📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জনসেবা

📄 জনসেবা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হচ্ছে জনসেবা। তিনি যে পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ইসলামের শাশ্বত পয়গাম প্রচার-প্রসারের নবুওয়াতী দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। এর গ্রহণ যোগ্যতার ক্ষেত্রে এমনি তো ঐ পয়গামের সত্যতা যথার্থতা, এর মুহকাম উসূল এ এলাহী শিক্ষার প্রভাবের বিরাট দখল রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁর স্বতন্ত্র কার্যক্রম বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং পদমর্যাদা ও অবস্থানেরও বিরাট দখল রয়েছে, যা তাঁকে স্বজাতির কাছে আল-আমীন (বিশ্বাসী) এবং সাদিক (সতবাদি) এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিল। এছাড়া ব্যাপকভাবে সহমর্মিতা, খেদমত, সেবা, মানবতা ও সম্প্রীতির ঐ চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্যও তাঁর ঐ শাশ্বত পয়গাম প্রচার-প্রসারের কারণ হয়, যা তাঁর দ্বিতীয় সহজাত স্বভাব ছিল। জনসেবাই নবীজীর ঐ মহান খেদমত ছিল, যা তাকে বিশ্বমানবতার এক বিরাট দলের মাঝে স্থায়িত্ব ও মর্যাদার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তাঁর আনিত পয়গামের জন্য তাদের অন্তঃকরণে স্থান করে দিয়েছে।

• মদীনা মুনাওয়ারায় এক মহিলা ছিল। (যার মস্তিষ্ক কিছুটা বিকৃত ছিল) নবীজীর খেদমতে হাযির হয়ে বলল- মুহাম্মদ। তোমার সাথে আমার কিছু কাজ আছে। নবীজী বললেন- যেখানে বলবে নিয়ে যেতে পার। সে তাঁকে একটি গলিতে নিয়ে গেল এবং সেখানেই বসে পড়ল। নবীজীও তার সাথে বসে গেলেন এবং তার কাজটি সমাধা করে দিলেন।

• একবার নবীজী নামাযের জন্য দাঁড়ালেন। এক অসভ্য লোক এসে তাঁর জামার আচল ধরে বলল- মুহাম্মদ। আমার সামান্য কাজ বাকি রয়েছে। এমন যেন না হয়, আমি তা ভুলে যাই। প্রথমে তা পূর্ণ করে দাও। তিনি তৎক্ষণাত তার সাথে মসজিদের বাইরে তাশরীফ নিয়ে গেলেন এবং তার কাজ সমাধা করে দিয়ে নামায আদায় করলেন।

• খাব্বাব বিন আরত রাযি. কে নবীজী কোনও এক যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। খাব্বাব রাযি. এর ঘরে কোনও পুরুষ ছিল না। মহিলারা দুধ দোহন করতে পারত না। কাজেই প্রতিদিন নবীজী তার ঘরে গিয়ে দুধ দোহন করে দিয়ে আসতেন। মদীনার অদূরেই কিছু ইয়াতিম ছেলে পেলে বসবাস করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বকরীগুলোরও দুধ দোহন করে দিয়ে আসতেন।

• মদীনা শরীফের দাসীরা নবীজীর খেদমতে হাযির হত এবং বলত, আল্লাহর রাসূল। আমার ঐ কাজ রয়েছে। নবীজী তৎক্ষণাত ওঠে দাঁড়াতেন এবং তাদের কাজ করে দিতেন।

• এক সফরে সাহাবায়ে কিরাম রাযি. বকরী যবাই করলেন। নবীজী বললেন- জঙ্গল থেকে জ্বালানী কাঠ আমি সংগ্রহ করব। সাহাবায়ে কিরাম আপত্তি করলেন। তিনি বললেন- আমি স্বতন্ত্রতা বা পার্থক্য পছন্দ করি না।

• নির্দেশ জারি ছিল, কোন ঋণগ্রস্থ মুসলমান ইন্তেকাল করলে আমাকে অবগত করবে। আমি তার ঋণ পরিশোধ করে দেব। আর মিরাস বা মরণোত্তর যে সম্পদ রেখে যাবে, তা উত্তরাধিকারদের হক ও প্রাপ্য। তাতে আমার কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই।

• বুখারী শরীফে আছে, নবীজীর কাছে যখন ভিক্ষুক এবং সমস্যায় পতিত লোক আসত তখন তিনি সাহাবায়ে কিরামকে বলতেন- তোমরা সুপারিশ কর। তাহলে তোমরাও সাওয়াব পাবে।

