📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর জ্ঞানের গভীরতা

📄 তাঁর জ্ঞানের গভীরতা


তাঁর সময়ের বড় বড় জ্ঞানী-গুণীদের দারসে বসা ও সাহচর্য লাভের কারণে তিনিও বহু শাস্ত্রে বিশাল পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। অর্জিত জ্ঞানের জন্য তিনিও বেশ তুষ্ট ছিলেন বলে মনে হয়। যেমন তিনি মদীনা ত্যাগের সময়কালের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এভাবে: ৩৫৪
خرجت من المدينة وما من رجل أعلم منى، فلما قدمت الشام نسيت.
'আমি যখন মদীনা থেকে বের হলাম তখন আমার চেয়ে বড় 'আলিম কেউ ছিলেন না। অতঃপর আমি শামে এসে সব ভুলে গেলাম।'

নিজের জ্ঞানের প্রতি তাঁর কতখানি আস্থা থাকলে তিনি এমন কথা বলতে পারেন? অথচ সে সময় মদীনাতে হযরত সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব ও তাঁর মত আরো অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি বিদ্যমান ছিলেন। ইমাম যুহরীর সঙ্গে একদিন সারা রাত হাদীছ ও ফিকহ বিষয়ে আলোচনা করলেন। ইমাম যুহরী 'উমারকে বহু হাদীছ শোনালেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে 'উমার বললেন: আজ রাতে আপনি যত হাদীছ বর্ণনা করেছেন, সবই আমি পূর্বে শুনেছি। তবে আপনি মুখস্থ রেখেছেন, আর আমি ভুলে গিয়েছি। ৩৫৫

ইমাম যুহরীর মত মহাজ্ঞানী মানুষকে এমন কথা বলতে পারায় প্রমাণিত হয় জ্ঞানের জগতে তাঁর ভিত্তি ছিল অতি মজবুত, জানাশোনার পরিধি ছিল অতি ব্যাপক ও প্রশস্ত এবং তাঁর শ্রুত ও বর্ণিত হাদীছ সংখ্যা অনেক বেশী। এ কারণে পরবর্তীকালে সংকলিত হাদীছের অথবা রচিত ফিকহর অধিকাংশ গ্রন্থাবলীতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নাম দেখা যায়। হয়তো তা হাদীছ বর্ণনা সূত্রে, ফিকহ বিষয়ক কোন মতামত, কোন আদেশ-নিষেধ অথবা বিচার-ফয়সালার সিদ্ধান্ত হিসেবে। ইসলামের প্রথম পর্বের 'আলিম ও ইমাম-মুজতাহিদগণ বিভিন্ন বিষয়ে নিজ নিজ মতের স্বপক্ষে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ও কাজকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম আল-লায়ছ ইবন সা'দ-এর সেই বিখ্যাত চিঠিটির কথা উল্লেখ করা যায়, যা তিনি ইমাম মালিকের নিকট পাঠিয়েছিলেন। যাতে তিনি ইমাম মালিকের মতের বিরুদ্ধে এবং নিজের মতের স্বপক্ষে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ও কাজকে একাধিক মাসয়ালায় উল্লেখ করেছেন। এমনকি চার মাযহাবের ফিকহর গ্রন্থাবলীতে প্রমাণ হিসেবে বার বার তাঁর কথা ও কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। হানাফী মাযহাবের ইমামগণ তাঁকে তাঁর মাতৃকূলের ঊর্ধ্বতন পুরুষ হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) থেকে পৃথক করার জন্য তাঁকে "'উমার আস-সাগীর" তথা ছোট 'উমার নামে অভিহিত করেছেন। ইমাম মালিক (রহ) তাঁর বিখ্যাত "আল-মুওয়াত্তা” গ্রন্থে বিশ বারেরও অধিক তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালিকের অনুসারী পরবর্তী ইমাম-মুজতাহিদগণ তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলীতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সংগে বহুবার বহুভাবে তাঁর কথা ও কাজ উল্লেখ করেছেন। শাফি'ঈ মাযহাবের অনুসারী ইমামগণও তেমন করেছেন। ইমাম আন-নাওবী (রহ) তাঁর 'তাহযীবুল আসমা' ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী সন্নিবেশ করেছেন। আর হাম্বলী মাযহাবের লোকেরা তাঁকে কতখানি গুরুত্ব দিয়েছেন তা বুঝা যায় এই মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের এই উক্তি দ্বারা: ৩৫৬
لا أدرى قول أحد من التابعين حجة إلا قول عمر بن عبد العزيز.
'একমাত্র 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ছাড়া অন্য কোন তাবি'ঈর কোন কথা 'হুজ্জাত' (প্রমাণ) হিসেবে ধরা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।' কাদরিয়‍্যাদের মতবাদ খণ্ডন করে তিনি যে পত্রটি লেখেন তাতে যে শক্তিশালী যুক্তি এবং কুরআন-হাদীছের উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন তাতে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা অনুমান করা যায়। তেমনিভাবে খারেজীদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত যুক্তিতেও তাঁর গভীর প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য প্রমাণিত হয়। ৩৫৭

