📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লেনদেন

📄 ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লেনদেন


তাদের কঠিন ও নাজায়েয চাহিদা ও কর্কশ ভাষাগুলো তিনি সহ্য করতেন। ইয়াহুদী ও মুসলমানদের মাঝে যদি কোনও ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিত, তাহলে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া পক্ষপাতিত্ব করতেন না। সুতরাং এ জাতীয় অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার এক ইয়াহুদী এসে অভিযোগ করল- মুহাম্মদ! দেখ, এক মুসলমান আমাকে থাপ্পর মেরেছে। নবীজী ঐ মুসলমানকে তৎক্ষণাত ডেকে এনে শাসন করলেন।

• নাজরান থেকে একবার একদল খ্রিস্টান নবীজীর দরবারে আসল। তিনি তাদের মেহমানদারী করলেন। মসজিদে নামায পড়ার অনুমতিও দিয়েছেন। সাধারণ মুসলমান যখন তাদেরকে বাঁধা দিতে চাইল, নবীজী তাদেরকে নিষেধ করলেন।

• নবীজী দাস-দাসীদের সাথে স্নেহশীল থাকতেন। বলতেন- এরা তোমাদের ভাই। নিজে যা খাও, তাদেরকে তা খাওয়াও। যা নিজে পরিধান কর, তাদেরকে তা পরিধান করাও। নবীজীর মালিকানায় যে দাস-দাসী আসত, তিনি তাদেরকে সব সময় মুক্ত করে দিতেন। কিন্তু তারা নবীজীর অনুগ্রহ-অনুকম্পার শৃঙ্খলমুক্ত হতে পারত না। পিতা-মাতা, বংশ-গোত্র ও আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে সারা জীবন তাঁর গোলামীকে গৌরবময় মনে করত।

• যায়েদ বিন হারেসা নবীজীর গোলাম ছিলেন। তাকে তিনি মুক্ত করে দেন। তাকে তাঁর পিতা নিতে আসে। কিন্তু সে এ রহমতের দরবারের উপর পিতৃস্নেহকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হয়নি। তিনি পিতা-মাতার সাথে যেতে পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করেন।

• উসামা বিন যায়েদকে নবীজী এত ভালোবাসতেন যে তিনি বলতেন- উসামা যদি মেয়ে হত তবে আমি তাকে অলংকার সজ্জিত করতাম। নিজ হাতে তার নাক পরিষ্কার করতেন। দাস-দাসীদের প্রতি নবীজীর এত স্নেহ ও দয়া ছিল যে, অনেক কাফিরের গোলাম-বাঁদি পলায়ণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে এসে হাজির হত। আর তিনি তাদেরকে আযাদ করে দিতেন।

গনীমতের মাল-সম্পদ বণ্টন হলে তিনি দাস-দাসীদেরকেও সেখান থেকে একটা অংশ পাইয়ে দিতেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের কাছে যেহেতু কোনও মাল-সম্পদের ব্যবস্থা থাকত না, তাই যে আমদানী হত, তা থেকে প্রথমে তাদেরকে দান করতেন।

• একবার জি'রানা নামক স্থানে নবীজী তাশরীফ রাখেন এবং নিজের মোবারক হাতে মানুষের মাঝে গোশত বণ্টন করতে থাকেন। ইতোমধ্যে এক মহিলা আসল এবং নবীজীর কাছে চলে এল। নবীজী তাকে দেখে অনেক সম্মান প্রদর্শন করেন। নিজের চাদর মোবারক তার জন্য বিছিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন- আমি প্রশ্ন করলাম, এ মহিলা কে ছিলেন? তখন লোকেরা বলল- এ মহিলা নবীজীর দুধমাতা রাযি. ছিলেন।

• অনুরূপভাবে নবীজী এক জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি আসলেন। তিনি ছিলেন নবীজীর দুধ পিতা। তিনি তাঁর সম্মানে নিজের চাদর মোবারকের এক প্রান্ত বিছিয়ে দেন। অতঃপর দুধমাতা আসেন। তিনি চাদরের অপর প্রান্ত বিছিয়ে দেন। অবশেষে দুধভাই আসে। তখন তিনি ওঠে দাঁড়ান এবং তাকে নিজের সামনে বসালেন।

