📄 যাকাত ও সাদাকা
যদিও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতের এই বরকত ছিল যে মানুষ যখন তাঁর খলীফা হওয়ার খবর পেল তখন তারা স্বেচ্ছায় খুব দ্রুত সাদাকায়ে ফিতর আদায় করতে আরম্ভ করলো। এমনকি তাঁর একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা লিখলেন যে, প্রচুর সাদাকায়ে ফিতর জমা হয়ে গেছে। কি করতে হবে সে ব্যাপারে আপনি অবহিত করুন। তা সত্ত্বেও তিনি মানুষকে যথাযথভাবে যাকাত-সাদাকা আদায়ের ব্যাপারে তীব্রভাবে উৎসাহিত করতেন। একবার খুনাসিরায় 'ঈদের একদিন পূর্বে জুম'আর খুতবা দেন। তাতে তিনি মানুষকে সাদাকায়ে ফিতর আদায়ের ব্যাপারে প্রচণ্ড তাকিদ ও উৎসাহ দেন। খুতবায় তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না তার নামায কবুল হয় না। মানুষ আটা, ছাতু নিয়ে আসতো, আর তিনি তা গ্রহণ করতেন।
হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ যাকাত ব্যবস্থার সর্বনাশ করে ফেলেন। যাকাতের শরী'আত নির্ধারিত আয়-ব্যয়ের যে খাত ছিল হাজ্জাজ তার অনুসরণ একেবারেই ত্যাগ করেন। এ কারণে তিনি আঞ্চলিক কর্মকর্তাদেরকে হাজ্জাজের অনুসরণের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। একবার হাজ্জাজ সম্পর্কে 'আদী ইবন আরতাতকে একটি দীর্ঘ পত্র লেখেন। তাতে তিনি লেখেন: ১৬৯
'নামাযের ব্যাপারে আমি আপনাকে হাজ্জাজের অনুকরণ থেকে বিরত থাকতে বলছি। কারণ, সে সময়মত সালাত আদায় করতো না। তেমনিভাবে যাকাতের ব্যাপারেও তাকে অনুসরণ করতে নিষেধ করছি। কারণ, সে যেমন অন্যায়ভাবে যাকাত আদায় করতো তেমনি বে-মাওকা খরচও করতো। তার এসব কাজ থেকে দূরে থাকুন। তার অনুকরণের ব্যাপারে সতর্ক হোন। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ তার থেকে মানুষকে স্বস্তি দিয়েছেন এবং জনগণ ও দেশকে তার অনিষ্ট থেকে পবিত্র করেছেন। ওয়াস সালাম!'
একবার তিনি জানতে পারলেন যে, 'আদী ইবন আরতাত মদ থেকেও 'উশর আদায় করছেন। তাঁকে লিখলেন, বায়তুল মালে কেবল হালাল মাল ঢোকান। ১৭০
আঞ্চলিক ওয়ালীদেরকে তিনি সাদাকায়ে ফিতরের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এভাবে: ১৭১
'তোমাদের পূর্বে যারা সেখানে আছে তাদেরকে নির্দেশ দাও, তাদের স্বাধীন-দাস, ছোট- বড়, নারী-পুরুষ কেউই রমাদানের সাদাকায়ে ফিতর আদায় থেকে রেহাই পাবে না। প্রত্যেকের জন্য দুই মুদ গম অথবা এক সা' খোরমা অথবা এর মূল্য অর্ধ দিরহাম। ভাতা প্রাপ্তদের ভাতা থেকে তাদের নিজেদের ও পরিবার-পরিজনদের সাদাকা কেটে রাখা হবে। আর সাদাকা সংগ্রহের জন্য দু'জন বিশ্বস্ত লোক নিয়োগ কর। যারা সংগ্রহ করবে, অতঃপর স্থায়ীভাবে বসবাসকারী মিসকীনদের মধ্যে বণ্টন করবে। তবে পল্লীবাসী বেদুঈনদের মধ্যে বণ্টন করবে না।'
এ সকল সংস্কারমূলক কাজ করার সাথে সাথে এ বিষয়েও সতর্ক ছিলেন, যেন কোনভাবেই যাকাত-সাদাকা আদায়ে কোন অন্যায় করা না হয়। প্রথমদিকে বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রধান প্রধান সড়কে বসে যাকাত আদায় করা হতো, কিন্তু যখন জানতে পারলেন, এ পদ্ধতিতে মানুষ নানাভাবে ফায়দা উঠাচ্ছে তখন তা বাতিল করেন এবং তার পরিবর্তে প্রত্যেক শহর ও জনপদে একজন করে যাকাত-সাদাকা আদায়কারী নিয়োগ দেন। ১৭২
