📄 জ্ঞানের প্রচার-প্রসারে তাঁর কর্মপদ্ধতি
ক. 'আলিমদের জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারণ; এমনকি এমন প্রত্যেকের জন্য বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা যারা জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষাদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কুরআনের হাফেজ, কুরআনের শিক্ষক, হাদীছের ছাত্র, শিক্ষক, সংগ্রাহক, ফকীহ, ফিকহর ছাত্র, কুরআন-হাদীছের গবেষক- প্রত্যেকের জন্য 'উমার ভাতার ব্যবস্থা করেন। জীবিকা ও ঘর-সংসার প্রতিপালনের চিন্তা থেকে তাদেরকে মুক্ত রাখার জন্য বায়তুল মাল থেকে জ্ঞান চর্চার সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেকের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। মূলতঃ এ দ্বারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা দারুণ উৎসাহিত হন। তারা জ্ঞানের প্রচার-প্রসার এবং দীন ও উম্মাহ্র সেবায় নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন।
খতীব আল-বাগদাদী ও ইবনুল জাওযী আবূ বকর ইবন আবী মারইয়ামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ৩৮১
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিমসের ওয়ালীকে লেখেন: 'আপনি বায়তুল মাল থেকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদেরকে তাদের প্রয়োজন পূরণ হয় এমন পরিমাণ অর্থদানের নির্দেশ দিবেন, যাতে কুরআন তিলাওয়াত এবং যে সকল হাদীছ তাঁরা বহন করছে, তার আলোচনা থেকে কোন কিছু তাঁদেরকে বিরত রাখতে না পারে।'
ইবনুল জাওযী ইবন আবী মারইয়াম থেকে আরো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিমসের ওয়ালীকে লেখেন: ৩৮২
'অনুরূপভাবে ফিকাহ বিষয়ে গবেষণার জন্য নিজেদেরকে নিবদ্ধ করেছে এবং দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া থেকে মুক্ত থেকে মসজিদে আবদ্ধ করেছে, তাদের প্রতি দৃষ্টি দিন। আমার এ পত্র আপনার নিকট পৌঁছার পর মুসলমানদের বায়তুল মাল থেকে তাদের প্রত্যেককে এক শ' দীনার করে দিন। এ দ্বারা তারা তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে। ভালোর ভালো হলো তাড়াতাড়ি করা। ওয়াস সালামু 'আলাইকুম!'
এমনকি যাঁরা রাসূলুল্লাহর (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাহাবীদের পরিচিতি-বৈশিষ্ট্য, ইসলামের প্রথম দিকের ঘটনাবলী গল্পাকারে বর্ণনা করতো এবং মানুষের মধ্যে যারা ওয়াজ-নসীহত করতো তাদের সকলের জন্য ভাতা নির্ধারণ করেন। 'আসিম ইবন 'উমার ইবন কাতাদা ছিলেন সে যুগের একজন বড় 'আলিম। সীরাত ও মাগাযীতে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। হাদীছ বর্ণনায় তিনি বিশ্বস্ত এবং বহু হাদীছের বর্ণনাকারী। ইবন সা'দ বলেন, এই 'আসিম 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে বড় রকমের একটা ঋণে জড়িয়ে পড়েন এবং তা পরিশোধ করা তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সে ঋণ 'উমার পরিশোধ করেন এবং বায়তুল মাল থেকে তাঁকে ভাতা দানের নির্দেশ দেন। আর 'আসিমকে নির্দেশ দেন তিনি যেন দিমাশ্কের জামি' মসজিদে বসে রাসূলুল্লাহর (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সাহাবীদের জীবনকথা মানুষকে শোনান। তিনি 'আসিমকে এই ভাষায় নির্দেশ দেন: ৩৮৩
'বানু মারওয়ান এ কাজ অপছন্দ করতো এবং এ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখতো। আপনি বসুন এবং মানুষের নিকট বর্ণনা করুন।' অতঃপর তিনি তা পালন করেন।
ইবন শাব্বাহ্ বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনাবলী গল্পাকারে মানুষকে শোনানোর নির্দেশ দেন এবং তার জন্য মাসিক দু' দীনার ভাতা নির্ধারণ করেন। পরে হিশাম ইবন 'আবদিল মালিক এ ভাতা কমিয়ে বাৎসরিক ছয় দীনার করেন। ৩৮৪
শিক্ষার্থীরা যাতে রুজি-রিযিক ও অর্থ সঙ্কটের চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করতে পারে সে জন্য তাদের ভাতার ব্যবস্থা করেন। ইবন 'আবদিল বার ইয়াহইয়া ইবন আবী কাছীরের সূত্রে উল্লেখ করেছেন: ৩৮৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর কর্মকর্তাদেরকে লেখেন : শিক্ষার্থীদের জীবিকার ব্যবস্থা করে তাদেরকে জ্ঞান অন্বেষণে একাগ্র হওয়ার সুযোগ করে দাও।'
