📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 মাসরুক রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 মাসরুক রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


যিকরে থাকা সালাতে থাকার মতোই
[৮০০] মাসরূক বলেন, “যতক্ষণ কারও অন্তর আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যে থাকে। যদিও তার অবস্থান বাজারের মধ্যে হয়।”

সাজদারত অবস্থায় ঘুমানো
[৮০১] আবূ ইসহাক বলেন, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ হাজ্জ করেছেন এমন অবস্থায় যে, যখনই তিনি ঘুমিয়েছেন তখনই কপালের ওপর সাজদারত অবস্থায় ছিলেন।”

সাজদা ছাড়া সবকিছুর জন্য দুঃখবোধ
[৮০২] সাঈদ ইবনু জুবায়ের বলেন, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ তাআলাকে সাজদা করা ছাড়া, দুনিয়ার বাকি সবকিছুর জন্য আমার দুঃখবোধ হয়।”

কপালকে মাটিতে ধূসরিত করা
[৮০৩] সাঈদ ইবনু জুবায়ের বলেন, “একদিন মাসরূকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, 'হে আবূ সাঈদ, নিজেদের কপালকে ধুলোয় ধূসরিত করা ছাড়া আগ্রহান্বিত হওয়ার মতো আর কিছুই নেই।”

ইলম অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় করা
[৮০৪] আবদুল্লাহ ইবনু মুররা বলেন, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, 'মানুষ তার ইলম অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজের অজ্ঞতা অনুপাতে নিজের ইলমের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে।”

প্রতিটি পদক্ষেপে নেকি বা গুনাহ হয়
[৮০৫] সুলাইমান থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "মানুষ যখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়, এর জন্য তার আমলনামায় একটি নেকি অথবা একটি গুনাহ হয়। বরাদ্দ হয়। (অর্থাৎ ভালো কাজের জন্য হলে নেকি বরাদ্দ হয় আর খারাপ কাজের জন্য হলে গুনাহ)।”

কবিতার প্রতি অনীহা
[৮০৬] মুসলিম থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ-কে একটা কবিতার পঙ্ক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “আমি চাই না, আমার আমালনামায় কবিতার কোনো বিষয় থাকুক।”

রিযকের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস
[৮০৭] আবদুল্লাহ ইবনু মুররা থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'খাদিম যখন এসে বলে, আমাদের কাছে খাবারও নেই, পয়সাও নেই, তখন আমি রিযকের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস রাখতে পারি না!'

আল্লাহ তাআলাই দান করেন ও দান বন্ধ করেন
[৮০৮] মুসলিম থেকে বর্ণিত, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا “যে আল্লাহকে ভয় করবে তিনি তার জন্য উপায় বের করে দেবেন।” [১২২] এই আয়াতের ব্যখ্যায় মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "উপায় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—এই কথা জানা যে, আল্লাহ তাআলাই দান করেন ও দান বন্ধ করেন।”

আল্লাহর ওপর ভরসা
[৮০৯] আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হবেন।”[১২৩] এই আয়াতের ব্যখ্যায় মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তিই আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনি কি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান না? হ্যাঁ, যে তার ওপর ভরসা করে তিনি তার পাপ মোচন করেন এবং তার প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেন।"
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ "নিশ্চয়ই তিনি তার কাজ সমাধা করবেন।" [১২৪] এই আয়াতের ব্যখ্যায় মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে তার ওপর ভরসা করে আর যে করে না, এখানে তাদের বিষয়ে বলা হয়েছে।”
আল্লাহ তাআলা বলেন, قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটা পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।” [১২২] এই আয়াতের ব্যখ্যায় মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “পরিমাণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সময়সীমা।”

নিজের গুনাহের কথা স্মরণ করা
[৮১০] মুসলিম থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “মানুষ এই বিষয়ের উপযুক্ত যে, সে নির্জন মজলিসে উপস্থিত হয়ে নিজের গুনাহের কথা স্মরণ করবে এবং এর থেকে তাওবা করবে।”

দুনিয়া আমাদের নিচে
[৮১১] ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির বলেন, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ প্রতি শুক্রবার একটি খচ্চরে আরোহণ করে আমাকে তার পেছনে চড়িয়ে নিতেন। তারপর জীযা নামক স্থানের একটি পুরাতন ইবাদাতখানায় এসে তাতে খচ্চরকে রেখে বলতেন, ‘দুনিয়া আমাদের নিচে।’”

কবরে থাকা মুমিনকে ঈর্ষা করা
[৮১২] খিফাফ ইবনু আবূ সারিয়া বলেন, “মাসরূক বলেছেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি ঈর্ষা করি কবরে থাকা সে মুমিনকে, যে শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং দুনিয়া থেকে (বিদায় নেবার মাধ্যমে) প্রশান্তি লাভ করেছে।’”

লম্বা সালাত আদায়
[৮১৩] আনাস ইবনু সিরীন মাসরূকের স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন যে, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ এত লম্বা সালাত আদায় করতেন যে, তার উভয় পা ফুলে যেত। নিজের প্রতি করা এমন (কষ্টকর) কাজের কারণে, তার স্ত্রী বসে বসে কাঁদতেন।”

আল্লাহ তাআলা থেকে সতর্কতা অবলম্বন
[৮১৪] শাবি থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছে, তখন সে যেন আল্লাহ তাআলা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে।”

যে আল্লাহকে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসা
[৮১৫] এক ব্যক্তি মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলল, “আমি আল্লাহর জন্য আপনাকে ভালোবাসি।” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহকে ভালোবেসেছ, তাই যে আল্লাহকে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসো।”

তিনি চরিত্রবান ছিলেন
[৮১৬] আবূ ওয়ায়েল বলেন, “আমি মাসরূকের সাথে ছিলাম। তিনি তখন সিলসিলাহ এলাকাতে আমীর হিসেবে ছিলেন। আমি তার থেকে চরিত্রবান কাউকে দেখিনি। তিনি কেবল দজলা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করতেন।”

