📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 জোর-জবরদস্তিমূলক দখলকৃত অর্থ-সম্পদ ফেরত দান

📄 জোর-জবরদস্তিমূলক দখলকৃত অর্থ-সম্পদ ফেরত দান


এ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজটি ছিল বছরের পর বছর ধরে উমাইয়্যা শাহী খান্দানের লোকেরা জোর-জবরদস্তীমূলকভাবে জনগণের যে সকল ভূ-সম্পত্তি দখল করে নিয়েছিল তা তার প্রকৃত মালিককে ফেরত দান। এ কাজে গোটা খান্দানের প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়া ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) সর্বপ্রথম এই মহৎ কাজটি সম্পাদনে উদ্যোগী হন। আর এ কাজের সূচনা করেন নিজের পরিবার ও খান্দান থেকে।

বানু উমাইয়্যা খলীফাগণ সাধারণ মানুষের অর্থ-সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি যা অন্যায়ভাবে দখল করেছিল তা ফেরত দেওয়া ইসলামী খিলাফতের একজন মহান মুজাদ্দিদের প্রথম দায়িত্ব ছিল। আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দ্বারা সেই কাজটি সম্পাদন করেন। তিনি সুলায়মান ইবন 'আবদিল মালিকের কাফন-দাফন ও খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায় ও আনুষ্ঠানিকতাগুলো শেষ করে ঘরে ফিরে একটু বিশ্রাম নিতে চান। তখন তাঁর চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোর পুত্র আবদুল মালিক এসে বলেন, 'আপনি জোর-জবরদস্তীমূলকভাবে দখল করা সম্পদ ফেরত দানের পূর্বে বিশ্রাম নিতে চাচ্ছেন? 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বললেন, আমি সুলায়মানের কাফন- দাফনের জন্য সারা রাত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। তাই একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর যুহর নামাযের পরে এ কাজে হাত দিব। কিন্তু আবদুল মালিক বললেন, যুহর নামায পর্যন্ত আপনার বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কে দিবে? 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের উপর তাঁর এই মন্তব্যের এত প্রভাব পড়ে যে, তাঁকে তিনি কাছে ডেকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেন এবং কপালে চুমু দিয়ে বলেন! 'সেই আল্লাহর শোকর যিনি আমাকে এমন সন্তান দান করেছেন যে আমাকে ধর্মীয় কাজে সাহায্য করে।' ১০৮ বিশ্রামের কথা তিনি ভুলে গেলেন এবং তৎক্ষণাৎ বিছানা ছেড়ে ঘোষণা করলেন যে কারো কোন অন্যায়ভাবে কোন সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সে যেন উপস্থাপন করে।

ভিন্ন একটি বর্ণনায় এসেছে যে, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এ ব্যাপারে পরামর্শ করলেন মায়মূন ইবন মিহরান, মাকহুল ও আবূ কিলাবার সাথে। এ তিনজন তখন বিখ্যাত মুহাদ্দিছ তাবি'ঈ। মাকহুল ক্ষীণকণ্ঠে দুর্বল ভাষায় তাঁর যে মতামত প্রকাশ করেন তা 'উমারের মনোপূত না হওয়ায় তিনি মায়মূন ইবন মিহরানের দিকে তাকান। মায়মুন বললেন, আপনার পুত্র 'আবদুল মালিককেও ডাকুন। তাঁর মতামতও আমাদের চেয়ে কোন অংশে গুরুত্বহীন নয়। আবদুল মালিককে ডাকা হলো। 'উমার বললেন, মানুষ তাদের ছিনিয়ে নেওয়া ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছে- এ ব্যাপারে তোমার মত কি? 'আবদুল মালিক বললেন, আপনি এক্ষুণি তা ফিরিয়ে দিন। তা না হলে, যারা জোর-জবরদস্তীমূলক এসব সম্পদ দখল করে নিয়েছিল, আপনিও তাদের কাজের অংশীদার হবেন। ১০৯

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, 'আবদুল মালিক ইবন 'উমার তাঁর পিতাকে বলেন: আব্বা! আপনি এখনো কেন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন না? আল্লাহর কসম! সত্য প্রতিষ্ঠায় যদি আমাকে-আপনাকে ডেগের টগবগে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় তাতেও আমি কোন পরোয়া করবো না। 'উমার তাঁকে বলেন: ছেলে! তাড়াহুড়ো করো না। আল্লাহ কুরআনে মদের দু'বার নিন্দার পর তৃতীয়বার হারাম ঘোষণা করেন। আমি আশঙ্কা করছি, যদি এক সাথে বহু কিছু চাপিয়ে দিই তাহলে তারা এক সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। আর তাতে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। ১১০

তিনি সর্বপ্রথম স্ত্রী ফাতিমা বিন্ত 'আবদিল মালিককে বলেন:
'যদি তুমি আমার সঙ্গ চাও তাহলে তোমার যাবতীয় অর্থ-সম্পদ, অলঙ্কারাদি ও মূল্যবান রত্নরাজি মুসলমানদের বায়তুল মালে জমা দাও। কারণ এসব কিছু তাদের। আমি, তুমি ও এ সকল সম্পদ একই গৃহে থাকতে পারে না।'

স্বামীর একান্ত অনুগত স্ত্রী বিনা বাক্য ব্যয়ে তাঁর সকল জিনিস যা তিনি পিতৃকূলের দিক থেকে লাভ করেছিলেন, বায়তুল মালে জমা দেন। ১১১ এমনকি তাঁর পিতা খলীফা 'আবদুল মালিক তাঁকে একটি অতি মূল্যবান রত্ন উপহার দিয়েছিলেন। 'উমার তাঁকে বলেন, এটিও বায়তুল মালে জমা দাও, নয়তো আমাকে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হও। অগত্যা সেটিও তিনি জমা দেন। 'উমারের ইনতিকালের পর ইয়াযীদ ইবন 'আবদিল মালিক খলীফা হয়ে বোনকে সেই রত্নটি ফেরত দিতে চান, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। ১১২

