📄 ডাক্তার নিকালসন ডেভিজের অভিজ্ঞতা
প্রসিদ্ধ এ মনোবিজ্ঞানী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন- দৃষ্টি যেখানে পতিত হয় সেখানেই স্থির হয়ে যায়। অতঃপর এর ভাল বা মন্দ প্রভাব পাকস্থলী, (Nerves) মস্তিষ্ক (Braines) এর হরমোনসের উপর পতিত হয়। স্ত্রী-কন্যা, মা-বোন ছাড়া অন্য মহিলাকে দেখার কারণে বিশেষতঃ কামভাব নিয়ে দেখার কারণে হরমোন সিস্টেমের মধ্যে আমি বিশেষ সমস্যা লক্ষ্য করেছি। অন্য মানুষও হয়ত লক্ষ্য করেছেন। কেননা এসব দৃষ্টির প্রভাব বিষাক্ত আর্দ্রতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং হরমোনজী গ্যালেণ্ডাস এমন তীক্ষ্ণ, শরীরে বিপরীত বিষাক্ত আর্দ্রতা বের করে দেয়। যার ফলে সমস্ত শরীর ওলট-পালট হয়ে যায়।
মারাত্মক দরিদ্র কোনও ব্যক্তি বিরাট বড় ধনী লোক দেখলে তার ভেতর হিংসার কারণে হরমোনজে এমন আর্দ্রতা সৃষ্টি হয়, যার ফলে তার দেহ-মন প্রভাবিত হয়ে পড়ে। আমার ভালোভাবে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, এমন বিপদজনক অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার আশ্রয় নিতে হবে। (ইসলাম আওর মুস্তাশরিকীন)
বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে একথা সস্পুষ্পট বলতে পারি যে, দৃষ্টির হেফাজত না করার কারণে মানুষ এমন ডেপরিশন, অশান্তি, অস্থিরতা এবং হতাশার শিকার হয়। যার চিকিৎসা অসম্ভব। কেননা দৃষ্টি মানুষের চিন্তাধারা ও জযবাকে বিক্ষিপ্ত করে। আর এ বিক্ষিপ্ততা তার পারিবারিক জীবনের উপর সর্বাধিক প্রভাব ফেলে।
এভাবে তাদের কেউ লায়লা হয় আর কেউ হয় মজনু। বাস্তবিকই ইসলাম শান্তির ধর্ম। এমন ব্যক্তি যখন দ্বীন-ধর্মের হিসেবে কাউকে ভাল অবস্থানে দেখবে আর তার নিজের মধ্যে যদি ঈমান ও তাকওয়ার কমতি থাকে তাহলে সে তৎক্ষণাত হিংসা-বিদ্বেষ এবং ক্রোধের শিকার হয়ে যাবে। অথবা সে ঐ অবস্থায় পৌঁছুতে না পারার কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। এভাবে সে এক সময় এমন মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে, যা দিনদিন বাড়তে থাকবে।
এক ব্যক্তি বলেন- মাত্র তিনদিন গাইরে মাহরাম, বৈচিত্রময় প্রাসাদ এবং গাড়ীর উপর আমার দৃষ্টি নিবন্ধ রাখি। (এখন আমার রাত দিন এ-ই কাজ) মাত্র তিন দিন পরে আমার শরীরে ব্যাথা, ক্লান্তি-অবসাদ ও অস্থিরতা অনুভব করছি।
আমার শরীরের গ্রন্থিগুলো খিচে, মাথা ঝিম ঝিম করে। হাত-পায়ে দুর্বলতা এসে পড়ে। যদি এ অবস্থার উন্নতির জন্য প্রচলিত চিকিৎসা করি (সাধারণ ডাক্তারগণের যেমন চিকিৎসা পদ্ধতি) তাহলে ক্ষণিকের জন্য প্রশান্তি আসে। পরে আবার ঐ অবস্থা হয়। শেষ পর্যন্ত এর চিকিৎসা এই দাঁড়ায়, আমি নিজের দৃষ্টি হেফাজত করি, সব দৃষ্টিতে একথা বলি- একটি পতিত মাটি এবং ইহা শুধুই মাটি। কিছু দিন যাবৎ বিশেষভাবে ইহাই অনুশীলন করি, তখন আমি এমনিতেই সুস্থতা লাভ করি।
📄 মানুষের প্রতি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য
বোর্ড অফ সাইকুলজী এর বিশ্লেষণ
