📄 মুআররিফ ইজলি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
মুমিনের দৃষ্টান্ত
[৫৩৮] কাতাদা বলেন, “মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'মুমিনের দৃষ্টান্তরূপে আমি কেবল সে ব্যক্তিকেই দেখতে পেয়েছি, যে সমুদ্রপৃষ্ঠে ভাসমান কাষ্ঠখণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং (এই অসহায় অবস্থায়) দুআ করছে—হে আমার রব, হে আমার রব; যেন তিনি তাকে উদ্ধার করেন।”
ক্রোধান্বিত অবস্থায় বলা কথার জন্য লজ্জিত হওয়া
[৫৩৯] হিশাম থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি ক্রোধান্বিত অবস্থায় যা-ই বলেছি, পরে ক্রোধ নির্বাপিত হলে তার জন্য লজ্জিত হয়েছি।”
অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা
[৫৪০] মুয়াল্লা ইবনু জিয়াদ থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি বিশ বছর ধরে একটি জিনিসের তালাশে আছি। কিন্তু এখনো তা লাভ করতে সক্ষম হইনি। আমি কখনোই তা তালাশ করা পরিহার করব না।” লোকেরা জানতে চাইল, “কী সেটা হে আবুল মু'তামির?” তিনি বললেন, “অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা।”
আল্লাহর আনুগত্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির দৃষ্টান্ত
[৫৪১] আবূ তাইয়া থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করে, তখন যে ব্যক্তি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে তার দৃষ্টান্ত হলো-পলায়ন করার পর ফিরে আসা ব্যক্তির ন্যায়।”
টানা সাত দিন সাওম রাখা
[৫৪২] সুলাইমান রবাঈ বলেন, “আবুল হাওরা একটানা সাত দিন সাওম রাখতেন। (তবুও তিনি দুর্বল হতেন না। তার অবস্থা এমন ছিল যে,) তারপর কোনো যুবকের হাতের কবজি ধরলে মনে হতো যে, তা এখনই মচকে যাবে।”
স্ত্রী ও সন্তান পরীক্ষার বস্তু
[৫৪৩] হাফসা বিনতে সিরীন বলেন, “মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ আমাদের সাক্ষাতে এলে সালাম দিতেন। আমি তার সালামের উত্তর দিতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আপনি কেমন আছেন হে আবুল মু'তামির? আপনার স্ত্রী ও সন্তান কেমন আছে?' তিনি বললেন, 'তারা ভালো আছে।' আমি তাকে বললাম, 'আপনি রবের প্রশংসা করুন।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমার তো আশঙ্কা হয় যে, তারা আমাকে ধ্বংসের ভেতর আটকে রাখবে।”
📄 মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
রাত্রি জাগরণ করা
[৫৪8] হিশাম বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য। যদিও বকরির দুধ (দোহন সময়) পরিমাণ হয়।”
লজ্জাবোধ
[৫৪৫] হাফসা বিনতে সিরীন বলেন, “যখন মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ তার মায়ের কাছে আসতেন—তখন লজ্জাবোধের কারণে—মুখ দিয়ে তার সাথে পুরো কথা বলতে পারতেন না।”
মঙ্গল কামনা করা
[৫৪৬] হাবীব থেকে বর্ণিত, ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যখন আল্লাহ কোনো বান্দার মঙ্গল করতে ইচ্ছা করেন, তখন তার অন্তরে উপদেশদাতার উদ্ভব ঘটান। সে তাকে (সৎ কাজের) আদেশ দেয় এবং (অসৎ কাজ থেকে) বারণ করে।”
মায়ের সামনে বিনয়
[৫৪৭] ইবনে আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, মুহাম্মাদের কাছে এক ব্যক্তি আগমন করল। তখন তিনি তার মায়ের কাছে ছিলেন। সে লোকটি বলল, 'মুহাম্মাদের কী হয়েছে! তিনি কি কোনো কিছুর অভিযোগ করছেন?' লোকেরা জানাল, 'না। তিনি যখন তার মায়ের কাছে থাকেন, তখন এরূপই থাকেন।”
দাওয়াত কবুল না করা
[৫৪৮] হিশাম বলেন, “মুহাল্লাবের কন্যা হিন্দ একদিন হাসান রাহিমাহুল্লাহ ও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে খাবারের দাওয়াত করল। হাসান তা কবুল করলেও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ করেননি।”
অপছন্দীয় বস্তুর মাধ্যমে সম্মান না দেখানো
[৫৪৯] আইয়ুব থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, “তোমার ভাই যা অপছন্দ করে, তার মাধ্যমে তাকে সম্মান দেখাতে যেয়ো না।"
[৫৫০] ইবনু আওন বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'লোকেরা বলত, তুমি তোমার বন্ধুকে এমন কিছুর মাধ্যমে সম্মান দেখাতে যেয়ো না, যা তার কাছে কষ্টকর মনে হয়।"
খাবার-দাবারের ব্যবসা
[৫৫১] ইবনু উআইনার আযাদকৃত দাস ওয়াসেল থেকে বর্ণিত, ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, "তোমার ব্যবসা কী?” আমি বললাম, “খাবার-দাবারের।” তিনি বললেন, "শুনে রাখো, এর ধুলোবালি অনেক!” আবু জাফর বলেন, “আমি মাখলাদকে জিজ্ঞেস করেছি—তিনি কি এর দ্বারা পাপের প্রতি ইঙ্গিত করলেন? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।”
কোনো আলেম তার ব্যাপারে কোনো মতভেদ করেনি
[৫৫২] সারীই বলেন, "আমি সুলাইমান তাইমিকে বলতে শুনেছি, তিনি তাকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছেন যে, কোনো আলেম তার ব্যাপারে কোনো মতভেদ করেনি।”
প্রথমে বিবাদ শুরুকারী ব্যক্তি
[৫৫৩] ইবনু আওন বলেন, "ইবনু সিরীনকে এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যারা পরস্পর বন্ধু ছিল। অতঃপর তারা নিজেদের মধ্যকার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে। উত্তরে তিনি বললেন, 'তাদের মধ্যে প্রথম বিবাদকারী হলো মন্দ।”
রমাদান মাসে রাত্রি জাগরণ
[৫৫৪] হিশাম বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ রমাদান মাসে রাত্রি জাগরণ করতেন।”
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যটা গ্রহণ করা
[৫৫৫] রজা ইবনু আবূ সালামাহ বলেন, "আমি ইউনুস ইবনু আবদকে হাসান ও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, 'আমি হাসানের চেয়ে বেশি কথায় কাজে মিল আছে এমন কাউকে দেখিনি। আর ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর সামনে যদি দ্বীনের দুটি বিষয় একসাথে উপস্থাপিত হতো, তবে তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যটা গ্রহণ করতেন।"
কাযা আদায় করা
[৫৫৬] ইবনু আওন বলেন, “যখন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন তখন তিনি তার ছেলেকে বললেন, 'হে আমার সন্তান, আমার পক্ষ থেকে কাযা আদায় করো। আমার পক্ষ থেকে কেবল অঙ্গীকারের কাযা আদায় করো।' সে জিজ্ঞেস করল, 'বাবা, আমি কি আপনার পক্ষ থেকে (গোলাম) আযাদ করব?' তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে ও তোমাকে তোমার সম্পাদন করা ভালো কাজের প্রতিদান দিতে সক্ষম।”
দ্বিপ্রহরের সময় যিকর
[৫৫৭] মূসা ইবনু মুগীরা বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে দ্বিপ্রহরের সময় বাজারে প্রবেশ করতে দেখেছি। তখন তিনি তাকবীর ও তাসবীহ পড়ছিলেন এবং আল্লাহর যিকর করছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, 'হে আবূ বাকর, এই সময়েও (আপনি ইবাদাত করছেন)?' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটি হলো গাফলতের সময়। (তাই আমি একে ইবাদাতের মাধ্যমে কাজে লাগাচ্ছি)।”
এক দিন অন্তর অন্তর সাওম রাখা
[৫৫৮] ইবনু শাওযাব বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ এক দিন সাওম রাখতেন আরেক দিন রাখতেন না। যেদিন তিনি সাওম রাখতেন না, সেদিন শুধু সকালে খেতেন; সন্ধ্যায় খেতেন না। তারপর সাহরি খেয়ে (পরের দিন) সকালে সাওম রাখতেন।”
আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ
[৫৫৯] ইবনু আওন বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করো। স্বপ্নে কী দেখেছ, সেটার প্রতি তেমন ভ্রূক্ষেপ কোরো না।”
রাতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা
[৫৬০] হিশাম ইবনু হাসসানের স্ত্রী উম্মু আব্বাদ বলেছেন, "আমরা মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর ঘরে মেহমান হয়ে অবস্থান করেছিলাম। রাতের বেলায় তার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতাম (অর্থাৎ দিনের বেলায় তিনি হাসিখুশি থাকতেন, আর রাতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতেন)।”
ইমামতি করতে অস্বীকৃতি
[৫৬১] ইবনু আওন বলেন, “আমরা একটি জামাআতে ছিলাম। সালাতের সময় হলে ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ ঘোষণা করলেন-কুরআন সংকলকগণ ব্যতীত অন্য কেউ যেন আমাদের কাছে না আসে। (এমন ঘোষণা দেওয়ার কারণ হলো) সেখানে আমাদের সাথে কুরআন সংকলনকারীরাও ছিলেন। অতঃপর সালাত শেষ হলে আমি তাকে বললাম, 'কেন আপনি আমাদের ইমামতি করলেন না?' তিনি উত্তরে বললেন, 'এটা আমার পছন্দ না যে, লোকেরা (সালাত শেষে) চলে যাওয়ার পর বলবে, ইবনু সিরীন আমাদের ইমামতি করেছেন।”
আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রাখা
[৫৬২] জাফর বলেন, "আমি সাবেত বুনানি রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, একজন অপকর্মকারী যুবককে তার মা উপদেশ দিয়ে বলতেন, 'হে আমার সন্তান, তোমার এক দিন (অর্থাৎ মৃত্যুর দিন) আসবে। সেদিনের কথা স্মরণ করো।' তো যখন (মৃত্যু বিষয়ে) আল্লাহর আদেশ এসে গেল, তখন তার মা তার ওপর ঝুঁকে পড়ে বললেন, 'হে আমার প্রিয় সন্তান, তোমাকে আমি এই মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করে বলতাম, তোমার এক দিন (অর্থাৎ মৃত্যুর দিন) আসবে। সেদিনের কথা স্মরণ করো।' সে বলল, 'মা, আমার একজন প্রভু আছে। তিনি অসংখ্য দয়ার অধিকারী। আশা করি তিনি আমাকে আজ তার সামান্য দয়া থেকে মাহরুম করবেন না। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।' এভাবেই আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রেখেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।”
খানাপিনায় বিলাসিতা না করা
