📄 আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
আমলনামার অবস্থা
[৬১১] আবুত তাইয়াহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে এই আয়াত পড়তে শুনেছি :
وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
'আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কিয়ামাতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি আমলনামা, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।'[৮৪]
তারপর তিনি বললেন, 'দুইবার খোলা হবে একবার গুটানো হবে। হে বানী আদম, যখন তুমি পাপাচার করো, তখন তোমার আমলনামা খোলা অবস্থায় থাকে। সুতরাং তুমি যা ইচ্ছা তা দিয়ে সেটি পূর্ণ করো। যখন তোমার মরণ হবে, তখন সেই আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হবে। তারপর যখন তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন আবার তা খোলা হবে। (তারপর বলা হবে) 'পাঠ করো তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসেব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।' (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭ : ১৪)।”
তিনি স্ত্রীর মাথায় পানি ঢেলে দিলেন
[৬১২] মাখলাদ ইবনু হুসাইন বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর ঘরে পানি পান করতে চাইল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, 'কূপে এক ফোঁটা পানিও নেই। অথবা তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এক ফোঁটা পানিও নেই।' তখন তিনি (আবুস সওয়ার) গিয়ে কূপের তলানি থেকে (পানি এনে তা) স্ত্রীর মাথায় ঢেলে দিয়ে বললেন, 'এই যে দেখো কত ফোঁটা পানি!'”[৮৫]
এক-দশমাংশও ভালো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৬১৩] সালিম ইবনু নূহ বলেন, "আওফ জুমুআর দিন (মাসজিদে) যাচ্ছিলেন। তো ইউনুস তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কী?' আওফ বললেন, 'আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আপনার সব খবরাখবর ভালো তো?' তিনি বলেছিলেন, 'হায়! যদি এক-দশমাংশও ভালো হতো!"
ইলমের চর্চা করাও এক ধরনের ইবাদাত
[৬১৪] ইবনু শাওযাব বলেন, "আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ একটি মজলিসে ছিলেন। যেখানে ইলমের চর্চা হচ্ছিল। তাদের সাথে একজন যুবকও ছিল। সে বলল, 'আপনারা বলুন, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ।' তখন আবুস সওয়ার ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক, আমরা তাহলে এতক্ষণ কিসে মগ্ন ছিলাম?” [৮৬]
জ্বালাতন করতে আসা ব্যক্তির সাথে তার আচরণ
[৬১৫] মাখলাদ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জ্বালাতন করতে এল। তিনি চুপ করে থাকলেন। তারপর ঘরে পৌঁছে বা প্রবেশ করে বললেন, 'ইচ্ছে হলে এবার ক্ষান্ত হতে পারো।”
মাসজিদ আখিরাতের বাজার
[৬১৬] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ একবার এক ব্যক্তিকে মাসজিদে (কোনো কিছু) বিক্রি করতে দেখে ডাক দিয়ে বললেন, 'এটি হলো আখিরাতের বাজার। যদি তোমার (কোনো কিছু) বিক্রি করার দরকার হয়, তবে দুনিয়ার বাজারে যাও।”
দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো
[৬১৭] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। আমি তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি না। তোমরা তো দুনিয়ার প্রতি লালসা রাখো এবং দুনিয়ার ব্যাপারেই উপদেশ কামনা করো।"
আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-এর নিন্দা
[৬১৮] আবুস সওয়ার থেকে বর্ণিত, “হাকাম ইবনু আইয়ুব খুতবা দিলেন। তিনি দুনিয়াবিমুখতার কথা বলতে শুরু করলেন। তখন আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘সে মানুষদের দুনিয়াবিমুখতার কথা শোনায়, অথচ তার কাছেই ত্রিশ হাজার (মুদ্রা) রয়েছে।”
সাওম অবস্থায় চুম্বন মাকরূহ
[৬১৯] আবূ খালদাহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে সাওম পালনকারী ব্যক্তির চুম্বন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, 'বৃদ্ধদের জন্য কিছুটা ছাড় আছে। আর যুবকরা সীমালঙ্ঘন করে ফেলার আশঙ্কা থাকায় তাদের জন্য এটি মাকরূহ।”
ইমামের পেছনে তাসবীহ ও তাকবীর
[৬২০] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে ইমামের পেছনে কিরাআত পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, 'তাসবীহ পড়বে ও তাকবীর বলবে।”
ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর মর্তবা
[৬২১] আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু ফারাজ বলেন, “যখন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন নেমে এল, অর্থাৎ তিনি বন্দিত্ব ও প্রহারের সম্মুখীন হলেন, তখন আমার ওপরও কিছু বিপদ নেমে এল। আমি নিজেকে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হলো, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আল্লাহ তাআলার দরবারে আবুস সওয়ারের মতো তার মর্তবা হোক? যদিও তুমি তার কাছে রেওয়াত করোনি। আমি বললাম, অবশ্যই (সন্তুষ্ট)।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি (ইমাম আহমাদ) আল্লাহর কাছে সেই মর্তবার ছিলেন।”
তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন
[৬২২] হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই উম্মতের একজন উদ্ধত লোক আবুস সওয়ার আদাওয়িকে ডেকে দ্বীনি বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করল। তিনি তার জ্ঞান অনুযায়ী এর উত্তর দিলেন। সে তাকে বলল, 'অন্যথা হলে কিন্তু তুমি ইসলাম থেকে মুক্ত (অর্থাৎ তুমি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে)।' তিনি বললেন, 'কোন ধর্মে আমি ধাবিত হব তাহলে?' এবার সে বলল, 'অন্যথা হলে তোমার স্ত্রী কিন্তু তালাক হয়ে যাবে।' তিনি বললেন, 'রাত্রিবেলা তাহলে আমি কার আশ্রয়ে যাব?' (এসব উত্তর শুনে) সে লোক তাকে চল্লিশটি চাবুকের ঘা দিলো। হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহর কসম, চাবুকের ঘা তাকে কিছুই করতে পারবে না।' আবু জাফর বলেন, 'আমি আবূ আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনু হাম্বাল-এর কাছে এসে এই বিষয়ে তাকে অবগত করালাম। তখন তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন।”
মাসজিদে এলে তিনি প্রফুল্ল হতেন
[৬২৩] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি মাসজিদে বানী আদিতে আবুস সওয়ারকে শুনলাম মুআযাহ আদাওয়িয়াকে তিনি বলছেন, 'তোমাদের একেকজন মাসজিদে এসে মাথা ঠেকাও আর পেছন দিক উঁচু করে রাখো।' তিনি বললেন, 'আপনি কেন এসব লক্ষ করেন? আপনি আপন চোখে মাটি ঢালুন এবং এসব দেখা বন্ধ করুন।' তিনি বললেন, 'আমি অবশ্যই তা দেখতে সক্ষম। তবে এর জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।' তিনি বললেন, 'হে আবূ সওয়ার, আমি যখন বাড়িতে থাকি তখন বাচ্চারা আমাকে ব্যস্ত করে রাখে। আর যখন মাসজিদে আসি তখন সেটা আমার জন্য অধিক প্রফুল্লমূলক হয়ে থাকে।' তিনি বললেন, 'তোমার ব্যাপারে প্রফুল্লমূলক হওয়াটার আশঙ্কাই তো আমি করি।”
সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চিঠি
[৬২৪] আবদুল্লাহ ইবনু আবী শুমাইত তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ আবূ সওয়ার আল-আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে চিঠি লিখলেন এই বলে: 'ভাই, পরসমাচার এই যে, তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করো। আপন ঘরকে প্রশস্ত রাখো এবং নিজ পাপের জন্য ক্রন্দন করো। কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। যেহেতু তিনি তোমাকে নিরাপদ রেখেছেন। শয়তান (থেকে নিজেকে) মুক্ত মনে করবে না। যতদিন বেঁচে থাকবে সে তোমাকে ধোঁকা দিয়ে যাবে।”
অকল্যাণ থেকে দূরে থাকার উপদেশ
[৬২৫] বিলাল ইবনু আবূদ দারদা বলেন, "আমার পিতা বলেছেন, যখন তুমি অকল্যাণ দেখবে তখন এর বাহককে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেবে। (অর্থাৎ তুমি নিজে তাতে জড়াতে যাবে না। অবশ্য যদি তা সংশোধনের সুযোগ থাকে তবে সংশোধন করা উচিত।)”
[৬২৬] হাসান বলেন, “ইমরান ইবনু হুসাইন বলেছেন, খাবারদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল খাবারগ্রহীতারা। উপদেশদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল ভুলোমনা ব্যক্তিরা।”
হাসান বলেন, “শুনে রাখো, ইমরান যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আমি তা (কথাগুলো) বারবার বলতাম।”
বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা
[৬২৭] জাফর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “ফারকাদ আস-সিনজি একজন বড় শাইখ ছিলেন। আমি একবার তার কাছে গেলাম। এক ব্যক্তি তার সামনে দৃষ্টিকটু অবস্থায় দাঁত খিলাল করছিল। সে তার মুখের ভেতর খাবার রেখেই কথা বলছিল এবং (এই অবস্থাতেই) খাচ্ছিল। তিনি (জাফর) তাকে বললেন, 'হে আবূ ইয়াকুব, তুমি এমন কোরো না।' সেই লোক বলল, '(আমি এমন করছি) যাতে করে আমার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।”
আল্লাহ তার সাথে সহজ আচরণ করলেন
[৬২৮] বিশর ইবনু মুফাদদল বলেন, “আমি বিশর ইবনু মানসূরকে স্বপ্নে দেখলাম। তাকে বললাম, 'হে আবূ মুহাম্মাদ, আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি যতটা কঠিন ভেবেছি ব্যাপারটি ছিল তারচেয়ে আরও অনেক সহজ।”
টিকাঃ
[৮৪] সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭: ১৩
[৮৫] অর্থাৎ ঘরে পানি না থাকলেও কূপ থেকে কষ্টকরে এনে সেই ব্যক্তিকে পান করানো সম্ভব ছিল। স্ত্রী সেটা করেনি বিধায় তিনি কিছুটা রাগ করেছিলেন।-অনুবাদক
[৮৬] অর্থাৎ ইলমের চর্চা করাটাও এক ধরনের ইবাদাত। যারা এতে লিপ্ত থাকে তারা ইবাদাতের সওয়াব পেতে থাকে। সুতরাং তারা ইবাদাতের মধ্যে নেই এমনটা মনে করে যুবকের দেওয়া যিকর করার উপদেশটা ভুল ছিল। যার ফলে আবুস সওয়ার তাকে ওই কথা বললেন।-অনুবাদক
📄 মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
কুরআনের আয়াত শুনে কান্নাকাটি করা
[৬২৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে এই আয়াত পড়তে শুনেছি:
لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ
'যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে।[৮৭]
তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, 'আমি তোমাদের কসম করে বলছি, যে বান্দাই এই কুরআনের প্রতি (প্রকৃত) বিশ্বাস স্থাপন করবে, তার অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাবার কথা। (অর্থাৎ কুরআনের বড়ত্ব ও মহত্ত্বের কারণে তার অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাবার কথা, যেভাবে পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হলে তা বিদীর্ণ হয়ে যেত।)”
জাহান্নামবাসীদের শাস্তি
[৬৩০] জাফর বলেন, “আমি মালিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যখন জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে হাতুড়ির বাড়ির আওয়াজ শুনবে, তখন জাহান্নামের হাউজে গিয়ে ডুব দেবে। যেতে যেতে তারা একেবারে তলিয়ে যাবে, যেভাবে দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তি ডুবে গেলে যেতে যেতে একেবারে তলিয়ে যায়।”
কুরআন মুমিনদের বসন্ত
[৬৩১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে কুরআনের বাহকেরা, কুরআন তোমাদের বক্ষে কীসের চাষ করেছে? কারণ, কুরআন তো মুমিনদের বসন্ত। যেমন কিনা বৃষ্টি হলো জমিনের বসন্ত। বৃষ্টি আকাশ থেকে নেমে এসে বীজভর্তি বাগানে পড়ে। সেই স্থানের আবর্জনা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয় এবং বাগান সবুজাভ ধারণ করে ও দৃষ্টিনন্দন হয়। কুরআনের বাহকেরা, কুরআন তোমাদের হৃদয়ে কী রোপণ করেছে? কোথায় এক সূরা মুখস্থকারীরা? কোথায় দুই সূরা মুখস্থকারীরা? তোমরা সেসব সূরাতে কী শিখলে?"
তিনি অনেকের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন
[৬৩২] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলা হলো, 'হে আবু ইয়াহইয়া, যদি আপনি কথাকে আরেকটু মোলায়েম করতেন, তাহলে আপনার সাথি-সঙ্গী আরও বৃদ্ধি পেত।' তিনি বললেন, 'আমার দস্তরখান কি বিচ্ছিন্ন হবে? আমার ফোড়া কি ফেটে যাবে? বৎসগণ, এ জন্যই আল্লাহ তাদের আমার কাছে নিয়ে আসেননি।"
জাদুবিদ্যা থেকে বেঁচে থাকা
[৬৩৩] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাদুবিদ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তা আলেমদের অন্তরকে জাদুগ্রস্ত করে ফেলে।"
দুনিয়ার জন্য চিন্তিত হওয়ার ক্ষতি
[৬৩৪] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, দুনিয়ার জন্য যতটুকু পরিমাণ তুমি চিন্তিত হবে ততটুকু পরিমাণ আখিরাতের ভাবনা তোমার অন্তর থেকে উধাও হয়ে যাবে। আর যতটুকু পরিমাণ তুমি আখিরাত নিয়ে চিন্তিত হবে ততটুকু পরিমাণ দুনিয়ার ভাবনা তোমার অন্তর থেকে উধাও হয়ে যাবে।”
দশ টাকা বিনিয়োগ করে ছয় টাকা লাভ
[৬৩৫] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন :
أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ فِي الْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ
'আমি কি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাফেরদের সমতুল্য করে দেবো? না খোদাভীরুদের পাপাচারীদের সমান করে দেবো।'[৮৮]
তারপর তাকে আমি বলতে শুনেছি, 'চমৎকার! এ যেন দশ টাকা বিনিয়োগ করে ছয় টাকা লাভ!'[৮১]
আযাব নেমে আসার ভয়
[৬৩৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, যদি আমি না ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম, তাহলে ঘুমাতাম না। আমার আশঙ্কা হয় যে, আমি ঘুমিয়ে থাকব আর তখন আমার ওপর আযাব নেমে আসবে। আল্লাহর কসম, যদি আমি কয়েকজন সহযোগী পেতাম তবে তাদের পৃথিবীর কোনায় কোনায় পাঠিয়ে দিতাম এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য, হে লোকসকল। জাহান্নামের আগুন থেকে সাবধান! জাহান্নামের আগুন থেকে সাবধান!”
