📄 আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
এক সময় মানুষ কুরআন বিমুখ হয়ে যাবে
[৫১১] জাফর থেকে বর্ণিত, আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষের অন্তর কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে যাবে। তারা কুরআনের মিষ্টতা ও স্বাদ পাবে না। তারা তাদের প্রতি আদিষ্ট বিষয়ে অলসতা প্রদর্শন করার সময় বলবে—নিশ্চয়ই আল্লাহ অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। আর নিষিদ্ধ কাজ করার সময় বলবে—আমরা তো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করিনি। তিনি আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। তাদের ব্যাপারটা পুরোই লোকদেখানো। সেখানে সত্যের লেশমাত্র নেই। তারা নেকড়ে-অন্তরের ওপর বকরির চামড়া চড়িয়ে থাকে। (অর্থাৎ প্রকৃত সত্যকে ঢেকে রাখে। প্রকাশ হতে দেয় না।) তাদের মধ্যে তোষামোদকারী ব্যক্তিকে দ্বীনদারিতে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ (মনে করা হবে)।"
বাড়তি আয়োজন করতে তিনি নিষেধ করলেন
[৫১২] শুআইব ইবনু হাজ্জাব বলেন, “একদিন আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ আমাদের ঘরে আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা কিছুটা বাড়তি আয়োজন করতে চাইলে তিনি বললেন, 'আমাকে ঘরে থাকা খাবারই দাও। বাড়তি আয়োজন কোরো না।”
সাওম পালনকারী ব্যক্তি ইবাদাতের ভেতর থাকে
[৫১৩] হিশাব ইবনু হাফসা থেকে বর্ণিত, আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “সাওম পালনকারী ব্যক্তি ইবাদাতের ভেতর থাকে, যতক্ষণ না সে গীবতে লিপ্ত হয়। যদিও সে আপন বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে।”
ঘরের লোকেরাই ঘরের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত
[৫১৪] শুআইব থেকে বর্ণিত, আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “তুমি কোনো কওমের কাছে যাবার পর যখন তারা তোমার দিকে কিছু এগিয়ে দেয়, তখন ঠিক সেখানেই বসো যেখানে তোমার জন্য বালিশ বিছানো হয়েছে। কারণ, ঘরের লোকেরাই তাদের ঘরের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত।”
ইবাদাতে মগ্ন থাকার নাসীহাত
[৫১৫] রবী থেকে বর্ণিত, আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “ইবাদাতে মগ্ন থাকো এবং যে ইবাদাতে মগ্ন থাকে, তাকে ভালোবাসো। আর পাপাচার থেকে দূরে থাকো এবং যে পাপাচারে লিপ্ত হয়, তার বিরুদ্ধাচরণ করো। আল্লাহ যদি চান তবে পাপীদের শাস্তি দেবেন। অথবা চাইলে তিনি তাদের ক্ষমাও করে দিতে পারেন।”
কুরআন শিখে তা তিলাওয়াত না করা অপরাধ
[৫১৬] আবূ খালদাহ আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, “আমরা যে পাপকে সবচেয়ে মারাত্মক মনে করতাম তা হলো, কোনো ব্যক্তির কুরআন শিখে তা তিলাওয়াত না করে ঘুমিয়ে থাকা।”
[৫১৭] খালিদ ইবনু দীনার বলেন, “আমি আবুল আলিয়াকে বলতে শুনেছি— কুরআন শিক্ষা করে তা তিলাওয়াত না ঘুমিয়ে থাকা এবং একপর্যায়ে তা ভুলে যাওয়াকে আমরা সবচেয়ে জঘন্য পাপ হিসেবে গণ্য করতাম।”
📄 আবু কিলাবা রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
কিয়ামাতের দিন মুনাফিকরা মাথা নিচু করে রাখবে
[৫১৮] আবূ কিলাবা বলেন, “আরশের দিক থেকে কিয়ামাতের দিন একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন:
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
'মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোনো ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।[৭২]
তখন প্রত্যেকেই মাথা তুলে বলবে :
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
'যারা ঈমান এনেছিল এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।[৭৩]
তখন মুনাফিক যারা তারা মাথা নিচু করে ফেলবে।”
বেশি হাদীস বর্ণনা করা
[৫১৯] আমর ইবনু মাইমুন বলেন, “আবূ কিলাবা একবার উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে এলে তিনি তাকে বললেন, 'হে আবূ কিলাবা, বর্ণনা করো।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি বেশি হাদীস (বর্ণনা করা) অপছন্দ করি আবার বেশি চুপ থাকাও অপছন্দ করি।'”
