد في مسندة
'ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ- ইবন আয়‍্যাশের আযাদকৃত দাস-'ইরাক ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বলতে শুনেছি যে, আয়িশা (রা) বলেছেন: একবার এক হত দরিদ্র মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসলো। আমি তাকে তিনটি খোরমা দিলাম। সে দু'টি খোরমা তার দুই কন্যার হাতে দিল এবং অন্যটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে উদ্যত হলো। এমন সময় কন্যা দু'টি সেটি নেওয়ার জন্য হাত পাতলো। সে নিজের খোরমাটি দু'ভাগ করে দু'কন্যার হাতে তুলে দিল। আমি তার কাণ্ড দেখে বিস্মিত হলাম। রাসূল (সা) ঘরে আসলে আমি তাঁকে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন: আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি একথা বলেন যে, আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।'

৫. عن عمر بن عبد العزيز عن أبيه عن أبي الدرداء قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا خَشِي أَحَدَكُمْ نِسْيَانَ القرآن فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بِتَرْكِ الْمَعَاصِي أَبَدًا أَبْقَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي بِتَرْكِ مَالاً يَعْنِينِي، وَارْزُقْنِي حُسْنَ النَّظْرِ فِيْمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى، وَأَلْزَمْ قَلْبِي حِفْظُ كِتَابِكَ كَمَا عَلَّمْتَنِي، وَنور به قَلْبِي، وَاشْرَحْ به صَدْرِي، وَاجْعَلْنِي أَتْلُوهُ كَمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى ، وَافْتَحْ به قَلْبِي، وَأَطْلِقَ بِه لِسانِي ৪০৬
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবুদ দারদা' (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন কুরআন ভুলে যাওয়ার ভয় করে তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যতদিন জীবিত রাখ, চিরদিনের জন্য পাপ কাজ পরিহারের ব্যাপারে আমার প্রতি দয়া কর, বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আমার যে কাজ তোমাকে সন্তুষ্ট করে সে কাজ সুদৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা দাও। তুমি যেভাবে তোমার কিতাব শিখিয়েছো আমার অন্তরকে সেভাবে ধারণ করার তাওফীক দাও। তার দ্বারা আমার অন্তরকে আলোকিত কর, আমার বক্ষকে প্রশস্ত কর। তুমি সন্তুষ্ট হও তেমনভাবে তা পাঠ করার ক্ষমতা দাও। তার দ্বারা আমার অন্তর উন্মুক্ত করে দাও এবং তার দ্বারা আমার জিহ্বাকে সাবলীল করে দাও।'

টিকাঃ
৪০৪. ইবনুল জাওযী-২৩; হাদীছটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
৪০৫. ইবনুল জাওযী-২৬; বুখারী ও মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
৪০৬. ইবনুল জাওযী-৩০-৩১

হাদীছের গ্রন্থাবলী 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের বহু হাদীছ বর্ণনা করেছে। সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের কয়েকটি হাদীছ এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে পাঠকবর্গ এক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করতে পারেন।

১. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ وَابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هريرة قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة : أنصت - والإمام يخطب - فقد لغوت. ৪০৪
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয 'আবদুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব থেকে এবং তাঁরা আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি ভুল করলে।'

২. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أبي هريرة قال : سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم : في "إذا السَّمَاءُ انشقت ৪০৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আবূ বকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ ইবন হিশাম থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর (সা) সঙ্গে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَتْ পাঠের পর সিজদা করেছি।'

৩. عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِي عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الْمُتْعَةِ ، وقال : ألا أنها حرام من يومكم هذا إلى يوم القيامة، ومن كان أعطى شيئًا فلا يأখধো الحديث رواه بهذا اللفظ (مسلم والبيهقي.)
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয রাবী' ইবন সাবরা আল-জাহনী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) "মুত'আ” বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: শুনে রাখ, তোমাদের এই আজকের দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই বিয়ে হারাম ঘোষণা করা হলো। আর কেউ কাউকে কিছু দিয়ে থাকলে তা ফেরত নিবে না।'

