📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


বান্দা ও আল্লাহর মাঝে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন পড়ে না
[৫২২] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “তোমার মতো কে আছে হে বানী আদম? তোমার মাঝে আর পানি ও মিহরাবের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়নি। যখন ইচ্ছা তুমি আল্লাহর কাছে যেতে পারো। তোমার ও তার মাঝে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন পড়ে না।”

অশ্লীলতা
[৫২৩] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "অশ্লীলতা হলো এক ধরনের আবর্জনা। আর এমন আবর্জনা জাহান্নামে যাবে। লজ্জাশীলতা ঈমানের অন্তর্গত। আর ঈমান (যে গ্রহণ করবে সে) জান্নাতে যাবে।”

লোভ ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হওয়া
[৫২৪] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “কেউ ততক্ষণ মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না লোভমুক্ত ও ক্রোধমুক্ত হবে।”

আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে তিক্ত বিষয়ের সম্মুখীন করান
[৫২৫] হুমাইদ থেকে বর্ণিত, বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে তিক্ত বিষয়ের সম্মুখীন করান, যাতে করে তিনি তার পরিণতিকে শুভ করতে পারেন। তোমরা কি দেখো না সেই মহিলাকে—যে তার সন্তানকে তিক্ত জিনিস পান করায় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য।"

প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা না বলা
[৫২৬] মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমার কাছে কখনো যাকাতের সম্পদ পাওয়া যায়নি। আমি বিশ বছর যাবৎ আল্লাহ তাআলার কাছে একটি প্রয়োজনের প্রার্থনা করেছি, তিনি আমাকে তা দেননি। তবুও আমি সেই ব্যাপারে নিরাশ হইনি।” লোকেরা জানতে চাইল, “কী সেটা?” তিনি বললেন, “তার কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে করে (আমাকে এমন তাওফীক দেন যে) আমি প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা না বলি।”

আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার আবেদন
[৫২৭] আবদুর রহমান ইবনু জিয়াদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তিনি তার প্রতিবেশী বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে অভিযোগ জানিয়ে পত্র লিখলেন যে—আপনি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করুন। তখন বাকর রাহিমাহুল্লাহ তার কাছে জবাব লিখলেন—আপনার পত্র আমার হস্তগত হয়েছে। আপনি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন। একজন বান্দার অবস্থা হলো সে যদি এমন কোনো গুনাহ করে ফেলে যা করতে সে বাধ্য ছিল না এবং সে মৃত্যুকেও ভয় করে, তবে তার কর্তব্য হলো এর জন্য ভীত হওয়া। আমি আপনার জন্য দুআ করব। তবে আমি এই আশা করি না যে, আমার আমলের জোরে বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কারণে সেই দুআ কবুল করা হবে।”

আরাফার দিন ক্রন্দন করা
[৫২৮] মুআবিয়া ইবনু আবদুল কারীম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আমি বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-কে আরাফার দিন আসরের পর ধীরে ধীরে ঘটনা বর্ণনা করতে দেখলাম। তিনি কাঁদছিলেন আর কাঁদছিলেন। তার আওয়াজ ঠিকমতো শোনা যাচ্ছিল না।

আল্লাহর ইবাদাতে শক্তি ব্যয় করা
[৫২৯] আবূ খায়রাহ বলেন, “আমি বাকর ইবনু আবদুল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য তার কাছে আসলাম। তার সাথে দেখা হলো। তিনি তার প্রয়োজনে উঠে দাঁড়ালেন। আমরা ঘরেই বসে থাকলাম। (কিছুক্ষণ পর) তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যখানে নাসীহাত করতে করতে এলেন। এসে সালাম দিলেন এবং আমাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আল্লাহ তাআলা এমন বান্দাকে রহম করুন, যাকে শক্তিমত্তা দেওয়ার কারণে সে তার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করে। অথবা দুর্বলতার কারণে সে অক্ষমতায় আক্রান্ত হয়েছে, ফলে হারাম কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকে।”

ইস্তিগফার পাপকে গোপন রাখে
[৫৩০] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “তোমরা যখন অধিক পরিমাণে পাপ করো তখন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফারও করো। কেননা, মানুষ যখন একটি পাপ করে অতঃপর ইস্তিগফার করে, তখন সেটা গোপন থাকে।”

একজন বাদশাহর ঘটনা
[৫৩১] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি বলেন, “অতীত যামানায় একজন বাদশাহ ছিল। সে ছিল আল্লাহর অবাধ্য। মুসলিমরা তার সাথে যুদ্ধ করে অক্ষত অবস্থায় তাকে বন্দী করল। তারপর কোন পদ্ধতিতে তাকে হত্যা করা হবে, এটা নিয়ে তারা আলোচনা করে মতৈক্যে পৌঁছল যে, তার জন্য বড় একটি পাত্র বানিয়ে তার নিচে আগুন প্রজ্বলিত করবে এবং কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন না করিয়ে তারা তাকে হত্যা করবে না। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তা-ই করল। অতঃপর সে ব্যক্তি একে একে তার প্রভুদের ডাকতে লাগল এই বলে—হে অমুক, আমি তোমার ইবাদাত করেছি, তোমার জন্য সালাত আদায় করেছি এবং তোমার চেহারা মুছে দিয়েছি। সুতরাং তুমি আমাকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করো। যখন সে দেখল এতে কোনো কাজ হচ্ছে না, তখন সে আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করে বলল, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই’। এবং সে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে দুআ করল। তখন আল্লাহ তার জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। ফলে আগুন নিভে গেল। অতঃপর প্রবল বাতাস এসে সেই পাত্রটি উড়িয়ে নিয়ে গেল এবং আকাশ-জমিনের মধ্যস্থলে তা ঘুরপাক খেতে লাগল। সে ব্যক্তি বলতে থাকল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে এমন লোকদের কাছে নিয়ে ফেললেন যারা তার ইবাদাত করত না। ওই অবস্থাতেও সে বলছিল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। লোকেরা তাকে বাইরে বের করে এনে বলল, 'তোমার ধ্বংস হোক, কে তুমি?' সে বলল, 'আমি অমুক গোত্রের বাদশাহ।' তারপর তাদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। (এসব শুনে) তারা সকলে ঈমান গ্রহণ করল।”

স্ত্রীর সামনে বাস্তব কথা বলা
[৫৩২] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ তার স্ত্রীকে বললেন, “আমার মধ্যেও কিছু নেই— এমনটা তুমি বলতে পারো, সে আশঙ্কা যদি আমার না হতো—তবে আমি বলতাম, তোমার মধ্যে কিছু নেই।”

তিনি ঋণী অবস্থায় মারা যান
[৫৩৩] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “আমি বিত্তশালীদের মতো জীবনযাপন করব আর দরিদ্রদের মতো মৃত্যুবরণ করব।” বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি যখন মারা যান তখন তার ওপর কিছু ঋণ ছিল।”

বান্দার সাথে আল্লাহর আচরণ
[৫৩৪] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তার মুমিন বান্দার যত্ন নেন, যেভাবে তোমাদের কেউ অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিয়ে থাকো। তোমরা কি দেখো না, এক নারী কীভাবে তার সন্তানকে বারবার তেতো জিনিস জোর করে খাওয়ায় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এমনিভাবে আল্লাহও তার বান্দার সাথে অনুরূপ করে থাকেন (অর্থাৎ বিভিন্ন বিপদ-মুসিবত দিয়ে তাকে সংশোধন করেন ও গুনাহ মাফ করেন)।”