রাজস্ব খাতে এত উদারতা প্রদর্শন ও ছাড় দেওয়া সত্ত্বেও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সময় যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো তা রীতিমত বিস্ময়কর। তাঁর সময়ের সাথে হাজ্জাজের অত্যাচার-উৎপীড়নমূলক সময়ের কোন তুলনাই চলে না। 'উমার নিজেই গর্বের সাথে বলতেন, হাজ্জাজের উপর আল্লাহর লা'নত! তার না ছিল কোন ধর্মীয় যোগ্যতা, আর না ছিল পার্থিব যোগ্যতা। হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাব (রা) ইরাক থেকে ১০ কোটি ৮০ লাখ দিরহাম, যিয়াদ ১০ কোটি ২৫ লাখ দিরহাম আদায় করতেন। হাজ্জাজ জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও সেখান থেকে মাত্র দু'কোটি আশি লাখ আদায় করতে সক্ষম হয়। সে কৃষকদেরকে বিশ লাখ দিরহাম ঋণ দেয় এবং এক কোটি ষাট লাখ দিরহাম আদায় করে। কিন্তু ইরাক যখন আমার অধীনে আসে তখন আমি সেখান থেকে দশ কোটি চব্বিশ লাখ দিরহাম আদায় করি। আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) সময়ের চাইতেও বেশী আদায় করবো। ১৭৩
টিকাঃ
১৬৯. ইবনুল জাওযী-৮৬-৮৮; জামহারাতু রাসায়িল আল-'আরাব-২/৩৭১
১৭০. তাবাকাত-৫/২৮০
১৭১. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/১৭১
১৭২. তাবাকাত-৫/২৮৩
১৭৩. আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয-১২৪
📄 মূল্য নিয়ন্ত্রণ
বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মনে করতেন, কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ইমাম আবূ ইউসুফ, এ সম্পর্কে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের একটি বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। প্রখ্যাত তাবি'ঈ ছাওবান একদিন 'উমারকে বললেন: আমীরুল মু'মিনীন! আপনার পূর্ববর্তীদের সময় জিনিস পত্রের দাম অনেক কম ছিল, কিন্তু আপনার সময়ে অনেক বেড়ে গেছে- এমন হলো কেন? তিনি জবাব দিলেন: আমার পূর্ববর্তীরা যিম্মী (অমুসলিম)-দের উপর তাদের সাধ্যের বাইরে ট্যাক্সের বোঝা চাপাতো। সুতরাং তা পরিশোধের জন্য তারা তাদের হাতে যা কিছু থাকতো লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হতো। আমি কারো উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন বোঝা চাপাই না। সুতরাং মানুষ তার ইচ্ছে মত বেচা-কেনা করতে পারে। ছাওবান বললেন: আপনি যদি মূল্য নির্ধারণ করে দিতেন, ভালো হতো। বললেন: এ ব্যাপারে আমাদের কোন ইখতিয়ার নেই। মূল্যের ব্যাপারটি আল্লাহর অধিকারে। ১৭৪
মূলতঃ তিনি হযরত রাসূলে কারীমের (সা) পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। একবার লোকেরা রাসূলে কারীমকে বলেন : জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, আপনি দাম নির্ধারণ করে দিন। রাসূল (সা) বললেন : 'জিনিসপত্রের দাম বাড়া-কমা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে।' ১৭৫
টিকাঃ
১৭৪. কিতাবুল খারাজ-১৩২
১৭৫. প্রাগুক্ত-৪৯
📄 বায়তুল মালের ব্যয় সংস্কার