তিন কাজকে আঁকড়ে ধরা
[৬৩৭] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল, তোমাদের ছোট-বড় পাপী লোকদের সংখ্যা অনেক। আল্লাহ সে ব্যক্তিকে রহম করুন, যে উত্তম কথা, সৎকর্ম এবং স্থায়ী আমলকে আঁকড়ে ধরে।”[৯০]
লুঙ্গিকে টাখনুর নিচে না নেওয়ার নাসীহাত
[৬৩৮] মালিক বলেন, “আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, 'হে উমার, যদি তোমার সঙ্গীর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করা তোমাকে আনন্দিত করে, তবে তুমি লুঙ্গিকে খাটো করো (টাখনুর নিচে নিয়ো না), জুতা মেরামত করো এবং অতৃপ্ত আহার করো।”
বেদনাহীন অন্তর বিরান হয়ে যায়
[৬৩৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যখন অন্তরে বেদনা থাকে না, তখন তা বিরান হয়ে যায়। যেভাবে ঘরে যদি কেউ বসবাস না করে, তাহলে তা বিরান হয়ে যায়।”
বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি
[৬৪০] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, বান্দাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যদি আমি জানতাম যে, আবর্জনার ওপর বসে থাকলে আমার অন্তর সংশোধন হতো, তবে আমি সেটাও করতাম।"
তিনি আরও বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই অন্তরে ও শরীরে আল্লাহ শাস্তি দেন, জীবনযাপনে সংকীর্ণতা দেন, রিযিকে কমতি দেন ও ইবাদাতে অলসতা দেন।"
উত্তম ছায়ার নিচে ও আরামদায়ক স্থানে সাক্ষাতের দুআ করলেন
[৬৪১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, কত মানুষ চায় তার ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তার সাক্ষাতে যাবে। কিন্তু ব্যস্ততা অথবা কারও কোনো আদেশ তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের মিলন ঘটাবেন এমন এক ঘরে, যেখানে কখনো বিচ্ছিন্নতা আসবে না। অতঃপর মালিক বলেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের উত্তম ছায়ার নিচে ও ইবাদাতকারীদের আরামদায়ক স্থানে মিলনের ব্যবস্থা করে দেন।”
লুকমান আলাইহিস সালাম-এর জিজ্ঞাসা
[৬৪২] জাফর বলেন, "মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'লুকমান আলাইহিস সালাম তার ছেলেকে বলেছেন, 'ছেলে আমার, মানুষকে (পরকালের) যেসব বিষয়ের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, সেসব ওয়াদার ওপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে; তাদের যেসব বিষয়ের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, সেসবের দিকে তারা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।'[৯১]
বালআম ইবনু বাউরার ঘটনা
[৬৪৩] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহর নবি মূসা আলাইহিস সালাম বালআম ইবনু বাউরাকে মাদায়েন অঞ্চলের বাদশাহর কাছে পাঠালেন আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। সে ছিল বানী ইসরাঈলের একজন আলেম। সে দুআ করলে তা কবুল করা হতো। মূসা আলাইহিস সালাম বিপদাক্রান্ত হলে তাকে দুআ করার জন্য এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করার জন্য সামনে বাড়িয়ে দিতেন। সে নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেছিল। তার ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেছিলেন:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا
'আর আপনি তাদের শুনিয়ে দিন সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে।”[১২]
আল্লাহর যিকর অন্যতম নিআমাত
[৬৪৪] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'নিআমাতপ্রাপ্তদের আল্লাহর যিকরের মতো অন্য কোনো নিআমাত দেওয়া হয়নি।”
তিনি (জাফর) বলেন, “মালিককে আমি বলতে শুনেছি, তাদের কেউ গিয়ে দীবাজাতুল হারামকে বিবাহ করত। মালিকের যুগে দীবাজাতুল হারামকে সবচেয়ে সুন্দর মনে করা হতো। খাতুন ছিল রোম সম্রাটের স্ত্রী। অথবা এমন কোনো মেয়ের কাছে যেত, যাকে তার পিতামাতা হৃষ্টপুষ্ট করে আরামে রেখে এমন বানাত, যেন সে মাখনের দলা। তখন সে তাকে বিবাহ করে নিত। সে মেয়ে তার হৃদয় জয় করে নিলে সে তাকে জিজ্ঞেস করত, তোমার কী চাই? মেয়ে বলত, সুন্দর ওড়না। আবার জিজ্ঞেস করত, আর কী চাই? মেয়ে বলত, এটা ওটা।”
মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আল্লাহর কসম, ওই কারির দ্বীন বিলীন হয়েছে এবং সে দুর্বল ইয়াতীমকে বিবাহ করে তার দায়িত্ব নিয়ে নেকি অর্জন করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে।”[১৩]
তিলাওয়াত সত্যবাদীদের অন্তরকে আখিরাতের দিকে ধাবিত করে
[৬৪৫] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে নিজের মাথা মিহরাবে রেখে বলতে শুনেছি, হে মালিকের প্রভু, তুমি জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের ব্যাপারে অবগত। মালিক কোন দলে? তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।"
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি আমার বান্দাদের শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার পর যখন কুরআনের মজলিসের লোকজন, মাসজিদ আবাদকারীরা ও ইসলামের সন্তানদের দিকে তাকাই, তখন আমার ক্রোধ নির্বাপিত হয়ে যায়। আমি নিজ আযাব সরিয়ে নিই।”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, সত্যবাদীদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তাদের অন্তর আখিরাতের প্রতি ধাবিত হয়।"
কল্যাণহীন সঙ্গীকে পরিহার করা
[৬৪৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখেছি, তিনি মুগীরাহ ইবনু হাবীবকে বলছেন, 'হে মুগীরাহ, প্রত্যেক সাথি-সঙ্গীর প্রতি নজর রেখো। যার থেকে তোমার দ্বীনি কোনো কল্যাণ অর্জন হচ্ছে না দেখবে, তার সংস্পর্শ পরিহার করবে।"
দুঃসাহসী হওয়ার কারণ
[৬৪৭] জাফর ও হারিস ইবনু নাবহান বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আমি বসরার আমীর কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সাকাফির কাছে যেতাম। নিজেকে আড়াল করতাম না তার থেকে। তিনি একদিন বললেন, 'হে মালিক, তুমি এমন কাপড় পরে আমাদের কাছে এসো না।' আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহ আমীরকে সংশোধন করুন। কিসে আমার ব্যাপারে আপনার মনোভাবে এমন পরিবর্তন আনল? ইতঃপূর্বে তো এটা পরেই আমি আপনার কাছে আসতাম।' তিনি বললেন, 'হে মালিক, কিসে তোমাকে আমাদের ব্যাপারে এমন দুঃসাহসী বানিয়েছে? সেটা হলো তুমি আমাদের অধীনে থাকা ধন-সম্পদে আগ্রহী নও। এটাই তোমার আর আমাদের মাঝে পর্দা হয়ে আছে।' মালিক বলেন, 'কোনো কথা যদি আমি দিনলিপির পাতায় লিখে রাখতাম, তবে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সাকাফির এই কথা লিখে রাখতাম।”
নিজের ইচ্ছাকে দমন করা
[৬৪৮] মালিক ইবনু দীনার-এর মজলিসের সঙ্গী উসমান হিময়ারি বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে তার সঙ্গীদের একজনকে (লক্ষ্য করে) বলতে শুনেছি, অল্প দুধের সাথে মেশানো অতি পাতলা একটি রুটি খেতে মন চাচ্ছে আমার।' সে ব্যক্তি গিয়ে তা নিয়ে এল। মালিক তা নেড়েচেড়ে দেখলেন। তারপর বললেন, 'আমি চল্লিশ বছর ধরে তোমাকে খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। কিন্তু এতদিন আমি তোমাকে পরাস্ত করেছি। আজকে তুমি আমাকে পরাস্ত করতে চাচ্ছ। আমার থেকে দূরে সরো।' তারপর তিনি আর তা খেলেন না।"
হাসান রাহিমাহুল্লাহ তাকে উপদেশ দিলেন
[৬৪৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি অসুস্থতায় আক্রান্ত হলাম। আমার ফুসফুসের আবরণে প্রদাহ হলো। তখনো আমার বোধবুদ্ধি ছিল। হাসান ইবনু আবী হাসান আমাকে দেখতে এসে আমার মাথার কাছে তার চাদরটি রাখলেন। তারপর ভেতরে প্রবেশ করে ওজু করে এসে বসলেন আমার মাথার পাশে। আমি বললাম, 'হে আবূ সাঈদ, আমার আশঙ্কা হচ্ছে, এই অসুস্থতায় আমার মৃত্যু হলে আমাকে দু-হাত ও পা বেঁধে আল্লাহর দরবারে সেভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, যেভাবে গোলামকে তার মালিকের কাছে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।' হাসান বললেন, 'তোমার এই সঙ্গী তো অনর্থক বকছে।' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম, আমি অনর্থক বকছি না হে আবূ সাঈদ।' তারপর আমি সুস্থ হলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি ভূপৃষ্ঠের অন্ধকারে ছিলে। তারপরে প্রভাতের আলোয় এসে সুস্থ হয়ে উঠেছ।' তারপর হাসান রাহিমাহুল্লাহ আমার প্রতি মনোনিবেশ করে আমাকে বেশ উপদেশ দিলেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও সজ্জন ব্যক্তি。”
মুমিনের নিয়তের অবস্থা
[৬৫০] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, মুমিনের নিয়ত আমলের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।”
কিয়ামাতের দিন আল্লাহকে সাজদা করার ইচ্ছা
[৬৫১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আমার ইচ্ছা হয় যে, কিয়ামাতের দিন আমি আল্লাহর সামনে তাকে সাজদা করব। যাতে করে আমি অবগত হতে পারি যে, তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর তিনি (নিজেকে সম্বোধন করে) বললেন, 'হে মালিক ইবনু দীনার, তুমি মাটি হয়ে যাও।”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমি চাই কিয়ামাতের দিন বাঁশের একটি কুঁড়েঘর হবে আমার। আমি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাব এবং পানি (পান করে) পরিতৃপ্ত হব।”
খিয়ানতকারীর পরিচয়
[৬৫২] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, আমি নির্জনতা অবলম্বন করেছি। এমনকি আমি লজ্জিত হয়েছি। আমার ইচ্ছা হলো, যদি আমার রিযক একটি পাথরের টুকরা হতো, আর আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেটাই চুষতে থাকতাম!”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, কোনো খিয়ানতকারীর দায়িত্বশীল হওয়াটাই, কোনো ব্যক্তির খিয়ানতকারী হবার জন্য যথেষ্ট।”
আলেমের তার ইলম অনুযায়ী আমল না করা
[৬৫৩] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আলেম যখন তার ইলম অনুযায়ী আমল না করে তখন তার নাসীহাত অন্তর থেকে ছিটকে পড়ে। যেভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা ছিটকে পড়ে।” [১৪]
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যখন তুমি আমল করার জন্য ইলম শিখবে, তখন সেই ইলম তোমাকে আনন্দ দেবে। আর যখন আমল না করার জন্য ইলম শিখবে তখন কেবল তোমার অহংকারই বৃদ্ধি পাবে।”
মানুষের প্রয়োজনে বেশি ইলম অর্জন করা
[৬৫৪] নযর ইবনু শুমাইল বসরার জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজের জন্য ইলম শিখে, অল্প ইলমই তার জন্য যথেষ্ট হয়। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রয়োজনে ইলম শিখে, তাহলে মানুষের প্রয়োজনও অনেক বেশি (হবার কারণে তাকেও অনেক ইলম অর্জন করতে হয়)।"
মুমিন ও পাপীদের অন্তরের অবস্থা
[৬৫৫] জাফর বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই মুমিনদের অন্তর সৎ কাজের দ্বারা উদ্বেলিত হয়। আর পাপীদের অন্তর মন্দ কাজের দ্বারা উদ্বেলিত হয়। আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রচেষ্টাগুলো দেখেন। আল্লাহ তোমাদের রহম করুন।”
ভালো মানুষের হওয়ার আশা করা
[৬৫৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যখন ভালো মানুষদের আলোচনা করা হয়, তখন তাদের মতো হওয়ার বাসনা রাখো।”
আল্লাহর অবাধ্যতা না করার ঘোষণা
[৬৫৭] আব্বাদ ইবনু ওলীদ বলেন, “মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, 'যদি মানুষ এমনটা না বলত যে, মালিক তো পাগল হয়ে গেছে, তাহলে আমি পাদরির পোশাক পরিধান করে মাথায় ছাই রেখে মানুষের মধ্যে ঘোষণা করতাম-যে ব্যক্তি আমাকে দেখবে, সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতা না করে।”
হাদীস বলার সময় কাঁদা
[৬৫৮] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার হাসান থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ يَخْطُبُ خُطْبَةً إِلَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ سَائِلُهُ عَنْهَا
'বান্দা যে খুতবাই দিক, আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন।' [১৫]
এর দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন?”