[৫৬৩] হিশাম ইবনু হাসসান বলেন, "ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে যখন বিবাহের দাওয়াত দেওয়া হতো, তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করে বলতেন, 'আমাকে ছাতুর শরবত পান করাও।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'হে আবূ আমর, আপনি তো বিবাহের দাওয়াতে যাবেন। তো ছাতুর শরবত পান করছেন কেন?' তিনি উত্তরে বলতেন, 'আমি আমার ক্ষুধার নিবারণ মানুষের খাদ্য দিয়ে করতে অপছন্দ করি।”
মৃত্যুর কথা শুনে মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া
[৫৬৪] ইবনু যুহাইর বলেন, "ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর সামনে যখন মৃত্যুর কথা আলোচনা করা হতো, তখন তার প্রত্যেকটি অঙ্গ ভিন্ন ভিন্নভাবে মৃতপ্রায় (নিস্তেজ) হয়ে পড়ত।"
কজন মহান ব্যক্তি
[৫৬৫] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, "স্বীয় যুগে সবচেয়ে জ্ঞানী হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে যদি কেউ দেখে আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন হাসান রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। তার থেকে বেশি জ্ঞানী কাউকে আমরা দেখিনি। এমনিভাবে স্বীয় যুগে সবচেয়ে পরহেজগার হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে যদি কেউ দেখে আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। গুনাহের ভয়ে তিনি অনেক হালাল জিনিস থেকেও বেঁচে থাকতেন। এমনিভাবে স্বীয় যুগে সবচেয়ে বেশি ইবাদাতগুজার হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে দেখে যদি কেউ আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন সাবেত বুনানি রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। তার চেয়ে বেশি ইবাদাতগুজার কাউকে আমরা পাইনি। তিনি প্রচণ্ড গরমের দিন কাটাতেন সাওম রেখে। আর বাকি সময় (রাত) কাটাতেন সাজদায় পড়ে থেকে। আর স্বীয় যুগে সবচেয়ে মুখস্থ-শক্তির অধিকারী এবং যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই হাদীস বর্ণনাতে সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে দেখে যদি কেউ আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়।”
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জানাযা যিনি পড়িয়েছিলেন
[৫৬৬] হিশাম বলেন, “আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু ওসিয়ত করেছিলেন, যেন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ তাকে গোসল দেন। তো যখন তিনি মারা গেলেন, তখন মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে লোক পাঠিয়ে সংবাদটি জানানো হলে তিনি বললেন, ‘আমি তো কারাগারে বন্দী।’ লোকেরা বলল, ‘আমরা আমীরের কাছে অনুমতি চেয়েছি। তিনি আপনারকে (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘আমীর তো আমাকে বন্দী করেনি। আমার ওপর যার হক আছে, তিনি আমাকে বন্দী করেছেন।’ তারপর তার ওপর যার হক রয়েছে তার কাছে সংবাদ পাঠানো হলে তিনি অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বের হয়ে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে গোসল দিলেন। পাঁচটি কাপড় দিয়ে কাফন পরালেন। যার মধ্যে একটা ছিল পাগড়ি। আর মাথা থেকে পা পর্যন্ত মিশক লাগিয়ে দিলেন।”
কল্যাণের ইচ্ছা করলে আল্লাহ সহায়ক হন
[৫৬৭] ইবনু আওন থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “বলা হয়ে থাকে— নিশ্চয়ই মানুষ যখন কল্যাণের সংকল্প করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য হুঁশিয়ারকারী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যে তাকে ভালো কাজের আদেশ দেয়, আর মন্দ কাজ থেকে বারণ করে থাকে।”
সাহাবিরা দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতেন
[৫৬৮] মাহদি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "আমাদের একজন ভগ্নিপুত্রের বিয়ে হলে খাবারের আয়োজন করা হলো। ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ তখন বললেন, 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিরা দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতেন। তারপর যখন সামান্য কোনো চামড়া পেতেন তখন (খাবারের জন্য) সেটাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। আর যদি (কোনো কিছুই) না পেতেন, তখন পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন।”
আমল কবুল করে নেওয়ার দুআ করলেন
[৫৬৯] জারীরি বলেন, “আমরা মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে ছিলাম। যখন উঠে যাবার ইচ্ছা করলাম তখন বললাম, 'হে আবূ বাকর, দাওয়াত রইল।' তিনি তখন বললেন, 'হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সর্বোত্তম আমল কবুল করে নিন। এবং জান্নাতের অধিবাসীদের সাথে যে সত্য অঙ্গীকার করা হতো, আমাদের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করুন।”
ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর পিছু নেওয়া
[৫৭০] হিশাম বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ যখন হাঁটতেন, তখন পেছনের দিকে তাকাতেন না। একবার ঈদের দিন আমি সকালে বের হলাম তাকে অনুসরণ করে এটা দেখার জন্য যে, তিনি পথে এবং ঈদগাহে কী করেন। মনে হলো তিনি কোনো সমস্যায় পড়েছেন। তাই তিনি সাধারণত যে সময়ে বের হন (সে সময়ে বের না হয়ে) দেরি করছেন। আমিও তার বের হওয়ার (অপেক্ষায়) দেরি করলাম। অনেকক্ষণ দেরি করার পর তিনি বের হলেন। চলা শুরু করার পর আমি তার পিছু নিলাম। তিনি পেছনে ফিরে আমাকে দেখে বললেন, 'যদি তুমি চোর হও তবে খুবই খারাপ মানুষ তুমি। যদি আমি জানতাম এটা আমার ও তোমার জন্য কল্যাণকর, তাহলে আমি ভ্রুক্ষেপ করতাম না।”
পিতার মৃত্যুতে সান্ত্বনা দেওয়া
[৫৭১] সাহল ইবনু আসলাম আল-আদাবি বলেন, "আমাকে আওফ আল-আরাবি আমার পিতার (মৃত্যুতে) সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 'জেনে রেখো, এই বিচ্ছেদের পর পুনরায় মিলন হবে। যদি তুমি তোমার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারো এমতাবস্থায় যে, তুমি লজ্জাবোধ করবে না, তাহলে তা-ই করো। যদি তার কোনো ওসিয়ত থাকে, তা বাস্তবায়ন করো। আমানত থাকলে তা আদায় করো। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করো। আত্মীয়-স্বজন থাকলে সম্পর্ক রক্ষা করো। জেনে রাখো, সেই মিলনের পর আবার বিচ্ছেদ আসবে। তার পর আবার এমন মিলন আসবে, যার পর আর কোনো বিচ্ছেদ নেই। অথবা এমন বিচ্ছেদ আসবে, যার পর আর কোনো মিলন নেই।”
জানা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা
[৫৭২] সাঈদ ইবনু আমের বলেন, “আওফ আল-আরাবি তার সঙ্গীদের বলতেন, ‘শুনে রাখো, আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের অজ্ঞতার কারণে কিছু শিক্ষা দিয়েছি, ব্যাপারটা এমন নয়। বরং আমরা তোমাদের সাথে তোমাদের জানা বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করলাম। যাতে করে এর দ্বারা আল্লাহা তাআলা তোমাদের উপকৃত করেন।”
নিআমাত
[৫৭৩] আবদুল্লাহ ইবনু হাসান সালেহ আল-মুররির কাছে তার মায়ের মৃত্যুতে সান্ত্বনা দিতে এলে তিনি তাকে বললেন, “যদি এই মুসিবত আপনার নিজের জন্য উপদেশস্বরূপ ঘটে থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য এক ধরনের নিআমাতই। অন্যথায় জেনে রাখুন, আপনার নিজের ক্ষেত্রে ঘটিতব্য মুসিবতটা আরও মারাত্মক।”
নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া
[৫৭৪] আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, “দুনিয়াতে যে মানুষই আমার সাথে বিদ্বেষ রাখবে, পরকালে আমি তার থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেব।”
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর জন্য দুঃখবোধ করা
[৫৭৫] উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদ বলেন, “আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি আগমন করলে উবাইদ ইবনু উমায়ের তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি মানুষকে তার জন্য কেমন পাগলপারা দেখেছ?' সে বলল, 'আল্লাহর কসম, তারা প্রচণ্ড পাগলপারা ছিল।' উবাইদ ইবনু উমায়ের বলেন, 'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর জন্য তারাই দুঃখবোধ করবেন, তিনি যাদের মাতা ছিলেন।”
কাপড় ও এক জোড়া জুতার মূল্য নির্ধারণ
[৫৭৬] ফদল ইবনু আতিইয়্যা বলেন, “আমি সালিম ইবনু আবদুল্লাহর কাছে বসেছি। তার কাপড় ও এক জোড়া জুতা তেরো দিরহাম বা পনেরো দিরহাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"
সর্বোত্তম দ্বীনদারি
[৫৭৭] উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দ্বীনদারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোনটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, 'সরল-সঠিক, সাদাসিধে দ্বীনদারি।”
সদাকা বৃদ্ধি পায়
[৫৭৮] কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সদাকা কবুল করেন। তিনি তা ডানহাতে কবুল করেন। তিনি কেবল হালালটাই কবুল করেন। তিনি খাবারের গ্রাসকে যত্ন করেন, যেভাবে তোমাদের কেউ তার উটের বাচ্চা বা ঘোড়ার বাচ্চার যত্ন নেয়। অবশেষে সেই খাবারের গ্রাস তার মালিকের জন্য ওহুদ পাহাড়ের মতো হয়ে যায়।”
বর্ণনাকারী বলেন, “আমি এই ব্যাপারে আবদুর রহমান ইবনু কাসিমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, 'এই বিষয়ে কাসিম কিছু জানে না।”
সর্বোত্তম সদাকা
[৫৭৯] আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, أَتَدْرُونَ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ "তোমরা কি জানো, কোন সদাকা সর্বোত্তম?”