টিকাঃ
৩৫৪. 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৫; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১২১
৩৫৫. প্রাগুক্ত; ইবনুল জাওযী-৩৭
৩৫৬. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৬৩
৩৫৭. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩০৯-৩১০, ৩৪৬, ৩৫৩; ইবনুল জাওযী: ৯০-৯৬

তাঁর সময়ের বড় বড় জ্ঞানী-গুণীদের দারসে বসা ও সাহচর্য লাভের কারণে তিনিও বহু শাস্ত্রে বিশাল পাণ্ডিত্যের অধিকারী হন। অর্জিত জ্ঞানের জন্য তিনিও বেশ তুষ্ট ছিলেন বলে মনে হয়। যেমন তিনি মদীনা ত্যাগের সময়কালের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এভাবে: ৩৫৪
خرجت من المدينة وما من رجل أعلم منى، فلما قدمت الشام نسيت.
'আমি যখন মদীনা থেকে বের হলাম তখন আমার চেয়ে বড় 'আলিম কেউ ছিলেন না। অতঃপর আমি শামে এসে সব ভুলে গেলাম।'

নিজের জ্ঞানের প্রতি তাঁর কতখানি আস্থা থাকলে তিনি এমন কথা বলতে পারেন? অথচ সে সময় মদীনাতে হযরত সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব ও তাঁর মত আরো অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি বিদ্যমান ছিলেন। ইমাম যুহরীর সঙ্গে একদিন সারা রাত হাদীছ ও ফিকহ বিষয়ে আলোচনা করলেন। ইমাম যুহরী 'উমারকে বহু হাদীছ শোনালেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে 'উমার বললেন: আজ রাতে আপনি যত হাদীছ বর্ণনা করেছেন, সবই আমি পূর্বে শুনেছি। তবে আপনি মুখস্থ রেখেছেন, আর আমি ভুলে গিয়েছি। ৩৫৫

ইমাম যুহরীর মত মহাজ্ঞানী মানুষকে এমন কথা বলতে পারায় প্রমাণিত হয় জ্ঞানের জগতে তাঁর ভিত্তি ছিল অতি মজবুত, জানাশোনার পরিধি ছিল অতি ব্যাপক ও প্রশস্ত এবং তাঁর শ্রুত ও বর্ণিত হাদীছ সংখ্যা অনেক বেশী। এ কারণে পরবর্তীকালে সংকলিত হাদীছের অথবা রচিত ফিকহর অধিকাংশ গ্রন্থাবলীতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নাম দেখা যায়। হয়তো তা হাদীছ বর্ণনা সূত্রে, ফিকহ বিষয়ক কোন মতামত, কোন আদেশ-নিষেধ অথবা বিচার-ফয়সালার সিদ্ধান্ত হিসেবে। ইসলামের প্রথম পর্বের 'আলিম ও ইমাম-মুজতাহিদগণ বিভিন্ন বিষয়ে নিজ নিজ মতের স্বপক্ষে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ও কাজকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম আল-লায়ছ ইবন সা'দ-এর সেই বিখ্যাত চিঠিটির কথা উল্লেখ করা যায়, যা তিনি ইমাম মালিকের নিকট পাঠিয়েছিলেন। যাতে তিনি ইমাম মালিকের মতের বিরুদ্ধে এবং নিজের মতের স্বপক্ষে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ও কাজকে একাধিক মাসয়ালায় উল্লেখ করেছেন। এমনকি চার মাযহাবের ফিকহর গ্রন্থাবলীতে প্রমাণ হিসেবে বার বার তাঁর কথা ও কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। হানাফী মাযহাবের ইমামগণ তাঁকে তাঁর মাতৃকূলের ঊর্ধ্বতন পুরুষ হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) থেকে পৃথক করার জন্য তাঁকে "'উমার আস-সাগীর" তথা ছোট 'উমার নামে অভিহিত করেছেন। ইমাম মালিক (রহ) তাঁর বিখ্যাত "আল-মুওয়াত্তা” গ্রন্থে বিশ বারেরও অধিক তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালিকের অনুসারী পরবর্তী ইমাম-মুজতাহিদগণ তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলীতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সংগে বহুবার বহুভাবে তাঁর কথা ও কাজ উল্লেখ করেছেন। শাফি'ঈ মাযহাবের অনুসারী ইমামগণও তেমন করেছেন। ইমাম আন-নাওবী (রহ) তাঁর 'তাহযীবুল আসমা' ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী সন্নিবেশ করেছেন। আর হাম্বলী মাযহাবের লোকেরা তাঁকে কতখানি গুরুত্ব দিয়েছেন তা বুঝা যায় এই মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের এই উক্তি দ্বারা: ৩৫৬
لا أدرى قول أحد من التابعين حجة إلا قول عمر بن عبد العزيز.
'একমাত্র 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের কথা ছাড়া অন্য কোন তাবি'ঈর কোন কথা 'হুজ্জাত' (প্রমাণ) হিসেবে ধরা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।' কাদরিয়‍্যাদের মতবাদ খণ্ডন করে তিনি যে পত্রটি লেখেন তাতে যে শক্তিশালী যুক্তি এবং কুরআন-হাদীছের উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন তাতে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা অনুমান করা যায়। তেমনিভাবে খারেজীদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত যুক্তিতেও তাঁর গভীর প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য প্রমাণিত হয়। ৩৫৭