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বায়তুল মালের সংস্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১. বায়তুল মাল হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের আয়ের সামষ্টিক নাম। যার আয় ও ব্যয়ের খাতসমূহ ভিন্ন ভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়। সম্ভবতঃ 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্বে রাষ্ট্রের যাবতীয় আয় একই স্থানে জমা হতো। কিন্তু তিনি এর আয়-ব্যয়ের খাতসমূহ পৃথক পৃথকভাবে হিসাব রাখার নিয়ম চালু করেন। ফলে যাকাত, খুমুস, ফাই ও মালে গনীমতের আলাদা আলাদা হিসাব রাখা হতো।
২. বায়তুল মাল প্রকৃতপক্ষে খিলাফতের সকল মুসলমানের সম-অংশীদারিত্বের সঞ্চিত অর্থ। এ থেকে প্রত্যেক মুসলমান সমানভাবে উপকার লাভ করতে পারে। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্বে উমাইয়্যা খান্দানের লোকেরা সাধারণ মুসলমানদের থেকে ভিন্নভাবেপ্রাপ্ত এ অর্থ থেকে বিশেষ বিশেষ ভাতা লাভ করতো এবং বিশেষ ভাতা নামে চালু ছিল। 'উমার এটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন।
৩. স্মৃতিমূলক কবিতার বিনিময়ে বায়তুল মাল থেকে কবিদেরকে যে উপহার-উপঢৌকন বা পুরস্কার দেওয়া হতো 'উমার তা একেবারেই বন্ধ করে দেন। একবার কবি জারীর একটি এ জাতীয় কবিতা পাঠ করলে 'উমার বলেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার কোন অধিকারের কথা বলা হয়নি। জারীর বললেন, আমি তো একজন মুসাফিরও। সেখানে তো মুসাফিরের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। তারপর তিনি নিজের অর্থ থেকে জারীরকে পঞ্চাশটি দীনার দেন।
৪. 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খিলাফতের পূর্ব থেকে নিয়ম ছিল যে, সরকারী কর্মকর্তারা যখন 'ঈশা ও ফজরের নামাযের জন্য মসজিদে যেত তখন এক ব্যক্তি প্রদীপ হাতে নিয়ে তাদের আগে আগে চলতো। জুম'আর দিন ও রমাদান মাসে মসজিদে নববীতে সুগন্ধি কাঠ জ্বালানো হতো। বায়তুল মাল থেকে এ সবকিছুর ব্যয় নির্বাহ করা হতো। 'উমার উপরোক্ত কাজের জন্য বায়তুল মাল থেকে বরাদ্দ বন্ধ করে দেন। ১৭৬
খলীফা সুলায়মানের খিলাফতের একেবারে শেষ পর্যায়ে মদীনার ওয়ালী 'আবূ বকর ইবন হাযম সরকারী দফতরে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত কাগজ, কলম, দোয়াত, মোমবাতি বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে খলীফাকে একটি পত্র লেখেন। সুলায়মান তার ব্যবস্থা করে যেতে পারেননি। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খলীফা হলেন। পত্রটি তাঁর সামনে উপস্থাপিত হলো। জবাবে তিনি লিখলেন:
'ওহে উম্মু হাযিমের ছেলে আবূ বকর! আমার স্মরণ আছে যে, এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে শীতের অন্ধকার রাতেও আপনি মোমবাতি এবং অন্য কোন প্রদীপ ছাড়াই পথে বের হতেন। আপনার সেই অবস্থা আজকের এই অবস্থা থেকে উত্তম ছিল। আমার ধারণা, আপনার ঘরের মোমবাতি এবং প্রদীপ দ্বারাই আপনার কাজ সারা উচিত।'
এ ধরনেরই একটি দরখাস্তের জবাবে যাতে সরকারী প্রয়োজনে কাগজ চাওয়া হয়েছিল, তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে লিখেছিলেন: ১৭৭
'আমার পত্র পাওয়ার পর আপনি কলম চিকন করে নিবেন, ছোট ছোট অক্ষরে ঘন করে লিখবেন এবং এক পৃষ্ঠায় অনেক জরুরী বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন। মুসলমানদের এমন লম্বা-চওড়া কথার প্রয়োজন নেই, যার কারণে তাদের বায়তুল মালের ক্ষতি হয়। ওয়াস্ সালামু 'আলাইকুম!'