খ. তিনি জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে জ্ঞানের প্রচার-প্রসারের জন্য ভীষণ উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁদেরকে দেশের সকল মসজিদকে জনগণের ধর্মীয় শিক্ষা দানের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান, হাদীছ লেখা এবং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনের নির্দেশ দেন। ইয়ামনের অধিবাসী 'আকরামা ইবন 'আম্মার বলেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই পত্রটি পাঠ করতে শুনেছি: ৩৮৬
'অতঃপর এই যে, জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে তাদের নিজ নিজ মসজিদসমূহে জ্ঞান প্রচারের নির্দেশ দাও। কারণ, সুন্নাহর মৃত্যু হয়েছে।'
ইবন 'আবদিল বার জা'ফার ইবন বুরকান আর-রাকী থেকে বর্ণনা করেছেন। এই রাকী ছিলেন সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অধিবাসী। তিনি বলেন: ৩৮৭
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আমাদেরকে লেখেন : অতঃপর এই যে, ফিকাহ শাস্ত্রের অধিকারী ও জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে তাঁরা যা জানে তা তাঁদের নিজ নিজ বৈঠক ও মসজিদসমূহে প্রচারের নির্দেশ দাও। ওয়াস সালাম।'
তিনি সকল শ্রেণীর মানুষকে জ্ঞানার্জন, জ্ঞান চর্চার বৈঠকসমূহে বসা এবং মুহাদ্দিছ, ফকীহ ও ওয়াজ-নসীহতকারীদের মুখ থেকে দীনের কথা শোনার জন্য উৎসাহিত করেন। যেমন, তিনি প্রায়ই বলতেন: ৩৮৮
'সম্ভব হলে 'আলিম হও, তা না হলে শিক্ষার্থী হও। তা সম্ভব না হলে তাদেরকে ভালোবাস। তাও সম্ভব না হলে, অন্ততঃ তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না। তারপর বলেন: আল্লাহ চাইলে তাতেই তার মুক্তির পথ করে দিতে পারেন।'
টিকাঃ
৩৮১. ইবনুল জাওযী-১২৩; উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৮২. প্রাগুক্ত
৩৮৩. তাবাকাত-৫/৩৪৯; তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৪৭
৩৮৪. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৩
৩৮৫. জামি'উ বায়ান আল-'ইলম-১/২২৮
৩৮৬. ইবনুল জাওযী-১১৩; উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৮৭. জামি'উ বায়ান আল-'ইলম-১/১৪৯
৩৮৮. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪
ক. 'আলিমদের জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারণ; এমনকি এমন প্রত্যেকের জন্য বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা যারা জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষাদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কুরআনের হাফেজ, কুরআনের শিক্ষক, হাদীছের ছাত্র, শিক্ষক, সংগ্রাহক, ফকীহ, ফিকহর ছাত্র, কুরআন-হাদীছের গবেষক- প্রত্যেকের জন্য 'উমার ভাতার ব্যবস্থা করেন। জীবিকা ও ঘর-সংসার প্রতিপালনের চিন্তা থেকে তাদেরকে মুক্ত রাখার জন্য বায়তুল মাল থেকে জ্ঞান চর্চার সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেকের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। মূলতঃ এ দ্বারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা দারুণ উৎসাহিত হন। তারা জ্ঞানের প্রচার-প্রসার এবং দীন ও উম্মাহ্র সেবায় নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন।
খতীব আল-বাগদাদী ও ইবনুল জাওযী আবূ বকর ইবন আবী মারইয়ামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ৩৮১
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিমসের ওয়ালীকে লেখেন: 'আপনি বায়তুল মাল থেকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদেরকে তাদের প্রয়োজন পূরণ হয় এমন পরিমাণ অর্থদানের নির্দেশ দিবেন, যাতে কুরআন তিলাওয়াত এবং যে সকল হাদীছ তাঁরা বহন করছে, তার আলোচনা থেকে কোন কিছু তাঁদেরকে বিরত রাখতে না পারে।'
ইবনুল জাওযী ইবন আবী মারইয়াম থেকে আরো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিমসের ওয়ালীকে লেখেন: ৩৮২
'অনুরূপভাবে ফিকাহ বিষয়ে গবেষণার জন্য নিজেদেরকে নিবদ্ধ করেছে এবং দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া থেকে মুক্ত থেকে মসজিদে আবদ্ধ করেছে, তাদের প্রতি দৃষ্টি দিন। আমার এ পত্র আপনার নিকট পৌঁছার পর মুসলমানদের বায়তুল মাল থেকে তাদের প্রত্যেককে এক শ' দীনার করে দিন। এ দ্বারা তারা তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে। ভালোর ভালো হলো তাড়াতাড়ি করা। ওয়াস সালামু 'আলাইকুম!'
