📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 মূল্য নিয়ন্ত্রণ

📄 মূল্য নিয়ন্ত্রণ


বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মনে করতেন, কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ইমাম আবূ ইউসুফ, এ সম্পর্কে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের একটি বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। প্রখ্যাত তাবি'ঈ ছাওবান একদিন 'উমারকে বললেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনার পূর্ববর্তীদের সময় জিনিস পত্রের দাম অনেক কম ছিল, কিন্তু আপনার সময়ে অনেক বেড়ে গেছে- এমন হলো কেন? তিনি জবাব দিলেন: আমার পূর্ববর্তীরা যিম্মী (অমুসলিম)-দের উপর তাদের সাধ্যের বাইরে ট্যাক্সের বোঝা চাপাতো। সুতরাং তা পরিশোধের জন্য তারা তাদের হাতে যা কিছু থাকতো লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হতো। আমি কারো উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন বোঝা চাপাই না। সুতরাং মানুষ তার ইচ্ছে মত বেচা-কেনা করতে পারে। ছাওবান বললেন: আপনি যদি মূল্য নির্ধারণ করে দিতেন, ভালো হতো। বললেন: এ ব্যাপারে আমাদের কোন ইখতিয়ার নেই। মূল্যের ব্যাপারটি আল্লাহর অধিকারে। ১৭৪

মূলতঃ তিনি হযরত রাসূলে কারীমের (সা) পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। একবার লোকেরা রাসূলে কারীমকে বলেন : জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, আপনি দাম নির্ধারণ করে দিন। রাসূল (সা) বললেন : 'জিনিসপত্রের দাম বাড়া-কমা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে।' ১৭৫

টিকাঃ
১৭৪. কিতাবুল খারাজ-১৩২
১৭৫. প্রাগুক্ত-৪৯

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 বায়তুল মালের ব্যয় সংস্কার

📄 বায়তুল মালের ব্যয় সংস্কার


'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বায়তুল মালের সংস্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১. বায়তুল মাল হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের আয়ের সামষ্টিক নাম। যার আয় ও ব্যয়ের খাতসমূহ ভিন্ন ভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়। সম্ভবতঃ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্বে রাষ্ট্রের যাবতীয় আয় একই স্থানে জমা হতো। কিন্তু তিনি এর আয়-ব্যয়ের খাতসমূহ পৃথক পৃথকভাবে হিসাব রাখার নিয়ম চালু করেন। ফলে যাকাত, খুমুস, ফাই ও মালে গনীমতের আলাদা আলাদা হিসাব রাখা হতো।
২. বায়তুল মাল প্রকৃতপক্ষে খিলাফতের সকল মুসলমানের সম-অংশীদারিত্বের সঞ্চিত অর্থ। এ থেকে প্রত্যেক মুসলমান সমানভাবে উপকার লাভ করতে পারে। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্বে উমাইয়্যা খান্দানের লোকেরা সাধারণ মুসলমানদের থেকে ভিন্নভাবেপ্রাপ্ত এ অর্থ থেকে বিশেষ বিশেষ ভাতা লাভ করতো এবং বিশেষ ভাতা নামে চালু ছিল। 'উমার এটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন।
৩. স্মৃতিমূলক কবিতার বিনিময়ে বায়তুল মাল থেকে কবিদেরকে যে উপহার-উপঢৌকন বা পুরস্কার দেওয়া হতো 'উমার তা একেবারেই বন্ধ করে দেন। একবার কবি জারীর একটি এ জাতীয় কবিতা পাঠ করলে 'উমার বলেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার কোন অধিকারের কথা বলা হয়নি। জারীর বললেন, আমি তো একজন মুসাফিরও। সেখানে তো মুসাফিরের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। তারপর তিনি নিজের অর্থ থেকে জারীরকে পঞ্চাশটি দীনার দেন।
৪. 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতের পূর্ব থেকে নিয়ম ছিল যে, সরকারী কর্মকর্তারা যখন 'ঈশা ও ফজরের নামাযের জন্য মসজিদে যেত তখন এক ব্যক্তি প্রদীপ হাতে নিয়ে তাদের আগে আগে চলতো। জুম'আর দিন ও রমাদান মাসে মসজিদে নববীতে সুগন্ধি কাঠ জ্বালানো হতো। বায়তুল মাল থেকে এ সবকিছুর ব্যয় নির্বাহ করা হতো। 'উমার উপরোক্ত কাজের জন্য বায়তুল মাল থেকে বরাদ্দ বন্ধ করে দেন। ১৭৬