এক যুবকের নাসীহাত
[৮১৭] শাবি বলেন, “মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ-কে জিয়াদ 'সিলসিলাহ' এলাকার কর্মকর্তারূপে পাঠালেন। যখন মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বের হলেন, তখন তার সাথে তাকে বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে কুফার কারিগণও বের হলেন। তাদের মধ্যে ঘোড়ায় চড়া এক যুবক ছিল। যখন তিনি ফিরে এলেন এবং নিজের কয়েকজন সঙ্গীর সাথে অবস্থান করছিলেন, তখন সেই যুবক তার নিকটবর্তী হয়ে তাকে বললেন, 'আপনি তো কুফার কারিদের প্রধান ও তাদের সর্দার। যদি জানতে চাওয়া হয়, তাদের মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ? উত্তর আসবে, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী কে? উত্তর আসবে, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ। যদি প্রশ্ন করা হয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ কে? উত্তর আসবে, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ। আপনার সুনাম তাদেরই সুনাম। আপনার বদনাম তাদেরই বদনাম। আল্লাহর দোহাই দিয়ে আমি আপনাকে বলি, অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহর কাছে আমি আপনার ব্যাপারে পানাহ চাচ্ছি এই বিষয় থেকে যে—আপনি নিজের ব্যাপারে দরিদ্রতা বা দীর্ঘ আশা পোষণের কথা বলবেন।' তখন মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, "আমি যে অবস্থায় আছি, তুমি কি সে ব্যাপারে আমাকে সহায়তা করবে না?' সে উত্তর দিলো, 'আল্লাহর কসম, আপনি যে অবস্থায় আছেন আমি তাতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। সুতরাং আমি কী করে আপনাকে সহায়তা করব? আপনি চলে যান।' যুবক প্রস্থান করার পর মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বললেন, 'এই যুবকের নাসীহাত আমাকে যতটা স্পর্শ করেছে, কোনো নাসীহাত তা করেনি।' সুফিয়ান বলেন, 'যখন মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ তার সেই কাজ থেকে ফিরে এলেন, তখন তার কাছে আবুল ওয়ায়েল আগমন করলেন। মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, 'আমি এমন কোনো কাজ করিনি, যার ব্যাপারে আমি শঙ্কাবোধ করছি যে তা আমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তবে এই কাজটি ছিল এর ব্যতিক্রম। আমি এতে (অর্থাৎ কর্মকর্তা হয়ে সিলসিলাহ নামক এলাকায় গমন করার কাজে) কোনো মুসলিম বা চুক্তিবদ্ধ কাফিরের প্রতি জুলুম করিনি।”

কিয়ামাতের দিন আফসোস
[৮১৮] হারেস ইবনু উমাইরা থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “বিপদগ্রস্ত লোকেরা কিয়ামাতের দিন আফসোস করবে যে, যদি (দুনিয়াতে) তাদের চামড়াগুলো কাঁচি দিয়ে কাটা হতো!”[১২৬]
[৮১৯] তালহা থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “দুনিয়াতে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা বিপদের অনুপাতে কিয়ামাতের দিন প্রতিদান পাবার সময় খুব আফসোস করবে। এমনকি কেউ কেউ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে যে, যদি দুনিয়াতে তার চামড়া কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হতো!”

মাসজিদ আল্লাহর ঘর
[৮২০] আমর ইবনু মায়মুন বলেন, “মাসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। আর যাকে দেখতে যাওয়া হয় তার দায়িত্ব হলো—দেখা করতে আসা ব্যক্তিকে সম্মান করা।”

কোনো মুসলিমকে ধোঁকা না দেওয়া
[৮২১] ইবরাহীম থেকে বর্ণিত, “মায়মুন ইবনু আবী শাবীব কোনো জাল রৌপ্যমুদ্রা দেখলে তা ভেঙে ফেলতেন। তিনি বলতেন, ‘কোনো মুসলিম যাতে তোমার মাধ্যমে ধোঁকাগ্রস্ত না হয়।”

একজন ঘোষকের ঘোষণা
[৮২২] হাসান ইবনু হুর থেকে বর্ণিত, মায়মুন ইবনু আবী শাবীব বলেছেন, “হাজ্জাজের শাসনামেলে আমি একবার জুমুআর সালাতে যাবার ইচ্ছায় প্রস্তুতি নিলাম। তো (মনে মনে) বললাম, আমি কোথায় যাব? এর (হাজ্জাজের) পেছনে সালাত আদায় করব? তাই একবার ভাবলাম যাব। আবার ভাবলাম যাব না। শেষ পর্যন্ত যাওয়ার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত স্থির করলাম। এমন সময় ঘরের পাশ থেকে একজন ঘোষক আমাকে ডাক দিয়ে বলল:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ
'হে ঈমানদারগণ, যখন জুমুআর দিন সালাতের জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে দ্রুত এগিয়ে যাও।”[১২৭]
তিনি বলেন, “অতঃপর আমি গমন করলাম। একদিন আমি এক গ্রন্থ রচনায় হাত দিলাম। আমার সামনে এমন একটি বিষয় উপস্থিত হলো, যদি তা লিখি—তবে আমার গ্রন্থটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হলেও—আমি নিজে মিথ্যাবাদী হয়ে যাই। আর যদি না লিখি—তবে আমি নিজে সত্যবাদী প্রতীয়মান হলেও—গ্রন্থটিতে কিছুটা অসৌন্দর্য চলে আসে। তাই একবার ভাবছিলাম, গ্রন্থটা লিখে ফেলি। আরেকবার ভাবছিলাম, নাহ থাক; লিখব না। শেষ পর্যন্ত না লেখার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত স্থির করলাম। তাই তা বাদ দিলাম। সে সময় ঘরের পাশ থেকে একজন ঘোষক আমাকে ডেকে বলল:
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
‘আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দুনিয়া-আখিরাতে সুদৃঢ় কথার মাধ্যমে দৃঢ়পদ রাখবেন।'”[১২৮]

টিকাঃ
[১২২] সূরা তালাক, ৬৫: ২
[১২৩] সূরা তালাক, ৬৫: ৩
[১২৪] সূরা তালাক, ৬৫: ৩
[১২৫] সূরা তালাক, ৬৫: ৩
[১২৬] অর্থাৎ দুনিয়াতে যার বিপদ যত বেশি হবে আখেরাতে তার প্রতিদান তত বেশি হবে। তাই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি আফসোস করবে যে, দুনিয়াতে যদি তার বিপদ অনেক বেশি হতো, তাহলেই তো ভালো হতো। এর ফলে আখেরাতে এখন সে বেশি প্রতিদান পেত।-অনুবাদক
[১২৭] সূরা জুমুআ, ৬২: ৯
[১২৮] সূরা ইবরাহীম, ১৪: ২৭

