📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আব্দুর রহমান ইবনু আসওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আব্দুর রহমান ইবনু আসওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


রাতভর সালাত আদায় করলেন
[৮৬৭] মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক বলেন, “আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ মদীনাতে আমাদের কাছে আগমন করলেন। তিনি তখন পায়ের অসুস্থায় ভুগছিলেন। তিনি সকাল হওয়া পর্যন্ত এক পায়ে ভর করে রাতভর সালাত আদায় করলেন এবং এক ওজুতে আমাদের ঈশা ও ফজরের সালাত পড়ালেন।”

দিনভর সালাতে মগ্ন থাকতেন
[৮৬৮] খালেদ সুলাইম ইবনু আদয়ানের ছেলের থেকে বর্ণনা করেন যে, "আমাদের সঙ্গীরা বর্ণনা করেন, আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ মাসজিদে ফরজ সালাত আদায় করতেন, তারপর নিজ ঘরে প্রবেশ করে দিনভর সালাতে মগ্ন থাকতেন।”

সাওম অবস্থায় পানিতে দুই পা চুবিয়ে রাখতেন
[৮৬৯] হাসান ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “আমি আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদকে দেখেছি, সাওম অবস্থায় পানিতে দু-পা চুবিয়ে রাখতেন। (যাতে গরমের কারণে কষ্ট কম হয়।)।”

জান্নাতে মুকুট পরিধান করার আমল
[৮৭০] আবূ বাকর ইবনু আমের বাজালি থেকে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ বলেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবে, জান্নাতে তাকে মুকুট পরিধান করানো হবে।"

প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ
[৮৭১] যুবায়েদ বলেন, “আমি আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদের সাথে যখনই সাক্ষাৎ করেছি তখনই তিনি বলেছেন, 'তোমাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাৎকে (আমলের মাধ্যমে) সহজ করো।”

ঈশার পর চার রাকাত সালাত
[৮৭২] মুহারিব ইবনু দিসার থেকে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবনু দিসার বলেন, “যে ব্যক্তি ঈশার পর চার রাকাত (নফল) সালাত আদায় করবে, সে সালাত লাইলাতুল কদরে তা আদায় করার মতোই হবে।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি তা কার থেকে শুনেছেন?” তিনি বললেন, “যদি তেমনটি হয়, তবে তো ঠিকই আছে। অন্যথায় তা তো ভালো কাজই।”

লম্বা সময় তিনি সাওম রাখতেন
[৮৭৩] হিলাল ইবনু খাব্বাব বলেন, “আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ, উকবাহ ও হাশেমের পিতা সাঈদ কুফা থেকে হাজ্জ করতেন। তারপর তারা সাওম রাখা শুরু করতেন। রওনা হবার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত—মধ্যিখানে বিরতি দিতেন না কোনো।”

একজন কারাবন্দীর ঘটনা
[৮৭৪] ইসমাঈল ইবনু হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলাইমান বলেন, “আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদের কাছে কিছু সম্পদ আমানত রাখা হলো। হাজ্জাজ সেই ব্যক্তির সম্পদ তালাশ করল। তাকে জানানো হলো, আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদের কাছে তা গচ্ছিত আছে। সে তখন কুফার গভর্নরের কাছে এই মর্মে সংবাদ পাঠাল যে, আবদুর রহমানকে যেন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সে তা-ই করল। আবদুর রহমান যখন হাজ্জাজের কাছে এল, তখন সে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ?’ তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় না আমীর আমার নাম না জেনেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।’ হাজ্জাজ বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই। আপনার কাছে অমুকের কী আছে?’ তিনি বললেন, ‘দুই পাত্রভর্তি রৌপ্যমুদ্রা।’ হাজ্জাজ বলল, ‘এ ছাড়া আর কিছু?’ তিনি বললেন, ‘না।’ হাজ্জাজ পুনরায় জিজ্ঞেস করল, ‘আল্লাহ—যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সকল কিছু সম্পর্কে অবগত—অমুকের এই দুই পাত্রভর্তি রৌপ্যমুদ্রা ছাড়া আর কিছু আপনার কাছে নেই?’ তিনি বললেন, ‘আমার রবের প্রশংসা করে বলছি, আমীরকে মিথ্যা বলিনি আমি।’ হাজ্জাজ বলল, ‘সে যে কসম করেছিল (সেটা গুরুত্বহীন কারণ, সে কসম করে) যখন তার কসম করতে মন চায়।’ তিনি বললেন, ‘আমার রবের প্রশংসা করি। সে আমীরকে যেমন বলেছিল, ব্যাপারটা তেমনই। আমার কাছে তার অন্য কোনো সম্পদ নেই।’ হাজ্জাজ বলল, ‘তার পক্ষ হয়ে বলা আপনার এই কথাগুলো অগ্রহণযোগ্য। তোমরা তাকে কারাগারে নিয়ে যাও।’"
বর্ণনাকারী বলেন, “তাকে কারাগারে বন্দী করা হলো। সেখানে শামদেশের একজন ইবাদাতগুজার ব্যক্তিও ছিলেন। তিনি এমন দৃশ্য দেখলেন যা ইতঃপূর্বে কখনো দেখেননি। যদি এমন সময়ে হতো—যখন সালাত আদায় করা যায়—তখন তিনি দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করতেন। আর যদি এমন সময় হতো—যখন সালাত আদায় করা যায় না—তখন তিনি একাকী বসে আল্লাহ তাআলার যিকর করতেন।
কিছুকাল পরে শামের ব্যক্তিটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। তখন সে বলল, ‘আমি যখন স্বীয় রবের সাথে সাক্ষাৎ করব তখন তাকে বলব যে, এই সৎ লোকটির কারাগারে আসার (বৈধ কোনো) কারণ আমি জানি না। মনে হয় সে জুলুমের শিকার।’ তারপর সে আবদুর রহমানের কাছে খবর পাঠাল। (তিনি এলে) সে তাকে বলল, ‘হাজ্জাজ কে, সেটা তো আপনি জানেনই। আমি আপনার (মুক্তির) ব্যবস্থা করে দিচ্ছি এই শর্তে যে—আপনি আমার সাথে এই অঙ্গীকার করবেন—যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে এই অসুস্থতা থেকে মুক্তি দান করেন, তাহলে আপনি আবার কারাগারে ফিরে আসবেন এবং আল্লাহ আপনার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন। আর যদি আমি মারা যাই, তাহলে তো আপনি মুক্তিই পেয়ে গেলেন। (আপনাকে আর ফিরে আসতে হবে না।) আমি চাই না যে, আপনি আমার জন্য কসম করবেন।’ তখন আবদুর রহমান তাকে বললেন, ‘ঠিক আছে, তা-ই হোক।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তারপর তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করে দুই মহিলার মাঝ দিয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি হাঁটছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি এক ব্যক্তির সম্মুখীন হলেন, যে নিজের খচ্চরে চড়ে যাচ্ছিল। তার কাছে পৌঁছার পর তাকে বললেন, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তারপর সে (খচ্চর থেকে) নেমে বলল, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি এতে চড়ে বসুন।’ দুই মহিলার একজন বলে উঠল, ‘আমরা তো স্ত্রীলোক। আমরা নিজেদের একটা প্রয়োজনে এসেছি। আপনি-ই আপনার বাহনে চড়ে বসুন। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন।’ সে বলল, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনার ওপর আমি গোয়েন্দাগিরি করছি না।”
বর্ণনাকারী বলেন, “যখন আবদুর রহমান বুঝতে পারলেন যে, সে টের পেয়ে গেছে তখন তিনি চড়ে বসলেন এবং নিজ ঘরে চলে গেলেন। ওদিকে কারাবন্দী শামের সেই ব্যক্তিরও মৃত্যু হলো।”
বর্ণনাকারী বলেন, “আমরা এক বছর পর্যন্ত সেই খচ্চরটি দেখলাম। এমন কারও দেখা পেলাম না, যিনি তা চেনেন।"

বাইতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা
[৮৭৫] আবূ নুআইম থেকে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ বলেছেন, “বাইতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকাও ইবাদাত।”

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


তিনি খুব কম খেতেন
[৮৭৬] আবদুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুহারিবি বলেন, “আমি আমাশকে বলতে শুনেছি, আমি ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি কোনো কিছু না খেয়েই পুরোটা মাস পার করে দেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, (অনেক সময় এভাবে) দুই মাসও পার হয়। চল্লিশ রাত যাবৎ আমার স্ত্রীর দেওয়া একটা আঙুরদানা ছাড়া আর কিছুই খাইনি। (সে আমাকে তা দেওয়ার পর) আমি তা খেয়েছি এবং (বিচি) নিক্ষেপ করে ফেলে দিয়েছি।”
আবদুর রহমান বলেন, “আমি আমাশকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তাকে সত্যায়িত করেন? তিনি বললেন, 'ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ সত্যবাদী।”

একাগ্রচিত্তে সাজদা দেওয়া
[৮৭৭] আমাশ বলেন, “ইবারাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ যখন সাজদা করতেন, তখন চড়ুই পাখি এসে তার পিঠে ঠোক দিতে থাকত। যেন তিনি কোনো দেয়ালখণ্ড।”

নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামে কল্পনা করে দেখা
[৮৭৮] সুফিয়ান ইবনু উআইনা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আমি নিজেকে জাহান্নামে কল্পনা করলাম। তার বেড়ি ও আগুনের কথা ভাবলাম। সেখানে কাঁটাদার বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করার ও প্রচণ্ড শৈত্য থেকে পান করার কথা চিন্তা করলাম। তারপর নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করলাম-কী হে, তুমি কী চাও? মন উত্তর জানাল, আমি দুনিয়ায় ফিরে গিয়ে এমন আমল করতে চাই, যার বদৌলতে এমন শাস্তি থেকে মুক্তি পাব। এমনিভাবে আমি নিজেকে জান্নাতে কল্পনা করলাম। সেখানে আমি হুরদের সাথে আছি। মোটা-পাতলা রেশের কাপড় পরিধান করছি। তারপর আমি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম-কী হে, তুমি কী চাও? মন উত্তর দিলো, আমি দুনিয়ায় ফিরে গিয়ে এমন আমল করতে চাই, যার বদৌলতে এমন প্রতিদান।
আরও বেশি বেশি পাব। আমি তখন বললাম, হ্যাঁ, তুমি তো দুনিয়াতেই এবং তোমার কাঙ্ক্ষিত স্থানেই অবস্থান করছ এখন।”

নিজের বিষয়ে আশঙ্কা
[৮৭৯] আবূ হাইয়ান বলেন, “ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আমি যখনই আমার কথার সাথে কাজকে মিলিয়ে দেখেছি, তখনই নিজের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা হয়েছে যে, আমি মিথ্যাবাদী না তো!’”