এমনকি যাঁরা রাসূলুল্লাহর (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাহাবীদের পরিচিতি-বৈশিষ্ট্য, ইসলামের প্রথম দিকের ঘটনাবলী গল্পাকারে বর্ণনা করতো এবং মানুষের মধ্যে যারা ওয়াজ-নসীহত করতো তাদের সকলের জন্য ভাতা নির্ধারণ করেন। 'আসিম ইবন 'উমার ইবন কাতাদা ছিলেন সে যুগের একজন বড় 'আলিম। সীরাত ও মাগাযীতে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। হাদীছ বর্ণনায় তিনি বিশ্বস্ত এবং বহু হাদীছের বর্ণনাকারী। ইবন সা'দ বলেন, এই 'আসিম 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে বড় রকমের একটা ঋণে জড়িয়ে পড়েন এবং তা পরিশোধ করা তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সে ঋণ 'উমার পরিশোধ করেন এবং বায়তুল মাল থেকে তাঁকে ভাতা দানের নির্দেশ দেন। আর 'আসিমকে নির্দেশ দেন তিনি যেন দিমাশ্কের জামি' মসজিদে বসে রাসূলুল্লাহর (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সাহাবীদের জীবনকথা মানুষকে শোনান। তিনি 'আসিমকে এই ভাষায় নির্দেশ দেন: ৩৮৩
'বানু মারওয়ান এ কাজ অপছন্দ করতো এবং এ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখতো। আপনি বসুন এবং মানুষের নিকট বর্ণনা করুন।' অতঃপর তিনি তা পালন করেন।
ইবন শাব্বাহ্ বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মদীনায় বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনাবলী গল্পাকারে মানুষকে শোনানোর নির্দেশ দেন এবং তার জন্য মাসিক দু' দীনার ভাতা নির্ধারণ করেন। পরে হিশাম ইবন 'আবদিল মালিক এ ভাতা কমিয়ে বাৎসরিক ছয় দীনার করেন। ৩৮৪
শিক্ষার্থীরা যাতে রুজি-রিযিক ও অর্থ সঙ্কটের চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করতে পারে সে জন্য তাদের ভাতার ব্যবস্থা করেন। ইবন 'আবদিল বার ইয়াহইয়া ইবন আবী কাছীরের সূত্রে উল্লেখ করেছেন: ৩৮৫
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর কর্মকর্তাদেরকে লেখেন : শিক্ষার্থীদের জীবিকার ব্যবস্থা করে তাদেরকে জ্ঞান অন্বেষণে একাগ্র হওয়ার সুযোগ করে দাও।'
খ. তিনি জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে জ্ঞানের প্রচার-প্রসারের জন্য ভীষণ উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁদেরকে দেশের সকল মসজিদকে জনগণের ধর্মীয় শিক্ষা দানের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান, হাদীছ লেখা এবং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনের নির্দেশ দেন। ইয়ামনের অধিবাসী 'আকরামা ইবন 'আম্মার বলেন, আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই পত্রটি পাঠ করতে শুনেছি: ৩৮৬
'অতঃপর এই যে, জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে তাদের নিজ নিজ মসজিদসমূহে জ্ঞান প্রচারের নির্দেশ দাও। কারণ, সুন্নাহর মৃত্যু হয়েছে।'
ইবন 'আবদিল বার জা'ফার ইবন বুরকান আর-রাকী থেকে বর্ণনা করেছেন। এই রাকী ছিলেন সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অধিবাসী। তিনি বলেন: ৩৮৭
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আমাদেরকে লেখেন : অতঃপর এই যে, ফিকাহ শাস্ত্রের অধিকারী ও জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকে তাঁরা যা জানে তা তাঁদের নিজ নিজ বৈঠক ও মসজিদসমূহে প্রচারের নির্দেশ দাও। ওয়াস সালাম।'
তিনি সকল শ্রেণীর মানুষকে জ্ঞানার্জন, জ্ঞান চর্চার বৈঠকসমূহে বসা এবং মুহাদ্দিছ, ফকীহ ও ওয়াজ-নসীহতকারীদের মুখ থেকে দীনের কথা শোনার জন্য উৎসাহিত করেন। যেমন, তিনি প্রায়ই বলতেন: ৩৮৮
'সম্ভব হলে 'আলিম হও, তা না হলে শিক্ষার্থী হও। তা সম্ভব না হলে তাদেরকে ভালোবাস। তাও সম্ভব না হলে, অন্ততঃ তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না। তারপর বলেন: আল্লাহ চাইলে তাতেই তার মুক্তির পথ করে দিতে পারেন।'
টিকাঃ
৩৮১. ইবনুল জাওযী-১২৩; উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৮২. প্রাগুক্ত
৩৮৩. তাবাকাত-৫/৩৪৯; তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৪৭
৩৮৪. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৩
৩৮৫. জামি'উ বায়ান আল-'ইলম-১/২২৮
৩৮৬. ইবনুল জাওযী-১১৩; উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৮৭. জামি'উ বায়ান আল-'ইলম-১/১৪৯
৩৮৮. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪
📄 হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণ এবং এ ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা
ইসলামের প্রাথমিক পর্বে হযরত রাসূলে কারীম (সা) কেবল কুরআন ছাড়া আর কোন কিছু লেখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অন্য যা কিছু লেখা হবে তা হয়তো কালক্রমে কুরআনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে এবং মানুষ তা কুরআন মনে করে চর্চা শুরু করে দেবে। পরবর্তীকালে রাসূল (সা) এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন এবং কুরআনের সাথে সাথে হাদীছও লেখার অনুমতি দান করেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: কিতাবুল্লাহর সাথে যাতে অন্য কোন কিছু মিলেমিশে না যায় অথবা মানুষ কুরআন ছেড়ে অন্য কোন কিছু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে না দেয়, এ কারণে ইসলামের প্রথম পর্বে হাদীছ লেখা অপছন্দনীয় কাজ মনে করা হয়েছে। তাছাড়া সে সময় ইসলামের তত্ত্বজ্ঞানী লোকের সংখ্যা ছিল অনেক কম। পল্লী এলাকার যে সকল বেদুঈন ইসলাম গ্রহণ করেছিল, দীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল খুবই অপ্রতুল। তারা ওহী এবং ওহী বহির্ভূত বাণীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। লিখিত কোন কিছু দেখলেই তারা কুরআন মনে করে ভুল করতে পারতো। এ কারণে তখন হাদীছ লেখালেখির জন্য অনুমতি বা উৎসাহ দেওয়া হয়নি।
'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের চিন্তা করেন। দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তার পর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা) বর্ণনা করেছেন: ৩৮৯
'উমার ইবন আল-খাত্তাব সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের ইচ্ছা করেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের মতামত তলব করেন। তাঁরা লেখার প্রতি ইঙ্গিত করেন। অতঃপর 'উমার (রা) এক মাস যাবত এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইসতিখারা (সঠিক ও কল্যাণকর কোনটি তা জানার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা) করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফীক দান করেন। তিনি বলেন: আমি ইচ্ছা করেছিলাম সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের। সাথে একথাও স্মরণ করলাম, তোমাদের পূর্ববর্তী সেই সম্প্রদায়ের কথা যারা গ্রন্থ রচনা করেছিল এবং আল্লাহর কিতাব ছেড়ে তাই নিয়ে মেতে উঠেছিল। আল্লাহর কসম! আমি কখনো আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছু সংমিশ্রণ ঘটাবো না।'
যখন উপরোক্ত আশঙ্কা দূর হয়ে যায় এবং সুন্নাহ লেখার প্রয়োজনও দেখা দেয়, তখন আর লেখালেখি খারাপ মনে করা হতো না। একথা প্রমাণিত যে, বহু সাহাবী হাদীছ লিপিবদ্ধ করা দোষণীয় মনে করেননি, তাঁরা নিজেদের জন্য কিছু কিছু হাদীছ লিখে রেখেছেন, তাঁদের ছাত্র-শিষ্যরা তাঁদের সামনে হাদীছ লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা হাদীছ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও লেখার জন্য উপদেশ দিতেন। ইবনুস সালাহ বলেন:
'অতঃপর এই মতবিরোধ দূর হয়ে যায় এবং মুসলমানরা হাদীছ লেখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে। যদি তা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা না হতো তাহলে পরবর্তীকালে তা বিলীন হয়ে যেত।'
একথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) সর্বপ্রথম সরকারীভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ফরমান জারি করেন। তবে একথা সত্য যে, তাঁর পিতা 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান মিসরের ওয়ালী থাকাকালে হাদীছ লিপিবদ্ধকরণের প্রয়োজন অনুভব করেন। এ ব্যাপারে তাঁর লেখা একটি পত্র ইবন সা'দ লাইছ ইবন সা'দের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
'ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব আমাকে বলেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান কুছায়্যির ইবন মুররা আল-হাদরামীকে লেখেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের নিকট থেকে যে সকল হাদীছ শুনেছেন তা যেন তাঁকে লিখে পাঠান। তবে আবূ হুরায়রার (রা) হাদীছ পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, তা আমাদের নিকট আছে। উল্লেখ্য যে, এই কুছায়্যির ইবন মুররা হিমসে রাসূলুল্লাহর (সা) সত্তরজন বদরী সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন। লাইছ বলেন, তাঁকে 'অগবর্তী সৈনিক' নামে আখ্যায়িত করা হতো।'