খলীফা সুলায়মানের খিলাফতের একেবারে শেষ পর্যায়ে মদীনার ওয়ালী 'আবূ বকর ইবন হাযম সরকারী দফতরে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত কাগজ, কলম, দোয়াত, মোমবাতি বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে খলীফাকে একটি পত্র লেখেন। সুলায়মান তার ব্যবস্থা করে যেতে পারেননি। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খলীফা হলেন। পত্রটি তাঁর সামনে উপস্থাপিত হলো। জবাবে তিনি লিখলেন:
'ওহে উম্মু হাযিমের ছেলে আবূ বকর! আমার স্মরণ আছে যে, এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে শীতের অন্ধকার রাতেও আপনি মোমবাতি এবং অন্য কোন প্রদীপ ছাড়াই পথে বের হতেন। আপনার সেই অবস্থা আজকের এই অবস্থা থেকে উত্তম ছিল। আমার ধারণা, আপনার ঘরের মোমবাতি এবং প্রদীপ দ্বারাই আপনার কাজ সারা উচিত।'

এ ধরনেরই একটি দরখাস্তের জবাবে যাতে সরকারী প্রয়োজনে কাগজ চাওয়া হয়েছিল, তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে লিখেছিলেন: ১৭৭
'আমার পত্র পাওয়ার পর আপনি কলম চিকন করে নিবেন, ছোট ছোট অক্ষরে ঘন করে লিখবেন এবং এক পৃষ্ঠায় অনেক জরুরী বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন। মুসলমানদের এমন লম্বা-চওড়া কথার প্রয়োজন নেই, যার কারণে তাদের বায়তুল মালের ক্ষতি হয়। ওয়াস্ সালামু 'আলাইকুম!'

উল্লেখ্য যে, 'উমারের লিখিত কোন ফরমান এক বিঘাতের বেশী হতো না। ১৭৮
৫. বায়তুল মালের অন্যতম আয় হলো খুমুস (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ)। এ অর্থ ব্যয়ের পাঁচটি খাত কুরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত। এর বাইরে অন্য কোথাও এ অর্থ ব্যয় করা যায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্ববর্তী উমাইয়্যা খলীফারা এই অর্থ ব্যয়ের নির্ধারিত খাতসমূহের কোন পরোয়া করতেন না। খুমুস ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হলো আহলি বায়ত তথা নবী-খান্দানের লোকেরা। পরিতাপের বিষয় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্ববর্তী দু'জন খলীফা ওয়ালীদ ও সুলায়মানকে বিষয়টি বার বার বুঝানো সত্ত্বেও তাঁরা আহলি বায়তকে তাঁদের এই অধিকার থেকে একেবারেই বঞ্চিত করেন। 'উমার খলীফা হওয়ার পর খুমুসের অর্থ সঠিক খাতসমূহে ব্যয় করেন এবং আহলি বায়তকে তাদের অংশ প্রদান করেন।

টিকাঃ
১৭৬. তাবাকাত-৫/২৯৫; ইবনুল জাওযী-৮১
১৭৭. জামহারাতু রাসায়িল আল-'আরাব-২/২৮৩
১৭৮. তাবাকাত-৫/২৯৬

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 বায়তুল মাল রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা

📄 বায়তুল মাল রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা


বায়তুল মাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একবার য়ামনের বায়তুল মাল থেকে একটি দীনার হারিয়ে গেল। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সেখানের বায়তুল মালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে লিখলেন, আমি আপনার সততায় সন্দেহ পোষণ করছিনে। তবে আপনার উদাসীনতাকে অপরাধ বলছি এবং মুসলিম উম্মাহ্র পক্ষ থেকে তাদের অর্থের দাবী করছি। শরী'আতের বিধান মত আপনার কসম খাওয়া ফরয। ১৭৯

