📄 সম্পদ ফেরত দানের প্রতিক্রিয়া
হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই কর্ম পদ্ধতির প্রভাব পড়লো বিভিন্ন জনের উপর বিভিন্ন রকম। যে খারেজী সম্প্রদায় সর্বদা উমাইয়্যা খলীফাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা উড্ডীন রাখতো তারা এই 'আদল ও ইনসাফের কথা শুনে সম্মিলিতভাবে পরিষ্কারভাবে বলে দিল এখন এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমাদের সঙ্গত হবে না। ১২৯ তবে গোটা বানু উমাইয়্যা খান্দান একসাথে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো। প্রথমতঃ ব্যক্তিগত সম্পদ যা তারা ভোগ করছিল তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এর কারণ ছিল। তাছাড়া যে বিশেষ মর্যাদা ও আভিজাত্য তারা ধারণ করেছিল তা তাদেরকে সমতা ও সাম্যবাদিতার কথা একেবারেই ভুলিয়ে দিয়েছিল। এ কারণে যখন তারা নিজেদেরকে অন্য সকল মুসলমানের সংগে একই কাতারে পাশাপাশি দেখতে পেল তখন ভীষণ অপমান বোধ করলো। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়টি এই ছিল যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই কর্ম পদ্ধতিতে তাদের অন্তরে এই দৃঢ় প্রত্যয় জন্মেছিল যে, তাঁর পূর্ববর্তী উমাইয়্যা খলীফাগণ যে কর্ম পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল আইনগত দিক দিয়ে অবৈধ এবং 'আদল ও ইনসাফের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ কারণে এই খান্দানের পুরো ধারাবাহিকতাকে তারা সম্পূর্ণ চিহ্ন যুক্ত দেখতে পাচ্ছিল। আর তাই এ খান্দানের বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে খোদ 'উমারের সামনে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মারওয়ান বংশের সকলকে সমবেত করে বলেন, 'ওহে মারওয়ান বংশের লোকেরা! তোমরা মান-সম্মান ও ধন-সম্পদের বিরাট একটি অংশ লাভ করেছিলে। আমার ধারণা মতে এই উম্মাতের সকল সম্পদের অর্ধেক অথবা এক তৃতীয়াংশ তোমাদের অধিকারে এসে গিয়েছিল।' তাঁর একথা শুনে সকলে একেবারে নীরব থাকে। 'উমার তাদেরকে বলেন, 'তোমরা আমার একথার জবাব দাও।' সকলে এক বাক্যে বলে উঠলো 'যতক্ষণ না আমাদের মাথা আমাদের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে কাফির বলতে পারবো না, তেমনিভাবে পারবো না আমাদের সন্তানদের অন্যের মুখাপেক্ষী বানাতে।' একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিশাম ইবন 'আবদিল মালিকের সামনে বানু উমাইয়্যাদের অতীত জুলুম-অত্যাচারের আলোচনা করছিলেন। হিশাম নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না, হঠাৎ বলে উঠলেন, 'আল্লাহর কসম! আমরা না আমাদের বাপ-দাদাদের উপর কোন দোষ লাগাতে পারি, আর না পারি আমাদের মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত করতে।'
'উমার বলেন: তোমরা যদি আমাকে এ অধিকার প্রত্যর্পণে সহায়তা না কর তাহলে খুব শিগ্গীর আমি তোমাদের মাথা নীচু করে ছাড়বো। কিন্তু আমি বিশৃঙ্খলাকে ভয় করি। তবে আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক বঞ্চিত ব্যক্তির অধিকার অবশ্যই ফিরিয়ে দেব। ১৩০
একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সামনে বহু দাসী উপস্থাপন করা হচ্ছিল। ঘটনাক্রমে সেখানে 'আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিকও উপস্থিত ছিল। যখনই কোন সুন্দরী দাসী সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল তখনই সে বলে উঠছিল: 'আমীরুল মু'মিনীন! একে আপনি নিন।' যখন সে বার বার একই কথা বললো তখন 'উমার বললেন: তুমি কি আমাকে ব্যভিচারের জন্য উৎসাহিত করছো? 'আব্বাস সেখান থেকে উঠে পড়ে এবং বাইরে এসে নিজ খান্দানের কতিপয় সদস্যকে বলে! তোমরা এমন ব্যক্তির দরজায় বসে আছ কেন যে কিনা তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে ব্যভিচারী বলে?
