📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 জেলখানার সংস্কার

📄 জেলখানার সংস্কার


রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে অপরাধীর অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি বিধান করা জরুরী। তবে বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে শাস্তির ধরন এবং অপরাধের অবস্থার ভিন্নতা হয়ে থাকে। ইসলাম যেহেতু একটি সুসভ্য ও সুসংগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে, এ কারণে কারাবন্দীদের সাথে এর বিধিবিধান ও আচরণে মানবিক দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা চলে এর সূচনা হয়েছে হযরত 'আলীর (রা) খিলাফতকাল থেকে। বায়তুল মাল থেকে তিনি কারাবন্দীদের পোশাক ও খাবার সরবরাহের নির্দেশ দেন। কারারুদ্ধ ব্যক্তি বিত্তশালী হলে তার নিজের অর্থ থেকে অন্ন- বস্ত্রের ব্যবস্থা করা হতো। অন্যথায় বায়তুল মাল থেকে তার জন্য খরচ করা হতো। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: ২৪৬
'কোন গোত্রে অথবা সম্প্রদায়ে কোন অপরাধী থাকলে 'আলী (রা) তাকে কারারুদ্ধ করতেন। তারপর সে বিত্তশালী হলে তার নিজের অর্থে তার অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করতেন। আর বিত্তহীন হলে বায়তুল মালের অর্থ থেকে তার জন্য খরচ করা হতো। তিনি বলতেন: তাদের মন্দ লোককে বন্দী করা হবে এবং তাদের অর্থে তার অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে।'

পরবর্তী খলীফাগণ যদিও এ নিয়ম চালু রাখেন, তবে হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) সময় পর্যন্ত এই নিয়মে নানা রকম দুর্নীতি ও অব্যবস্থা ঢুকে পড়ে।
১. কেবল মাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে খলীফা ওয়ালীদ মানুষকে গ্রেফতার করতেন এবং তাদেরকে হত্যার মতো কঠোর শাস্তি দিতেন।
২. যে সকল কয়েদী নিজের জন্মস্থান ও আত্মীয়-বন্ধুদের থেকে বহু দূরে কারাগারে মারা যেত তাদের লাশ দুই দিন পর্যন্ত কারাগারে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকতো। অবশেষে কারাগারের কয়েদীরা নিজেদের দান-সাদাকা সংগ্রহ করে শ্রমিকদের মাধ্যমে লাশটি কবরস্তান পর্যন্ত পৌছে দিত। তারা গোসল, কাফন ও জানাযা ছাড়াই দাফন করে দিত। ২৪৭
৩. ইসলাম যে সকল অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে তাতে তো কোন রকম পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যায় না, তবে ইসলাম তা'যীর তথা নিবর্তনমূলক শাস্তির কোন সীমা নির্ধারণ করেনি। বরং বিষয়টি শাসন-কর্তৃত্ব তথা সমকালীন ইমামের উপর ছেড়ে দিয়েছে। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) সময়ে এসে তা রীতিমত জুলুমে পরিণত হয়। কোন কোন শাসক এত কঠোরতা করতো যে, মামুলী ধরনের অপরাধ, এমনকি শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে তিনশো চাবুক পর্যন্ত মারতো। ২৪৮

হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এ সকল অন্যায় ও নিপীড়ন পদ্ধতি ও কর্মপন্থার দিকে দৃষ্টি দেন এবং এ জাতীয় সবকিছু দূর করেন। মূসেলে চুরি-ছ্যাঁচড়ামীর ঘটনা অত্যধিক বেড়ে যায়। তথাকার শাসক এ অপরাধ দমনের জন্য সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে শাস্তি দেবেন কিনা তা জানতে চেয়ে খলীফাকে পত্র লেখেন। জবাবে তিনি লিখলেন, রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ অনুযায়ী সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করবে। সত্য এবং সঠিক পন্থা যদি তাদেরকে সংশোধন করতে না পারে তাহলে আল্লাহ সংশোধন না করুন! ২৪৯