• হযরত আবু যর রাযি. একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী। একবার তাকে ডেকে পাঠালেন। তখন তিনি ঘরে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর নবীজীর খেদমতে হাযির হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুয়ে ছিলেন। তাকে দেখে নবীজী উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। জা'ফর রাযি. ও যখন আবিসিনিয়া থেকে ফিরে আসেন তখন নবীজী তাকে গলায় জড়িয়ে নেন এবং তার কপালে চুমু খান।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উত্তম লেন-দেন

📄 উত্তম লেন-দেন


নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যধিক উদারচিত্ত ও মহানুভব হওয়ার কারণে অধিকাংশ সময় ঋণী থাকতেন। এমনকি মৃত্যুর সময়ও তিনি কয়েক মন ফসলের জন্য ইয়াহুদীর কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু সব সময় উত্তম লেন-দেনের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। মদীনায় সাধারণতঃ ইয়াহুদীরা ধনী লোক ছিল। আর অধিকাংশ সময় নবীজীর তাদের থেকে ঋণ গ্রহণ করতেন। ইয়াহুদীরা সাধারণতঃ কর্কশভাষী ও রুক্ষ স্বভাবের ছিল নবীজী তাদের সব ধরনের কর্কশতা বরদাশত করতেন। নবুওয়াতের পূর্বে যেসব লোকদের সাথে নবীজীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল, তারা সব সময় নবীজীর সততা, বিশ্বস্ততা এবং উত্তম লেন-দেনের প্রশংসা করত। এজন্য কুরাইশ সম্প্রদায় তাকে সম্মিলিতভাবে 'আল-আমীন' উপাধিতে ভূষিত করেছে। নবুওয়াতের পরে কুরাইশ সম্প্রদায় হিংসা-বিদ্বেষ ও ক্রোধের আগুনে জ্বলছিল। তথাপি তাদের ধন-সম্পদের নিরাপদ স্থান নবীজীই ছিলেন।

আরবে সায়েব নামে এক ব্যবসায়ী ছিল। সে মুসলমান হয়ে নবীজীর দরবারে হাজির হল। লোকজন তার সম্পর্কে প্রশংসাসূচক কথা বলে নবীজীর নিকট তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়, নবীজী বলেন- আমি তাকে তোমাদের চেয়ে ভাল চিনি। সায়েব রাযি. বলেন- আমার পিতা মাতা কুরবান হোক। আপনি আমার ব্যবসায়ী সঙ্গী ছিলেন। কিন্তু সব সময়ই লেন-দেন পরিষ্কার রাখতেন। একবার জনৈক ব্যক্তি পরিমাণ করে কিছু খেজুর নিলেন। কিছু দিন পর সে ঋণের জন্য তাগাদা করতে আসল। নবীজী একজনকে বললেন- তার পাওনা পরিশোধ করে দাও। এক আনসারী সাহাবী খেজুর পরিশোধ করে দিলেন। কিন্তু পরিশোধকৃত খেজুর তেমন উন্নতমানের ছিল না, যেমন উন্নতমানের খেজুর সে ঋণ দিয়েছিল। ঋণদাতা এ খেজুর নিতে অস্বীকার করল। অন্যান্য আনসারী সাহাবীগণ বললেন- তুমি নবীজীর দেওয়া খেজুর গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছ? সে বলল- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ইনসাফকারী না হন, তাহলে আর কার উপর ভরসা রাখা যাবে। একথা শুনে নবীজীর চোখে পানি এসে যায়। তিনি বলেন- সে ঠিক কথাই বলেছে।

• একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একজনের কাছ থেকে উট করয নেন। যখন ফিরিয়ে দেন, তখন তার চেয়ে উত্তম উট ফেরৎ দেন এবং বলেন- তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।

• একবার মদীনা শরীফের বাইরে ছোট্ট একটি কাফেলা এসে বেচাকেনা করছিল। তাদের সঙ্গে একটি লাল রঙের উট ছিল। ঘটনাচক্রে সে পথ দিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিক্রান্ত হোন। নবীজী উটের মূল্য জিজ্ঞাসা করা ছাড়াই উটটি ক্রয় করে নেন এবং উটের লাগাম ধরে শহরের পথে রওনা হয়ে যান। পরক্ষণে লোকদের খেয়াল হল, আমরা অপরিচিত লোকের কাছে কেন উট সোপর্দ করে দিলাম? এ রকম বোকামির জন্য কাফেলার সকলেই লজ্জা পেল। কাফেলার সাথে একজন মহিলাও ছিল। সে বলল- নিশ্চিন্তে থাক। আমরা আজ পর্যন্ত কারও মুখ এত উজ্জল দেখিনি। অর্থাৎ এমন লোক প্রতারণা করতে পারে না। রাত হলে পরে নবীজী তাদের জন্য উটখানার মূল্য বাবদ খেজুর পাঠালেন।