'উমার ঘোষণা করেন, এ সকল দাস-দাসীদেরকে তাদের প্রকৃত মনিবের নিকট ফেরত পাঠানো হবে। ১৩১ এ সকল কারণে গোটা মারওয়ান খান্দান 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এমন ন্যায় ও সুবিচারমূলক কর্ম পদ্ধতিকে দারুণ অপছন্দ করতে থাকে এবং নানাভাবে তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আল-ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিকের পুত্র 'উমার এই 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় একটি পত্র লেখে, যার সারকথা এই:
'আপনি পূর্ববর্তী খলীফাদের প্রতি দোষারোপ করেছেন এবং তাঁদের সন্তানদের প্রতি শত্রুতাবশতঃ তাদের সাথে বিরোধিতার নীতি অবলম্বন করেছেন। আপনি কুরায়শদের সম্পদ এবং তাদের উত্তরাধিকারকে অন্যায়ভাবে বায়তুল মালে ঢুকিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ওহে 'আবদুল 'আযীযের পুত্র! আল্লাহকে ভয় করুন এবং মনে রাখুন, আপনি জুলুম করেছেন। মিম্বরের উপর বসার সাথে সাথে আপনি নিজের খান্দানকে জুলুম-অত্যাচারের জন্য বেছে নিয়েছেন। সেই আল্লাহর শপথ যিনি মুহাম্মাদকে (সা) বহুবিধ বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন। আপনি রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে পেয়ে, যাকে আপনি একটি বিপদ বলে থাকেন, আল্লাহ থেকে বহুদূরে চলে গেছেন। নিজের প্রবৃত্তির কামনা-বাসনায় লাগাম দিন এবং বিশ্বাস করুন যে, আপনি এক মহাপ্রতাপশালীর সামনে ও হাতের মুঠোয় আছেন এবং আপনাকে এ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে না।'
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যদিও ধৈর্য ও সহনশীলতার বাস্তব প্রতীক ছিলেন তা সত্ত্বেও এই ব্যাপারে তিনি মোটেও নমনীয়তা দেখাননি। সাথে সাথে তিনি 'উমার ইবন আল-ওয়ালীদের পত্রের জবাব দিলেন অত্যন্ত কঠোর ভাষায়। পত্রটির তরজমা নিম্নরূপ:
'তোমার পত্র আমি পেয়েছি। তুমি যেমন লিখেছো আমিও তেমন জবাব দিব। তোমার প্রাথমিক অবস্থা তো এই যে, তোমার মা ছিল বাতাতা সুকুনের (সুকুন) দাসী- যে হিমসের বাজারে মানুষের মনোরঞ্জন করে বেড়াতো, মদের আড্ডাখানায় যেত। যুবইয়ান ইবন যুবইয়ান তাকে মুসলমানদের গণীমতের মাল থেকে খরিদ করে তোমার পিতাকে উপহার দেয়। সেই মায়ের পেটে তোমার জন্ম। মা যেমন নিকৃষ্ট, সন্তানও তেমন নিকৃষ্ট। এরপর লালিত-পালিত হয়ে তুমি একজন অহঙ্কারী জালেমে পরিণত হয়েছো। তোমার ধারণা আমি একজন জালেম। আমি তোমাকে এবং তোমার খান্দানকে আল্লাহর সম্পদ থেকে, যে সম্পদে রয়েছে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকটাত্মীয়, গরীব-মিসকীন ও অসহায় বিধবাদের অধিকার, বঞ্চিত করেছি। তবে আমার চেয়ে বেশী জালেম, আমার চেয়ে আল্লাহর অঙ্গীকারকে পরিত্যাগকারী সেই ব্যক্তি যে তোমাকে তোমার অপরিপক্ক বয়সে স্বল্পবুদ্ধির অবস্থায় মুসলমানদের একটি সেনাশিবিরের কর্মকর্তা নিয়োগ করে তোমাকে নিজের খেয়াল-খুশীমত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ করার ক্ষমতা দান করেছে। এই নিয়োগদানের পিছনে শুধুমাত্র পিতৃ-স্নেহ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না। সুতরাং অভিশাপ তোমার উপর এবং অভিশাপ তোমার জন্মদাতা পিতার উপর। কিয়ামত দিন তোমাদের বিরুদ্ধে কত অভিযোগকারী হবে! তোমার পিতা এ সকল অভিযোগকারীদের থেকে মুক্তি পাবে কিভাবে?