মৃত কয়েদীদেরকে কাফন-দাফন ছাড়াই ফেলে রাখার যে নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছিল তা যে কত বড় অপরাধ সে সম্পর্কে চিঠি লিখে আঞ্চলিক শাসনকর্তাদেরকে সতর্ক করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে যে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো, তিনি বলেন, মানবিক দিক দিয়ে এ কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ। শরী'আত প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ ছাড়া প্রতিটি মুসলমানের পিঠ সম্পূর্ণ নিরাপদ। তা'যীর তথা নিবর্তনমূলক শাস্তিও নির্ধারণ করে দেন। যার সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল তিরিশ বেত্রাঘাত। ২৫০

সাধারণভাবে তিনি এ নির্দেশ দেন যে, নামায আদায় করতে অসুবিধা হয়, কোন কয়েদীকে এমন ভারী বেড়ী পরানো যাবে না এবং কেবল মানুষ হত্যাকারী ছাড়া অন্য সকল কয়েদীর বেড়ী খোলা যাবে না। কয়েদীদেরকে যে খাদ্য-খাবার দেওয়া হতো সে ব্যাপারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসততার অভিযোগ শোনা যেত। তাই তিনি খাদ্যের পরিবর্তে প্রত্যেক কয়েদীর জন্য নির্ধারিত অর্থ মাসিক ভিত্তিতে প্রদানের নির্দেশ দেন। ২৫১ বিভিন্ন শ্রেণীর ও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার কয়েদীদের জন্য পৃথক পৃথক নির্দেশ জারী করেন। তিনি আঞ্চলিক শাসনকর্তাদেরকে লেখেন যে, কোন অসুস্থ কয়েদীর যদি আপনজন না থাকে অথবা তার নিকট অর্থ না থাকে তাহলে তাকে দেখাশুনা ও সেবাযত্ন করবে। ঋণ পরিশোধে অপারগতার কারণে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাকে অন্য ধরনের অপরাধীদের সাথে একই সেলে রাখবে না। মহিলাদেরকে পৃথকভাবে রাখবে। জেলারকে নির্দেশ দেন সৎ ও বিশ্বস্ত এমন কর্মচারী নিয়োগ দিতে, যে ঘুষ খায় না।

এ সকল সাধারণ নির্দেশ জারীর সাথে সাথে মদীনার ওয়ালী আবূ বকর ইবন হাযামকে (রহ) বিশেষভাবে লেখেন, তিনি যেন সপ্তাহে একদিন কারাগার পরিদর্শন করেন। এছাড়া অন্যান্য ওয়ালীগণকেও কয়েদীদের সাথে সদাচরণের কঠোর নির্দেশ দেন। ২৫২

জা'ফার ইবন বারকান বলেন: 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয আমাদেরকে লিখলেন : কারাগারে কোন মুসলমান কয়েদীকে এমনভাবে বেড়ী পরানো যাবে না যাতে সে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারে এবং একমাত্র মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী ছাড়া সকল কয়েদীর বেড়ী রাতে খুলে দিতে হবে। প্রত্যেক কয়েদীর জন্য এত পরিমাণ ভাতা নির্ধারণ করতে হবে যাতে সে পেট ভরে খেতে পারে। প্রত্যেক কয়েদীর প্রতিদিনের খাবার নির্ধারণ করে তার অর্থ মাসিক ভিত্তিতে তাকে দিতে হবে। তাদেরকে যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে রুটি সরবরাহ করা হয় তাহলে কারাগারের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও পুলিশ তাতে ভাগ বসাবে। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একজন সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করতে হবে, সে ভাতা প্রাপ্ত কয়েদীদের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করবে এবং সে খাতা তার হিফাজতেই থাকবে। সে প্রত্যেক মাসে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে একজন একজন করে কয়েদীর নাম ধরে জোরে ডাকবে এবং সে এসে নিজ হাতে তার ভাতা গ্রহণ করবে। যারা মুক্তি পাবে তাদের ভাতা বন্ধ করে দিতে হবে। প্রত্যেক কয়েদীকে মাসিক দশ দিরহাম করে দিতে হবে। তবে সকল কয়েদীকে ভাতা দানের প্রয়োজন নেই।