তিনি নিজের ও স্ত্রীর সকল দাসীকে ডেকে বলেন:
'আমার উপর একটি মহাদায়িত্ব চেপে বসেছে যা তোমাদের প্রতি আমার কর্তব্য পালনে আমাকে বিরত রেখেছে। সুতরাং তোমাদের কেউ মুক্তি চাইলে আমি মুক্তি দিচ্ছি, আর কেউ আমার অধিকারে থাকতে চাইলে, তাকে রেখে দিচ্ছি। তবে আমার নিকট থেকে তোমরা কিছুই পাবে না। তখন তারা হতাশ হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।' ১১৩

অতঃপর শাহী খান্দানের সদস্যদের সমবেত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন: 'মারওয়ানের বংশধরগণ! সম্মান, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিরাট একটি অংশ আপনারা লাভ করেছেন। আমার ধারণা, মুসলিম উম্মাহ্র মোট সম্পদের অর্ধেক অথবা দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে আপনাদের অধিকারে।' উপস্থিত লোকেরা খলীফার এই ইঙ্গিত সহজেই বুঝে যায়। তারা বলে ওঠে : যতক্ষণ আমাদের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ আমরা এটা হতে দেব না। আল্লাহর কসম! আমরা না আমাদের বাপ-দাদাদেরকে কাফির বানাতে পারি, আর না পারি আমাদের সন্তানদেরকে কপর্দকশূন্য হতদরিদ্র বানাতে।' ১১৪

তিনি আরেকদিন মারওয়ান বংশের লোকদের ডেকে বললেন: তোমাদের হাতে মানুষের যে সকল অধিকার আছে তা ফিরিয়ে দাও। আমি যা পছন্দ করিনে তা করতে আমাকে বাধ্য করো না। ফলে এমন হতে পারে যে, তোমরা যা পছন্দ করো না তাই আমি করতে তোমাদেরকে বাধ্য করছি। কেউ তাঁর একথার কোন উত্তর দিল না। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন: তোমরা আমার কথার জবাব দাও। তখন একজন বললো: আল্লাহর কসম! আমাদের বাপ-দাদার সূত্রে আমরা যে সম্পদের মালিক হয়েছি তা আমরা ছেড়ে দেব না। আর তা দিলে আমরা ফকীর ও দুর্বল হয়ে পড়বো। তাছাড়া আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে কাফির বলতে পারি না। 'উমার বললেন: আমি যার অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই সে ব্যাপারে যদি তোমরা সহযোগিতা না কর তাহলে খুব শিগগির আমি তোমাদের ঔদ্ধত্য ভেঙ্গে গুঁড়ো করে দেব। কিন্তু আমি বিশৃঙ্খলার ভয় করি। আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, ইন্‌শাআল্লাহ প্রত্যেককে আমি তার অধিকার অবশ্যই ফিরিয়ে দেব। ১১৫

অতঃপর তিনি সাধারণ মুসলমানদের মসজিদে সমবেত করে তাদের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন। সেই ভাষণের কিছু অংশ নিম্নরূপ:
'এই লোকেরা (বানু উমাইয়্যা) আমাদেরকে অনেক অর্থ-সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি দান করেছেন। আল্লাহর কসম! তাদের না এসব কিছু দেওয়ার অধিকার ছিল, আর না ছিল আমাদের নেওয়ার। এখন তা আমার হাতে এসেছে এবং সে ব্যাপারে কেবল আল্লাহ ছাড়া আমার নিকট থেকে হিসাব নেওয়ার আর কেউ নেই। এখন আমি সকল ভূ-সম্পত্তি তার প্রকৃত মালিককে ফেরত দিচ্ছি। আর সে কাজ আমি আমার নিজের থেকে ও আমার খান্দানের থেকে শুরু করেছি।'

পূর্বেই একটি ঝুড়িতে সেই সকল সম্পদের দলিলপত্র ও ম্যাপ এনে রাখা হয়েছিল। তিনি ভাষণ শেষ করে তাঁর বিশ্বস্ত দাস মুযাহিমকে সেই ঝুড়ি থেকে একটি একটি করে দলিল উঠিয়ে পাঠ করতে নির্দেশ দিলেন। মুযাহিম একটির পাঠ শেষ করলে তিনি সেটা তার হাত থেকে নিয়ে কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করতে থাকেন। সকাল থেকে যুহরের নামায পর্যন্ত সেদিন এ কাজ চলতে থাকে। ১১৬

তাঁর এসব ভূ-সম্পত্তি ইয়ামন, ইয়ামামাসহ আরবের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিল। খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয এসব ভূ-সম্পত্তির প্রত্যর্পণ শেষ করে নিজেকে দায়মুক্ত করেন। এমনকি একটি আংটির মূল্যবান মুক্তো, যেটি ওয়ালীদ তাঁকে দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি ফিরিয়ে দেন। এ অবস্থা দেখে বিশ্বস্ত ও অনুগত চাকর মুযাহিম চুপ থাকতে পারলো না, সে বলে বসলো, আপনার সন্তানদের জীবিকার কি ব্যবস্থা হবে? 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের দু'গণ্ড বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। এ অবস্থায় তিনি বললেন: 'তাদেরকে আমি আল্লাহর জিম্মায় ছেড়ে দিচ্ছি।' তিনি নিজের এবং পরিবারের ভরণ- পোষণের জন্য কেবল খায়বারের ভূ-সম্পদ ও একটি জলাশয় রেখে দেন। যেটি তিনি নিজের প্রাপ্ত ভাতার অর্থ দিয়ে খনন করেছিলেন। এই জলাশয় ও খায়বারের ভূ-সম্পত্তি থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ছিল মাত্র এক শো পঞ্চাশ দীনার। কিন্তু যখন তিনি অবগত হলেন যে, রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় খায়বারের এ ভূ-সম্পত্তিতে ছিল সাধারণ মুসলমানের অধিকার। কিন্তু তৃতীয় খলীফা হযরত 'উছমান (রা) এটা মারওয়ানের জমিদারীর অন্তর্ভুক্ত করে দেন। সেখান থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে এটার মালিক হন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয। তিনি এ সম্পত্তিও ফেরত দেন। এখন কেবল অবশিষ্ট থাকে জলাশয়টি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল 'ফাদাক'-এর বাগিচাটি। এটিও হস্তান্তর হয়ে তাঁর অধিকারে এসেছিল। ইবন সা'দ লিখেছেন, যখন তিনি খলীফা হন তখন পর্যন্ত তাঁর নিজের ও পরিবারের জীবিকা ও যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ হতো এই ফাদাকের উৎপন্ন ফসল থেকে। যার বাৎসরিক মূল্য ছিল দশ হাজার দীনার। কিন্তু খলীফা হওয়ার পরই তিনি ফাদাকের ব্যাপারে রাসূল (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের কার্যক্রম কি ছিল তা জানার চেষ্টা করেন। যখন প্রকৃত সত্য তাঁর সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো তখন তিনি গোটা মারওয়ান খান্দানের সদস্যদের সমবেত করে বললেন, ফাদাকে ছিল রাসূলুল্লাহর (সা) একান্ত অধিকার। এর আয় তিনি নিজের ও বানু হাশিমের বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যয় করতেন। হযরত ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এটি দাবী করেন; কিন্তু তিনি তাঁকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। দ্বিতীয় খলীফা হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) সময় পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু ছিল। মু'আবিয়া (রা) বানু হাশিমদের থেকে তা কেড়ে নিয়ে মারওয়ানকে দান করেন। আর তিনি সেটি নিজের খামারের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তারপর সেটি উত্তরাধিকার সূত্রে আমার অধিকারে এসেছে। কিন্তু যে জিনিস রাসূল (স) ফাতিমাকে (রা) দেননি তাতে আমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় কেমন করে? এখন আমি আপনাদের সকলকে সাক্ষী রেখে বলছি, রাসূলুল্লাহর (সা) সময়ে ফাদাক যে অবস্থায় ছিল, আমি আবার সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দিলাম। ১১৭