• গযওয়ায়ে হুনাইনে নবীজীর কিছু হাতিয়ারের প্রয়োজন ছিল। সফওয়ান তখনও কাফির ছিলেন। তার কাছে অনেকগুলো বর্ম ছিল। নবীজী তার কাছে কিছু বর্ম চাইলেন। সে বলল- মুহাম্মদ! কী' কিছু লুটতরাজের ইচ্ছা আছে? নবীজী বললেন- না, আরিয়াতান (ধার হিসেবে) চাচ্ছি। এর মধ্যে যদি কোনও একটা খোয়া যায়, তার ক্ষতিপূরণ দেব। তিনি ত্রিশ-চল্লিশটি বর্ম ধার হিসেবে মুসলমানদেরকে এনে দিলেন। হুনাইনের যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে যখন হাতিয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্রের হিসাব করা হল, তখন কয়েকটি বর্ম কম দেখা গেল। নবীজী সফওয়ানকে বললেন- তোমার কয়েকটি বর্ম কম আছে। এগুলোর বিনিময় গ্রহণ কর। সফওয়ান আরয করল- হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনের অবস্থা এখন আর পূর্বের মত নেই অর্থাৎ সে মুসলমান হয়ে গেছে। এখন বিনিময়ের প্রয়োজন নেই।

• একবার এক বেদুঈন উটের গোশত বিক্রয় করছিল। নবীজীর ভাবলেন, ঘরে খেজুর আছে। তিনি এক ওসাক খেজুরের বিনিময়ে গোশত কিনে ঘরে এসে দেখেন, ঘরে কোন খেজুর নেই। ঘর হতে বের হয়ে তিনি কসাইকে বললেন- আমি খেজুরের বিনিময়ে গোশত ক্রয় করেছিলাম, কিন্তু ঘরে খেজুর নেই। সে হৈ চৈ আহ্ উহু শুরু করল। বলল- হায়। এত বড় বেঈমানী! লোকেরা তাকে বুঝাল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি অকৃতজ্ঞতা, বেঈমানী করবেন? নবীজী বললেন- না, তাকে ছেড়ে দাও। তার বলার অধিকার আছে। অতঃপর কসাইকে লক্ষ্য করে পূর্বোক্ত কথাই বললেন। সেও ঐ একই কথার পুনরাবৃত্তি করল। লোকেরা তাকে পুনরায় বাঁধা দিল। নবীজী বললেন- “তাকে বলতে দাও। তার বলার অধিকার আছে।” একথা কয়েকবার বলতে থাকেন। অতঃপর এক আনসারী সাহাবীর কাছে কসাইকে পাঠিয়ে দিলেন। যেন সে ঐ আনসারীর কাছ থেকে গোশতের মূল্য বাবদ খেজুর নিয়ে নেয়। যখন সে খেজুর নিয়ে ফিরে আসছিল তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কিরামের সাথে আসছিলেন। তার মন নবীজীর ধৈয্য, সহনশীলতা, ক্ষমা ও উত্তম লেনদেন দেখে প্রভাবিত হয়েছিল। নবীজীকে দেখেই বলতে লাগল- মুহাম্মাদ। তোমার আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক, তুমি ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করেছ এবং উত্তম বিনিময় দিয়েছ।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মজলিসে নববী

📄 মজলিসে নববী


রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা-দিক্ষার ফয়েয-বরকত যদিও চলা-ফেরা, ওঠা-বসা, সফরে-হযরে মোটকথা, সব সময় অব্যাহত ছিল, তদুপরি তা থেকে ঐ ব্যক্তিই উপকৃত হতে পারত, ঘটনাচক্রে যে যথাস্থানে উপস্থিত থাকত। কাজেই নবীজী শিক্ষা-দিক্ষা ও মানুষের হেদায়েতের জন্য কিছু সময় বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। যাতে করে মানুষ পূর্ব হতেই অবগত থাকে এবং যাদের উপকৃত হওয়ার আকাঙ্খা আছে, তারা আসতে পারে। এ সাহচর্য ও শিক্ষা সাধারণতঃ মসজিদে নববীতেই চলত। সেখানে ছোট একটি বারান্দা ছিল। অধিকাংশ সময় নবীজী সেখানেই বসতেন। প্রথম যুগে নবীজীর বসার জন্য পৃথক কোন আসন ছিল না। মাটি দ্বারা সাহাবায়ে কিরাম ছোট একটি চবুতারা বানিয়ে দিয়েছিলেন। নবীজী তাতে বসতেন আর লোকজন চবুতারার দুই পাশে গোলাকার হয়ে নিশ্চুপ বসে যেতেন।