শীতকালে প্রত্যেক কয়েদী একটি জামা ও একটি কম্বল এবং গরমকালে একটি জামা একটি লুঙ্গি পাবে। মহিলা কয়েদীরাও এটা পাবে, তবে তারা হিজাবের জন্য একটি বোরকাও পাবে। কয়েদীরা ডাণ্ডাবেড়ী পরে হেলতে-দুলতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে দান-সাদাকা কুড়ায় তা থেকে তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে। কারণ, এ একটি বড় অন্যায় যে, মুসলমানদের একটি দল তাদের কোন অপরাধের কারণে বন্দী হয়ে এভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দান-সাদাকা সংগ্রহ করে। আমার ধারণা অমুসলিমরাও মুসলিম কয়েদীদের সাথে এমন আচরণ করবে না। তাহলে মুসলমান কয়েদীদের সাথে আমাদের এ আচরণ কেমন করে বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত হতে পারে?

এই কয়েদীরা মারাত্মক ক্ষুধার কারণে এভাবে ডাণ্ডাবেড়ী ধারণ করে মানুষের দ্বারে যায়। কখনো হয়তো কিছু পায়, আবার কখনো পায় না। কোন মানুষই পাপমুক্ত নয়। তাদের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে এবং আমার নির্দেশ মতো ভাতা দিতে হবে। কোন কয়েদী মারা গেলে তার কোন আত্মীয়-বন্ধু না থাকলে বায়তুল মালের খরচে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। তার জানাযার নামায আদায় করার পর দাফন করতে হবে। বিশ্বস্ত সূত্রে আমি জানতে পেরেছি যে, আত্মীয়-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন দূরের কোন কয়েদী মারা গেলে দু'দিন পর্যন্ত তার লাশ কারাগারে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। এমনকি দাফনের জন্য যখন ওয়ালীর অনুমতি পাওয়া যায় তখন অন্য কয়েদীরা নিজ উদ্যোগে তার দাফনের জন্য দান-সাদাকা সংগ্রহ করে এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগকৃত মজুরের মাধ্যমে লাশটি গোরস্তানে পৌঁছানো হয়। তখন তাকে গোসল-কাফন ও জানাযা ছাড়াই দাফন করা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এ একটা মারাত্মক অপরাধ। এখন যদি তোমরা আল্লাহর হদ তথা নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ কর তাহলে কয়েদীর সংখ্যা কমে যাবে, চোর-ডাকাত, গুণ্ডা-বদমায়েশ ভয় পেতে থাকবে এবং তারা অপরাধ থেকে বিরত থাকবে। যথাযথ পর্যবেক্ষণের অভাবেই কয়েদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এরা কেবল বন্দীই আছে, তাদের কোন তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ নেই। প্রত্যেকে নিজের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিবে, তারা যেন প্রতিদিন কয়েদীদের তত্ত্বাবধান করে। যাদের সংশোধন কেবল সৎ উপদেশ দ্বারা হয়, তাদেরকে উপদেশ দিয়ে মুক্তি দিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই তাদেরকে একেবারে মুক্তি দিতে হবে। তা'যীর তথা নিবর্তনমূলক শাস্তি দানের ক্ষেত্রে যেন সীমালংঘন করা না হয়। আমি জানতে পেরেছি যে, কেউ কেউ সন্দেহ ভাজন অপরাধীকে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে দু'তিন শো' অথবা কিছু কম-বেশী চাবুক মেরে থাকে। কিন্তু একাজ সম্পূর্ণ অবৈধ। শরী'আত নির্ধারিত শাস্তি ছাড়া মুসলমানদের পিঠ সর্বঅবস্থায় সংরক্ষিত। আমি জেনেছি কোন কোন কর্মকর্তা মানুষকে বেত্রাঘাত করে। অথচ রাসূল (সা) নামাযীদেরকে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। ২৫৩