শক্তিকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করা
[৫৩৫] আবূ হায়ওয়া বলেন, "আমরা বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে দেখতে আসলাম। পরে এই রোগেই তিনি মারা যান। এ সময় তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন, 'আল্লাহ সেই বান্দাকে রহম করুন, যাকে তিনি শক্তি দিয়েছেন আর সে আল্লাহর আনুগত্যে তা কাজে লাগিয়েছে। অথবা দুর্বলতা তাকে অক্ষম বানিয়েছে, ফলে সে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হতে পারেনি।"

বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর দুআ
[৫৩৬] মুবারক বলেন, "বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-কে আমি সব সময়ই এই দুআ করতে শুনেছি-হে আল্লাহ, তোমার রহমতের ভান্ডার আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দাও। দুনিয়া-আখিরাতে এরপর আর কখনো তুমি আমাদের শাস্তি দিয়ো না। এবং তোমার প্রশস্ত অনুগ্রহের হালাল উত্তম আমাদের দান করো। এরপর আমাদের আর কখনো তুমি ছাড়া অন্য কারও দ্বারস্থ কোরো না। এর দ্বারা আমরা তোমার বেশি কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারব। অভাব-অনটনের অভিযোগ কেবল তোমারই কাছে। অন্যদের বাদ দিয়ে তোমার কাছেই ঐশ্বর্য এবং নিস্কুলষতার প্রার্থনা করি।”

পরিধেয় বস্ত্র নিয়ে সমালোচনা না করা
[৫৩৭] ইয়াজিদ ইবনু উমার বলেন, "বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ-কে আমি বসরার মাসজিদে বলতে শুনেছি, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীরা (উত্তম পোশাক) পরিধান করতেন। যারা পরিধান করতেন না, তাদের অন্যরা কিছু বলতেন না। আবার যারা পরিধান করতেন না, তারাও যারা পরিধান করতেন তাদের কিছু বলতেন না।” [৭৪]

টিকাঃ
[৭৪] অর্থাৎ তাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি বহাল ছিল। পোশাকের আভিজাত্য ছিল তাদের কাছে ছিল গৌণ।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 মুআররিফ ইজলি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 মুআররিফ ইজলি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


মুমিনের দৃষ্টান্ত
[৫৩৮] কাতাদা বলেন, “মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'মুমিনের দৃষ্টান্তরূপে আমি কেবল সে ব্যক্তিকেই দেখতে পেয়েছি, যে সমুদ্রপৃষ্ঠে ভাসমান কাষ্ঠখণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং (এই অসহায় অবস্থায়) দুআ করছে—হে আমার রব, হে আমার রব; যেন তিনি তাকে উদ্ধার করেন।”

ক্রোধান্বিত অবস্থায় বলা কথার জন্য লজ্জিত হওয়া
[৫৩৯] হিশাম থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি ক্রোধান্বিত অবস্থায় যা-ই বলেছি, পরে ক্রোধ নির্বাপিত হলে তার জন্য লজ্জিত হয়েছি।”

অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা
[৫৪০] মুয়াল্লা ইবনু জিয়াদ থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি বিশ বছর ধরে একটি জিনিসের তালাশে আছি। কিন্তু এখনো তা লাভ করতে সক্ষম হইনি। আমি কখনোই তা তালাশ করা পরিহার করব না।” লোকেরা জানতে চাইল, “কী সেটা হে আবুল মু'তামির?” তিনি বললেন, “অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা।”

আল্লাহর আনুগত্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির দৃষ্টান্ত
[৫৪১] আবূ তাইয়া থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করে, তখন যে ব্যক্তি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে তার দৃষ্টান্ত হলো-পলায়ন করার পর ফিরে আসা ব্যক্তির ন্যায়।”

টানা সাত দিন সাওম রাখা
[৫৪২] সুলাইমান রবাঈ বলেন, “আবুল হাওরা একটানা সাত দিন সাওম রাখতেন। (তবুও তিনি দুর্বল হতেন না। তার অবস্থা এমন ছিল যে,) তারপর কোনো যুবকের হাতের কবজি ধরলে মনে হতো যে, তা এখনই মচকে যাবে।”

স্ত্রী ও সন্তান পরীক্ষার বস্তু
[৫৪৩] হাফসা বিনতে সিরীন বলেন, “মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ আমাদের সাক্ষাতে এলে সালাম দিতেন। আমি তার সালামের উত্তর দিতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আপনি কেমন আছেন হে আবুল মু'তামির? আপনার স্ত্রী ও সন্তান কেমন আছে?' তিনি বললেন, 'তারা ভালো আছে।' আমি তাকে বললাম, 'আপনি রবের প্রশংসা করুন।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমার তো আশঙ্কা হয় যে, তারা আমাকে ধ্বংসের ভেতর আটকে রাখবে।”

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 মুহাম্মাদ ইবনু সিরিন রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


রাত্রি জাগরণ করা
[৫৪8] হিশাম বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য। যদিও বকরির দুধ (দোহন সময়) পরিমাণ হয়।”

লজ্জাবোধ
[৫৪৫] হাফসা বিনতে সিরীন বলেন, “যখন মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ তার মায়ের কাছে আসতেন—তখন লজ্জাবোধের কারণে—মুখ দিয়ে তার সাথে পুরো কথা বলতে পারতেন না।”

মঙ্গল কামনা করা
[৫৪৬] হাবীব থেকে বর্ণিত, ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যখন আল্লাহ কোনো বান্দার মঙ্গল করতে ইচ্ছা করেন, তখন তার অন্তরে উপদেশদাতার উদ্ভব ঘটান। সে তাকে (সৎ কাজের) আদেশ দেয় এবং (অসৎ কাজ থেকে) বারণ করে।”

মায়ের সামনে বিনয়
[৫৪৭] ইবনে আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, মুহাম্মাদের কাছে এক ব্যক্তি আগমন করল। তখন তিনি তার মায়ের কাছে ছিলেন। সে লোকটি বলল, 'মুহাম্মাদের কী হয়েছে! তিনি কি কোনো কিছুর অভিযোগ করছেন?' লোকেরা জানাল, 'না। তিনি যখন তার মায়ের কাছে থাকেন, তখন এরূপই থাকেন।”

দাওয়াত কবুল না করা
[৫৪৮] হিশাম বলেন, “মুহাল্লাবের কন্যা হিন্দ একদিন হাসান রাহিমাহুল্লাহ ও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে খাবারের দাওয়াত করল। হাসান তা কবুল করলেও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ করেননি।”

অপছন্দীয় বস্তুর মাধ্যমে সম্মান না দেখানো
[৫৪৯] আইয়ুব থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, “তোমার ভাই যা অপছন্দ করে, তার মাধ্যমে তাকে সম্মান দেখাতে যেয়ো না।"
[৫৫০] ইবনু আওন বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'লোকেরা বলত, তুমি তোমার বন্ধুকে এমন কিছুর মাধ্যমে সম্মান দেখাতে যেয়ো না, যা তার কাছে কষ্টকর মনে হয়।"

