📄 যিম্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা
কোন রাষ্ট্র বা সরকারের আদল-ইনসাফ ও জুলুম-অত্যাচারের একটি বড় মাপকাঠি হলো অন্য সম্প্রদায় ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংগে তার আচরণ ও কর্মপদ্ধতি। এই মাপকাঠিতেও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) আমল ছিল আগাগোড়া আদল-ইনসাফে পরিপূর্ণ। যেভাবে তিনি যিম্মীদের অধিকার সংরক্ষণ করেন এবং তাদের সঙ্গে যেমন কোমল আচরণ করেন তার উদাহরণ কেবল দ্বিতীয় খলীফা হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) খিলাফতকাল ছাড়া আর কোন কালে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের মত তাদেরও জান-মালের হিফাজত করেন। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় কোন রকম হস্তক্ষেপ করেননি, তাদের নিকট থেকে জিযিয়া আদায়ে অত্যন্ত নমনীয় ও সহজ পন্থা অবলম্বন করেন। খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট সময় সময় তিনি যিম্মীদের সম্পর্কে যে সকল উপদেশাবলী লিখে পাঠাতেন তাতেই তাঁর এ সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
একবার 'আদী ইবন আরতাতকে লিখলেন, যিম্মীদের সাথে নমনীয় ব্যবহার করবেন। তাদের মধ্যে যারা বৃদ্ধ ও অসহায় হয়ে পড়বে তাদের দেখাশুনা করবেন। তাদের কোন আত্মীয়-স্বজন থাকলে দেখাশুনার নির্দেশ দিবেন। যেমন আমাদের কোন দাস বৃদ্ধ হয়ে গেলে তাকে মুক্ত করে দিতে হয় অথবা আমরণ তার দেখাশুনা ও সেবা করতে হয়।
যিম্মীর রক্তের মূল্য মুসলমানদের রক্তের সমান করে দেওয়া হয়। একবার হীরার একজন মুসলমান একজন যিম্মীকে হত্যা করে। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সেখানের ওয়ালীকে লিখলেন, হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের নিকট অর্পণ কর। তারা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা অথবা মাফ করে দিতে পারে। খলীফার নির্দেশ মত কাজ করা হয় এবং নিহত যিম্মীর বদলা হিসেবে ঘাতককে হত্যা করা হয়।
কোন মুসলমান কোন যিম্মীর অর্থ-সম্পদের প্রতি অবৈধভাবে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস করতো না। কেউ এমন করলে তাকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হতো। একবার রাবী'আ শা'উযী নামে একজন মুসলমান একটি সরকারী কাজে বিনা ভাড়ায় একজন নাবাতী যিম্মীর একটি ঘোড়া ধরে নেয় এবং তার পিঠে আরোহণ করে। 'উমার তাকে এজন্য চল্লিশটি চাবুক মারেন। ১৮৬
একবার তাঁর একজন কর্মকর্তা একজন যিম্মীর নিকট থেকে কিছু জ্বালানী কাঠ নিলে তিনি কাঠের মালিক যিম্মীকে ন্যায্য মূল্য পরিশোধের নির্দেশ দেন। ১৮৭
জবর দখলকৃত সম্পত্তি ফেরতদানের সময় যিম্মীদের ভূ-সম্পত্তিও ফেরত দেওয়া হয়। 'আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ ও এক যিম্মীর এ সম্পর্কিত একটি বিরোধের ঘটনায় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যে সিদ্ধান্ত দান করেন তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী খলীফাদের সময়ে তাদের ধর্মীয় অধিকার বলতে তেমন কিছু অবশিষ্ট ছিল না। তিনি আবার নতুন করে তাদের সে অধিকার দান করেন। দিমাশকে দীর্ঘদিন ধরে একটি গীর্জা একটি মুসলিম খান্দানের জমিদারীতে চলে আসছিল। খৃস্টানরা সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) নিকট দাবী জানায়। তিনি ফিরিয়ে দেন। একজন মুসলমান একটি গীর্জা সম্পর্কে দাবী করে যে সেটি তার জমিদারীর মধ্যে। 'উমার বললেন, যদি এটি খৃস্টানদের চুক্তির মধ্যে পড়ে তাহলে তুমি তা পেতে পার না। ১৮৮