মানব দেহে এমন এক সিস্টেম রয়েছে, যার সম্পর্ক চিন্তাধারার সাথে। চিন্তাধারায় যখন পরিবর্তন আসে, সাথে সাথে মানুষের মেযাজ-মর্জিও পরিবর্তন হয়ে যাবে। চিন্তা-ভাবনা যদি ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষের শারীরিক নেযাম সবসময় সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম থাকবে। চিন্তা-ভাবনা যদি নেতিবাচক হয় তাহলে অল্প সময় শরীর নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে। ডাক্তার জ্যাকী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন- যখনই কাউকে ঘৃণার দৃষ্টিতে অথবা ঘৃণিত ভাষায় সম্বোধন করবে, তৎক্ষণাত এমন এক হরমোন জন্ম নেয়, যার মধ্যে হিস্টাসিনের আধিক্যতা থাকে। আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিম্নোক্ত ক্ষয়-ক্ষতিতে পতিত হয়।
• দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা বিশেষতঃ দূরের দৃষ্টি বেশি প্রভাবিত হয়।
• শরীর ভারসাম্যহীন, অকেজো ও জীর্ণশীর্ণ এবং মস্তিষ্ক পেরেশান হবে।
• স্মরণ শক্তি হ্রাস পাবে এবং লোপ পাবে।
• হৃদরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
• মনের রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাবে।
• কিডনী রোগীর কিডনী ফুলে যাবে।
এ ব্যপারে এখনও গবেষণা চলছে যে, মানুষের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে পরবর্তীতে মস্তিষ্কের উপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কত বেশি পতিত হয়। (নিউ ইয়ার্ক টাইম্স্।)
📄 বোর্ড অফ সাইকুলজী এর বিশ্লেষণ
মানব দেহে এমন এক সিস্টেম রয়েছে, যার সম্পর্ক চিন্তাধারার সাথে। চিন্তাধারায় যখন পরিবর্তন আসে, সাথে সাথে মানুষের মেযাজ-মর্জিও পরিবর্তন হয়ে যাবে। চিন্তা-ভাবনা যদি ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষের শারীরিক নেযাম সবসময় সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম থাকবে। চিন্তা-ভাবনা যদি নেতিবাচক হয় তাহলে অল্প সময় শরীর নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে। ডাক্তার জ্যাকী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন- যখনই কাউকে ঘৃণার দৃষ্টিতে অথবা ঘৃণিত ভাষায় সম্বোধন করবে, তৎক্ষণাত এমন এক হরমোন জন্ম নেয়, যার মধ্যে হিস্টাসিনের আধিক্যতা থাকে। আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিম্নোক্ত ক্ষয়-ক্ষতিতে পতিত হয়।
• দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা বিশেষতঃ দূরের দৃষ্টি বেশি প্রভাবিত হয়।
• শরীর ভারসাম্যহীন, অকেজো ও জীর্ণশীর্ণ এবং মস্তিষ্ক পেরেশান হবে।
• স্মরণ শক্তি হ্রাস পাবে এবং লোপ পাবে।
• হৃদরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
• মনের রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাবে।
• কিডনী রোগীর কিডনী ফুলে যাবে।
এ ব্যপারে এখনও গবেষণা চলছে যে, মানুষের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে পরবর্তীতে মস্তিষ্কের উপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কত বেশি পতিত হয়। (নিউ ইয়ার্ক টাইম্স্।)