আধুনিক যুগে কারাগার ও কয়েদীদের সংশোধন ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য যে সকল নীতিমালা গ্রহণ করা হয় তার সাথে প্রায় সাড়ে তের শো' বছর পূর্বে জারী করা 'উমারের (রহ) উপরোক্ত ফরমানটি তুলনা করলে বুঝা যায়, যে কোন বিচারেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশী আধুনিক ও উন্নত মানের।

টিকাঃ
২৪৬. কিতাবুল খারাজ-১৫০
২৪৭. প্রাগুক্ত-৮৯
২৪৮. প্রাগুক্ত
২৪৯. ইবনুল জাওযী-৯৭
২৫০. কিতাবুল খারাজ-১৫০; তাবাকাত-৫/৩৮৪
২৫১. কিতাবুল খারাজ-১৫০
২৫২. তাবাকাত-৫/২৬৩, ২৮৮
২৫৩. কিতাবুল খারাজ-১৫০-১৫১; জামহারাতু রাসায়িল আল-'আরাব-২/২৯৮

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা

📄 আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা


কোন ঘটনার যথার্থতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো তার সম্পর্কে অতিরঞ্জিত নানা কথা ছড়িয়ে পড়া। 'উমার ইবন 'আবদিল আযীযের 'আদল-ইনসাফের ঘটনাবলী এই মাপকাঠির ভিত্তিতে ঠিকভাবেই উৎরে যায়। কবিরা যখন তাঁদের কবিতায় কোন রাজা- বাদশার 'আদল-ইনসাফের অতিরঞ্জিত প্রশংসা করে তখন বলে, তার সময়ে নেকড়ে ও মেষ একসাথে পানি পান করে। কখনো এর চেয়ে আরো একটু বাড়িয়ে বলা হয় "নেকড়ে মেষ পালের রাখালী করে।" হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময় এই অতিরঞ্জন বাস্তবরূপ লাভ করে এবং সে সম্পর্কে বহু বানোয়াট ও অতিরঞ্জিত কাহিনীর সৃষ্টি হয়। যেমন মূসা ইবন 'আয়ান বলেছেন, আমরা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে ছাগল চরাতাম। নেকড়েও আমাদের সাথে চরতো। কিন্তু এক রাতে নেকড়ে একটি ছাগলকে আক্রমণ করে বসে। তখন আমি বললাম, নিশ্চয় সেই সৎ লোকটি মারা গেছেন। পরে দেখা গেল বাস্তবে সেই রাতে 'উমার ইনতিকাল করেছেন। ২৫৪

এখন আমাদের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে বলতে হবে এই অতিরঞ্জনের মধ্যে সত্য ও বাস্তবতার পরিমাণ কতটুকু? 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালের পূর্বে : ১. জনসাধারণের অর্থ-সম্পদ জোর করে অন্যায়ভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছিল। ২. বিশ্ব মুসলিমের পরম প্রিয় বানু হাশিমের সকল অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ৩. চরম খুনী ও রক্ত পিপাসু সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছিল। ৪. নিতান্ত ধারণা ও সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে শাস্তি দেওয়া হতো এবং পুরুষের বদলে নারীদেরকে গ্রেফতার করা হতো। ৫. কোন রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই জনগণকে বেগার খাটানো হতো।

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খিলাফতের মসনদে আসীন হয়েই এই সকল অন্যায়- অবিচারের মূলোৎপাটন করে আদল-ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। ঐতিহাসিক ইয়া'কুবী লিখেছেন: ২৫৫
'উমার ইবন 'আবদিল আযীয নিজ খান্দানের কর্ম পদ্ধতিকে বদলে দেন এবং তাঁর নাম দেন জুলুম-অত্যাচার। তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের লেখেন যে, মানুষ আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে সেইসব অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে যারা খুব কমই সত্য-সততা, কোমলতা ও উপকারের পথ ও পন্থা অনুসরণ করেছে, বিপদ, কঠোরতা ও জুলুম-অত্যাচারে নিপতিত হয়েছে। আর তারা তাদের উপর খারাপ রীতি-পদ্ধতি চালু করেছে।'

