📄 কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এত হিসেবী ও মিতব্যয়ী ছিলেন যে, প্রতিদিনের খরচের জন্য তাঁর দুই দিরহামই যথেষ্ট ছিল। তবে অত্যন্ত উদারভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করেন। একবার জনৈক ব্যক্তি প্রতিবাদী কণ্ঠে তাঁকে বলেন, আপনি কর্মকর্তাদেরকে কয়েক শ' দীনার করে বেতন-ভাতা দেন, বরং ক্ষেত্র বিশেষে এর থেকেও বেশী দেন। এটা কিসের ভিত্তিতে দেন? তিনি বলেন, যদি তারা আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাতের উপর আমল করে তাহলে যা তাদেরকে দেওয়া হয় তা খুবই কম। আমি তাদেরকে জীবিকার ধান্দা এবং পরিবার-পরিজনের ঝগড়া-বিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে চাই। ৩৩০
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খিলাফতের দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর যখন নির্ভরযোগ্য সহযোগীদের খুঁজছিলেন তখন মায়মূন ইবন মিহরান তাঁকে বলেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আপনি হলেন একটি বাজারতুল্য। বাজারে সেই মালই আসে যা চলে। মানুষ যখন জেনে যাবে, আপনার এখানে কেবল ভালো মাল চলে তখন সবাই ভাল মালই নিয়ে আসবে। মায়মূনের কথা সত্যে পরিণত হয়। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন একজন সৎ মানুষ। তাই তাঁর চার পাশে সৎ মানুষের সমাবেশ ঘটে। এ সকল মানুষ যেন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের অস্তিত্বের ছায়াস্বরূপ ছিল। তাঁরই ইঙ্গিতে তাঁরা কর্মতৎপর হতো। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয প্রতিটি বিষয়ে কর্মকর্তাদেরকে উপদেশ দিতেন, আদেশ-নিষেধ করতেন, কাজ করতে উৎসাহ দিতেন ও বিরত থাকতে বলতেন। এ কারণে তাদের উপর তাঁর নৈতিকতার প্রভাব পড়তো। আবু বকর ইবন হাযম রাতেও কাজ করতেন। একাজ তিনি করতেন শুধুমাত্র 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের উৎসাহে। একবার একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা তাঁর নিকট একটি অভিযোগ উত্থাপন করে। জবাবে তিনি একটি উপদেশপূর্ণ পত্র লেখেন। পত্রটি তার উপর এতটা প্রভাব ফেলে যে, সে তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সান্নিধ্যে উপস্থিত হয় এবং বলে, আপনার পত্রটি পাঠ করে আমার অন্তর কাঁপতে আরম্ভ করে। এখন থেকে আমি আমার নিজের সেবার কাজে আর যাব না। ৩৩১
টিকাঃ
৩৩০. ইবনুল জাওযী-১৬৪
৩৩১. প্রাগুক্ত-১০০
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এত হিসেবী ও মিতব্যয়ী ছিলেন যে, প্রতিদিনের খরচের জন্য তাঁর দুই দিরহামই যথেষ্ট ছিল। তবে অত্যন্ত উদারভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করেন। একবার জনৈক ব্যক্তি প্রতিবাদী কণ্ঠে তাঁকে বলেন, আপনি কর্মকর্তাদেরকে কয়েক শ' দীনার করে বেতন-ভাতা দেন, বরং ক্ষেত্র বিশেষে এর থেকেও বেশী দেন। এটা কিসের ভিত্তিতে দেন? তিনি বলেন, যদি তারা আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাতের উপর আমল করে তাহলে যা তাদেরকে দেওয়া হয় তা খুবই কম। আমি তাদেরকে জীবিকার ধান্দা এবং পরিবার-পরিজনের ঝগড়া-বিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে চাই। ৩৩০
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খিলাফতের দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর যখন নির্ভরযোগ্য সহযোগীদের খুঁজছিলেন তখন মায়মূন ইবন মিহরান তাঁকে বলেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আপনি হলেন একটি বাজারতুল্য। বাজারে সেই মালই আসে যা চলে। মানুষ যখন জেনে যাবে, আপনার এখানে কেবল ভালো মাল চলে তখন সবাই ভাল মালই নিয়ে আসবে। মায়মূনের কথা সত্যে পরিণত হয়। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয ছিলেন একজন সৎ মানুষ। তাই তাঁর চার পাশে সৎ মানুষের সমাবেশ ঘটে। এ সকল মানুষ যেন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের অস্তিত্বের ছায়াস্বরূপ ছিল। তাঁরই ইঙ্গিতে তাঁরা কর্মতৎপর হতো। