📄 আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও আদর্শ চালচলন
প্রত্যেক মুসলমানই ইসলামী সভ্যতার উজ্জ্বল নমুনা। কাজেই একজন মুসলমান যখন কোনও রাস্তাঘাটে চলা-ফেরা করবে, তখন অবশ্যই তার চলা-ফেরার ধরনও এমন হওয়া উচিত, যা তার ধর্ম-সভ্যতার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী হবে। মহান আল্লাহ তাঁর পছন্দনীয় বান্দাদের চলাফেরার ধরন ব্যাখ্যা করে বলেন- "রহমানের (দয়ালুর) প্রকৃত বান্দা ঐ ব্যক্তি, যে যমীনে বিনীতভাবে চলাফেরা করে।" (সূরা ফুরকান) নরমভাবে চলার অর্থ হল, তার চলা-ফেরায় অহমিকা, দাম্ভিকতা থাকবে না। কৃত্রিমতা বা লৌকিক দরিদ্রতা, দৈন্যতা তথা ভিক্ষবৃত্তি থাকবে না। তার পদক্ষেপ এমন ঢিলা ও আলসে হবে না, যাতে লোকেরা তাকে রোগাক্রান্ত ভেবে পথেই তার রোগের কারণে ছিঃ ছিঃ বলতে শুরু করে। দুজাহানের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পথ চলতেন, লম্বা লম্বা কদম দিতেন। পা টেনে হেঁচড়ে কখনও চলতেন না।
📄 দম্ভভরে চলা ফেরা থেকে বেঁচে থাকা
প্রতারণা ও অহংকার এমনই নিন্দিত ও নিকৃষ্ট স্বভাব, যে মনের ভেতর তা স্থান নেয়, সেখানে ঈমান ও ইবাদত থাকা অসম্ভব। কাজেই ইসলামী সমাজ এটা আদৌ পছন্দ করে না যে, তার চলার পথে দম্ভ-অহংকারের বহিঃপ্রকাশ হোক। পবিত্র কুরআনে প্রজ্ঞাপূর্ণ ও প্রভাবময় ভঙ্গিতে দাম্ভিক চালচলনের নিন্দাবাদ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হাকীমে ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা জমীনে দম্ভভরে চলাফেরা কর না। তোমরা জমীন বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং চূড়ায়ও পৌঁছুতে পারবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল)
এ ধরনের চলাফেরা সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন- জমীনে দম্ভভরে চল না। আল্লাহ তা'আলা আত্মম্ভরী, আত্ম-পছন্দকারী ও আত্মপ্রশংসাকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা লুকমান)
📄 স্বতন্ত্রতা প্রকাশ থেকে বেঁচে থাকা
কেউ কেউ আত্মম্ভরিতা এবং আত্মঅহমিকা নিয়ে নিজেকে বড় মনে করে চলার চেষ্টা করে। এ ধরনের ব্যক্তি নিজের সঙ্গী-সাথীদের সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করতে চায়। এ জন্য সে কখনও সবার আগে আগে চলে। কখনও স্বকীয়তা প্রকাশের জন্য কত অঙ্গ-ভঙ্গি অবলম্বন করে। কিন্তু দুজাহানের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সঙ্গীদের মাঝে অনুসৃত ও নেতা হওয়ার কারণে বিরাট স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি চলার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের স্বতন্ত্রতা দেখাতেন না। ইতিহাস, জীবনী ও হাদীসের মাধ্যমে নবীজীর কর্মধারা যেভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে, তার সারকথা হচ্ছে, নবীজী সঙ্গী-সাথীদের সাথে চলার সময় কখনও স্বতন্ত্রভাব প্রকাশ হতে দিতেন না। অধিকাংশ সময় সাহাবায়ে কিরামের পিছনে চলতেন। কখনও কখনও দ্বিধাহীন চিত্তে সঙ্গী-সাথীদের হাত ধরে চলতেন।
📄 চলার সময় দৃষ্টি সামনে রাখা
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের উপর বিশ্বাসী প্রত্যেক ব্যক্তি সভ্যতা-ভদ্রতা, লজ্জা-শরম, গাম্ভীর্যতা, বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতির বাস্তব দৃষ্টান্তে পরিণত হন। রাস্তা-ঘাটে চলার সময়ও তার থেকে এসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার দৃষ্টিতে লাজ লজ্জা দীপ্তমান হতে থাকে। তার চিন্তা ও মন ঈমান-আমল ও আখলাক-চরিত্রের স্বাদে একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার নেয়ামতে পরিপূর্ণ থাকে। কাজেই চলার সময় দৃষ্টি সামনে থাকে, অবনমিত থাকে। উদাস-বিভ্রান্তদের মত ডানে-বামে এদিক-সেদিক তাকানো তার শানের পরিপন্থী। নিজের শ্রেষ্ঠ মনীব ও নেতার দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মধারা আলোর ফোয়ারার মত সর্বক্ষণ তার চোখের সামনে থাকে। যেমন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলার সময় নিজের শরীর মোবারক সামনে ঝুঁকিয়ে রাখতেন। মনে হত যেন তিনি কোনও উপরের স্থান থেকে নিচে অবতরণ করেছেন। তিনি গাম্ভীর্যের সাথে কিছুটা দ্রুত চলতেন। শরীর সবল ও চঞ্চল রাখতেন। চলার সময় ডানে-বামে তাকাতেন না।