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আমর ইবনু উতবা রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আমর ইবনু উতবা রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


শহীদের প্রতি ভালোবাসা
[৮২৩] আলকামা বলেন, "আমরা একবার যুদ্ধে বের হলাম। তখন আমাদের সাথে ছিল আসওয়াদ, আমর ইবনু উতবাহ, মিদাদ। যখন আমরা সীদানের পানির স্থানে আসলাম-আমাদের আমীর ছিলেন উতবাহ ইবনু ফারকাদ-তখন তার ছেলে আমর ইবনু উতবাহ বললেন, 'যদি আপনারা তার কাছে অবতরণ করেন, তবে সে আপনাদের আতিথেয়তার ব্যবস্থা করবে। হতে পারে (আতিথেয়তা করতে গিয়ে) সে কারও ওপর জুলুম করে ফেলবে। তাই যদি আপনারা চান, তবে আমরা এই গাছের ছায়াতেই বিশ্রাম নেব এবং নিজেদের রুটির খণ্ডিত টুকরো থেকে ভক্ষণ করব।' অতঃপর আমরা ফিরে এলাম এবং (তার কথা অনুযায়ী) করলাম। যখন আমরা ভূমিতে আসলাম, তখন আমর ইবনু উতবা একটি সাদা জুব্বা ছিঁড়ে গায়ে দিলো। তারপর বলল, 'আল্লাহর কসম, এর ওপর রক্ত গড়িয়ে পড়া বেশি সুন্দর (দেখাবে)।' তারপর তার প্রতি (তির) নিক্ষিপ্ত হলো। আমি দেখলাম সে যে জায়গা ধরে রেখেছে, সেখান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এরপর সে মৃত্যুবরণ করল। পরবর্তী দিন আমরা ভোরের শীতলতার মধ্যে রওনা হলাম। আমি মিদাদকে আমার চাদর দিয়ে দিলাম। সে তা পরে নিল। ইবনুল দাওরাকি বলেন, 'সে তা পাগড়ি হিসেবে পরিধান করল। তারপর তার প্রতিও (তির) নিক্ষিপ্ত হলো। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, এটা অনেক ছোট। আর আল্লাহ তাআলা ছোট জিনিসের মধ্যে বরকত দান করেন।' সেই আঘাতের কারণে তারও মৃত্যু হলো। পরবর্তীকালে আলকামা সেই চাদর পরিধান করে বলতেন, 'এতে মিদাদের রক্ত দেখে তার প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পায়।”

জিহাদের জন্য কেনা ঘোড়ার প্রতি কদমে নেকি
[৮২৪] আমাশ বলেন, “আলকামা ইবনু কায়েস, আমর ইবনু উতবা ও মিদাদ বালানযার অভিযানে বের হলেন। তখন আমর ইবনু উতবা (জিহাদের জন্য) চার হাজার দিরহাম দিয়ে একটা ঘোড়া কিনলেন। অন্যরা তাকে বলল, 'তুমি খুব বেশি দাম দিয়ে ফেলেছ।' তিনি বললেন, 'আমি চাই যে, সে প্রতি কদম উঠাবে ও ফেলবে তার বিনিময়ে আমাকে এক দিরহাম এক দিরহাম করে দেওয়া হবে।”

সাজদা করা এবং নৈকট্যবান হওয়া
[৮২৫] উতবা ইবনু ফারকাদ আবদুল্লাহ ইবনু রবীআকে বললেন, “হে আবদুল্লাহ, তুমি কি আমাকে—তোমার ভাতিজার ব্যাপারে আমি যে কাজ করছি—তাতে সহায়তা করবে না?” আবদুল্লাহ বললেন, “হে আমর, তুমি আপন পিতার আনুগত্য করো।” তারপর তিনি মিদাদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি তাদের সাথে বসে আছেন। তখন তাকে বললেন, “তুমি তাদের অনুগত হোয়ো না। সাজদা করো এবং নৈকট্যবান হও। আমাশ কেন সাজদা করেননি?” আমর বললেন, "হে আমার পিতা, আমি একজন গোলাম। যে কিনা নিজের মুক্তির জন্য কাজ করে।” তখন উতবা কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, “হে আমার ছেলে, আমি তোমাকে দুভাবে ভালোবাসি। একটা হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। অন্যটা হলো পুত্রের প্রতি পিতার ভালোবাসা।” আমর বলল, “হে আমার পিতা, আপনি আমার কাছে এত সম্পদ নিয়ে এসেছেন, যা সত্তর হাজারের মতো হবে। যদি আপনি তা আমার কাছে চান, তবে তা-ই হবে। আপনি তা গ্রহণ করে নিন। অন্যথায় আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আমি তা খরচ করব।” বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি সবটুকু খরচ করেছিলেন। এমনকি একটা দিরহামও আর বাকি থাকেনি।”

বিয়ের প্রতি অনীহা
[৮২৬] সিরীন থেকে বর্ণিত, “উতবা ইবনু ফারকাদ তার ছেলে আমরের কাছে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করল। সে তা নাকচ করে দিলো। তখন তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে গিয়ে অভিযোগ জানালেন। উসমান তার ছেলে আমর ইবনু উতবার কাছে এই মর্মে লিখে পাঠালেন, যেন সে যাতে তার কাছে উপস্থিত হয়। (উপস্থিত হবার পর) উসমান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাকে বিবাহ করতে কিসে বারণ করল? অথচ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ বাকর ও উমার বিবাহ করেছেন। এবং আমরাও তাদের থেকে যা (উপকার) পাবার পাচ্ছি।' আমর তাকে উত্তর দিলো, 'হে আমিরুল মুমিনিন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমলের মতো এবং আবূ বাকর, উমার ও আপনার আমলের মতো আমল কে করতে পারবে?' সে যখন তাকে এই কথা বলল তখন তিনি তাকে বললেন, 'ঠিক আছে তুমি চলে যাও। যদি তোমার মন চায় তবে বিয়ে কোরো। আর যদি মন না চায় তবে কোরো না।”