টিকাঃ
৩৫৪. 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৫; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১২১
৩৫৫. প্রাগুক্ত; ইবনুল জাওযী-৩৭
৩৫৬. 'আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ-৬৩
৩৫৭. হিলয়াতুল আওলিয়া-৫/৩০৯-৩১০, ৩৪৬, ৩৫৩; ইবনুল জাওযী: ৯০-৯৬

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর জ্ঞান-গরিমা সম্পর্কে তাঁর সমকালীন ও পরবর্তীকালের মনীষীদের কিছু মন্তব্য

📄 তাঁর জ্ঞান-গরিমা সম্পর্কে তাঁর সমকালীন ও পরবর্তীকালের মনীষীদের কিছু মন্তব্য


পণ্ডিত মনীষীদের মন্তব্য ও সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন তত্ত্ব-জ্ঞানী ব্যক্তিত্বের অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রথম শ্রেণীর তাবি'ঈ 'আলিমদের মধ্যে বিশিষ্ট স্থান ও মর্যাদার অধিকারী। নিম্নে কয়েকজন বিশিষ্ট মনীষীর উক্তি উপস্থাপন করা হলো:
ইমাম যুহরী 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'আবদিল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। 'উবায়দুল্লাহ বলেন: ৩৫৮
كانت العلماء عند عمر بن عبد العزيز تلامذة.
"'আলিমগণ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট ছিলেন ছাত্র সমতুল্য।"

বিখ্যাত তাবি'ঈ মুজাহিদ (রহ) বলেন: ৩৫৯
أتينا عمر بن عبد العزيز ونحن نرى أنه سيحتاج إلينا، فما خرجنا من عنده حتى احتجنا إليه.
'আমরা এই ধারণা নিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট গেলাম যে, তিনি আমাদের জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হবেন; কিন্তু যখন তাঁর নিকট থেকে বের হলাম তখন আমরাই তাঁর জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হয়ে গেলাম।' তিনি আরো বলেন:
أتينا عمر نعلمه، فما برحنا حتى تعلمنا منه.
'আমরা 'উমারের নিকট গেলাম তাঁকে কিছু শেখাবো বলে, কিন্তু অল্পক্ষণ পরে আমরাই তাঁর নিকট থেকে শিখতে লাগলাম।'

মায়মূন ইবন মিহরান বলেন: ৩৬০
كان عمر بن عبد العزيز معلم العلماء.
"'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন 'আলিমদের মু'আল্লিম বা শিক্ষক।" তিনি আরো বলেন:
أتينا عمر بن عبد العزيز ونحن نرى أنه يحتاج إلينا، فما كنا معه إلا تلامذة.
'আমরা এই ধারণা নিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট গেলাম যে, তিনি আমাদের জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হবেন; কিন্তু কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে থাকার পর আমরাই তাঁর ছাত্র হয়ে গেলাম।'

প্রখ্যাত তাবি'ঈ মুহাদ্দিছ আইউব আস-সিখতিয়ানী বলেন: আমরা যাঁদেরকে পেয়েছি তাঁদের কেউ 'উমারের চেয়ে নবীর (সা) হাদীছ অধিক ধারণকারী আছেন বলে আমার জানা নেই। ৩৬১

ইমাম মালিক ও ইবন 'উয়ায়না বলেন: ৩৬২
- عمر بن عبد العزيز إمام
"'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয একজন ইমাম।"

ইবন সা'দ বলেন: তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত ও আমানতদার। তাঁর ছিল ফিকহ ও অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান এবং খোদাভীতি। বহু হাদীছ তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন ও সন্তুষ্ট থাকুন! ৩৬৩

হাফেজ ইবন 'আবদিল বার বলেন: ৩৬৪
كان أحد الراسخين في العلم.
'জ্ঞানের জগতে তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ ও পারদর্শী ব্যক্তি।'

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: ৩৬৫
وكان إماما فقيها مجتهدا عارفا بالسنن، كبير الشان ثبتا، حجة، حافظا، قانتا الله أواها منيبا.
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন একজন ইমাম, ফকীহ, মুজতাহিদ, সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী, বিশাল কর্মকাণ্ডের অধিকারী, দৃঢ় চিত্ত, হাদীছ শাস্ত্রের হুজ্জাত, হাফেজ, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী মানুষ।'