এ কারণে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম জনসাধারণের অধিকারের প্রতি মনোযোগ দেন এবং অন্যায়ভাবে জোর-জবরদস্তী দখলকৃত সকল সম্পদ তাঁর প্রকৃত মালিককে ফেরত দেন।

টিকাঃ
২৫৪. ইবনুল জাওযী-৭০; 'আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার ইবন 'আবদিল আযীয-১৭০
২৫৫. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩০৫

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 বানূ হাশিমের প্রতি বিদ্বেষ দূরীকরণ ও তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা

📄 বানূ হাশিমের প্রতি বিদ্বেষ দূরীকরণ ও তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা


হযরত নবী কারীমের (সা) বংশ বানু হাশিমের অধিকার হরণের সূচনা হয় হযরত আমীর মু'আবিয়ার (রা) সময় থেকে। ফাদাক- যা ছিল হযরত রাসূলে কারীমের (সা) একান্ত অধিকারভুক্ত এবং যার আয় থেকে তিনি বানু হাশিমকে সাহায্য করতেন, সেটা হযরত মু'আবিয়া (রা) মারওয়ানকে দান করেন। ২৫৬ খুমুস (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ), যা ছিল বানু হাশিমের একক অধিকারের, তাও তিনি কেড়ে নেন। তবে 'উমার ইবন 'আবদিল আযীয খিলাফতের দায়িত্ব লাভের পূর্বে ওয়ালীদ ও সুলায়মান ইবন 'আবদিল মালিকের, যখন তাঁরা খিলাফতের মসনদে আসীন ছিলেন, এই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু তাঁরা উভয়ে বানু হাশিমের এ অধিকার ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। তাই তিনি খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণের পরই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হন এবং নিজের অতীত পরামর্শকে বাস্তবায়িত করেন। ফাদাকের ব্যাপারে আবূ বকর ইবন হাযমকে লেখেন; অনুসন্ধানের পর জানা গেছে ফাদাকের আয় ভোগ করা আমার জন্য বৈধ নয়। এ ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত হলো, রাসূলুল্লাহর (সা) সময়কালে, আবু বকর, 'উমার ও 'উছমানের (রা) খিলাফতকালে তা যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দিই। পরে যা কিছু হয়েছে তা পরিহার করি। খুমুসের ব্যাপারেও তিনি অনুসন্ধান করেন এবং আবূ বকর ইবন হাযমের নিকট পাঁচ হাজার দীনারসহ একটি পত্র পাঠান। পত্রে তিনি লেখেন: এর সঙ্গে আরো পাঁচ হাজার যোগ করে বানু হাশিমের নারী-পুরুষ, ছোট- বড় সকলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করুন। যদিও এতে যায়দ ইবন হাসান ভীষণ অসন্তুষ্ট হন এবং মন্তব্য করেন : আমাদেরকে বান্দী-দাসীদের সমান করা হয়েছে। কিন্তু 'উমার তার কোন পরোয়া করেননি।

'আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন 'আকীলের একটি বর্ণনা আছে যে, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয প্রথমবারের মত কিছু অর্থ নবী-খান্দানের মধ্যে বণ্টন করেন। তাঁতে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু সকলে সমানভাবে অংশীদার ছিল। প্রত্যেকে তিন হাজার দীনার করে লাভ করেছিল। তিনি একটি পত্রে একথাও লিখে পাঠান যে, আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে আপনাদের সব অধিকারই ফিরিয়ে দেব।