আমার চেয়ে বড় জালেম এবং আমার চেয়ে বড় আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে হাজ্জাজকে সমগ্র আরবের এক-পঞ্চমাংশের উপর নিয়োগ দিয়েছিল। সে অন্যায়ভাবে মানুষের রক্ত প্রবাহিত করতো এবং অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ হাতিয়ে নিত।
আমার চেয়ে বড় জালেম এবং বড় আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে কুররা ইবন শূরাইকের মত একজন পাঁড় বদ্দুকে মিসরের ওয়ালী নিয়োগ করেছিল। সে সেখানে গান-বাজনা, অশ্লীল আনন্দ-ফুর্তি ও মদ পানের অনুমতি দিয়েছিল। আমার চেয়ে বড় জালেম ও আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে আরবের এক-পঞ্চমাংশে 'আলীয়া বারবারিয়াকে অংশ দিয়েছিল।
আমার যদি সুযোগ হয় তাহলে তোমার খান্দান ও তোমাকে আলোকিত পথে নিয়ে আসবো। দীর্ঘকাল আমরা সত্যকে পরিত্যাগ করেছি। যদি তোমাদেরকে বিক্রী করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইয়াতীম, মিসকীন এবং অসহায় বিধবাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় তাহলেও তা যথেষ্ট হবে না। কেননা, তোমাদের মধ্যে সকলের অধিকার আছে। আমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহর সালাম জালেমদের নিকট পৌছে না।' ১৩২
মারওয়ান বংশের লোকেরা হিশাম ইবন 'আবদিল মালিককে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে 'উমারের নিকট পাঠান। হিশাম তাদের পক্ষ থেকে বলেন, মারওয়ান বংশের লোকেরা বলছে, আপনার নিজের সংগে যে সকল বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে সে ব্যাপারে আপনি যা ইচ্ছা করুন। কিন্তু পূর্ববর্তী খলীফাগণ যা কিছু করে গেছেন তা সেই অবস্থায় বহাল রাখুন। 'উমার হিশামকে জিজ্ঞেস করলেন যদি একই বিষয়ে তোমাদের নিকট দুইটি দলিল থাকে- একটি আমীর মু'আবিয়ার এবং দ্বিতীয়টি 'আবদুল মালিকের, তাহলে তোমরা কোনটি গ্রহণ করবে? হিশাম বললেন, আগেরটি। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তখন বললেন, আমি কিতাবুল্লাহকে আগের দলিল হিসেবে পেয়েছি। এ কারণে, আমার ক্ষমতার আওতাভুক্ত প্রত্যেকটি ব্যাপারে- তা সে আমার সময়ের হোক বা অতীতের সাথে সম্পৃক্ত হোক, সেই কিতাবুল্লাহর নির্দেশ অনুসারে কাজ করবো। এ কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সা'ঈদ ইবন খালিদ বললেন : আমীরুল মু'মিনীন! যে জিনিস আপনার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে আছে সে ক্ষেত্রে আপনি হক ও ইনসাফের সাথে নিজের মত সিদ্ধান্ত নিন। আর পূর্ববর্তী খলীফাগণকে তাঁদের ভালো-মন্দসহ তাঁদের অবস্থায় থাকতে দিন। এতটুকুই আপনার জন্য যথেষ্ট।
'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বললেন: আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করি, যদি কোন ব্যক্তি ছোট-বড় কয়েকজন ছেলে রেখে মারা যায়, তারপর বড়রা শক্তির জোরে ছোটদের বিষয়-সম্পদ দখল করে নেয় এবং ছোটরা তা উদ্ধারের জন্য তোমাদের সাহায্য চায়, তখন তোমরা কি করবে? সা'ঈদ বললেন: তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেব। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বললেন: আমি তো সেই কাজটি করছি। আমার পূর্ববর্তী খলীফাগণ শক্তির জোরে তাদেরকে দাবিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদের অধীনস্থরাও তাঁদের অনুসরণ করেছিল, এখন আমি যখন খলীফা হয়েছি তখন সেই সকল মানুষ আমার নিকট এসেছে। সুতরাং সবলের নিকট থেকে দুর্বলের এবং উঁচু স্তরের নিকট থেকে নীচু স্তরের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। একথা শুনে ইবনে খালিদ বলে ওঠেন: আল্লাহ আমীরুল মু'মিনীনকে তাওফীক দিন। ১৩৩