দিমাশকে খৃস্টানদের সবচেয়ে বড় গীর্জাটি ছিল ইউহান্না। হযরত আমীর মু'আবিয়া (রা) ও 'আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান এটি সর্বাধিক মূল্যে ক্রয় করে মসজিদে ঢুকিয়ে নিতে চান। কিন্তু খৃস্টানরা রাজী হলো না। খলীফা ওয়ালীদও চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে তিনি জোরপূর্বক গীর্জাটি ভেঙ্গে ফেলে মসজিদের অংশ বানিয়ে ফেলেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খলীফা হওয়ার পর খৃস্টানরা উক্ত গীর্জাটি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানায়। তিনি গীর্জাটি তাদের ফিরিয়ে দেন। এতে মুসলমানরা ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়। অবশেষে তিনি গোতে নামক স্থানের সকল গীর্জা খৃস্টানদের হাতে অর্পণ করে উক্ত গীর্জাটির উপর থেকে তাদের দাবী প্রত্যাহারে সম্মত করান। ১৮৯
জিযিয়া আদায়ে যত অনিয়ম চালু হয়েছিল তিনি তা সব বন্ধ করে দিয়ে সহজ পদ্ধতি চালু করেন। ইবনু আশ'আছকে তার বিদ্রোহে সহযোগিতার অভিযোগে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ইরাকের যিম্মীদের জিযিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। 'উমার তা আবার কমিয়ে দেন। ১৯০
টিকাঃ
১৮৬. তাবাকাত-৫/২৭৬; ইবনুল জাওযী-১০২, ১০৫
১৮৭. আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার-১৬৬
১৮৮. আল-বালাযুরী, ফুতুহুল বুলদান-১৩০
১৮৯. প্রাগুক্ত
১৯০. প্রাগুক্ত
📄 জনগণের আয় ও সচ্ছলতা বৃদ্ধি
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) এ এক বড় বরকত যে, অবৈধ আয়ের সকল উৎস বন্ধ এবং ব্যয়ের কল্যাণমূলক খাতের বৃদ্ধি সত্ত্বেও বায়তুল মালের উপর তেমন বিশেষ কোন প্রভাব পড়েনি। বরং কোন কোন প্রদেশের রাজস্ব আয় বিস্ময়করভাবে বেড়ে যায়। ইরাকের আয় হাজ্জাজের জুলুম-অত্যাচারের সময়ের চেয়েও বেড়ে যায়। জুলুম-অত্যাচার বন্ধকরণ, বেআইনী ট্যাক্স-কর রহিতকরণ, যিম্মীদের সাথে সদাচরণ এবং ব্যাপক দান-খায়রাত সত্ত্বেও দেশের আর্থিক অবস্থার দারুণ উন্নতি ঘটে এবং জনসাধারণের সচ্ছলতাও বৃদ্ধি পায়। দেশের কোথাও অভাব ও দারিদ্র্যের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল না। মুহাজির ইবন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন যে, আমরা যাকাতের অর্থ বণ্টন করতাম। দেখতাম, এ বছর যারা যাকাত নিচ্ছে পরের বছর তারাই অন্যকে যাকাত দিচ্ছে।
হযরত যায়দ ইবন আল-খাত্তাবের (রা) বংশধরদের একজন বলেন : ১৯১
"উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) মাত্র আড়াইবছর খিলাফতের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এ স্বল্প সময়ে অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, মানুষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিকট তাদের যাকাতের অর্থ নিয়ে আসতো ফকীর-মিসকনদের মধ্যে বণ্টনের জন্য। কিন্তু কোন প্রার্থীকে পাওয়া যেত না। ফলে সে অর্থ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। তাঁর সময়ে মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা এত বৃদ্ধি পায় যে, কোথাও কোন অভাবী মানুষ ছিল না।"
ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন: ১৯২
"بعثني عمر بن عبد العزيز على صدقات إفريقية فاقتضيتها وطلبت فقراء نعطيها فلم نجدبها فقيرا ، ولم نجد من يأخذها مني قد أغنى عمر بن عبد العزيز الناس، فاشتريত بها رقابا فاعتقتهم، وولاؤهم للمسلمين.
"উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) আমাকে যাকাত আদায় ও বণ্টনের জন্য আফ্রিকায় পাঠালেন। আমরা যাকাত আদায় করলাম, তারপর বণ্টনের জন্য গরীব-মিসকীন খোঁজাখুঁজি করলাম। কিন্তু কোথাও কোন ফকীর-মিসকীন পেলাম না। আমাদের নিকট থেকে সে অর্থ নেওয়ার মত কাউকে পেলাম না। অগত্যা সে অর্থ দিয়ে কিছু দাস ক্রয় করে মুক্ত করে দিলাম এই শর্তে যে, তাদের 'ওয়ালা' বা উত্তরাধিকার পাবে মুসলিম উম্মাহ্।"
তাঁর সময়ে জনগণের সচ্ছলতা এত পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যে, মানুষের মধ্যে গর্ব ও অহঙ্কার সৃষ্টি হওয়ার মারাত্মক সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই 'আদী ইবন আরতাত খলীফাকে লিখলেন, বসরাবাসী এত বেশী সচ্ছল হয়েছে যে, আমার আশঙ্কা হয় গর্ব-অহঙ্কারে লিপ্ত হয়ে না পড়ে। তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহ যখন জান্নাতবাসীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তখন নির্দেশ দিবেন তারা যেন বলে- আল-হামদু লিল্লাহ। তাই আপনারাও তাদেরকে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করার নির্দেশ দিন। ১৯৩
একবার মদীনা থেকে এক ব্যক্তি 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট আসলো। তিনি তাঁর নিকট মদীনা বাসীদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। এক পর্যায়ে বললেন, সেই হত-দরিদ্র লোকগুলোর এখন কি অবস্থা যারা অমুক অমুক স্থানে বসতো? লোকটি বললো, এখন তারা সেখানে আর বসে না। আল্লাহ তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, এই দরিদ্র লোকগুলো পথের ধারে বসে বাইরে থেকে আগত লোকদের নিকট টোটকা ঔষধ বিক্রি করতো। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে যখন তাদের নিকট সেই ঔষধ চাওয়া হলো তখন তারা জানালো 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দান ও অনুগ্রহ আমাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ১৯৪
জনসাধারণের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার উপরের চিত্রগুলো সামনে রাখলে সঙ্গত কারণে সকলের মনে একটি প্রশ্নের উদয় হয়। আর সেই প্রশ্নটি হলো, এই সচ্ছলতার পিছনে কি কি কারণ কাজ করেছে? আমরা বলবো সেই কারণগুলো খোঁজার জন্য বেশী শ্রম ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের জীবন-ইতিহাসের যে কোন একটি অধ্যায় পাঠ করলেই সেই কারণগুলো দৃষ্টিগোচর হবে। এখানে বিশেষ কয়েকটি কারণ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ইসলামী খিলাফতে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ভর করতো সম্পূর্ণ বায়তুল মালের উপর। খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয দেশের সকল নাগরিকের জন্য বায়তুল মালের দরজা খুলে দেন। ধনী-গরীব সকলে সমানভাবে তার থেকে উপকার লাভ করতো। ১৯৫
রাষ্ট্রের সকল পঙ্গু-অক্ষমদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করেন এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে তা চালু রাখেন। এ ক্ষেত্রে কোন কর্মচারী-কর্মকর্তা কোন রকম গাফলতি দেখালে তাকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করতেন। ১৯৬
দেশের যত মুসলিম শিশু ছিল তাদের প্রত্যেকের জন্য ভাতা চালু করেন। ১৯৯
২. পূর্ববর্তী খলীফাদের সময়ে দেশের অভাব ও দারিদ্র্যের একটা বড় কারণ এই ছিল যে, খলীফা ও সরকারী কর্মকর্তারা সাধারণ নাগরিকের অর্থ-সম্পদ জোর করে হাতিয়ে নিত। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এ জাতীয় সকল সম্পদ তার প্রকৃত মালিককে ফেরত দেন। এমনকি এই কর্মকাণ্ডে বায়তুল মাল থেকেও অর্থ প্রদান করেন। তাঁর কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ অন্য কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বলে তিনি যদি জানতে পেতেন তাহলে সাথে সাথে তা ফেরৎ দানের কঠোর ব্যবস্থা করেছেন।
৩. বায়তুল মাল থেকে জনসাধারণ যা কিছু লাভ করতো তা দানের ক্ষেত্রে তো যথেষ্ট উদারতা ছিল, কিন্তু মানুষের নিকট থেকে আদায়কৃত যে অর্থ বায়তুল মালে জমা হতো তার মধ্যে অনেক অর্থকে তিনি অবৈধ বলে ঘোষণা দেন। ১৯৯
খাজনা আদায়ের ব্যাপারে যাতে কোন রকম অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা না হয় সে ব্যাপারে তিনি কঠোর নির্দেশ দেন। ২০০
