📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দম্ভভরে চলা ফেরা থেকে বেঁচে থাকা

📄 দম্ভভরে চলা ফেরা থেকে বেঁচে থাকা


প্রতারণা ও অহংকার এমনই নিন্দিত ও নিকৃষ্ট স্বভাব, যে মনের ভেতর তা স্থান নেয়, সেখানে ঈমান ও ইবাদত থাকা অসম্ভব। কাজেই ইসলামী সমাজ এটা আদৌ পছন্দ করে না যে, তার চলার পথে দম্ভ-অহংকারের বহিঃপ্রকাশ হোক। পবিত্র কুরআনে প্রজ্ঞাপূর্ণ ও প্রভাবময় ভঙ্গিতে দাম্ভিক চালচলনের নিন্দাবাদ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হাকীমে ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা জমীনে দম্ভভরে চলাফেরা কর না। তোমরা জমীন বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং চূড়ায়ও পৌঁছুতে পারবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল)

এ ধরনের চলাফেরা সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন- জমীনে দম্ভভরে চল না। আল্লাহ তা'আলা আত্মম্ভরী, আত্ম-পছন্দকারী ও আত্মপ্রশংসাকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা লুকমান)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 স্বতন্ত্রতা প্রকাশ থেকে বেঁচে থাকা

📄 স্বতন্ত্রতা প্রকাশ থেকে বেঁচে থাকা


কেউ কেউ আত্মম্ভরিতা এবং আত্মঅহমিকা নিয়ে নিজেকে বড় মনে করে চলার চেষ্টা করে। এ ধরনের ব্যক্তি নিজের সঙ্গী-সাথীদের সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করতে চায়। এ জন্য সে কখনও সবার আগে আগে চলে। কখনও স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য কত অঙ্গ-ভঙ্গি অবলম্বন করে। কিন্তু দুজাহানের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সঙ্গীদের মাঝে অনুসৃত ও নেতা হওয়ার কারণে বিরাট স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি চলার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের স্বতন্ত্রতা দেখাতেন না। ইতিহাস, জীবনী ও হাদীসের মাধ্যমে নবীজীর কর্মধারা যেভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে, তার সারকথা হচ্ছে, নবীজী সঙ্গী-সাথীদের সাথে চলার সময় কখনও স্বতন্ত্রভাব প্রকাশ হতে দিতেন না। অধিকাংশ সময় সাহাবায়ে কিরামের পিছনে চলতেন। কখনও কখনও দ্বিধাহীন চিত্তে সঙ্গী-সাথীদের হাত ধরে চলতেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 চলার সময় দৃষ্টি সামনে রাখা

📄 চলার সময় দৃষ্টি সামনে রাখা


প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের উপর বিশ্বাসী প্রত্যেক ব্যক্তি সভ্যতা-ভদ্রতা, লজ্জা-শরম, গাম্ভীর্যতা, বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতির বাস্তব দৃষ্টান্তে পরিণত হন। রাস্তা-ঘাটে চলার সময়ও তার থেকে এসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার দৃষ্টিতে লাজ লজ্জা দীপ্তমান হতে থাকে। তার চিন্তা ও মন ঈমান-আমল ও আখলাক-চরিত্রের স্বাদে একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার নেয়ামতে পরিপূর্ণ থাকে। কাজেই চলার সময় দৃষ্টি সামনে থাকে, অবনমিত থাকে। উদাস-বিভ্রান্তদের মত ডানে-বামে এদিক-সেদিক তাকানো তার শানের পরিপন্থী। নিজের শ্রেষ্ঠ মনীব ও নেতার দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মধারা আলোর ফোয়ারার মত সর্বক্ষণ তার চোখের সামনে থাকে। যেমন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলার সময় নিজের শরীর মোবারক সামনে ঝুঁকিয়ে রাখতেন। মনে হত যেন তিনি কোনও উপরের স্থান থেকে নিচে অবতরণ করেছেন। তিনি গাম্ভীর্যের সাথে কিছুটা দ্রুত চলতেন। শরীর সবল ও চঞ্চল রাখতেন। চলার সময় ডানে-বামে তাকাতেন না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নারী পুরুষের চলার পার্থক্য

📄 নারী পুরুষের চলার পার্থক্য


ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় অপরিচিত, গাইরে-মাহরাম নারীদের সাথে পুরুষের মেলা-মেশা কোনও অবস্থাতেই পছন্দনীয় ও ভাল কাজ নয়। কাজেই পথ চলার সময় পুরুষদের চেষ্টা করতে হবে, যাতে সে গাইরে-মাহরাম নারীদের এড়িয়ে চলতে পারে। মহিলাদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন পথ চলার সময় মাঝা-মাঝি স্থান ছেড়ে পাশ দিয়ে এবং অপরিচিত, গাইরে-মাহরাম পুরুষদের থেকে বেঁচে বেঁচে চলে। শরী'আতে মুতাহ্হারার পুতপবিত্র ও সুস্পষ্ট ব্যবস্থায় এ সতর্কতাকে কত বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, রহমতে আলম নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস মুবারক থেকে তা পরিমাপ করা যায়। তিনি ইরশাদ করেন- নর্দমায় পতিত এবং দুর্গন্ধযুক্ত কাদামাটিতে জড়িত শূকরের সাথে টক্কর লাগতে পারে, কিন্তু কোনও পরপুরুষের ধাক্কা লাগা মেনে নেওয়া যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00