মজলিসে কথা বলার অনুমতি দানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হত। কিন্তু এ ধারাবাহিকতা বংশগৌরব, যশখ্যাতি বা ধন-দৌলতের ভিত্তিতে হত না বরং মর্যাদা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হত। সর্বপ্রথম নবীজী মুখাপেক্ষী ও অভাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিতেন। তাদের ওযর-আপত্তি শুনে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন। প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে জানতে চাইতেন, তার কোনও জরুরত আছে কি নেই। সাধারণ ঘোষণা ছিল, যারা নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম নয়, তারা নিঃসঙ্কোচে নিজের অবস্থা ও প্রয়োজন সম্পর্কে আমাকে অবহিত করাবে।

নবীজীর মজলিসে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের মর্যাদামত স্থান পেত। কারও মনে এ সংশয় জাগত না যে, তিনি কাউকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নামাযের পরে যে সব বৈঠক হত, সেখানে ওয়ায-নসীহত এবং সাধারণ বিষয়ে কথাবার্তা হত। এছাড়া অন্য সময় গভীর তত্ত্ব-জ্ঞান প্রভৃতি শিক্ষার জন্য মজলিস নির্ধারণ করে দিতেন। ওয়ায-নসীহত যতই প্রভাবশীল ভঙ্গিতে করা হোক না কেন, সব সময় শুনতে শুনতে মানুষ বিরক্ত হয়ে যায় এবং ওয়ায-নসীহত প্রভাবহীন হয়ে যায়। এজন্যই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়ায-নসীহতের মজলিস বিরতি দিয়ে দিয়ে অনুষ্ঠান করতেন।

এসব মজলিসের ফয়েয বরকত যেহেতু বেশির ভাগ পুরুষদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল, মহিলাদের তেমন সুযোগ হত না। এজন্য মহিলারা দরবারে নবুওয়াতে দরখাস্ত করেন, আমাদের জন্য বিশেষ দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেওয়া হোক। নবীজী মহিলাদের এ দরখাস্ত মঞ্জুর করেন এবং তাদের ওয়ায-নসীহতের জন্য বিশেষ দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেন।

নিজের দেওয়া শিক্ষা-দীক্ষার দৃষ্টান্তও ছিলেন তিনি। মানুষের সাধারণ মজলিসে তিনি যা বলতেন, ঘরোয়া নির্জন বৈঠকে, বন্ধু, হিতাকাঙ্খী ও প্রিয়জনদের বৈঠকে, বাজার-বন্দরে, রাস্তা-ঘাটে তাকে ঐ রকমই দেখা যেত। স্বভাব-চরিত্র ও আমলের যে আদর্শ শিক্ষা তিনি অন্যদের দিতেন, নিজে যথারীতি ওসবের আমল করে দেখাতেন। স্ত্রীগণ ছাড়া অন্য আর কে পুরুষের স্বভাব-চরিত্রের গোপন রহস্য জানেন? কতিপয় সাহাবায়ে কিরাম হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে দরখাস্ত করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চারিত্র্য-মাধুরী ব্যাখ্যা করুন। আয়েশা রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন- আমা নাকরাউল কুরআন? তোমরা কি কুরআনে কারীম পড় না? ইন্না খুলুকা রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল-কুরআন। "নিঃসন্দেহে নবীজীর চরিত্র-মাধুরী সম্পূর্ণ কুরআন।"

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সংকর্মশীল যুবক

📄 সংকর্মশীল যুবক


আল্লাহ তা'আলার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ঐ যুবক, যে সুন্দর-সুশ্রী হয় কিন্তু নিজের সৌন্দর্য ও যৌবনকে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত-আনুগত্যে ব্যয় করতে থাকে। তিনি সেই ব্যক্তি ফিরিশতাদের সামনে আল্লাহ পাক যাকে নিয়ে গর্ব ও প্রশংসা করেন। (ফরমূদাহ্ রাসূল)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00