ইমাম আল-লায়ছ বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার ও 'আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসের (রা) সুহবত ও সাহচার্য পেয়েছেন এবং 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁকে জাযীরার ওয়ালী নিয়োগ করেছিলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: ৩৬৬
ما التمسنا علم شيئ إلا وجدنا عمر بن عبد العزيز أعلم الناس بأصله وفرعه، وكان العلماء عند عمر بن عبد العزيز إلا تلامذة.
'আমরা যখনই কোন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছি তখন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে সে বিষয়ের মূল ও শাখা-প্রশাখায় সকলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিরূপে পেয়েছি। অন্য সকল 'আলিম 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট ছাত্র সমতুল্য ছিলেন।'

ইমাম নাওবী (রহ) লিখেছেন: 'তাঁর বিশাল জ্ঞান, অগাধ পাণ্ডিত্য, পরিচ্ছন্ন স্বভাব, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিমুখ তাপস্য, তাকওয়া, 'আদল-ইনসাফ, মুসলমানদের প্রতি দয়া ও মমতা, উন্নত চরিত্র, আল্লাহর রাস্তায় চূড়ান্ত রকমের প্রচেষ্টা, সুন্নাতে নববীর আনুগত্য- অনুসরণ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের অনুকরণের ব্যাপারে সকলে একমত।'

'আল্লামা আবুল হাসান 'আলী আন-নাদবীর (রহ) একটি মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এ প্রসঙ্গের সমাপ্তি টানছি। তিনি বলেন: ৩৬৭
وكان عمر من العلماء الراسخين الربانيين، ولولا الخلافة وتكاليفها لكان من العلماء المعدودين ، ومن الفقهاء المشهورين.
"'উমার ছিলেন আল্লাহ ওয়ালা সুদক্ষ জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। যদি খিলাফত ও তার বিশাল দায়িত্ব তাঁর উপর না চাপতো তাহলে মুষ্টিমেয় হাতে গোনা জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন এবং বিখ্যাত ফকীহদের মধ্যে গণ্য হতেন।'

টিকাঃ
৩৫৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১১৯
৩৫৯. তাবাকাত-৫/৩৬৮; তাহযীবুল আসমা' ওয়াল লুগাত-২/২২; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১২০
৩৬০. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৯
৩৬১. তাহযীবুত তাহযীব-৭/৪১৪
৩৬২. প্রাগুক্ত
৩৬৩. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৫
৩৬৪. জামি' বায়ান আল-'ইলম-২/১৩০
৩৬৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৮; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৪
৩৬৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪
৩৬৭. রিজালুল ফিক্স ওয়াদ দা'ওয়া-১/৫২

পণ্ডিত মনীষীদের মন্তব্য ও সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন তত্ত্ব-জ্ঞানী ব্যক্তিত্বের অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রথম শ্রেণীর তাবি'ঈ 'আলিমদের মধ্যে বিশিষ্ট স্থান ও মর্যাদার অধিকারী। নিম্নে কয়েকজন বিশিষ্ট মনীষীর উক্তি উপস্থাপন করা হলো:
ইমাম যুহরী 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'আবদিল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। 'উবায়দুল্লাহ বলেন: ৩৫৮
كانت العلماء عند عمر بن عبد العزيز تلامذة.
"'আলিমগণ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট ছিলেন ছাত্র সমতুল্য।"

বিখ্যাত তাবি'ঈ মুজাহিদ (রহ) বলেন: ৩৫৯
أتينا عمر بن عبد العزيز ونحن نرى أنه سيحتاج إلينا، فما خرجنا من عنده حتى احتجنا إليه.
'আমরা এই ধারণা নিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট গেলাম যে, তিনি আমাদের জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হবেন; কিন্তু যখন তাঁর নিকট থেকে বের হলাম তখন আমরাই তাঁর জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হয়ে গেলাম।' তিনি আরো বলেন:
أتينا عمر نعلمه، فما برحنا حتى تعلمنا منه.
'আমরা 'উমারের নিকট গেলাম তাঁকে কিছু শেখাবো বলে, কিন্তু অল্পক্ষণ পরে আমরাই তাঁর নিকট থেকে শিখতে লাগলাম।'

মায়মূন ইবন মিহরান বলেন: ৩৬০
كان عمر بن عبد العزيز معلم العلماء.
"'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন 'আলিমদের মু'আল্লিম বা শিক্ষক।" তিনি আরো বলেন:
أتينا عمر بن عبد العزيز ونحن نرى أنه يحتاج إلينا، فما كنا معه إلا تلامذة.
'আমরা এই ধারণা নিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট গেলাম যে, তিনি আমাদের জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হবেন; কিন্তু কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে থাকার পর আমরাই তাঁর ছাত্র হয়ে গেলাম।'