জাফর বলেন, “মালিক যখন আমাদের এই হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। তারপর যখন কান্না বন্ধ হলো তখন তিনি বলেন, 'লোকেরা ভাবছে যে, আমার কথার কারণে আমার চক্ষু শান্ত হয়েছে। অথচ আমি জানি যে, কিয়ামাতের দিন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—এর দ্বারা আমার কী উদ্দেশ্য ছিল।”
তাসবীহ থেকে ফেরেশতার জন্ম
[৬৫৯] জাফর বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমরা জানতে পেরেছি যে, আকাশে কিছু ফেরেশতা রয়েছেন। যাদের কেউ একজন যখন তাসবীহ পড়ে, তার সেই তাসবীহ থেকে আরেকজন ফেরেশতা সৃষ্টি হয় এবং তিনিও তাসবীহ পড়তে থাকেন।"
ফেরেশতাদের তাসবীহ পাঠ
[৬৬০] আকাশে এমন ফেরেশতাও আছে যাদের আকাশের নক্ষত্র ও কঙ্করের মতো চোখ আছে। প্রত্যেক চোখের নিচে একটি চোখ ও দুটো ঠোঁট রয়েছে। যেগুলো এমন ভাষায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে, যা তার পাঠকই বুঝতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের এমন শিং রয়েছে, যার মধ্যকার দূরত্ব হলো পাঁচ শ বছরের রাস্তা। আর আরশ রয়েছে সেই শিংয়ের ওপর।”
শুধু রুটিই যথেষ্ট
[৬৬১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, দুটি পাতলা রুটি কি আপনার জন্য যথেষ্ট?' তিনি বললেন, 'তুমি কি মনে করো যে, আমি ঘি চাইব? (অর্থাৎ শুধু রুটি হলেই তার হয়ে যায়। ঘিয়ের দরকার হয় না।)”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমি মেরুদণ্ডের বক্রতা বা বদহজম রোগের ভয় করি না। আমার রুটির খামির তৈরি আছে। আমার পানি নদীতে বিদ্যমান আছে।”
তিনি মাসজিদ থেকে বের হতেন না
[৬৬২] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল, সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, যদি প্রস্রাব করার প্রয়োজন না পড়ত, তবে আমি মাসজিদ থেকে বেরই হতাম না।”
বিবাহের প্রতি অনীহা
[৬৬৩] জাফর বলেন, “ইয়াহইয়ার মা মৃত্যুবরণ করার পর মালিক ইবনু দীনারকে বলা হলো, 'যদি আপনি আবার বিয়ে করতেন!' তিনি বললেন, 'যদি পারতাম, তাহলে আমি নিজেকেও তালাক দিতাম!'”[১৬]
দুনিয়াবিমুখতা
[৬৬৪] জাফর বলেন, “সনআ অঞ্চলের এক ব্যক্তি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের আবদালরা কোথায়?' তিনি শামের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করলেন। আমি বললাম, 'ইরাকে তাদের কেউ নেই?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি, হাসসান ইবনু আবী সিনান, মালিক ইবনু দীনার-যে আবূ যরের মতো করে মানুষের মাঝে দুনিয়াবিমুখ হয়ে চলাফেরা করে।”
জাফর বলেন, “যদি মালিক বানী ইসরাঈলের হতেন, তাহলে তার কথা আলোচনায় আসত।"
মালিক রাহিমাহুল্লাহ-এর দুআ
[৬৬৫] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে দুআতে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরকে তোমার প্রতি ধাবিত করে দাও। যাতে করে আমরা তোমাকে ভালোভাবে চিনতে পারি। তোমার অঙ্গীকারকে ভালোভাবে পালন করতে পারি। তোমার উপদেশকে ভালোভাবে মনে রাখতে পারি। হে আল্লাহ, আমাদের তুমি ঈমানের নিদর্শন দান করো। তাকওয়ার পোশাক পরিধান করাও। হে আল্লাহ, আমরা মৃত্যুর পূর্বেই তোমার কাছে তাওবা করছি। পাকড়াও হবার আগেই আত্মসমর্পণ করছি। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতি তুমি এমন দৃষ্টিপাত করো, যার মাধ্যমে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ আমাদের অর্জিত হয়.' তারপর মালিক তার কথা থেকে বিরত হয়ে আবার বলা শুরু করলেন, 'তুমি কি মনে করেছ আমি দুনিয়ার কল্যাণ দ্বারা স্বর্ণ-রৌপ্যমুদ্রাকে বুঝিয়েছি? না, বরং আমি নেক আমলকে বুঝিয়েছি। যাতে করে যেদিন তোমার সাথে সাক্ষাৎ হবে, সেদিন তুমি আমার প্রতি দয়া ও ভালোবাসার সাথে সন্তুষ্ট থাকো হে আকাশ-জমিনের অধিপতি.' তারপর তিনি কিছুক্ষণ কাঁদলেন। আমরাও তার সাথে কাঁদলাম। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”
শাসকদের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ
[৬৬৬] মুআল্লা ইবনু জিয়াদ বলেন, “সালামাহ ইবনু কুতাইবা বসরায় এলে মালিক আমাকে বললেন, 'আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো।' (সেখানে গিয়ে) আমরা তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা প্রবেশ করলে সালামাহ আমাদের বললেন, 'আপনাকে অভিনন্দন হে আবূ ইয়াহইয়া। আপনার কী প্রয়োজন আছে বলুন।' তিনি তাকে কাছে টেনে নিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, 'শুধুই দেখা করতে এসেছেন নাকি আরও কোনো প্রয়োজন আছে?' মালিক বললেন, 'প্রয়োজন আছে।' তিনি জানতে চাইলেন, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, কী সেটা?' তিনি বললেন, 'হে সালামাহ, শাসকদের সাথে তোমার কীসের এত সম্পর্ক?' তিনি বললেন, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, তাদের কাছে আমরা পরিচিত হয়ে গেছি।' তিনি বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক হে সালামাহ, আমার আশঙ্কা হয় যে—তোমাকে তারা কোনো বিপদে ফেলে দেবে তারপর আর সেখান থেকে বের করে আনবে না।”
লোহার দেয়াল
[৬৬৭] মালিক ইবনু দীনার বলেন, “একদিন আমি গির্জায় অবস্থানরত একজন পাদরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাকে ডাক দিলে সে আমার কাছে এল। আমরা একে অপরের সাথে কথা বললাম। সে আমাকে বলল, 'যদি তুমি তোমার মাঝে ও প্রবৃত্তির মাঝে লোহার দেয়াল দাঁড় করাতে পারো, তবে তা-ই করো। যেসব সঙ্গী থেকে তোমার কোনো কল্যাণ অর্জিত হয় না, তাদের থেকে দূরে থাকো। তাদের সাথে অল্প-বেশি কোনো ধরনের ওঠাবসা কোরো না।"
[৬৬৮] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে ও মুআল্লা ইবনু জিয়াদকে বলতে শুনেছি, তারা দুজন বলেছেন, ‘আমরা হাসানকে বলতে শুনেছি...।'” [৯৭]
পাথরের বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা
[৬৬৯] জাফর বলেন, “একবার এমন হলো যে, শুধু মেঘ আসা-যাওয়া করে কিন্তু বৃষ্টি হয় না। তখন মালিক বললেন, 'তোমরা বৃষ্টি দেরিতে হবে বলে মনে করছ। আর আমি তো পাথরের (বৃষ্টি) হবে মনে করছি। যদি পাথরের বৃষ্টি না হয়, তবে তো ভালোই।”
জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য দুআ
[৬৭০] মুগীরাহ ইবনু হাবীব বলেন, “ইমাম মালিকের কাছে এক রাতে শীতের পোশাক পরে আগমন করলাম এবং তার ঘরের দরজায় অবস্থান করলাম। তিনি এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং কেবলামুখী হয়ে নিজের দাড়ি ধরে বলতে থাকলেন—হে আল্লাহ, যখন আপনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের একত্র করবেন তখন মালিকের শুভ্র দাড়িকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েন।”
কলিজাকে ক্ষুধার্ত করে দেওয়া
[৬৭১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যে উম্মত আল্লাহর দৃষ্টি থেকে পড়ে যায় তিনি তাদের কলিজাকে ক্ষুধার্ত করে দেন।”
আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা
[৬৭২] ইবনু সুলাইমান বলেন, “মালিক ও মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বসলেন। মালিক বললেন, 'হয়তো কেবল আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে, নইলে জাহান্নام অবধারিত।' তখন মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বললেন, 'আপনি যা বলেছেন, আমি তা বলব না। আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় জাহান্নাম অবধারিত।' তখন মালিক বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর কারিদের অন্তর্ভুক্ত।”
উশর গ্রহণকারীদের কাছে তিনি সুপারিশ করলেন
[৬৭৩] ইবনু শাওযাব থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি মালিক ইবনু দীনারের কাছে উশর গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সাহায্য চাইলে তিনি তাদের কাছে গিয়ে (সুপারিশ করলেন)। তারা তার সুপারিশ গ্রহণ করল এবং তাকে বলল, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, যদি আপনি একটু দুআ করে দিতেন!' বর্ণনাকারী বলেন, তাদের কাছে একটি পাত্র ছিল, যার উপরিভাগ চামড়া দিয়ে বন্ধ করা। তারা তাতে তাদের খরচপাতি রাখত। তিনি তাদের বললেন, 'তোমরা হাত ওঠাও।' তারপর তিনি পাত্রটি বগলের নিচে নিয়ে বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই পাত্র আমাদের সাথে যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ আমাদের দুআ কবুল করা হবে না।”
মন্দ রাখালের পরিণাম
[৬৭৪] মূসা ইবনু খালিদ বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, কোনো এক কিতাবে আছে, অসৎ রাখালকে কিয়ামাতের দিন ডাকা হবে। তারপর তাদের বলা হবে, 'হে অসৎ রাখাল, তুমি গোশত খেয়েছ, পশমি কাপড় পরিধান করেছ। দুধ পান করেছ। এসবের খণ্ডিতাংশের মূল্য দাওনি। হারানো জিনিস তালাশ করোনি। চারণক্ষেত্রে (পশু) চরাওনি। আজকে আমি তাদের পক্ষ হয়ে তোমার থেকে শোধ নেব।”
সুফিয়ান বলেন, “নেক লোকদের আলোচনাকালে রহমত অবতীর্ণ হয়।” জিজ্ঞেস করা হলো, “কে এটি বলেছেন?” তিনি বললেন, “কতিপয় আলেমগণ।”
সুফিয়ান বলেন, “যে ব্যক্তি ইলম শিখে আমল করে, তাকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় আকাশের ফেরেশতাদের মাঝে ডাকা হবে।"
সুফিয়ান বলেন, “আগামী দিনের রিস্ক নিয়ে তোমার দুশ্চিন্তায় লিপ্ত হওয়াটাও এক ধরনের পাপ।”
সুফিয়ান বলেন, “একজন ব্যক্তির ইলম যত বাড়ে, সে আল্লাহর তত বেশি নিকটবর্তী হয়।"
তিনি একজন উশর গ্রহণকারীকে দেখতে গেলেন
[৬৭৫] আবদুস সমাদ বলেন, "মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, আমার একজন উশর গ্রহণকারী প্রতিবেশীর অসুখ হলে আমি তাকে দেখতে যাই। সে বলল, 'মিসকিনদের ওপর দয়াকারীর সাথে স্বপ্নে আমার কথা হলো।' তিনি আমার ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে বলেছেন, 'তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' সে জানতে চাইল, 'তোমার কী মনে হয় এতে?' আমি বললাম, 'অনর্থক বিষয়।' সে পুনরায় আমাকে আগের মতো বলল। তখন আমি কিছুটা উৎকণ্ঠিত হয়ে বললাম, 'কার ব্যাপারে বলছেন?' তিনি স্বীয় হাত দিয়ে তার নিজের বুকের দিকে ইশারা করলেন।”
মাপে কম দেওয়ার শাস্তি
[৬৭৬] আবদুস সামাদ মালিক থেকে বর্ণনা করেন, “আমি আমার অসুস্থ প্রতিবেশীকে দেখতে গেলাম। তিনি বললেন, 'আগুনের দুটি পাহাড়! আগুনের দুটি পাহাড়!”
মালিক বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, ওই ব্যক্তির দুটি কফীয (একজাতীয় পরিমাপ পাত্র) ছিল। একটি পরিমাণের তুলনায় বড় আরেকটি পরিমাণের তুলনায় ছোট।”[৯৮]
গুনাহের ভয়
[৬৭৭] ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেন, “আতা সুলামী যখন মধ্যরাতে জাগ্রত হতেন তখন ভয়ে নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে হাত দিয়ে আঘাত করে দেখতেন। তার ভয় হতো, না জানি আবার তার আকৃতি (গুনাহের শাস্তিস্বরূপ) পরিবর্তন করে দেওয়া হয়!”
আল্লাহর কারি হওয়ার উপদেশ
[৬৭৮] আবূ মুআবিয়া এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, যিনি ছিলেন মালিক ইবনু দীনারের মজলিসের সঙ্গী। তিনি বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে তার সাথি-সঙ্গীদের বলতে শুনেছি, এখানে এমন কিছু লোক আছে, যারা কারিদের সাথেও অংশ নিতে চায় আবার আমীরদের সাথেও অংশ নিতে চায়। বরং তোমরা দয়াময় আল্লাহর কারি হও। আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বরকত দিন।”
কাঁদতে কাঁদতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম
[৬৭৯] হাওশাব মালিকের কাছে উল্লেখ করলেন, “আমি একজন ঘোষককে ঘোষণা করতে শুনেছি, হে লোকসকল, (জিহাদের পথে) যাত্রার জন্য তৈরি হও। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি ছাড়া আর কাউকে আমি দাঁড়াতে দেখলাম না।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তখন মালিক কাঁদতে থাকলেন, এমনকি তিনি পড়ে গেলেন বা পড়ে যাবার উপক্রম হলেন।"
দুনিয়াবি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় লিপ্ত না হওয়া
[৬৮০] জাফর বলেন, “আমি ফারকাদ সিনজিকে বলতে শুনেছি, আমি তাওরাতে পড়েছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াবি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় লিপ্ত হবে, সে আল্লাহর ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে দিন শুরু করবে। আর যে ব্যক্তি বিত্তশালীর সাথে ওঠাবসা করবে এবং তার জন্য অধঃপাতে যাবে, তার দ্বীনের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হবে। আর যে ব্যক্তি বিপদাক্রান্ত হলে মানুষের কাছে অভিযোগ করে, সে যেন আল্লাহর ব্যাপারেই অভিযোগ করে।”
মিষ্টান্ন খেতে অস্বীকার করলেন
[৬৮১] সারী ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, "লোকেরা উল্লেখ করেছে যে—ফারকাদ সিনজি ইবনু সিরীনের কাছে আসলেন। খবীছ নামক মিষ্টান্ন আনা হলে, তিনি তা খেতে অস্বীকার করলেন। তখন ইবনু সিরীন বললেন, 'হে দাসী, তুমি আবী ইয়াকুবের জন্য রুটি আর ঘি আনো।' দাসী তা নিয়ে এল। তিনি তা খাওয়া শুরু করলেন। ইবনু সিরীন হেসে বললেন, 'এমন ব্যক্তির জন্য এমন (খাবারই) ঠিক আছে।”
খবীছ খেতে পছন্দ করতেন না
[৬৮২] হাসান একবার ফারকাদকে বললেন, “হে ফারকাদ, আপনি কি খবীছ খেতে পছন্দ করেন?” “তিনি বললেন, “না, আল্লাহর শপথ আমি তা পছন্দ করি না। যে এটি খেতে ভালোবাসে তাকেও পছন্দ করি না।” তখন হাসান বললেন, “সে কি পাগল! সে কি পাগল!"
সাহাবিদের শ্রেষ্ঠত্ব
[৬৮৩] মুহাম্মাদ ইবনু জাফর বলেন, “আমি ফারকাদ সিনজিকে বলতে শুনেছি, দুনিয়ার অতিবাহিত হওয়া নবিদের সঙ্গীরা, মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল না।”
ফারকাদ সিনজির সাথে সাক্ষাৎ
[৬৮৪] হায়সাম ইবনু মুআবিয়া বলেন, “আমাকে একজন শাইখ বলেছেন, কুফার কিছু ব্যক্তি একত্র হয়ে বলল, চলো আমরা বসরা গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের ইবাদাত দেখব। তাদের একজন অন্যজনকে বলল, চলো আমরা ফারকাদ সিনজির কাছে যাই। তারপর তারা তার কাছে গেলে তিনি তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন। তারা বলল, 'হে আবূ ইয়াকুব, দুপুরের খাবারের সময় হয়েছে।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আমি কথাকে লম্বা করেছি যাতে করে আপনাদের (ভালোমতো) ক্ষুধা লাগে এবং আমাদের কাছে থাকা (খাবার) খেতে পারেন। ওই পাত্রটি নামান।' তারপর তারা সেখান থেকে কালো যবের রুটির ভগ্নাংশ বের করে বললেন, 'লবণ লাগবে হে আবূ ইয়াকুব, লবণ।' তিনি বললেন, 'আটার মধ্যে একবার লবণ দিয়েছি। তোমরা আমাকে (ওই লবণ) খুঁজে দিতে বলোনি তো!”
সাধারণ পোশাকের প্রতি উৎসাহ
[৬৮৫] ইবনু শাওযাব বলেন, "আমি ফারকাদকে বলতে শুনেছি, তোমরা তো আমল করার আগেই আমল শেষ করার পোশাক পরিধান করে ফেলো। দেখো না, শ্রমিক যখন কাজে নামে তখন সবচেয়ে নিম্নমানের পোশাক পরে। কাজ শেষ হলে গোসল করে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে। আর তোমরা কাজে নামার আগেই কাজ শেষের পোশাক পরিধান করেছ।”
আমল করার জন্য হাদীস শোনা
[৬৮৬] সালিহ ইবনু মিসমার বসরি বলেন, “আমি একজন সঙ্গীকে বললাম, আমাকে হাসানের কাছে নিয়ে চলো। তার কিছু হাদীস শ্রবণ করব। তিনি বললেন, 'আমরা শুনলাম, সে আমাদের নিয়ে গিয়েছিল যাতে আমরা আমল করতে পারি।”
তিনি হাত ধরে উপদেশ দিলেন
[৬৮৭] জাফর বলেন, “একদিন হাওশাব আমার হাত ধরে বললেন, ‘হে আবূ সুলাইমান, যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে হয়তো বন্ধুসুলভ কারও দেখা পাবে না। যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে হয়তো পথপ্রদর্শক কাউকে পাবে না।”
আল্লাহকে স্মরণকারীর দৃষ্টান্ত
[৬৮৮] হাসসান ইবনু আবী সিনান বলেন, "গাফেল ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহকে স্মরণকারীর দৃষ্টান্ত (যুদ্ধের ময়দানে) পেছনে ধাবমান ব্যক্তিদের মধ্যে যুদ্ধরত ব্যক্তির ন্যায়।”
রাতে ক্রন্দনকারীর সন্ধান
[৬৮৯] মুআবিয়া ইবনু কুররা বলেন, “কে আছে, যে আমাকে রাতে ক্রন্দনকারী আর দিবসে হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তির সন্ধান দেবে!"
আল্লাহর যিকর করার দৃষ্টান্ত
[৬৯০] আবুল হিলাল বলেন, “যে ব্যক্তি বাজারে আল্লাহর যিকর করে, তার দৃষ্টান্ত হলো, মৃত গাছের মধ্যে থাকা সবুজ শ্যামল গাছের মত।”
ইস্তিগফার কবরে সঙ্গী হবে
[৬৯১] আবুল মিনহাল বলেন, “অধিক ইস্তিগফার পাঠের চেয়ে উত্তম কোনো প্রতিবেশী মানুষ কবরে পাবে না।"
আল্লাহর কাছে সম্মানিতদের বিপদ বেশি
[৬৯২] আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা কাবের সূত্রে বর্ণনা করেন, “মানুষ যত বেশি আল্লাহর কাছে সম্মানিত হয়, তার ওপর তত বেশি বিপদ-আপদ আপতিত হয়।”
আল্লাহর ইবাদাতকারী যুবকের অবস্থা
[৬৯৩] ইয়াজিদ ইবনু মাইসারা—যিনি সাহাবি আবূ যরের দেখা পেয়েছেন—তিনি বলেন, “যে যুবক আল্লাহর ইবাদাতে নিজেকে গড়ে তুলেছে এবং সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে, সে উনসত্তরজন সিদ্দীকের সমপরিমাণ নেকি পাবে।”
টিকাঃ
[৮৭] সূরা আল হাশর, ৫৯: ২১
[৮৮] সূরা ছোয়াদ, ৩৮: ২৮
[৮১] বিস্ময়ের প্রথম অংশটি ফারসি আর শেষের অংশটি আরবি; অর্থ একই। দ্রষ্টব্য: F. Steingass, A Comprehensive Persian-English Dictionary.