খাবার-দাবারের ব্যবসা
[৫৫১] ইবনু উআইনার আযাদকৃত দাস ওয়াসেল থেকে বর্ণিত, ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, "তোমার ব্যবসা কী?” আমি বললাম, “খাবার-দাবারের।” তিনি বললেন, "শুনে রাখো, এর ধুলোবালি অনেক!” আবু জাফর বলেন, “আমি মাখলাদকে জিজ্ঞেস করেছি—তিনি কি এর দ্বারা পাপের প্রতি ইঙ্গিত করলেন? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।”

কোনো আলেম তার ব্যাপারে কোনো মতভেদ করেনি
[৫৫২] সারীই বলেন, "আমি সুলাইমান তাইমিকে বলতে শুনেছি, তিনি তাকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছেন যে, কোনো আলেম তার ব্যাপারে কোনো মতভেদ করেনি।”

প্রথমে বিবাদ শুরুকারী ব্যক্তি
[৫৫৩] ইবনু আওন বলেন, "ইবনু সিরীনকে এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যারা পরস্পর বন্ধু ছিল। অতঃপর তারা নিজেদের মধ্যকার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে। উত্তরে তিনি বললেন, 'তাদের মধ্যে প্রথম বিবাদকারী হলো মন্দ।”

রমাদান মাসে রাত্রি জাগরণ
[৫৫৪] হিশাম বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ রমাদান মাসে রাত্রি জাগরণ করতেন।”

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যটা গ্রহণ করা
[৫৫৫] রজা ইবনু আবূ সালামাহ বলেন, "আমি ইউনুস ইবনু আবদকে হাসান ও ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, 'আমি হাসানের চেয়ে বেশি কথায় কাজে মিল আছে এমন কাউকে দেখিনি। আর ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর সামনে যদি দ্বীনের দুটি বিষয় একসাথে উপস্থাপিত হতো, তবে তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যটা গ্রহণ করতেন।"

কাযা আদায় করা
[৫৫৬] ইবনু আওন বলেন, “যখন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন তখন তিনি তার ছেলেকে বললেন, 'হে আমার সন্তান, আমার পক্ষ থেকে কাযা আদায় করো। আমার পক্ষ থেকে কেবল অঙ্গীকারের কাযা আদায় করো।' সে জিজ্ঞেস করল, 'বাবা, আমি কি আপনার পক্ষ থেকে (গোলাম) আযাদ করব?' তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে ও তোমাকে তোমার সম্পাদন করা ভালো কাজের প্রতিদান দিতে সক্ষম।”

দ্বিপ্রহরের সময় যিকর
[৫৫৭] মূসা ইবনু মুগীরা বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে দ্বিপ্রহরের সময় বাজারে প্রবেশ করতে দেখেছি। তখন তিনি তাকবীর ও তাসবীহ পড়ছিলেন এবং আল্লাহর যিকর করছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, 'হে আবূ বাকর, এই সময়েও (আপনি ইবাদাত করছেন)?' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটি হলো গাফলতের সময়। (তাই আমি একে ইবাদাতের মাধ্যমে কাজে লাগাচ্ছি)।”

এক দিন অন্তর অন্তর সাওম রাখা
[৫৫৮] ইবনু শাওযাব বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ এক দিন সাওম রাখতেন আরেক দিন রাখতেন না। যেদিন তিনি সাওম রাখতেন না, সেদিন শুধু সকালে খেতেন; সন্ধ্যায় খেতেন না। তারপর সাহরি খেয়ে (পরের দিন) সকালে সাওম রাখতেন।”

আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ
[৫৫৯] ইবনু আওন বলেন, “ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করো। স্বপ্নে কী দেখেছ, সেটার প্রতি তেমন ভ্রূক্ষেপ কোরো না।”

রাতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা
[৫৬০] হিশাম ইবনু হাসসানের স্ত্রী উম্মু আব্বাদ বলেছেন, "আমরা মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর ঘরে মেহমান হয়ে অবস্থান করেছিলাম। রাতের বেলায় তার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতাম (অর্থাৎ দিনের বেলায় তিনি হাসিখুশি থাকতেন, আর রাতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতেন)।”

ইমামতি করতে অস্বীকৃতি
[৫৬১] ইবনু আওন বলেন, “আমরা একটি জামাআতে ছিলাম। সালাতের সময় হলে ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ ঘোষণা করলেন-কুরআন সংকলকগণ ব্যতীত অন্য কেউ যেন আমাদের কাছে না আসে। (এমন ঘোষণা দেওয়ার কারণ হলো) সেখানে আমাদের সাথে কুরআন সংকলনকারীরাও ছিলেন। অতঃপর সালাত শেষ হলে আমি তাকে বললাম, 'কেন আপনি আমাদের ইমামতি করলেন না?' তিনি উত্তরে বললেন, 'এটা আমার পছন্দ না যে, লোকেরা (সালাত শেষে) চলে যাওয়ার পর বলবে, ইবনু সিরীন আমাদের ইমামতি করেছেন।”

আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রাখা
[৫৬২] জাফর বলেন, "আমি সাবেত বুনানি রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, একজন অপকর্মকারী যুবককে তার মা উপদেশ দিয়ে বলতেন, 'হে আমার সন্তান, তোমার এক দিন (অর্থাৎ মৃত্যুর দিন) আসবে। সেদিনের কথা স্মরণ করো।' তো যখন (মৃত্যু বিষয়ে) আল্লাহর আদেশ এসে গেল, তখন তার মা তার ওপর ঝুঁকে পড়ে বললেন, 'হে আমার প্রিয় সন্তান, তোমাকে আমি এই মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করে বলতাম, তোমার এক দিন (অর্থাৎ মৃত্যুর দিন) আসবে। সেদিনের কথা স্মরণ করো।' সে বলল, 'মা, আমার একজন প্রভু আছে। তিনি অসংখ্য দয়ার অধিকারী। আশা করি তিনি আমাকে আজ তার সামান্য দয়া থেকে মাহরুম করবেন না। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।' এভাবেই আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রেখেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।”

খানাপিনায় বিলাসিতা না করা
[৫৬৩] হিশাম ইবনু হাসসান বলেন, "ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে যখন বিবাহের দাওয়াত দেওয়া হতো, তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করে বলতেন, 'আমাকে ছাতুর শরবত পান করাও।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'হে আবূ আমর, আপনি তো বিবাহের দাওয়াতে যাবেন। তো ছাতুর শরবত পান করছেন কেন?' তিনি উত্তরে বলতেন, 'আমি আমার ক্ষুধার নিবারণ মানুষের খাদ্য দিয়ে করতে অপছন্দ করি।”

মৃত্যুর কথা শুনে মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া
[৫৬৪] ইবনু যুহাইর বলেন, "ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর সামনে যখন মৃত্যুর কথা আলোচনা করা হতো, তখন তার প্রত্যেকটি অঙ্গ ভিন্ন ভিন্নভাবে মৃতপ্রায় (নিস্তেজ) হয়ে পড়ত।"