সাহাবিরা বলল, “আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বললেন, الْمِنْحَةُ أَنْ يَمْنَحَ أَخَاهُ دَرَاهِمَ أَوْ ظَهْرَ الدَّابَّةِ أَوْ لَبَنَ الشَّاةِ أَوْ لَبَنَ الْبَقَرَةِ “স্বীয় ভাইকে দিরহাম, বাহন বা বকরির দুধ অথবা গাভির দুধ প্রদান করা।”[৭৫]
কুরআন তিলাওয়াতের ফায়দা
[৫৮০] আবুল বুখতারি থেকে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "তোমরা কুরআন শিক্ষা করো এবং তা তিলাওয়াত করো। কারণ, প্রত্যেক হরফের বিনিময়ে তোমরা দশ করে নেকি পাবে। আমি কিন্তু বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলিয়ে দশ নেকি। বরং আলিফে দশ, লামে দশ ও মীমে দশ।”
গোপনে নিমন্ত্রণ উত্তম
[৫৮১] উকবা ইবনু আবদুল গাফির বলেন, “গোপনে নিমন্ত্রণ করা সত্তরবার প্রকাশ্যে নিমন্ত্রণ জানানো থেকে উত্তম। যখন কোনো বান্দা প্রকাশ্যে কোনো উত্তম আমল করে এবং গোপনেও অনুরূপ আমল করে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন-এ-ই হলো আমার সত্যিকার বান্দা।”
জামাতে ঈশা ও ফজরের সালাত আদায় করার ফযীলত
[৫৮২] উকবা ইবনু আবদুল গাফির থেকে বর্ণিত, “জামাতে ঈশার সালাত আদায় করা হাজ্জের মতো (সওয়াবের কারণ)। এবং ফজরের সালাত জামাতে আদায় করা উমরার মতো (সওয়াবের কারণ)।”
প্রতিবেশীর গীবতে লিপ্ত হওয়ার ভয় করা
[৫৮৩] সুফিয়ান বলেন, “এক ব্যক্তি বলত, আমি নতুন কাপড় পরিধান করা অপছন্দ করি। কারণ, এতে আমার প্রতিবেশী আমাকে দেখে গীবতে লিপ্ত হয়ে গুনাহে জড়িয়ে পড়ে।”
ইয়াকীন ও ঈমানের বর্ণনা
[৫৮৪] আবু জাফর বলেছেন, “ইয়াকীন হলো ঝুঁকিপূর্ণ আর ঈমান হলো অন্তরে স্থিত।”
আয়াতের ব্যাখ্যা
[৫৮৫] আমের আল-আহওয়াল বলেন, وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا “আমি তাদের মাঝে ধ্বংসস্থান বানিয়েছি।”[৭৬] এই আয়াতের ব্যখ্যায় নাওফ বলেছেন, "এটি হলো পথভ্রষ্টদল ও মুমিনদের মধ্যকার একটি উপত্যকা।”
[৫৮৬] সাঈদ ইবনু জুবায়ের وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا “আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য বন্দীশালা বানিয়েছি।”[৭৭] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “(এর দ্বারা উদ্দেশ্য) কারাগার।”
পুঁজ ও রক্তে তৈরি জাহান্নামের নদী
[৫৮৭] আবুল আলা বলেন, আমি আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি, তাকে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا
“আমি তাদের মাঝে ধ্বংসস্থান বানিয়েছি।”[৭৮]
তিনি বলেছিলেন, “এটি পুঁজ ও রক্তে তৈরি জাহান্নামের একটি নদী।”
পৃথিবীর ডানা হলো মিসর ও বসরা
[৫৮৮] আবূ ইমরান জাওনি ও আবূ হারুন আবদি বলেন, "আমরা নাওফকে বলতে শুনেছি, দুনিয়াকে পাখির মতো করা হয়েছে। যখন তার ডানা কেটে যায়, সে পড়ে যায়। আর পৃথিবীর ডানা হলো মিসর ও বসরা। যখন এই দুই অঞ্চল ধ্বংস হবে তখন দুনিয়া বিনষ্ট হয়ে যাবে।”
আখিরাতে জামিনদার হওয়ার ঘোষণা
[৫৮৯] ওয়াসেল বলেন, "কতক সালাফ বলেছেন, যদি তোমাদের কোনো স্তুতিকারী না থাকে, তবে আমি আখিরাতে তোমাদের জন্য জামিনদার হব।”
জাহান্নামের একজন ফেরেশতার বর্ণনা
[৫৯০] আবূ ইমরান জাওনি বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যে, মালিক নামক জাহান্নামের একজন ফেরেশতার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী জায়গার দূরত্ব এক শরৎকালের পথ। সে একজন জাহান্নামীকে প্রহার করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেবে।"
এক আবেদের পত্র
[৫৯১] মালিক ইবনু দীনার বলেন, “এক আবেদ আরেক আবেদের কাছে পত্র লিখল- পরসমাচার হলো, আপনি কেমন আছেন এবং আপনার অবস্থা কী? তিনি তার জবাবে লিখলেন-তোমার নিজের অবস্থা কী? তোমাকে আমার অবস্থা (সম্পর্কে জানা থেকে) বিরত রাখেনি!”
[৫৯২] আবদুল্লাহ বলেন, "আমি আমার পিতাকে এটি পড়ে শুনিয়েছি। তিনি তা সমর্থন করেছেন।"
সাওম রাখতে উৎসাহ প্রদান
[৫৯৩] সাবিত থেকে বর্ণিত, "আসআস বলতেন, চলো আমরা আমাদের দিনকে কাগজে পরিণত করব। অর্থাৎ এমন কাগজ, যা পানাহার করে না। (সাওম রাখার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন)।"
আল্লাহভীরু হতে অলসতা না করা
[৫৯৪] ইবনু আওন থেকে বর্ণিত, ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহভীরু হতে অলসতা কোরো না। সৎকর্মশীল হতে অলসতা কোরো না।”
আমি আইয়ুবের কাছে তা বর্ণনা করেছি। তিনি বলেছেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইরকে বলতে শুনেছি:
وَ لِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ
'তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেওয়া পরহেজগারদের কর্তব্য'।[৭৯]
مَّتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ
'যে খরচ প্রচলিত আছে তা সৎকর্মশীলদের ওপর দায়িত্ব।'[৮০]
তিনি (এর ব্যাখ্যায়) বলেছেন, "প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তার জন্যই খরচ রয়েছে।"
ভালোবাসার লোকদের কাছে কম সময় অবস্থান করা
[৫৯৫] আবূ মুআবিয়া গলাবি বলেন, "আমার কাছে কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনু উবাইদ একটি জানাযা থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে হাসান তাকে পেছন থেকে আবূ আবদুল্লাহ, আবূ আবদুল্লাহ বলে ডাক দেন। তখন তিনি তার দিকে ফিরে বললেন, 'যদি তুমি এমন লোকদের কাছে আসো, যারা তোমাকে ভালোবাসে এবং তুমিও তাদের ভালোবাসো, তাহলে তাদের কাছে খুব কম সময়ই অবস্থান করো'।”
বিগত জাতির চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেওয়া
[৫৯৬] আবূ মুআবিয়া বলেন, "আমাকে বসরা শহরের এক ব্যক্তি বলেছেন, হাসান রাহিমাহুল্লাহ-এর একটি ঘর ছিল। যার দরজা খোলা থাকার মানে হলো (ভেতরে প্রবেশের) অনুমতি আছে। তার সঙ্গীদের মধ্য হতে কেউ এসে দরজা খোলা পেলে প্রবেশ করতেন। তো এক ব্যক্তি এসে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে হাসানকে দেখতে পেল না। সে খাটের নিচে একটা ঝুড়ি দেখতে পেয়ে তা টেনে বের করে আনল। সেখানে খাবার রাখা ছিল। সে তা খেতে শুরু করল। ইতোমধ্যে হাসান এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কাণ্ডকারখানা দেখতে লাগল। একপর্যায়ে তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। তিনি কাঁদা শুরু করলেন। সে ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, 'হে আবু সাঈদ, আপনি কাঁদছেন কেন?' তিনি বললেন, 'তুমি আমাকে গত হয়ে যাওয়া জাতির চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দিলে!"
সুখের সময়ে দুআ করার সুফল
[৫৯৭] সালমান বলেন, “যখন মানুষ সুখের কালে দুআ করে অতঃপর সে কোনো বিপদে আক্রান্ত হয় এবং (তখনো) দুআ করে তখন ফেরেশতারা বলে, আওয়াজটা পরিচিত। তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর যখন সে সুখের সময়ে দুআ করে না এবং পরবর্তী সময় বিপদে আক্রান্ত হলে দুআ করে তখন ফেরেশতারা বলে, আওয়াজটা অপরিচিত। এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করে না।”
যিকর করার ফায়দা
[৫৯৮] সাবিত বলেন, "আমরা আবূ উসমান আন-নাহদির পাশে বসা ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে ছিলেন এবং দুআ করছিলেন। এরপর বললেন, 'আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।' অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, 'যদি আমরা সত্যবাদী হয়ে থাকি।”
তারা সকলেই কাঁদল
[৫৯৯] আবূ ইমরান আল-জাওনি বলেন, "আমরা মাসজিদে অবস্থান করছিলাম। ইতোমধ্যে জনৈক বৃদ্ধ এলেন। তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ, হে মাসজিদে অবস্থানকারীরা! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমেই জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের পূর্ণ করবেন।' এ কথা শুনে আমরা সকলেই কাঁদলাম।”
আবু মুসলিম খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ-এর উপদেশ
[৬০০] উবায়দুল্লাহ ইবনু আবী শুমাইত তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, “আবূ মুসলিম খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ ঘুরে ঘুরে ইসলামের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। একসময় তিনি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এলেন। তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠান। আসার পর তাঁকে বললেন, 'তোমার নাম কী?' তিনি বললেন, 'মুআবিয়া।' তিনি বললেন, 'তুমি একজন ক্ষুদ্র সৃষ্টি, যে অতিসত্বর কবরে যাবে। তুমি ভালো আর মন্দ যে কাজই করো, প্রতিদান দেওয়া হবে। হে মুআবিয়া, যদি তুমি গোটা পৃথিবীবাসীর সাথে ন্যায় আচরণ করো এবং একজনের সাথে অন্যায় আচরণ করো, তবে অন্যায়ের সামনে ন্যায়ের কোনো প্রভাব থাকবে না।”
সর্বাপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক বস্তু
[৬০১] জাফর বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসিকে বলতে শুনেছি, জগতের সর্বাপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক বস্তু হচ্ছে জামাতে সালাত আদায় ও ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ।”
সম্পদ দান করে দেওয়া
