📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 খেল-তামাশা ও মাতমের উপর নিষেধাজ্ঞা

📄 খেল-তামাশা ও মাতমের উপর নিষেধাজ্ঞা


ইসলামী শরী'আত যে সকল জিনিসের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, 'উমার অত্যন্ত কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করতেন। একবার তিনি জানতে পারেন যে, বহু মুসলমান খেল-তামাশায় মত্ত থাকে এবং বহু মুসলিম নারী লাশের খাটিয়ার পিছনে পিছনে মাথার চুল ছিঁড়ে, বুক চাপড়িয়ে মাতম করতে করতে চলতে থাকে। তিনি সকল আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নামে একটি সাধারণ ফরমান জারী করেন। সেই ফরমানটির সারকথা নিম্নরূপ:
'আমি অবগত হয়েছি যে, নির্বোধ লোকদের নারীরা তাদের কোন আপনজনদের মৃত্যুর সময় জাহিলী যুগের নারীদের মতো মাথার চুল ছেড়ে দিয়ে মাতম করতে করতে ঘর থেকে বের হয়। অথচ নারীদেরকে আঁচল টেনে চলতে বলা হয়েছে এবং ওড়না ফেলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই মাতমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। এই অনারব লোকেরা, যাদের দৃষ্টিতে শয়তান কয়েকটি জিনিস পসন্দনীয় করে দিয়েছিল, তাদের অন্তরকে সেদিকে আকৃষ্ট করেছিল। সুতরাং মুসলমানদেরকে এই খেল-তামাশা, গান- বাজনা থেকে বিরত রাখ। যে বিরত না হবে তাকে ইনসাফমূলক শাস্তি দাও।'
হাম্মামের দেওয়ালে ছবি অঙ্কন করা হতো। আর এটা ছিল ইসলামী শরী'আতের মূল নীতির পরিপন্থী। একবার তিনি একটি হাম্মামে এ ধরনের চিত্র দেখে তা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যদি এই চিত্রকরের পরিচয় জানা যেত তাহলে আমি তাকে শাস্তি দিতাম।
ইসলামে বৈরাগ্যবাদের কোন স্থান নেই। তা সত্ত্বেও তিনি অনারবদের মতো বিলাসী জীবন-যাপন করাকেও বৈধ মনে করতেন না। রাসূলুল্লাহ (সা) যদিও কেশ পরিচর্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে তার উদ্দেশ্য এই নয় যে, মাথার চুল ফুলিয়ে ট্যারা কেটে দু'দিকে ঝুলিয়ে দেবে। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময়ে এ ধরনের সৌখিন কেশ পরিচর্যাকারী সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেন, তারা জুম'আর দিন নামাযের সময় মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং এ রকম সৌখিন কেশ পরিচর্যাকারীকে মসজিদ থেকে বের হতে দেখলেই ধরে তার চুল কেটে দেবে। ২৪৩
আরবদের জাতীয় বৈশিষ্ট্য যাতে বিনষ্ট হতে না পারে সে ব্যাপারে হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন। যেমন একবার তিনি অবগত হলেন যে, কিছু লোক যখন সামনে তশতরী রেখে ওযু করে তখন তা ভরে যাওয়ার আগেই পানি ফেলে দেয়। তিনি 'আদী ইবন আরতাতকে লিখলেন যে, এটা অনারব কৃষ্টি। এখন থেকে যতক্ষণ তশতরী ভরে না যাবে অথবা সব মানুষের ওযু শেষ না হবে, পানি ফেলা যাবে না।

টিকাঃ
২৪৩. তাবাকাত-৫/৩৮২

ফন্ট সাইজ
15px
17px