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আসেম ইবনু হুরাইরা রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আসেম ইবনু হুরাইরা রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


আযান শেষের পঠিত বাক্য
[৮৮০] ফুজাইল ইবনু আবী রুফাইদা বলেন, "আসেম ইবনু হুবাইরা রাহিমাহুল্লাহ— তিনি সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাগরেদ ছিলেন— আমাকে বললেন, 'যখন তুমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে আযান থেকে ফারেগ হবে তখন বোলো, আমিও মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত'।”

তবলা ভাঙতে চাইলেন
[৮৮১] মুগীরা বলেন, “আসেম ইবনু হুবাইরা একটি তবলা বা দফ দেখলেন। সেটা তার মালিকের কাছ থেকে নিয়ে তা ফুটো করে দিতে চাইলেন। কিন্তু সক্ষম হলেন না। তিনি বললেন, 'শয়তান আমাকে এতটা ক্লান্ত করেনি যতটা ক্লান্ত করেছে এটি (দফটি)।”

মানুষের জাহান্নাম থেকে উত্তরণ
[৮৮২] আবূ মায়সারা বলেন, “আসিম তার বিছানায় শুয়ে ছিলেন। তখন তিনি বললেন, 'আমার মা যদি আমাকে জন্ম না দিত!' তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, 'আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে ইসলামের পথে পরিচালিত করেননি?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের জানানো হয়েছে যে, আমরা জাহান্নামে উপনীত হব। কিন্তু সেখান থেকে যে আমাদের উত্তরণ হবে, তা জানানো হয়নি'।”

রাতের নফল সালাত গোপনে আদায় করা
[৮৮৩] আমাশ বলেছেন, “আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা সালাত আদায় করতেন। যখন কোনো প্রবেশকারী প্রবেশ করত, তখন তিনি আপন বিছানায় ঘুমিয়ে পড়তেন।”

লোক দেখানো তিলাওয়াত কোনো কাজে আসবে না
[৮৮৪] আবূ বাকর বর্ণনা করেছেন, আসেম বলেছেন, “আমাকে আবূ ওয়ায়েল জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি জানো, আমাদের যুগের কারিদের আমি কীসের সাথে তুলনা করি?' আমি বললাম, 'কীসের সাথে?' তিনি জানালেন, 'আমি তাদের এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করি, যে তার বকরিকে পুষ্ট করে। তারপর যখন তাকে যবেহ করে, তখন তাকে অপরিশোধিত আবর্জনারূপে দেখতে পায়। অথবা এমন লোকের সঙ্গে তুলনা করি, যে রৌপ্যমুদ্রা নিয়ে তা পারদের মধ্যে নিক্ষেপ করে। এরপর তা বের করে এনে ভেঙে দেখে তা তামায় পরিণত হয়ে গেছে।” [১৩৪]

চুলের জায়গা থেকেও মৃত্যু আসবে
[৮৮৫] ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ “সর্বদিক থেকে মৃত্যু তার কাছে আসবে।”[১৩৫] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “এমনকি চুলের জায়গা থেকেও।”

একটি দুআ
[৮৮৬] ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ দুআ করতেন এই বলে, “হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার কিতাব ও তোমার নবি মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে রক্ষা করো সত্য বিষয়ে মতপার্থক্য থেকে, তোমার পক্ষ থেকে আসা হিদায়াত ছাড়া প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে, ভ্রষ্টতার পথ থেকে, সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে, বক্রতা-সংশয় ও বিবাদ থেকে।"

সঠিক কথা বলা
[৮৮৭] আকতাল বলেন, “আমি ইবরাহীম নাখঈকে বলতে শুনেছি, ইবরাহীম তাইমির মতো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সঠিক বলার লোক আর নেই। আমি আশা করি, তিনি নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন।”

ক্রোধদমনকারী ও ধৈর্যশীল হবার পুরস্কার
[৮৮৮] আওয়াম হাওশাব থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "স্বপ্নে দেখলাম আমি যেন একটা নদীর ধারে আসলাম। আমাকে বলা হলো- ক্রোধদমনকারী ও ধৈর্যশীল হবার কারণে তুমি যা ইচ্ছা নিজে (এখান থেকে) পান করো ও অন্যকে পান করাও।"

তিনি মুক্তির আশা করতেন
[৮৮৯] ফিরাস আল-মুকতিব আবু ইসহাককে বলেছেন, “আমি শাবিকে বলতে শুনেছি, আশা করি, আমি সামান্য বিষয়ের কারণে মুক্তি পাব।”

দুনিয়াবি কথাকে অপছন্দ করা
[৮৯০] মালিক ইবনু আবী ফারওয়া বলেন, “আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আবী হুযাইলের মজলিসে বসতাম। যদি কোনো মানুষ এসে দুনিয়াবি কথাবার্তা বলতে থাকত, তখন তিনি বলতেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমরা তো এসবের জন্য বসিনি'।”

গুনাহের প্রতি অসন্তোষ
[৮৯১] আবূ সিনান বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু আবিল হুযাইল একবার তার গুনাহের অভিযোগ করলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, 'হে আবুল মুগীরা, তুমি কি মুত্তাকী নও?' তারপর সে বলল, 'হে আল্লাহ, তোমার এই বান্দা তোমার নৈকট্য অর্জন করতে চায়। নিশ্চয়ই আমি (গুনাহের প্রতি) তার অসন্তোষের সাক্ষ্য দিচ্ছি'।”

মালাকুল মাওত ফেরেশতার অপেক্ষা
[৮৯২] ইমরান বলেন, “আমি ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে তাকে দেখার জন্য আসলাম। তিনি কেঁদে দিলেন। আমি তাকে বললাম, হে আবূ ইমরান, কিসে তোমাকে কাঁদাল? তিনি বললেন, 'আমি মালাকুল মাওত ফেরেশতার অপেক্ষা করছি। অথচ আমার জানা নেই, তিনি আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন না জাহান্নামের দুঃসংবাদ'।”