কবরের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি
[৮২৭] ঈসা ইবনু উমার বলেন, "আমর ইবনু উতবা ইবনু ফারকাদ রাতের বেলায় তার ঘোড়ায় চড়ে বের হলেন। তারপর কয়েকটি কবরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে কবরবাসী, আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমল তুলে নেওয়া হয়েছে।' তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত দুই পা সোজা করে অবস্থান করলেন। এরপর ফিরে গিয়ে ফজরের সালাতে অংশগ্রহণ করলেন।”

মেঘমালা তাকে ছায়া দিত
[৮২৮] আলি ইবনু সালেহ বলেন, “আমর ইবনু উতবা তার সঙ্গীদের বাহনগুলো চরাতেন আর মেঘমালা তাকে ছায়া দিত।”

হিংস্র প্রাণী তাকে পাহারা দিত
[৮২৯] আলি ইবনু সালেহ বলেন, “আমর ইবনু উতবা সালাত আদায় করতেন আর হিংস্র প্রাণী তাকে পাহারা দিত।”

আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করতেন না
[৮৩০] আমর ইবনু উতবার একজন আযাদকৃত দাস বলেন, “একদিন গরমের সময়ে আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠে আমর ইবনু উতবাকে খুঁজতে খুঁজতে পাহাড়ের ওপর তার দেখা পেলাম। তখন তিনি সাজদারত ছিলেন আর মেঘ তাকে ছায়া দিচ্ছিল। আমরা যখন যুদ্ধে বের হতাম, তখন তার সালাতের আধিক্যতার কারণে আমাদের পাহারা দিতে হতো না। (কারণ, রাত জেগে তিনি সালাত আদায় করতেন।) একরাতে তাকে দেখলাম সালাত আদায় করছেন। তখন আমরা সিংহের গর্জন শুনে পালিয়ে গেলাম। কিন্তু তিনি সরে না গিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে থাকেন। আমরা তাকে বললাম, ‘আপনি কি সিংহকে ভয় করেন না?’ তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে সিংহকে ভয় পেতে লজ্জাবোধ করি।”

তিনটি প্রার্থনা
[৮৩১] আমাশ থেকে বর্ণিত, আমর ইবনু উতবা ইবনু ফারকাদ বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে তিনটা জিনিস চেয়েছি। তিনি আমাকে দুটা দিয়েছেন, আমি এখন তৃতীয়টা পাওয়ার অপেক্ষা করছি। তার কাছে আমি প্রার্থনা করেছি, যাতে করে তিনি আমাকে দুনিয়াবিমুখ বানিয়ে দেন। তাই দুনিয়ার কী এল আর কী গেল, তাতে আমি ভ্রুক্ষেপ করি না। তার কাছে আমি আবেদন করেছিলাম—যাতে তিনি আমাকে সালাতে দণ্ডায়মান থাকার মতো শক্তি দান করেন। তিনি আমাকে তা দিয়েছেন। আরেকটা হলো আমি তার কাছে শহীদ হওয়ার নিবেদন করেছি। এখন তারই প্রতীক্ষায় আছি।”

সিংহও তাকে সমীহ করত
[৮৩২] মুহাম্মাদ বলেন, “আমি যাদের সাহচর্যে থেকেছি তাদের মধ্যে আমর ইবনু উতবা এমন ব্যক্তি, যে সব সময়ই অনুসরণীয়। এক রাতে তিনি তাঁবুতে সালাত আদায় করছিলেন আর তার সঙ্গী তাঁবুর বাইরে সালাত আদায় করছিল। ইত্যবসরে একটি সিংহ এসে তার সঙ্গীর কেবলার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে গেল। কিন্তু সে সরে যায়নি। এরপর সিংহটি তাঁবুর কাছে এসে আমরের পায়ের কাছে গুটিয়ে বসল। যখন তিনি সাজদা করতে চাইলেন, তখন সিংহটি সরে গিয়ে তার সাজদার স্থানে এসে জড়সড় হয়ে বসল। তখন তিনি (ওই অবস্থায়) সাজদা করলেন। অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তিনি গলা খাঁকারি দিলেন। সন্দেহটা হয়েছে বর্ণনাকারী বিশরের। তারপর সকাল হলে আমরের সঙ্গী তার কাছে এসে জানাল যে, তার সামনে দিয়ে সিংহটি অতিক্রম করেছিল কিন্তু সে সরে যায়নি। সে ভেবেছিল সিংহটি হয়তো কিছু একটা করে বসবে। তখন আমরও তার পায়ে থাকা সিংহটির চিহ্ন তাকে দেখালেন এবং সিংহটি যা করেছে সে বিষয়ে তাকে জানালেন।”

মেঘ তাকে ছায়া দিত
[৮৩৩] হাওত ইবনু রাফে থেকে বর্ণিত, আমর ইবনু উতবাহ তার সঙ্গীদের কাছে শর্ত করলেন যে, তিনি তাদের খাদেম হবেন। বর্ণনাকারী বলেন, "একদিন গরমের ভেতর তিনি চারণভূমিতে বের হলেন। তখন তার একজন সঙ্গী তার কাছে আগমন করে দেখতে পেল যে, মেঘমালা তাকে ছায়া দিচ্ছে আর তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। তখন বিশর বললেন, 'হে আমর।' তারপর আমর তাকে ধরলেন, যেন তিনি এই বিষয়ে কাউকে কিছু না জানান।"