[৬০২] জাফর ইবনু সুলাইমান বলেন, “আমাদের একজন সঙ্গী আমাদের বলেছেন, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ ব্যবসা করে অর্থসম্পদ লাভ করতেন। কিন্তু এমন কোনো শুক্রবার আসত না, যেদিন তার নিকট সেসব মালের কিছু বাকি থাকত। সাক্ষাৎ হওয়ামাত্রই তিনি তার ভাইদের চার শ, পাঁচ শ, তিন শ দিরহাম পরিমাণ দিয়ে দিতেন। অতঃপর তাদের কাছে বলতেন, এগুলো রেখে দাও। আমাদের প্রয়োজন হলে ফেরত নেব। এরপর যখন তাদের সাথে দেখা হতো বলতেন, ওটা রেখে দাও। কাউকে বলতেন, আমার এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। আরও বলতেন, আল্লাহর শপথ, আমি এগুলো কখনোই গ্রহণ করছি না। সুতরাং এটা তো আপনারই।”
ভালো কাজে দুর্বল হলে মন্দ কাজেও দুর্বল হওয়া উচিত
[৬০৩] জনৈক ব্যক্তি মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলল, “হে আবূ মু'তামির! আমি নিজের নফসের ব্যাপারে আপনাকে অভিযোগ করছি। আমি সালাত-সাওম করতে সক্ষম নই। মুআররিক বললেন, “ধিক তোমার নফসকে! তুমি যখন ভালো কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে পড়েছ, তাহলে মন্দ কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে যাও। কেননা, আমি তো ঘুমিয়ে খুশি হই।[৮১]
ফকির-মিসকিনদের দান করতেন
[৬০৪] কাতাদা হতে বর্ণিত, “মুআররিক আল-ইজলি রাহিমাহুল্লাহ ব্যবসা করতেন। তার কাছে যখন সম্পদ জমা হতো তিনি তা ফকির-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন এবং বলতেন, যদি তারা না থাকত, তবে আমি ব্যবসা করতাম না।”
সারা বছর সাওম রাখতেন
[৬০৫] যুহাইর আল-বুনানি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ সারা বছর সাওম রাখতেন। পাতলা দুটি রুটি দ্বারা ইফতার করতেন। তার কাছে সম্পদ ছিল, তিনি তা দ্বারা ব্যবসা করতেন। অতঃপর অভাবীদের মাঝে লভ্যাংশ বণ্টন করে দিতেন। অটুট রাখতেন ভ্রাতৃত্ববন্ধন। তিনি বলতেন, 'ফকিররা যদি না থাকত তবে আমি ব্যবসা গুটিয়ে নিতাম।”
ভালো কাজে দুর্বল হলে মন্দ কাজেও দুর্বল হওয়া উচিত
[৬০৬] ইয়াজিদ সুন্নি বলেন, “এক ব্যক্তি মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলল, 'হে আবূ মু'তামির, আমি নিজের নফসের ব্যাপারে আপনাকে অভিযোগ করছি। আমি সালাত- সাওম করতে সক্ষম নই।' মুআররিক বললেন, 'ধিক তোমার নফসকে! তুমি যখন ভালো কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে পড়েছ, তাহলে মন্দ কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে যাও। কেননা, আমি তো ঘুমিয়ে খুশি হই।[৮২]
তিনি খুব কম রাগ করতেন
[৬০৭] ইয়াজিদ সুন্নি থেকে বর্ণিত, মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি খুব কম রাগ করি। এমনও হয়েছে, এক বছর এমনভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে যে আমি রাগ করিনি। খুব কমই এমন হয়েছে যে, রাগ করা অবস্থায় আমি যা বলেছি-তার কারণে রাগ থেমে যাবার পর আমি লজ্জিত হইনি।”
সালাত আদায় করা সবচেয়ে উত্তম
[৬০৮] ইবনু আওফ বলেন, "আমি আবূ রজাকে বলতে শুনেছি, প্রতিদিন পাঁচবার করে আল্লাহর জন্য আমি আপন চেহারা ধুলোয় ধূসরিত করব, এরচেয়ে উত্তম কোনো সান্ত্বনা আমার জন্য আর নেই।”[৮৩]
তিনি রমাদানে প্রতি দশ দিনে কুরআন খতম করতেন
[৬০৯] আবুল আশহাব বলেন, "আবূ রজা রমাদানের রাতের সালাতে প্রতি দশ দিনে আমাদের নিয়ে খতম দিতেন।"
উটের মতো না বসা
[৬১০] আইয়ুব থেকে বর্ণিত, আবূ রজা বলেন, "উটের মতো বসতে আমি লাঞ্ছিতবোধ করি।"
টিকাঃ
[৭৫] সনদ যঈফ। মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৬৩। হাইসামি রাহিমাহুল্লাহ এ হাদীসের সকল বর্ণনাকারীকে সহীহ বলেছেন, কিন্তু আলবানি রাহিমাহুল্লাহ তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।-যঈফুল জামি : ৯৯
[৭৬] সূরা কাহাফ, ১৮:৫২
[৭৭] সূরা ইসরা, ১৭:৮
[৭৮] সূরা কাহাফ, ১৮:৫২
[৭৯] সূরা বাকারা, ২:২৪১
[৮০] সূরা বাকারা, ২:২৩৬
[৮১] অর্থাৎ যতক্ষণ ঘুমে থাকি, ততক্ষণ মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনু কুতাইবা, আল-মাআরিফ, পৃ. ২৬৬
[৮২] অর্থাৎ যতক্ষণ ঘুমে থাকি, ততক্ষণ মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনু কুতাইবা, আল- মাআরিফ, পৃ. ২৬৬।
[৮৩] অর্থাৎ প্রতিদিন পাঁচবার করে সালাত আদায় করার ফলে সাজদায় চেহারা ধূলিধূসরিত হওয়া অনেক বড় সান্ত্বনার বিষয়।-অনুবাদক
📄 আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
আমলনামার অবস্থা
[৬১১] আবুত তাইয়াহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে এই আয়াত পড়তে শুনেছি :
وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
'আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কিয়ামাতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি আমলনামা, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।'[৮৪]
তারপর তিনি বললেন, 'দুইবার খোলা হবে একবার গুটানো হবে। হে বানী আদম, যখন তুমি পাপাচার করো, তখন তোমার আমলনামা খোলা অবস্থায় থাকে। সুতরাং তুমি যা ইচ্ছা তা দিয়ে সেটি পূর্ণ করো। যখন তোমার মরণ হবে, তখন সেই আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হবে। তারপর যখন তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন আবার তা খোলা হবে। (তারপর বলা হবে) 'পাঠ করো তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসেব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।' (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭ : ১৪)।”
তিনি স্ত্রীর মাথায় পানি ঢেলে দিলেন
[৬১২] মাখলাদ ইবনু হুসাইন বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর ঘরে পানি পান করতে চাইল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, 'কূপে এক ফোঁটা পানিও নেই। অথবা তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এক ফোঁটা পানিও নেই।' তখন তিনি (আবুস সওয়ার) গিয়ে কূপের তলানি থেকে (পানি এনে তা) স্ত্রীর মাথায় ঢেলে দিয়ে বললেন, 'এই যে দেখো কত ফোঁটা পানি!'”[৮৫]
এক-দশমাংশও ভালো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৬১৩] সালিম ইবনু নূহ বলেন, "আওফ জুমুআর দিন (মাসজিদে) যাচ্ছিলেন। তো ইউনুস তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কী?' আওফ বললেন, 'আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আপনার সব খবরাখবর ভালো তো?' তিনি বলেছিলেন, 'হায়! যদি এক-দশমাংশও ভালো হতো!"
ইলমের চর্চা করাও এক ধরনের ইবাদাত
[৬১৪] ইবনু শাওযাব বলেন, "আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ একটি মজলিসে ছিলেন। যেখানে ইলমের চর্চা হচ্ছিল। তাদের সাথে একজন যুবকও ছিল। সে বলল, 'আপনারা বলুন, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ।' তখন আবুস সওয়ার ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক, আমরা তাহলে এতক্ষণ কিসে মগ্ন ছিলাম?” [৮৬]
জ্বালাতন করতে আসা ব্যক্তির সাথে তার আচরণ
[৬১৫] মাখলাদ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জ্বালাতন করতে এল। তিনি চুপ করে থাকলেন। তারপর ঘরে পৌঁছে বা প্রবেশ করে বললেন, 'ইচ্ছে হলে এবার ক্ষান্ত হতে পারো।”
মাসজিদ আখিরাতের বাজার
[৬১৬] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ একবার এক ব্যক্তিকে মাসজিদে (কোনো কিছু) বিক্রি করতে দেখে ডাক দিয়ে বললেন, 'এটি হলো আখিরাতের বাজার। যদি তোমার (কোনো কিছু) বিক্রি করার দরকার হয়, তবে দুনিয়ার বাজারে যাও।”
দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো
[৬১৭] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। আমি তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি না। তোমরা তো দুনিয়ার প্রতি লালসা রাখো এবং দুনিয়ার ব্যাপারেই উপদেশ কামনা করো।"
আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-এর নিন্দা
[৬১৮] আবুস সওয়ার থেকে বর্ণিত, “হাকাম ইবনু আইয়ুব খুতবা দিলেন। তিনি দুনিয়াবিমুখতার কথা বলতে শুরু করলেন। তখন আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘সে মানুষদের দুনিয়াবিমুখতার কথা শোনায়, অথচ তার কাছেই ত্রিশ হাজার (মুদ্রা) রয়েছে।”
সাওম অবস্থায় চুম্বন মাকরূহ
[৬১৯] আবূ খালদাহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে সাওম পালনকারী ব্যক্তির চুম্বন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, 'বৃদ্ধদের জন্য কিছুটা ছাড় আছে। আর যুবকরা সীমালঙ্ঘন করে ফেলার আশঙ্কা থাকায় তাদের জন্য এটি মাকরূহ।”
ইমামের পেছনে তাসবীহ ও তাকবীর
[৬২০] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে ইমামের পেছনে কিরাআত পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, 'তাসবীহ পড়বে ও তাকবীর বলবে।”
ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর মর্তবা