খুরাসানের ওয়ালী ইয়াযীদ ইবন মুহাল্লাব ইবন আবী সুফরাকে অর্থ-আত্মসাতের অপরাধে বরখাস্ত করে জেলে ঢুকিয়ে দেন। ১৮০

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) বায়তুল মালকে ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত তহবিলের অবস্থান থেকে উদ্ধার করে পুনরায় জনগণের গচ্ছিত সম্পদের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনেন এবং জনগণের প্রয়োজন পূরণের জন্য এ সম্পদ নির্দিষ্ট করে দেন। সুতরাং এ সম্পদের বড় একটি অংশ জনসাধারণের কল্যাণে ব্যয়িত হতে থাকে। খিলাফতের সকল পঙ্গু-অক্ষমদের নামের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী সকলকে ভাতা দেওয়া হতো। ১৮১ কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সামান্য উদাসীনতা দেখালে অথবা পরিবর্তন করলে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হতো। দিমাশকের বায়তুল মাল থেকে একজন পঙ্গুর ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মায়মূন ইবন মিহরান বলেন, এদের সংগে ভালো আচরণ তো করতে হবে, কিন্তু সুস্থ-সবলদের সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া যায় না। একথা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) কানে পৌঁছলে তিনি তাঁকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ভাষায় পত্র লেখেন। ১৮২

অনেকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্য-সম্ভার লাভ করতো। প্রত্যেককে মাথা প্রতি চার 'আরূব' পরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়া হতো। ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ছিল এক 'মুদ' পরিমাণ শস্য। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্যও ভাতা নির্ধারিত ছিল। দেশব্যাপী সাধারণ লঙ্গরখানা চালু ছিল, সেখান থেকে অভাবী ও দুঃস্থরা খাবার পেত। ১৮৩

টিকাঃ
১৭৯. ইবনুল জাওযী-৮৫
১৮০. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩১৩
১৮১. আল-ইসাবা ফী তাময়ীয আস-সাহাবা-৫/৮০
১৮২. তাবাকাত-৫/২৮১
১৮৩. প্রাগুক্ত-৫/২৫৫, ২৭৯

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 যিম্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা

📄 যিম্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা


কোন রাষ্ট্র বা সরকারের আদল-ইনসাফ ও জুলুম-অত্যাচারের একটি বড় মাপকাঠি হলো অন্য সম্প্রদায় ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংগে তার আচরণ ও কর্মপদ্ধতি। এই মাপকাঠিতেও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) আমল ছিল আগাগোড়া আদল-ইনসাফে পরিপূর্ণ। যেভাবে তিনি যিম্মীদের অধিকার সংরক্ষণ করেন এবং তাদের সঙ্গে যেমন কোমল আচরণ করেন তার উদাহরণ কেবল দ্বিতীয় খলীফা হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) খিলাফতকাল ছাড়া আর কোন কালে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের মত তাদেরও জান-মালের হিফাজত করেন। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় কোন রকম হস্তক্ষেপ করেননি, তাদের নিকট থেকে জিযিয়া আদায়ে অত্যন্ত নমনীয় ও সহজ পন্থা অবলম্বন করেন। খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিকট সময় সময় তিনি যিম্মীদের সম্পর্কে যে সকল উপদেশাবলী লিখে পাঠাতেন তাতেই তাঁর এ সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

একবার 'আদী ইবন আরতাতকে লিখলেন, যিম্মীদের সাথে নমনীয় ব্যবহার করবেন। তাদের মধ্যে যারা বৃদ্ধ ও অসহায় হয়ে পড়বে তাদের দেখাশুনা করবেন। তাদের কোন আত্মীয়-স্বজন থাকলে দেখাশুনার নির্দেশ দিবেন। যেমন আমাদের কোন দাস বৃদ্ধ হয়ে গেলে তাকে মুক্ত করে দিতে হয় অথবা আমরণ তার দেখাশুনা ও সেবা করতে হয়।