প্রখ্যাত তাবি'ঈ মুহাদ্দিছ আইউব আস-সিখতিয়ানী বলেন: আমরা যাঁদেরকে পেয়েছি তাঁদের কেউ 'উমারের চেয়ে নবীর (সা) হাদীছ অধিক ধারণকারী আছেন বলে আমার জানা নেই। ৩৬১

ইমাম মালিক ও ইবন 'উয়ায়না বলেন: ৩৬২
- عمر بن عبد العزيز إمام
"'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয একজন ইমাম।"

ইবন সা'দ বলেন: তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত ও আমানতদার। তাঁর ছিল ফিকহ ও অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান এবং খোদাভীতি। বহু হাদীছ তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন ও সন্তুষ্ট থাকুন! ৩৬৩

হাফেজ ইবন 'আবদিল বার বলেন: ৩৬৪
كان أحد الراسخين في العلم.
'জ্ঞানের জগতে তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ ও পারদর্শী ব্যক্তি।'

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: ৩৬৫
وكان إماما فقيها مجتهدا عارفا بالسنن، كبير الشان ثبتا، حجة، حافظا، قانتا الله أواها منيبا.
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন একজন ইমাম, ফকীহ, মুজতাহিদ, সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী, বিশাল কর্মকাণ্ডের অধিকারী, দৃঢ় চিত্ত, হাদীছ শাস্ত্রের হুজ্জাত, হাফেজ, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী মানুষ।'

ইমাম আল-লায়ছ বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার ও 'আবদুল্লাহ ইবন আব্বাসের (রা) সুহবত ও সাহচার্য পেয়েছেন এবং 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁকে জাযীরার ওয়ালী নিয়োগ করেছিলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: ৩৬৬
ما التمسنا علم شيئ إلا وجدنا عمر بن عبد العزيز أعلم الناس بأصله وفرعه، وكان العلماء عند عمر بن عبد العزيز إلا تلامذة.
'আমরা যখনই কোন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছি তখন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে সে বিষয়ের মূল ও শাখা-প্রশাখায় সকলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিরূপে পেয়েছি। অন্য সকল 'আলিম 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট ছাত্র সমতুল্য ছিলেন।'

ইমাম নাওবী (রহ) লিখেছেন: 'তাঁর বিশাল জ্ঞান, অগাধ পাণ্ডিত্য, পরিচ্ছন্ন স্বভাব, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিমুখ তাপস্য, তাকওয়া, 'আদল-ইনসাফ, মুসলমানদের প্রতি দয়া ও মমতা, উন্নত চরিত্র, আল্লাহর রাস্তায় চূড়ান্ত রকমের প্রচেষ্টা, সুন্নাতে নববীর আনুগত্য- অনুসরণ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের অনুকরণের ব্যাপারে সকলে একমত।'

'আল্লামা আবুল হাসান 'আলী আন-নাদবীর (রহ) একটি মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এ প্রসঙ্গের সমাপ্তি টানছি। তিনি বলেন: ৩৬৭
وكان عمر من العلماء الراسخين الربانيين، ولولا الخلافة وتكاليفها لكان من العلماء المعدودين ، ومن الفقهاء المشهورين.
"'উমার ছিলেন আল্লাহ ওয়ালা সুদক্ষ জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। যদি খিলাফত ও তার বিশাল দায়িত্ব তাঁর উপর না চাপতো তাহলে মুষ্টিমেয় হাতে গোনা জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন এবং বিখ্যাত ফকীহদের মধ্যে গণ্য হতেন।'

টিকাঃ
৩৫৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১১৯
৩৫৯. তাবাকাত-৫/৩৬৮; তাহযীবুল আসমা' ওয়াল লুগাত-২/২২; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১২০
৩৬০. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৯
৩৬১. তাহযীবুত তাহযীব-৭/৪১৪
৩৬২. প্রাগুক্ত
৩৬৩. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৫
৩৬৪. জামি' বায়ান আল-'ইলম-২/১৩০
৩৬৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৮; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৪
৩৬৬. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/১৯৪
৩৬৭. রিজালুল ফিক্স ওয়াদ দা'ওয়া-১/৫২

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর ছাত্র এবং যাঁরা তাঁর সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন

📄 তাঁর ছাত্র এবং যাঁরা তাঁর সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন


বিশিষ্ট 'আলিম ও ইমামদের বিশাল একটি সংখ্যা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কয়েকজন হলেন তাঁর অন্যতম শিক্ষক আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান, তাঁর দুই ছেলে 'আবদুল্লাহ ও 'আবদুল 'আযীয ইবন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয, তাঁর ভাই যাব্বান ইবন 'আবদিল 'আযীয, চাচাতো ভাই মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিক। তাছাড়া আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবন 'আমর ইবন হাম্, রাজা' ইবন হায়ওয়া, আয-যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, আম্বাসা ইবন সা'ঈদ ইবন আল-'আস, হুমাইদ আত-তাবীল, মুহাম্মাদ ইবন আল-মুনকাদির, তাম্মাম ইবন নাজীহ, তাওবা আল-'আম্বরী, 'আমর ইবন মুহাজির, গায়লান ইবন আনাস, লায়ছ ইবন আবী রুকাইয়া আছ-ছাকাফী, (তাঁর সেক্রেটারী), মুহাম্মাদ ইবন কায়স, আন- নাদার ইবন 'আরাবী, নু'আইম ইবন 'আবদিল্লাহ আল-কায়নী, হিলাল আবূ তা'মা ('উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের আযাদকৃত দাস), ইয়া'কূব ইবন 'উতবা ইবন আল- মুগীরা ইবন আল-আখনাস, মুহাম্মাদ ইবন আয-যুবাইর, আল-হানজালী, আইউব আস- সাখতিয়ানী, ইবরাহীম ইবন আবী 'আবালা, সালিহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন যায়িদা আল- লায়ছী, সাখর ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন হারমালা, 'উছমান ইবন দাউদ আল-খাওলানী, তাঁর ভাই সুলায়মান ইবন দাউদ, 'উমাইর ইবন হানী আল-'আনসী, 'ঈসা ইবন আবী 'আতা আল-কাতিব, আবূ হাশিম মালিক ইবন যিয়াদ, মুহাম্মাদ ইবন আবী সুওয়াইদ আছ-ছাকাফী, মারওয়ান ইবন জানাহ এবং আরো অনেকে। ৩৬৮

টিকাঃ
৩৬৮. তাহযীবুত তাহযীব-৭/৪১৮; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৪; তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-২/১১৪-১১৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১১৮

বিশিষ্ট 'আলিম ও ইমামদের বিশাল একটি সংখ্যা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কয়েকজন হলেন তাঁর অন্যতম শিক্ষক আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান, তাঁর দুই ছেলে 'আবদুল্লাহ ও 'আবদুল 'আযীয ইবন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয, তাঁর ভাই যাব্বান ইবন 'আবদিল 'আযীয, চাচাতো ভাই মাসলামা ইবন 'আবদিল মালিক। তাছাড়া আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবন 'আমর ইবন হাম্, রাজা' ইবন হায়ওয়া, আয-যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, আম্বাসা ইবন সা'ঈদ ইবন আল-'আস, হুমাইদ আত-তাবীল, মুহাম্মাদ ইবন আল-মুনকাদির, তাম্মাম ইবন নাজীহ, তাওবা আল-'আম্বরী, 'আমর ইবন মুহাজির, গায়লান ইবন আনাস, লায়ছ ইবন আবী রুকাইয়া আছ-ছাকাফী, (তাঁর সেক্রেটারী), মুহাম্মাদ ইবন কায়স, আন- নাদার ইবন 'আরাবী, নু'আইম ইবন 'আবদিল্লাহ আল-কায়নী, হিলাল আবূ তা'মা ('উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের আযাদকৃত দাস), ইয়া'কূব ইবন 'উতবা ইবন আল- মুগীরা ইবন আল-আখনাস, মুহাম্মাদ ইবন আয-যুবাইর, আল-হানজালী, আইউব আস- সাখতিয়ানী, ইবরাহীম ইবন আবী 'আবালা, সালিহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন যায়িদা আল- লায়ছী, সাখর ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন হারমালা, 'উছমান ইবন দাউদ আল-খাওলানী, তাঁর ভাই সুলায়মান ইবন দাউদ, 'উমাইর ইবন হানী আল-'আনসী, 'ঈসা ইবন আবী 'আতা আল-কাতিব, আবূ হাশিম মালিক ইবন যিয়াদ, মুহাম্মাদ ইবন আবী সুওয়াইদ আছ-ছাকাফী, মারওয়ান ইবন জানাহ এবং আরো অনেকে। ৩৬৮

টিকাঃ
৩৬৮. তাহযীবুত তাহযীব-৭/৪১৮; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/১১৪; তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-২/১১৪-১১৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১১৮

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 তাঁর জ্ঞানের প্রচার-প্রসার ঘটেনি কেন

