📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


কাঁদতে কাঁদতে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
[৯৩৩] কাসিম থেকে বর্ণিত, “সাঈদ ইবনু জুবায়ের এত বেশি কাঁদতেন যে, একপর্যায়ে তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।”

দুই রাতে একবার কুরআন খতম
[৯৩৪] আবদুল মালিক ইবনু আবী সুলাইমান সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, “তিনি দুই রাতে একবার করে কুরআন খতম করতেন।”

দুইবার সফর
[৯৩৫] হিলাল ইবনু জানাব বলেন, “রজব মাসের কিছুদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমি সাঈদ ইবনু জুবায়ের সাথে একদিন বের হলাম। তিনি কুফা থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম করেছিলেন। তারপর উমরা থেকে ফিরে এসে যিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবার হাজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম করলেন। তিনি প্রতিবছর দুইবার সফরে বের হতেন। একবার হাজ্জের জন্য, আরেকবার উমরার জন্য।"

এক রাকাতে পুরো কুরআন তিলাওয়াত
[৯৩৬] হিলাল ইবনু ইয়াসাফ বলেন, “সাঈদ ইবনু জুবায়ের কাবাতে প্রবেশ করলেন, তারপর এক রাকাতে পুরো কুরআন পড়ে ফেললেন।”

একটি আয়াত বিশবারেরও অধিক পুনরাবৃত্তি
[৯৩৭] কাসিম ইবনু আবূ আইয়ুব বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে নিম্নোক্ত আয়াতটি বিশবারেরও অধিক পুনরাবৃত্তি করতে শুনেছি :
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
‘তোমরা সেদিনকে ভয় করো, যেদিন আল্লাহর দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে। তারপর প্রত্যেকের যা কৃতকর্ম আছে, তা পুরোপুরি প্রদান করা হবে। কাউকে কোনোরূপ জুলুম করা হবে না।”[১৪৩]

মানুষ পাপ করতে চায়
[৯৩৮] সাঈদ ইবনু জুবায়ের يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ “মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে।”[১৪৪] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “সে বলবে—অচিরেই আমি তাওবা করব।”

জালিমদের কর্মে সন্তুষ্ট না হওয়া
[৯৩৯] সাঈদ ইবনু জুবায়ের وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا “আর যারা জুলুম করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না।”[১৪৫] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “তোমরা তাদের কর্মে সন্তুষ্ট হোয়ো না।”

অন্তর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
[৯৪০] সুফিয়ান একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, “যদি আমার অন্তর মৃত্যু-ভাবনা থেকে কখনো মুক্ত হয় তখন আমার আশঙ্কা হয় যে, না জানি আমার অন্তর নষ্ট হয়ে গেল!”

দুনিয়ার স্বাদ আস্বাদনে অস্থিরতা তৈরি হওয়া
[৯৪১] বুকাইর ইবনু আতীক বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরের কাছে কিছু মধুভর্তি একটি পাত্র নিয়ে আসলাম। তিনি তা পান করলেন। তারপর বললেন, ‘আল্লাহর কসম, এটি আমার মধ্যে প্রশান্তি পাবে না।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন পাবে না?’ তিনি জানালেন, ‘কারণ আমি তা পান করে স্বাদ আস্বাদন করেছি।’”[১৪৬]

দুনিয়া খুবই সামান্য সময়ের নাম
[৯৪২] হিশাম থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবায়ের বলেছেন, “দুনিয়া হলো আখেরাতের সপ্তাহসমূহের মধ্য হতে একটি সপ্তাহ মাত্র।”

আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা
[৯৪৩] আমাশ থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম ডান দিকে থুতু নিক্ষেপ করে বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”

সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়
[৯৪৪] হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন, “আমার সাথে আল্লাহর আচরণ কতই-না চমৎকার। তিনি আমার থেকে একটা (অঙ্গ) নিয়েছেন কিন্তু বাকি তিনটা রেখে দিয়েছেন।"
ক্যান্সারের কারণে তার হাঁটুর দিক থেকে একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ সম্মানিত
[৯৪৫] হিশাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ আল্লাহর জন্য কোনো কিছু করে, তখন সে যেন এমন কিছু না করে, যা কোনো সম্মানিত ব্যক্তির করতে তার লজ্জাবোধ হয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ সম্মানিত এবং তা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার।”