[৯০] এর পরের বর্ণনাটি এই: মালিক হাসান থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন, “আল্লাহ তাআলা বুদ্ধি-বিবেককে সৃষ্টি করে তাকে আদেশ করলেন, সামনে আসো। তারপর বললেন, পিছিয়ে যাও। তখন সে পিছিয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমার থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো সৃষ্টবস্তু আমি সৃষ্টি করিনি। তোমার কারণে আমি গ্রহণ করি ও তোমার কারণেই আমি প্রদান করি।” এটি মওযু বা বানোয়াট। তাই মূল বইতে তা আনা হলো না। (দেখুন: ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যা, ২৭/২৪২; তানযীহুশ শরিয়াহ, ১/২০৩)
[৯১] মিরকাতুল মাফাতীহ, ৯/৪০৯, হাদীস নং: ৫২২০
[১২] সূরা আল আ'রাফ, ৭: ১৭৫
[১৩] অর্থাৎ সৌন্দর্যের পেছনে না ছুটে আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে কাজ করলে, তা হতো তার জন্য কল্যাণকর।
[১৪] অর্থাৎ তার নাসীহাত অন্তরে কোনো রেখাপাত করে না।- অনুবাদক
[১৫] মুরসাল, তবে সনদের সকল রাবী বিশ্বস্ত।-বাইহাকি, ২/২৮৭
[১৬] ইয়াহইয়া ছিল মালিক ইবনু দীনারের ছেলের নাম।-অনুবাদক
[৯৭] মূল গ্রন্থেই এখানে এভাবে খালি।-অনুবাদক
[৯৮] অর্থাৎ সে নিজে কিছু কেনার সময় বড়টা ব্যবহার করত আর বিক্রির সময় ছোটটা ব্যবহার করত। এভাবে লোকদের ঠকানোর শাস্তি ছিল আগুনের দুটি পাহাড়।-অনুবাদক
📄 রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
মানুষের আয়ু ও আশার দৃষ্টান্ত
[৬৯৪] রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, “একদিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং এর মধ্যখানে একটি রেখা টানলেন, যা তার (চতুর্ভুজ) থেকে বের হয়ে গেল। তারপর দু-পাশ দিয়ে মধ্যের রেখার সঙ্গে ভেতরের দিকে কয়েকটা ছোট ছোট রেখা মিলালেন। অতঃপর বললেন, 'তোমরা কি জানো, এটা কী?' সাহাবারা বললেন, 'আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।' রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এ মাঝের রেখাটা হলো মানুষ। আর এ চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা বেষ্টন করে আছে। আর বাইরে বেরিয়ে যাওয়া রেখাটি হলো তার আশা। আর এ ছোট ছোট রেখাগুলো বাধা-বন্ধন। যদি সে এর একটা এড়িয়ে যায়, তবে আরেকটা তাকে দংশন করে। আর আরেকটি যদি এড়িয়ে যায় তবে আরেকটি তাকে দংশন করে।”
ভিক্ষুকদের প্রিয় জিনিস থেকে দান করা
[৬৯৫] বাশীরের সূত্রে আবদুর রহমান ইবনু আজলান বর্ণনা করেন, “একবার জনৈক ভিক্ষুক রবীর ঘরের দরজায় এসে ভিক্ষা চাইলে রবী তার স্ত্রীকে বললেন, 'তাকে মিষ্টান্ন দাও।' স্ত্রী জানালেন, 'সে তো আমাদের কাছে খাদ্যের ক্ষুদ্রাংশ চাচ্ছে।' রবী আবার বললেন, 'তাকে মিষ্টান্ন আহার করাও, কেননা রবী মিষ্টান্ন পছন্দ করে।”
সালাতে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করা
[৬৯৬] বাশীরের সূত্রে আবদুর রহমান ইবনু আজলান বর্ণনা করেন, “আমি এক রাতে রবীর সাথে ছিলাম। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। যখন নিম্নের আয়াতে পৌঁছলেন, তখন সারা রাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে তা বারবার তিলাওয়াত করতে থাকেন। এমনকি এভাবে সকাল হয়ে যায়:
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَن تَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءٌ تَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
'যারা খারাপ কাজ করেছে তারা কি এ ধারণা করে যে, আমরা তাদের সেই লোকদের সমান করে দেবো যারা ভালো কাজ করেছে? যাদের জীবন ও মরণ সমান। তারা কতই-না মন্দ সিদ্ধান্ত নেয়." [১৯]
পুরস্কার ঘোষণা
[৬৯৭] রবী ইবনু খাইসাম বলেন, "আদ জাতি ইয়ামান থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ছড়ানো ছিটানো ছিল। তাদের মধ্য হতে কাউকে আমার কাছে যে নিয়ে আসবে তার জন্য এই এই পুরস্কার।”[১০০]
তিনি রাতভর ইবাদাত করতেন
[৬৯৮] হাম্মাদ আল-আসাম আল-হিম্মানি রাহিমাহুল্লাহ রবীর সঙ্গীদের কাছ থেকে বর্ণনা করেন, “প্রায়শ আমরা সন্ধ্যায় রবীর বাবরি চুল যেমন গোছানো দেখতাম, ভোরেও দেখতাম সেভাবেই চুলগুলো গোছানো। তখন আমরা নিশ্চিত হতাম যে, তিনি সারা রাত বিছানায় পিঠ লাগায়নি।”
আল্লাহর আলোচনা অধিক উত্তম
[৬৯৯] আবদুল্লাহ বলেন, “আমি বিশর ইবনু আল-হারিস এর নিজ হাতে লেখা গ্রন্থে পেয়েছি, তিনি বলেন, 'একবার রবী ইবনু খুসাইম-এর কাছে জনৈক ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হলে তিনি বলেন-মানুষের আলোচনার চেয়ে আল্লাহর আলোচনা অধিক উত্তম।”
কবিতার প্রতি অনাগ্রহ
[৭০০] আবূ বাকর ইবনে আইয়্যাশ রাহিমাহুল্লাহ আসেম হতে বর্ণনা করেন, “তিনি বলেন, রবী ইবনু খুসাইমকে বলা হলো, আপনার সঙ্গী-সাথিদের অনেককে আমি কবিতার উদ্ধৃতি দিতে শুনেছি। আপনি কবিতা দ্বারা উদ্ধৃতি দেন না কেন? জবাবে রবী বললেন, 'যা কিছু তোমরা এখানে বলো, তা সবই লেখা হয়। আমি চাই না কিয়ামাত দিবসে আমার সামনে কবিতার পঙ্ক্তি আবৃত্তি করে শোনানো হোক।”
আগুন দেখে তিনি বেহুঁশ হলেন
[৭০১] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথিদের নিয়ে ফুরাত নদীর তীর বেয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এমন সময়ে কামারশালার আগুন দেখে রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে তুলে ধরে নিয়ে গেলেন। তিনি তখন বেহুঁশ। এরপর আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে যোহর সালাত আদায় করেন। এরপর রবীর কাছে ফিরে এসে তাকে ডাকলেন, 'হে রবী, হে রবী।' কিন্তু সংজ্ঞাহীনতার কারণে তিনি কোনো জবাব দিলেন না। অতঃপর আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সাথিদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করে এসে ডাকলেন, 'হে রবী।' কিন্তু তখনো রবীর হুঁশ ফেরেনি। এভাবে মাগরিবও পেরিয়ে গেল, রবীর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে ঈশার সালাত আদায় করলেন। রবী এখনো আগের মতোই সংজ্ঞাহীন। অবশেষে ভোরের শীতলতায় রবীর হুঁশ ফিরে আসে।”
মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা
[৭০২] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, “রবীকে যখন বলা হতো কেমন আছেন হে আবূ ইয়াজিদ? তখন তিনি বলতেন, 'দুর্বল পাপিষ্ঠ হিসেবে আছি। আমার ভাগের রিষ্ক ভক্ষণ করব আর মৃত্যুর অপেক্ষা করব'।”
মানুষ দু-প্রকার
[৭০৩] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, “রবী বলতেন, 'মানুষ দু-প্রকার। মুমিন আর জাহিল। মুমিনদের আমরা কষ্ট দিই না, আর জাহিলদের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকি।”
সবাইকে একদিন মরতে হবে
[৭০৪] সুফইয়ান বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম প্যারালাইসিসের মতো কষ্টদায়ক রোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে চিকিৎসা করার কথা বলা হলে তিনি বলতেন, 'আমি তোমাদের আদ, সামূদ ও আসহাবে রাস-এর জাতিগোষ্ঠীর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তাদের মধ্যবর্তী সময়ে আরও জাতিগোষ্ঠী বিদ্যমান ছিল। তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল। কিন্তু আজ না সেই চিকিৎসক বেঁচে আছে, আর না যাদের চিকিৎসা করা হয়েছে তারা বেঁচে আছে।”
নিজের কোট দান করা
[৭০৫] আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইদ বলেন, “একবার রবী ইবনু খুসাইমের কাছে এক ভিক্ষুক আসে। শীতের রাতে তিনি তার দিকে এগিয়ে যান। গিয়ে দেখেন সে ভীষণ শীতে ভুগছে। তিনি নিজের মাথাওয়ালা কোটটি ভিক্ষুককে পরিয়ে দেন। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করতে লাগলেন:
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
'তোমরা কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা যা কিছু ভালোবাসো তা থেকে খরচ না করো।” [১০১]
তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন
[৭০৬] আবূ ওয়ায়েল বলেন, "আমরা একবার রবী ইবনু খুসাইমের কাছে এলাম। তিনি বললেন, 'কী নিয়ে এলে?' আমরা বললাম, 'আমরা আল্লাহর প্রশংসা করতে এসেছি। আপনাকে নিয়ে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করব। আল্লাহকে স্মরণ করতে এসেছি। আপনাকে নিয়ে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করব।' এ কথা শুনে রবী বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি এমন লোকদের আমার কাছে নিয়ে আসেননি যারা বলে-আপনাকে সঙ্গে নিয়ে শরাব পান করতে এসেছি এবং আপনাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যভিচার করতে এসেছি।”
চোরের জন্য দুআ
[৭০৭] আলা ইবনুল মুসাইয়িব বলেন, “একবার রবীর ঘোড়াটি চুরি হয়ে যায়। এতে তার কাছের লোকজন বলতে লাগল, চোরের জন্য বদদুআ করুন। তিনি বললেন, 'না, বরং দুআ করব-হে আল্লাহ, যদি সে ধনী হয়ে থাকে, তবে তার ধন-সম্পদ আরও বাড়িয়ে দিন। আর যদি দরিদ্র হয়ে থাকে, তবে তাকে ধনী বানিয়ে দিন।”
খাদেমের সাথে কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়া
[৭০৮] বাকর বলেন, “রবী তার খাদেমকে বলতেন, 'অর্ধেক কাজ তোমার আর অর্ধেক কাজ আমার। আবর্জনা ঝাড় দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
মেয়েকে খেলতে যাওয়ার কথা বললেন না
[৭০৯] বাকর বলেন, “একবার রবীর ছোট মেয়ে তার কাছে আসে। সে সময় তার সাথিরা তার সঙ্গে ছিল। মেয়ে বলল, 'আব্বা, খেলতে যাব।' তিনি বললেন, 'না।' তার সাথিরা বলল, 'হে আবু ইয়াজিদ, মেয়েকে খেলার অনুমতি দিন।' তিনি বলতে লাগলেন, 'আমি চাই না আমার আমলনামায়-যাও, খেলো-এ কথা লেখা থাকুক। বরং আমি চাই, লেখা থাকুক—যাও, ভালো কথা বলো, ভালো কাজ করো।”
চোরের হেদায়াতের জন্য দুআ করলেন
[৭১০] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, “রবী বলতেন, যা হবার তা হবেই। বাকর ইবনু মায়িয আরও বলেন, রবীকে ত্রিশ হাজার দিরহাম মূল্যের একটি ঘোড়া দেওয়া হয় বা তিনি সেটা ক্রয় করেন। তিনি সেটাতে আরোহণ করে লড়াই করেন। একবার ঘোড়ার ঘাস সংগ্রহ করতে খাদেমকে পাঠান এবং তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে যান। ঘোড়া তার পাশেই বেঁধে রাখেন। কিছুক্ষণ পর খাদেম এসে বলে, 'হে রবী, আপনার ঘোড়া কোথায়?' রবী বললেন, 'চুরি হয়ে গেছে, হে ইয়াসার।' খাদেম বলল, 'অথচ আপনি সেদিকে চেয়ে রয়েছিলেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, হে ইয়াসার। আমি আমার মহামহিম प्रतिপালকের কাছে মুনাজাত করছিলাম। এ সময় কিছুই আমার মনোযোগ বিঘ্ন করতে পারে না।' এরপর তিনি তিনবার আল্লাহর কাছে দুআ করে বলেন, 'হে আল্লাহ, সে আমাকে চুরি করেছে। আমি তাকে চুরি করতে দিইনি। হে আল্লাহ, সে যদি ধনী হয় তবে তাকে হেদায়াত দান করুন। আর যদি দরিদ্র হয় তবে তাকে ধনী বানিয়ে দিন।'”
যেসব বিষয়ে মঙ্গল রয়েছে
[৭১১] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, “রবী বলতেন, অধিক কথায় মঙ্গল নেই। তবে নয়টি বিষয় ভিন্ন। যথা: আল্লাহর তাহলীল, তাকবীর, তাসবীহ, তাহমীদ, কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে দুআ করা, খারাপ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা, সৎ কাজে আদেশ, অসৎ কাজে বাধাদান ও কুরআন তিলাওয়াত।”
মানুষ যা পড়ে তার সবটুকু বোঝে না
[৭১২] মুনযির আস-সাওরি রবী ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেন, "আল্লাহ তাআলা তার নবির কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন, তার সবটুকু অবশ্যই তোমরা জানো না। আর যা কিছু তোমরা পড়ছ অবশ্যই তার সবটুকু বোঝো না।”
তিনি কখনো মন্দ কিছু বলতেন না
[৭১৩] বিলাল ইবনুল মুনযির বলেন, “জনৈক ব্যক্তি বলল, আজ যদি রবীর মুখ থেকে কারও সম্পর্কে মন্দ কথা বের করতে না পারি, তাহলে জীবনে কখনো বের করতে পারব না। এ লক্ষ্যে তার কাছে গিয়ে বললাম, 'হে আবু ইয়াজিদ, হুসাইন ইবনু ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু নিহত হয়েছেন।' তিনি বললেন, 'ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।' তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
قُلِ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
‘বলুন, হে আল্লাহ, সমস্ত আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত। [১০২]
লোকটি আরও বলে, ‘আমি বললাম, এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?’ রবী বললেন, 'আমি কী বলব? আল্লাহর কাছেই তাদের ফিরতে হবে এবং আল্লাহর কাছেই তাদের হিসেব দিতে হবে।”
তিনি সব আমল গোপনে করতেন
[৭১৪] সুফিয়ান বলেন, “রবী ইবনু খুসাইমের স্ত্রী আমাকে বলেছেন, 'রবী সব আমল গোপনে করতেন। তিনি হয়তো মাসহাফ হাতে কুরআন তিলাওয়াত করছেন, তখন হঠাৎ কোনো লোক এসে গেল। তিনি মাসহাফটি তাড়াতাড়ি কাপড়ের ভেতর লুকিয়ে ফেলতেন, যাতে আগন্তুক লোকটি তা দেখতে না পারে।”
দামি পোশাক পরিহিতকে উপদেশ
[৭১৫] রবী ইবনু খুসাইম থেকে বর্ণিত, “তিনি একটি সুম্বুলানী বস্ত্র পরিধান করলেন। যার মূল্য তিন বা চার দিরহাম। যখনই তিনি এর হাতা লম্বা করতেন, তা গিয়ে তার নখ পর্যন্ত পৌঁছত। আর যখন তা ঝুলিয়ে দিতেন, তখন তা তার বাহু পর্যন্ত পৌঁছে যেত। যখন তিনি শুভ্র পোশাকের কোনো আল্লাহর বান্দাকে দেখতেন, তখন তাকে বলতে (কিয়ামাতের সময়) পাহাড়কে উড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে তখন তুমি কী করবে!”