📄 তাঁর জ্ঞানের প্রচার-প্রসার ঘটেনি কেন


তাঁর বিশাল জ্ঞান ও বিশাল পাণ্ডিত্য, যা তাঁকে একজন ইমামের মর্যাদা দান করেছে, যাঁকে জ্ঞানে সাগরতুল্য ইমাম আয-যুহ্রীর সমান মনে করা হয়, সমকালীন অন্য সকল 'আলিমকে তাঁর ছাত্রতুল্য গণ্য করা হয়, জ্ঞানের এত অত্যুচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির জ্ঞানের তেমন প্রচার-প্রসার ঘটেনি কেন? তাঁর সমকক্ষ অন্যান্য ইমাম যথা আয-যুহরী, মালিক ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব প্রমুখের মত হাদীছ ও ফিক্হ বিষয়ে তাঁর বর্ণনা পাওয়া যায় না কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে দু'টি কারণ উল্লেখ করা যায়। প্রথম কারণ, আর এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তিনি তাঁর বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার ছড়িয়ে দেওয়ার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ লাভ করেননি। প্রথম জীবনে মদীনার শ্রেষ্ঠ 'আলিম ও ফকীহদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণের পর মদীনা ত্যাগ করেন। কিছুকাল পরে আবার সেখানে ফিরে আসেন তথাকার ওয়ালী হিসেবে। কিছুদিন পর সেই সাথে যুক্ত হয় মক্কার ইমারতের দায়িত্ব। তখন তিনি হন মক্কা-মদীনা তথা হারামাইনের আমীর। এ বিশাল দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি তখন অন্যদের মত দারসের মজলিস করে ছাত্রদের ফিক্‌হর জ্ঞান দিতে পারেননি, তাদের নিকট নিজের সংগ্রহের হাদীছ ভাণ্ডার বর্ণনা করতে সক্ষম হননি। এক সময় এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁকে দারুল খিলাফা দিমাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি বছর তাঁর অতিবাহিত হয় খলীফাদের পরামর্শক, উপদেষ্টা হিসেবে এবং কিছুকাল খলীফা সুলায়মানের উযীর হিসেবে।

এরপর তাঁর কাঁধে চেপে বসে বিশাল ইসলামী খিলাফতের মহান দায়িত্ব। যে খিলাফতের সীমা-সরহদ ছিল আটলান্টিকের উপকূল থেকে ভারতবর্ষের সিন্ধু পর্যন্ত। বানু উমাইয়্যারা দীর্ঘকাল ধরে ইসলামী খিলাফতের ধ্যান-ধারণা ও রূপরেখার মধ্যে যে বিকৃতি সাধন করেছিল, তিনি দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার প্রথম দিন থেকে তা আবার খিলাফতে রাশেদার আদলে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এ কাজ করতে গিয়ে জীবনের সবটুকু সময় এর পিছনে ব্যয় করেন। মৃত্যু পর্যন্ত এমন একটু অবসর পাননি যখন তিনি জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা দানের দিকে মনোযোগ দিতে পারতেন। খিলাফতে রাশেদার প্রথম খলীফা মহান সাহাবী হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের (রা) জীবনেও এমনটি ঘটেছিল। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশী হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সঙ্গ ও সাহচর্য লাভ করেছেন। অন্যদের তুলনায় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট থেকে তিনি বেশী জ্ঞান লাভ করেন। মুসলিম উম্মার নিকট সর্বক্ষেত্রে তাঁর যে সুউচ্চ সম্মান ও মর্যাদা, সেই তুলনায় তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদীছ নিতান্ত অপ্রতুল। এর কারণ হলো, হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর তিনি খুব অল্প সময় পেয়েছিলেন। আর তাও কেটে যায় ইসলামী খিলাফতের গুরুদায়িত্ব বহনের মধ্য দিয়ে। তেমনিভাবে খলীফা 'আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান, খলীফা আবু জা'ফার আল-মানসূর ও আরো অনেকের নাম উল্লেখ করা যায়, যাঁরা ছিলেন বিশাল জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিত্ব, কিন্তু খিলাফত পরিচালনা ও রাজনীতির জটিল বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে জ্ঞান চর্চার অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় কারণ হলো অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ। চল্লিশটি বছর জীবনকালও পূর্ণ করে যেতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে ইমাম আয-যাহাবীর একটি উক্তি বিশেষ প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন: ৩৬৯
'আল-ওয়ালীদের খিলাফতকালে প্রথম মদীনার ওয়ালী নিযুক্ত হন এবং মদীনার মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন। সে সময় তাঁকে অত্যধিক ন্যায়পরায়ণ ও ভোগবিলাস বিমুখ বলে উল্লেখ করা হতো না। কিন্তু খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আল্লাহ তাঁকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেন এবং তিনি নতুন রূপ ধারণ করেন। অতঃপর উত্তম চরিত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর নানা 'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা), দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ স্বভাবের জন্য হাসান আল-বসরী (রহ) এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে আয-যুহরীর (রহ) সাথে তাঁকে তুলনা করা হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর শিক্ষকদের কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় তাঁর জ্ঞানের প্রচার- প্রসার তেমন ঘটেনি।'