নফল ইবাদাত গোপনে করা
[৮৯৩] আমাশ বলেন, “আমি ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে ছিলাম। তিনি তখন কুরআন পড়ছিলেন। এক ব্যক্তি তার কাছে আসার অনুমতি চাইলে তিনি কুরআনটা ঢেকে নিলেন। তারপর বললেন, 'এই ব্যক্তি যেন আমাকে সর্বক্ষণ তা পড়তে না দেখে (তাই কুরআনটা ঢেকে নিয়েছি)'।”

সাহাবিদের পরিপূর্ণ অনুসরণ
[৮৯৪] আমাশ থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি এমন লোকদের পেয়েছি—যদি আমি জানতে পারি যে, তাদের কেউ ওজু করেছে শুধু নখের ওপর— তবুও আমি এর ব্যতিক্রম করব না।”[১৩৬]

কারও জানাযা পড়ার পর ব্যথিত থাকা
[৮৯৫] মুহাম্মাদ ইবনু সুকাহ থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম বলেছেন, "তাদের (সাহাবিদের) মধ্যে কারও জানাযা হলে কয়েক দিন যাবৎ তারা ব্যথিত হয়ে থাকতেন, যার প্রভাব তাদের ভেতর দেখা যেত।”

জানাযায় উপস্থিত হওয়া
[৮৯৬] আমাশ বলেন, “আমরা জানাযায় এমন অবস্থায় উপস্থিত হতাম যে, আমাদের জানা থাকত না আমাদের মধ্যে কে লোকদের দুঃখে শোক প্রকাশ করবে।”

আল্লাহকে ভয় করা
[৮৯৭] ইবরাহীম থেকে বর্ণিত, وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ “যে তার প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করবে তার জন্য রয়েছে দুই জান্নাত।”[১৩৭] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবরাহীম বলেছেন, "সে যখন গুনাহের দিকে ধাবিত হয়, তখন আল্লাহর ভয়ে বিরত থাকে।”

নিজেকে জ্ঞানী বলে পরিচিত করাতে অনাগ্রহ
[৮৯৮] মানসূর থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম বলেছেন, "আমাকে এমন জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যার ব্যাপারে আমি জানি। (প্রভুত্তরে) 'আল্লাহই অধিক অবগত'- এমনটা বলে দেওয়া থেকে আমাকে বাধা দেয় কেবল এই বিষয়টি যে—লোকেরা আমাকে বড় জ্ঞানী মনে করে বসতে পারে।"

জান্নাত নয়তো জাহান্নাম
[৮৯৯] মুহাম্মাদ ইবনু সুকাহ বলেন, “ইবরাহীম নাখঈ বলতেন, 'আমরা যখন কোনো জানাযায় উপস্থিত হই অথবা মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে শুনি, তখন কিছুদিন তা (মৃত্যুর আলোচনা) আমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকে। কারণ, আমরা জানি যে, সেই ব্যক্তির ওপর এমন বিষয় আপতিত হয়েছে, যা তাকে হয়তো জান্নাতে নয়তো জাহান্নামে পৌঁছে দেবে।' তিনি আরও বলেন, 'তোমরা তো জানাযায় দুনিয়াবি কথাবার্তায় লিপ্ত থাকো।”

কারও সাথে প্রতারণা করতে অপছন্দ করা
[৯০০] ফুজাইল ইবনু গযওয়ান থেকে বর্ণিত, তালহাকে বলা হলো, "যদি আপনি খাদ্য বিক্রি করতেন, তাহলে তাতে লাভবান হতেন!” তিনি উত্তরে বললেন, "আমার অন্তরে মুসলিমদের বিষয়ে কোনো প্রতারণা আছে—আল্লাহ তাআলার এমন কিছু জানাটা আমি পছন্দ করি না।"

আমরা ভালো লোক
[৯০1] জুরাইরি বলেন, “কুফার একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তোমরা কি সৎলোক?' উত্তরে সে বলল, 'আমি জানি না সৎলোক কারা। তবে (আমরা) ভালো লোক।"

উত্তম বস্তু
[৯০২] ওকী বলেন, "সুফিয়ান বলেছেন, 'আমার জানামতে কথা বলার চেয়ে আশঙ্কাজনক আর কিছু নেই। এবং আল্লাহর কাছে থাকা অপেক্ষা উত্তম কোনো বস্তু নেই।”

চল্লিশ বছর কুরআনের দারস
[৯০৩] আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ বলেন, "আমি আবূ ইসহাককে বলতে শুনেছি, আবূ আবদুল্লাহ সুলামী চল্লিশ বছর মাসজিদে কুরআন পড়িয়েছেন।”

সর্বোত্তম ব্যক্তি
[৯০৪] উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
"নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে ও শেখায়।" [১৩৮]
বাহ্য রাদিয়াল্লাহু আনহু তার হাদীসে বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে ও শেখায়।”
মুহাম্মাদ ইবনু জাফর ও হাজ্জাজ তাদের হাদীসে বলেছেন, "আবু আবদুর রহমান সুলামী জানিয়েছেন, এই হাদীসটিই আমাকে (কুরআন শিক্ষাদানের) আসরে বসিয়েছে।”