আগুন দেখে বেহুঁশ হলেন
[৭১৬] সুলাইমান আবূ ওয়ায়েল হতে বর্ণনা করেন, “আমরা একদিন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে বের হলাম। আমাদের সাথে রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহও ছিলেন। আমরা একজন কামারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তো আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আগুনে থাকা একটা লোহার খণ্ডের দিকে তাকালেন। রবীও সেদিকে তাকালেন। (এটা দেখে) তিনি পড়ে যাওয়ার মতো টলতে লাগলেন। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু চলতে লাগলেন। অবশেষে আমারা ফুরাত নদীর তীরে চুন বানানোর একটি ভাটির কাছে পৌঁছলাম عبدالله রাদিয়াল্লাহু আনহু তাতে টগবগে আগুন দেখে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
إِذَا رَأَتْهُم مِّن مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا
'আগুন যখন দূর থেকে এদের দেখবে তখন এরা তার ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত চিৎকার শুনতে পাবে। আর যখন এরা শৃঙ্খলিত অবস্থায় তার মধ্যে একটি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষিপ্ত হবে তখন নিজেদের মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।”[১০৩]
বর্ণনাকারী বলেন, “রবী তখন বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। আমরা তাঁকে বহন করে তার বাড়িতে নিয়ে আসি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যোহর পর্যন্ত তার দেখাশোনা করেন, তখনো তার হুঁশ ফিরে আসেনি। এরপর আসর পর্যন্ত তার দেখাশোনা করেন, তখনো তার হুঁশ ফিরে আসেনি। মাগরিব পর্যন্তও এমন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে থাকেন তিনি। অতঃপর তার হুঁশ ফিরে এলে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পরিবারের কাছে ফিরে আসেন।"
তিনি ভাইয়ের কাছে চিঠি লিখলেন
[৭১৭] ইবনুল মুবারক বলেন, "রবী ইবনু খুসাইম তার ভাইয়ের কাছে চিঠি লেখেন : তোমার আসবাবপত্র তৈরি করে নাও। পাথেয় ঠিক করে নাও। নিজের নফসের অভিভাবক হয়ে যাও। মানুষকে নিজের অভিভাবক বানিয়ো না।”
তিনি কবরবাসীর সাথে কথা বলতেন
[৭১৮] ঈসা ইবনু ফররুখ বলেন, "রাতের বেলা রবী ইবনু খুসাইম যখন মানুষের গাফলতি দেখতেন, তখন তিনি কবরস্থানে চলে যেতেন। সেখানে গিয়ে তিনি কবরবাসীর সাথে কথা বলতেন। বলতেন, 'হে কবরবাসী, তোমরা আর আমরা একই জগতের বাসিন্দা ছিলাম।' যখন ভোর হতো, তখন তাঁকে কবর থেকে উত্থিত মানুষের মতো মনে হতো।”
তিনি সুসংবাদ পেলেন
[৭১৯] নুসাইর ইবনু যুলুক বলেন, "আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রবী ইবনু খুসাইমকে দেখতেন, তখন বলতেন, 'ইবনু ইয়াজিদের জন্য সুসংবাদ। তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।”
জবানের ব্যাপারে সতর্কতা
[৭২০] বাকর ইবনু মায়িয বলেন, "রবী বলতেন, 'হে বাকর, নিজ জবানের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কেননা, আমরা দ্বীনের ব্যাপারে মানুষকে অপবাদ দিয়ে থাকি।"
জ্ঞানবুদ্ধিতে বড় ছিলেন
[৭২১] সাঈদ ইবনু মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবু ওয়ায়েলকে বলা হলো, আপনি বড় নাকি রবী ইবনু খুসাইম বড়? তিনি বললেন, 'আমি তার চেয়ে বয়সে বড়, কিন্তু তিনি জ্ঞানবুদ্ধিতে আমার চেয়ে বড়।”
ছেলের মৃত্যুতে কবিতা
[৭২২] সুফিয়ান সাওরি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু রবী ইবনু খুসাইমের এক ছেলে মারা গেলে তিনি কবিতা আবৃত্তি করলেন, 'আমি তার চিকিৎসার জন্য কোনো ডাক্তারকে ডাকিনি। তবে তোমাকে ডেকেছি হে বৃষ্টির ফোঁটা অবতরণকারী। যাতে করে আমার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে তুমি আমাকে সবর করার তাওফিক দান করো। কর্ম সম্পাদনে আমাকে সুপথের পরিকল্পনা দান করো। আর আমি এ আশা করি যে, অজ্ঞাতসারে যেন এই বিপদ আমার প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাদানকারী না হয়।”
উন্মাদ প্রতিবেশীকে খাওয়ালেন
[৭২৩] মুনযির বলেন, “একবার রবী তার স্ত্রীকে খুবাইস (খেজুর ও ঘিমিশ্রিত একপ্রকার মিষ্টান্ন) তৈরি করতে বলেন। যেহেতু তিনি কখনো নিজের জন্য কোনো কিছুর আবদার করতেন না, এ কারণে তার স্ত্রী খুব যত্ন করে খবীস তৈরি করলেন। এরপর রবী সেগুলো তার এক উন্মাদ প্রতিবেশীকে দিয়ে দিলেন। উন্মাদ লোকটির মুখ থেকে সব সময় লালা ঝরত। সে খাবারগুলো চেটে খায়। তার লালা ঝরতে থাকে পাত্রে। এ অবস্থা দেখে স্ত্রী রবীকে বললেন, 'সে কি জানে সে কী খাচ্ছে?' রবী বললেন, 'কিন্তু আল্লাহ তো জানেন।”
ভালো মানুষের সন্ধান
[৭২৪] ইবনুল কাওয়্যা একবার রবী ইবনু খুসাইমের কাছে এসে জানতে চাইলেন, "আমাকে আপনার চেয়ে ভালো মানুষের সন্ধান দিন।" রবী বললেন, "হ্যাঁ, যে তার কথায় আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, সুস্থ অবস্থায় অধিক চিন্তা-ফিকির করে এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কালে গভীর অভিচিন্তনে মগ্ন থাকে, সে আমার চেয়ে উত্তম।"
আল্লাহকে ভয় করার পুরস্কার
[৭২৫] রবী ইবনুল মুনযির বর্ণনা করেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا ‘যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য সহজ পথ বের করে দেন’। [১০৪] এই আয়াতের ব্যখ্যায় রবী ইবনু খুসাইম বলতেন, ‘সবকিছু থেকে তিনি মুক্তি দেন। চাই তা মানুষের জন্য দুষ্কর হোক না কেন।”
দ্বীনের জ্ঞানার্জন আগে
[৭২৬] মুহাম্মাদ ইবনুন নাযর আল-হারিয়ি বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম বলেছেন, ‘আগে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করো, তারপর নিভৃতে অবস্থান করো।”
একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
[৭২৭] রবী ইবনু খুসাইম وَإِذَا الْعِشَارُ عُظِلَتْ “যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনীগুলোকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয়া হবে।”[১০৫] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “এগুলোর প্রতিপালনকারীরা আর দুধ দোহন করতে পারবে না এবং এগুলোকে বেঁধে রাখতে পারবে না।"
ভাতার অতিরিক্ত অংশ দান করে ফেলা
[৭২৮] সাঈদ ইবনু রবী ইবনু খুসাইম বলেন, “আমার দাদি আমার কাছে রবী ইবনু খুসাইমের ব্যাপারে বলেছেন যে, তার ভাতা আসত, যার পরিমাণ ছিল দুই হাজার দিরহাম। তিনি খরচের জন্য এক হাজার দুই শ রেখে, বাকিটা দান করে দিতেন।”
ভালো লোকদের সাথে থাকার নাসীহাত
[৭২৯] সালিহ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযিদি বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু রবী ইবনু খুসাইমের কাছে শুনেছি, তিনি প্রতিদিন সকালে বলতেন, 'তোমরা ভালো কাজ করো এবং ভালো লোকদের সাথে থাকো। এতে একটুও বিলম্ব করবে না, তাতে তোমার অন্তর কঠোর হয়ে যাবে। তাদের মতো হোয়ো না, যারা বলল-আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনে না।”
কিয়ামাতের মাঠের বিবরণ
[৭৩০] ইবরাহীম নাখয়ি রবী ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেন, “যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে তখন আল্লাহ ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব থাকবে না, তখন মহান আল্লাহ সকলকে একত্র করে ঘোষণা করবেন, 'কোথায় বাদশাহরা? কোথায় সাম্রাজ্যের দাবিদাররা? কোথায় তারা আজ, যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকত? আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”
কখনো মিথ্যা বলতেন না তিনি
[৭৩১] আসিম আবু ওয়ায়েল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমি, কায়স ইবনু উসাইল, হাইয়্যা ইবনু উসাইল এবং আবদুর রহমান ইবনু সালামাহ মিলে রবী ইবনু খুসাইমের কাছে যাচ্ছিলাম। আমরা একটি সমাবেশ দেখে জিজ্ঞেস করলাম, রবী ইবনু খুসাইমের বাড়ি কোনটা? তারা আমাদের যথাসাধ্য পথ বাতলে দেয় এবং বলে, আপনারা এমন এক লোকের বাড়িতে যাচ্ছেন, যিনি কথা বললে মিথ্যা বলেন না। অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করেন না এবং তার কাছে কোনো কিছু আমানত রাখলে তার খেয়ানত করেন না। ওই যে দেখছেন, এটা তার বাড়ি।”
আবু ওয়ায়েল বলেন, “এরপর আমরা তার বাড়িতে গেলাম। ওই সময় তিনি মাসজিদে ছিলেন। আমরা বললাম, আমরা আপনার কাছে আল্লাহর কথা শুনতে এসেছি। সুতরাং আমাদের নিয়ে আপনি আল্লাহর কথা আলোচনা করুন। এরপর রবী দু-হাত তুলে দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ, নিশ্চয় এরা আপনার যিকর করতে এসেছে। তাঁরা আমার সাথে যিকর করবে। তারা ব্যভিচারের আশায় আমার কাছে আসেনি। আমাকে নিয়ে মদ্যপান করতে আসেনি।”
বর্ণনাকারী বলেন, “অতঃপর তিনি আমাদের সাথে দ্বীনি আলোচনা করতে লাগলেন। বললেন, 'অধিক কথায় মঙ্গল নেই। তবে নয়টি বিষয় ভিন্ন, যথা: আল্লাহর তাহলীল, তাকবীর, তাসবীহ, তাহমীদ, কুরআন তিলাওয়াত, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজে বাধাদান, কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে দুআ করা এবং খারাপ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা।”
কোনো পাপই আল্লাহর অজানা নয়
[৭৩২] রবী ইবনু খুসাইম বলতেন, “যেসব গোপন পাপ মানুষের কাছে লুক্কায়িত, আল্লাহর কাছে তা ঠিকই প্রকাশিত; তোমরা সেগুলোর সমাধান তালাশ করো। সেগুলোর সমাধান হলো কেবল তার কাছে অনুতপ্ত হওয়া এবং (সেসব পাপের) পুনরাবৃত্তি না করা।”
আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা
[৭৩৩] সুফিয়ান বলেন, “এক জুমুআর দিন রবী ইবনু খুসাইমের এক প্রতিবেশী যুবক তাঁকে অনুসরণ করছিলেন। তা দেখে তিনি বললেন, 'আমি আল্লাহর কাছে তোমার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।”
ধ্বংসের কারণ
[৭৩৪] রবী ইবনু খুসাইম বলেন, “যেসব কাজ আল্লাহর জন্য করা হয় না, তা সবই ধ্বংসের কারণ।”
অন্তিম মুহূর্তে প্রদান করা স্বীকৃতি
[৭৩৫] মুনযির আস-সাওরি বলেন, “জীবনের অন্তিম মুহূর্তে রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ এ স্বীকৃতি দান করেন যে—আমি আমার নিজের ওপর আল্লাহকে সাক্ষী মানছি। তিনি তার নেক বান্দাদের জন্য সাক্ষ্য, তাদের প্রতিদান ও বদলা দানের জন্য যথেষ্ট। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নবি ও রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। আমি নিজের ও আমার অনুসারীদের জন্য এই ব্যাপারে সন্তুষ্ট যে, ইবাদাতকারীদের মধ্যে আমি তার (আল্লাহর) ইবাদাত করব। প্রশংসাকারীদের মধ্যে তার প্রশংসা করব এবং সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করব।”
নবিজি তাকে দেখলে ভালোবাসতেন
[৭৩৬] সাঈদ ইবনু মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রবী ইবনু খুসাইমকে দেখতেন, তখন বলতেন, 'রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে দেখলে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।”
তিনি সারা রাত সালাতে তিলাওয়াত করলেন
[৭৩৭] আবদুর রহমান ইবনু আজলান নুসাইর হতে বর্ণনা করেন, রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ সালাতে দাঁড়ালেন। যখন নিম্নের আয়াতে পৌঁছলেন, তখন তা বারবার তিলাওয়াত করতে লাগলেন:
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءٌ تَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
'যারা খারাপ কাজ করেছে তারা কি এ ধারণা করে যে, আমরা তাদের সেই লোকদের সম্মান করে দেবো—যারা ভালো কাজ করেছে? যাদের জীবন ও মরণ সমান। তারা কতই-না মন্দ সিদ্ধান্ত নেয়।[১০৬] এরপর তিনি রুকু সাজদা করলেন। এভাবে সকাল হয়ে যায়।”
ভালো মানুষদের জন্য সুসংবাদ
[৭৩৮] সাঈদ ইবনু মাসরূক রবী ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে এসে বলতেন, ‘ভালো মানুষদের সুসংবাদ দাও’।”
তিনি দুনিয়াবি কথা বলতেন না
[৭৩৯] আবূ হাইয়্যান তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, “আমি রবী ইবনু খুসাইমের কাছে কখনো দুনিয়াবি কোনো কথা শুনিনি। কেবল একবার শুনেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের এলাকায় কয়টি মাসজিদ আছে?’”
অন্যের দোষচর্চা না করা
[৭৪০] মুফাযযাল ইবনু ইউনুস বলেন, “রবী ইবনু খুসাইমের কাছে জনৈক ব্যক্তির আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, ‘আমি এখনো নিজের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। নিজের দোষ বাদ দিয়ে অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনার সুযোগ কোথায়? মানুষ অন্যের পাপের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, আর নিজের পাপের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে।’”
মিথ্যার ওপর সত্যের আঘাত
[৭৪১] সুফিয়ান বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন : بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ ‘কিন্তু আমি তো মিথ্যার ওপর সত্যের আঘাত হানি, যা মিথ্যার মাথা গুঁড়িয়ে দেয় এবং সে দেখতে দেখতে নিশ্চিহ্ন হয়।’ [১০৭] এরপর বলেন, ‘এটি এমন এক ক্ষত, যা আপনি বাদে অন্য কেউ ঠিক করতে পারবে না।’”
পুরোটা রুটি দান করে দেওয়া
[৭৪২] রবীর স্ত্রী বলেন, “নিশ্চয় রবী রুটি দান করতেন। তিনি বলতেন, 'টুকরো বা ভগ্নাংশ দান করতে আমার লজ্জা হয়'।”
মৃত্যুকে পছন্দ করা
[৭৪৩] রবী ইবনু খুসাইমের স্ত্রী বলেন, “রবীর মৃত্যুশয্যায় তার মেয়ে ক্রন্দন করতে লাগল। তা দেখে রবী বললেন, 'হে আমার মেয়ে, কেঁদো না; বরং বলো, শুভদিন! আমার পিতার শুভদিন এসেছে'।”
তিনি সব সময় মাসজিদে উপস্থিত থাকতেন
[৭৪৪] নুসাইর বলেন, “আমি আমার জীবনে এক দিন ছাড়া কখনো রবীকে মাসজিদে অনুপস্থিত দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, "জনৈক ব্যক্তি রবীকে বলল, 'কুরআন থেকে আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' তিনি তার ছোট ছেলের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন,
وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ
'আত্মীয়-স্বজনরা একে অপরের তুলনায় অগ্রগণ্য, আল্লাহর কিতাবে।'” [১০৮]
তিনি হালুয়া পছন্দ করতেন
[৭৪৫] রবী ইবনু খুসাইমের স্ত্রী বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম হালুয়া খেতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি আমাকে একবার হালুয়া তৈরি করতে বলেন। আমি প্রচুর পরিমাণে হালুয়া তৈরি করে নিয়ে এলাম। তিনি ফররুখ এবং আরও একজনকে ডেকে এনে নিজ হাতে খাওয়ালেন। প্রিয় পানীয়ও পান করালেন। তাঁকে বলা হলো, এরা দুজন কি জানে, তারা কী পানাহার করেছে? রবী জবাবে বললেন, 'কিন্তু আল্লাহ তো জানেন'।”
কীভাবে দুআ করতে হবে?