টিকাঃ
৩৬৯. ইবনুল জাওযী-১৮; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৯

তাঁর বিশাল জ্ঞান ও বিশাল পাণ্ডিত্য, যা তাঁকে একজন ইমামের মর্যাদা দান করেছে, যাঁকে জ্ঞানে সাগরতুল্য ইমাম আয-যুহ্রীর সমান মনে করা হয়, সমকালীন অন্য সকল 'আলিমকে তাঁর ছাত্রতুল্য গণ্য করা হয়, জ্ঞানের এত অত্যুচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির জ্ঞানের তেমন প্রচার-প্রসার ঘটেনি কেন? তাঁর সমকক্ষ অন্যান্য ইমাম যথা আয-যুহরী, মালিক ও সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব প্রমুখের মত হাদীছ ও ফিক্হ বিষয়ে তাঁর বর্ণনা পাওয়া যায় না কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে দু'টি কারণ উল্লেখ করা যায়। প্রথম কারণ, আর এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তিনি তাঁর বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার ছড়িয়ে দেওয়ার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ লাভ করেননি। প্রথম জীবনে মদীনার শ্রেষ্ঠ 'আলিম ও ফকীহদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণের পর মদীনা ত্যাগ করেন। কিছুকাল পরে আবার সেখানে ফিরে আসেন তথাকার ওয়ালী হিসেবে। কিছুদিন পর সেই সাথে যুক্ত হয় মক্কার ইমারতের দায়িত্ব। তখন তিনি হন মক্কা-মদীনা তথা হারামাইনের আমীর। এ বিশাল দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি তখন অন্যদের মত দারসের মজলিস করে ছাত্রদের ফিক্‌হর জ্ঞান দিতে পারেননি, তাদের নিকট নিজের সংগ্রহের হাদীছ ভাণ্ডার বর্ণনা করতে সক্ষম হননি। এক সময় এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁকে দারুল খিলাফা দিমাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি বছর তাঁর অতিবাহিত হয় খলীফাদের পরামর্শক, উপদেষ্টা হিসেবে এবং কিছুকাল খলীফা সুলায়মানের উযীর হিসেবে।

এরপর তাঁর কাঁধে চেপে বসে বিশাল ইসলামী খিলাফতের মহান দায়িত্ব। যে খিলাফতের সীমা-সরহদ ছিল আটলান্টিকের উপকূল থেকে ভারতবর্ষের সিন্ধু পর্যন্ত। বানু উমাইয়্যারা দীর্ঘকাল ধরে ইসলামী খিলাফতের ধ্যান-ধারণা ও রূপরেখার মধ্যে যে বিকৃতি সাধন করেছিল, তিনি দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার প্রথম দিন থেকে তা আবার খিলাফতে রাশেদার আদলে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এ কাজ করতে গিয়ে জীবনের সবটুকু সময় এর পিছনে ব্যয় করেন। মৃত্যু পর্যন্ত এমন একটু অবসর পাননি যখন তিনি জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা দানের দিকে মনোযোগ দিতে পারতেন। খিলাফতে রাশেদার প্রথম খলীফা মহান সাহাবী হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের (রা) জীবনেও এমনটি ঘটেছিল। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশী হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সঙ্গ ও সাহচর্য লাভ করেছেন। অন্যদের তুলনায় রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট থেকে তিনি বেশী জ্ঞান লাভ করেন। মুসলিম উম্মার নিকট সর্বক্ষেত্রে তাঁর যে সুউচ্চ সম্মান ও মর্যাদা, সেই তুলনায় তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদীছ নিতান্ত অপ্রতুল। এর কারণ হলো, হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর তিনি খুব অল্প সময় পেয়েছিলেন। আর তাও কেটে যায় ইসলামী খিলাফতের গুরুদায়িত্ব বহনের মধ্য দিয়ে। তেমনিভাবে খলীফা 'আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান, খলীফা আবু জা'ফার আল-মানসূর ও আরো অনেকের নাম উল্লেখ করা যায়, যাঁরা ছিলেন বিশাল জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিত্ব, কিন্তু খিলাফত পরিচালনা ও রাজনীতির জটিল বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে জ্ঞান চর্চার অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় কারণ হলো অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ। চল্লিশটি বছর জীবনকালও পূর্ণ করে যেতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে ইমাম আয-যাহাবীর একটি উক্তি বিশেষ প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন: ৩৬৯
'আল-ওয়ালীদের খিলাফতকালে প্রথম মদীনার ওয়ালী নিযুক্ত হন এবং মদীনার মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন। সে সময় তাঁকে অত্যধিক ন্যায়পরায়ণ ও ভোগবিলাস বিমুখ বলে উল্লেখ করা হতো না। কিন্তু খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর আল্লাহ তাঁকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেন এবং তিনি নতুন রূপ ধারণ করেন। অতঃপর উত্তম চরিত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর নানা 'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা), দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ স্বভাবের জন্য হাসান আল-বসরী (রহ) এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে আয-যুহরীর (রহ) সাথে তাঁকে তুলনা করা হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর শিক্ষকদের কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় তাঁর জ্ঞানের প্রচার- প্রসার তেমন ঘটেনি।'

টিকাঃ
৩৬৯. ইবনুল জাওযী-১৮; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px