[৬২১] আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু ফারাজ বলেন, “যখন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন নেমে এল, অর্থাৎ তিনি বন্দিত্ব ও প্রহারের সম্মুখীন হলেন, তখন আমার ওপরও কিছু বিপদ নেমে এল। আমি নিজেকে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হলো, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আল্লাহ তাআলার দরবারে আবুস সওয়ারের মতো তার মর্তবা হোক? যদিও তুমি তার কাছে রেওয়াত করোনি। আমি বললাম, অবশ্যই (সন্তুষ্ট)।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি (ইমাম আহমাদ) আল্লাহর কাছে সেই মর্তবার ছিলেন।”
তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন
[৬২২] হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই উম্মতের একজন উদ্ধত লোক আবুস সওয়ার আদাওয়িকে ডেকে দ্বীনি বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করল। তিনি তার জ্ঞান অনুযায়ী এর উত্তর দিলেন। সে তাকে বলল, 'অন্যথা হলে কিন্তু তুমি ইসলাম থেকে মুক্ত (অর্থাৎ তুমি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে)।' তিনি বললেন, 'কোন ধর্মে আমি ধাবিত হব তাহলে?' এবার সে বলল, 'অন্যথা হলে তোমার স্ত্রী কিন্তু তালাক হয়ে যাবে।' তিনি বললেন, 'রাত্রিবেলা তাহলে আমি কার আশ্রয়ে যাব?' (এসব উত্তর শুনে) সে লোক তাকে চল্লিশটি চাবুকের ঘা দিলো। হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহর কসম, চাবুকের ঘা তাকে কিছুই করতে পারবে না।' আবু জাফর বলেন, 'আমি আবূ আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনু হাম্বাল-এর কাছে এসে এই বিষয়ে তাকে অবগত করালাম। তখন তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন।”
মাসজিদে এলে তিনি প্রফুল্ল হতেন
[৬২৩] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি মাসজিদে বানী আদিতে আবুস সওয়ারকে শুনলাম মুআযাহ আদাওয়িয়াকে তিনি বলছেন, 'তোমাদের একেকজন মাসজিদে এসে মাথা ঠেকাও আর পেছন দিক উঁচু করে রাখো।' তিনি বললেন, 'আপনি কেন এসব লক্ষ করেন? আপনি আপন চোখে মাটি ঢালুন এবং এসব দেখা বন্ধ করুন।' তিনি বললেন, 'আমি অবশ্যই তা দেখতে সক্ষম। তবে এর জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।' তিনি বললেন, 'হে আবূ সওয়ার, আমি যখন বাড়িতে থাকি তখন বাচ্চারা আমাকে ব্যস্ত করে রাখে। আর যখন মাসজিদে আসি তখন সেটা আমার জন্য অধিক প্রফুল্লমূলক হয়ে থাকে।' তিনি বললেন, 'তোমার ব্যাপারে প্রফুল্লমূলক হওয়াটার আশঙ্কাই তো আমি করি।”
সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চিঠি
[৬২৪] আবদুল্লাহ ইবনু আবী শুমাইত তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ আবূ সওয়ার আল-আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে চিঠি লিখলেন এই বলে: 'ভাই, পরসমাচার এই যে, তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করো। আপন ঘরকে প্রশস্ত রাখো এবং নিজ পাপের জন্য ক্রন্দন করো। কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। যেহেতু তিনি তোমাকে নিরাপদ রেখেছেন। শয়তান (থেকে নিজেকে) মুক্ত মনে করবে না। যতদিন বেঁচে থাকবে সে তোমাকে ধোঁকা দিয়ে যাবে।”
অকল্যাণ থেকে দূরে থাকার উপদেশ
[৬২৫] বিলাল ইবনু আবূদ দারদা বলেন, "আমার পিতা বলেছেন, যখন তুমি অকল্যাণ দেখবে তখন এর বাহককে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেবে। (অর্থাৎ তুমি নিজে তাতে জড়াতে যাবে না। অবশ্য যদি তা সংশোধনের সুযোগ থাকে তবে সংশোধন করা উচিত।)”
[৬২৬] হাসান বলেন, “ইমরান ইবনু হুসাইন বলেছেন, খাবারদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল খাবারগ্রহীতারা। উপদেশদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল ভুলোমনা ব্যক্তিরা।”
হাসান বলেন, “শুনে রাখো, ইমরান যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আমি তা (কথাগুলো) বারবার বলতাম।”
বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা
[৬২৭] জাফর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “ফারকাদ আস-সিনজি একজন বড় শাইখ ছিলেন। আমি একবার তার কাছে গেলাম। এক ব্যক্তি তার সামনে দৃষ্টিকটু অবস্থায় দাঁত খিলাল করছিল। সে তার মুখের ভেতর খাবার রেখেই কথা বলছিল এবং (এই অবস্থাতেই) খাচ্ছিল। তিনি (জাফর) তাকে বললেন, 'হে আবূ ইয়াকুব, তুমি এমন কোরো না।' সেই লোক বলল, '(আমি এমন করছি) যাতে করে আমার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।”
আল্লাহ তার সাথে সহজ আচরণ করলেন
[৬২৮] বিশর ইবনু মুফাদদল বলেন, “আমি বিশর ইবনু মানসূরকে স্বপ্নে দেখলাম। তাকে বললাম, 'হে আবূ মুহাম্মাদ, আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি যতটা কঠিন ভেবেছি ব্যাপারটি ছিল তারচেয়ে আরও অনেক সহজ।”
টিকাঃ
[৮৪] সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭: ১৩
[৮৫] অর্থাৎ ঘরে পানি না থাকলেও কূপ থেকে কষ্টকরে এনে সেই ব্যক্তিকে পান করানো সম্ভব ছিল। স্ত্রী সেটা করেনি বিধায় তিনি কিছুটা রাগ করেছিলেন।-অনুবাদক
[৮৬] অর্থাৎ ইলমের চর্চা করাটাও এক ধরনের ইবাদাত। যারা এতে লিপ্ত থাকে তারা ইবাদাতের সওয়াব পেতে থাকে। সুতরাং তারা ইবাদাতের মধ্যে নেই এমনটা মনে করে যুবকের দেওয়া যিকর করার উপদেশটা ভুল ছিল। যার ফলে আবুস সওয়ার তাকে ওই কথা বললেন।-অনুবাদক
📄 মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
কুরআনের আয়াত শুনে কান্নাকাটি করা
[৬২৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে এই আয়াত পড়তে শুনেছি:
لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ
'যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে।[৮৭]
তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, 'আমি তোমাদের কসম করে বলছি, যে বান্দাই এই কুরআনের প্রতি (প্রকৃত) বিশ্বাস স্থাপন করবে, তার অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাবার কথা। (অর্থাৎ কুরআনের বড়ত্ব ও মহত্ত্বের কারণে তার অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাবার কথা, যেভাবে পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হলে তা বিদীর্ণ হয়ে যেত।)”
জাহান্নামবাসীদের শাস্তি
[৬৩০] জাফর বলেন, “আমি মালিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যখন জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে হাতুড়ির বাড়ির আওয়াজ শুনবে, তখন জাহান্নামের হাউজে গিয়ে ডুব দেবে। যেতে যেতে তারা একেবারে তলিয়ে যাবে, যেভাবে দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তি ডুবে গেলে যেতে যেতে একেবারে তলিয়ে যায়।”
কুরআন মুমিনদের বসন্ত
[৬৩১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে কুরআনের বাহকেরা, কুরআন তোমাদের বক্ষে কীসের চাষ করেছে? কারণ, কুরআন তো মুমিনদের বসন্ত। যেমন কিনা বৃষ্টি হলো জমিনের বসন্ত। বৃষ্টি আকাশ থেকে নেমে এসে বীজভর্তি বাগানে পড়ে। সেই স্থানের আবর্জনা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয় এবং বাগান সবুজাভ ধারণ করে ও দৃষ্টিনন্দন হয়। কুরআনের বাহকেরা, কুরআন তোমাদের হৃদয়ে কী রোপণ করেছে? কোথায় এক সূরা মুখস্থকারীরা? কোথায় দুই সূরা মুখস্থকারীরা? তোমরা সেসব সূরাতে কী শিখলে?"
তিনি অনেকের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন
[৬৩২] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলা হলো, 'হে আবু ইয়াহইয়া, যদি আপনি কথাকে আরেকটু মোলায়েম করতেন, তাহলে আপনার সাথি-সঙ্গী আরও বৃদ্ধি পেত।' তিনি বললেন, 'আমার দস্তরখান কি বিচ্ছিন্ন হবে? আমার ফোড়া কি ফেটে যাবে? বৎসগণ, এ জন্যই আল্লাহ তাদের আমার কাছে নিয়ে আসেননি।"
জাদুবিদ্যা থেকে বেঁচে থাকা
[৬৩৩] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাদুবিদ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তা আলেমদের অন্তরকে জাদুগ্রস্ত করে ফেলে।"
দুনিয়ার জন্য চিন্তিত হওয়ার ক্ষতি
[৬৩৪] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, দুনিয়ার জন্য যতটুকু পরিমাণ তুমি চিন্তিত হবে ততটুকু পরিমাণ আখিরাতের ভাবনা তোমার অন্তর থেকে উধাও হয়ে যাবে। আর যতটুকু পরিমাণ তুমি আখিরাত নিয়ে চিন্তিত হবে ততটুকু পরিমাণ দুনিয়ার ভাবনা তোমার অন্তর থেকে উধাও হয়ে যাবে।”
দশ টাকা বিনিয়োগ করে ছয় টাকা লাভ
[৬৩৫] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন :
أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ فِي الْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ
'আমি কি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাফেরদের সমতুল্য করে দেবো? না খোদাভীরুদের পাপাচারীদের সমান করে দেবো।'[৮৮]
তারপর তাকে আমি বলতে শুনেছি, 'চমৎকার! এ যেন দশ টাকা বিনিয়োগ করে ছয় টাকা লাভ!'[৮১]
আযাব নেমে আসার ভয়
[৬৩৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, যদি আমি না ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম, তাহলে ঘুমাতাম না। আমার আশঙ্কা হয় যে, আমি ঘুমিয়ে থাকব আর তখন আমার ওপর আযাব নেমে আসবে। আল্লাহর কসম, যদি আমি কয়েকজন সহযোগী পেতাম তবে তাদের পৃথিবীর কোনায় কোনায় পাঠিয়ে দিতাম এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য, হে লোকসকল। জাহান্নামের আগুন থেকে সাবধান! জাহান্নামের আগুন থেকে সাবধান!”