অতঃপর তিনি আবু বকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন 'আমর ইবন হাযমকে একটি চিঠি লেখেন। তাতে তিনি বলেন, অনুসন্ধানের পর আমি অবগত হয়েছি যে, ফাদাকের আয় ভোগ করা আমার জন্য বৈধ নয়। এ কারণে আমি তা পূর্বের সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যে অবস্থায় রাসূল (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে ছিল। আমার এই চিঠি আপনার হাতে পৌছার পর ফাদাক এমন এক ব্যক্তির দায়িত্বে অর্পণ করুন যে তার সকল অধিকার রক্ষার সাথে সাথে তত্ত্বাবধানও করতে পারে। ১১৮

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের স্ত্রী ফাতিমার একটি দাসী ছিল যার প্রতি তিনি কিছুটা দুর্বল ছিলেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর একদিন দাসীটি সেজেগুজে তাঁর সামনে আসে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি ফাতিমার মালিকানায় কিভাবে এলে? বলে, হাজ্জাজ কুফার একজন কর্মকর্তাকে জরিমানা করে। আমি ছিলাম সেই কর্মকর্তার দাসী। হাজ্জাজ তার নিকট থেকে আমাকে গ্রহণ করে খলীফা আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের নিকট পাঠিয়ে দেয়। আমি তখন একেবারেই ছোট। এ কারণে 'আবদুল মালিক আমাকে তাঁর কন্যা ফাতিমার হাতে তুলে দেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয জিজ্ঞেস করেন, সেই কর্মকর্তার বর্তমান অবস্থা কি? বলে, তিনি মারা গেছেন, তবে তাঁর সন্তানরা জীবিত আছে। তাদের অবস্থা এখন খুব খারাপ। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তৎক্ষণাত তাদেরকে ডেকে পাঠান। তারা উপস্থিত হলে তাদের সকল অর্থ, এই দাসীসহ ফেরৎ দেন। দাসীটি তার পূর্বের মনিব-পুত্রদের সাথে যাওয়ার সময় 'উমারকে লক্ষ্য করে বলে: আপনার ভালোবাসার কি হলো? বললেন, তা এখনো আছে, বরং তা আরো বেড়ে গেছে। ১১৯

আম্বাসা ইবন সা'ঈদ ইবন আল-'আস ছিলেন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। খলীফা সুলায়মান ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁকে বিশ হাজার দিরহাম বায়তুল মাল থেকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ বাস্তবায়নের দাপ্তরিক কাজ শেষ হওয়ার পথে ছিল, এমন সময় সুলায়মান মারা যান। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয খলীফা হন। সেই বন্ধু টি তাঁর নিকট আসেন এবং বন্ধুত্বের সুবাদে সেই অর্থ দাবী করেন। তিনি তাঁকে বলেন, বিশ হাজার দীনার তো চার হাজার মুসলিম পরিবারকে দেওয়া যেতে পারে। এত বেশী অর্থ আমি একজনকে কিভাবে দিই? 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের খামারের অন্তর্ভুক্ত ছিল 'জাবাল আল-ওয়ারাস' নামে একটি পাহাড়। বন্ধুটি একটু খোঁচা মেরে বলেন, তাহলে 'জাবাল আল-ওয়ারাস' নিজের অধিকারে রাখছো কেন? তিনি বলেন, তোমার এই খোঁচাতে আমার স্মরণ হয়েছে। আমি তো এর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এরপর তিনি 'আবদুল 'আযীযের জমিদারী ও খামারের সকল দলিল-দস্তাবেজ আনিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ১২০

যে সকল কর্মকর্তা তাঁর এই নির্দেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি করতো তাদের প্রতি ভীষণ নারাজ হতেন। 'উরওয়া ছিলেন ইয়ামনের প্রশাসক। একবার তিনি খলীফার এই নির্দেশ পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করেন। বিষয়টি তিনি অবহিত হয়ে 'উরওয়াকে লেখেন, আমি তোমাকে লিখেছি যে, তুমি মুসলমানদের জবর-দখলকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দাও, আর তুমি সে ব্যাপারে আমার সামনে নানারকম প্রশ্ন উত্থাপন করে চলেছো। তোমার হয়তো জানা নেই যে, তোমার ও আমার মাঝের দূরত্ব কত এবং তোমার মৃত্যুর সময়ও তোমার জানা নেই। আমি যদি তোমাকে লিখি একজন মুসলমানের ছিনিয়ে নেওয়া ছাগল ফিরিয়ে দাও, জবাবে তুমি লিখছো, ছাগলটি ধুসর না কালো বর্ণের? মুসলমানদের সম্পদ ফিরিয়ে দাও, আর এ ব্যাপারে আমার সাথে পত্র লেখালেখি বন্ধ কর। ১২১