একবার বানু মারওয়ানের লোকেরা 'উমারের বাড়ীর দরজায় সমবেত হয়ে 'উমারের ছেলে 'আবদুল মালিককে বলে, হয় আমাদের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে আস অথবা তোমার বাবাকে একথা বল যে, তাঁর পূর্বে যাঁরা খলীফা ছিলেন তাঁরা আমাদের দিতেন এবং আমাদের থেকে নিতেন। আমাদের মান-মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। কিন্তু তোমার বাবা আমাদেরকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছেন। 'আবদুল মালিক পিতাকে এসব কথা বললেন। 'উমার বললেন, তুমি গিয়ে তাদেরকে বলে দাও, যদি আমি আল্লাহর নাফরমানি করি তাহলে কিয়ামতের শাস্তির ভয় করি। ১৩৪
উমাইয়্যা খান্দানের লোকেরা একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের ফুফু ফাতিমা বিন্ত মারওয়ানের নিকট গেল। এই ফুফুকে তিনি খুবই আদব-লেহাজ করতেন। তাই লোকেরা তাঁকে বললো, আপনি তাঁকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলুন। ফুফু 'উমারকে তাঁর খান্দানের লোকদের বক্তব্য শোনালেন। 'উমার জবাব দিলেন: যখন শাসকের আপনজনেরা জুলুম-অত্যাচার করে এবং শাসক তা বন্ধ করতে পারে না তখন কোন মুখে সে অন্যদের জুলুম-অত্যাচার বন্ধ করবে? তাদের এমন কোন অধিকার যেমন আমি আটকে রাখিনি, তেমনি তাদের এমন কোন অধিকার কেড়েও নিইনি।
ফুফু বললেন: তোমার খান্দানের লোকেরা তোমাকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তোমার এমন আচরণের জন্য তোমাকে খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে। 'উমার জবাব দিলেন: কিয়ামতের দিনের চেয়ে অন্য কোন জিনিসকে যদি আমি বেশী ভয় করি তাহলে দু'আ করি আল্লাহ যেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রেহাই না দেন।
অতঃপর তিনি একটি দীনার, গোল্ডের একটি টুকরো এবং একটি আংটি আনান। ফুফুর সামনে দীনারটি আগুনে ফেলেন। যখন সেটি আগুনে পুড়ে লাল হয়ে গেল তখন উঠিয়ে গোশতের টুকরোটির উপর রাখেন। সেটি একেবারে ঝলসে গেল। এবার তিনি ফুফুর দিকে তাকিয়ে বলেন, আপনি এ ধরনের শাস্তি থেকে আপনার ভাতিজার মুক্তি চান না?
একটি বর্ণনায় এসেছে, 'উমার একথাও বলেন: ফুফু! রাসূলুল্লাহ (সা) মানুষকে একটি নদী দান করে যান, যেখান থেকে সকলে সমানভাবে পান করতো। পরে আবু বকর নদীটির মালিক হন এবং পূর্ববর্তী অবস্থায় রেখে যান। তারপর 'উমার ইবন আল-খাত্তাব সেটার অধিকারী হলেন। তিনি সেটার ব্যবহারে পূর্ববর্তী দু'জনের অনুসরণ করলেন। অতঃপর তার থেকে আরো অনেক ছোট নদী বের করা হয়। সেই সব নদী থেকে এখনো পর্যন্ত ইয়াযীদ, মারওয়ান, আবদুল মালিক, ওয়ালীদ ও সুলায়মানের বংশধরেরা পান করে পরিতৃপ্ত হচ্ছে। অবশেষে সেটি যখন আমার হাতে এসেছে তখন মূল নদীটি শুকিয়ে গেছে। কাউকে আর পরিতৃপ্ত করছে না। আল্লাহর কসম! যদি আমি জীবিত থাকি তাহলে অন্য সকল শাখা নদী ভরাট করে মূল নদীটি স্রোতোস্বিনী করে ছাড়বো।
ফুফু হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন। গোত্রের লোকদের তিনি বললেন: এসব কিছু তোমাদের কর্মফল। তোমরা 'উমার ইবন খাত্তাবের (রা) খান্দানের মেয়েকে বিয়ে করে আনলে। শেষমেষ ছেলে নানার দিকেই চলে গেল। ১৩৫
টিকাঃ
১২৯. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-৫৪
১৩০. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/১৭৩; আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার-৩২
১৩১. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/১৭৩
১৩২. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১১২
১৩৩. প্রাগুক্ত-১১৮, ১১৯; তাবি'ঈন-৩৩০
১৩৪. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১১৭
১৩৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/২১৪; তাবাকাত-৫/৩৭৩; আল-কামিল ফিত তারীখ-৫/৬৪-৬৫; আ'জামু 'উজামা' আল-মুসলমীন-১৪৫