৪. عن ابن الهاد أن زياد بن أبي زيাদ - مولى ابن عياش - حدثه عن عراك بن مالك سمعته يحدث عمر بن عبد العزيز عن عائشة رض أنها قالت : جاءتنى مسكينة تحمل ابنتين لها، فأطعمتها ثلاث تمرات، فأعطت كل واحدة منهما تمرة، ورفعت إلى فيها تمرة لتأكلها ، فاستطعمتها ابنتاها ، فشقت التمرة التي كانت تريد أن تأكلها بينهما، فأعجبنى شأنها ، فذكرت الذي صنعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال : إن الله قد أوجب لها بها بالجنة، أو أعتقها من النار. (رواه مسلم في صحيحه ٢٠٢٧/৪ ، وأحمد في مسندة
'ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। যিয়াদ ইবন আবী যিয়াদ- ইবন আয়‍্যাশের আযাদকৃত দাস-'ইরাক ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে বলতে শুনেছি যে, আয়িশা (রা) বলেছেন: একবার এক হত দরিদ্র মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসলো। আমি তাকে তিনটি খোরমা দিলাম। সে দু'টি খোরমা তার দুই কন্যার হাতে দিল এবং অন্যটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে উদ্যত হলো। এমন সময় কন্যা দু'টি সেটি নেওয়ার জন্য হাত পাতলো। সে নিজের খোরমাটি দু'ভাগ করে দু'কন্যার হাতে তুলে দিল। আমি তার কাণ্ড দেখে বিস্মিত হলাম। রাসূল (সা) ঘরে আসলে আমি তাঁকে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন: আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি একথা বলেন যে, আল্লাহ তার এই কাজের বিনিময়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।'

৫. عن عمر بن عبد العزيز عن أبيه عن أبي الدرداء قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إذا خَشِي أَحَدَكُمْ نِسْيَانَ القرآن فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بِتَرْكِ الْمَعَاصِي أَبَدًا أَبْقَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي بِتَرْكِ مَالاً يَعْنِينِي، وَارْزُقْنِي حُسْنَ النَّظْرِ فِيْمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى، وَأَلْزَمْ قَلْبِي حِفْظُ كِتَابِكَ كَمَا عَلَّمْتَنِي، وَنور به قَلْبِي، وَاشْرَحْ به صَدْرِي، وَاجْعَلْنِي أَتْلُوهُ كَمَا يُرْضِيْكَ عَنِّى ، وَافْتَحْ به قَلْبِي، وَأَطْلِقَ بِه لِسانِي ৪০৬
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবুদ দারদা' (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন কুরআন ভুলে যাওয়ার ভয় করে তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যতদিন জীবিত রাখ, চিরদিনের জন্য পাপ কাজ পরিহারের ব্যাপারে আমার প্রতি দয়া কর, বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আমার যে কাজ তোমাকে সন্তুষ্ট করে সে কাজ সুদৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা দাও। তুমি যেভাবে তোমার কিতাব শিখিয়েছো আমার অন্তরকে সেভাবে ধারণ করার তাওফীক দাও। তার দ্বারা আমার অন্তরকে আলোকিত কর, আমার বক্ষকে প্রশস্ত কর। তুমি সন্তুষ্ট হও তেমনভাবে তা পাঠ করার ক্ষমতা দাও। তার দ্বারা আমার অন্তর উন্মুক্ত করে দাও এবং তার দ্বারা আমার জিহ্বাকে সাবলীল করে দাও।'

টিকাঃ
৪০৪. ইবনুল জাওযী-২৩; হাদীছটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
৪০৫. ইবনুল জাওযী-২৬; বুখারী ও মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
৪০৬. ইবনুল জাওযী-৩০-৩১

ফন্ট সাইজ
15px
17px