ফজরের সালাতের সময় প্রফুল্লিত হওয়া
[৯০৫] শিমর থেকে বর্ণিত, আবূ আবদুর রহমান আমার হাত ধরে আমাকে বললেন, "সালাত আদায়ে তুমি কেমন শক্তি পাও?” আমি তখন আল্লাহর ইচ্ছায় আমার যে দুর্বলতা আছে তা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, “আমিও তোমার মতো ঈশার সালাত আদায় করতাম। তারপর আরও সালাত পড়তে থাকতাম। যখন ফজরের সালাত আদায় করতাম তখন প্রথম অবস্থার মতো প্রফুল্লিত হয়ে যেতাম।”

ঈমানের প্রকৃত অবস্থায় পৌঁছা
[৯০৬] হাকাম থেকে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের প্রকৃত অবস্থায় পৌঁছতে পারবে না, যতক্ষণ না নিজেকে সত্যবাদী জানা সত্ত্বেও তর্ক-বিবাদ পরিহার করবে ও হাসি-তামাশার ক্ষেত্রে মিথ্যা পরিহার করবে।”

নিজেকে চিনে নেওয়া
[৯০৭] আবূ দাউদ হাফারি বলেন, “আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, যখন তুমি নিজেকে চিনে ফেলতে পারবে, তখন মানুষেরা কী বলল না বলল, তাতে তোমার কিছু যায় আসে না।”

অকল্যাণকর কাজ বিদায় হওয়া
[৯০৮] আওন ইবনু আবদুল্লাহ আবূ ইসহাককে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার (কোন ইবাদাতটি আগের মতোই) বাকি আছে হে আবূ ইসহাক?” তিনি বললেন, “এক রাকাতে সূরা বাকারা পড়াটা এখনো রয়ে গেছে।” তখন তিনি বললেন, “তোমার কল্যাণকর কাজ রয়ে গেছে আর অকল্যাণকর কাজ বিদায় নিয়েছে।”

জান্নাতের উপযোগী কাজ করা
[১০৯] আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস বলেন, “আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি, কুরদুস (নামক এক ব্যক্তি) হাজ্জাজের শাসনামলে আমাদের কিচ্ছা-কাহিনি শোনাত। তিনি বলতেন, 'নিশ্চয়ই জান্নাতের উপযোগী কাজ না করলে কখনো জান্নাত লাভ করা যাবে না। দুনিয়াবিমুখতার দ্বারা তোমরা (জান্নাতের) আগ্রহকে খাঁটি করো। সব সময় নেক কাজে লিপ্ত থাকো। আল্লাহর সাথে বিশুদ্ধচিত্তে ও উন্নত আমল নিয়ে সাক্ষাৎ করো।' তিনি বেশি বেশি বলতেন, 'যে (আল্লাহকে) ভয় করে, সে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। যে (আল্লাহকে) ভয় করে, সে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে।”

চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
[৯১০] আবদুর রহমান ইবনু হাফস কুরাশি বলেন, “আলি ইবনু হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ যখন (সালাতের জন্য) ওজু করতেন, তখন তার (চেহারা) হলুদ আকার ধারণ করত। তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, 'আপনার এমন হয় কেন?' তিনি বললেন, 'তোমরা জানো না, আমি কার সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি?”

প্রিয় আমল
[৯১১] ইবনু উয়াইনা বলেন, “মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদিরকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি জানালেন, 'মুমিন বান্দাকে আনন্দ দেওয়া।' পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার (কোন ভালো কাজটি) বহাল আছে? তিনি জানালেন, '(দ্বীনি) ভাইদের প্রাধান্য দেওয়া।”

ভালো-খারাপ অবস্থায় করণীয়
[৯১২] আমর ইবনু দীনার বলেন, “মুহাম্মাদ ইবনু আলি বলেছেন, 'তুমি ভালো অবস্থায় আল্লাহর কাছে দুআ করো। তারপর কখনো যদি খারাপ কোনো অবস্থায় পতিত হও, তখন তিনি যা পছন্দ করেন তাতে তার অবাধ্যতা কোরো না।”

মানুষ পাল্টে গেছে
[৯১৩] সফওয়ান ইবনু সুলাইম থেকে বর্ণিত, আবূ মুসলিম খাওলানি বলেছেন, “আগে মানুষেরা কাঁটামুক্ত পাতার ন্যায় ছিল। তারা এখন পাতাহীন কাঁটা হয়ে গিয়েছে। যদি তুমি তাদের গালি দাও, তারাও তোমাকে গালি দেবে। যদি তুমি তাদের সমালোচনা করো, তারাও তোমার সমালোচনা করবে। যদি তুমি তাদের ছেড়ে দাও, তবে তারা তোমাকে ছাড়বে না (আঘাত করতে ঠিকই উদ্যত হবে)।”

অল্প কিছুই বাকি আছে
[৯১৪] উমারা থেকে বর্ণিত, ইয়াজিদ ইবনু মুআবিয়া নাখঈ বলেছেন, “নিশ্চয়ই দুনিয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে অল্প করে। সুতরাং তাতে কেবল অল্প থেকে অল্পই বাকি আছে।"

মুমিনের সাথে মুমিনের সম্পর্ক
[৯১৫] আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ مِنَ الْمُؤْمِنِ بَمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ
“একজন মুমিনের সাথে অপর মুমিনের সম্পর্ক মাথার সাথে শরীরের সম্পর্কের ন্যায়।" [১৩৯]
সে জন্যই একজন মুমিন অন্য মুমিনদের কষ্টে আক্রান্ত হতে দেখলে ব্যথিত হয়।