আবুয যিনাদ বলেন: আমি ছিলাম 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সেক্রেটারী। তিনি মদীনার ওয়ালী 'আবদুল হামীদের নিকট তথাকার জবর-দখলকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্র লিখতেন। আর 'আবদুল হামীদ সেই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে চেয়ে আবার পত্র লিখতেন। একবার 'আবদুল হামীদের এমন একটি পত্রের জবাবে তিনি লেখেন: ১২২
'আমার মনে হচ্ছে, আমি যদি তোমাকে লিখি যে, এক ব্যক্তিকে একটি বকরী দাও, তাহলে তুমি অবশ্যই আমাকে লিখবে : সেটা ভেড়া না ছাগল? আমি যদি দু'টির যে কোন একটির কথা লিখি, তুমি অবশ্যই লিখবে : সেটা নর না মাদী? যদি আমি যে কোন একটির কথা লিখি, তুমি লিখবে : ছোট না বড়? যখন আমি তোমাকে কোন অন্যায়- অবিচারের ব্যাপারে কোন কিছু লিখি, আমার কাছে দ্বিতীয়বার কিছু জানতে না চেয়ে আমার নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।'

তাঁর নিয়োগকৃত কিছু কর্মকর্তা তাঁকে অবহিত করতেন যে, তার পূর্বের কর্মকর্তা জোর করে আল্লাহর সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। আমীরুল মু'মিনীনের নির্দেশ পেলে তারা সেসব সম্পদ তাদের নিকট থেকে জোরপূর্বক উদ্ধার করতে পারেন। খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লিখিত ফরমান পাঠাতেন যে, এ ব্যাপারে আমার সাথে পরামর্শের প্রয়োজন নেই। যদি সাক্ষী থাকে তাহলে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে, স্বীকারোক্তি থাকে তো তার ভিত্তিতে সম্পদ ফিরিয়ে নাও। অন্যথায় হলফ নিয়ে ছেড়ে দাও। 'আদী ইবন আরতাত ও 'আবদুল হামীদের সাথে এমন আচরণ করা হয়। ১২৩

বায়তুল মাল থেকে যে অর্থ ফেরত দেওয়া হতো সে সম্পর্কে প্রথমে নির্দেশ দেন যে, যখন থেকে এ অর্থ বায়তুল মালে ঢোকানো হয়েছে সে সময় থেকে তার যাকাত কেটে রাখতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে এ নির্দেশ প্রত্যাহার করে কেবল এক বছরের যাকাত নেওয়ার কথা বলেন। ১২৪

নিজের ও নিজ খান্দানের অন্যায়ভাবে দখলকৃত ভূ-সম্পত্তি ফেরতদানের পর্ব শেষ করে সাধারণভাবে জোর-জবরদস্তী দখল করা সম্পদের দিকে দৃষ্টি দেন। হযরত মু'আবিয়ার (রা) সময় থেকে নিয়ে তাঁর সময় পর্যন্ত অন্যায়ভাবে দখল করা স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ সবই এক এক করে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। হযরত মু'আবিয়া (রা) ও ইয়াযীদের উত্তরাধিকারীদের নিকট থেকে এ রকম সম্পদ উদ্ধার করে তার প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেন।

শাম ছাড়াও খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্ণরদের জোর করে দখল করা সম্পদ প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে ফেরত দানের নির্দেশ দেন।

আবুয যিনাদ বলেন, আমরা যারা ইরাকের প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম তাদেরকে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয লেখেন যে, আমরা যেন প্রত্যেকের ছিনতাইকৃত অধিকার ফিরিয়ে দিই। নির্দেশ মতো আমরা এ কাজ শুরু করলে বায়তুল মাল শূন্য হয়ে যায়। ফলে শাম থেকে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে অর্থ পাঠাতে হয়।

আবূ বকর ইবন 'আমর ইবন হাযম বলেন, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এমন কোন চিঠি আসতো না যাতে জোর-দখলকৃত সম্পদের ফিরিয়ে দেওয়া, সুন্নাতের পুনরুজ্জীবন, বিদ'আত দূরীকরণ, অথবা অর্থ বণ্টন ও ভাতা নির্ধারণের দিক নির্দেশনা থাকতো না। একবার লেখেন, বিভিন্ন অফিসের খাতাপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা কর। যদি পূর্বের কোন কর্মকর্তা কারো অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে এমন ধরা পড়ে তাহলে অত্যাচারিত ব্যক্তি জীবিত থাকলে তাকে এবং মৃত্যুবরণ করে থাকলে তার উত্তরাধিকারীদের তা ফিরিয়ে দাও। ১২৫

ইমাম আশ-শাফি'ঈ (রহ) বলেন: ১২৬
'তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের যে চিঠি লিখতেন তাতে তিনটি বিষয় ঘুরেফিরে আসতো: কোন সুন্নাতের পুনরুজ্জীবন অথবা বিদ'আতের নিশ্চিহ্নকরণ, অথবা হতদরিদ্রদের মাঝে অর্থ বণ্টন অথবা অন্যায়-অবিচারের প্রতিবিধান।'

ইরাকে এত বেশী পরিমাণ সম্পদ ফেরত দেওয়া হয় যে, সরকারী কোষাগার শূন্য হয়ে যায় এবং তথাকার সরকারী ব্যয় নির্বাহের জন্য 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে দিমাঙ্ক থেকে অর্থ পাঠাতে হয়।

সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া সহজীকরণের দিকেও দৃষ্টি রাখা হয়। মালিকানা প্রমাণের জন্য বড় ধরনের কোন সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রয়োজন ছিল না। মামুলী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলেই মালিক তাঁর বেহাত হওয়া সম্পদ ফেরত পেত। যারা মৃত্যুবরণ করেছিল তাদের উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল। ১২৭ ফেরত দানের এ ধারা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) ওফাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