হাদীস না জানলে তা বর্ণনা না করা
[৫২০] আইয়ুব থেকে বর্ণিত, আবূ কিলাবা বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীস জানে না, সে যেন তা বর্ণনা না করে। এটি তার ক্ষতির কারণ হবে। তাকে উপকৃত করবে না।”
মৃতের সামনে চুপচাপ থাকা
[৫২১] আইয়ুব বলেন, “আমি আবূ কিলাবার সাথে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। আমরা একজন কিচ্ছাকারের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তার সঙ্গীদের আওয়াজও উঁচু ছিল। তখন আবূ কিলাবা বললেন, যদি তারা চুপচাপ থাকার মাধ্যমে মৃতকে সম্মান জানাত (তাহলে কতই-না ভালো হতো)।”
টিকাঃ
[৭২] সূরা ইউনুস, ১০: ৬২
[৭৩] সূরা ইউনুস, ১০: ৬৩
📄 বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
বান্দা ও আল্লাহর মাঝে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন পড়ে না
[৫২২] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “তোমার মতো কে আছে হে বানী আদম? তোমার মাঝে আর পানি ও মিহরাবের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়নি। যখন ইচ্ছা তুমি আল্লাহর কাছে যেতে পারো। তোমার ও তার মাঝে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন পড়ে না।”
অশ্লীলতা
[৫২৩] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "অশ্লীলতা হলো এক ধরনের আবর্জনা। আর এমন আবর্জনা জাহান্নামে যাবে। লজ্জাশীলতা ঈমানের অন্তর্গত। আর ঈমান (যে গ্রহণ করবে সে) জান্নাতে যাবে।”
লোভ ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হওয়া
[৫২৪] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “কেউ ততক্ষণ মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না লোভমুক্ত ও ক্রোধমুক্ত হবে।”
আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে তিক্ত বিষয়ের সম্মুখীন করান
[৫২৫] হুমাইদ থেকে বর্ণিত, বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে তিক্ত বিষয়ের সম্মুখীন করান, যাতে করে তিনি তার পরিণতিকে শুভ করতে পারেন। তোমরা কি দেখো না সেই মহিলাকে—যে তার সন্তানকে তিক্ত জিনিস পান করায় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য।"
প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা না বলা
[৫২৬] মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমার কাছে কখনো যাকাতের সম্পদ পাওয়া যায়নি। আমি বিশ বছর যাবৎ আল্লাহ তাআলার কাছে একটি প্রয়োজনের প্রার্থনা করেছি, তিনি আমাকে তা দেননি। তবুও আমি সেই ব্যাপারে নিরাশ হইনি।” লোকেরা জানতে চাইল, “কী সেটা?” তিনি বললেন, “তার কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে করে (আমাকে এমন তাওফীক দেন যে) আমি প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা না বলি।”
আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার আবেদন
[৫২৭] আবদুর রহমান ইবনু জিয়াদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তিনি তার প্রতিবেশী বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে অভিযোগ জানিয়ে পত্র লিখলেন যে—আপনি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করুন। তখন বাকর রাহিমাহুল্লাহ তার কাছে জবাব লিখলেন—আপনার পত্র আমার হস্তগত হয়েছে। আপনি আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন। একজন বান্দার অবস্থা হলো সে যদি এমন কোনো গুনাহ করে ফেলে যা করতে সে বাধ্য ছিল না এবং সে মৃত্যুকেও ভয় করে, তবে তার কর্তব্য হলো এর জন্য ভীত হওয়া। আমি আপনার জন্য দুআ করব। তবে আমি এই আশা করি না যে, আমার আমলের জোরে বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কারণে সেই দুআ কবুল করা হবে।”
আরাফার দিন ক্রন্দন করা
[৫২৮] মুআবিয়া ইবনু আবদুল কারীম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আমি বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-কে আরাফার দিন আসরের পর ধীরে ধীরে ঘটনা বর্ণনা করতে দেখলাম। তিনি কাঁদছিলেন আর কাঁদছিলেন। তার আওয়াজ ঠিকমতো শোনা যাচ্ছিল না।
আল্লাহর ইবাদাতে শক্তি ব্যয় করা