নবী-খান্দানের উপর তাঁর এ অনুগ্রহের বিরাট প্রভাব পড়ে। তাঁরা তাঁর প্রবল সমর্থকে পরিণত হন। যেমন, একদিন 'আলী ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) ও আবূ জা'ফার ইবন 'আলী বসে আছেন। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে 'উমার ইবন 'আবদিল আযীযের দুর্নাম করতে আরম্ভ করে। তাঁরা তাকে 'উমারের নিন্দা-মন্দ করতে নিষেধ করেন এবং বলেন আমীর মু'আবিয়ার (রা) সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমরা "খুমুস” থেকে বঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয 'আবদুল মুত্তালিবের বংশধরদের মধ্যে তা বণ্টন করেছেন।

হযরত ফাতিমা বিনত হুসাইন (রা) একটি পত্র লেখেন। তাতে তিনি বলেন, আমীরুল মু'মিনীন খুলাফায়ে রাশেদীনের অনুসরণে আমাদের জন্য যে অর্থ পাঠিয়েছেন এবং আমাদের মধ্যে যা বণ্টিত হয়েছে আল্লাহ তা'আলা সেজন্য আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমাদের প্রতি জুলুম করা হচ্ছিল এবং আমাদের প্রতি ইনসাফ করা আপনার দায়িত্ব ছিল। হে আমীরুল মু'মিনীন! নবী-খান্দানের যাদের চাকর ছিল না তারা এখন চাকর রাখতে পেরেছে, যাদের কাপড় ছিল না, তারা কাপড় পেয়েছে, আর যাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য অর্থ ছিল না তারা সে অর্থ পেয়েছে।

হযরত ফাতিমা বিনত হুসায়নের (রা) এ পত্র নিয়ে 'উমারের নিকট এলে তিনি দারুণ খুশী হন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং পত্র-বাহক দূতকে দশ দীনার বখশীশ হিসেবে দান করেন। দূতকে বিদায় দেওয়ার সময় তার হাতে আরো পঞ্চাশ দীনার ও একটি পত্র ধরিয়ে দিয়ে বলেন, এগুলো ফাতিমাকে দিবে। পত্রে তিনি ফাতিমাকে লেখেন, এই দীনারগুলো আপনার প্রয়োজনে ব্যয় করুন।

তিনি আহলি বায়তের লোকদের অত্যন্ত সম্ভ্রমের দৃষ্টিতে দেখতেন। একবার তাঁর মজলিসে ফাতিমা বিনত আল-হুসায়নের (রা) আলোচনা উঠলো। যখন কেউ একজন বললো, ফাতিমা মন্দ কাজ করা তো দূরের কথা, মন্দ কি তাও তিনি জানেন না। সাথে সাথে উমার মন্তব্য করলেন, মন্দ না জানাই মন্দ থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ২৫৭

উমাইয়্যা খান্দানের হাতে খিলাফতের দায়িত্বভার আসার পর থেকে জুম'আর খুতবায় আমীরুল মু'মিনীন হযরত 'আলীর (রা) প্রতি লা'নত তথা অভিশাপ দানের যে রীতি চলে আসছিল 'উমার তা পরিহার করার এবং তদস্থলে আল-কুরআনের নিম্নের আয়াতটি পাঠ করার নির্দেশ দেন: ২৫৮
'আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎকর্ম ও সীমালংঘন, তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।' ২৫৯

অনেকে বলেন, 'আলীর (রা) ব্যাপারে 'উমার তাঁর পিতা 'আবদুল 'আযীযের পথ অনুসরণ করেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি 'আলীকে (রা) অভিশাপ দিতেন না। খুতবা দানের সময় 'আলীর (রা) প্রসঙ্গ এলে তো তো করে তোৎলামির ভান করতেন। একদিন 'উমার তাঁর পিতার এমন আচরণের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন : বেটা! 'আলী সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, জনগণ যদি ততটুকু জানে তাহলে তারা আমাদেরকে ছেড়ে তাঁর সন্তানদের দিকেই চলে যাবে। সম্ভবতঃ পিতার এ কথায় পুত্র 'উমার দারুণ প্রভাবিত হন। ২৬০