তিনি ঘোষক নিয়োগ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন এই ঘোষণা দানের জন্য: 'কারো প্রতি কোন রকম জুলুম করা হয়ে থাকলে সে যেন তার প্রতিকারের আবেদন জানায়।' ঘোষণা শুনে শুভ্র কেশ ও শ্মশ্রু বিশিষ্ট হিমসের একজন অমুসলিম যিম্মী খলীফা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের নিকট এসে বলে: ইয়া আমীরাল মু'মিনীন! আমি আপনার নিকট কিতাবুল্লাহর (আল্লাহর কিতাব) বাস্তবায়নের আবেদন জানাচ্ছি। 'উমার বললেন: আপনার বিষয়টি খুলে বলুন। লোকটি বললো: আল-'আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ ইবন 'আবদুল মালিক আমার ভূমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। আল-'আব্বাস সেখানে বসা ছিল। 'উমার বললেন: 'আব্বাস! এ ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? 'আব্বাস বললো: এ ভূমি আমার পিতা আল-ওয়ালীদ আমাকে দিয়েছেন। তিনি লিখিত একটি দলিলও করে দিয়েছেন। 'উমার বললেন ওহে যিম্মী! তোমার আর কোন কথা আছে কি? সে বললো: আমি আপনার নিকট কিতাবুল্লাহর বাস্তবায়ন চাই। 'উমার তখন মন্তব্য করলেন: আল-ওয়ালীদের কিতাবের (লেখা) চেয়ে কিতাবুল্লাহ অধিকতর অনুসরণযোগ্য। অতএব, হে আব্বাস! তুমি তার ভূমি ফেরত দাও। 'আব্বাস সে ভূমি তাকে ফেরত দেয়। ১২৮

এভাবে তিনি নিজের অধিকারে এবং তাঁর খান্দানের দখলে থাকা সকল সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি একটি একটি করে যথার্থ মালিককে ফেরত দেন।

'উমার খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর জনৈক ব্যক্তি এসে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললো: আমীরুল মু'মিনীন! এই লোকটির বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন। একথা বলে সে এক ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে দেখায়। 'উমার জিজ্ঞেস করেন: কোন বিষয়ে? সে বললো: আমার সম্পদ জোর করে হাতিয়ে নিয়েছে এবং আমার পিঠে মেরেছে। 'উমার সেই লোকটিকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন: সে যা বলছে তা কি ঠিক? বললো: সে ঠিক বলছে। এ সম্পদ দখল করার জন্য ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিক আমাকে লিখিত নির্দেশ দেন। আপনাদের আনুগত্য আমাদের জন্য ফরয বা অবশ্যকর্তব্য। 'উমার বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছো। আল্লাহর আনুগত্য হয় এমন কাজ ছাড়া অন্য কিছুতে আমাদের আনুগত্য তোমাদের জন্য জরুরী নয়। অতঃপর তিনি সেই ভূমি ফেরত দানের নির্দেশ দেন। ১২৯

টিকাঃ
১০৮. 'আবদুস সাফওয়া-২/১১৫
১০৯. সুওয়ারুম মিন হায়াত তাবি'ঈন-৮১-৮২
১১০. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৪/৪৩৮
১১১. আল-কাসিম ফিত তারীখ-৫/৪১
১১২. তারীখ আল-খুলাফা'-২৩৩
১১৩. সিফাতুস সাফওয়া-২/১১৮
১১৪. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১১৫
১১৫. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৪/৪৩৭
১১৬. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১৯৮; জামহারাতু খুতাব আল-'আরাব-২/২০৮
১১৭. 'ফাদাক' হিজাযের একটি পল্লী। মদীনা থেকে পায়ে হেঁটে বা জন্তুযানে দুই অথবা তিন দিনের পথ। হিজরী সপ্তম সনে 'ফাই' অর্থাৎ যুদ্ধ ছাড়া সন্ধির ভিত্তিতে এটা রাসূলুল্লাহর (সা) অধিকারে আসে। পরবর্তীকালে হযরত ফাতিমা (রা) দাবী করেন যে, এটি রাসূল (সা) তাঁকে দান করে গেছেন। 'উমার (রা) এটা রাসূলুল্লাহর (সা) ওয়ারিছদেরকে দান করেন। মু'আবিয়া (রা) এটাকে মারওয়ানকে দান করেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে তা 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের হাতে পৌঁছে। তিনি খলীফা হওয়ার পর ফাতিমার (রা) বংশধরদের হাতে তুলে দেন। ইয়াযীদ ইবন 'আবদিল মালিক আবার তা ছিনিয়ে নেন। আব্বাসীয় খলীফা আবুল 'আব্বাস আস-সাফফাহ আবার তা হাসান ইবন হাসান ইবন 'আলীর (রা) হাতে ফেরত দেন। মানসূর খলীফা হয়ে আবার তা কেড়ে নেন। কিন্তু খলীফা মাহদী ফেরত দেন। খলীফা হাদী আবার তা ছিনিয়ে নেন। এভাবে খলীফা আল-মামুনের হাতে পৌঁছে। তিনি হযরত 'আলীর (রা) বংশধরদের বরাবরে এর একটি দলীল করে দেন।
১১৮. সুনান আবী দাউদ, কিতাবুলকারাজ ওয়াল ইমারাহ; আল-ইব্দ আল-ফারীদ-৪/৪৩৫; তারীখ আল-ইয়া'কৃবী-২/৩০৫-৩০৬
১১৯. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১৫৬
১২০. ইবন 'আবদিল হাকাম, সীরাত-৫৬-৫৭
১২১. ইবনুল জাওযী, সীরাত-৯৭
১২২. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৩/৯; ৪/৪৩৭
১২৩. ইবনুল জাওযী, সীরাত-৮৪
১২৪. তাবাকাত-৫/২৫২
১২৫. প্রাগুক্ত
১২৬. আল-কাসিম ফিত তারীখ-১/৬৫
১২৭. তাবাকাত-৫/২৫২; তাহযীব আত-তাহযীব-১/২০
১২৮. আল-আজিরী, আখবারু 'উমার-৫৮; আ'জামু 'উজামা' আল-মুসলিমীন-১৪৪
১২৯. আল-'ইব্দ আল-ফারীদ-৪/৪৩৪