[৭৪৬] মুনযির আস-সাওরি বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম বলতেন, 'তোমাদের মধ্যে কেউ যেন এ রকম না বলে—হে আল্লাহ, আমি অতীতের গুনাহ ত্যাগ করে তোমার কাছে ফিরে আসছি। অতঃপর সত্যি যদি ফিরে না আসে, তাহলে সেটা হবে মিথ্যা ওয়াদার শামিল। বরং বলা উচিত—হে আল্লাহ, আমার তাওবা কবুল করো'।”
অধিক পরিমাণে কান্নাকাটি করা
[৭৪৭] নুসাইর ইবনু যুলুক বলেন, "রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ এত অধিক পরিমাণে কাঁদতেন যে, অশ্রুতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত।"
কথাবার্তায় সংযমী হওয়া
[৭৪৮] ইবরাহীম আত-তাইমি বলেন, "রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ-এর সাথে ২০ বছর কাটিয়েছেন এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন—দীর্ঘ সময় এ সময়ে আমি তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত এমন কোনো কথা শুনিনি, যার সমালোচনা হতে পারে।"
মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা
[৭৪৯] নুসাইর হতে বর্ণিত, “তিনি যখন রবী ইবনু খুসাইমের কাছে আসতেন, রবী বলতেন, 'আমি আল্লাহর কাছে তোমার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।”
পাপের ভয়
[৭৫০] জাফর বলেন, “আমাকে রবী ইবনু খুসাইমের মেয়ে বলেছেন, 'আমি আব্বাকে বলতাম, আব্বাজান, লোকজন ঘুমিয়ে গেছে। আপনি ঘুমাচ্ছেন না কেন?' তিনি বলতেন, 'হে মেয়ে, তোমার বাবা পাপকে ভয় করে'।”
কিছু অমূল্য নাসীহাত
[৭৫১] মুনযির সাওরি রবীর ব্যাপারে বলতেন, “যখন তাঁর কাছে কোনো লোক আসত তিনি বলতেন, 'ওহে আল্লাহর বান্দা। তুমি যেসব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেছ, সেসব বিষয়ে আল্লাহকে (আল্লাহর পাকড়াওকে) ভয় করো; যে বিষয়ের জ্ঞান তোমাকে না দিয়ে অন্যকে দেওয়া হয়েছে, সেটি ওই জ্ঞানী ব্যক্তির কাছেই ন্যস্ত করো; তোমরা ভুলবশত বিভিন্ন কাজে জড়িত হবে বলে আমি যেটুকু আশঙ্কা করি, তার চেয়ে ঢের বেশি ভয় হচ্ছে যে, তোমরা জেনেবুঝে নানা (অন্যায়) কাজে লিপ্ত হবে; আজ তোমাদের মধ্যে যারা ভালো, তারা নিজগুণে ভালো নয়, তারা বরং তাদের চেয়ে অনেক নিকৃষ্টের তুলনায় ভালো; যেভাবে কল্যাণের পিছু নেওয়া দরকার, তোমরা সেভাবে তার পিছু নিচ্ছ না; মন্দ থেকে যেভাবে পালানো দরকার, সেভাবে পালাচ্ছ না; মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর যা কিছু নাযিল হয়েছে, তার সবটুকু তোমরা আয়ত্ত করতে পারোনি; তোমরা যা পড়ছ, তার সবটুকু বোঝো না!' মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সবটুকু তোমরা জানো না। যা কিছু তোমরা পড়ো, তার সবটুকু বোঝো না। যেসব গোপন পাপ মানুষের কাছে লুক্কায়িত, আল্লাহর কাছে তা ঠিকই প্রকাশিত। তোমরা সেগুলোর সমাধান তালাশ করো। সেগুলোর সমাধান হলো কেবল তার কাছে অনুতপ্ত হওয়া এবং (সেসব পাপ) পুনরায় না করা।"
নবিজির আনুগত্য মানে আল্লাহর আনুগত্য
[৭৫২] মুনযির বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম বলতেন, জাহিলি যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে সালিস-বিচার নিয়ে যাওয়া হতো। ইসলামে এটা তার একক বৈশিষ্ট্য ছিল। রবী বলেন,
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
'যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল।' [১১০] এর প্রতিটি বর্ণ সত্য।”
জ্বলন্ত লোহা দেখে বেহুঁশ হয়ে যান
[৭৫৩] সুলাইমান আমাশ বলেন, "রবী ইবনু খুসাইম কামারশালার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি কামারের ভাটিতে জ্বলন্ত লোহা দেখে বেহুঁশ হয়ে যান।”
আমাশ বলেন, "আমিও অনুরূপ অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য কামারশালায় গেলাম। কিন্তু ভালো কিছু পেলাম না।”
রোগ, ওষুধ ও আরোগ্য সম্পর্কে
[৭৫৪] আবদুল মালিক ইস্পাহানি জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন, “রবী ইবনু খুসাইম তার সাথিদের বলতেন, 'রোগ, ওষুধ ও আরোগ্য সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা?' সাথিরা বললেন, 'জানি না।' তিনি বললেন, 'রোগ হচ্ছে পাপ। ওষুধ হচ্ছে ইস্তিগফার। আর আরোগ্য হচ্ছে এমন তাওবা, যার পর আর পাপ করা হয় না।”
প্রতিপালকের কাছে চাওয়ার পদ্ধতি
[৭৫৫] আবূ ইয়ালা বলেন, "রবী বলতেন, 'আমি বান্দাকে তার প্রতিপালকের কাছে এই বলে অনুরোধ করাকে পছন্দ করি না যে—হে আল্লাহ, আপনি অনুগ্রহ করাকে নিজের জন্য আবশ্যক করেছেন। আপনি নিজের জন্য এমনটা আবশ্যক করেছেন, যা (পেতে আমার) দেরি হচ্ছে। কাউকে আমি এমনটি বলতে শুনি না যে—হে আল্লাহ, আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি, সুতরাং আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন।”
মৃত্যু সর্বাধিক উত্তম
[৭৫৬] সুফিয়ান তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, রবী বলতেন, “মুমিনের অদৃশ্য বিষয়গুলোর মধ্যে মৃত্যু সর্বাধিক উত্তম।”
কথার ভেতর আলো থাকে
[৭৫৭] বাকর ইবনু মায়িয রবী ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয় কথার ভেতর এমন আলো আছে, যা তোমরা দিবাকরের মতো চিনতে পারো। আর এই কথার মাঝেই এমন অন্ধকার আছে, যা রাতের অমানিশার মতো তোমরা অপছন্দ করো।”
পাশাখেলার প্রতি ঘৃণা
[৭৫৮] ইউসুফ ইবনু হাজ্জাজ বলেন, “আমি রবী ইবনু খুসাইমকে বলতে শুনেছি, পাশাখেলার গুটি হাতে ঘোরানোর চেয়ে শূকরের চর্বি হাতে মাখামাখি করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।”
স্বপ্নের কুমন্ত্রণা
[৭৫৯] লাকিত বলেন, “জনৈক ব্যক্তি রবী ইবনু খুসাইমের কাছে এসে বলল, 'এক লোক (স্বপ্নে) আমার কাছে তিনবার এসে বলেছে যে—রবীকে বলবে, সে জাহান্নামী।' সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করল এবং বাঁ দিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করল। পরদিন প্রত্যুষে সে আবার এসে বলল, 'আজ রাতে দেখলাম একজন আগমনকারী আমার কাছে এমন একটি কালো কুকুর নিয়ে এসেছে, যার গলায় তিনটি শিকল পরানো এবং মুখে তিনটি আঘাত।' এ কথা শুনে তিনি বললেন, 'এসব হলো রবীর ব্যাপারে তোমাকে দেওয়া স্বপ্নের কুমন্ত্রণা।"
তাকে দেখলে বিনয়ী লোকদের কথা মনে হতো
[৭৬০] আবু উবায়দা বলেন, “রবী যখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে আসতেন, তখন তাদের আলোচনাকালে কেউ ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেত না। ইবনে מסعود রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, 'রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তোমাকে দেখতেন, দারুণ ভালোবাসতেন। আমি যখন তোমাকে দেখি, তখন আমার বিনয়ী লোকদের কথা স্মরণ হয়।”
নিজের কাজ নিজে করা
[৭৬১] মুনযির বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ নিজে টয়লেট পরিষ্কার করতেন। তাঁকে বলা হতো—এ কাজ আপনাকে করতে হবে না। তিনি বলতেন, 'আমি নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি'।”
কাঁধে করে ধরে সালাতে নিয়ে যাওয়া
[৭৬২] মুগিরা বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ-এর দেহ প্যারালাইজড হয়ে গেলে, তাঁকে কাঁধে করে ধরে সালাতে নিয়ে যাওয়া হতো।"
নবিগণের রোগাক্রান্ত হওয়া
[৭৬৩] আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মাওকুফ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “পক্ষাঘাত রোগে আম্বিয়ায়ে কেরামগণ আক্রান্ত হতেন।"
কষ্ট হলেও মাসজিদে যাওয়া
[৭৬৪] আবূ হাইয়্যান তার পিতার কথা বর্ণনা করেছেন, "রবী পঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলৎশক্তি একেবারে হারিয়ে ফেলেন। তবে সালাতের জন্য অন্যের সাহায্যে মাসজিদে যেতেন। লোকেরা বলত, আপনি তো এখন মাযূর। এ অবস্থায় ঘরে সালাত আদায়েরও অনুমতি আছে। তিনি জবাব দিতেন, 'সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি হাইয়া আলাল ফালাহ শুনে ঘরে বসে থাকতে পারি না।"
যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত প্রতিবেশীকে সমাদর
[৭৬৫] আমর ইবনু মুররা বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম তার উম্মে ওয়ালাদের কাছে এসে বললেন, 'আমাদের জন্য খাবার তৈরি করো। ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুবাসিত করে রাখো। আমার এক ভাই আছে যাকে আমি অত্যন্ত ভালোবাসি। আমি তাকে নিমন্ত্রণ করতে চাই।' মহিলা ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করল। বৈঠকখানা পরিপাটি করে সাজাল। উন্নত খাবার রান্না করল। সুগন্ধিতে মোহিত করে রাখল। অতঃপর বলল, 'আপনি আপনার ভাইকে নিয়ে আসুন।' তিনি গেলেন তার এক যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত প্রতিবেশীর কাছে, যে ইতোমধ্যে তার দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেছে। তাকে নিয়ে এসে তিনি উন্নত আসনে বসালেন। এরপর বললেন, 'তোমার খাবার নিয়ে এসো।' মহিলা বলল, 'আমি কি এসব খাবার এই লোকের জন্য তৈরি করেছি?' রবী বললেন, 'ধিক তোমাকে! আমি তোমাকে সত্য বলেছিলাম যে, সে আমার ভাই। আমি তাকে ভালোবাসি।' পরে সেই ব্যক্তি উষ্ণ আতিথেয়তা উপভোগ করল এবং উন্নত খাবার ভক্ষণ করল।"
আযান শুনলেই তিনি মাসজিদে যেতেন
[৭৬৬] আবূ হাইয়্যান তার পিতার কথা বর্ণনা করেছেন, “রবী পঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচলের শক্তি একেবারে হারিয়ে ফেলেন। তবে সালাতের জন্য হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বা অন্যের সাহায্যে মাসজিদে যেতেন। আবদুল্লাহর সাথিরা বলত, 'হে আবূ ইয়াজিদ, আপনি তো এখন মাযূর। এ অবস্থায় ঘরে সালাত আদায়েরও অনুমতি আছে।' তিনি জবাব দিতেন, 'সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি তো হাইয়া আলাল ফালাহ শুনতে পাই। এটি শোনার পর যতদূর সম্ভব সাড়া দেওয়া উচিত, তা সে হামাগুড়ি দিয়েই হোক না কেন।”
মৃত্যুসংবাদ কাউকে না জানানোর ওসিয়ত
[৭৬৭] আবূ হাইয়ান তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, “রবী ইবনু খুসাইম বলেন, 'আমার মৃত্যুর সংবাদ কাউকে জানাবে না। আমার জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি প্রার্থনা করবে।"
জবাবদিহিতার ভয়
[৭৬৮] সুফিয়ান বলেন, “রবী ইবনু খুসাইমের মায়ের কাছ থেকে আমরা সংবাদপ্রাপ্ত হয়েছি, তিনি তার ছেলে রবীকে বলতেন, 'হে রবী, তুমি ঘুমাবে না?' তিনি বলতেন, 'মা, সেই ব্যক্তি কেমন করে রাতের অন্ধকারে ঘুমাতে পারে, যে জবাবদিহিতার ভয় করে?' রবী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও যখন রাতের বেলা তার কান্নাকাটি থামত না, তখন তার মা বলতেন, 'হে আমার ছেলে, তোমার কী হয়েছে? মনে হচ্ছে তুমি কোনো অপরাধ করে বসেছ? কোনো মানুষকে খুন করেছ?' তিনি বলতেন, 'হ্যাঁ মা, আমি মানুষ খুন করেছি।' অস্থিরভাবে মা জানতে চাইতেন, 'বেটা! কাকে খুন করেছ? আমাকে বলো। তাহলে আমরা নিহত ব্যক্তির পরিবারের লোকদের খুশি করে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারব। আল্লাহর শপথ! নিহতের পরিবারের লোকেরা যদি তোমার এ কান্নাকাটি ও রাত জাগার কথা জানতে পারে, তাহলে অবশ্যই তারা তোমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ দেখাবে।' রবী বললেন, 'মা, আমি আমার নিজেকে হত্যা করেছি।”
চোরের তাওবার জন্যে দুআ করা
[৭৬৯] রিযাম ইবনু সাঈদ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ আমাদের মাসজিদে এসে তার সবজির থলেটি বাঁধলেন। এরপর মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত পড়লেন। ইতোমধ্যে তার থলে হারিয়ে গেল। তিনি মাসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদের থলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমরা বললাম, জানি না। আমরা বললাম, আপনি কি চোরের জন্য বদদুআ করবেন না? তিনি বললেন, ‘থাক, সে হয়তো এ পাপ থেকে ফিরে আসবে। আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করবেন এবং ভবিষ্যতে সে ভালো কাজ করবে।"
একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
[৭৭০] আবু রাযীন বর্ণনা করেন, فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا “তারা যেন কম হাসে।” [১১১] এই আয়াতের ব্যখ্যায় রবী ইবনু খুসাইম বলেন, “এখানে দুনিয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।” এবং
وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا “আর তারা যেন বেশি কাঁদে।” [১১২] আয়াতের এখানে আখিরাতের বিষয়ে বলা হয়েছে।
মৃত্যুকালীন বার্তা
[৭৭১] মুনযির আস-সাওরি রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, "আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন :
فَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ فَرَوْحُ وَرَيْحَانُ
'মৃত সেই ব্যক্তি যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের কেউ হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য রয়েছে আরাম-আয়েশ ও উত্তম রিস্ক।" [১১৩]
এটা তার জন্য মৃত্যুকালীন বার্তা। আখিরাতে তো তার জন্য জান্নাত লুক্কায়িত আছেই। অন্যদিকে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন :
وَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ فَنُزُلُ مِنْ حَمِيمٍ وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
'আর সে যদি অস্বীকারকারী পথভ্রষ্টদের কেউ হয়ে থাকে, তাহলে তার সমাদরের জন্য রয়েছে ফুটন্ত গরম পানি এবং জাহান্নামের ঠেলে দেয়ার ব্যবস্থা।' [১১৪]
এটা তার জন্য মৃত্যুকালীন বার্তা। আখিরাতে তো তার জন্য জাহান্নাম লুক্কায়িত আছেই।”
ঠোঁট মিলিয়ে যিকর
[৭৭২] রবী বলেন, “নিশ্চয় বান্দা যখন চায়, তখনই তার প্রতিপালকের যিকর করতে পারে। দুই ঠোঁট মিলিত অবস্থায়ও তা সম্ভব।”
ঠোঁট নড়াচড়া ছাড়াও কুরআন পড়া
[৭৭৩] রবী ইবনু মুনযির তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, “আমি রবী ইবনু খুসাইমকে ঠোঁট নড়াচড়া ছাড়াও কুরআন পড়তে দেখেছি।”
ফকিরদের খাওয়ানো