একবার তিনি ইরশাদ করলেন- যদি আর কিছু না-ই সম্ভব হয়, তবে অসহায়-অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য কর। আরও বলেন- আত্মভোলা বা পথভোলা এবং অন্ধ ব্যক্তিকে পথ দেখানোও সদকা। অন্যত্র বলেন- যে ব্যক্তি চলার পথে কোনও কাঁটা বা কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরিয়ে দিবে, আল্লাহ তা'আলা তার কাজের যথার্থ মূল্যায়ণ করেন এবং তার পাপ মোচন করেন। গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আরও বলেন- আল্লাহ পাক তার বান্দার সাহায্য ততক্ষণ নিয়োজিত থাকেন, যতক্ষণ সে তার সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উত্তম চরিত্র

📄 উত্তম চরিত্র


সাধারণভাবে কাফির-মুসলিম, শত্রু-মিত্র, প্রিয়জন ও অপরিচিতের মাঝে কোনও তফাৎ ছিল না। তাঁর রহমতের বারিধারা সকলের উপর সমানভাবে বর্ষিত হত। ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যে কঠোর বিরোধীতা ও শত্রুতা ছিল, গযওয়ায়ে খায়বার পর্যন্ত প্রত্যেকটি ঘটনায় এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু নবীজীর কর্মধারা শেষ পর্যন্ত এমনই ছিল, যে সব বিষয়ে পৃথকভাবে কোনও হুকুম অবতীর্ণ না হত, তিনি সে সব বিষয়ে তাদেরকে ছাড় দিতেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লেনদেন

📄 ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লেনদেন


তাদের কঠিন ও নাজায়েয চাহিদা ও কর্কশ ভাষাগুলো তিনি সহ্য করতেন। ইয়াহুদী ও মুসলমানদের মাঝে যদি কোনও ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিত, তাহলে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া পক্ষপাতিত্ব করতেন না। সুতরাং এ জাতীয় অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার এক ইয়াহুদী এসে অভিযোগ করল- মুহাম্মদ! দেখ, এক মুসলমান আমাকে থাপ্পর মেরেছে। নবীজী ঐ মুসলমানকে তৎক্ষণাত ডেকে এনে শাসন করলেন।

• নাজরান থেকে একবার একদল খ্রিস্টান নবীজীর দরবারে আসল। তিনি তাদের মেহমানদারী করলেন। মসজিদে নামায পড়ার অনুমতিও দিয়েছেন। সাধারণ মুসলমান যখন তাদেরকে বাঁধা দিতে চাইল, নবীজী তাদেরকে নিষেধ করলেন।

• নবীজী দাস-দাসীদের সাথে স্নেহশীল থাকতেন। বলতেন- এরা তোমাদের ভাই। নিজে যা খাও, তাদেরকে তা খাওয়াও। যা নিজে পরিধান কর, তাদেরকে তা পরিধান করাও। নবীজীর মালিকানায় যে দাস-দাসী আসত, তিনি তাদেরকে সব সময় মুক্ত করে দিতেন। কিন্তু তারা নবীজীর অনুগ্রহ-অনুকম্পার শৃঙ্খলমুক্ত হতে পারত না। পিতা-মাতা, বংশ-গোত্র ও আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে সারা জীবন তাঁর গোলামীকে গৌরবময় মনে করত।

• যায়েদ বিন হারেসা নবীজীর গোলাম ছিলেন। তাকে তিনি মুক্ত করে দেন। তাকে তাঁর পিতা নিতে আসে। কিন্তু সে এ রহমতের দরবারের উপর পিতৃস্নেহকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হয়নি। তিনি পিতা-মাতার সাথে যেতে পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করেন।

• উসামা বিন যায়েদকে নবীজী এত ভালোবাসতেন যে তিনি বলতেন- উসামা যদি মেয়ে হত তবে আমি তাকে অলংকার সজ্জিত করতাম। নিজ হাতে তার নাক পরিষ্কার করতেন। দাস-দাসীদের প্রতি নবীজীর এত স্নেহ ও দয়া ছিল যে, অনেক কাফিরের গোলাম-বাঁদি পলায়ণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে এসে হাজির হত। আর তিনি তাদেরকে আযাদ করে দিতেন।

গনীমতের মাল-সম্পদ বণ্টন হলে তিনি দাস-দাসীদেরকেও সেখান থেকে একটা অংশ পাইয়ে দিতেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের কাছে যেহেতু কোনও মাল-সম্পদের ব্যবস্থা থাকত না, তাই যে আমদানী হত, তা থেকে প্রথমে তাদেরকে দান করতেন।