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 সম্পদ ফেরত দানের প্রতিক্রিয়া

📄 সম্পদ ফেরত দানের প্রতিক্রিয়া


হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই কর্ম পদ্ধতির প্রভাব পড়লো বিভিন্ন জনের উপর বিভিন্ন রকম। যে খারেজী সম্প্রদায় সর্বদা উমাইয়্যা খলীফাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা উড্ডীন রাখতো তারা এই 'আদল ও ইনসাফের কথা শুনে সম্মিলিতভাবে পরিষ্কারভাবে বলে দিল এখন এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমাদের সঙ্গত হবে না। ১২৯ তবে গোটা বানু উমাইয়্যা খান্দান একসাথে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো। প্রথমতঃ ব্যক্তিগত সম্পদ যা তারা ভোগ করছিল তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এর কারণ ছিল। তাছাড়া যে বিশেষ মর্যাদা ও আভিজাত্য তারা ধারণ করেছিল তা তাদেরকে সমতা ও সাম্যবাদিতার কথা একেবারেই ভুলিয়ে দিয়েছিল। এ কারণে যখন তারা নিজেদেরকে অন্য সকল মুসলমানের সংগে একই কাতারে পাশাপাশি দেখতে পেল তখন ভীষণ অপমান বোধ করলো। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়টি এই ছিল যে, হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এই কর্ম পদ্ধতিতে তাদের অন্তরে এই দৃঢ় প্রত্যয় জন্মেছিল যে, তাঁর পূর্ববর্তী উমাইয়্যা খলীফাগণ যে কর্ম পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল আইনগত দিক দিয়ে অবৈধ এবং 'আদল ও ইনসাফের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ কারণে এই খান্দানের পুরো ধারাবাহিকতাকে তারা সম্পূর্ণ চিহ্ন যুক্ত দেখতে পাচ্ছিল। আর তাই এ খান্দানের বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে খোদ 'উমারের সামনে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয মারওয়ান বংশের সকলকে সমবেত করে বলেন, 'ওহে মারওয়ান বংশের লোকেরা! তোমরা মান-সম্মান ও ধন-সম্পদের বিরাট একটি অংশ লাভ করেছিলে। আমার ধারণা মতে এই উম্মাতের সকল সম্পদের অর্ধেক অথবা এক তৃতীয়াংশ তোমাদের অধিকারে এসে গিয়েছিল।' তাঁর একথা শুনে সকলে একেবারে নীরব থাকে। 'উমার তাদেরকে বলেন, 'তোমরা আমার একথার জবাব দাও।' সকলে এক বাক্যে বলে উঠলো 'যতক্ষণ না আমাদের মাথা আমাদের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে কাফির বলতে পারবো না, তেমনিভাবে পারবো না আমাদের সন্তানদের অন্যের মুখাপেক্ষী বানাতে।' একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয হিশাম ইবন 'আবদিল মালিকের সামনে বানু উমাইয়্যাদের অতীত জুলুম-অত্যাচারের আলোচনা করছিলেন। হিশাম নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না, হঠাৎ বলে উঠলেন, 'আল্লাহর কসম! আমরা না আমাদের বাপ-দাদাদের উপর কোন দোষ লাগাতে পারি, আর না পারি আমাদের মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত করতে।'

'উমার বলেন: তোমরা যদি আমাকে এ অধিকার প্রত্যর্পণে সহায়তা না কর তাহলে খুব শিগ্‌গীর আমি তোমাদের মাথা নীচু করে ছাড়বো। কিন্তু আমি বিশৃঙ্খলাকে ভয় করি। তবে আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক বঞ্চিত ব্যক্তির অধিকার অবশ্যই ফিরিয়ে দেব। ১৩০

একদিন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের সামনে বহু দাসী উপস্থাপন করা হচ্ছিল। ঘটনাক্রমে সেখানে 'আব্বাস ইবন আল-ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিকও উপস্থিত ছিল। যখনই কোন সুন্দরী দাসী সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল তখনই সে বলে উঠছিল: 'আমীরুল মু'মিনীন! একে আপনি নিন।' যখন সে বার বার একই কথা বললো তখন 'উমার বললেন: তুমি কি আমাকে ব্যভিচারের জন্য উৎসাহিত করছো? 'আব্বাস সেখান থেকে উঠে পড়ে এবং বাইরে এসে নিজ খান্দানের কতিপয় সদস্যকে বলে! তোমরা এমন ব্যক্তির দরজায় বসে আছ কেন যে কিনা তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে ব্যভিচারী বলে?

'উমার ঘোষণা করেন, এ সকল দাস-দাসীদেরকে তাদের প্রকৃত মনিবের নিকট ফেরত পাঠানো হবে। ১৩১ এ সকল কারণে গোটা মারওয়ান খান্দান 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের এমন ন্যায় ও সুবিচারমূলক কর্ম পদ্ধতিকে দারুণ অপছন্দ করতে থাকে এবং নানাভাবে তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আল-ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিকের পুত্র 'উমার এই 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় একটি পত্র লেখে, যার সারকথা এই:

'আপনি পূর্ববর্তী খলীফাদের প্রতি দোষারোপ করেছেন এবং তাঁদের সন্তানদের প্রতি শত্রুতাবশতঃ তাদের সাথে বিরোধিতার নীতি অবলম্বন করেছেন। আপনি কুরায়শদের সম্পদ এবং তাদের উত্তরাধিকারকে অন্যায়ভাবে বায়তুল মালে ঢুকিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ওহে 'আবদুল 'আযীযের পুত্র! আল্লাহকে ভয় করুন এবং মনে রাখুন, আপনি জুলুম করেছেন। মিম্বরের উপর বসার সাথে সাথে আপনি নিজের খান্দানকে জুলুম-অত্যাচারের জন্য বেছে নিয়েছেন। সেই আল্লাহর শপথ যিনি মুহাম্মাদকে (সা) বহুবিধ বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন। আপনি রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে পেয়ে, যাকে আপনি একটি বিপদ বলে থাকেন, আল্লাহ থেকে বহুদূরে চলে গেছেন। নিজের প্রবৃত্তির কামনা-বাসনায় লাগাম দিন এবং বিশ্বাস করুন যে, আপনি এক মহাপ্রতাপশালীর সামনে ও হাতের মুঠোয় আছেন এবং আপনাকে এ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে না।'