সালাতের মাধ্যমে সবকিছু চাওয়া
[৯৪৬] মালিক ইবনু আনাস বলেন, “উরওয়া এক ব্যক্তিকে দেখল, সে খুব দ্রুত সালাত আদায় করেছে। তিনি তাকে ডেকে বললেন, 'তোমার তো মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই! আমি তো সালাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে (সবকিছু) চাই। এমনকি লবণের জন্যও তার কাছে প্রার্থনা করি।”

চল্লিশ বছর সাওম রাখা
[৯৪৭] হিশাম ইবনু উরওয়াহ বলেন, 'আমার পিতা ত্রিশ বা চল্লিশ বছর সাওম রেখেছেন। ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দিনগুলো ছাড়া বাকি দিনগুলোতে কখনো সাওম ছাড়া থাকতেননি। এমনকি যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও তিনি সাওম অবস্থায় ছিলেন।”

টিকাঃ
[১৪৩] সূরা বাকারা, ২: ২৮১
[১৪৪] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫: ৫
[১৪৫] সূরা হুদ, ১১: ১১৩
[১৪৬] অর্থাৎ দুনিয়ার স্বাদ আস্বাদন করলে তাঁর ভেতরে প্রশান্তি বিদূরিত হয়ে অস্থিরতা চলে আসত। তাই মধু পান করার পর তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেই কথাটি বলেছেন।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


[১৪] মূল গ্রন্থে এটি সাঈদ ইবনু জুবায়েরের অধ্যায়ের অধীনে এসেছে। আলাদা ব্যক্তি হওয়ায় তা স্বতন্ত্র অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হলো। -অনুবাদক

নিজের দোষের প্রতি লক্ষ রাখা
[১৪] ইবনু মুনাব্বিহ বলেন, “যে ব্যক্তি অন্যের দোষ না দেখে নিজের দোষের প্রতি লক্ষ করে, তার জন্য সুসংবাদ। আর সুসংবাদ সে ব্যক্তির জন্য—যে নিজের বাসস্থান না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, দরিদ্র ও দুঃখী লোকদের প্রতি সদয় হয়, পাপমুক্ত সঙ্গিত অর্থসম্পদ থেকে সদকা করে, আলেম-উলামা ও ধৈর্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা করে, সুন্নাহর প্রতি ধাবিত হয় এবং বিদআত থেকে দূরে থাকে।”

দ্বীন মানার সহায়ক
[১৫] জাফর থেকে বর্ণিত, ওয়াহাইব ইবনু মুনাব্বিহ বলেন, “দ্বীন মানার সবচেয়ে সহায়ক গুণ হচ্ছে দুনিয়াবিমুখতা। আর একে সবচেয়ে দ্রুত বিভেদনকারী হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা। প্রবৃত্তির অনুসরণের অন্যতম দাবি হলো, দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। আর দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া থেকে সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি আকর্ষণ থেকে আল্লাহর ক্রোধের কারণ হারাম বস্তুকে হালাল মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়। আর আল্লাহর ক্রোধ এমন এক অসুখ, যার ভিন্ন কোনো ওষুধ নেই। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনো অসুখই কোনো ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, সে যেন নিজেকে (প্রবৃত্তির অনুসরণ না করার মাধ্যমে) অসন্তুষ্ট করে। কারণ, যে নিজেকে অসন্তুষ্ট করে না, সে স্বীয় প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করতে পারে না। যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো কিছু অপছন্দ হলেই তা ছুড়ে ফেলে দেয়, অচিরেই দেখা যাবে তার কাছে দ্বীনের কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।”

আমলহীন দায়ীর অবস্থা
[৯৫০] সিমাক ইবনু ফদল বলেন, “আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, আমলহীন দায়ী ধনুকহীন (তির) নিক্ষেপকারীর ন্যায়।”

ইলমের স্বেচ্ছাচারিতা
[৯৫১] আবদুল মালিক ইবনু হুনাইফ বলেন, "আমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই ইলমেরও কিছু স্বেচ্ছাচারিতা আছে, যেমন ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। [১৪৮]

মানুষের সাথে মেলামেশা করেও তাকওয়াবান থাকা
[৯৫২] উমার ইবনু আবদুর রহমান বলেছেন, "লোকেরা ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহের কাছে বানী ইসরাঈলের ইবাদাত ও পর্যটন সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বললেন, 'যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে তাকওয়াবান থাকতে পারে এবং মানুষের কষ্টদানের ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারে, সে-ই হচ্ছে আমার কাছে বেশি মর্যাদাবান।”

ধনীদের জান্নাতে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য
[৯৫৩] তাইমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, "সুইয়ের ছিদ্রে উটের প্রবেশ করা ধনীদের জান্নাতে প্রবেশ করার চেয়েও সহজ।" [১৪৯]