[৫২৯] আবূ খায়রাহ বলেন, “আমি বাকর ইবনু আবদুল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য তার কাছে আসলাম। তার সাথে দেখা হলো। তিনি তার প্রয়োজনে উঠে দাঁড়ালেন। আমরা ঘরেই বসে থাকলাম। (কিছুক্ষণ পর) তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যখানে নাসীহাত করতে করতে এলেন। এসে সালাম দিলেন এবং আমাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আল্লাহ তাআলা এমন বান্দাকে রহম করুন, যাকে শক্তিমত্তা দেওয়ার কারণে সে তার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করে। অথবা দুর্বলতার কারণে সে অক্ষমতায় আক্রান্ত হয়েছে, ফলে হারাম কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকে।”
ইস্তিগফার পাপকে গোপন রাখে
[৫৩০] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “তোমরা যখন অধিক পরিমাণে পাপ করো তখন অধিক পরিমাণে ইস্তিগফারও করো। কেননা, মানুষ যখন একটি পাপ করে অতঃপর ইস্তিগফার করে, তখন সেটা গোপন থাকে।”
একজন বাদশাহর ঘটনা
[৫৩১] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি বলেন, “অতীত যামানায় একজন বাদশাহ ছিল। সে ছিল আল্লাহর অবাধ্য। মুসলিমরা তার সাথে যুদ্ধ করে অক্ষত অবস্থায় তাকে বন্দী করল। তারপর কোন পদ্ধতিতে তাকে হত্যা করা হবে, এটা নিয়ে তারা আলোচনা করে মতৈক্যে পৌঁছল যে, তার জন্য বড় একটি পাত্র বানিয়ে তার নিচে আগুন প্রজ্বলিত করবে এবং কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন না করিয়ে তারা তাকে হত্যা করবে না। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তা-ই করল। অতঃপর সে ব্যক্তি একে একে তার প্রভুদের ডাকতে লাগল এই বলে—হে অমুক, আমি তোমার ইবাদাত করেছি, তোমার জন্য সালাত আদায় করেছি এবং তোমার চেহারা মুছে দিয়েছি। সুতরাং তুমি আমাকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করো। যখন সে দেখল এতে কোনো কাজ হচ্ছে না, তখন সে আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করে বলল, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই’। এবং সে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে দুআ করল। তখন আল্লাহ তার জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। ফলে আগুন নিভে গেল। অতঃপর প্রবল বাতাস এসে সেই পাত্রটি উড়িয়ে নিয়ে গেল এবং আকাশ-জমিনের মধ্যস্থলে তা ঘুরপাক খেতে লাগল। সে ব্যক্তি বলতে থাকল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে এমন লোকদের কাছে নিয়ে ফেললেন যারা তার ইবাদাত করত না। ওই অবস্থাতেও সে বলছিল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। লোকেরা তাকে বাইরে বের করে এনে বলল, 'তোমার ধ্বংস হোক, কে তুমি?' সে বলল, 'আমি অমুক গোত্রের বাদশাহ।' তারপর তাদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। (এসব শুনে) তারা সকলে ঈমান গ্রহণ করল।”
স্ত্রীর সামনে বাস্তব কথা বলা
[৫৩২] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ তার স্ত্রীকে বললেন, “আমার মধ্যেও কিছু নেই— এমনটা তুমি বলতে পারো, সে আশঙ্কা যদি আমার না হতো—তবে আমি বলতাম, তোমার মধ্যে কিছু নেই।”
তিনি ঋণী অবস্থায় মারা যান
[৫৩৩] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “আমি বিত্তশালীদের মতো জীবনযাপন করব আর দরিদ্রদের মতো মৃত্যুবরণ করব।” বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি যখন মারা যান তখন তার ওপর কিছু ঋণ ছিল।”
বান্দার সাথে আল্লাহর আচরণ
[৫৩৪] বাকর ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তার মুমিন বান্দার যত্ন নেন, যেভাবে তোমাদের কেউ অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিয়ে থাকো। তোমরা কি দেখো না, এক নারী কীভাবে তার সন্তানকে বারবার তেতো জিনিস জোর করে খাওয়ায় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এমনিভাবে আল্লাহও তার বান্দার সাথে অনুরূপ করে থাকেন (অর্থাৎ বিভিন্ন বিপদ-মুসিবত দিয়ে তাকে সংশোধন করেন ও গুনাহ মাফ করেন)।”
শক্তিকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করা