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয যদিও ধৈর্য ও সহনশীলতার বাস্তব প্রতীক ছিলেন তা সত্ত্বেও এই ব্যাপারে তিনি মোটেও নমনীয়তা দেখাননি। সাথে সাথে তিনি 'উমার ইবন আল-ওয়ালীদের পত্রের জবাব দিলেন অত্যন্ত কঠোর ভাষায়। পত্রটির তরজমা নিম্নরূপ:

'তোমার পত্র আমি পেয়েছি। তুমি যেমন লিখেছো আমিও তেমন জবাব দিব। তোমার প্রাথমিক অবস্থা তো এই যে, তোমার মা ছিল বাতাতা সুকুনের (সুকুন) দাসী- যে হিমসের বাজারে মানুষের মনোরঞ্জন করে বেড়াতো, মদের আড্ডাখানায় যেত। যুবইয়ান ইবন যুবইয়ান তাকে মুসলমানদের গণীমতের মাল থেকে খরিদ করে তোমার পিতাকে উপহার দেয়। সেই মায়ের পেটে তোমার জন্ম। মা যেমন নিকৃষ্ট, সন্তানও তেমন নিকৃষ্ট। এরপর লালিত-পালিত হয়ে তুমি একজন অহঙ্কারী জালেমে পরিণত হয়েছো। তোমার ধারণা আমি একজন জালেম। আমি তোমাকে এবং তোমার খান্দানকে আল্লাহর সম্পদ থেকে, যে সম্পদে রয়েছে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকটাত্মীয়, গরীব-মিসকীন ও অসহায় বিধবাদের অধিকার, বঞ্চিত করেছি। তবে আমার চেয়ে বেশী জালেম, আমার চেয়ে আল্লাহর অঙ্গীকারকে পরিত্যাগকারী সেই ব্যক্তি যে তোমাকে তোমার অপরিপক্ক বয়সে স্বল্পবুদ্ধির অবস্থায় মুসলমানদের একটি সেনাশিবিরের কর্মকর্তা নিয়োগ করে তোমাকে নিজের খেয়াল-খুশীমত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ করার ক্ষমতা দান করেছে। এই নিয়োগদানের পিছনে শুধুমাত্র পিতৃ-স্নেহ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না। সুতরাং অভিশাপ তোমার উপর এবং অভিশাপ তোমার জন্মদাতা পিতার উপর। কিয়ামত দিন তোমাদের বিরুদ্ধে কত অভিযোগকারী হবে! তোমার পিতা এ সকল অভিযোগকারীদের থেকে মুক্তি পাবে কিভাবে?

আমার চেয়ে বড় জালেম এবং আমার চেয়ে বড় আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে হাজ্জাজকে সমগ্র আরবের এক-পঞ্চমাংশের উপর নিয়োগ দিয়েছিল। সে অন্যায়ভাবে মানুষের রক্ত প্রবাহিত করতো এবং অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ হাতিয়ে নিত।

আমার চেয়ে বড় জালেম এবং বড় আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে কুররা ইবন শূরাইকের মত একজন পাঁড় বদ্দুকে মিসরের ওয়ালী নিয়োগ করেছিল। সে সেখানে গান-বাজনা, অশ্লীল আনন্দ-ফুর্তি ও মদ পানের অনুমতি দিয়েছিল। আমার চেয়ে বড় জালেম ও আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী সেই ব্যক্তি যে আরবের এক-পঞ্চমাংশে 'আলীয়া বারবারিয়াকে অংশ দিয়েছিল।

আমার যদি সুযোগ হয় তাহলে তোমার খান্দান ও তোমাকে আলোকিত পথে নিয়ে আসবো। দীর্ঘকাল আমরা সত্যকে পরিত্যাগ করেছি। যদি তোমাদেরকে বিক্রী করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইয়াতীম, মিসকীন এবং অসহায় বিধবাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় তাহলেও তা যথেষ্ট হবে না। কেননা, তোমাদের মধ্যে সকলের অধিকার আছে। আমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহর সালাম জালেমদের নিকট পৌছে না।' ১৩২

মারওয়ান বংশের লোকেরা হিশাম ইবন 'আবদিল মালিককে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে 'উমারের নিকট পাঠান। হিশাম তাদের পক্ষ থেকে বলেন, মারওয়ান বংশের লোকেরা বলছে, আপনার নিজের সংগে যে সকল বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে সে ব্যাপারে আপনি যা ইচ্ছা করুন। কিন্তু পূর্ববর্তী খলীফাগণ যা কিছু করে গেছেন তা সেই অবস্থায় বহাল রাখুন। 'উমার হিশামকে জিজ্ঞেস করলেন যদি একই বিষয়ে তোমাদের নিকট দুইটি দলিল থাকে- একটি আমীর মু'আবিয়ার এবং দ্বিতীয়টি 'আবদুল মালিকের, তাহলে তোমরা কোনটি গ্রহণ করবে? হিশাম বললেন, আগেরটি। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তখন বললেন, আমি কিতাবুল্লাহকে আগের দলিল হিসেবে পেয়েছি। এ কারণে, আমার ক্ষমতার আওতাভুক্ত প্রত্যেকটি ব্যাপারে- তা সে আমার সময়ের হোক বা অতীতের সাথে সম্পৃক্ত হোক, সেই কিতাবুল্লাহর নির্দেশ অনুসারে কাজ করবো। এ কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সা'ঈদ ইবন খালিদ বললেন : আমীরুল মু'মিনীন! যে জিনিস আপনার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে আছে সে ক্ষেত্রে আপনি হক ও ইনসাফের সাথে নিজের মত সিদ্ধান্ত নিন। আর পূর্ববর্তী খলীফাগণকে তাঁদের ভালো-মন্দসহ তাঁদের অবস্থায় থাকতে দিন। এতটুকুই আপনার জন্য যথেষ্ট।