হিমসের এই 'আলিমের নিকট মিসরের আমীরের এ পত্রটি লেখা হয় সম্ভবতঃ হিজরী ৭৫ সনে বা তার কাছাকাছি সময়ে। কারণ, কুছায়্যির হিজরী ৭৫ থেকে ৮০ সনের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে ইনতিকাল করেন। ৩৯০
তবে 'আবদুল 'আযীযের পরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমীরুল মু'মিনীন 'উমার হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের সত্যিকার ফলপ্রসু উদ্যোগ ও ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি সর্বত্র ও সর্বদা একথাটি উচ্চারণ করতে থাকেন: ৩১১
'ওহে জনগণ! দান-অনুগ্রহকে কৃতজ্ঞতা দ্বারা এবং জ্ঞানকে গ্রন্থের দ্বারা বন্দী কর।'
তিনি মানুষকে শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের 'আলিমদেরকে হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, বহু তাবি'ঈ যাঁরা তাঁদের বক্ষে রাসূলুল্লাহর (সা) বহু বাণী ধারণ করে রেখেছিলেন, 'উমার আশঙ্কা করেছিলেন, সাহাবীগণের যুগ শেষ হতে চলেছে, আর তাবি'ঈদের এই প্রজন্মটি দুনিয়া থেকে চলে গেলে এই হাদীছও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া স্মৃতিতে ধারণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গও সবসময় পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গ্রন্থে লিখিত না থাকায় প্রয়োজনের সময় হাদীছ দ্বারা উপকারও পাওয়া যায় না। এ সকল কারণের পাশাপাশি আরো একটি বড় বিপদ তখন দেখা দেয়- আর তা হলো, বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভবের ফলে জাল ও মিথ্যা হাদীছ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে কোনটি বিশুদ্ধ হাদীছ, আর কোনটি জাল হাদীছ তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কালক্রমে এ বিপদ আরো বৃদ্ধি পাবে, এ আশঙ্কায় 'উমারের মত আরো অনেক 'আলিম, তাবি'ঈ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন।
টিকাঃ
৩৮৯. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪-৭৫
৩৯০. তাবাকাত-৭/৪৪৮; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬, ২১৮-২১৯
৩৯১. ইবনুল জাওযী-২৭৬
৩৯২. উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭, ১৮৬
ইসলামের প্রাথমিক পর্বে হযরত রাসূলে কারীম (সা) কেবল কুরআন ছাড়া আর কোন কিছু লেখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অন্য যা কিছু লেখা হবে তা হয়তো কালক্রমে কুরআনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে এবং মানুষ তা কুরআন মনে করে চর্চা শুরু করে দেবে। পরবর্তীকালে রাসূল (সা) এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন এবং কুরআনের সাথে সাথে হাদীছও লেখার অনুমতি দান করেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: কিতাবুল্লাহর সাথে যাতে অন্য কোন কিছু মিলেমিশে না যায় অথবা মানুষ কুরআন ছেড়ে অন্য কোন কিছু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে না দেয়, এ কারণে ইসলামের প্রথম পর্বে হাদীছ লেখা অপছন্দনীয় কাজ মনে করা হয়েছে। তাছাড়া সে সময় ইসলামের তত্ত্বজ্ঞানী লোকের সংখ্যা ছিল অনেক কম। পল্লী এলাকার যে সকল বেদুঈন ইসলাম গ্রহণ করেছিল, দীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল খুবই অপ্রতুল। তারা ওহী এবং ওহী বহির্ভূত বাণীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। লিখিত কোন কিছু দেখলেই তারা কুরআন মনে করে ভুল করতে পারতো। এ কারণে তখন হাদীছ লেখালেখির জন্য অনুমতি বা উৎসাহ দেওয়া হয়নি।
'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের চিন্তা করেন। দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তার পর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা) বর্ণনা করেছেন: ৩৮৯
'উমার ইবন আল-খাত্তাব সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের ইচ্ছা করেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের মতামত তলব করেন। তাঁরা লেখার প্রতি ইঙ্গিত করেন। অতঃপর 'উমার (রা) এক মাস যাবত এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইসতিখারা (সঠিক ও কল্যাণকর কোনটি তা জানার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা) করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফীক দান করেন। তিনি বলেন: আমি ইচ্ছা করেছিলাম সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের। সাথে একথাও স্মরণ করলাম, তোমাদের পূর্ববর্তী সেই সম্প্রদায়ের কথা যারা গ্রন্থ রচনা করেছিল এবং আল্লাহর কিতাব ছেড়ে তাই নিয়ে মেতে উঠেছিল। আল্লাহর কসম! আমি কখনো আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছু সংমিশ্রণ ঘটাবো না।'