কজন মহান ব্যক্তি
[৫৬৫] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, "স্বীয় যুগে সবচেয়ে জ্ঞানী হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে যদি কেউ দেখে আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন হাসান রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। তার থেকে বেশি জ্ঞানী কাউকে আমরা দেখিনি। এমনিভাবে স্বীয় যুগে সবচেয়ে পরহেজগার হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে যদি কেউ দেখে আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। গুনাহের ভয়ে তিনি অনেক হালাল জিনিস থেকেও বেঁচে থাকতেন। এমনিভাবে স্বীয় যুগে সবচেয়ে বেশি ইবাদাতগুজার হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে দেখে যদি কেউ আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন সাবেত বুনানি রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়। তার চেয়ে বেশি ইবাদাতগুজার কাউকে আমরা পাইনি। তিনি প্রচণ্ড গরমের দিন কাটাতেন সাওম রেখে। আর বাকি সময় (রাত) কাটাতেন সাজদায় পড়ে থেকে। আর স্বীয় যুগে সবচেয়ে মুখস্থ-শক্তির অধিকারী এবং যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই হাদীস বর্ণনাতে সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি তাকে দেখে যদি কেউ আনন্দ বোধ করতে চায়, তবে সে যেন কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখে নেয়।”

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জানাযা যিনি পড়িয়েছিলেন
[৫৬৬] হিশাম বলেন, “আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু ওসিয়ত করেছিলেন, যেন ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ তাকে গোসল দেন। তো যখন তিনি মারা গেলেন, তখন মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে লোক পাঠিয়ে সংবাদটি জানানো হলে তিনি বললেন, ‘আমি তো কারাগারে বন্দী।’ লোকেরা বলল, ‘আমরা আমীরের কাছে অনুমতি চেয়েছি। তিনি আপনারকে (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘আমীর তো আমাকে বন্দী করেনি। আমার ওপর যার হক আছে, তিনি আমাকে বন্দী করেছেন।’ তারপর তার ওপর যার হক রয়েছে তার কাছে সংবাদ পাঠানো হলে তিনি অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বের হয়ে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে গোসল দিলেন। পাঁচটি কাপড় দিয়ে কাফন পরালেন। যার মধ্যে একটা ছিল পাগড়ি। আর মাথা থেকে পা পর্যন্ত মিশক লাগিয়ে দিলেন।”

কল্যাণের ইচ্ছা করলে আল্লাহ সহায়ক হন
[৫৬৭] ইবনু আওন থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “বলা হয়ে থাকে— নিশ্চয়ই মানুষ যখন কল্যাণের সংকল্প করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য হুঁশিয়ারকারী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যে তাকে ভালো কাজের আদেশ দেয়, আর মন্দ কাজ থেকে বারণ করে থাকে।”

সাহাবিরা দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতেন
[৫৬৮] মাহদি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "আমাদের একজন ভগ্নিপুত্রের বিয়ে হলে খাবারের আয়োজন করা হলো। ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ তখন বললেন, 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিরা দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতেন। তারপর যখন সামান্য কোনো চামড়া পেতেন তখন (খাবারের জন্য) সেটাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। আর যদি (কোনো কিছুই) না পেতেন, তখন পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন।”

আমল কবুল করে নেওয়ার দুআ করলেন
[৫৬৯] জারীরি বলেন, “আমরা মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে ছিলাম। যখন উঠে যাবার ইচ্ছা করলাম তখন বললাম, 'হে আবূ বাকর, দাওয়াত রইল।' তিনি তখন বললেন, 'হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সর্বোত্তম আমল কবুল করে নিন। এবং জান্নাতের অধিবাসীদের সাথে যে সত্য অঙ্গীকার করা হতো, আমাদের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করুন।”

ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-এর পিছু নেওয়া
[৫৭০] হিশাম বলেন, “মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ যখন হাঁটতেন, তখন পেছনের দিকে তাকাতেন না। একবার ঈদের দিন আমি সকালে বের হলাম তাকে অনুসরণ করে এটা দেখার জন্য যে, তিনি পথে এবং ঈদগাহে কী করেন। মনে হলো তিনি কোনো সমস্যায় পড়েছেন। তাই তিনি সাধারণত যে সময়ে বের হন (সে সময়ে বের না হয়ে) দেরি করছেন। আমিও তার বের হওয়ার (অপেক্ষায়) দেরি করলাম। অনেকক্ষণ দেরি করার পর তিনি বের হলেন। চলা শুরু করার পর আমি তার পিছু নিলাম। তিনি পেছনে ফিরে আমাকে দেখে বললেন, 'যদি তুমি চোর হও তবে খুবই খারাপ মানুষ তুমি। যদি আমি জানতাম এটা আমার ও তোমার জন্য কল্যাণকর, তাহলে আমি ভ্রুক্ষেপ করতাম না।”

পিতার মৃত্যুতে সান্ত্বনা দেওয়া
[৫৭১] সাহল ইবনু আসলাম আল-আদাবি বলেন, "আমাকে আওফ আল-আরাবি আমার পিতার (মৃত্যুতে) সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 'জেনে রেখো, এই বিচ্ছেদের পর পুনরায় মিলন হবে। যদি তুমি তোমার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারো এমতাবস্থায় যে, তুমি লজ্জাবোধ করবে না, তাহলে তা-ই করো। যদি তার কোনো ওসিয়ত থাকে, তা বাস্তবায়ন করো। আমানত থাকলে তা আদায় করো। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করো। আত্মীয়-স্বজন থাকলে সম্পর্ক রক্ষা করো। জেনে রাখো, সেই মিলনের পর আবার বিচ্ছেদ আসবে। তার পর আবার এমন মিলন আসবে, যার পর আর কোনো বিচ্ছেদ নেই। অথবা এমন বিচ্ছেদ আসবে, যার পর আর কোনো মিলন নেই।”

জানা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা
[৫৭২] সাঈদ ইবনু আমের বলেন, “আওফ আল-আরাবি তার সঙ্গীদের বলতেন, ‘শুনে রাখো, আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের অজ্ঞতার কারণে কিছু শিক্ষা দিয়েছি, ব্যাপারটা এমন নয়। বরং আমরা তোমাদের সাথে তোমাদের জানা বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করলাম। যাতে করে এর দ্বারা আল্লাহা তাআলা তোমাদের উপকৃত করেন।”

নিআমাত
[৫৭৩] আবদুল্লাহ ইবনু হাসান সালেহ আল-মুররির কাছে তার মায়ের মৃত্যুতে সান্ত্বনা দিতে এলে তিনি তাকে বললেন, “যদি এই মুসিবত আপনার নিজের জন্য উপদেশস্বরূপ ঘটে থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য এক ধরনের নিআমাতই। অন্যথায় জেনে রাখুন, আপনার নিজের ক্ষেত্রে ঘটিতব্য মুসিবতটা আরও মারাত্মক।”

নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া
[৫৭৪] আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, “দুনিয়াতে যে মানুষই আমার সাথে বিদ্বেষ রাখবে, পরকালে আমি তার থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেব।”

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর জন্য দুঃখবোধ করা
[৫৭৫] উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদ বলেন, “আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি আগমন করলে উবাইদ ইবনু উমায়ের তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি মানুষকে তার জন্য কেমন পাগলপারা দেখেছ?' সে বলল, 'আল্লাহর কসম, তারা প্রচণ্ড পাগলপারা ছিল।' উবাইদ ইবনু উমায়ের বলেন, 'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর জন্য তারাই দুঃখবোধ করবেন, তিনি যাদের মাতা ছিলেন।”