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর চরিত্র মাধুর্য
• প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাস্যোজ্জল ও কোমলভাষী ছিলেন। রুক্ষ রূঢ় কর্কশ মেযাজ এবং কঠোর প্রাণ ছিলেন না। হৈ চৈ কোলাহল করতেন না। কোনও রূপ বাজে কথা মুখ থেকে বের করতেন না। কোনও কথা অপছন্দ হলে চুপ থাকতেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা থেকে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় একেবারে বের করে দিয়েছিলেন।
১. বহস-মোবাহাসা বা তর্ক-বির্তক।
২. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা।
৩. অনর্থক উদ্দেশ্যহীন কথা বলা।
অন্যের ব্যাপারেও তিনটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকতেন।
১. কাউকে মন্দ বলতেন না।
২. কারও দোষচর্চা করতেন না।
৩. কারও পেছনে লাগতেন না।
• অন্যের মুখে নিজের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করতেন না। অত্যন্ত উদারতা, সত্যবাদি, কোমলপ্রাণ এবং উত্তম সঙ্গী ছিলেন। যদি কেউ হঠাৎ করে সামনে এসে পড়ত তবে প্রভাবিত হয়ে যেতেন। কিন্তু যার সাথে ভিন্ন-পরিচয় হত, তারা তাঁকে ভালবাসতেন। (হযরত আলী রাযি.)
• তিনি ভেড়া-মেষকে নিজেই ঘাস-পানি দিতেন। ঘর-বাড়ী, বিছানা-পত্র ঝাড় দিতেন। বকরীর দুধ দোহন করতেন। খাদেমদের কাজে সহায়তা করতেন। তাদের সাথে বসে খানা খেতেন। বাজার থেকে সদাইপত্র আনতেন। গোলাম-মনীব, হাবশী-তুর্কী কারও মধ্যে পার্থক্য করতেন না। রাত্র দিন একই পোশাকে থাকতেন। তাঁকে যত নগন্য লোকই দাওয়াত করত, তৎক্ষণাত কবুল করে নিতেন। যে খাবার সামনে দেওয়া হত, তাই খেয়ে নিতেন। সকালের খানা রাতের জন্য আর আর রাতের খানা সকালের জন্য রেখে দিতেন না। ভাল মেজাজ কোমলভাব, প্রশস্ত মন, হাস্যোজ্জল মুখের অধিকারী ছিলেন। কখনও উচ্চ শব্দে হাসতেন না। অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। কিন্তু অপব্যয়কারী ছিলেন না। (ইমাম গাযালী)
সহধর্মীনী এবং খাদেমদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল ছিলেন। মুখে কখনও অশ্লীল কথা বা গালমন্দ উচ্চারণ করতেন না। কাউকে অভিশাপ দিতেন না। কেউ কষ্ট দিলে, তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন। সহধর্মিনী এবং উম্মতের সংশোধনের প্রতি খুব বেশি লক্ষ্য রাখতেন। প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেক জিনিসের মান-মর্যাদা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত ও সর্তক ছিলেন। আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির প্রতি সব সময় অন্তর্দৃষ্টি নিবন্ধ রাখতেন। তাঁর বাড়ী-ঘর খুবই সাধারণ ও দরিদ্র লোকদের মত ছিল। তাঁর সাধারণ খাবার ছিল যবের রুটি ও পানি। তাঁর চুলায় মাসের পর মাস আগুন জ্বলত না। তিনি নিজ হাতে জুতা সেলাই করতেন। কাপড়-চোপড়ে তালি লাগাতেন। দুনিয়ার কোনও বাদশাহর এত অনুকরণ করা হয়নি, যতটা আনুগত্য ও অনুকরণ এ মহান ব্যক্তির করা হয়েছে। তিনি নিজ হাতে সেলাই করা জামা পরিধান করতেন।