• একবার জি'রানা নামক স্থানে নবীজী তাশরীফ রাখেন এবং নিজের মোবারক হাতে মানুষের মাঝে গোশত বণ্টন করতে থাকেন। ইতোমধ্যে এক মহিলা আসল এবং নবীজীর কাছে চলে এল। নবীজী তাকে দেখে অনেক সম্মান প্রদর্শন করেন। নিজের চাদর মোবারক তার জন্য বিছিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন- আমি প্রশ্ন করলাম, এ মহিলা কে ছিলেন? তখন লোকেরা বলল- এ মহিলা নবীজীর দুধমাতা রাযি. ছিলেন।

• অনুরূপভাবে নবীজী এক জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি আসলেন। তিনি ছিলেন নবীজীর দুধ পিতা। তিনি তাঁর সম্মানে নিজের চাদর মোবারকের এক প্রান্ত বিছিয়ে দেন। অতঃপর দুধমাতা আসেন। তিনি চাদরের অপর প্রান্ত বিছিয়ে দেন। অবশেষে দুধভাই আসে। তখন তিনি ওঠে দাঁড়ান এবং তাকে নিজের সামনে বসালেন।

• হযরত আবু যর রাযি. একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী। একবার তাকে ডেকে পাঠালেন। তখন তিনি ঘরে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর নবীজীর খেদমতে হাযির হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুয়ে ছিলেন। তাকে দেখে নবীজী উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। জা'ফর রাযি. ও যখন আবিসিনিয়া থেকে ফিরে আসেন তখন নবীজী তাকে গলায় জড়িয়ে নেন এবং তার কপালে চুমু খান।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উত্তম লেন-দেন

📄 উত্তম লেন-দেন


নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যধিক উদারচিত্ত ও মহানুভব হওয়ার কারণে অধিকাংশ সময় ঋণী থাকতেন। এমনকি মৃত্যুর সময়ও তিনি কয়েক মন ফসলের জন্য ইয়াহুদীর কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু সব সময় উত্তম লেন-দেনের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। মদীনায় সাধারণতঃ ইয়াহুদীরা ধনী লোক ছিল। আর অধিকাংশ সময় নবীজীর তাদের থেকে ঋণ গ্রহণ করতেন। ইয়াহুদীরা সাধারণতঃ কর্কশভাষী ও রুক্ষ স্বভাবের ছিল নবীজী তাদের সব ধরনের কর্কশতা বরদাশত করতেন। নবুওয়াতের পূর্বে যেসব লোকদের সাথে নবীজীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল, তারা সব সময় নবীজীর সততা, বিশ্বস্ততা এবং উত্তম লেন-দেনের প্রশংসা করত। এজন্য কুরাইশ সম্প্রদায় তাকে সম্মিলিতভাবে 'আল-আমীন' উপাধিতে ভূষিত করেছে। নবুওয়াতের পরে কুরাইশ সম্প্রদায় হিংসা-বিদ্বেষ ও ক্রোধের আগুনে জ্বলছিল। তথাপি তাদের ধন-সম্পদের নিরাপদ স্থান নবীজীই ছিলেন।

আরবে সায়েব নামে এক ব্যবসায়ী ছিল। সে মুসলমান হয়ে নবীজীর দরবারে হাজির হল। লোকজন তার সম্পর্কে প্রশংসাসূচক কথা বলে নবীজীর নিকট তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়, নবীজী বলেন- আমি তাকে তোমাদের চেয়ে ভাল চিনি। সায়েব রাযি. বলেন- আমার পিতা মাতা কুরবান হোক। আপনি আমার ব্যবসায়ী সঙ্গী ছিলেন। কিন্তু সব সময়ই লেন-দেন পরিষ্কার রাখতেন। একবার জনৈক ব্যক্তি পরিমাণ করে কিছু খেজুর নিলেন। কিছু দিন পর সে ঋণের জন্য তাগাদা করতে আসল। নবীজী একজনকে বললেন- তার পাওনা পরিশোধ করে দাও। এক আনসারী সাহাবী খেজুর পরিশোধ করে দিলেন। কিন্তু পরিশোধকৃত খেজুর তেমন উন্নতমানের ছিল না, যেমন উন্নতমানের খেজুর সে ঋণ দিয়েছিল। ঋণদাতা এ খেজুর নিতে অস্বীকার করল। অন্যান্য আনসারী সাহাবীগণ বললেন- তুমি নবীজীর দেওয়া খেজুর গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছ? সে বলল- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ইনসাফকারী না হন, তাহলে আর কার উপর ভরসা রাখা যাবে। একথা শুনে নবীজীর চোখে পানি এসে যায়। তিনি বলেন- সে ঠিক কথাই বলেছে।

• একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একজনের কাছ থেকে উট করয নেন। যখন ফিরিয়ে দেন, তখন তার চেয়ে উত্তম উট ফেরৎ দেন এবং বলেন- তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।

• একবার মদীনা শরীফের বাইরে ছোট্ট একটি কাফেলা এসে বেচাকেনা করছিল। তাদের সঙ্গে একটি লাল রঙের উট ছিল। ঘটনাচক্রে সে পথ দিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিক্রান্ত হোন। নবীজী উটের মূল্য জিজ্ঞাসা করা ছাড়াই উটটি ক্রয় করে নেন এবং উটের লাগাম ধরে শহরের পথে রওনা হয়ে যান। পরক্ষণে লোকদের খেয়াল হল, আমরা অপরিচিত লোকের কাছে কেন উট সোপর্দ করে দিলাম? এ রকম বোকামির জন্য কাফেলার সকলেই লজ্জা পেল। কাফেলার সাথে একজন মহিলাও ছিল। সে বলল- নিশ্চিন্তে থাক। আমরা আজ পর্যন্ত কারও মুখ এত উজ্জল দেখিনি। অর্থাৎ এমন লোক প্রতারণা করতে পারে না। রাত হলে পরে নবীজী তাদের জন্য উটখানার মূল্য বাবদ খেজুর পাঠালেন।

• গযওয়ায়ে হুনাইনে নবীজীর কিছু হাতিয়ারের প্রয়োজন ছিল। সফওয়ান তখনও কাফির ছিলেন। তার কাছে অনেকগুলো বর্ম ছিল। নবীজী তার কাছে কিছু বর্ম চাইলেন। সে বলল- মুহাম্মদ! কী' কিছু লুটতরাজের ইচ্ছা আছে? নবীজী বললেন- না, আরিয়াতান (ধার হিসেবে) চাচ্ছি। এর মধ্যে যদি কোনও একটা খোয়া যায়, তার ক্ষতিপূরণ দেব। তিনি ত্রিশ-চল্লিশটি বর্ম ধার হিসেবে মুসলমানদেরকে এনে দিলেন। হুনাইনের যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে যখন হাতিয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্রের হিসাব করা হল, তখন কয়েকটি বর্ম কম দেখা গেল। নবীজী সফওয়ানকে বললেন- তোমার কয়েকটি বর্ম কম আছে। এগুলোর বিনিময় গ্রহণ কর। সফওয়ান আরয করল- হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনের অবস্থা এখন আর পূর্বের মত নেই অর্থাৎ সে মুসলমান হয়ে গেছে। এখন বিনিময়ের প্রয়োজন নেই।

• একবার এক বেদুঈন উটের গোশত বিক্রয় করছিল। নবীজীর ভাবলেন, ঘরে খেজুর আছে। তিনি এক ওসাক খেজুরের বিনিময়ে গোশত কিনে ঘরে এসে দেখেন, ঘরে কোন খেজুর নেই। ঘর হতে বের হয়ে তিনি কসাইকে বললেন- আমি খেজুরের বিনিময়ে গোশত ক্রয় করেছিলাম, কিন্তু ঘরে খেজুর নেই। সে হৈ চৈ আহ্ উহু শুরু করল। বলল- হায়। এত বড় বেঈমানী! লোকেরা তাকে বুঝাল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি অকৃতজ্ঞতা, বেঈমানী করবেন? নবীজী বললেন- না, তাকে ছেড়ে দাও। তার বলার অধিকার আছে। অতঃপর কসাইকে লক্ষ্য করে পূর্বোক্ত কথাই বললেন। সেও ঐ একই কথার পুনরাবৃত্তি করল। লোকেরা তাকে পুনরায় বাঁধা দিল। নবীজী বললেন- “তাকে বলতে দাও। তার বলার অধিকার আছে।” একথা কয়েকবার বলতে থাকেন। অতঃপর এক আনসারী সাহাবীর কাছে কসাইকে পাঠিয়ে দিলেন। যেন সে ঐ আনসারীর কাছ থেকে গোশতের মূল্য বাবদ খেজুর নিয়ে নেয়। যখন সে খেজুর নিয়ে ফিরে আসছিল তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কিরামের সাথে আসছিলেন। তার মন নবীজীর ধৈয্য, সহনশীলতা, ক্ষমা ও উত্তম লেনদেন দেখে প্রভাবিত হয়েছিল। নবীজীকে দেখেই বলতে লাগল- মুহাম্মাদ। তোমার আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক, তুমি ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করেছ এবং উত্তম বিনিময় দিয়েছ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00