কাপড় ও এক জোড়া জুতার মূল্য নির্ধারণ
[৫৭৬] ফদল ইবনু আতিইয়্যা বলেন, “আমি সালিম ইবনু আবদুল্লাহর কাছে বসেছি। তার কাপড় ও এক জোড়া জুতা তেরো দিরহাম বা পনেরো দিরহাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"

সর্বোত্তম দ্বীনদারি
[৫৭৭] উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দ্বীনদারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোনটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, 'সরল-সঠিক, সাদাসিধে দ্বীনদারি।”

সদাকা বৃদ্ধি পায়
[৫৭৮] কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সদাকা কবুল করেন। তিনি তা ডানহাতে কবুল করেন। তিনি কেবল হালালটাই কবুল করেন। তিনি খাবারের গ্রাসকে যত্ন করেন, যেভাবে তোমাদের কেউ তার উটের বাচ্চা বা ঘোড়ার বাচ্চার যত্ন নেয়। অবশেষে সেই খাবারের গ্রাস তার মালিকের জন্য ওহুদ পাহাড়ের মতো হয়ে যায়।”
বর্ণনাকারী বলেন, “আমি এই ব্যাপারে আবদুর রহমান ইবনু কাসিমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, 'এই বিষয়ে কাসিম কিছু জানে না।”

সর্বোত্তম সদাকা
[৫৭৯] আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, أَتَدْرُونَ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ "তোমরা কি জানো, কোন সদাকা সর্বোত্তম?”
সাহাবিরা বলল, “আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বললেন, الْمِنْحَةُ أَنْ يَمْنَحَ أَخَاهُ دَرَاهِمَ أَوْ ظَهْرَ الدَّابَّةِ أَوْ لَبَنَ الشَّاةِ أَوْ لَبَنَ الْبَقَرَةِ “স্বীয় ভাইকে দিরহাম, বাহন বা বকরির দুধ অথবা গাভির দুধ প্রদান করা।”[৭৫]

কুরআন তিলাওয়াতের ফায়দা
[৫৮০] আবুল বুখতারি থেকে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "তোমরা কুরআন শিক্ষা করো এবং তা তিলাওয়াত করো। কারণ, প্রত্যেক হরফের বিনিময়ে তোমরা দশ করে নেকি পাবে। আমি কিন্তু বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলিয়ে দশ নেকি। বরং আলিফে দশ, লামে দশ ও মীমে দশ।”

গোপনে নিমন্ত্রণ উত্তম
[৫৮১] উকবা ইবনু আবদুল গাফির বলেন, “গোপনে নিমন্ত্রণ করা সত্তরবার প্রকাশ্যে নিমন্ত্রণ জানানো থেকে উত্তম। যখন কোনো বান্দা প্রকাশ্যে কোনো উত্তম আমল করে এবং গোপনেও অনুরূপ আমল করে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন-এ-ই হলো আমার সত্যিকার বান্দা।”

জামাতে ঈশা ও ফজরের সালাত আদায় করার ফযীলত
[৫৮২] উকবা ইবনু আবদুল গাফির থেকে বর্ণিত, “জামাতে ঈশার সালাত আদায় করা হাজ্জের মতো (সওয়াবের কারণ)। এবং ফজরের সালাত জামাতে আদায় করা উমরার মতো (সওয়াবের কারণ)।”

প্রতিবেশীর গীবতে লিপ্ত হওয়ার ভয় করা
[৫৮৩] সুফিয়ান বলেন, “এক ব্যক্তি বলত, আমি নতুন কাপড় পরিধান করা অপছন্দ করি। কারণ, এতে আমার প্রতিবেশী আমাকে দেখে গীবতে লিপ্ত হয়ে গুনাহে জড়িয়ে পড়ে।”

ইয়াকীন ও ঈমানের বর্ণনা
[৫৮৪] আবু জাফর বলেছেন, “ইয়াকীন হলো ঝুঁকিপূর্ণ আর ঈমান হলো অন্তরে স্থিত।”

আয়াতের ব্যাখ্যা
[৫৮৫] আমের আল-আহওয়াল বলেন, وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا “আমি তাদের মাঝে ধ্বংসস্থান বানিয়েছি।”[৭৬] এই আয়াতের ব্যখ্যায় নাওফ বলেছেন, "এটি হলো পথভ্রষ্টদল ও মুমিনদের মধ্যকার একটি উপত্যকা।”
[৫৮৬] সাঈদ ইবনু জুবায়ের وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا “আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য বন্দীশালা বানিয়েছি।”[৭৭] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “(এর দ্বারা উদ্দেশ্য) কারাগার।”

পুঁজ ও রক্তে তৈরি জাহান্নামের নদী
[৫৮৭] আবুল আলা বলেন, আমি আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি, তাকে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا
“আমি তাদের মাঝে ধ্বংসস্থান বানিয়েছি।”[৭৮]
তিনি বলেছিলেন, “এটি পুঁজ ও রক্তে তৈরি জাহান্নামের একটি নদী।”

পৃথিবীর ডানা হলো মিসর ও বসরা
[৫৮৮] আবূ ইমরান জাওনি ও আবূ হারুন আবদি বলেন, "আমরা নাওফকে বলতে শুনেছি, দুনিয়াকে পাখির মতো করা হয়েছে। যখন তার ডানা কেটে যায়, সে পড়ে যায়। আর পৃথিবীর ডানা হলো মিসর ও বসরা। যখন এই দুই অঞ্চল ধ্বংস হবে তখন দুনিয়া বিনষ্ট হয়ে যাবে।”

আখিরাতে জামিনদার হওয়ার ঘোষণা
[৫৮৯] ওয়াসেল বলেন, "কতক সালাফ বলেছেন, যদি তোমাদের কোনো স্তুতিকারী না থাকে, তবে আমি আখিরাতে তোমাদের জন্য জামিনদার হব।”

জাহান্নামের একজন ফেরেশতার বর্ণনা
[৫৯০] আবূ ইমরান জাওনি বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যে, মালিক নামক জাহান্নামের একজন ফেরেশতার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী জায়গার দূরত্ব এক শরৎকালের পথ। সে একজন জাহান্নামীকে প্রহার করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেবে।"

এক আবেদের পত্র
[৫৯১] মালিক ইবনু দীনার বলেন, “এক আবেদ আরেক আবেদের কাছে পত্র লিখল- পরসমাচার হলো, আপনি কেমন আছেন এবং আপনার অবস্থা কী? তিনি তার জবাবে লিখলেন-তোমার নিজের অবস্থা কী? তোমাকে আমার অবস্থা (সম্পর্কে জানা থেকে) বিরত রাখেনি!”
[৫৯২] আবদুল্লাহ বলেন, "আমি আমার পিতাকে এটি পড়ে শুনিয়েছি। তিনি তা সমর্থন করেছেন।"

সাওম রাখতে উৎসাহ প্রদান
[৫৯৩] সাবিত থেকে বর্ণিত, "আসআস বলতেন, চলো আমরা আমাদের দিনকে কাগজে পরিণত করব। অর্থাৎ এমন কাগজ, যা পানাহার করে না। (সাওম রাখার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন)।"

আল্লাহভীরু হতে অলসতা না করা
[৫৯৪] ইবনু আওন থেকে বর্ণিত, ইবনু সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহভীরু হতে অলসতা কোরো না। সৎকর্মশীল হতে অলসতা কোরো না।”