আল্লাহ তাআলার বুদ্ধিমান বান্দা
[৯৫৪] সুলাইমান ইবনু উআইনা বলেন, "আমরা ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তাআলার কোনো বান্দাই ওই বুদ্ধিমান ব্যক্তির মতো নয়, যে ঘর থেকে বের হয়ে যাকেই দেখে নিজেকে সে তার থেকে নিম্নস্তরের মনে করে। অহংকার তার থেকে নিরাপদ থাকে। কল্যাণ তার থেকে প্রত্যাশা করা যায়। সে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করে। পরবর্তীদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকে। এমনকি ছোট থাকা মর্যাদা পাওয়ার চেয়ে তার কাছে অধিক প্রিয় হয়ে থাকে। দরিদ্রতা তার কাছে ধনাঢ্যতা থেকে বেশি পছন্দনীয় হয়। নিজের বেশি আমলকেও তার কাছে কম মনে হয়। অন্যের কম আমলকেও তার কাছে বেশি মনে হয়। তার জীবনযাপন হয় সামান্য খাবারের ওপর নির্ভর করে। আপন প্রয়োজন উপার্জনে সে বিরক্ত হয় না। হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থেকে দরিদ্রতাকে বরণ করে নেওয়া তার কাছে অধিক প্রিয় হয় হারাম উপার্জনের ধনাঢ্যতা থেকে। আল্লাহর অনুগত হয়ে অভাবকে মেনে নেওয়া তার কাছে বেশি প্রিয় হয় আল্লাহর অবাধ্য হয়ে প্রাচুর্যে মেতে থাকা থেকে।” তারপর তিনি বলেন, দশম বৈশিষ্ট্য—যার মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা ও স্মরণ সমুন্নত হয়—হলো, ঘর থেকে বের হওয়ার পর যে ব্যক্তিই তার মুখোমুখি হয়, তাকেই সে নিজের চেয়ে বড় মনে করে।'

অহংকারের আলামত
[৯৫৫] ওয়াহহবের ছেলে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তাওরাতে লিপিবদ্ধ আছে, অহংকারের আলামত হলো—কোনো ভাই তাকে ডাক দিলে তার ডাকে সাড়া না দেওয়া, আপন জীবনের কসম করে তা পুরা না করা, তার কাছে খাবার নিয়ে আসা হলে এই কথা বলা যে, খাবারটি ভালো নয়। যে ব্যক্তি খাবারের কারণে আল্লাহর প্রশংসা করে সে তার শুকরিয়া আদায় করে।"

সুখকে বিপদ মনে করা
[৯৫৬] উসমান ইবনু মারদাওয়াইহি বলেন, "আমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ ও সাঈদ ইবনু জুবায়েরের সাথে আরাফার দিন ইবনে আমারের পাহাড়ের কাছে অবস্থান করছিলাম। ওয়াহহব সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে বলল, 'হে আবূ আবদুল্লাহ, আপনি আর কত দিন হাজ্জাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকবেন?' তিনি বললেন, 'আমার স্ত্রী গর্ভবতী থাকাবস্থায় আমি বের হয়ে এসেছি। তারপর তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্ম হয়েছে।' তখন ওয়হাব বললেন, 'নিশ্চয়ই আপনাদের পূর্ববর্তীদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে, তারা সেটাকে সুখ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আর সুখের মুখোমুখি হলে সেটাকে বিপদ হিসেবে বিবেচনা করতেন।"

মুনাফিকের স্বভাব
[৯৫৭] আওন আল-আরাবি বলেছেন, “মুনাফিকের স্বভাব হলো, সে প্রশংসা পেতে ভালোবাসে এবং নিন্দা অপছন্দ করে।"
[৯৫৮] ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন, "মুনাফিকের আলামত হলো, সে নিন্দাকে অপছন্দ করে আর প্রশংসা পেতে ভালোবাসে।"

শয়তানের কাছে প্রিয় ব্যক্তি
[৯৫৯] ইবরাহীম ইবনু হাজ্জাজ বলেন, “আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, শয়তানের কাছে আদম-সন্তানদের মধ্যে অতিভোজক ও অতিনিদ্রালু ব্যক্তি থেকে বেশি প্রিয় আর কেউ নেই।"

মুমিনের বিপদ
[৯৬০] ওয়াহহব থেকে বর্ণিত আছে, “মুমিনের জন্য বিপদাপদ চতুষ্পদ জন্তুর বেড়ির ন্যায়।”