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয প্রতিটি বিষয়ে কর্মকর্তাদেরকে উপদেশ দিতেন, আদেশ-নিষেধ করতেন, কাজ করতে উৎসাহ দিতেন ও বিরত থাকতে বলতেন। এ কারণে তাদের উপর তাঁর নৈতিকতার প্রভাব পড়তো। আবু বকর ইবন হাযম রাতেও কাজ করতেন। একাজ তিনি করতেন শুধুমাত্র 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের উৎসাহে। একবার একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা তাঁর নিকট একটি অভিযোগ উত্থাপন করে। জবাবে তিনি একটি উপদেশপূর্ণ পত্র লেখেন। পত্রটি তার উপর এতটা প্রভাব ফেলে যে, সে তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সান্নিধ্যে উপস্থিত হয় এবং বলে, আপনার পত্রটি পাঠ করে আমার অন্তর কাঁপতে আরম্ভ করে। এখন থেকে আমি আমার নিজের সেবার কাজে আর যাব না। ৩৩১
টিকাঃ
৩৩০. ইবনুল জাওযী-১৬৪
৩৩১. প্রাগুক্ত-১০০
📄 বুদ্ধিমান কর্মকর্তা নিয়োগ
বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দেখেই তিনি কর্মকর্তা নিয়োগ দিতেন। এ ক্ষেত্রে বয়স কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না। একবার তিনি এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেন। বলা হলো, সে তো একেবারে তরুণ, ঠিক মত তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণের পর তিনি বললেন: আমার মনে হচ্ছে এত অল্প বয়সে তুমি এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তখন সেই তরুণ কর্মকর্তাটি নিম্নের চরণটি আবৃত্তি করে:
وليس يزيد المرء جهلا ولاعمى + إذا كان ذا عقل حداثة سنه.
'যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে বয়সের স্বল্পতা তার মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা বৃদ্ধি করতে পারে না।'
'উমার বললেন: কবি ঠিক বলেছে। তিনি সেই তরুণকে তার পদে বহাল রাখেন। ৩৩৬
টিকাঃ
৩৩৬. আল-ইকদ আল-ফারীদ-২/২৫
📄 কাতিব বা সচিবগণ
তাঁর যে সকল সচিবের নাম জানা যায় তাঁরা হলেন: উম্মুল হাকামের আযাদকৃত দাস আল-লাইছ ইবন আবী রুকাইয়া, আয-যুবায়রের আযাদকৃত দাস ইসমা'ঈল ইবন আবী হাকীম ও সুলায়মান ইবন সা'দ আল-খুশানী। দিওয়ানুল খারাজের সচিব ছিলেন এই সুলায়মান। আর-রাজা' ইবন হায়ওয়া ছিলেন তাঁর একান্ত সচিব। অনেক সময় 'উমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফরমান ও চিঠি-পত্র নিজেই লিখতেন। ৩৩৭
তাঁর পুলিশ বাহিনী প্রধান ছিলেন ইয়াযীদ ইবন বাশীর আল-হিলালী এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান 'আমর ইবন আল-মুহাজির। এই 'আমরকে আবুল 'আব্বাস আল-হিলালীও বলা হয়। খিলাফতের খাতাম (খাতাম) বা সীল-মোহরের দায়িত্বে ছিলেন ইবন আবী সালামা এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন সালিহ ইবন আবী জুবায়র। আমীরুল মু'মিনীনের সাথে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎকারের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতেন তাঁর দাস আবূ 'উবায়দা আল-আসওয়াদ। ৩৩৮
আল-ইয়া'কূবী বলেন তাঁর পুলিশ বাহিনী প্রধান ছিলেন তাঁর আযাদকৃত দাস রাওহ ইবন ইয়াযীদ আস-সাকসাকী। আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের উপর সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি ছিলেন এই রাওহ ও রাজা' ইবন হায়ওয়া আল-কিন্দী। ৩৩৯
টিকাঃ
৩৩৭. প্রাগুক্ত-৪/১৬৫
৩৩৮. প্রাগুক্ত-৪/৪৩২
৩৩৯. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩০৮
📄 যুদ্ধ-অভিযান
রাষ্ট্র ও ক্ষমতার ব্যাপারে 'উমারের দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ববর্তী খলীফাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। খিলাফতের বিস্তৃতি তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সংস্কার ও সংশোধন করা। এ কারণে তাঁর সময়ে সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায় যে বিষয়টি তা হলো সেনা অভিযান। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজন ছাড়া কোন আক্রমণাত্মক অভিযান তাঁর সময়ে খুব কমই হয়েছে। কেবল স্পেনের কিছু কিছু এলাকা ও সিন্ধুর কিছু অংশের বিজয় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন অঞ্চল তাঁর সময় বিজিত হয়নি।