যিম্মীর রক্তের মূল্য মুসলমানদের রক্তের সমান করে দেওয়া হয়। একবার হীরার একজন মুসলমান একজন যিম্মীকে হত্যা করে। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সেখানের ওয়ালীকে লিখলেন, হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের নিকট অর্পণ কর। তারা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা অথবা মাফ করে দিতে পারে। খলীফার নির্দেশ মত কাজ করা হয় এবং নিহত যিম্মীর বদলা হিসেবে ঘাতককে হত্যা করা হয়।

কোন মুসলমান কোন যিম্মীর অর্থ-সম্পদের প্রতি অবৈধভাবে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস করতো না। কেউ এমন করলে তাকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হতো। একবার রাবী'আ শা'উযী নামে একজন মুসলমান একটি সরকারী কাজে বিনা ভাড়ায় একজন নাবাতী যিম্মীর একটি ঘোড়া ধরে নেয় এবং তার পিঠে আরোহণ করে। 'উমার তাকে এজন্য চল্লিশটি চাবুক মারেন। ১৮৬

একবার তাঁর একজন কর্মকর্তা একজন যিম্মীর নিকট থেকে কিছু জ্বালানী কাঠ নিলে তিনি কাঠের মালিক যিম্মীকে ন্যায্য মূল্য পরিশোধের নির্দেশ দেন। ১৮৭

জবর দখলকৃত সম্পত্তি ফেরতদানের সময় যিম্মীদের ভূ-সম্পত্তিও ফেরত দেওয়া হয়। 'আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ ও এক যিম্মীর এ সম্পর্কিত একটি বিরোধের ঘটনায় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যে সিদ্ধান্ত দান করেন তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী খলীফাদের সময়ে তাদের ধর্মীয় অধিকার বলতে তেমন কিছু অবশিষ্ট ছিল না। তিনি আবার নতুন করে তাদের সে অধিকার দান করেন। দিমাশকে দীর্ঘদিন ধরে একটি গীর্জা একটি মুসলিম খান্দানের জমিদারীতে চলে আসছিল। খৃস্টানরা সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) নিকট দাবী জানায়। তিনি ফিরিয়ে দেন। একজন মুসলমান একটি গীর্জা সম্পর্কে দাবী করে যে সেটি তার জমিদারীর মধ্যে। 'উমার বললেন, যদি এটি খৃস্টানদের চুক্তির মধ্যে পড়ে তাহলে তুমি তা পেতে পার না। ১৮৮

দিমাশকে খৃস্টানদের সবচেয়ে বড় গীর্জাটি ছিল ইউহান্না। হযরত আমীর মু'আবিয়া (রা) ও 'আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান এটি সর্বাধিক মূল্যে ক্রয় করে মসজিদে ঢুকিয়ে নিতে চান। কিন্তু খৃস্টানরা রাজী হলো না। খলীফা ওয়ালীদও চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে তিনি জোরপূর্বক গীর্জাটি ভেঙ্গে ফেলে মসজিদের অংশ বানিয়ে ফেলেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খলীফা হওয়ার পর খৃস্টানরা উক্ত গীর্জাটি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানায়। তিনি গীর্জাটি তাদের ফিরিয়ে দেন। এতে মুসলমানরা ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়। অবশেষে তিনি গোতে নামক স্থানের সকল গীর্জা খৃস্টানদের হাতে অর্পণ করে উক্ত গীর্জাটির উপর থেকে তাদের দাবী প্রত্যাহারে সম্মত করান। ১৮৯

জিযিয়া আদায়ে যত অনিয়ম চালু হয়েছিল তিনি তা সব বন্ধ করে দিয়ে সহজ পদ্ধতি চালু করেন। ইবনু আশ'আছকে তার বিদ্রোহে সহযোগিতার অভিযোগে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ইরাকের যিম্মীদের জিযিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। 'উমার তা আবার কমিয়ে দেন। ১৯০

টিকাঃ
১৮৬. তাবাকাত-৫/২৭৬; ইবনুল জাওযী-১০২, ১০৫
১৮৭. আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার-১৬৬
১৮৮. আল-বালাযুরী, ফুতুহুল বুলদান-১৩০
১৮৯. প্রাগুক্ত
১৯০. প্রাগুক্ত

ফন্ট সাইজ
15px
17px