বিবাহের প্রতি অনাগ্রহ
[৮৩৪] মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু উতবাহ ইবনু ফারকাদ থেকে বর্ণিত, একবার তার পিতামাতা তাকে বিবাহ দেওয়ার ইচ্ছা করলেন, কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। তখন তারা উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সহায়তা নিলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার, তুমি বিয়ে করতে চাচ্ছ না কেন? অথচ নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে করেছেন, আবূ বাকর, উমার বিয়ে করেছেন। আমি নিজে বিয়ে করেছি।” তিনি উত্তর দিলেন, “আপনাদের মতো আমল করার সাধ্য কি আর আমার আছে!” উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!” তারপর তিনি তার চেহারা ঘুরিয়ে হাত দিয়ে ঢেকে ফেললেন। ঠিক যেভাবে কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে করে থাকে। (এভাবেই) বর্ণনাকারী উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতিক্রিয়ার অবস্থা ব্যক্ত করেছেন। যখন তারা তাকে খুব পীড়াপীড়ি করল তখন তিনি বললেন, “ঠিক আছে, আমি বিয়ে করব।” জারীরের কন্যাকে তার বিয়ের প্রস্তাব জানানো হলো। তিনি বললেন, "আমি মেয়ের সাথে কথা না বলে বিয়ে করব না।” তারা বলল, “ঠিক আছে তা-ই হোক।”
আবুল হাসান বলেন, “এই ঘটনার ব্যাপারে আমাকে ফাহদ ইবনু আওফ বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনু মুফাদদলের সূত্রে, তিনি সালামা ইবনু আলকামা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ থেকে। অতঃপর তারা জারীরের কন্যাকে নিয়ে এল। তিনি তাকে বললেন, 'দেখো, আমার তো স্ত্রীর কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার পিতামাতা বিয়ের জন্য খুব পীড়াপীড়ি করছেন। তো তাদের কাছে তোমার চাহিদা অনুপাতে খাদ্য-বস্ত্র তুমি পাবে।' মেয়ে বলল, 'ঠিক আছে আমি সন্তুষ্ট।'”
বর্ণনাকারী বলেন, “যখন তারা (বিয়ের পর মেয়েকে) নিয়ে রাতের বেলা তার কাছে এল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। মেয়েটিও তার পেছনে দাঁড়িয়ে সকাল হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে লাগল। (পরের দিন) সকালটা তিনি শুরু করলেন সাওম পালনকারী অবস্থায়। তো স্ত্রীও তা-ই করল।”
বর্ণনাকারী বলেন, “আমর বললেন, 'যদি আমি সময় নেই, তবে তার অবস্থা আমার জন্য (বেশি পরিমাণে ইবাদাতের ক্ষেত্রে) বাধা হয়ে দাঁড়াবে।' তখন তার পিতামাতা তাকে বললেন, 'আমরা সন্তানের আশায় তোমাকে বিয়ে দিয়েছি, এসবের জন্য নয়। সুতরাং তুমি তাকে তালাক দাও।' তিনি তাকে তালাক দিলেন। তারপর আরেকটি মেয়ের জন্য তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হলো। তিনি বললেন, 'আমি কথা না বলে কোনো মেয়েকে বিবাহ করব না।' পিতামাতা মেয়েকে তার কাছে নিয়ে এলেন। তাকেও তিনি সে রকম কথা বললেন, যা জারীরের মেয়েকে বলেছিলেন। তারপর কিছুকাল অতিবাহিত হলো। একদিন তিনি শুয়ে ছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল তিনি ঘুমে। পরিবারের একজন মহিলা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল, 'হে অমুক, কী ব্যাপার তোমার এখনো সন্তান হচ্ছে না। তুমি অক্ষম নাকি?' সে উত্তর দিলো, 'স্বামীহীনা কারও কি সন্তান হয়?' এই কথা শুনতে পেয়ে আমর তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং তার পিতামাতা তাকে বিদায় দিলেন।"

শাহাদাতের তামান্না কবুল হওয়া
[৮৩৫] সুদ্দী বলেন, “আমর ইবনু উতবার চাচাতো ভাই আমার কাছে বর্ণনা করে বলেছেন যে, আমরা (জিহাদে বের হয়ে) একটি চমৎকার উদ্যানে অবতরণ করলাম। তখন আমর ইবনু উতবা বলল, 'এই উদ্যানটি কত সুন্দর! এখানের সময়টা কতই-না চমৎকার হতো যদি কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে বলত, 'হে আল্লাহর ঘোড়সওয়ারি, তুমি আরোহণ করো।' অতঃপর এই কথা বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন। সর্বপ্রথম তারই মৃত্যু হয়। মৃত অবস্থায় তাকে পেয়ে নিয়ে আসা হলো এবং সেই স্থানে তাকে দাফন করা হলো”

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আসওয়াদ ইবনু ইয়াযিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আসওয়াদ ইবনু ইয়াযিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


নবিজির সাথে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
[৮৩৬] খলাফ ইবনু আয়ান বলেন, “যখন বাকর ইবনু ওয়ায়েলের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, 'কুস ইবনু সায়েদাহ আল-ইয়াদি কী করেছে?' তারা জানাল, 'সে তো মারা গেছে হে আল্লাহর রাসূল।' তিনি বললেন, 'আমি যেন উটের ওপর বসা উকাযের বাজারে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছি আর সে বলছে—হে লোকসকল, তোমরা একত্র হয়ে আমি যা বলছি শোনো এবং তা মনে রাখো। যে বেঁচে আছে সে মারা যাবে, আর যে মারা যাবে সে বঞ্চিত হবে। প্রত্যেক যা কিছু ঘটার তা ঘটবেই। বিছানা বিছানো হয়ে গেছে। ছাদ তুলে নেওয়া হয়েছে। তারকা ছুটোছুটি করছে। সমুদ্র আরও গভীর হচ্ছে। আসমানে আছে সংবাদ আর জমিনে আছে অনেক শিক্ষার উপকরণ। আল্লাহর কসম, তোমরা যে ধর্মে রয়েছে আল্লাহর তারচেয়ে বেশি পছন্দনীয় একটি দ্বীন রয়েছে।” [১২৯]
বর্ণনাকারী বলেন, “তারপর তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন, তখন কওমের এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি একটি কবিতা আবৃত্তি করব।' তারপর সে তাদের আবৃত্তি করে শোনাল,
فِي الذَّاهِبِينَ الْأَوَّلِينَ ... مِنَ الْقُرُونِ لَنَا بَصَائِرُ لَمَّا رَأَيْتُ مَوَارِدًا لِلْمَوْ ... تِ لَيْسَ لَهَا مَصَادِرُ لَا يَرْجِعُ الْمَاضِي إِلَى ... وَلَا مِنَ الْبَاقِينَ غَابِرُ أَيْقَنْتُ أَنِّي لَا مَحَالَةً ... حَيْثُ صَارَ الْقَوْمُ صَائِرُ
যুগে যুগে যারা গত হয়েছে তাদের থেকে আমাদের আছে অনেক কিছু শিখবার।
যখন আমি দেখতে পাচ্ছি যে, কোনো উপায় নেই মৃত্যুর পথ থেকে বাঁচবার। অতীত আমার কাছে ফিরে আসবে না কভু, বেঁচে রবে না বাদবাকি মানুষেরা। দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে আমার—অবশ্যই আমি উপনীত হব সেথায়, যেথায় গমন করেছে লোকেরা।”