উল্লেখ্য যে, 'উমারের লিখিত কোন ফরমান এক বিঘাতের বেশী হতো না। ১৭৮
৫. বায়তুল মালের অন্যতম আয় হলো খুমুস (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ)। এ অর্থ ব্যয়ের পাঁচটি খাত কুরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত। এর বাইরে অন্য কোথাও এ অর্থ ব্যয় করা যায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের পূর্ববর্তী উমাইয়্যা খলীফারা এই অর্থ ব্যয়ের নির্ধারিত খাতসমূহের কোন পরোয়া করতেন না। খুমুস ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হলো আহলি বায়ত তথা নবী-খান্দানের লোকেরা। পরিতাপের বিষয় 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর পূর্ববর্তী দু'জন খলীফা ওয়ালীদ ও সুলায়মানকে বিষয়টি বার বার বুঝানো সত্ত্বেও তাঁরা আহলি বায়তকে তাঁদের এই অধিকার থেকে একেবারেই বঞ্চিত করেন। 'উমার খলীফা হওয়ার পর খুমুসের অর্থ সঠিক খাতসমূহে ব্যয় করেন এবং আহলি বায়তকে তাদের অংশ প্রদান করেন।
টিকাঃ
১৭৬. তাবাকাত-৫/২৯৫; ইবনুল জাওযী-৮১
১৭৭. জামহারাতু রাসায়িল আল-'আরাব-২/২৮৩
১৭৮. তাবাকাত-৫/২৯৬
📄 বায়তুল মাল রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা
বায়তুল মাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একবার য়ামনের বায়তুল মাল থেকে একটি দীনার হারিয়ে গেল। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয সেখানের বায়তুল মালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে লিখলেন, আমি আপনার সততায় সন্দেহ পোষণ করছিনে। তবে আপনার উদাসীনতাকে অপরাধ বলছি এবং মুসলিম উম্মাহ্র পক্ষ থেকে তাদের অর্থের দাবী করছি। শরী'আতের বিধান মত আপনার কসম খাওয়া ফরয। ১৭৯
খুরাসানের ওয়ালী ইয়াযীদ ইবন মুহাল্লাব ইবন আবী সুফরাকে অর্থ-আত্মসাতের অপরাধে বরখাস্ত করে জেলে ঢুকিয়ে দেন। ১৮০
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) বায়তুল মালকে ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত তহবিলের অবস্থান থেকে উদ্ধার করে পুনরায় জনগণের গচ্ছিত সম্পদের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনেন এবং জনগণের প্রয়োজন পূরণের জন্য এ সম্পদ নির্দিষ্ট করে দেন। সুতরাং এ সম্পদের বড় একটি অংশ জনসাধারণের কল্যাণে ব্যয়িত হতে থাকে। খিলাফতের সকল পঙ্গু-অক্ষমদের নামের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী সকলকে ভাতা দেওয়া হতো। ১৮১ কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সামান্য উদাসীনতা দেখালে অথবা পরিবর্তন করলে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হতো। দিমাশকের বায়তুল মাল থেকে একজন পঙ্গুর ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মায়মূন ইবন মিহরান বলেন, এদের সংগে ভালো আচরণ তো করতে হবে, কিন্তু সুস্থ-সবলদের সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া যায় না। একথা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) কানে পৌঁছলে তিনি তাঁকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ভাষায় পত্র লেখেন। ১৮২
অনেকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্য-সম্ভার লাভ করতো। প্রত্যেককে মাথা প্রতি চার 'আরূব' পরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়া হতো। ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ছিল এক 'মুদ' পরিমাণ শস্য। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্যও ভাতা নির্ধারিত ছিল। দেশব্যাপী সাধারণ লঙ্গরখানা চালু ছিল, সেখান থেকে অভাবী ও দুঃস্থরা খাবার পেত। ১৮৩
টিকাঃ
১৭৯. ইবনুল জাওযী-৮৫
১৮০. তারীখ আল-ইয়া'কূবী-২/৩১৩
১৮১. আল-ইসাবা ফী তাময়ীয আস-সাহাবা-৫/৮০
১৮২. তাবাকাত-৫/২৮১
১৮৩. প্রাগুক্ত-৫/২৫৫, ২৭৯