আমি আইয়ুবের কাছে তা বর্ণনা করেছি। তিনি বলেছেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইরকে বলতে শুনেছি:
وَ لِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ
'তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেওয়া পরহেজগারদের কর্তব্য'।[৭৯]
مَّتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ
'যে খরচ প্রচলিত আছে তা সৎকর্মশীলদের ওপর দায়িত্ব।'[৮০]
তিনি (এর ব্যাখ্যায়) বলেছেন, "প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তার জন্যই খরচ রয়েছে।"

ভালোবাসার লোকদের কাছে কম সময় অবস্থান করা
[৫৯৫] আবূ মুআবিয়া গলাবি বলেন, "আমার কাছে কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনু উবাইদ একটি জানাযা থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে হাসান তাকে পেছন থেকে আবূ আবদুল্লাহ, আবূ আবদুল্লাহ বলে ডাক দেন। তখন তিনি তার দিকে ফিরে বললেন, 'যদি তুমি এমন লোকদের কাছে আসো, যারা তোমাকে ভালোবাসে এবং তুমিও তাদের ভালোবাসো, তাহলে তাদের কাছে খুব কম সময়ই অবস্থান করো'।”

বিগত জাতির চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেওয়া
[৫৯৬] আবূ মুআবিয়া বলেন, "আমাকে বসরা শহরের এক ব্যক্তি বলেছেন, হাসান রাহিমাহুল্লাহ-এর একটি ঘর ছিল। যার দরজা খোলা থাকার মানে হলো (ভেতরে প্রবেশের) অনুমতি আছে। তার সঙ্গীদের মধ্য হতে কেউ এসে দরজা খোলা পেলে প্রবেশ করতেন। তো এক ব্যক্তি এসে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে হাসানকে দেখতে পেল না। সে খাটের নিচে একটা ঝুড়ি দেখতে পেয়ে তা টেনে বের করে আনল। সেখানে খাবার রাখা ছিল। সে তা খেতে শুরু করল। ইতোমধ্যে হাসান এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কাণ্ডকারখানা দেখতে লাগল। একপর্যায়ে তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। তিনি কাঁদা শুরু করলেন। সে ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, 'হে আবু সাঈদ, আপনি কাঁদছেন কেন?' তিনি বললেন, 'তুমি আমাকে গত হয়ে যাওয়া জাতির চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দিলে!"

সুখের সময়ে দুআ করার সুফল
[৫৯৭] সালমান বলেন, “যখন মানুষ সুখের কালে দুআ করে অতঃপর সে কোনো বিপদে আক্রান্ত হয় এবং (তখনো) দুআ করে তখন ফেরেশতারা বলে, আওয়াজটা পরিচিত। তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর যখন সে সুখের সময়ে দুআ করে না এবং পরবর্তী সময় বিপদে আক্রান্ত হলে দুআ করে তখন ফেরেশতারা বলে, আওয়াজটা অপরিচিত। এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করে না।”

যিকর করার ফায়দা
[৫৯৮] সাবিত বলেন, "আমরা আবূ উসমান আন-নাহদির পাশে বসা ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে ছিলেন এবং দুআ করছিলেন। এরপর বললেন, 'আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।' অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, 'যদি আমরা সত্যবাদী হয়ে থাকি।”

তারা সকলেই কাঁদল
[৫৯৯] আবূ ইমরান আল-জাওনি বলেন, "আমরা মাসজিদে অবস্থান করছিলাম। ইতোমধ্যে জনৈক বৃদ্ধ এলেন। তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ, হে মাসজিদে অবস্থানকারীরা! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমেই জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের পূর্ণ করবেন।' এ কথা শুনে আমরা সকলেই কাঁদলাম।”

আবু মুসলিম খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ-এর উপদেশ
[৬০০] উবায়দুল্লাহ ইবনু আবী শুমাইত তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, “আবূ মুসলিম খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ ঘুরে ঘুরে ইসলামের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। একসময় তিনি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এলেন। তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠান। আসার পর তাঁকে বললেন, 'তোমার নাম কী?' তিনি বললেন, 'মুআবিয়া।' তিনি বললেন, 'তুমি একজন ক্ষুদ্র সৃষ্টি, যে অতিসত্বর কবরে যাবে। তুমি ভালো আর মন্দ যে কাজই করো, প্রতিদান দেওয়া হবে। হে মুআবিয়া, যদি তুমি গোটা পৃথিবীবাসীর সাথে ন্যায় আচরণ করো এবং একজনের সাথে অন্যায় আচরণ করো, তবে অন্যায়ের সামনে ন্যায়ের কোনো প্রভাব থাকবে না।”

সর্বাপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক বস্তু
[৬০১] জাফর বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসিকে বলতে শুনেছি, জগতের সর্বাপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক বস্তু হচ্ছে জামাতে সালাত আদায় ও ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ।”

সম্পদ দান করে দেওয়া
[৬০২] জাফর ইবনু সুলাইমান বলেন, “আমাদের একজন সঙ্গী আমাদের বলেছেন, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ ব্যবসা করে অর্থসম্পদ লাভ করতেন। কিন্তু এমন কোনো শুক্রবার আসত না, যেদিন তার নিকট সেসব মালের কিছু বাকি থাকত। সাক্ষাৎ হওয়ামাত্রই তিনি তার ভাইদের চার শ, পাঁচ শ, তিন শ দিরহাম পরিমাণ দিয়ে দিতেন। অতঃপর তাদের কাছে বলতেন, এগুলো রেখে দাও। আমাদের প্রয়োজন হলে ফেরত নেব। এরপর যখন তাদের সাথে দেখা হতো বলতেন, ওটা রেখে দাও। কাউকে বলতেন, আমার এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। আরও বলতেন, আল্লাহর শপথ, আমি এগুলো কখনোই গ্রহণ করছি না। সুতরাং এটা তো আপনারই।”

ভালো কাজে দুর্বল হলে মন্দ কাজেও দুর্বল হওয়া উচিত
[৬০৩] জনৈক ব্যক্তি মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলল, “হে আবূ মু'তামির! আমি নিজের নফসের ব্যাপারে আপনাকে অভিযোগ করছি। আমি সালাত-সাওম করতে সক্ষম নই। মুআররিক বললেন, “ধিক তোমার নফসকে! তুমি যখন ভালো কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে পড়েছ, তাহলে মন্দ কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে যাও। কেননা, আমি তো ঘুমিয়ে খুশি হই।[৮১]

ফকির-মিসকিনদের দান করতেন
[৬০৪] কাতাদা হতে বর্ণিত, “মুআররিক আল-ইজলি রাহিমাহুল্লাহ ব্যবসা করতেন। তার কাছে যখন সম্পদ জমা হতো তিনি তা ফকির-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন এবং বলতেন, যদি তারা না থাকত, তবে আমি ব্যবসা করতাম না।”

সারা বছর সাওম রাখতেন
[৬০৫] যুহাইর আল-বুনানি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ সারা বছর সাওম রাখতেন। পাতলা দুটি রুটি দ্বারা ইফতার করতেন। তার কাছে সম্পদ ছিল, তিনি তা দ্বারা ব্যবসা করতেন। অতঃপর অভাবীদের মাঝে লভ্যাংশ বণ্টন করে দিতেন। অটুট রাখতেন ভ্রাতৃত্ববন্ধন। তিনি বলতেন, 'ফকিররা যদি না থাকত তবে আমি ব্যবসা গুটিয়ে নিতাম।”