অধিক সাজদাকারীদের চেহারা শুভ্র হবে
[৮৩৭] মুজাহিদ থেকে বর্ণিত,
سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ
“তাদের পরিচয় হলো তাদের চেহারায় সাজদা-চিহ্ন থাকে।” [১৩০] তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “দুনিয়াতে বেশি বেশি সাজদা করার কারণে কিয়ামাতের দিন তাদের চেহারা শুভ্র হবে।”

সন্তানের জন্য দুআ
[৮৩৮] সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, “যখন যর ইবনু উমার ইবনু যর মারা গেলেন তখন উমার ইবনু যর বললেন, ‘ওহে যার, তোমার শোকে আমরা এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, তোমার (কবরে কী হবে সেই) ব্যাপারে আমরা দুশ্চিন্তা করার সময় পাইনি। হায়! (কবরে) তুমি কী বলেছ, আর তোমাকে কী বলা হয়েছে তা যদি জানতে পারতাম! হে আল্লাহ, আমার অধিকার আদায় করতে গিয়ে যরের যেটুকু ঘাটতি হয়েছে, আমি তা তাকে দিয়ে দিলাম; তোমার দায়িত্ব পালনে তার যেটুকু ঘাটতি হয়েছে, তুমি তাকে সেটুকু মাফ করে দাও।
সুফিয়ান বলেন, উমার ইবনু যর আয়াতটি পড়তেন :
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
“বিচারদিনের মালিক।” [১৩১]

সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে আফসোস করা
[৮৩৯] আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক থেকে বর্ণিত, উসমান ইবনু আবী দাহরাশ যখন ফজরের সময় আগত হতে দেখতেন, তখন ব্যথিত হতেন। (কারণ, জীবনের একটা দিন অতিবাহিত হয়ে গেল)। তিনি বলতেন, "আমি এখন মানুষের সাথে আছি। কিন্তু আমার জানা নেই নিজের জন্য আমি কী অর্জন করলাম।" উসমান ইবনু আবী দাহরাশ বলেন, “আমি প্রত্যেক সালাতের পরেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি-তাতে যে কমতি হয়েছে এর জন্য।”

মৃত্যুই যেন ইফতার হয়
[৮৪০] মুসলিম ইবনু জাফর বলেন, “আমি মুহাম্মাদ বিন বিশরকে বলতে শুনেছি যে-দুনিয়া থেকে সাওম রেখে (বিদায় গ্রহণ করো)। মৃত্যুই যেন হয় তোমার ইফতার। কষ্ট প্রলম্বিত হওয়ার ভয়ে ওষুধ খেতে থাকা আপন ক্ষতের চিকিৎসাকারীর ন্যায় হও। এর মাধ্যমে তুমি দীর্ঘ প্রশান্তি লাভ করবে।”[১৩২]

মৃত্যুর আলোচনা শুনে মারা গেলেন
[৮৪১] আবুল মুগীরা বলেন, “আমরা রমাদান মাসের কোনো এক রাতে উমার ইবনু যরের মজলিসে ছিলাম। যরের পুত্র তখন আলোচনা করল এবং মৃত্যুর উপস্থিত হওয়ার কথা এবং মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির কাছে আগমন করা রহমত ও আযাবের ফেরেশতার কথা আলোচনা করল। একজন যুবক (তা শুনে) লাফ দিয়ে উঠল এবং চিৎকার করতে করতে ও তড়পাতে তড়পাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।”

ভাড়াটে লোকের কান্না
[৮৪২] ইবনুস সাম্মাক বলেন, “যর তার পিতা উমার ইবনু যরকে বলল, 'আলোচকদের কী হলো যে, তারা আলোচনা করলে কেউ কাঁদে না। কিন্তু যখনই আপনি আলোচনা করেন তখন এখান-সেখান থেকে কান্নার ধ্বনি ভেসে আসে?' তিনি বললেন, 'হে আমার ছেলে, ভাড়াটে ক্রন্দনকারীর ক্রন্দন কখনো সন্তানহারা মায়ের ক্রন্দনের মতো হয় না।”

নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করা
[৮৪৩] আবূ হাইয়ান তাইমি বলেন, “আমি ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যখনই আমি আমার কথাকে কাজের সামনে পেশ করেছি, তখনই আশঙ্কা হয়েছে যে, আমি মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হব।”

টিকাঃ
[১২৯] সনদ যঈফ। বাইহাকি, দালায়িলুন নাবুওয়াতি, ২/১০১; ইবনু কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২/৬২৩
[১৩০] সূরা ফাতহ, ৪৮: ২৯
[১৩১] সূরা ফাতিহা, ১: ৩
[১৩২] অর্থাৎ দুনিয়াতে ইবাদাতের কষ্ট করে গেলে আখেরাতে জান্নাতে দীর্ঘ সুখ লাভ করবে।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবু ওয়ায়েল রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবু ওয়ায়েল রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


তিনি পাখির মতো আন্দোলিত হচ্ছিলেন
[৮৪৪] মুগীরা বলেন, “আবূ ওয়ায়েলের ঘরে একবার ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ যিকর করছিলেন। তখন আবূ ওয়ায়েল যেন পাখির আন্দোলিত হওয়ার ন্যায় আন্দোলিত হলেন।”

তার কারণে আল্লাহ আযাব দিতেন না
[৮৪৫] আবূ মিসার থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “প্রত্যেক জনপদে এমন একজন ব্যক্তি থাকেন, যিনি সেই জনপদের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে (আল্লাহর আযাব) প্রতিহত হওয়ার কারণ হন। আমি আশা করি আবূ ওয়ায়েল তাদেরই একজন।"

আল্লাহর পথে লড়াইকারী সন্তান
[৮৪৬] আবু জাফর থেকে বর্ণিত, আবূ ওয়ায়েল বলেন, "এক হাজার সন্তানের চেয়েও এমন এক সন্তানই আমার কাছে অধিক প্রিয়, যে আল্লাহর পথে লড়াই করবে।"