নবী-খান্দানের প্রতি 'উমারের এমন উদার ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণে জনসাধারণ দারুণ খুশী হয়। মানুষ তাঁর এ কাজকে একটি মহৎ কাজ বলে বিবেচনা করে এবং তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়ে। সেকালের আরব কবিগণও তাঁদের কবিতায় তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিখ্যাত কবি কুছায়্যির 'আয্যা (মৃ. হি. ১০৫/খ্রী. ৭২৩) তাঁর একটি কবিতায় বলেন:
'আপনাকে খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়া হলো, আলীকে গালি দিলেন না, সৃষ্টি জগতের কাউকে ভয় দেখালেন না এবং কোন অপরাধীর কথাও মানলেন না। আপনি স্পষ্ট সত্য উচ্চারণ করলেন। আর আপনি তো কথার মাধ্যমে সত্য-সঠিক পথের নিদর্শনাবলী ব্যাখ্যা করেন। আপনি আপনার কর্মের দ্বারা কথাকে সত্যে পরিণত করলেন। ফলে প্রত্যেকটি মুসলমান সন্তুষ্ট হলো। জেনে রাখুন, একজন যুবকের সত্য থেকে বিচ্যুতির পর যেভাবে ধারালো ও সোজা করার যন্ত্র দিয়ে তীর সোজা ও ধারালো করা হয় তেমনি তার জন্য একটু প্রচেষ্টাই যথেষ্ট।'
কবি কুছায়িয়র 'উমারকে এ কবিতাটি শোনালে তিনি মন্তব্য করেন : إِذَا أَفْلَحْنَا তাহলে আমরা সফল হয়েছি। ২৬১

টিকাঃ
২৫৬. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩৬৬
২৫৭. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৩/১২
২৫৮. ড. 'উমার ফাররূখ, তারীখ আল-আদাব আল-'আরাবী-১/৬০৪
২৫৯. সূরা আন-নামল: ৯০
২৬০. ড. হাসান ইবরাহীম হাসান, তারীখ আল-ইসলাম-১/৩৩০
২৬১. আল-কামিল ফিত তারীখ-৫/৪২-৪৩; ড. 'উমার ফাররূখ, তারীখ-১/৬২০

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 অত্যাচারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বরখাস্তকরণ

📄 অত্যাচারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বরখাস্তকরণ


অন্যায়ভাবে জোর-জবরদস্তী দখলকৃত সম্পদ ফেরত দান ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদল- ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ করার পর তার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক কাজ ছিল কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জুলুম-অত্যাচারের প্রতিবিধান করা। অবশ্য তাঁর পরামর্শ মত খলীফা সুলায়মানের সময়কালেই বহুলাংশে এর প্রতিবিধান হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও কিছু প্রভাব বিদ্যমান ছিল। উমাইয়্যা শাসনকালে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, তার গোটা খান্দান এবং তার অধীনের কর্মকর্তারা ছিল সবচেয়ে বেশী বেপরোয়া ও জঘন্য ধরনের অত্যাচারী-উৎপীড়ক।

খলীফা 'আবদুল মালিক ও তাঁর পুত্র আল-ওয়ালীদের খিলাফতকালের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের মত চরম অত্যাচারীর দীর্ঘ বিশ বছর যাবত গভর্ণর থাকা। কিরাত শাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম 'আসিম ইবন আবী আন-নাজুদ (রহ) বলেন : 'আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজসমূহের মধ্যে এমন কোন কাজ ছিল না যা সে করেনি।' 'উমার ইবন 'আবদিল আযীয (রহ) বলতেন: 'যদি দুনিয়ার সকল জাতি-গোষ্ঠী পাপাচারের প্রতিযোগিতা করে এবং নিজেদের সকল কপট পাপাচারীকে এনে দাঁড় করায় তাহলে আমরা কেবল হাজ্জাজকে দাঁড় করিয়ে তাদের সকলের উপর জয় লাভ করতে পারবো।' ২৬২ তার সময়ে আদালতের বিচার- ফয়সালা ছাড়া বন্দী অবস্থায় যাদের হত্যা করা হয়েছে, বলা হয়, কেবল তাদের সংখ্যা এক লাখ বিশ হাজার। যখন সে মারা যায় তখন তার কারাগারে আশি হাজার নির্দোষ মানুষ বন্দী ছিল যাদেরকে কখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। ২৬৩ হাজ্জাজের মৃত্যুর খবর শুনে 'উমার সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। তিনি আল্লাহর নিকট দু'আ করতেন, হাজ্জাজের মৃত্যু যেন তার বিছানায় হয়, যাতে আখিরাতে সে কঠিন শাস্তি লাভ করে।

