📄 সৎ আগ্রহ অনুযায়ী পরিবেশ সৃষ্টি হয়
ইসলাম ঐ আল্লাহর মনোনীত দ্বীন, যিনি বড় সুন্দর। কাজেই এ দ্বীন তার অনুসারীদের মাঝে এমন রূহ-প্রাণ, চিত্তাকর্ষক অবস্থা সৃষ্টি করে, যাতে তার থেকে এমন কোনও আচরণ আশা করা যায় না, যা কুরুচির পরিচায়ক। যেমন, কোন কারণ ছাড়াই জুতা-সেন্ডেল পরিধান করা ব্যতীত রাস্তা-ঘাটে ও অলী-গলিতে চলাফেরা করা। এক পায়ে জুতা পরিধান করা, অপর পা খালি রাখা। অথবা এমন কোনও অবস্থা গ্রহণ করা, যা দেখে লোকেরা হাসি-ঠাট্টা করে। এগুলো কোন আত্মমর্যাদাবান মুসলমানের জন্য কোনও অবস্থাতেই শোভা পায় না। পথপ্রদর্শক নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- "অধিকাংশ সময় জুতা-সেন্ডেল পরিধান করে থাক। জুতা পরিধানকারীও এক ধরনের আরোহণকারী।"
এ নির্দেশের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হচ্ছে, একজন আরোহণকারী যেভাবে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত থাকে এবং কীঁট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু জমীনে বিস্তৃত ইত্যাদি বহু ধরনের যন্ত্রণাদায়ক, কষ্টদায়ক বস্তু থেকে নিরাপদ থাকে, অনুরূপভাবে জুতা পরিধানকারী ব্যক্তিও ঐ সব কষ্টদায়ক বস্তু থেকে নিরাপদ হয়ে দ্বিগুণ মর্যাদা ও সম্মানের পাত্র হয়ে যায়। নবীজী আরও বলেন- কেউ এক জুতা (এক পায়ে) পরিধান করে চলবে না বরং উভয় পায়ে জুতা পরিধান করবে; অথবা উভয়টা খুলে রাখবে।"
📄 পথচারীর কর্তব্য
পথচারীর কর্তব্য হল, সে রাস্তার হক আদায় করবে। আর রাস্তার হক হল, তুমি রাস্তায় কোনও রূপ বাধা-বিঘ্নের কারণ হবে না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বা এমনভাবে বসা, যাতে অন্যের যাতায়াতের সময় সামনে পড়ে, তবে এতে তার রাস্তার হক বিনষ্ট করা হয়। কিন্তু যদি কোনও অপারগতার কারণে রাস্তায় দাঁড়াতে বা বসতে হয়, তাহলে এ অবস্থায় রাস্তার হক আদায় করার জন্য নবীজীর নির্দেশিত হেদায়েত অনুযায়ী ছয়টি বিষয় গুরুত্ব সহকারে লক্ষ্য রাখবেঃ
১. দৃষ্টি অবনমিত রাখবে।
২. কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে দিবে।
৩. সালামের জবাব দেওয়ার উপর পরিপূর্ণ গুরুত্ব দেবে।
৪. ভাল কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগানোর প্রতি খেয়াল রাখবে।
৫. পথভোলাদের পথ দেখাবে।
৬. মসীবত-বিপদগ্রস্থ লোকদেরকে সাধ্যমত সাহায্য করবে।
📄 আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ লাভের জন্য দু’আ করা
মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়, বিশেষতঃ আজকাল তো বিপদের আশঙ্কা তাকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরে। দ্রুতগতির যানবাহন রাস্তা-ঘাট এমন বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ নিজের সচেতনতা ও প্রাণান্তকর চেষ্টা সত্ত্বেও প্রতি মুহূর্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ও দুশ্চিন্তায় থাকে। সাধারণ রাস্তা ঘাট ও রাজপথ উভয়ের পার্শ্বে অশ্লীলতা, কষ্ট-যন্ত্রণা ও ভোগান্তির অন্ত নেই। এগুলো থেকে নিজের মন-মানসিকতা ও ব্রেনের গুনাহ এবং চিন্তা-ভাবনার পবিত্রতা রক্ষা করে চলাফেরা করা যদিও অসম্ভব নয়, তথাপি অবশ্যই এটা মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়েছে। পদে পদে দ্বীন, ঈমান, চরিত্র, ভদ্রতা, সভ্যতা এবং লজ্জা-শরমের সম্পদ লুটতরাজকারী বিষ-বাষ্প উপস্থিত। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার অপার অনুগ্রহ-অনুকম্পাই এবং তাঁর সাহায্যই নিরাপত্তার প্রকৃত যিম্মাদার হতে পারে। আর আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ অনুকম্পা এবং সাহায্য দু'আ এর মাধ্যমেই হাসিল করা যেতে পারে। কি অপার অনুগ্রহ রহমতে আলম নবীজীর। তিনি এ পরিস্থিতিতে আমাদেরকে বড় সারগর্ভ দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন। যার বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপঃ
"আল্লাহ তা'আলার নামেই আমি বাইরে কদম বাড়াচ্ছি, পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং তাঁর উপরেই আমার ভরসা। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এসব বিষয় থেকে। যেমন, আমরা কোন দুর্ঘটনার শিকার হই অথবা অন্য কেউ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেয় অথবা আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়ে যাই। আমরা নিজের উপর যুলুম করি কিংবা অন্য কেউ আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করে; আমরা স্বয়ং অজ্ঞতা-মূর্খতায় নিমজ্জিত হই অথবা অন্য কেউ আমার সাথে মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করে।"