জিহাদের জন্য সর্বস্ব দান
[৮৪৭] আসেম থেকে বর্ণিত, "আবু ওয়ায়েলের একটি বাঁশের তৈরি কুঁড়েঘর ছিল। তিনি নিজে ও তার ঘোড়া সেখানে থাকত। যখন তিনি জিহাদে যেতেন, তখন তা ভেঙে (বাঁশ-বেড়া) দান করে দিতেন। যখন ফিরে আসতেন তখন নতুন করে তা আবার নির্মাণ করতেন।"

আমলের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জন করা
[৮৪৮] মনসুর থেকে বর্ণিত, وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ “তার কাছে অসীলা তালাশ করো।”[১৩৩] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু ওয়ায়েল বলেন, "আমলের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জন করা।”

আল্লাহর আনুগত্য করার গুরুত্ব
[৮৪৯] আমাশ থেকে বর্ণিত, আমাকে শাকীক বললেন, “হে সুলাইমান, আল্লাহর কসম, যদি আমরা আল্লাহর আনুগত্য করতাম তবে তিনি আমাদের সাথে ভিন্ন আচরণ করতেন না। অর্থাৎ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতেন।”

কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে দুআ
[৮৫০] আসেম থেকে বর্ণিত, "আবূ ওয়ায়েল যখন ঈশা পড়ে বের হতেন তখন নিজ কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে বলতেন, হে আল্লাহ, যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করেন, তবে আপন অনুগ্রহেই আমাকে করবেন। আর যদি আমাকে শাস্তি দেন তবে জুলুম করা ছাড়াই শাস্তি দেবেন। আমি তা প্রতিহত করতে অক্ষম।”

ঘটনা শুনে কাঁদা
[৮৫১] মারূফ ইবনু ওয়াসেল বলেন, "আমি ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-কে ঘটনা বর্ণনা করতে দেখেছি। তার সাথে আবূ ওয়ায়েল ছিল। তিনি (তা শুনে) কাঁদছিলেন।”

ঈমানহীন লোকদের সমাবেশস্থল
[৮৫২] আসেম থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি আবূ ওয়ায়েলকে বলল, 'কিছু লোক বলে থাকে, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।' তিনি বললেন, 'আপনার জীবনের শপথ! নিশ্চয়ই জাহান্নাম হবে ঈমানহীন লোকদের সমাবেশস্থল।”

বিদআত পরিহার করা
[৮৫৩] আবুল বুখতারি থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে খবর দিলো যে, কিছু লোক মাগরিবের পর মাসজিদে বসেছে। তাদের মধ্যে একজন বলছে, এত এত বার আল্লাহু আকবার পড়ো। এত এত বার সুবহানাল্লাহ পড়ো। এত এত বার আলহামদুলিল্লাহ পড়ো। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা এমনটা বলেছে?' সে বলল, 'হ্যাঁ বলেছে।' তিনি তাকে বললেন, 'এরপর যখন তাদের এমনটা করতে দেখবে, তখন আমার কাছে এসে তাদের মজলিসের সংবাদটা দিয়ো। (পরবর্তীকালে সংবাদ পেয়ে) তিনি একপ্রকার ঢিলা পোশাক পরে এসে তাদের কাছে বসলেন। যখন শুনলেন তারা তা বলছে, তখনই উঠে দাঁড়ালেন। তিনি ছিলেন খুবই কঠিন প্রকৃতির মানুষ। তিনি বললেন, 'আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই সেই সত্তার কসম, তোমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিদআত নিয়ে এসেছ। আমাদের ইলম মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিদের চেয়ে বেশি নয়।' আমর ইবনু উতবা বলেন, 'হে আবু আবদুর রহমান, আমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করি।' তিনি বললেন, 'তোমাদের কর্তব্য হলো (সঠিক) পথ আঁকড়ে ধরা। তোমরা তা মজবুত করে ধরে রাখো। আল্লাহর কসম, যদি তোমরা তা করতে তবে অনেক দূর এগিয়ে যেতে। যদি তোমরা ডান-বাম অবলম্বন করো, তবে অনেক বেশি পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।”

কাজির কাছ থেকে কিছু নিতে অনীহা
[৮৫৪] আসেম থেকে বর্ণিত, তিনি তার দাসীকে বলতেন, “হে বারাকাহ, যদি তোমার কাছে আমার ছেলে ইয়াহইয়া কোনো কিছু নিয়ে আসে তুমি তা গ্রহণ করবে না। আর যদি আমার সঙ্গীরা কিছু নিয়ে আসে তবে তা গ্রহণ করবে।” তার ছেলে ইয়াহইয়া ছিলেন কিনাসার কাজি।

সালাত আদায়ের সময় ফুঁপিয়ে কাঁদতেন
[৮৫৫] আসেম বলেন, “আবূ ওয়ায়েল যখন তার ঘরে সালাত আদায় করতেন তখন খুব ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন। যদি তাকে পুরো দুনিয়া দিয়ে দেওয়া হতো এর বিনিময়ে যে, তার (এই অবস্থা) কেউ দেখবে তবুও তিনি তাতে রাজি হতেন না।”

আল্লাহ যেকোনো গোনাহ মাফ করে দিতে পারেন
[৮৫৬] আমাশ বলেন, "আমি শাকীককে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ, যদি আপনি আমাদের আপনার কাছে দুর্ভাগাদের (তালিকাতে) অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন, তাহলে তা মুছে দিয়ে আমাদের সৌভাগ্যশালীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যদি আমাদের সৌভাগ্যশালীদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন তবে তাকে সুদৃঢ় রাখেন। কারণ, আপনি তো যা ইচ্ছা তা মুছে দিতে পারেন, আবার বহালও রাখতে পারেন। আপনার কাছেই রয়েছে মূল তালিকা।”

তিনি দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে জীর্ণদেহী হয়েছিলেন
[৮৫৭] আবূ হাইয়ান তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “লোকেরা সুআইদ ইবনু শোবার কাছে আগমন করল। সে সময় তিনি পাখির একটি বাচ্চার ন্যায় বিছানায় শায়িত ছিলেন। (অর্থাৎ দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে জীর্ণদেহের হয়ে পড়েছিলেন।) তার স্ত্রী তাকে ডেকে বলছে, 'আমার পরিবার আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি কি আপনাকে খাবার খাওয়াইনি? আমি কি আপনাকে পান করাইনি?' তিনি তখন ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, 'অসুখ দীর্ঘ হয়েছে। (বিছানায়) পড়ে থাকা প্রলম্বিত হয়েছে। আমি চাই না, এর কারণে আমার (নেকি) নখের মাথা পরিমাণও হ্রাস করা হোক।”