ভালো কাজে দুর্বল হলে মন্দ কাজেও দুর্বল হওয়া উচিত
[৬০৬] ইয়াজিদ সুন্নি বলেন, “এক ব্যক্তি মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ-কে বলল, 'হে আবূ মু'তামির, আমি নিজের নফসের ব্যাপারে আপনাকে অভিযোগ করছি। আমি সালাত- সাওম করতে সক্ষম নই।' মুআররিক বললেন, 'ধিক তোমার নফসকে! তুমি যখন ভালো কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে পড়েছ, তাহলে মন্দ কাজের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে যাও। কেননা, আমি তো ঘুমিয়ে খুশি হই।[৮২]

তিনি খুব কম রাগ করতেন
[৬০৭] ইয়াজিদ সুন্নি থেকে বর্ণিত, মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি খুব কম রাগ করি। এমনও হয়েছে, এক বছর এমনভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে যে আমি রাগ করিনি। খুব কমই এমন হয়েছে যে, রাগ করা অবস্থায় আমি যা বলেছি-তার কারণে রাগ থেমে যাবার পর আমি লজ্জিত হইনি।”

সালাত আদায় করা সবচেয়ে উত্তম
[৬০৮] ইবনু আওফ বলেন, "আমি আবূ রজাকে বলতে শুনেছি, প্রতিদিন পাঁচবার করে আল্লাহর জন্য আমি আপন চেহারা ধুলোয় ধূসরিত করব, এরচেয়ে উত্তম কোনো সান্ত্বনা আমার জন্য আর নেই।”[৮৩]

তিনি রমাদানে প্রতি দশ দিনে কুরআন খতম করতেন
[৬০৯] আবুল আশহাব বলেন, "আবূ রজা রমাদানের রাতের সালাতে প্রতি দশ দিনে আমাদের নিয়ে খতম দিতেন।"

উটের মতো না বসা
[৬১০] আইয়ুব থেকে বর্ণিত, আবূ রজা বলেন, "উটের মতো বসতে আমি লাঞ্ছিতবোধ করি।"

টিকাঃ
[৭৫] সনদ যঈফ। মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৬৩। হাইসামি রাহিমাহুল্লাহ এ হাদীসের সকল বর্ণনাকারীকে সহীহ বলেছেন, কিন্তু আলবানি রাহিমাহুল্লাহ তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।-যঈফুল জামি : ৯৯
[৭৬] সূরা কাহাফ, ১৮:৫২
[৭৭] সূরা ইসরা, ১৭:৮
[৭৮] সূরা কাহাফ, ১৮:৫২
[৭৯] সূরা বাকারা, ২:২৪১
[৮০] সূরা বাকারা, ২:২৩৬
[৮১] অর্থাৎ যতক্ষণ ঘুমে থাকি, ততক্ষণ মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনু কুতাইবা, আল-মাআরিফ, পৃ. ২৬৬
[৮২] অর্থাৎ যতক্ষণ ঘুমে থাকি, ততক্ষণ মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনু কুতাইবা, আল- মাআরিফ, পৃ. ২৬৬।
[৮৩] অর্থাৎ প্রতিদিন পাঁচবার করে সালাত আদায় করার ফলে সাজদায় চেহারা ধূলিধূসরিত হওয়া অনেক বড় সান্ত্বনার বিষয়।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


আমলনামার অবস্থা
[৬১১] আবুত তাইয়াহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে এই আয়াত পড়তে শুনেছি :
وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا
'আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কিয়ামাতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি আমলনামা, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।'[৮৪]
তারপর তিনি বললেন, 'দুইবার খোলা হবে একবার গুটানো হবে। হে বানী আদম, যখন তুমি পাপাচার করো, তখন তোমার আমলনামা খোলা অবস্থায় থাকে। সুতরাং তুমি যা ইচ্ছা তা দিয়ে সেটি পূর্ণ করো। যখন তোমার মরণ হবে, তখন সেই আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হবে। তারপর যখন তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন আবার তা খোলা হবে। (তারপর বলা হবে) 'পাঠ করো তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসেব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।' (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭ : ১৪)।”

তিনি স্ত্রীর মাথায় পানি ঢেলে দিলেন
[৬১২] মাখলাদ ইবনু হুসাইন বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর ঘরে পানি পান করতে চাইল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, 'কূপে এক ফোঁটা পানিও নেই। অথবা তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এক ফোঁটা পানিও নেই।' তখন তিনি (আবুস সওয়ার) গিয়ে কূপের তলানি থেকে (পানি এনে তা) স্ত্রীর মাথায় ঢেলে দিয়ে বললেন, 'এই যে দেখো কত ফোঁটা পানি!'”[৮৫]

এক-দশমাংশও ভালো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৬১৩] সালিম ইবনু নূহ বলেন, "আওফ জুমুআর দিন (মাসজিদে) যাচ্ছিলেন। তো ইউনুস তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কী?' আওফ বললেন, 'আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আপনার সব খবরাখবর ভালো তো?' তিনি বলেছিলেন, 'হায়! যদি এক-দশমাংশও ভালো হতো!"

ইলমের চর্চা করাও এক ধরনের ইবাদাত
[৬১৪] ইবনু শাওযাব বলেন, "আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ একটি মজলিসে ছিলেন। যেখানে ইলমের চর্চা হচ্ছিল। তাদের সাথে একজন যুবকও ছিল। সে বলল, 'আপনারা বলুন, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ।' তখন আবুস সওয়ার ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, 'তোমার ধ্বংস হোক, আমরা তাহলে এতক্ষণ কিসে মগ্ন ছিলাম?” [৮৬]

জ্বালাতন করতে আসা ব্যক্তির সাথে তার আচরণ
[৬১৫] মাখলাদ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবুস সওয়ার আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-কে জ্বালাতন করতে এল। তিনি চুপ করে থাকলেন। তারপর ঘরে পৌঁছে বা প্রবেশ করে বললেন, 'ইচ্ছে হলে এবার ক্ষান্ত হতে পারো।”

মাসজিদ আখিরাতের বাজার
[৬১৬] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ একবার এক ব্যক্তিকে মাসজিদে (কোনো কিছু) বিক্রি করতে দেখে ডাক দিয়ে বললেন, 'এটি হলো আখিরাতের বাজার। যদি তোমার (কোনো কিছু) বিক্রি করার দরকার হয়, তবে দুনিয়ার বাজারে যাও।”

দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো
[৬১৭] মালিক বলেন, "আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। আমি তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি না। তোমরা তো দুনিয়ার প্রতি লালসা রাখো এবং দুনিয়ার ব্যাপারেই উপদেশ কামনা করো।"

আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-এর নিন্দা
[৬১৮] আবুস সওয়ার থেকে বর্ণিত, “হাকাম ইবনু আইয়ুব খুতবা দিলেন। তিনি দুনিয়াবিমুখতার কথা বলতে শুরু করলেন। তখন আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘সে মানুষদের দুনিয়াবিমুখতার কথা শোনায়, অথচ তার কাছেই ত্রিশ হাজার (মুদ্রা) রয়েছে।”