কিয়ামাতের দিন পাহাড়ের চিৎকার
[৯৬১] রবাহ বলেন, "ওয়াহহব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, 'যখন পাহাড়কে চলমান করা হবে এবং সে জাহান্নামের আওয়াজ, ক্রোধ, কর্কশধ্বনি ও শ্বাসগ্রহণের শব্দ শুনতে পাবে, তখন পাহাড় মহিলাদের ন্যায় চিৎকার করবে। তারপর পরস্পর ধাক্কা খেয়ে তার ওপরভাগ শেষভাগের ওপর ফিরে আসবে।”

প্রতিদান ও বিনিময় না দেওয়া
[৯৬২] বাক্কার বলেন, আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, “প্রতিদান ও বিনিময় না দেওয়াটাও এক ধরনের ব্যয়কুণ্ঠতা।”

ইবাদাতগুজারের শক্তি বৃদ্ধি পায়
[৯৬৩] মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদাহ বলেন, “ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন, 'যে ইবাদাতগুজার হয়, তার শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর যে অলসতা করে, তার দুর্গতি বৃদ্ধি পায়।”

আল্লাহর ওলীদের অবস্থা
[৯৬৪] সাঈদ ইবনু জুবায়ের ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার সঙ্গীকে বললেন, “চলো আমরা কাছে যাই।” তারপর তিনি তার কাছে এলেন এবং তার ওপর হাজ্জাজের প্রয়োগ করা কঠোরতা ও তাকে বিতাড়িত করার অভিযোগ জানালেন। তখন ওয়াহব তাকে বললেন, "যখন আল্লাহর ওলীদের সাথে কঠোরতার আচরণ করা হয়, তখন তারা প্রত্যাশার আলো দেখেন। আর যখন তাদের সাথে নমনীয়তার আচরণ করা হয়, তখন তারা আতঙ্কিত হন।”

তিনটি বিষয় থেকে সাবধান থাকা
[৯৬৫] সমাদ ইবনু মাকিল থেকে বর্ণিত, “তিনি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষদের খুতবা দিতে শুনেছেন এই বলে-তোমরা আমার থেকে তিনটি বিষয় স্মরণ রাখো। অনুসৃত প্রবৃত্তি থেকে সাবধান থাকবে, অসৎ সঙ্গী থেকে সতর্ক থাকবে, নিজের মতামতের ওপর মুগ্ধ হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।”

কয়েকটি বিষয় শিক্ষা দিলেন
[৯৬৬] আবদুস সমাদ বলেন, “তিনি ওয়াহহবকে তার কোনো এক সঙ্গীকে বলতে শুনেছেন, আমি কি তোমাকে এমন চিকিৎসাবিদ্যা শেখাব না, যাতে চিকিৎসককে নিন্দায় না পড়তে হয়? এমন ফিকহ শেখাব না, যাতে ফকীহকে ভর্ৎসনার ভাগীদার না হতে হয়? এমন বিচক্ষণতা শেখাব না, যাতে বিচক্ষণ ব্যক্তিকে কোনো তিরস্কারের মুখোমুখি না হতে হয়? সে উত্তরে বলল, 'হ্যাঁ, অবশ্যই হে আবূ আবদুল্লাহ।' তখন তিনি বললেন, 'যে চিকিৎসাবিদ্যায় চিকিৎসককে নিন্দায় পড়তে হবে না তা হলো, খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং শেষে তার প্রশংসা করা। আর যে ফিকহের মধ্যে ফকীহকে ভর্ৎসনার ভাগীদার হতে হবে না তা হলো, কোনো কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, জানা থাকলে উত্তর দেওয়া; নয়তো বলে দেওয়া যে, আমি জানি না। আর যে বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয় না তা হলো, বেশি বেশি চুপচাপ থাকা, যতক্ষণ না কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।”