সুস্থির সাজদা
[৮৫৮] আনবাস ইবনু উকবাহ বলেন, “তিনি সাজদা করলে চড়ুইপাখি তার পিঠে এসে বসতো। কেমন যেন তিনি একটি দেয়ালখণ্ড।”

খুসাইমিনের ওসিয়ত
[৮৫৯] সুফিয়ান এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, “খুসাইমিন ওসিয়ত করেছিলেন যে, তাকে যেন স্বজাতির সবচেয়ে দরিদ্র ব্যক্তিদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।”

মৃত্যু তো একদিন না একদিন আসবেই
[৮৬০] মুহাম্মাদ ইবনু খালেদ যব্বী বলেন, “আমি জানি না কীভাবে খায়সামা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাবরতা কুরআন তিলাওয়াত করে একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তারপর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তার স্ত্রী তার কাছে এসে সামনে বসে কেঁদে দিলো। তিনি তাকে বললেন, 'তুমি কাঁদছ কেন? মৃত্যু তো একদিন-না-একদিন আসবেই।' স্ত্রী বলল, 'আপনার মৃত্যুর পর অন্য কোনো পুরুষ গ্রহণ করা আমার জন্য হারাম।' তখন খায়সামা তাকে বললেন, 'আমি এসব কিছুই তোমার কাছে চাই না। আমি কেবল এক ব্যক্তির ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করছি, সে হলো আমার ভাই মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান। সে একজন পাপী ব্যক্তি। মদ পান করে থাকে। আমার ঘরে এক-তৃতীয়াংশ (সময়) কুরআন তিলাওয়াত হওয়ার পর তাতে কারও মদ পান করাটা আমি অপছন্দ করছি।”

ব্যবসায় লাভ করে তিনি আনন্দিত হননি
[৮৬১] ইবরাহীম তাইমি রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা ইয়াজিদ ইবনু শারীক থেকে বর্ণনা করেন যে, “তিনি একবার বসরা থেকে চার হাজার (মুদ্রা) দিয়ে কিছু দাস ক্রয় করলেন। তারা তার জন্য একটি বাড়ি বানিয়ে দিলো। তারপর তিনি তাদের চার হাজার (মুদ্রা) লাভে বিক্রি করে দিলেন। ইবরাহীম বলেন, আমি তাকে বললাম, 'বাবা, আপনি যদি আবার বসরা গিয়ে সে রকম কিছু (দাস) ক্রয় করে তাদের মাধ্যমে লাভবান হতেন।' তিনি উত্তরে বললেন, 'হে আমার ছেলে, কেন তুমি আমাকে তা বললে? আল্লাহর কসম, যখন আমি তা লাভ করেছিলাম, তখন আনন্দিত হইনি। আমি ভাবছি না যে পুনরায় (বসরা) গিয়ে সে রকম লাভ করব।”

শেখার প্রতি আগ্রহ
[৮৬২] আবুল বুখতারি তাঈ বলেছেন, “যাদের আমি শেখাব ওদের কাছে অবস্থান করার তুলনায়, যাদের কাছ থেকে আমি শিখতে পারব তাদের কাছে অবস্থান করাটা বেশি পছন্দ করি।"

অধিক ইবাদাতে শুকিয়ে যাওয়া
[৮৬৩] নযর ইবনু ইসমাঈল এমন একজন থেকে বর্ণনা করেন, যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ প্রতিদিন সাত শ রাকাত সালাত আদায় করতেন। লোকেরা বলত, “তিনি তার পরিবারের লোকদের মধ্যে সবচেয়ে কম পরিশ্রমী।”
বর্ণনাকারী বলেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি (ইবাদাতে অধিক পরিশ্রম করার কারণে শুকিয়ে) হাড্ডিসার অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন। লোকেরা বলত, 'আসওয়াদের পরিবার জান্নাতের অধিবাসী।"

ভালো কাজে দেরি না করা
[৮৬৪] হারেস ইবনু কায়স বলেন, "যদি তুমি আখেরাতের কাজে থাকো, তবে তাতে অবস্থান করো। আর যদি দুনিয়ার কাজে থাকো, তবে সরে আসো। যদি ভালো কিছুর ইচ্ছা করো তবে (তা বাস্তবায়নে) দেরি কোরো না। যদি সালাত আদায়কালে শয়তান তোমার কাছে এসে বলে। নিশ্চয়ই তুমি আমাকে দেখছ, তখন তুমি সালাতকে আরও দীর্ঘায়িত করো।”

তিনি সাজদায় কান্না করতেন
[৮৬৫] আসেম বলেন, "যর ছিলেন আবূ ওয়ায়েল থেকেও বয়সে বড়। যখন তারা উভয়ে বসতেন আবূ ওয়ায়েল যরের সাথে কোনো কথা বলতেন না।”
বর্ণনাকারী বলেন, “ঘরে একাকী অবস্থানকালে সাজদা অবস্থায় আমি আবূ ওয়ায়েলকে বলতে শুনেছি, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব, আমাকে মাফ করে দিন। কেননা, যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন, তবে আপন দয়ায় আমাকে ক্ষমা করবেন। আর যদি আমাকে শাস্তি দেন, তবে জুলুম না করেই আপনি আমাকে শাস্তি দেবেন। আমি তা প্রতিহত করতে অক্ষম। তারপর আমি শুনলাম তিনি সন্তানহারা মায়ের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে খুব কাঁদলেন। কেউ তাকে কাঁদতে দেখবে এর বিনিময়ে যদি তাকে (পুরো দুনিয়া) দিয়ে দেওয়া হতো, তবুও তিনি রাজি হতেন না।"

অপরিচিত গৃহবাসীগণের হালাল রুটির ব্যবস্থা করা
[৮৬৬] আমাশ থেকে বর্ণিত, আবূ ওয়ায়েল বলেন, “নিশ্চয়ই যেসব পরিবারের লোকেরা তাদের দস্তরখানাতে হালাল রুটির ব্যবস্থা করে তারা হলো গুরাবা।

টিকাঃ
[১৩৩] সূরা মায়েদা, ৫: ৩৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00