তিন কাজকে আঁকড়ে ধরা
[৬৩৭] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল, তোমাদের ছোট-বড় পাপী লোকদের সংখ্যা অনেক। আল্লাহ সে ব্যক্তিকে রহম করুন, যে উত্তম কথা, সৎকর্ম এবং স্থায়ী আমলকে আঁকড়ে ধরে।”[৯০]
লুঙ্গিকে টাখনুর নিচে না নেওয়ার নাসীহাত
[৬৩৮] মালিক বলেন, “আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, 'হে উমার, যদি তোমার সঙ্গীর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করা তোমাকে আনন্দিত করে, তবে তুমি লুঙ্গিকে খাটো করো (টাখনুর নিচে নিয়ো না), জুতা মেরামত করো এবং অতৃপ্ত আহার করো।”
বেদনাহীন অন্তর বিরান হয়ে যায়
[৬৩৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যখন অন্তরে বেদনা থাকে না, তখন তা বিরান হয়ে যায়। যেভাবে ঘরে যদি কেউ বসবাস না করে, তাহলে তা বিরান হয়ে যায়।”
বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি
[৬৪০] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, বান্দাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, যদি আমি জানতাম যে, আবর্জনার ওপর বসে থাকলে আমার অন্তর সংশোধন হতো, তবে আমি সেটাও করতাম।"
তিনি আরও বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই অন্তরে ও শরীরে আল্লাহ শাস্তি দেন, জীবনযাপনে সংকীর্ণতা দেন, রিযিকে কমতি দেন ও ইবাদাতে অলসতা দেন।"
উত্তম ছায়ার নিচে ও আরামদায়ক স্থানে সাক্ষাতের দুআ করলেন
[৬৪১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, কত মানুষ চায় তার ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তার সাক্ষাতে যাবে। কিন্তু ব্যস্ততা অথবা কারও কোনো আদেশ তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের মিলন ঘটাবেন এমন এক ঘরে, যেখানে কখনো বিচ্ছিন্নতা আসবে না। অতঃপর মালিক বলেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের উত্তম ছায়ার নিচে ও ইবাদাতকারীদের আরামদায়ক স্থানে মিলনের ব্যবস্থা করে দেন।”
লুকমান আলাইহিস সালাম-এর জিজ্ঞাসা
[৬৪২] জাফর বলেন, "মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'লুকমান আলাইহিস সালাম তার ছেলেকে বলেছেন, 'ছেলে আমার, মানুষকে (পরকালের) যেসব বিষয়ের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, সেসব ওয়াদার ওপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে; তাদের যেসব বিষয়ের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, সেসবের দিকে তারা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।'[৯১]
বালআম ইবনু বাউরার ঘটনা
[৬৪৩] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহর নবি মূসা আলাইহিস সালাম বালআম ইবনু বাউরাকে মাদায়েন অঞ্চলের বাদশাহর কাছে পাঠালেন আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। সে ছিল বানী ইসরাঈলের একজন আলেম। সে দুআ করলে তা কবুল করা হতো। মূসা আলাইহিস সালাম বিপদাক্রান্ত হলে তাকে দুআ করার জন্য এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করার জন্য সামনে বাড়িয়ে দিতেন। সে নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেছিল। তার ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেছিলেন:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا
'আর আপনি তাদের শুনিয়ে দিন সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে।”[১২]
আল্লাহর যিকর অন্যতম নিআমাত
[৬৪৪] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'নিআমাতপ্রাপ্তদের আল্লাহর যিকরের মতো অন্য কোনো নিআমাত দেওয়া হয়নি।”
তিনি (জাফর) বলেন, “মালিককে আমি বলতে শুনেছি, তাদের কেউ গিয়ে দীবাজাতুল হারামকে বিবাহ করত। মালিকের যুগে দীবাজাতুল হারামকে সবচেয়ে সুন্দর মনে করা হতো। খাতুন ছিল রোম সম্রাটের স্ত্রী। অথবা এমন কোনো মেয়ের কাছে যেত, যাকে তার পিতামাতা হৃষ্টপুষ্ট করে আরামে রেখে এমন বানাত, যেন সে মাখনের দলা। তখন সে তাকে বিবাহ করে নিত। সে মেয়ে তার হৃদয় জয় করে নিলে সে তাকে জিজ্ঞেস করত, তোমার কী চাই? মেয়ে বলত, সুন্দর ওড়না। আবার জিজ্ঞেস করত, আর কী চাই? মেয়ে বলত, এটা ওটা।”
মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আল্লাহর কসম, ওই কারির দ্বীন বিলীন হয়েছে এবং সে দুর্বল ইয়াতীমকে বিবাহ করে তার দায়িত্ব নিয়ে নেকি অর্জন করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে।”[১৩]
তিলাওয়াত সত্যবাদীদের অন্তরকে আখিরাতের দিকে ধাবিত করে
[৬৪৫] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে নিজের মাথা মিহরাবে রেখে বলতে শুনেছি, হে মালিকের প্রভু, তুমি জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের ব্যাপারে অবগত। মালিক কোন দলে? তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।"
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি আমার বান্দাদের শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার পর যখন কুরআনের মজলিসের লোকজন, মাসজিদ আবাদকারীরা ও ইসলামের সন্তানদের দিকে তাকাই, তখন আমার ক্রোধ নির্বাপিত হয়ে যায়। আমি নিজ আযাব সরিয়ে নিই।”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, সত্যবাদীদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তাদের অন্তর আখিরাতের প্রতি ধাবিত হয়।"
কল্যাণহীন সঙ্গীকে পরিহার করা
[৬৪৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখেছি, তিনি মুগীরাহ ইবনু হাবীবকে বলছেন, 'হে মুগীরাহ, প্রত্যেক সাথি-সঙ্গীর প্রতি নজর রেখো। যার থেকে তোমার দ্বীনি কোনো কল্যাণ অর্জন হচ্ছে না দেখবে, তার সংস্পর্শ পরিহার করবে।"
দুঃসাহসী হওয়ার কারণ
[৬৪৭] জাফর ও হারিস ইবনু নাবহান বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আমি বসরার আমীর কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সাকাফির কাছে যেতাম। নিজেকে আড়াল করতাম না তার থেকে। তিনি একদিন বললেন, 'হে মালিক, তুমি এমন কাপড় পরে আমাদের কাছে এসো না।' আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহ আমীরকে সংশোধন করুন। কিসে আমার ব্যাপারে আপনার মনোভাবে এমন পরিবর্তন আনল? ইতঃপূর্বে তো এটা পরেই আমি আপনার কাছে আসতাম।' তিনি বললেন, 'হে মালিক, কিসে তোমাকে আমাদের ব্যাপারে এমন দুঃসাহসী বানিয়েছে? সেটা হলো তুমি আমাদের অধীনে থাকা ধন-সম্পদে আগ্রহী নও। এটাই তোমার আর আমাদের মাঝে পর্দা হয়ে আছে।' মালিক বলেন, 'কোনো কথা যদি আমি দিনলিপির পাতায় লিখে রাখতাম, তবে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সাকাফির এই কথা লিখে রাখতাম।”
নিজের ইচ্ছাকে দমন করা
[৬৪৮] মালিক ইবনু দীনার-এর মজলিসের সঙ্গী উসমান হিময়ারি বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে তার সঙ্গীদের একজনকে (লক্ষ্য করে) বলতে শুনেছি, অল্প দুধের সাথে মেশানো অতি পাতলা একটি রুটি খেতে মন চাচ্ছে আমার।' সে ব্যক্তি গিয়ে তা নিয়ে এল। মালিক তা নেড়েচেড়ে দেখলেন। তারপর বললেন, 'আমি চল্লিশ বছর ধরে তোমাকে খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। কিন্তু এতদিন আমি তোমাকে পরাস্ত করেছি। আজকে তুমি আমাকে পরাস্ত করতে চাচ্ছ। আমার থেকে দূরে সরো।' তারপর তিনি আর তা খেলেন না।"
হাসান রাহিমাহুল্লাহ তাকে উপদেশ দিলেন
[৬৪৯] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি অসুস্থতায় আক্রান্ত হলাম। আমার ফুসফুসের আবরণে প্রদাহ হলো। তখনো আমার বোধবুদ্ধি ছিল। হাসান ইবনু আবী হাসান আমাকে দেখতে এসে আমার মাথার কাছে তার চাদরটি রাখলেন। তারপর ভেতরে প্রবেশ করে ওজু করে এসে বসলেন আমার মাথার পাশে। আমি বললাম, 'হে আবূ সাঈদ, আমার আশঙ্কা হচ্ছে, এই অসুস্থতায় আমার মৃত্যু হলে আমাকে দু-হাত ও পা বেঁধে আল্লাহর দরবারে সেভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, যেভাবে গোলামকে তার মালিকের কাছে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।' হাসান বললেন, 'তোমার এই সঙ্গী তো অনর্থক বকছে।' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম, আমি অনর্থক বকছি না হে আবূ সাঈদ।' তারপর আমি সুস্থ হলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি ভূপৃষ্ঠের অন্ধকারে ছিলে। তারপরে প্রভাতের আলোয় এসে সুস্থ হয়ে উঠেছ।' তারপর হাসান রাহিমাহুল্লাহ আমার প্রতি মনোনিবেশ করে আমাকে বেশ উপদেশ দিলেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও সজ্জন ব্যক্তি。”
মুমিনের নিয়তের অবস্থা
[৬৫০] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, মুমিনের নিয়ত আমলের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।”
কিয়ামাতের দিন আল্লাহকে সাজদা করার ইচ্ছা
[৬৫১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আমার ইচ্ছা হয় যে, কিয়ামাতের দিন আমি আল্লাহর সামনে তাকে সাজদা করব। যাতে করে আমি অবগত হতে পারি যে, তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর তিনি (নিজেকে সম্বোধন করে) বললেন, 'হে মালিক ইবনু দীনার, তুমি মাটি হয়ে যাও।”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমি চাই কিয়ামাতের দিন বাঁশের একটি কুঁড়েঘর হবে আমার। আমি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাব এবং পানি (পান করে) পরিতৃপ্ত হব।”
খিয়ানতকারীর পরিচয়
[৬৫২] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, আমি নির্জনতা অবলম্বন করেছি। এমনকি আমি লজ্জিত হয়েছি। আমার ইচ্ছা হলো, যদি আমার রিযক একটি পাথরের টুকরা হতো, আর আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেটাই চুষতে থাকতাম!”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, কোনো খিয়ানতকারীর দায়িত্বশীল হওয়াটাই, কোনো ব্যক্তির খিয়ানতকারী হবার জন্য যথেষ্ট।”
আলেমের তার ইলম অনুযায়ী আমল না করা
[৬৫৩] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আলেম যখন তার ইলম অনুযায়ী আমল না করে তখন তার নাসীহাত অন্তর থেকে ছিটকে পড়ে। যেভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা ছিটকে পড়ে।” [১৪]
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যখন তুমি আমল করার জন্য ইলম শিখবে, তখন সেই ইলম তোমাকে আনন্দ দেবে। আর যখন আমল না করার জন্য ইলম শিখবে তখন কেবল তোমার অহংকারই বৃদ্ধি পাবে।”
মানুষের প্রয়োজনে বেশি ইলম অর্জন করা
[৬৫৪] নযর ইবনু শুমাইল বসরার জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজের জন্য ইলম শিখে, অল্প ইলমই তার জন্য যথেষ্ট হয়। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রয়োজনে ইলম শিখে, তাহলে মানুষের প্রয়োজনও অনেক বেশি (হবার কারণে তাকেও অনেক ইলম অর্জন করতে হয়)।"
মুমিন ও পাপীদের অন্তরের অবস্থা
[৬৫৫] জাফর বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই মুমিনদের অন্তর সৎ কাজের দ্বারা উদ্বেলিত হয়। আর পাপীদের অন্তর মন্দ কাজের দ্বারা উদ্বেলিত হয়। আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রচেষ্টাগুলো দেখেন। আল্লাহ তোমাদের রহম করুন।”
ভালো মানুষের হওয়ার আশা করা
[৬৫৬] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যখন ভালো মানুষদের আলোচনা করা হয়, তখন তাদের মতো হওয়ার বাসনা রাখো।”
আল্লাহর অবাধ্যতা না করার ঘোষণা
[৬৫৭] আব্বাদ ইবনু ওলীদ বলেন, “মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, 'যদি মানুষ এমনটা না বলত যে, মালিক তো পাগল হয়ে গেছে, তাহলে আমি পাদরির পোশাক পরিধান করে মাথায় ছাই রেখে মানুষের মধ্যে ঘোষণা করতাম-যে ব্যক্তি আমাকে দেখবে, সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতা না করে।”
হাদীস বলার সময় কাঁদা
[৬৫৮] জাফর বলেন, “মালিক ইবনু দীনার হাসান থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ يَخْطُبُ خُطْبَةً إِلَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ سَائِلُهُ عَنْهَا
'বান্দা যে খুতবাই দিক, আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন।' [১৫]
এর দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন?”