সাওম অবস্থায় চুম্বন মাকরূহ
[৬১৯] আবূ খালদাহ বলেন, “আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে সাওম পালনকারী ব্যক্তির চুম্বন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, 'বৃদ্ধদের জন্য কিছুটা ছাড় আছে। আর যুবকরা সীমালঙ্ঘন করে ফেলার আশঙ্কা থাকায় তাদের জন্য এটি মাকরূহ।”

ইমামের পেছনে তাসবীহ ও তাকবীর
[৬২০] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি আবুস সওয়ার রাহিমাহুল্লাহ-কে ইমামের পেছনে কিরাআত পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, 'তাসবীহ পড়বে ও তাকবীর বলবে।”

ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর মর্তবা
[৬২১] আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু ফারাজ বলেন, “যখন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন নেমে এল, অর্থাৎ তিনি বন্দিত্ব ও প্রহারের সম্মুখীন হলেন, তখন আমার ওপরও কিছু বিপদ নেমে এল। আমি নিজেকে স্বপ্নে দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হলো, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আল্লাহ তাআলার দরবারে আবুস সওয়ারের মতো তার মর্তবা হোক? যদিও তুমি তার কাছে রেওয়াত করোনি। আমি বললাম, অবশ্যই (সন্তুষ্ট)।”
বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি (ইমাম আহমাদ) আল্লাহর কাছে সেই মর্তবার ছিলেন।”

তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন
[৬২২] হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই উম্মতের একজন উদ্ধত লোক আবুস সওয়ার আদাওয়িকে ডেকে দ্বীনি বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করল। তিনি তার জ্ঞান অনুযায়ী এর উত্তর দিলেন। সে তাকে বলল, 'অন্যথা হলে কিন্তু তুমি ইসলাম থেকে মুক্ত (অর্থাৎ তুমি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে)।' তিনি বললেন, 'কোন ধর্মে আমি ধাবিত হব তাহলে?' এবার সে বলল, 'অন্যথা হলে তোমার স্ত্রী কিন্তু তালাক হয়ে যাবে।' তিনি বললেন, 'রাত্রিবেলা তাহলে আমি কার আশ্রয়ে যাব?' (এসব উত্তর শুনে) সে লোক তাকে চল্লিশটি চাবুকের ঘা দিলো। হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহর কসম, চাবুকের ঘা তাকে কিছুই করতে পারবে না।' আবু জাফর বলেন, 'আমি আবূ আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনু হাম্বাল-এর কাছে এসে এই বিষয়ে তাকে অবগত করালাম। তখন তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন।”

মাসজিদে এলে তিনি প্রফুল্ল হতেন
[৬২৩] আবূ খালদাহ বলেন, "আমি মাসজিদে বানী আদিতে আবুস সওয়ারকে শুনলাম মুআযাহ আদাওয়িয়াকে তিনি বলছেন, 'তোমাদের একেকজন মাসজিদে এসে মাথা ঠেকাও আর পেছন দিক উঁচু করে রাখো।' তিনি বললেন, 'আপনি কেন এসব লক্ষ করেন? আপনি আপন চোখে মাটি ঢালুন এবং এসব দেখা বন্ধ করুন।' তিনি বললেন, 'আমি অবশ্যই তা দেখতে সক্ষম। তবে এর জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।' তিনি বললেন, 'হে আবূ সওয়ার, আমি যখন বাড়িতে থাকি তখন বাচ্চারা আমাকে ব্যস্ত করে রাখে। আর যখন মাসজিদে আসি তখন সেটা আমার জন্য অধিক প্রফুল্লমূলক হয়ে থাকে।' তিনি বললেন, 'তোমার ব্যাপারে প্রফুল্লমূলক হওয়াটার আশঙ্কাই তো আমি করি।”

সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ-এর চিঠি
[৬২৪] আবদুল্লাহ ইবনু আবী শুমাইত তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "সাঈদ ইবনু জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ আবূ সওয়ার আল-আদাওয়ি রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে চিঠি লিখলেন এই বলে: 'ভাই, পরসমাচার এই যে, তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করো। আপন ঘরকে প্রশস্ত রাখো এবং নিজ পাপের জন্য ক্রন্দন করো। কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। যেহেতু তিনি তোমাকে নিরাপদ রেখেছেন। শয়তান (থেকে নিজেকে) মুক্ত মনে করবে না। যতদিন বেঁচে থাকবে সে তোমাকে ধোঁকা দিয়ে যাবে।”

অকল্যাণ থেকে দূরে থাকার উপদেশ
[৬২৫] বিলাল ইবনু আবূদ দারদা বলেন, "আমার পিতা বলেছেন, যখন তুমি অকল্যাণ দেখবে তখন এর বাহককে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেবে। (অর্থাৎ তুমি নিজে তাতে জড়াতে যাবে না। অবশ্য যদি তা সংশোধনের সুযোগ থাকে তবে সংশোধন করা উচিত।)”
[৬২৬] হাসান বলেন, “ইমরান ইবনু হুসাইন বলেছেন, খাবারদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল খাবারগ্রহীতারা। উপদেশদানকারীদের বিদায় ঘটেছে। রয়ে গেছে কেবল ভুলোমনা ব্যক্তিরা।”
হাসান বলেন, “শুনে রাখো, ইমরান যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আমি তা (কথাগুলো) বারবার বলতাম।”

বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা
[৬২৭] জাফর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “ফারকাদ আস-সিনজি একজন বড় শাইখ ছিলেন। আমি একবার তার কাছে গেলাম। এক ব্যক্তি তার সামনে দৃষ্টিকটু অবস্থায় দাঁত খিলাল করছিল। সে তার মুখের ভেতর খাবার রেখেই কথা বলছিল এবং (এই অবস্থাতেই) খাচ্ছিল। তিনি (জাফর) তাকে বললেন, 'হে আবূ ইয়াকুব, তুমি এমন কোরো না।' সেই লোক বলল, '(আমি এমন করছি) যাতে করে আমার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।”

আল্লাহ তার সাথে সহজ আচরণ করলেন
[৬২৮] বিশর ইবনু মুফাদদল বলেন, “আমি বিশর ইবনু মানসূরকে স্বপ্নে দেখলাম। তাকে বললাম, 'হে আবূ মুহাম্মাদ, আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি যতটা কঠিন ভেবেছি ব্যাপারটি ছিল তারচেয়ে আরও অনেক সহজ।”

টিকাঃ
[৮৪] সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭: ১৩
[৮৫] অর্থাৎ ঘরে পানি না থাকলেও কূপ থেকে কষ্টকরে এনে সেই ব্যক্তিকে পান করানো সম্ভব ছিল। স্ত্রী সেটা করেনি বিধায় তিনি কিছুটা রাগ করেছিলেন।-অনুবাদক
[৮৬] অর্থাৎ ইলমের চর্চা করাটাও এক ধরনের ইবাদাত। যারা এতে লিপ্ত থাকে তারা ইবাদাতের সওয়াব পেতে থাকে। সুতরাং তারা ইবাদাতের মধ্যে নেই এমনটা মনে করে যুবকের দেওয়া যিকর করার উপদেশটা ভুল ছিল। যার ফলে আবুস সওয়ার তাকে ওই কথা বললেন।-অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00