নফসের অবস্থা অনুযায়ী প্রার্থনা কবুল করা হয়
[৯৬৭] আবদুল হামীদ ওয়াহহব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “পূর্ববর্তী যুগের এক ব্যক্তি কিছুকাল ইবাদাত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন প্রার্থনা করল। সে সত্তরটি শনিবার সিয়ামে কাটিয়ে দিলো। প্রতি শনিবারে এগারোটি করে খেজুর খেতো। তারপর আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন চাওয়ার পরও তিনি তা দিলেন না। তখন সে নিজের প্রতি মনোনিবেশ করে বলল, 'হে আমার নফস, তোমার অবস্থানুযায়ী আমাকে দান করা হয়। যদি তোমার কাছে কল্যাণকর কিছু থাকত, তাহলে অবশ্যই তোমার প্রয়োজনীয় বস্তু দিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু তোমার কাছে তো কল্যাণকর কিছু নেই।' ঠিক তখনই একজন ফেরেশতা তার কাছে অবতরণ করে তাকে জানাল, 'হে আদম-সন্তান, এই যে সময়টাতে তুমি নিজে নিজেকে দোষ দিচ্ছ, সে সময়টা তোমার অতীতের সমস্ত ইবাদাত অপেক্ষা উত্তম। তুমি যে প্রয়োজন প্রার্থনা করেছিলে, আল্লাহ তাআলা তা তোমাকে দিয়ে দিয়েছেন।”

কিয়ামাতের সময় সমুদ্র অগ্নিতে উত্তাল হবে
[৯৬৮] ইমরান আবুল হুযাইল শুনেছেন, وَإِذَا الْبِحَارُ سُجَّرَتْ "যখন সমুদ্র উত্তাল হবে।”[১০০] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ওয়াহহাব বলেছেন, “সমুদ্র অগ্নিতে উত্তাল হবে।”

টিকাঃ
[১৪৮] অর্থাৎ সম্পদশালী হলে যেমন অনেক সময় মানুষ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে, অহংকারে আক্রান্ত হয় তেমনি ইলমের অধিকারী হলেও অনেক সময় এই ধরনের অবস্থা হয়ে থাকে।-অনুবাদক
[১৪৯] অর্থাৎ ধনীদের জান্নাতে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যেহেতু ধন-সম্পদ বেশি হবার কারণে তাদের হিসাব-নিকাশও বেশি, আবার তাদের গুনাহের পরিমাণও হয় অধিক।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 তাউস রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 তাউস রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


আমীরের হাদিয়া গ্রহণ করেননি
[৯৬৯] নোমান ইবনু যুবায়ের সানআনি জানিয়েছেন, “মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ অথবা আইয়ুব ইবনু ইয়াহইয়া তাউসের কাছে পাঁচ শ বা সাত শ দীনার পাঠাল। যার মাধ্যমে পাঠাল তাকে তিনি বলে দিলেন, 'যদি তিনি তোমার থেকে তা গ্রহণ করেন, তবে আমীর তোমাকে (উন্নত) বস্ত্র দান করবেন এবং তোমার প্রতি আরও আনুগ্রহ করবেন।' সে দীনারগুলো নিয়ে তাউসের কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বলল, 'হে তাউস, এখানে কিছু খরচপাতি রয়েছে যা আমীর আপনার জন্য তা পাঠিয়েছেন।' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমার এসবের কোনো দরকার নেই।' সে তাকে এগুলো গ্রহণ করে নিতে বলল। কিন্তু তাউস রাহিমাহুল্লাহ তাতে সম্মত হলেন না। তিনি দীনারগুলো ঘরের জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেললেন। অতঃপর দূত সেখান থেকে প্রস্থান করে জানাল, তাউস রাহিমাহুল্লাহ দীনারগুলো গ্রহণ করেছেন। কিছুদিন যাবার পর তাউসের এমন কিছু কর্মকাণ্ডের সংবাদ আমীরের কানে এল যা তার পছন্দ হলো না। তিনি সংবাদ পাঠালেন যেন তার প্রদত্ত সম্পদগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। তাউসের কাছে আমীরের দূত এসে বলল, 'আমীর যে সম্পদ আপনাকে দিয়েছিলেন তা ফেরত দিন।' তিনি জানালেন, 'সেই সম্পদের কিছুই আমি গ্রহণ করিনি।' দূত ফিরে গিয়ে এই সংবাদ জানাল। তারপর জানা গেল তিনি সত্য কথাই বলেছেন। তারপর যে ব্যক্তিকে দিয়ে সম্পদগুলো পাঠানো হয়েছিল, তাকে খোঁজ করা হলো। তাকে সংবাদ জানানোর পর সে এসে বলল, 'হে আবূ আবদুর রহমান (তাউসের উপনাম), আমি না তোমার কাছে সম্পদগুলো নিয়ে এসেছিলাম?' তিনি জানালেন, 'আমি কি তোমার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেছিলাম?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'তুমি কি জানো, আমি তা কোথায় রেখেছি?' সে বলল, 'হ্যাঁ জানি। ওই জানালাতে।' তিনি বললেন, 'যাও, আমি যেখানে রেখেছি, সেখানটাতে গিয়ে দেখো।' এরপর সে তার হাত বাড়িয়ে দেখে সেখানে থলের ভেতর সেই সম্পদগুলো পড়ে আছে। মাকড়সা তার ওপর এত দিনে বাসা বেঁধে ফেলেছে। তারপর লোকটি সেগুলো নিয়ে আমীরের কাছে চলে গেল।”