জাফর বলেন, “মালিক যখন আমাদের এই হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। তারপর যখন কান্না বন্ধ হলো তখন তিনি বলেন, 'লোকেরা ভাবছে যে, আমার কথার কারণে আমার চক্ষু শান্ত হয়েছে। অথচ আমি জানি যে, কিয়ামাতের দিন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—এর দ্বারা আমার কী উদ্দেশ্য ছিল।”
তাসবীহ থেকে ফেরেশতার জন্ম
[৬৫৯] জাফর বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমরা জানতে পেরেছি যে, আকাশে কিছু ফেরেশতা রয়েছেন। যাদের কেউ একজন যখন তাসবীহ পড়ে, তার সেই তাসবীহ থেকে আরেকজন ফেরেশতা সৃষ্টি হয় এবং তিনিও তাসবীহ পড়তে থাকেন।"
ফেরেশতাদের তাসবীহ পাঠ
[৬৬০] আকাশে এমন ফেরেশতাও আছে যাদের আকাশের নক্ষত্র ও কঙ্করের মতো চোখ আছে। প্রত্যেক চোখের নিচে একটি চোখ ও দুটো ঠোঁট রয়েছে। যেগুলো এমন ভাষায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে, যা তার পাঠকই বুঝতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের এমন শিং রয়েছে, যার মধ্যকার দূরত্ব হলো পাঁচ শ বছরের রাস্তা। আর আরশ রয়েছে সেই শিংয়ের ওপর।”
শুধু রুটিই যথেষ্ট
[৬৬১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, দুটি পাতলা রুটি কি আপনার জন্য যথেষ্ট?' তিনি বললেন, 'তুমি কি মনে করো যে, আমি ঘি চাইব? (অর্থাৎ শুধু রুটি হলেই তার হয়ে যায়। ঘিয়ের দরকার হয় না।)”
জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, আমি মেরুদণ্ডের বক্রতা বা বদহজম রোগের ভয় করি না। আমার রুটির খামির তৈরি আছে। আমার পানি নদীতে বিদ্যমান আছে।”
তিনি মাসজিদ থেকে বের হতেন না
[৬৬২] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনার রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল, সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, যদি প্রস্রাব করার প্রয়োজন না পড়ত, তবে আমি মাসজিদ থেকে বেরই হতাম না।”
বিবাহের প্রতি অনীহা
[৬৬৩] জাফর বলেন, “ইয়াহইয়ার মা মৃত্যুবরণ করার পর মালিক ইবনু দীনারকে বলা হলো, 'যদি আপনি আবার বিয়ে করতেন!' তিনি বললেন, 'যদি পারতাম, তাহলে আমি নিজেকেও তালাক দিতাম!'”[১৬]
দুনিয়াবিমুখতা
[৬৬৪] জাফর বলেন, “সনআ অঞ্চলের এক ব্যক্তি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের আবদালরা কোথায়?' তিনি শামের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করলেন। আমি বললাম, 'ইরাকে তাদের কেউ নেই?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি, হাসসান ইবনু আবী সিনান, মালিক ইবনু দীনার-যে আবূ যরের মতো করে মানুষের মাঝে দুনিয়াবিমুখ হয়ে চলাফেরা করে।”
জাফর বলেন, “যদি মালিক বানী ইসরাঈলের হতেন, তাহলে তার কথা আলোচনায় আসত।"
মালিক রাহিমাহুল্লাহ-এর দুআ
[৬৬৫] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে দুআতে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরকে তোমার প্রতি ধাবিত করে দাও। যাতে করে আমরা তোমাকে ভালোভাবে চিনতে পারি। তোমার অঙ্গীকারকে ভালোভাবে পালন করতে পারি। তোমার উপদেশকে ভালোভাবে মনে রাখতে পারি। হে আল্লাহ, আমাদের তুমি ঈমানের নিদর্শন দান করো। তাকওয়ার পোশাক পরিধান করাও। হে আল্লাহ, আমরা মৃত্যুর পূর্বেই তোমার কাছে তাওবা করছি। পাকড়াও হবার আগেই আত্মসমর্পণ করছি। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতি তুমি এমন দৃষ্টিপাত করো, যার মাধ্যমে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ আমাদের অর্জিত হয়.' তারপর মালিক তার কথা থেকে বিরত হয়ে আবার বলা শুরু করলেন, 'তুমি কি মনে করেছ আমি দুনিয়ার কল্যাণ দ্বারা স্বর্ণ-রৌপ্যমুদ্রাকে বুঝিয়েছি? না, বরং আমি নেক আমলকে বুঝিয়েছি। যাতে করে যেদিন তোমার সাথে সাক্ষাৎ হবে, সেদিন তুমি আমার প্রতি দয়া ও ভালোবাসার সাথে সন্তুষ্ট থাকো হে আকাশ-জমিনের অধিপতি.' তারপর তিনি কিছুক্ষণ কাঁদলেন। আমরাও তার সাথে কাঁদলাম। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”
শাসকদের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ
[৬৬৬] মুআল্লা ইবনু জিয়াদ বলেন, “সালামাহ ইবনু কুতাইবা বসরায় এলে মালিক আমাকে বললেন, 'আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো।' (সেখানে গিয়ে) আমরা তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা প্রবেশ করলে সালামাহ আমাদের বললেন, 'আপনাকে অভিনন্দন হে আবূ ইয়াহইয়া। আপনার কী প্রয়োজন আছে বলুন।' তিনি তাকে কাছে টেনে নিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, 'শুধুই দেখা করতে এসেছেন নাকি আরও কোনো প্রয়োজন আছে?' মালিক বললেন, 'প্রয়োজন আছে।' তিনি জানতে চাইলেন, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, কী সেটা?' তিনি বললেন, 'হে সালামাহ, শাসকদের সাথে তোমার কীসের এত সম্পর্ক?' তিনি বললেন, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, তাদের কাছে আমরা পরিচিত হয়ে গেছি।' তিনি বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক হে সালামাহ, আমার আশঙ্কা হয় যে—তোমাকে তারা কোনো বিপদে ফেলে দেবে তারপর আর সেখান থেকে বের করে আনবে না।”
লোহার দেয়াল
[৬৬৭] মালিক ইবনু দীনার বলেন, “একদিন আমি গির্জায় অবস্থানরত একজন পাদরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাকে ডাক দিলে সে আমার কাছে এল। আমরা একে অপরের সাথে কথা বললাম। সে আমাকে বলল, 'যদি তুমি তোমার মাঝে ও প্রবৃত্তির মাঝে লোহার দেয়াল দাঁড় করাতে পারো, তবে তা-ই করো। যেসব সঙ্গী থেকে তোমার কোনো কল্যাণ অর্জিত হয় না, তাদের থেকে দূরে থাকো। তাদের সাথে অল্প-বেশি কোনো ধরনের ওঠাবসা কোরো না।"
[৬৬৮] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে ও মুআল্লা ইবনু জিয়াদকে বলতে শুনেছি, তারা দুজন বলেছেন, ‘আমরা হাসানকে বলতে শুনেছি...।'” [৯৭]
পাথরের বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা
[৬৬৯] জাফর বলেন, “একবার এমন হলো যে, শুধু মেঘ আসা-যাওয়া করে কিন্তু বৃষ্টি হয় না। তখন মালিক বললেন, 'তোমরা বৃষ্টি দেরিতে হবে বলে মনে করছ। আর আমি তো পাথরের (বৃষ্টি) হবে মনে করছি। যদি পাথরের বৃষ্টি না হয়, তবে তো ভালোই।”
জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য দুআ
[৬৭০] মুগীরাহ ইবনু হাবীব বলেন, “ইমাম মালিকের কাছে এক রাতে শীতের পোশাক পরে আগমন করলাম এবং তার ঘরের দরজায় অবস্থান করলাম। তিনি এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং কেবলামুখী হয়ে নিজের দাড়ি ধরে বলতে থাকলেন—হে আল্লাহ, যখন আপনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের একত্র করবেন তখন মালিকের শুভ্র দাড়িকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েন।”
কলিজাকে ক্ষুধার্ত করে দেওয়া
[৬৭১] জাফর বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, যে উম্মত আল্লাহর দৃষ্টি থেকে পড়ে যায় তিনি তাদের কলিজাকে ক্ষুধার্ত করে দেন।”
আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা
[৬৭২] ইবনু সুলাইমান বলেন, “মালিক ও মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বসলেন। মালিক বললেন, 'হয়তো কেবল আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে, নইলে জাহান্নام অবধারিত।' তখন মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বললেন, 'আপনি যা বলেছেন, আমি তা বলব না। আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় জাহান্নাম অবধারিত।' তখন মালিক বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর কারিদের অন্তর্ভুক্ত।”
উশর গ্রহণকারীদের কাছে তিনি সুপারিশ করলেন
[৬৭৩] ইবনু শাওযাব থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি মালিক ইবনু দীনারের কাছে উশর গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সাহায্য চাইলে তিনি তাদের কাছে গিয়ে (সুপারিশ করলেন)। তারা তার সুপারিশ গ্রহণ করল এবং তাকে বলল, 'হে আবূ ইয়াহইয়া, যদি আপনি একটু দুআ করে দিতেন!' বর্ণনাকারী বলেন, তাদের কাছে একটি পাত্র ছিল, যার উপরিভাগ চামড়া দিয়ে বন্ধ করা। তারা তাতে তাদের খরচপাতি রাখত। তিনি তাদের বললেন, 'তোমরা হাত ওঠাও।' তারপর তিনি পাত্রটি বগলের নিচে নিয়ে বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই পাত্র আমাদের সাথে যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ আমাদের দুআ কবুল করা হবে না।”
মন্দ রাখালের পরিণাম
[৬৭৪] মূসা ইবনু খালিদ বলেন, “আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, কোনো এক কিতাবে আছে, অসৎ রাখালকে কিয়ামাতের দিন ডাকা হবে। তারপর তাদের বলা হবে, 'হে অসৎ রাখাল, তুমি গোশত খেয়েছ, পশমি কাপড় পরিধান করেছ। দুধ পান করেছ। এসবের খণ্ডিতাংশের মূল্য দাওনি। হারানো জিনিস তালাশ করোনি। চারণক্ষেত্রে (পশু) চরাওনি। আজকে আমি তাদের পক্ষ হয়ে তোমার থেকে শোধ নেব।”
সুফিয়ান বলেন, “নেক লোকদের আলোচনাকালে রহমত অবতীর্ণ হয়।” জিজ্ঞেস করা হলো, “কে এটি বলেছেন?” তিনি বললেন, “কতিপয় আলেমগণ।”
সুফিয়ান বলেন, “যে ব্যক্তি ইলম শিখে আমল করে, তাকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় আকাশের ফেরেশতাদের মাঝে ডাকা হবে।"
সুফিয়ান বলেন, “আগামী দিনের রিস্ক নিয়ে তোমার দুশ্চিন্তায় লিপ্ত হওয়াটাও এক ধরনের পাপ।”
সুফিয়ান বলেন, “একজন ব্যক্তির ইলম যত বাড়ে, সে আল্লাহর তত বেশি নিকটবর্তী হয়।"
তিনি একজন উশর গ্রহণকারীকে দেখতে গেলেন
[৬৭৫] আবদুস সমাদ বলেন, "মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, আমার একজন উশর গ্রহণকারী প্রতিবেশীর অসুখ হলে আমি তাকে দেখতে যাই। সে বলল, 'মিসকিনদের ওপর দয়াকারীর সাথে স্বপ্নে আমার কথা হলো।' তিনি আমার ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে বলেছেন, 'তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' সে জানতে চাইল, 'তোমার কী মনে হয় এতে?' আমি বললাম, 'অনর্থক বিষয়।' সে পুনরায় আমাকে আগের মতো বলল। তখন আমি কিছুটা উৎকণ্ঠিত হয়ে বললাম, 'কার ব্যাপারে বলছেন?' তিনি স্বীয় হাত দিয়ে তার নিজের বুকের দিকে ইশারা করলেন।”
মাপে কম দেওয়ার শাস্তি
[৬৭৬] আবদুস সামাদ মালিক থেকে বর্ণনা করেন, “আমি আমার অসুস্থ প্রতিবেশীকে দেখতে গেলাম। তিনি বললেন, 'আগুনের দুটি পাহাড়! আগুনের দুটি পাহাড়!”