হাজ্জাজের মৃত্যুর পর মানুষ শোক প্রকাশের জন্য খলীফা ওয়ালীদের নিকট আসে। তারা তাদের শোক প্রকাশ ও হাজ্জাজের প্রশংসায় অনেক কথা বলে। সেখানে 'উমার উপস্থিত ছিলেন। ওয়ালীদ তাঁর দিকে তাকালেন যাতে মানুষে যা বলছে সেও যেন তেমন কিছু বলে। 'উমার বললেন : আমীরুল মু'মিনীন! হাজ্জাজ আমাদের মধ্যকার একজন মানুষই ছিল। ২৬৪

খলীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আবদিল মালিকের দরবারে একবার 'উমার ইবন 'আবদিল আযীযের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়ালী, বিশেষতঃ হাজ্জাজের জুলুম-অত্যাচারের প্রসঙ্গ ওঠে। 'উমার তখন বললেন: ২৬৫
'ইরাকে হাজ্জাজ, শামে ওয়ালীদ, মিসরে কুররা ইবন শারীক, মদীনায় 'উছমান ইবন হায়‍্যান, মক্কায় খালিদ ইবন 'আবদিল্লাহ আল-কাসারী- ইয়া আল্লাহ! জুলুম-অত্যাচারে এ দুনিয়া ভরে গেছে, তুমি মানুষকে শান্তি দাও।'

'আল্লাহ 'উমারের দু'আ কবুল করেন। এর এক মাসের মধ্যে হাজ্জাজ ও কুররা মৃত্যুবরণ করে, তার অল্প কিছু দিন পর মারা যায় আল-ওয়ালীদ। অতঃপর 'উছমান ও খালিদকে বরখাস্ত করা হয়।' অপর একটি বর্ণনায় ইয়ামনে মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফের কথাও এসেছে। ২৬৬

'উমার ইবন 'আবদিল আযীয (রহ) এই জুলুম-অত্যাচার নির্মূল করার দিকে মনোযোগী হওয়ার পর হাজ্জাজের গোটা খান্দানকে ইয়ামনে নির্বাসন দেন। তারপর সেখানের ওয়ালীকে লেখেন যে, তোমাদের নিকট ঐ বংশের খান্দানকে- যেটি আরবের নিকৃষ্ট খান্দান, পাঠালাম। তাদেরকে একস্থানে থাকার সুযোগ না দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাও। তিনি হাজ্জাজের নিজ গোত্রের লোক অথবা যারা তার অধীনে কোন কাজ করেছে তাদেরকে সবরকম রাষ্ট্রীয় অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার নির্দেশ দেন। ২৬৭

টিকাঃ
২৬২. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/৪৯
২৬৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/২, ৮৩, ৯১, ১২৮, ১২৯, ১৩১, ১৩৮; আল-কামিল ফিত তারীখ- ৪/২৯, ১৩৩; খিলাফত ও মুলুকিয়াত-১৮৬
২৬৪. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/৫৫, ৫৭
২৬৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/৮৯; খিলাফত ও মুলুকিয়াত-১৮৭
২৬৬. আল-কামিল ফিল লুগা ওয়াল আদাব-১/৮৭, ১২৩
২৬৭. ইবনুল জাওযী-১১৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px