এখন তাঁর সময়ে দেশের সার্বিক আর্থিক সচ্ছলতা ও উন্নতির কারণসমূহের উপর সার্বিকভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে বায়তুল মালের সকল অর্থ জনগণের জন্য ব্যয় হচ্ছে, সকল শ্রেণীর জনগণ ভাতা পাচ্ছে, পঙ্গু, অক্ষম, বৃদ্ধ, শিশু, আরব, অনারব সকলে সমান সুবিধা লাভ করছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লঙ্গরখানায় খাবার পাচ্ছে, রেশনে সবাই খাদ্যশস্য লাভ করছে, গরীব-দুঃস্থদের হাতে আসা অচল মুদ্রা বায়তুল মাল থেকে বদলে দেওয়া হচ্ছে, জনসাধারণের জোর-জবরদস্তী দখলকৃত সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বায়তুল মাল থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ট্যাক্স মওকুফ করা হচ্ছে, জিযিয়া-খাজনার বোঝা লাঘব হচ্ছে এবং তা আদায়ের পদ্ধতিও সহজ করা হচ্ছে, দেশের উৎপাদিত শস্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে- এসব দ্বারা বুঝা যায়, যে দেশ, যে জাতি এবং যে রাষ্ট্র ও সরকারে এ সকল বৈশিষ্ট্য থাকবে সেখানে অবশ্যই শান্তি, প্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বিদ্যমান থাকবে। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে উপরে উল্লেখিত কারণ ও বৈশিষ্ট্যসমূহের সমাবেশ ঘটেছিল। আর তাই ইমাম আল-বায়হাকীর ধারণা মতে রাসূলুল্লাহর (সা) ভবিষ্যদ্বাণীর উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তিনিই।
এখানে হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সেই বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বাণীটি উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। একদিন তিনি হযরত 'আদী ইবন হাতিমের (রা) সাথে কথা বলেন এভাবে:
"ওহে 'আদী! তুমি কি হীরা দেখেছো? 'আদী বললেন: দেখিনি, তবে হীরার কথা শুনেছি। রাসূল (সা) বললেন: তুমি যদি আরো কিছু দিন জীবিত থাক তাহলে দেখবে উটের পিঠে হাওদা-নশীন একজন মহিলা একাকী হীরা থেকে সফর করে মক্কায় আসবে এবং কা'বা তাওয়াফ করবে। এই সফরে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন কিছুর ভয় তার থাকবে না।... তুমি যদি আরো কিছু দিন জীবিত থাক তাহলে দেখবে যে, (শাহেন শাহে ইরান) কিসরার ধন ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।... তুমি যদি আরো কিছু দিন বেঁচে থাক তাহলে দেখবে, এক ব্যক্তি তার দু'হাত ভরে সোনা-চান্দি নিয়ে এমন মানুষের খোঁজে বের হবে যে তা গ্রহণ করে। কিন্তু সে কোন গ্রহণকারীকে পাবে না।"
'আদী ইবন হাতিমের জীবনকালে প্রথম দু'টি ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা প্রত্যক্ষ করে গেছেন। তৃতীয়টি দেখে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তৃতীয়টি কবে বাস্তবায়িত হবে সে সম্পর্কে হাদীছ বিশারদদের মতপার্থক্য হয়েছে। অনেকের ধারণা, সেটা হবে হযরত 'ঈসার (আ) পুনঃ আবির্ভাবের পরে। কিন্তু ইমাম আল-বায়হাকীর (রহ) বিশ্বাস, হযরত রাসূলে কারীমের (সা) তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণীটিও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতকালে বাস্তবায়িত হয়েছে। কারণ, তাঁর সময়ে জনসাধারণের আর্থিক সচ্ছলতা এত বৃদ্ধি পায় যে, যাকাত-সাদাকার অর্থ গ্রহণ করার মত মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না। ইবন হাজার আল-'আসকিলানী (রহ) বায়হাকীর মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, রাসূল (সা) 'আদী ইবন হাতিমকে (রা) বলেন: "لئن طالت بك حياة যদি তুমি আরো কিছু দিন জীবিত থাক।" 'ঈসার (আ) আবির্ভাব পর্যন্ত কোনভাবেই তাঁর জীবিত থাকা সম্ভব ছিল না। তাই তাঁর জীবন কালের নিকটবর্তী 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময়কালকে তিনি বুঝিয়েছেন। ২০২
টিকাঃ
১৯১. ইবনুল জাওযী-১২৮; রিজালুল ফিক্স ওয়াদ দা'ওয়া-১/৫৮
১৯২. ইবনুল জাওযী-৬৯; আ'জামু 'উজামা' আল-ইসলাম-১৪৭
১৯৩. তাবাকাত-৫/২৮২
১৯৪. ইবনুল জাওযী-৭৬
১৯৫. যুরকানী, শারহু মুওয়াত্তা-৪/২৩৭
১৯৬. তাবাকাত-৫/২৮১
১৯৭. প্রাগুক্ত-৫/২৫৪, ২৫৫, ২৭৭
১৯৮. ইবনুল জাওযী-৮৫
১৯৯. তাবাকাত-৫/২৭৭
২০০. ইবনুল জাওযী-৯৫
২০১. কিতাবুল খারাজ-৭৬
২০২. ফাতহুল বারী-৬/৪৫১