দুই পথে মাসজিদে যেতেন
[৯৭০] আবদুল্লাহ ইবনে বিশর বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ ইয়ামানির মাসজিদে যাবার দুটি পথ ছিল। একটা বাজারের ভেতর দিয়ে, অন্যটা আরেক জায়গা দিয়ে। তিনি একবার একটা দিয়ে গমন করতেন, অন্যবার আরেকটা দিয়ে। বাজারের পথ দিয়ে যাবার সময় যদি ভুনা করা মাথা দেখতে পেতেন, তাহলে সে রাত্রে আর তিনি খাবার খেতেন না।”

সম্পদ-সন্তান থেকে দূরে থাকার দুআ
[৯৭১] সাঈদ বলেন, 'তাউস রাহিমাহুল্লাহ এই বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে সম্পদ ও সন্তান থেকে বঞ্চিত রাখো।”

সাহরির সময় জেগে থাকা
[৯৭২] মিসআর এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, “সাহরির সময় তাউস রাহিমাহুল্লাহ একজন লোকের কাছে আসলেন। অন্যরা জানাল সে ঘুমিয়ে আছে। তিনি তখন বললেন, 'আমি সাহরির সময় কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখিনি।”

শাসকের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা
[৯৭৩] সুফিয়ান ইবনু উআইনা বলেন, “উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ তাউস রাহিমাহুল্লাহ-কে বললেন, 'আপনি আপনার প্রয়োজনের কথা আমিরুল মুমিনিন সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিককে জানান।' তাউস রাহিমাহুল্লাহ তাকে উত্তরে বললেন, 'তাকে জানানোর মতো কোনো প্রয়োজন আমার নেই।' (কথাটা শুনে) উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ কেমন যেন অবাক হলেন।”

ঈমান ও আমল দান করার দুআ
[৯৭৪] সুফিয়ান এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, "তাউস রাহিমাহুল্লাহ এই বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে ঈমান ও আমল দান করুন এবং সম্পদ ও সন্তান থেকে বঞ্চিত রাখুন।”

হাজ্জাজের সামনে দুঃসাহস
[৯৭৫] আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ তাইমি বলেন, “আমি একজন শাইখকে অন্য আরেক ব্যক্তি থেকে বলতে শুনেছি যে, তাউস রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমি হিজর নামক জায়গায় ছিলাম। হঠাৎ সেখানে হাজ্জাজের আগমন হলো। এমতাবস্থায় সেখান দিয়ে এমন এক ব্যক্তি যাচ্ছিল, যার মধ্যে গ্রাম্য বেশভূষা ছিল। হাজ্জাজ তাকে জিজ্ঞেস করল, 'কোত্থেকে এসেছ?' সে জানাল, ইয়ামান থেকে। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, ‘মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফকে কেমন দেখে এসেছ?’ সে বলল, 'বেশ মোটাতাজা ও হৃষ্টপুষ্ট। যেমনটা দেখলে আপনি খুশিই হবেন।' হাজ্জাজ বলল, 'আরে তোমার কাছে আমি এটা জানতে চাইনি।' সে বলল, 'তাহলে কী জানতে চেয়েছেন?' হাজ্জাজ বলল, 'তার চরিত্র সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।' এবার সে ব্যক্তি জানাল, 'তাকে আমি চরম অত্যাচারীরূপে দেখে এসেছি।' হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি জানো না যে, সে আমার ভাই?' সে ব্যক্তি বলল, 'আপনি কি আপনার ভাইকে আল্লাহর কাছে আমার চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী মনে করেন?' তাউস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'এই দৃশ্যের মতো নয়ন জুড়ানো দৃশ্য আমার চোখে আর পড়েনি। ওই ব্যক্তি (এই কথা বলার পর) বেঁচে গেল। হাজ্জাজ তাকে আর কিছুই করল না।”