[৫৩৫] আবূ হায়ওয়া বলেন, "আমরা বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে দেখতে আসলাম। পরে এই রোগেই তিনি মারা যান। এ সময় তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন, 'আল্লাহ সেই বান্দাকে রহম করুন, যাকে তিনি শক্তি দিয়েছেন আর সে আল্লাহর আনুগত্যে তা কাজে লাগিয়েছে। অথবা দুর্বলতা তাকে অক্ষম বানিয়েছে, ফলে সে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হতে পারেনি।"
বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর দুআ
[৫৩৬] মুবারক বলেন, "বাকর ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ-কে আমি সব সময়ই এই দুআ করতে শুনেছি-হে আল্লাহ, তোমার রহমতের ভান্ডার আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দাও। দুনিয়া-আখিরাতে এরপর আর কখনো তুমি আমাদের শাস্তি দিয়ো না। এবং তোমার প্রশস্ত অনুগ্রহের হালাল উত্তম আমাদের দান করো। এরপর আমাদের আর কখনো তুমি ছাড়া অন্য কারও দ্বারস্থ কোরো না। এর দ্বারা আমরা তোমার বেশি কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারব। অভাব-অনটনের অভিযোগ কেবল তোমারই কাছে। অন্যদের বাদ দিয়ে তোমার কাছেই ঐশ্বর্য এবং নিস্কুলষতার প্রার্থনা করি।”
পরিধেয় বস্ত্র নিয়ে সমালোচনা না করা
[৫৩৭] ইয়াজিদ ইবনু উমার বলেন, "বাকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানি রাহিমাহুল্লাহ-কে আমি বসরার মাসজিদে বলতে শুনেছি, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীরা (উত্তম পোশাক) পরিধান করতেন। যারা পরিধান করতেন না, তাদের অন্যরা কিছু বলতেন না। আবার যারা পরিধান করতেন না, তারাও যারা পরিধান করতেন তাদের কিছু বলতেন না।” [৭৪]
টিকাঃ
[৭৪] অর্থাৎ তাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি বহাল ছিল। পোশাকের আভিজাত্য ছিল তাদের কাছে ছিল গৌণ।-অনুবাদক
📄 মুআররিফ ইজলি রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া
মুমিনের দৃষ্টান্ত
[৫৩৮] কাতাদা বলেন, “মুআররিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'মুমিনের দৃষ্টান্তরূপে আমি কেবল সে ব্যক্তিকেই দেখতে পেয়েছি, যে সমুদ্রপৃষ্ঠে ভাসমান কাষ্ঠখণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং (এই অসহায় অবস্থায়) দুআ করছে—হে আমার রব, হে আমার রব; যেন তিনি তাকে উদ্ধার করেন।”
ক্রোধান্বিত অবস্থায় বলা কথার জন্য লজ্জিত হওয়া
[৫৩৯] হিশাম থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি ক্রোধান্বিত অবস্থায় যা-ই বলেছি, পরে ক্রোধ নির্বাপিত হলে তার জন্য লজ্জিত হয়েছি।”
অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা
[৫৪০] মুয়াল্লা ইবনু জিয়াদ থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি বিশ বছর ধরে একটি জিনিসের তালাশে আছি। কিন্তু এখনো তা লাভ করতে সক্ষম হইনি। আমি কখনোই তা তালাশ করা পরিহার করব না।” লোকেরা জানতে চাইল, “কী সেটা হে আবুল মু'তামির?” তিনি বললেন, “অনর্থক জিনিস থেকে নীরবতা অবলম্বন করা।”
আল্লাহর আনুগত্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির দৃষ্টান্ত
[৫৪১] আবূ তাইয়া থেকে বর্ণিত, মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করে, তখন যে ব্যক্তি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে তার দৃষ্টান্ত হলো-পলায়ন করার পর ফিরে আসা ব্যক্তির ন্যায়।”
টানা সাত দিন সাওম রাখা
[৫৪২] সুলাইমান রবাঈ বলেন, “আবুল হাওরা একটানা সাত দিন সাওম রাখতেন। (তবুও তিনি দুর্বল হতেন না। তার অবস্থা এমন ছিল যে,) তারপর কোনো যুবকের হাতের কবজি ধরলে মনে হতো যে, তা এখনই মচকে যাবে।”
স্ত্রী ও সন্তান পরীক্ষার বস্তু
[৫৪৩] হাফসা বিনতে সিরীন বলেন, “মুআররিক ইজলি রাহিমাহুল্লাহ আমাদের সাক্ষাতে এলে সালাম দিতেন। আমি তার সালামের উত্তর দিতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আপনি কেমন আছেন হে আবুল মু'তামির? আপনার স্ত্রী ও সন্তান কেমন আছে?' তিনি বললেন, 'তারা ভালো আছে।' আমি তাকে বললাম, 'আপনি রবের প্রশংসা করুন।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমার তো আশঙ্কা হয় যে, তারা আমাকে ধ্বংসের ভেতর আটকে রাখবে।”