দ্বীনি ভাইদের জন্য উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা
[৯১৬] আবূ উসামা বলেন, আমাশ বলেছেন, “আমরা খায়সামার কাছে আগমন করতাম। তিনি খাটের তল থেকে আমাদের জন্য খবীছ ও মিষ্টান্নভর্তি ঝুড়ি বের করে বলতেন, 'কেবল তোমাদের জন্যই আমি এগুলো তৈরি করেছি।”

অনুগ্রহের বিষয়গুলো হিসেব করাটাও এক ধরনের কৃতজ্ঞতা
[৯১৭] সাঈদ ইবনু আমির বলেন, “জুরাইরি সফর থেকে ফিরে এলে তার ভাইয়েরা তার কাছে এসে সালাম দিলো। সফরে আল্লাহ তাকে যেসব সুখকর বিষয়ের সম্মুখীন করেছেন, তিনি তাদের তা জানালেন আর কষ্টকর বিষয়গুলো চেপে গেলেন। তিনি খুব সুন্দর ও চমৎকারভাবে তাদের সামনে বিষয়গুলো উপস্থাপন করার পর বললেন, 'বলা হয়ে থাকে যে, অনুগ্রহের বিষয়গুলো হিসেব করাটাও এক ধরনের কৃতজ্ঞতা।”

কৃতজ্ঞতা আদায়
[৯১৮] জাযীরা গোত্রের কোনো এক ব্যক্তি কায়েস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "যিনি তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছে, তার কৃতজ্ঞতা আদায় করো। আর যিনি তোমার কৃতজ্ঞতা আদায় করেছেন, তাকে অনুগ্রহ করো।”

তিনি তার জমিন ফিরিয়ে দিলেন
[৯১৯] আবূ মুআবিয়া গলাবি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, “এক ব্যক্তি সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিককে ডাক দিলো। তখন তিনি মিম্বরে বসে ছিলেন। ডাক দিয়ে সে বলল, 'হে সুলাইমান, আল্লাহকে ভয় করো এবং ঘোষণার দিবসকে স্মরণ করো।' তখন তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে মিম্বর ছেড়ে নিচে নেমে এলেন এবং লোকটিকে ডেকে বললেন, 'আমি সুলাইমান। ঘোষণার দিবস আবার কোনটি?' লোকটি তখন (কুরআনের এই আয়াতটি) শোনাল:
فَأَذَّنَ مُؤَذِّنُ بَيْنَهُمْ أَن لَّعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
'তাদের মাঝে একজন ঘোষক ঘোষণা করবে যে, জালেমদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত।'[১৪০]
সুলাইমান জিজ্ঞেস করল, 'আমি তোমার ওপর কী জুলুম করলাম?' সে বলল, 'আপনার দায়িত্বশীল নিয়োজিত ব্যক্তি আমার জমিন ছিনিয়ে নিয়েছে।' তিনি বললেন, 'তিনি তখন নিয়োজিত ব্যক্তির কাছে পত্র লিখলেন এই মর্মে যে—তুমি তার জমিন, সাথে আমার জমিনও তাকে দিয়ে দাও।”

কয়েকটি উপদেশ
[৯২০] আবূ মুআবিয়া গলাবি বলেন, “মক্কায় সফর করার প্রাক্কালে এক ব্যক্তি হিশামকে বলল, 'তোমাকে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। সময়মতো সালাত আদায় করবে। তোমাকে যেহেতু সালাত আদায় করতেই হবে, তাই এমনভাবে আদায় করো যা তোমার উপকারে আসবে। তুমি তোমার সঙ্গীদলের কুকুর হোয়ো না। কারণ, প্রত্যেক সঙ্গীদলের একটি কুকুর থাকে, যা তাদের পেছনে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। যদি কুকুরটি কল্যাণকর হয়, তাহলে তারা তার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়। আর যদি কুকুরটি তাদের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে তারা তাকে রশি দিয়ে বেঁধে পেছনে ফেলে রাখে। সুতরাং তুমি সঙ্গীদলের কুকুর হওয়া থেকে সাবধানে থেকো।”

জাহান্নামের নিশ্বাস
[৯২১] লাইস ইবনু সাআদ বলেন, “উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী জাফর বলেছেন, নিশ্চয়ই জাহান্নাম এমন এক নিশ্বাস ফেলবে, যার ফলে অত্যাচারীদের অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তারপর আরেকটি নিশ্বাস ফেলবে, যার ফলে তারা ভূপৃষ্ঠ থেকে উড়ে গিয়ে উল্টোমুখী হয়ে জাহান্নামে পতিত হবে।"

ইলম অর্জনের বিভিন্ন ধাপ
[৯২২] মুহাম্মাদ ইবনু নসর হারেসি বলেন, “বলা হতো—ইলমের শুরু হলো নীরব থাকা। তারপর কান পেতে শোনা। তারপর তা মুখস্থ করে নেওয়া। তারপর এর ওপর আমল করা। তারপর তা প্রচার করা।"

আল্লাহ তাআলা সর্বাবস্থায় ক্ষমা করার অধিকার রাখেন
[৯২৩] মুহাম্মাদ ইবনু নদর আল-হারেসি هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ “তিনি তাকওয়ার যোগ্য ও ক্ষমা করার অধিকারী।”[১৪১] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতেন, “আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দা আমাকে ভয় করবে, আমি এর যোগ্য। যদি সে তা নাও করে, তবুও আমি তাকে ক্ষমা করার অধিকার রাখি।”

মাসজিদ একটি শক্তিশালী দুর্গ
[৯২৪] আবদুর রহমান ইবনু মুগাফফাল কোনো এক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “মাসজিদ শয়তানের (কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার) শক্তিশালী দুর্গ।”