মালিক বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, ওই ব্যক্তির দুটি কফীয (একজাতীয় পরিমাপ পাত্র) ছিল। একটি পরিমাণের তুলনায় বড় আরেকটি পরিমাণের তুলনায় ছোট।”[৯৮]
গুনাহের ভয়
[৬৭৭] ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেন, “আতা সুলামী যখন মধ্যরাতে জাগ্রত হতেন তখন ভয়ে নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে হাত দিয়ে আঘাত করে দেখতেন। তার ভয় হতো, না জানি আবার তার আকৃতি (গুনাহের শাস্তিস্বরূপ) পরিবর্তন করে দেওয়া হয়!”
আল্লাহর কারি হওয়ার উপদেশ
[৬৭৮] আবূ মুআবিয়া এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, যিনি ছিলেন মালিক ইবনু দীনারের মজলিসের সঙ্গী। তিনি বলেন, "আমি মালিক ইবনু দীনারকে তার সাথি-সঙ্গীদের বলতে শুনেছি, এখানে এমন কিছু লোক আছে, যারা কারিদের সাথেও অংশ নিতে চায় আবার আমীরদের সাথেও অংশ নিতে চায়। বরং তোমরা দয়াময় আল্লাহর কারি হও। আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বরকত দিন।”
কাঁদতে কাঁদতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম
[৬৭৯] হাওশাব মালিকের কাছে উল্লেখ করলেন, “আমি একজন ঘোষককে ঘোষণা করতে শুনেছি, হে লোকসকল, (জিহাদের পথে) যাত্রার জন্য তৈরি হও। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি ছাড়া আর কাউকে আমি দাঁড়াতে দেখলাম না।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তখন মালিক কাঁদতে থাকলেন, এমনকি তিনি পড়ে গেলেন বা পড়ে যাবার উপক্রম হলেন।"
দুনিয়াবি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় লিপ্ত না হওয়া
[৬৮০] জাফর বলেন, “আমি ফারকাদ সিনজিকে বলতে শুনেছি, আমি তাওরাতে পড়েছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াবি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় লিপ্ত হবে, সে আল্লাহর ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে দিন শুরু করবে। আর যে ব্যক্তি বিত্তশালীর সাথে ওঠাবসা করবে এবং তার জন্য অধঃপাতে যাবে, তার দ্বীনের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হবে। আর যে ব্যক্তি বিপদাক্রান্ত হলে মানুষের কাছে অভিযোগ করে, সে যেন আল্লাহর ব্যাপারেই অভিযোগ করে।”
মিষ্টান্ন খেতে অস্বীকার করলেন
[৬৮১] সারী ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, "লোকেরা উল্লেখ করেছে যে—ফারকাদ সিনজি ইবনু সিরীনের কাছে আসলেন। খবীছ নামক মিষ্টান্ন আনা হলে, তিনি তা খেতে অস্বীকার করলেন। তখন ইবনু সিরীন বললেন, 'হে দাসী, তুমি আবী ইয়াকুবের জন্য রুটি আর ঘি আনো।' দাসী তা নিয়ে এল। তিনি তা খাওয়া শুরু করলেন। ইবনু সিরীন হেসে বললেন, 'এমন ব্যক্তির জন্য এমন (খাবারই) ঠিক আছে।”
খবীছ খেতে পছন্দ করতেন না
[৬৮২] হাসান একবার ফারকাদকে বললেন, “হে ফারকাদ, আপনি কি খবীছ খেতে পছন্দ করেন?” “তিনি বললেন, “না, আল্লাহর শপথ আমি তা পছন্দ করি না। যে এটি খেতে ভালোবাসে তাকেও পছন্দ করি না।” তখন হাসান বললেন, “সে কি পাগল! সে কি পাগল!"
সাহাবিদের শ্রেষ্ঠত্ব
[৬৮৩] মুহাম্মাদ ইবনু জাফর বলেন, “আমি ফারকাদ সিনজিকে বলতে শুনেছি, দুনিয়ার অতিবাহিত হওয়া নবিদের সঙ্গীরা, মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল না।”
ফারকাদ সিনজির সাথে সাক্ষাৎ
[৬৮৪] হায়সাম ইবনু মুআবিয়া বলেন, “আমাকে একজন শাইখ বলেছেন, কুফার কিছু ব্যক্তি একত্র হয়ে বলল, চলো আমরা বসরা গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের ইবাদাত দেখব। তাদের একজন অন্যজনকে বলল, চলো আমরা ফারকাদ সিনজির কাছে যাই। তারপর তারা তার কাছে গেলে তিনি তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন। তারা বলল, 'হে আবূ ইয়াকুব, দুপুরের খাবারের সময় হয়েছে।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আমি কথাকে লম্বা করেছি যাতে করে আপনাদের (ভালোমতো) ক্ষুধা লাগে এবং আমাদের কাছে থাকা (খাবার) খেতে পারেন। ওই পাত্রটি নামান।' তারপর তারা সেখান থেকে কালো যবের রুটির ভগ্নাংশ বের করে বললেন, 'লবণ লাগবে হে আবূ ইয়াকুব, লবণ।' তিনি বললেন, 'আটার মধ্যে একবার লবণ দিয়েছি। তোমরা আমাকে (ওই লবণ) খুঁজে দিতে বলোনি তো!”
সাধারণ পোশাকের প্রতি উৎসাহ
[৬৮৫] ইবনু শাওযাব বলেন, "আমি ফারকাদকে বলতে শুনেছি, তোমরা তো আমল করার আগেই আমল শেষ করার পোশাক পরিধান করে ফেলো। দেখো না, শ্রমিক যখন কাজে নামে তখন সবচেয়ে নিম্নমানের পোশাক পরে। কাজ শেষ হলে গোসল করে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে। আর তোমরা কাজে নামার আগেই কাজ শেষের পোশাক পরিধান করেছ।”
আমল করার জন্য হাদীস শোনা
[৬৮৬] সালিহ ইবনু মিসমার বসরি বলেন, “আমি একজন সঙ্গীকে বললাম, আমাকে হাসানের কাছে নিয়ে চলো। তার কিছু হাদীস শ্রবণ করব। তিনি বললেন, 'আমরা শুনলাম, সে আমাদের নিয়ে গিয়েছিল যাতে আমরা আমল করতে পারি।”
তিনি হাত ধরে উপদেশ দিলেন
[৬৮৭] জাফর বলেন, “একদিন হাওশাব আমার হাত ধরে বললেন, ‘হে আবূ সুলাইমান, যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে হয়তো বন্ধুসুলভ কারও দেখা পাবে না। যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে হয়তো পথপ্রদর্শক কাউকে পাবে না।”
আল্লাহকে স্মরণকারীর দৃষ্টান্ত
[৬৮৮] হাসসান ইবনু আবী সিনান বলেন, "গাফেল ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহকে স্মরণকারীর দৃষ্টান্ত (যুদ্ধের ময়দানে) পেছনে ধাবমান ব্যক্তিদের মধ্যে যুদ্ধরত ব্যক্তির ন্যায়।”
রাতে ক্রন্দনকারীর সন্ধান
[৬৮৯] মুআবিয়া ইবনু কুররা বলেন, “কে আছে, যে আমাকে রাতে ক্রন্দনকারী আর দিবসে হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তির সন্ধান দেবে!"
আল্লাহর যিকর করার দৃষ্টান্ত
[৬৯০] আবুল হিলাল বলেন, “যে ব্যক্তি বাজারে আল্লাহর যিকর করে, তার দৃষ্টান্ত হলো, মৃত গাছের মধ্যে থাকা সবুজ শ্যামল গাছের মত।”
ইস্তিগফার কবরে সঙ্গী হবে
[৬৯১] আবুল মিনহাল বলেন, “অধিক ইস্তিগফার পাঠের চেয়ে উত্তম কোনো প্রতিবেশী মানুষ কবরে পাবে না।"
আল্লাহর কাছে সম্মানিতদের বিপদ বেশি
[৬৯২] আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা কাবের সূত্রে বর্ণনা করেন, “মানুষ যত বেশি আল্লাহর কাছে সম্মানিত হয়, তার ওপর তত বেশি বিপদ-আপদ আপতিত হয়।”
আল্লাহর ইবাদাতকারী যুবকের অবস্থা
[৬৯৩] ইয়াজিদ ইবনু মাইসারা—যিনি সাহাবি আবূ যরের দেখা পেয়েছেন—তিনি বলেন, “যে যুবক আল্লাহর ইবাদাতে নিজেকে গড়ে তুলেছে এবং সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে, সে উনসত্তরজন সিদ্দীকের সমপরিমাণ নেকি পাবে।”
টিকাঃ
[৮৭] সূরা আল হাশর, ৫৯: ২১
[৮৮] সূরা ছোয়াদ, ৩৮: ২৮
[৮১] বিস্ময়ের প্রথম অংশটি ফারসি আর শেষের অংশটি আরবি; অর্থ একই। দ্রষ্টব্য: F. Steingass, A Comprehensive Persian-English Dictionary.
[৯০] এর পরের বর্ণনাটি এই: মালিক হাসান থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন, “আল্লাহ তাআলা বুদ্ধি-বিবেককে সৃষ্টি করে তাকে আদেশ করলেন, সামনে আসো। তারপর বললেন, পিছিয়ে যাও। তখন সে পিছিয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমার থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো সৃষ্টবস্তু আমি সৃষ্টি করিনি। তোমার কারণে আমি গ্রহণ করি ও তোমার কারণেই আমি প্রদান করি।” এটি মওযু বা বানোয়াট। তাই মূল বইতে তা আনা হলো না। (দেখুন: ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যা, ২৭/২৪২; তানযীহুশ শরিয়াহ, ১/২০৩)
[৯১] মিরকাতুল মাফাতীহ, ৯/৪০৯, হাদীস নং: ৫২২০
[১২] সূরা আল আ'রাফ, ৭: ১৭৫
[১৩] অর্থাৎ সৌন্দর্যের পেছনে না ছুটে আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে কাজ করলে, তা হতো তার জন্য কল্যাণকর।
[১৪] অর্থাৎ তার নাসীহাত অন্তরে কোনো রেখাপাত করে না।- অনুবাদক
[১৫] মুরসাল, তবে সনদের সকল রাবী বিশ্বস্ত।-বাইহাকি, ২/২৮৭
[১৬] ইয়াহইয়া ছিল মালিক ইবনু দীনারের ছেলের নাম।-অনুবাদক
[৯৭] মূল গ্রন্থেই এখানে এভাবে খালি।-অনুবাদক
[৯৮] অর্থাৎ সে নিজে কিছু কেনার সময় বড়টা ব্যবহার করত আর বিক্রির সময় ছোটটা ব্যবহার করত। এভাবে লোকদের ঠকানোর শাস্তি ছিল আগুনের দুটি পাহাড়।-অনুবাদক