যখন উপরোক্ত আশঙ্কা দূর হয়ে যায় এবং সুন্নাহ লেখার প্রয়োজনও দেখা দেয়, তখন আর লেখালেখি খারাপ মনে করা হতো না। একথা প্রমাণিত যে, বহু সাহাবী হাদীছ লিপিবদ্ধ করা দোষণীয় মনে করেননি, তাঁরা নিজেদের জন্য কিছু কিছু হাদীছ লিখে রেখেছেন, তাঁদের ছাত্র-শিষ্যরা তাঁদের সামনে হাদীছ লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা হাদীছ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও লেখার জন্য উপদেশ দিতেন। ইবনুস সালাহ বলেন:
'অতঃপর এই মতবিরোধ দূর হয়ে যায় এবং মুসলমানরা হাদীছ লেখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে। যদি তা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা না হতো তাহলে পরবর্তীকালে তা বিলীন হয়ে যেত।'
একথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) সর্বপ্রথম সরকারীভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ফরমান জারি করেন। তবে একথা সত্য যে, তাঁর পিতা 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান মিসরের ওয়ালী থাকাকালে হাদীছ লিপিবদ্ধকরণের প্রয়োজন অনুভব করেন। এ ব্যাপারে তাঁর লেখা একটি পত্র ইবন সা'দ লাইছ ইবন সা'দের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
'ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব আমাকে বলেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবন মারওয়ান কুছায়্যির ইবন মুররা আল-হাদরামীকে লেখেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের নিকট থেকে যে সকল হাদীছ শুনেছেন তা যেন তাঁকে লিখে পাঠান। তবে আবূ হুরায়রার (রা) হাদীছ পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, তা আমাদের নিকট আছে। উল্লেখ্য যে, এই কুছায়্যির ইবন মুররা হিমসে রাসূলুল্লাহর (সা) সত্তরজন বদরী সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন। লাইছ বলেন, তাঁকে 'অগবর্তী সৈনিক' নামে আখ্যায়িত করা হতো।'
হিমসের এই 'আলিমের নিকট মিসরের আমীরের এ পত্রটি লেখা হয় সম্ভবতঃ হিজরী ৭৫ সনে বা তার কাছাকাছি সময়ে। কারণ, কুছায়্যির হিজরী ৭৫ থেকে ৮০ সনের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে ইনতিকাল করেন। ৩৯০
তবে 'আবদুল 'আযীযের পরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমীরুল মু'মিনীন 'উমার হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের সত্যিকার ফলপ্রসু উদ্যোগ ও ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি সর্বত্র ও সর্বদা একথাটি উচ্চারণ করতে থাকেন: ৩১১
'ওহে জনগণ! দান-অনুগ্রহকে কৃতজ্ঞতা দ্বারা এবং জ্ঞানকে গ্রন্থের দ্বারা বন্দী কর।'
তিনি মানুষকে শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের 'আলিমদেরকে হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, বহু তাবি'ঈ যাঁরা তাঁদের বক্ষে রাসূলুল্লাহর (সা) বহু বাণী ধারণ করে রেখেছিলেন, 'উমার আশঙ্কা করেছিলেন, সাহাবীগণের যুগ শেষ হতে চলেছে, আর তাবি'ঈদের এই প্রজন্মটি দুনিয়া থেকে চলে গেলে এই হাদীছও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া স্মৃতিতে ধারণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গও সবসময় পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গ্রন্থে লিখিত না থাকায় প্রয়োজনের সময় হাদীছ দ্বারা উপকারও পাওয়া যায় না। এ সকল কারণের পাশাপাশি আরো একটি বড় বিপদ তখন দেখা দেয়- আর তা হলো, বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভবের ফলে জাল ও মিথ্যা হাদীছ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে কোনটি বিশুদ্ধ হাদীছ, আর কোনটি জাল হাদীছ তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কালক্রমে এ বিপদ আরো বৃদ্ধি পাবে, এ আশঙ্কায় 'উমারের মত আরো অনেক 'আলিম, তাবি'ঈ উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন।
টিকাঃ
৩৮৯. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৪-৭৫
৩৯০. তাবাকাত-৭/৪৪৮; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬, ২১৮-২১৯
৩৯১. ইবনুল জাওযী-২৭৬
৩৯২. উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭, ১৮৬
📄 লিপিবদ্ধকরণে তাঁর রীতি-পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:
ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০
তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২
খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।
এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩
টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯
রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে 'উমার একটি সঠিক ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অনেকগুলো কঠিন শর্ত মেনে চলেন এবং কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেন। মোটামুটি চারটি বিষয়ে তা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে:
ক. এ কাজের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সাফল্য:
যেমন তিনি এ কাজের জন্য আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্বাচন করেন। তিনি ছিলেন সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন:
'আমি ইবন হাযমের মত বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ অবস্থার আর কাউকে দেখিনি। তিনি যা লাভ করেছেন অন্য কেউ তা লাভ করেছে, এমন কাউকে আমি দেখিনি। যেমন, মদীনার শাসন কর্তৃত্ব, বিচারকের ও হজ্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন: 'তিনি একজন সত্য-সঠিক মানুষ, বহু হাদীছের ধারক-বাহক।' ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
'তিনি একজন বিশ্বস্ত 'আলিম, বহু হাদীছের ধারক-বাহক'। হিজরী ১২০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। ৪০০
তাঁর নির্বাচিত আরেকজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমাম যুহরী। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাদীছের হাফেজ। তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বি। লাইছ ইবন সা'দ তাঁর সম্পর্কে বলেন: আমি ইবন শিহাবের চেয়ে হাদীছে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। তিনি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদীছ বর্ণনা করলে আমরা বলতাম, এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না। যদি আরবদের ইতিহাস ও বংশ বিদ্যা বিষয়ে বর্ণনা করতেন, বলতাম, এর চেয়ে ভালো আর হয় না। আর কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলে বলতাম, সঠিক কথাই বলেছেন। '৪০১ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : 'তোমরা ইবন শিহাব থেকে গ্রহণ করবে। কারণ, অতীত সুন্নাহ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশী জানে এমন কেউ আর নেই।'
ইমাম মাকহুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে কে? বললেন : ইবন শিহাব। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর কে? বলেন : ইবন শিহাব। তাঁর মুখস্থ শক্তি ছিল অসাধারণ। মাত্র আশি রাতে কুরআন মুখস্থ করেন। ৪০২
খ. তিনি সাধারণভাবে হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অত্যধিক গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তিবিশেষের হাদীছ লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষ তাকিদ দেন। যেমন তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে 'আমরা বিন্ত 'আবদির রহমান বর্ণিত হাদীছ লেখার নির্দেশ দেন। কারণ, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) সাথে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি ছিলেন 'আয়িশার (রা) হাদীছে বিশেষ পারদর্শী। আর 'আয়িশা (রা) সবার চেয়ে বেশী জানতেন রাসূলে কারীমের গৃহ অভ্যন্তরের জীবন সম্পর্কে।
এই 'আমরা ছিলেন মদীনার নাজ্জার গোত্রের এক আনসারী মহিলা। হযরত 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন। তাঁর বিশেষ ছাত্রী। তাঁর মহান দাদা সা'দ ইবন যুরারা (রা) একজন উঁচু স্তরের সাহাবী। মহান সাহাবী আস'আদ ইবন যুরারা (রা) তাঁর ভাই। ইবনুল মাদীনী বলেন, 'আয়িশার (রা) তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা বিশ্বস্ত বিদূষী মহিলাদের একজন 'আমরা। ইমাম যুহরী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি জ্ঞানের এমন সাগর যা কখনো শুকাবে না। হিজরী ৯৮ মতান্তরে ১০৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) হাদীছ সংগ্রহ ও লেখার ব্যাপারেও তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে নির্দেশ দেন। কারণ, তিনি 'উমার আল-খাত্তাবের বিচার-ফয়সালা, যাকাত বণ্টনের নিয়ম-নীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো তার ফরমানের অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ (রা)-কেও অনুরোধ করেন তাঁদের মহান ঊর্ধ্বতন পুরুষ 'উমারের (রা) জীবনচিত্র লিখে পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর রীতি-পদ্ধতির অনুসরণ করা। তেমনিভাবে তিনি 'উমার ইবন হাযমকে লেখেন যাকাত-সাদাকা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহর (সা) লিখিত পত্রাদির অনুলিপি পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