[৭৭৪] মুনযির সাওরি হতে বর্ণিত, “রবী ইবনু খুসাইম রাহিমাহুল্লাহ তার স্ত্রীকে বললেন, 'খাবার তৈরি করো, আমি আমার বন্ধুদের দাওয়াত দিতে চাচ্ছি।' স্ত্রী খাবার তৈরি করলেন। রবী এলেন মাসজিদে। তিনি সমকালীন ফকিরদের সমবেত করে ঘরে নিয়ে এলেন এবং তৈরিকৃত খাবারগুলো তাদের খাওয়ালেন। স্ত্রী তাঁকে বললেন, 'এরাই আপনার বন্ধু?' রবী বললেন, 'হ্যাঁ, এরাই আমার বন্ধু।”
সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সাজদা দেওয়া
[৭৭৫] মুনযির সাওরি থেকে বর্ণিত, “যখন রবী সূরা রাদে (সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে) সাজদা করতেন, বলতেন, 'হে রব, আমি স্বেচ্ছায় সাজদা দিলাম।”
সাজদার সময় বিনয় অবলম্বন করা
[৭৭৬] মুহাম্মাদ নামীয় আসলাম গোত্রের স্বল্পবয়সী ছেলে মাসজিদ থেকে এসে বলল, “রবী ইবনু খুসাইম যখন সাজদায় যেতেন, তখন তাঁকে দেখতে ছুড়ে ফেলা কাপড়ের মতো মনে হতো। চড়ুই পাখি এসে তার পিঠে বসে যেত।”
টিকাঃ
[১৯] সূরা জাসিয়া, ৪৫: ২১
[১০০] অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদের এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন যে, তাদের কোনো বংশধর আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং জনশক্তির দম্ভ অর্থহীন। (দ্রষ্টব্য: সূরা হুদ ৬০; ইবরাহীম ৯; ফুসৃসিলাত ১৫; আন-নাজম ৫০; মারইয়াম ৯৮)
[১০১] সূরা আল ইমরান, ৩: ৯২
[১০২] সূরা যুমার, ৩৯:৪৬
[১০৩] সূরা ফুরকান, ২৫: ১২-১৩
[১০৪] সূরা তালাক, ৬৫: ০২
[১০৫] সূরা আত-তাকওয়ীর, ৮১ : ৪
[১০৬] সূরা জাসিয়া, ৪৫: ২১
[১০৭] সূরা আম্বিয়া, ২১:১৮
[১০৮] সূরা আনফাল, ৮: ৭৫
[১০৯] এখানে মূলপাঠে ব্যবহৃত 'আমল' শব্দটি ভুল, এটি হবে 'আমাদ'।
[১১০] সূরা নিসা, ৪:৮০
[১১১] সূরা তাওবা, ৯: ৮২
[১১২] সূরা তাওবা, ৯: ৮২
[১১৩] সূরা ওয়াকিয়া, ৫৬: ৮৮-৮৯
[১১৪] সূরা ওয়াকিয়া, ৫৬: ৯২-৯৪
📄 উআইস কারনি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
তাকে দুটি কাপড় দান করলেন
[৭৭৭] কায়েস ইবনু উসাইর ইবনু আমর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “আমি উআইস কারনিকে বস্ত্রহীনতার কারণে দুইটি কাপড় দান করেছি।”
নবিজির সুসংবাদ
[৭৭৮] মুহারিব ইবনু দীসার বলেছেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَأْتِيَ مَسْجِدَهُ أَوْ مُصَلَّاهُ مِنَ الْعُرْيِ، يَحْجِزُهُ إِيمَانُهُ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ، مِنْهُمْ أُوَيْسُ الْقَرَنِيُّ وَفُرَاتُ بْنُ حَيَّانَ الْعِجْلِحُ
'নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, যে মাসজিদে বা সালাতের জায়গায় বস্ত্রহীনতার কারণে আসতে পারবে না। তার ঈমান মানুষের কাছে (কিছু) চাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাদের মধ্যে উআইস কারনি ও ফুরাত ইবনু হাইয়ান ইজলি রয়েছে." [১১৫]
উআইস কারনি রাহিমাহুল্লাহ-এর বিস্তারিত বিবরণ
[৭৭৯] উসাইর ইবনু জাবের বলেন, “তিনি কুফায় হাদীস বর্ণনা করতেন। একবার তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করা যখন শেষ করলেন তখন বললেন, 'তারা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।' কিছু লোক রয়ে গেল তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, সে এমন কথা বলছিল আমি কাউকে সে রকম কথা বলতে শুনিনি। তাই তার প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মাল। আমি তাকে অগ্রসর করলাম। সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করলাম, 'তোমরা কি লোকটিকে চেনো? যে আমাদের সাথে এমন এমন (জায়গায়) বসেছে?' তখন তাদের একজন বলল, 'হ্যাঁ, আমি তাকে চিনি। তিনি হলেন উআইস কারনি।' তিনি জানতে চাইলেন, 'তুমি কি তার ঘর চেনো?' সে বলল, 'জি, চিনি।' তিনি বলেন, তারপর আমি তার সাথে উনার ঘরে গেলাম। দরজায় ধাক্কা দেবার পর তিনি বের হয়ে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'হে ভাই, কিসে তোমাকে আমাদের কাছে আসা থেকে আটক রেখেছে?' তিনি জানালেন, 'বস্ত্রহীনতা।' তার সঙ্গীরা তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করত এবং তাকে কষ্ট দিত। আমি বললাম, 'এই চাদরটি নিন এবং তা পরিধান করুন।' তিনি বললেন, 'এমনটি কোরো না। তারা যদি আমার গায়ে এই বস্ত্র দেখে, তো আমাকে কষ্ট দেবে।' আমি তার সঙ্গে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি তা পরিধান করছেন। এরপর তিনি লোকদের সামনে বের হয়ে এলেন। তারা বলল, 'এই চাদরটি কার থেকে সে মেরে দিয়েছে বলে আপনাদের মনে হয়?' (এমন কথা শ্রবণ করে) তিনি ফিরে এসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেন, দেখলেন তো?”
উসাইর বলেন, “আমি তখন মজলিসে উপস্থিত হলাম এবং (লোকদের উদ্দেশ্য করে) বললাম, তোমরা তার থেকে কী চাচ্ছ? তাকে কেন কষ্ট দিচ্ছ? লোকটি একসময় বস্ত্রহীন অবস্থায় থাকে, অন্য সময় তাকে কেউ বস্ত্র দিয়ে থাকে।” এভাবে আমি তাদের শক্ত ভাষায় কিছু কথা শুনিয়ে দিলাম।”
তারপর তিনি বলেছেন, “কুফাবাসী কিছু লোক একবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে আগমন করল। বিদ্রুপ করা হতো এমন এক ব্যক্তিও (তাদের সাথে) আগমন করল। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের মধ্যে করন গোত্রের কেউ কি আছে?' (এই কথা শুনে) সেই লোকটি এগিয়ে এল। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ رَجُلًا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ أُوَيْسٌ لَا يَدَعُ بِالْيَمَنِ غَيْرَ أُمَّ لَهُ وَقَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضُ فَدَعَا اللَّهَ فَأَذْهَبَهُ إِلَّا مِثْلَ مَوْضِعِ الدِّينَارِ أَوِ الدِّرْهَمِ، فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَأْمُرُوهُ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ
'উআইস নামে এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে তোমাদের কাছে আগমন করবে। ইয়ামানে তার মাকে ছাড়া আর কোনো কিছু সে রেখে আসবে না। তার শ্বেতরোগ ছিল। সে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিল, তখন তিনি এক স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রা সমপরিমাণ জায়গা ছাড়া অন্য সব ভালো করে দিলেন। তোমাদের মধ্য হতে যাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে তারা যেন তার কাছ থেকে ক্ষমার দুআ করিয়ে নেয়।' [১১৬]
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আপনি কোত্থেকে এসেছেন?' তিনি বললেন, 'ইয়ামান থেকে।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার নাম কী?' তিনি জানালেন, 'উআইস।' উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়ামানে আপনি কাকে রেখে এসেছেন?' তিনি বললেন, 'আমার মাকে।' তারপর জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার কি শ্বেতরোগ ছিল? আল্লাহর কাছে দুআ করার ফলে যা তিনি ভালো করে দিয়েছেন?' তিনি বললেন, 'জি হ্যাঁ।' উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমার জন্য ক্ষমার দুআ করুন।' উআইস বললেন, 'আমার মতো ব্যক্তি আপনার মতো ব্যক্তির জন্য দুআ করবে হে আমিরুল মুমিনিন!' তারপর তিনি তার জন্য দুআ করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, 'আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না হে ভাই।”
বর্ণনাকারী বলেন, “এক ব্যক্তি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, 'আমাদের মাঝে একজন ব্যক্তি আছেন হে আমিরুল মুমিনিন, যাকে উআইস বলে ডাকা হয়। আমরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে থাকি।' উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তার সাথে সাক্ষাৎ করো। তবে মনে হয় না তুমি তাকে গিয়ে পাবে।' তারপর সেই ব্যক্তি রওনা হয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছার আগেই উআইসের দেখা পেল। উআইস তাকে বললেন, 'তোমার স্বভাব তো এমন নয়। কী হয়েছে বলো?' সে জানাল, 'আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে তোমার ব্যাপারে এই এই বলতে শুনেছি। সুতরাং তুমি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো হে উআইস।' তিনি বললেন, 'আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তা করব না, যতক্ষণ না তুমি অঙ্গীকার করবে যে, ভবিষ্যতে আমাকে নিয়ে আর হাসাহাসি করবে না। আর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা শুনেছ সে বিষয়ে কাউকে জানাবে না।' তারপর তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।"
সালাতের মধ্যে শয়তানের ধোঁকা
[৭৮০] মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বলেন, “উআইস এক ব্যক্তিকে দেখল সালাত আদায় করছে কেবল উঠে আর বসে। তিনি তাকে বললেন, 'কী ব্যাপার?' সে বলল, 'আমি দাঁড়ালে শয়তান আমার কাছে এসে বলে, তুমি তো আমাকে দেখেছ। সুতরাং বসে পড়ো। তারপর আমার মন সালাতের দিকে ধাবিত হলে আমি দাঁড়িয়ে যাই। তখন শয়তান আবার আমাকে বলে, তুমি তো আমাকে দেখেছ। সুতরাং বসে পড়ো।' তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি যখন নির্জনে থাকো তখনো কি এভাবে সালাত আদায় করো?' সে বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি তাকে বললেন, 'সালাত আদায় করে যেতে থাকো।' তারপর আমি আর তাকে দেখিনি।”
তার সুপারিশে বহু লোক জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে
[৭৮১] হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, "রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَيَخْرُجَنَّ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مَا هُوَ نَبِيٌّ أَكْثَرُ مِنْ رَبِيعَةً وَمُضَرَ
'এক ব্যক্তির সুপারিশে-যিনি নবি নন-জাহান্নাম থেকে মুদার ও রবীআ গোত্রের চেয়েও বেশিসংখ্যক মানুষ বের হয়ে আসবে।” [১১৭]
হাসান বলেন, সাহাবারা বলতেন, “সেই ব্যক্তি হয়তো উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু অথবা উআইস কারনি।”
তিনি ছিলেন করন গোত্রের
[৭৮২] সাসা বুন মুআবিয়া বলেন, “উআইস ইবনু আমের কারনি ছিলেন করন গোত্রের এক ব্যক্তি। তিনি তাবিয়ি ও কুফার অধিবাসী ছিলেন। তার শ্বেতরোগ হয়েছিল। তিনি তখন আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করেছিলেন, যেন তার থেকে এই রোগ দূর করে দেন তিনি। ফলে আল্লাহ তা দূর করে দেন। তারপর দিনি দুআ করেন, হে আল্লাহ, আমার শরীরে এমন কিছু আলামত রেখে দাও, যার মাধ্যমে আমি আমাকে দেওয়া তোমার নিআমাতের কথা স্মরণ রাখতে পারি। তখন আল্লাহ তার শরীরে এমন কিছু বহাল রাখেন (সামান্য শ্বেত অংশ) যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর নিআমাতের কথা স্মরণ করতে পারেন। তিনি জামে মাসজিদে যাবার খুব পাবন্দি করতেন। তার একজন চাচাতো ভাই ছিল। সে সুলতানের সঙ্গে থাকত সব সময়। সে যখন তাকে ধনীদের সাথে দেখত তখন বলত, 'এ তো কেবল তাদের (সম্পদ) আত্মসাৎ করতে চায়।' আর যখন দরিদ্রদের সাথে দেখত তখন বলত, 'সে কেবল তাদের ধোঁকা দিতে চায়।' আর উআইস তার চাচাতো ভাইয়ের ব্যাপারে ভালো ভিন্ন অন্য কিছু বলতেন না। তিনি যখন তার পাশ দিয়ে যেতেন তখন নিজেকে আড়াল করে রাখতেন। যাতে করে তার কারণে তাকে গুনাহে লিপ্ত হতে না হয়। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফা থেকে গমনকারী দলকে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'তোমরা কি উআইস ইবনু আমের কারনিকে চেনো?' তারা বলল, 'না, চিনি না।' তারপর তার কাছে কুফা থেকে অন্য আরেকটা দল এল। যাদের মধ্যে উআইস কারনির সেই চাচাতো ভাই-ও ছিল। তিনি তাদেরও জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি উআইস ইবনু আমের কারনিকে চেনো?' তার চাচাতো ভাই উত্তর দিলো, 'সে তো আমার চাচাতো ভাই। লোক সুবিধার না সে। তার বিষয়ে আপনি তেমন কিছুই জানেন না, হে আমিরুল মুমিনিন।' উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক! তুমি যখন তার কাছে যাবে, তখন তাকে আমার সালাম পৌঁছে দিয়ো। এবং তাকে বোলো, যেন তিনি আমার কাছে আগমন করেন।'
তার চাচাতো ভাই কুফায় এসেই সফরের জামা-কাপড় পাল্টানোর আগেই উআইসের কাছে গিয়ে দেখল তিনি মাসজিদে আছেন। সে তাকে বলল, 'চাচাতো ভাই, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।' তিনি বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন হে আমার চাচার সন্তান।' এবার সে-ও বলল, 'আল্লাহ আপনাকেও ক্ষমা করুন হে উআইস ইবনু আমের। আমিরুল মুমিনিন আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।' তিনি জানতে চাইলেন, 'আমিরুল মুমিনিনকে আমার কথা কে জানাল?' সে বলল, 'তিনি আপনার কথা উল্লেখ করে আপনার কাছে সালাম পৌঁছানোর এবং তার কাছে আপনাকে আগমন করার জন্য বলতে বলেছেন।' তিনি বললেন, 'আমীরের আদেশ শিরোধার্য।' তারপর তিনি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আগমন করলেন। তার সামনে আসতেই তিনি তাকে বললেন, 'আপনিই কি উআইস ইবনু আমের কারনি?' তিনি বললেন, 'জি হ্যাঁ।' তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যার শ্বেতরোগ হয়েছিল, আর তা দূর করে দেবার দুআ করার পর আল্লাহ তা দূর করে দিয়েছিলেন, তারপর তিনি দুআ করেছিলেন এই বলে যে, হে আল্লাহ আমার শরীরে এমন কিছু আলামত রেখে দাও, যার মাধ্যমে আমি আমাকে দেওয়া তোমার নিআমাতের কথা স্মরণ রাখতে পারি? তিনি তখন তার শরীরে এমন কিছু বহাল রাখেন (সামান্য শ্বেত অংশ) যার মাধ্যমে সে তার নিআমাতের কথা স্মরণ করতে পারেন।' তিনি বললেন, 'এগুলো আপনাকে কে জানাল হে আমিরুল মুমিনিন? আল্লাহর কসম, কোনো মানুষের তো তা জানার কথা না।'
তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে, তাবিয়িদের মধ্যে করন গোত্রের এক ব্যক্তি আছে, যার নাম হলো উআইস ইবনু আমের কারনি। তার শ্বেতরোগ হবে। সে তা দূর করে দেবার দুআ করার পর আল্লাহ তা দূর করে দেবেন। তারপর সে দুআ করবে এই বলে যে, হে আল্লাহ আমার শরীরে এমন কিছু আলামত রেখে দাও, যার মাধ্যমে আমি আমাকে দেওয়া তোমার নিআমাতের কথা স্মরণ রাখতে পারি। ফলে তিনি তার শরীরে এমন কিছু রেখে দেবেন (সামান্য শ্বেত অংশ) যার মাধ্যমে সে তার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা মনে রাখতে পারবে। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার দেখা পায় আর তার মাধ্যমে নিজের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে সে যেন নিজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিয়ে নেয়। সুতরাং হে উআইস ইবনু আমের, আপনি আমার জন্য ক্ষমার দুআ করুন।' উআইস তখন বলল, 'আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। হে আমিরুল মুমিনিন'। এবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ আপনাকেও ক্ষমা করুন হে উআইস ইবনু আমের।'
যখন লোকেরা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যটি জানতে পারল তখন একেকজন বলতে লাগল, 'আমার জন্যও ক্ষমার দুআ করুন। আমার জন্যও ক্ষমার দুআ করুন হে উআইস।' যখন খুব বেশি মানুষ এমন করতে লাগল, তখন তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন। তারপর কিছুকাল পর্যন্ত তাকে আর দেখা যায়নি।”
[৭৮৩] আসবাগ ইবনে যায়দ বলেছেন, “নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে উআইসের আগমন করার পথে বাধা ছিল তার মায়ের সেবা করা।”
তার সুপারিশে অনেক মানুষ মুক্তি পাবে
[৭৮৪] হাসান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَكْثَرُ مِنْ رَبِيعَةَ وَمُضَرَ
"আমার উম্মতের এক ব্যক্তির সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুদার ও রবীআ গোত্রের চেয়েও বেশিসংখ্যক মানুষ বের হয়ে আসবে।"
হিশাম বলেন, “হাসানের সূত্রে হাওশাব আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি হলেন উআইস কারনি।”
আবূ বাকর বলেন, “আমি উআইসের গোত্রের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, কীসের কারণে তিনি (এত উচ্চ মর্যাদায়) উপনীত হলেন? তিনি বললেন, 'এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন।”
আবূ বাকর বলেন, “উআইস সিজিস্তানে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার সাথে কিছু কাফনের কাপড় পাওয়া যায়, যা আগে তার কাছে ছিল না।”
উআইস কারনির খোঁজে
[৭৮৫] হারিম ইবনু হাইয়ান আবদি বলেন, "আমি উআইস কারনির তালাশে বসরা থেকে রওনা হয়ে কুফায় আগমন করে সেথায় কিছুদিন অবস্থান করলাম। কিন্তু তার কোনো খোঁজ বা দেখা পাচ্ছিলাম না। একদিন প্রচণ্ড গরমের দিনের দুপুর বেলায় ফুরাত নদীর তীরে একজন গোধূম বর্ণের লোকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, যার দাড়ি ছিল বেশ ঘন। দেখতে অতটা সুন্দর নয়। উষ্কখুষ্ক চুল। মাথা মুণ্ডানো নয়। তার গায়ে দুইটি কাপড় ছিল। আমার ধারণা তা পশমের তৈরি। তার একটা লুঙ্গি হিসেবে অন্যটা চাদর হিসেবে (তিনি ব্যবহার করতেন)। তিনি দুইটির কোনোটিই পানি দিয়ে ধৌত করতেন না। আমার ধারণা হলো, ইনিই হয়তো সেই ব্যক্তি। আমি তার কাছে গিয়ে মাথার পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا
'আমাদের রব মহা পবিত্র। আমাদের রবের অঙ্গীকার অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।' [১১৮]
তারপর বললেন, 'কে তোমাকে আমার খোঁজ বলে দিলো?' আমি বললাম, 'আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার খোঁজ বলে দিয়েছেন।' তারপর আমি আমার হাত তার দিকে প্রসারিত করলাম। কিন্তু তিনি তার হাত বাড়ালেন না। আমি জানি না, ঠিক কোন কারণে তিনি এমনটি করলেন। এই দৃশ্য দেখে আমি কেঁদে ফেললাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি কেমন আছো, হে হারিম ইবনু হাইয়ান? কেমন আছো তুমি, হে আমার ভাই?' আমি বললাম, 'আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। কীভাবে আপনি জানলেন যে, আমি হারিম ইবনু হাইয়ান? অথচ আমরা পরস্পর কাউকে (এর আগে কখনো) দেখিনি।' তিনি বললেন, 'আমার মন তোমার মনকে চিনে নিয়েছে।'
তারপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং কেঁদে ফেললেন। আমিও তার সাথে কাঁদলাম। তারপর তিনি আমাকে বললেন, 'তোমার (আদি) পিতা আদম আলাইহিস সালাম মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। নূহ আলাইহিস সালাম মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। রহমানের বন্ধু ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। মূসা আলাইহিস সালাম মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। খলীফাতুল মুসলিমীন আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মারা গেছেন হে হারিম ইবনু হাইয়ান। আমার বন্ধু ও একান্ত দোস্ত উমার ইবনু খাত্তাবও মারা গেছেন।' আমি বললাম, 'আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, উমার তো এখনো মারা যাননি।' সেটা ছিল উমারের খেলাফতের শেষ সময়কাল। তারপর উআইস বললেন, 'আমি আর তুমিও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে আছি। যদি তুমি বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করতে হে হারিম! তোমার পিতাও মারা গেছেন। হয়তো তিনি জান্নাতে আছেন নয়তো জাহান্নামে।' আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। আপনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমাকে শোনান।' তিনি বললেন, 'আমি তার থেকে কিছু শুনিনি। তবে যারা তার থেকে শুনেছে, আমি তাদের থেকে শুনেছি।' আমি তাকে বললাম, 'আমাকেও শোনান, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন।' তিনি বললেন, 'আমি বিচারক, মুফতি বা মুহাদ্দিস হওয়ার দরজা নিজের জন্য উন্মুক্ত করাকে অপছন্দ করি। আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি।' আমি বললাম, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আমাকে কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শোনান।' তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলার বাণীই সর্বোচ্চ সত্য কথা। তার বক্তব্যই সর্বোত্তম বক্তব্য, আর তার হাদীসই সবচেয়ে বিশুদ্ধ।'
তারপর তিনি আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা দুখানের শুরু থেকে ৪২ নং আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন এবং হিক্কা তুলে একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, 'উআইস তো মারা গেছেন!' আল্লাহর যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ পর তিনি (অজ্ঞান থাকার পর) জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললেন, 'হে আমার ভাই, আমি খুব দুশ্চিন্তার ভেতরে ছিলাম। আমি ওই সকল মানুষের সাথে থাকতে পারি না। একাকিত্বই আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। আজকের পরে আমার কাছে আর কোনো আবেদন কোরো না। তোমার কথা আমার মনে থাকবে। যদি তুমি বাড়ি ফিরে যাও তবে আমার কথা স্মরণ রেখো। আমিও তোমার কথা স্মরণ রাখব।' আমি বললাম, 'আমার জন্য কিছু দুআ করুন।' তিনি বললেন, 'হে আল্লাহ, আমার এই ভাই মনে করে যে, সে তোমার খাতিরেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছে। সে তোমার জন্যই আমাকে ভালোবাসে। সুতরাং তুমি তার সবকিছুর ব্যবস্থা করে দাও এবং তাকে শান্তির নীড় জান্নাতে প্রবেশ করাও।' তারপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে তার পথ ধরলেন। আমিও কাঁদতে থাকলাম। তারপর স্বপ্নে পরস্পর দেখা হওয়া ছাড়া তার সাথে আমার আর কখনো দেখা হয়নি।”
জামাকাপড় সব সদাকা করে দেওয়া
[৭৮৬] মুগীরা বলেন, "উআইস কারনি তার জামাকাপড় সব সদাকা করে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি বস্ত্রহীন হয়ে পড়েছিলেন। জুমুআর সালাতে যাবার জন্যও কাপড় ছিল না তার।”
দাফনের পর তার কবরের চিহ্ন উধাও হয়ে যায়
[৭৮৭] আবদুল্লাহ ইবনু সালামা বলেন, "উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে আমরা আজারবাইজান অভিযানে বেরিয়েছিলাম। আমাদের সাথে উআইস কারনিও ছিলেন। আমরা যখন ফিরে আসি তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা তাকে বহন করে নিই। কিন্তু তিনি ঠিক থাকতে পারেননি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আমরা (এক জায়গায়) অবতরণ করি। সেখানে দেখি কবর খোঁড়া আছে। পানি ভরা আছে। কাফনের কাপড় এবং সুগন্ধি প্রস্তুত আছে। আমরা তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরালাম। তার জানাযার সালাত আদায় করে তাকে দাফন করলাম। আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, 'যদি আমরা ফিরে গিয়ে তার কবরের (জায়গাটা অন্যদের) চিনিয়ে দিই, তাহলে তার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারব। এরপর ফিরে গিয়ে দেখি সেখানে কোনো কবর বা কবরের চিহ্নও নেই।”
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর তাকে খোঁজা
[৭৮৮] উসাইর ইবনু জাবের বলেন, “উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে যখন ইয়ামান থেকে কোনো দল আসত তিনি তাদের জিজ্ঞেস করতেন, 'তোমাদের মধ্যে উআইস ইবনু আমের কারনি নামে কেউ আছে?' অবশেষে তিনি উআইস কারনির দেখা পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি উআইস ইবনু আমের কারনি?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি জানতে চাইলেন, 'আপনি মুরাদ গোত্রের করন শাখার লোক?' তিনি বললেন, 'জি হ্যাঁ।' তিনি পুনরায় জানতে চাইলেন, 'আপনার শ্বেতরোগ ছিল। তারপর এক রৌপ্যমুদ্রা সমপরিমাণ জায়গা ছাড়া বাকি শ্বেতরোগ ভালো হয়ে যায়?' তিনি বললেন, 'জি হ্যাঁ।' তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার মা কি আছেন?' তিনি বললেন, 'জি হ্যাঁ।' এবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি,
يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ مُرَادٍ ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ كَانَ بِهِ بَرَضٌ فَبَرَأَ مِنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ دِرْهَمٍ، لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرُّ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَلْ
'ইয়ামানবাসীর সাথে মুরাদ গোত্রের করন শাখার উআইস বিন আমির নামক এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আগমন করবে। তার শ্বেতরোগ ছিল। এক রৌপ্যমুদ্রা সমপরিমাণ জায়গা ছাড়া বাকিটুকু ভালো হয়ে যায়। তার মায়ের সেবায় সে নিয়োজিত আছে। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে তবে তিনি তা পূর্ণ করেন। যদি তোমার নিজের জন্য তাকে দিয়ে ক্ষমার দুআ করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তা করিয়ে নিয়ো। [১১৯]
সুতরাং আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' তখন তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কোথায় যেতে চাচ্ছেন?' তিনি বললেন, 'কুফায় যেতে চাচ্ছি।' উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে প্রস্তাব করলেন, 'আমি কি আপনার জন্য কুফার গভর্নরের কাছে লিখে দিতে পারি না, যাতে তিনি আপনার প্রতি খেয়াল রাখেন?' উআইস উত্তর দিলেন, 'সাধারণ মানুষের কাতারে থাকা আমি বেশি পছন্দ করি।'
পরের বছর তাদের (গোত্রের) সম্ভ্রান্ত এক লোক হাজ্জ করতে এলে উমারের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। তিনি তখন তাকে উআইসের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাকে কেমন দেখে এসেছে। সে জানাল, 'জীর্ণশীর্ণ ঘরে, সামান্য আসবাব নিয়ে তিনি থাকেন।' তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ইয়ামানবাসীর সাথে মুরাদ গোত্রের করন শাখার উআইস নামক এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আগমন করবে। তার শ্বেতরোগ ছিল। এক রৌপ্যমুদ্রা সমপরিমাণ জায়গা ছাড়া বাকিটুকু ভালো হয়ে যায়। তার মায়ের সেবায় সে নিয়োজিত আছে। যদি সে আল্লাহর নামে কসম করে তবে তিনি তা পূর্ণ করেন। যদি তোমার নিজের জন্য তাকে দিয়ে ক্ষমার দুআ করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তা করিয়ে নিয়ো।' সেই ব্যক্তি কুফায় ফিরে যাওয়ার পর উআইসের কাছে এসে বলল, 'আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' তিনি বললেন, 'আপনি মাত্র একটি সুন্দর সফর শেষ করে এসেছেন। আপনিই আমার জন্য ক্ষমার প্রার্থনা করুন। আপনার সাথে কি উমারের দেখা হয়েছে?' সে বলল, 'হ্যাঁ, হয়েছে।' তারপর তিনি তার জন্য ক্ষমার প্রার্থনা করলেন। লোকজন (এই বিষয়টি জেনে) তার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠল। তিনি তখন নিজের মতো (সেখান থেকে) চলে গেলেন।”
উসাইর বলেন, "আমি তাকে একটি চাদর দিয়েছিলাম। যখন কোনো মানুষ তার গায়ে সেটা দেখত, জিজ্ঞেস করত—এই চাদর উআইস কোথায় পেয়েছে?”
লোকদের সহায়তায় তিনি হাজ্জে যান
[৭৮৯] আতা খোরাসানি বলেন, “লোকেরা হাজ্জের আলোচনা করছিল। তখন তারা উআইসকে জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কি হাজ্জ করেননি?' তিনি বললেন, 'না, করিনি।' তারা জানতে চাইল, 'কেন করলেন না?' তিনি চুপ করে রইলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, 'আমার কাছে বাহন আছে।' অন্যজন বলল, 'আমার কাছে খরচপাতি আছে।' অন্য আরেকজন বলল, 'আমার কাছে পথখরচ আছে।' তিনি তখন তাদের থেকে সেগুলো গ্রহণ করে হাজ্জ করতে আসেন।”
টিকাঃ
[১১৫] হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/৭৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৭৬
[১১৬] সহীহ, মুসলিম : ৬৩৭; মুস্তাদরাক হাকিম, ৩/৪৫৬
[১১৭] মুরসাল, অবশ্য তিরমিযিতে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সুপারিশের বিষয়ে বলা হয়েছে। (সুনান তিরমিযি: ২৪৩৯)
[১১৮] সূরা ইসরা, ১৭: ১০৮
[১১৯] সহীহ। এর তাহকীক পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।