জামা না নিয়েই চলে গেলেন
[৯৭৬] আবদুর রাজ্জাক তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ মেঘময় ঠান্ডা সকালে সালাত আদায় করতেন। একবার মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ অথবা আবূ আইয়ুব ইবনু ইয়াহইয়া সদলবলে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি সাজদা অবস্থায় ছিলেন। সে সবুজ রঙের এক বিশেষ পোশাক আনার জন্য বলে, তা তার ওপর রেখে দিলো। তাউস রাহিমাহুল্লাহ নিজ প্রয়োজনের কথা (আল্লাহর কাছে বলা) শেষ করার আগ পর্যন্ত মাথা উঠালেন না। তারপর তিনি সালাম ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলেন তার গায়ের ওপর সবুজ রঙের সেই পোশাক। তিনি কিছুটা কেঁপে উঠলেন এবং সেদিকে আর ভ্রুক্ষেপ না করে সোজা বাড়ি ফিরে গেলেন।"

অসুস্থের সেবা করা
[৯৭৭] মামার বলেন, “একবার তাউস রাহিমাহুল্লাহ তার একজন অসুস্থ বন্ধুর কাছে (সেবা করার জন্য এত দীর্ঘ সময়) অবস্থান করছিলেন যে, একপর্যায়ে হাজ্জও তার হাতছাড়া হয়ে যায়।”

দায়িত্বশীল ব্যক্তির খানা ভক্ষণ না করা
[৯৭৮] শাম্মা আল-আক্কী বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ আমাকে বলেছেন, 'ঈশার সালাত আদায় করার পর আরও তিন (রাকাত) পড়ো। আর কখনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির খানা ভক্ষণ করবে না।"

নেক বান্দাদের হাজ্জ
[৯৭৯] লাইস ইবনে সাদ তাউস রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, “নেক বান্দাদের হাজ্জ সওয়ারির ওপর হয়ে থাকে।"

শেষ রাত জেগে কাটানো
[৯৮۰] দাউদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, "একবার একটা সিংহ রাত্রিবেলায় রাস্তায় লোকদের আটকে রাখল। মানুষেরা একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি করতে লাগল। সাহরির সময় সিংহটি তাদের রেখে চলে গেল। তখন সবাই ডানে-বামে (ছড়িয়ে-ছিটিয়ে) অবস্থান নিয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল। কিন্তু তাউস রাহিমাহুল্লাহ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। কেউ একজন তাকে বলল, 'সেই রাত হবার পর থেকে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন!' তিনি জবাব দিলেন, 'সাহরির সময় কি কেউ ঘুমায়!’"

দুআয় রোনাজারি
[৯৮১] ইবনু আবী রওয়াদ বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ এবং তার কিছু সাথি-সঙ্গী আসরের সালাত আদায় করার পর কেবলামুখী হয়ে বসতেন। তারপর কারও সাথে কোনো কথা না বলে দুআয় রোনাজারি করতে থাকতেন।”

সালাতে দুই শ আয়াত তিলাওয়াত
[৯৮২] ইবনু জুরাইজ বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে যাবার পরও সালাতে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার দুই শ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। তার থেকে এর ব্যত্যয় পাওয়া যেত না এবং তিনি নাড়াচাড়াও করতেন না।”

আরাফার সন্ধ্যায় নিজেকে একাকী রাখা
[৯৮৩] উমার ইবনু ওয়ারদ বলেন, “আতা আমাকে বলেছেন, 'যদি আরাফার সন্ধ্যায় তুমি নিজেকে একাকী রাখতে সক্ষম হও তবে তা কোরো।”

অন্যকে উপদেশ দিয়ে নিজে আমল না করার পরিণতি
[৯৮৪] মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বলেন, "আমি জানতে পেরেছি-যাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তাদের কেউ কেউ নিজের পেটের আঁত টেনে বের করবে, তা নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেভাবে চাক্কি ঘুরতে থাকে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি কি সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না?' সে বলবে, 'হ্যাঁ, আমি সৎ কাজের আদেশ করতাম বটে কিন্তু পরে নিজেই তার বিপরীতটা করতাম। এমনিভাবে অসৎ কাজ থেকেও নিষেধ করতাম বটে কিন্তু পরে নিজেই তাতে লিপ্ত হতাম।"

নিজের ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার পরিণতি
[৯৮৫] মানসুর ইবনে যাজান বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, এক ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তার দুর্গন্ধে জাহান্নামীদের খুব কষ্ট হতে থাকবে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি এমন কাজ করতে? আমরা যে দুরবস্থায় আছি সেটাই তো আমাদের সহ্য হয় না। তার ওপর আবার তোমার দুর্গন্ধের জ্বালায় অতিষ্ঠ হচ্ছি।' সে তখন জানাবে, 'আমি (দুনিয়াতে) আলেম ছিলাম কিন্তু নিজের ইলম দ্বারা উপকৃত হইনি।”