গ. যাঁরা হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করবেন, 'উমার তাঁদেরকে সাহীহ ও গায়র সাহীহ হাদীছের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। যাতে কোনভাবে জাল হাদীছ বিশুদ্ধ হাদীছ হিসেবে লিখিত না হয়। একথা তিনি 'আমর ইবন হাযমকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যা আদ-দারিমী বর্ণনা করেছেন। এমনি আরেকটি চিঠি ইমাম আহমাদ "আল-'ইলাল" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
পরবর্তীকালে একটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ঘ. হাদীছের বিশুদ্ধতা ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা 'উমার নিজেও ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের একজন। যাঁদেরকে তিনি হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ দেন তাঁদের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম ছিলেন না। এ কারণে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই-এর উদ্দেশ্যে 'আলিমদের সংগৃহীত হাদীছের ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ গ্রহণ করতেন। যেমন আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবন যাকওয়ান বলেন: 'আমি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে ফকীহগণের সাথে সমাবেশ করতে দেখেছি। সেই সমাবেশে তাঁরা বহু হাদীছ উপস্থাপন করেন। যখন এমন কোন হাদীছ উপস্থাপন করা হতো যার উপর বর্তমানে আমল নেই, তিনি বলতেন: এটা অতিরিক্ত, এর উপর এখন আর আমল নেই। ৪০৩
টিকাঃ
৩৯৩. ফাতহুল বারী-১/১৯৪-১৯৫
৩৯৪. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৫. তাবাকাত-২/৩৮৭; উসূল আল-হাদীছ-১৭৬-১৭৭
৩৯৬. আল-আমওয়াল-২৩১-২৩২
৩৯৭. সুনান আদ-দারিমী-১/১৩৭
৩৯৮. ফাতহুল বারী-১/১৯৭, উসূল আল-হাদীছ-১৭৮
৩৯৯. আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৭৯
৪০০. তাহযীব আত-তাহযীব-৯/৩৯৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৩৪০
৪০১. প্রাগুক্ত; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৩২৬
৪০২. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৮০
৪০৩. উসূল আল-হাদীছ-১৭৯
📄 এই লিপিবদ্ধকরণের ফলাফল
প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।
প্রাথমিক পর্বের এই প্রচেষ্টা বিশাল কল্যাণ বয়ে আনে। ইমাম আয-যুহরী যে খাতাগুলো তৈরি করেছিলেন, 'উমার তার অনেকগুলো কপি করার নির্দেশ দেন এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার একটি করে কপি পাঠিয়ে দেন। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, বহু 'আলিম নিজের শোনা হাদীছগুলো লিখে রাখেন। যাতে প্রয়োজন মত তা বার বার দেখে নেওয়া যায়। তবে সরকারীভাবে যে লেখালেখি হয় এবং খিলাফতের সর্বত্র যার ফলাফল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার সবটুকু কৃতিত্ব 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) পরামর্শে খলীফাতু রাসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বিভিন্ন জনের নিকট ছড়িয়ে থাকা কুরআন একত্র করেন। এই কুরআন সংগ্রহ ও একত্রকরণে তাঁরা উভয়ে মুসলিম উম্মার অশেষ কল্যাণ সাধন করে। তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) কুরআন সংরক্ষণের অসমাপ্ত কাজটুকু সমাপ্ত করে যান। তিনি কুরায়শদের উচ্চারণে একটি মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করে অবশিষ্ট কাজ পরিণতিতে পৌঁছে দেন। আল-কুরআনের পরে ইসলামী শরী'আতের দ্বিতীয় উৎস আল-হাদীছ। এই হাদীছ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার সরকারী ফরমান জারি করে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্বসূরী খুলাফায়ে রাশেদীনের মত আরেকটি অক্ষয় অবদান রেখে যান। এই মহৎ কাজের প্রতিদান তিনি কিয়ামত পর্যন্ত পেতে থাকবেন। সংগ্রহ ও লেখার সরকারী উদ্যোগ যদি তিনি সেদিন না নিতেন তাহলে হয়তো বহু হাদীছ তাঁর সময়ে না হলেও পরবর্তীকালে হারিয়ে যেত।