মৃত্যুর সময় কালিমা পড়লেন
[৯২৫] হাম্মাদ ইবনু যায়দ বলেন, “আমি সালাম আবুল মুনযিরের কাছে এলাম। তখন তিনি তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করছিলেন। তাকে কালেমার তালকীন করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি (কালেমা পড়তে) বিলম্ব করছিলেন। বিষয়টি আমাকে চিন্তায় ফেলে দিলো। ঠিক তখনই একজন মুআযযিন মাসজিদের মিনারে আযান দিলো—আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তখন সালাম বলে উঠল, 'আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি যা চান আসমান-জমিনে কেবল তা-ই হয়।' এরপর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।"

আল্লাহকে ভয় করার পুরস্কার
[৯২৬] উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর ইবনু আনাস বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ 'যে আমাকে এক দিনও স্মরণ করেছে বা কোনো এক জায়গাতেও আমাকে ভয় করেছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনো।” [১৪২]

মৃত্যু কামনাকারীকে ভর্ৎসনা
[৯২৭] ইবনু জুরাইজ বলেন, “আমি আতাকে বললাম, ইনি ইউসুফ ইবনু মাহাক। তিনি মৃত্যু কামনা করেন।' তখন তিনি ভর্ৎসনা করে বললেন, 'সে কি জানে, সে কীসের তামান্না করছে!”

নিজে আমল না করার পরিণাম
[৯২৮] ইবনু আবী খালেদ থেকে বর্ণিত, শাবি বলেন, “জান্নাতের মধ্যে জান্নাতবাসীরা কিছু জাহান্নামীদের ওপর থেকে দেখে বলবে, 'কী ব্যাপার! তোমরা জাহান্নামে কেন? তোমরা আমাদের যা শিক্ষা দিতে, আমরা তো সে অনুযায়ীই আমল করতাম।' তারা জবাব দেবে, 'আমরা তোমাদের শিক্ষা দিলেও নিজেরা আমল করতাম না।”

কাঁদতে কাঁদতে মৃত্যু
[৯২৯] এক মহিলা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলল, “আমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবর উন্মুক্ত করে দিন।” তিনি তা উন্মুক্ত করে দিলেন। (কবর দেখার পর) মহিলাটি (এত বেশি) কাঁদল যে, একপর্যায়ে মৃত্যুমুখে পতিত হলো।

কৃপণতার জন্য আফসোস প্রকাশ
[৯৩০] ইবরাহীম ইবনু আবী আবলাহ বলেন, “আমি উম্মুল বানীনকে—যিনি উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ -এর বোন-বলতে শুনেছি, 'কৃপণতার জন্য আফসোস। আল্লাহর কসম, যদি এটি কোনো রাস্তা হতো তবে আমি তাতে হাঁটতাম না। আর যদি এটি কোনো পোশাক হতো, তবে আমি তা পরতাম না।”

চুলের কিছু অংশ ছাঁটা
[৯৩১] হাফস ইবনু হুমাইদ বলেন, “জিয়াদ ইবনু হুদাইর আমাকে বলেন, 'তুমি তোমার চুল থেকে (কিছু অংশ) ছাঁটো। কারণ, তাতে ফিতনা রয়েছে।' জিয়াদ আমাদের আরও বলতেন, 'আল্লাহর কাছে চাও। কারণ, যে তার কাছে চায় না, তিনি তার ওপর রাগ করেন।"
এক ব্যক্তি জিয়াদ ইবনু হুদাইরের কাছে এসে বলল, "আমি অমুক অমুক অঞ্চল ভ্রমণ করতে চাই।” তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে নিজের পথ পাড়ি দাও।”

মানুষজনের সাথে মেলামেশা করতে অনীহা প্রকাশ
[৯৩২] আবূ যামরাহ থেকে বর্ণিত, জিয়াদ ইবনু হুদাইর বলেছেন, “হায়, যদি আমি লোহানির্মিত একটি সংরক্ষিত স্থানে থাকতাম। সেখানে আমার সাথে কেবল এমন জিনিস থাকত, যা আমার জন্য কল্যাণকর। আমি কারও সাথে কথা বলতাম না, আর কেউও আমার সাথে কথা বলত না। এমতাবস্থায় আল্লাহর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়ে যেত।"

টিকাঃ
[১৩৪] অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত তাদের কোনো কাজে আসে না। লাভের তুলনায় ক্ষতির কারণ বেশি হয়。
[১৩৫] সূরা ইবরাহীম, ১৪: ১৭
[১৩৬] তিনি সাহাবায়ে কেরাম ও প্রবীণ তাবিয়িদের ব্যাপারে এ কথা বলছেন যে, 'তাদের ব্যাপারে আমি এতটাই আশ্বস্ত যে, যদি তারা ওজুতে পুরো হাত ধৌত না করে শুধু নখ ধৌত করত, তবুও আমি তাদের অনুসরণ করতাম।'-অনুবাদক
[১৩৭] সূরা রহমান, ৫৫:৪৬
[১৩৮] সহীহ, বুখারি: ৫০২৭; তিরমিযি: ২৯০৮
[১৩৯] সহীহ, মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৭১; সিলসিলা সহীহা: ১১৩৭
[১৪০] সূরা আরাফ, ৭:৪৪
[১৪১] সূরা মুদ্দাসসির, ৭৪ : ৫৬
[১৪২] যঈফ, তিরমিযি: ২৫৯৪; হাকিম: ১/৭০; যঈফুল জামি: ৬৪৩৬

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


কাঁদতে কাঁদতে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
[৯৩৩] কাসিম থেকে বর্ণিত, “সাঈদ ইবনু জুবায়ের এত বেশি কাঁদতেন যে, একপর্যায়ে তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।”