'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বললেন: আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করি, যদি কোন ব্যক্তি ছোট-বড় কয়েকজন ছেলে রেখে মারা যায়, তারপর বড়রা শক্তির জোরে ছোটদের বিষয়-সম্পদ দখল করে নেয় এবং ছোটরা তা উদ্ধারের জন্য তোমাদের সাহায্য চায়, তখন তোমরা কি করবে? সা'ঈদ বললেন: তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেব। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয বললেন: আমি তো সেই কাজটি করছি। আমার পূর্ববর্তী খলীফাগণ শক্তির জোরে তাদেরকে দাবিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদের অধীনস্থরাও তাঁদের অনুসরণ করেছিল, এখন আমি যখন খলীফা হয়েছি তখন সেই সকল মানুষ আমার নিকট এসেছে। সুতরাং সবলের নিকট থেকে দুর্বলের এবং উঁচু স্তরের নিকট থেকে নীচু স্তরের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। একথা শুনে ইবনে খালিদ বলে ওঠেন: আল্লাহ আমীরুল মু'মিনীনকে তাওফীক দিন। ১৩৩

একবার বানু মারওয়ানের লোকেরা 'উমারের বাড়ীর দরজায় সমবেত হয়ে 'উমারের ছেলে 'আবদুল মালিককে বলে, হয় আমাদের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে আস অথবা তোমার বাবাকে একথা বল যে, তাঁর পূর্বে যাঁরা খলীফা ছিলেন তাঁরা আমাদের দিতেন এবং আমাদের থেকে নিতেন। আমাদের মান-মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। কিন্তু তোমার বাবা আমাদেরকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছেন। 'আবদুল মালিক পিতাকে এসব কথা বললেন। 'উমার বললেন, তুমি গিয়ে তাদেরকে বলে দাও, যদি আমি আল্লাহর নাফরমানি করি তাহলে কিয়ামতের শাস্তির ভয় করি। ১৩৪

উমাইয়‍্যা খান্দানের লোকেরা একবার 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের ফুফু ফাতিমা বিন্ত মারওয়ানের নিকট গেল। এই ফুফুকে তিনি খুবই আদব-লেহাজ করতেন। তাই লোকেরা তাঁকে বললো, আপনি তাঁকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলুন। ফুফু 'উমারকে তাঁর খান্দানের লোকদের বক্তব্য শোনালেন। 'উমার জবাব দিলেন: যখন শাসকের আপনজনেরা জুলুম-অত্যাচার করে এবং শাসক তা বন্ধ করতে পারে না তখন কোন মুখে সে অন্যদের জুলুম-অত্যাচার বন্ধ করবে? তাদের এমন কোন অধিকার যেমন আমি আটকে রাখিনি, তেমনি তাদের এমন কোন অধিকার কেড়েও নিইনি।

ফুফু বললেন: তোমার খান্দানের লোকেরা তোমাকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তোমার এমন আচরণের জন্য তোমাকে খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে। 'উমার জবাব দিলেন: কিয়ামতের দিনের চেয়ে অন্য কোন জিনিসকে যদি আমি বেশী ভয় করি তাহলে দু'আ করি আল্লাহ যেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রেহাই না দেন।

অতঃপর তিনি একটি দীনার, গোল্ডের একটি টুকরো এবং একটি আংটি আনান। ফুফুর সামনে দীনারটি আগুনে ফেলেন। যখন সেটি আগুনে পুড়ে লাল হয়ে গেল তখন উঠিয়ে গোশতের টুকরোটির উপর রাখেন। সেটি একেবারে ঝলসে গেল। এবার তিনি ফুফুর দিকে তাকিয়ে বলেন, আপনি এ ধরনের শাস্তি থেকে আপনার ভাতিজার মুক্তি চান না?

একটি বর্ণনায় এসেছে, 'উমার একথাও বলেন: ফুফু! রাসূলুল্লাহ (সা) মানুষকে একটি নদী দান করে যান, যেখান থেকে সকলে সমানভাবে পান করতো। পরে আবু বকর নদীটির মালিক হন এবং পূর্ববর্তী অবস্থায় রেখে যান। তারপর 'উমার ইবন আল-খাত্তাব সেটার অধিকারী হলেন। তিনি সেটার ব্যবহারে পূর্ববর্তী দু'জনের অনুসরণ করলেন। অতঃপর তার থেকে আরো অনেক ছোট নদী বের করা হয়। সেই সব নদী থেকে এখনো পর্যন্ত ইয়াযীদ, মারওয়ান, আবদুল মালিক, ওয়ালীদ ও সুলায়মানের বংশধরেরা পান করে পরিতৃপ্ত হচ্ছে। অবশেষে সেটি যখন আমার হাতে এসেছে তখন মূল নদীটি শুকিয়ে গেছে। কাউকে আর পরিতৃপ্ত করছে না। আল্লাহর কসম! যদি আমি জীবিত থাকি তাহলে অন্য সকল শাখা নদী ভরাট করে মূল নদীটি স্রোতোস্বিনী করে ছাড়বো।

ফুফু হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন। গোত্রের লোকদের তিনি বললেন: এসব কিছু তোমাদের কর্মফল। তোমরা 'উমার ইবন খাত্তাবের (রা) খান্দানের মেয়েকে বিয়ে করে আনলে। শেষমেষ ছেলে নানার দিকেই চলে গেল। ১৩৫

টিকাঃ
১২৯. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-৫৪
১৩০. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/১৭৩; আবদুস সালাম নাদবী, সীরাতে 'উমার-৩২
১৩১. আল-'ইকদ আল-ফারীদ-৫/১৭৩
১৩২. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১১২
১৩৩. প্রাগুক্ত-১১৮, ১১৯; তাবি'ঈন-৩৩০
১৩৪. ইবনুল জাওযী, সীরাতু 'উমার-১১৭
১৩৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৯/২১৪; তাবাকাত-৫/৩৭৩; আল-কামিল ফিত তারীখ-৫/৬৪-৬৫; আ'জামু 'উজামা' আল-মুসলমীন-১৪৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px