জাহান্নামের আশ্রয় প্রার্থনা
[৯৮৬] ইমরান আল-কসীর বলেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, জাহান্নামে এমন একটা উপত্যকা রয়েছে, খোদ জাহান্নাম যার থেকে দিনে চার শ’ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে। কারণ, তার আশঙ্কা হয়, তাকে সেখানে পাঠানো হবে আর সেই উপত্যকা তাকে খেয়ে ফেলবে। সেই উপত্যকাটি তৈরি করা হয়েছে লৌকিকতায় আক্রান্ত কারিদের জন্য।"

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার সুফল
[৯৮৭] মুজাহিদ বলেছেন, “কোনো এক বান্দার ব্যাপারে জাহান্নামে যাবার আদেশ দেওয়া হলে, জাহান্নাম লাফিয়ে উঠবে। তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, 'কী ব্যাপার, তোমার আবার কী হলো?' সে তখন বলবে, 'এই ব্যক্তি তো আমার থেকে রীতিমতো আশ্রয় প্রার্থনা করত।' তখন তাকে বলা হবে, 'ঠিক আছে। তাকে চলে যেতে দাও।'”

দুনিয়া থেকে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ
[৯৮৮] মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا “তুমি তোমার দুনিয়ার অংশের কথা ভুলে যেয়ো না।”[১৫১] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “আল্লাহর আনুগত্য করার মাধ্যমে দুনিয়াতেই তুমি তোমার আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে নাও।”

সত্যিকার ফকীহ-এর পরিচয়
[৯৮৯] মুজাহিদ বলেছেন, “সত্যিকার ফকীহ হলেন তিনি, যিনি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেন।”

আল্লাহমুখী হওয়া
[৯৯০] মুজাহিদ বলেছেন, "নিশ্চয়ই বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার প্রতি মনোনিবেশ করে তখন আল্লাহ তাআলাও মুমিনদের অন্তর তার দিকে ঘুরিয়ে দেন।”

হালাল উপার্জনে লজ্জাবোধ না করা
[৯৯১] মুজাহিদ বলেছেন, "যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনে লজ্জাবোধ করে না, তার খরচের (ভার) হালকা হয়ে আসে। নিজেকে সে প্রশান্তি দিতে পারে এবং তার অহংবোধ কমে আসে।"

নির্জন অবস্থায় নিজের পাপের কথা স্মরণ করা
[৯৯২] ইউনুস ইবনু খাব্বাব বলেন, “মুজাহিদ—তিনি আমার ভাই হন—আমাকে বলেছেন, 'আমি কি তোমাকে আল-আওয়াব আল-হাফীজ সম্পর্কে সংবাদ দেবো না?' আমি বললাম, 'জি হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'সে হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যে নির্জন অবস্থায় নিজের পাপের কথা স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে।"

একজন ব্যক্তির জাহান্নাম থেকে মুক্তি
[৯৯৩] মুজাহিদ বলেছেন, "কিয়ামাতের দিন একজন বান্দার ব্যাপারে জাহান্নামের আদেশ করা হবে। সে বলবে, 'আমার তো এমনটা ধারণা ছিল না।' আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, 'তোমার ধারণা কী ছিল?' সে বলবে, '(আমার) ধারণা ছিল আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।' তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'তাকে ছেড়ে দাও।”

ঈশার সালাতের পর চার রাকাত সালাত
[৯৯৪] আমাশ থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ বলেছেন, "ঈশার সালাতের পর চার রাকাত সালাত আদায় করা, কদরের রাতে সমসংখ্যক সালাতের সমকক্ষ গণ্য করা হয়।" [১৫২]

নিজেকে খাটো করা
[৯৯৫] মুজাহিদ বলেছেন, “যে নিজেকে সম্মানিত করে, সে দ্বীনকে খাটো করে। আর যে নিজেকে খাটো করে, সে দ্বীনকে সম্মানিত করে।”[১৫৩]

টিকাঃ
[১৫১] সূরা কাসাস, ২৮: ৭৭
[১৫২] ইসনাদে দুর্বল বর্ণনাকারী আছেন (হাইসামি, মাজমা: ২/৪০)।
[১৫৩] অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে নিজের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মানুষ দরকার হলে দ্বীনের অসম্মান ঘটায়। আবার এর বিপরীত দ্বীনের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকে অসম্মানিত ও খাটো করার প্রয়োজন দেখা দেয়।-অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00