দুই রাতে একবার কুরআন খতম
[৯৩৪] আবদুল মালিক ইবনু আবী সুলাইমান সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, “তিনি দুই রাতে একবার করে কুরআন খতম করতেন।”

দুইবার সফর
[৯৩৫] হিলাল ইবনু জানাব বলেন, “রজব মাসের কিছুদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমি সাঈদ ইবনু জুবায়ের সাথে একদিন বের হলাম। তিনি কুফা থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম করেছিলেন। তারপর উমরা থেকে ফিরে এসে যিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবার হাজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম করলেন। তিনি প্রতিবছর দুইবার সফরে বের হতেন। একবার হাজ্জের জন্য, আরেকবার উমরার জন্য।"

এক রাকাতে পুরো কুরআন তিলাওয়াত
[৯৩৬] হিলাল ইবনু ইয়াসাফ বলেন, “সাঈদ ইবনু জুবায়ের কাবাতে প্রবেশ করলেন, তারপর এক রাকাতে পুরো কুরআন পড়ে ফেললেন।”

একটি আয়াত বিশবারেরও অধিক পুনরাবৃত্তি
[৯৩৭] কাসিম ইবনু আবূ আইয়ুব বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে নিম্নোক্ত আয়াতটি বিশবারেরও অধিক পুনরাবৃত্তি করতে শুনেছি :
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
‘তোমরা সেদিনকে ভয় করো, যেদিন আল্লাহর দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে। তারপর প্রত্যেকের যা কৃতকর্ম আছে, তা পুরোপুরি প্রদান করা হবে। কাউকে কোনোরূপ জুলুম করা হবে না।”[১৪৩]

মানুষ পাপ করতে চায়
[৯৩৮] সাঈদ ইবনু জুবায়ের يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ “মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে।”[১৪৪] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “সে বলবে—অচিরেই আমি তাওবা করব।”

জালিমদের কর্মে সন্তুষ্ট না হওয়া
[৯৩৯] সাঈদ ইবনু জুবায়ের وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا “আর যারা জুলুম করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না।”[১৪৫] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “তোমরা তাদের কর্মে সন্তুষ্ট হোয়ো না।”

অন্তর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
[৯৪০] সুফিয়ান একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, “যদি আমার অন্তর মৃত্যু-ভাবনা থেকে কখনো মুক্ত হয় তখন আমার আশঙ্কা হয় যে, না জানি আমার অন্তর নষ্ট হয়ে গেল!”

দুনিয়ার স্বাদ আস্বাদনে অস্থিরতা তৈরি হওয়া
[৯৪১] বুকাইর ইবনু আতীক বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরের কাছে কিছু মধুভর্তি একটি পাত্র নিয়ে আসলাম। তিনি তা পান করলেন। তারপর বললেন, ‘আল্লাহর কসম, এটি আমার মধ্যে প্রশান্তি পাবে না।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন পাবে না?’ তিনি জানালেন, ‘কারণ আমি তা পান করে স্বাদ আস্বাদন করেছি।’”[১৪৬]

দুনিয়া খুবই সামান্য সময়ের নাম
[৯৪২] হিশাম থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবায়ের বলেছেন, “দুনিয়া হলো আখেরাতের সপ্তাহসমূহের মধ্য হতে একটি সপ্তাহ মাত্র।”

আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা
[৯৪৩] আমাশ থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম ডান দিকে থুতু নিক্ষেপ করে বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”

সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়
[৯৪৪] হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন, “আমার সাথে আল্লাহর আচরণ কতই-না চমৎকার। তিনি আমার থেকে একটা (অঙ্গ) নিয়েছেন কিন্তু বাকি তিনটা রেখে দিয়েছেন।"
ক্যান্সারের কারণে তার হাঁটুর দিক থেকে একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ সম্মানিত
[৯৪৫] হিশাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ আল্লাহর জন্য কোনো কিছু করে, তখন সে যেন এমন কিছু না করে, যা কোনো সম্মানিত ব্যক্তির করতে তার লজ্জাবোধ হয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ সম্মানিত এবং তা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার।”

সালাতের মাধ্যমে সবকিছু চাওয়া
[৯৪৬] মালিক ইবনু আনাস বলেন, “উরওয়া এক ব্যক্তিকে দেখল, সে খুব দ্রুত সালাত আদায় করেছে। তিনি তাকে ডেকে বললেন, 'তোমার তো মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই! আমি তো সালাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে (সবকিছু) চাই। এমনকি লবণের জন্যও তার কাছে প্রার্থনা করি।”

চল্লিশ বছর সাওম রাখা
[৯৪৭] হিশাম ইবনু উরওয়াহ বলেন, 'আমার পিতা ত্রিশ বা চল্লিশ বছর সাওম রেখেছেন। ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দিনগুলো ছাড়া বাকি দিনগুলোতে কখনো সাওম ছাড়া থাকতেননি। এমনকি যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও তিনি সাওম অবস্থায় ছিলেন।”

টিকাঃ
[১৪৩] সূরা বাকারা, ২: ২৮১
[১৪৪] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫: ৫
[১৪৫] সূরা হুদ, ১১: ১১৩
[১৪৬] অর্থাৎ দুনিয়ার স্বাদ আস্বাদন করলে তাঁর ভেতরে প্রশান্তি বিদূরিত হয়ে অস্থিরতা চলে আসত। তাই মধু পান করার পর তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেই কথাটি বলেছেন।-অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00