📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দৃষ্টি হেফাযত করা ও আধুনিক বিজ্ঞান

📄 দৃষ্টি হেফাযত করা ও আধুনিক বিজ্ঞান


আল্লাহ তা'আলা দেখার জন্য চক্ষু জগত দিয়েছিলেন। তা বন্ধ করা এবং খোলার যোগ্যতা মানুষের ইচ্ছাধীন। তিনি এ স্বাধীনতা এজন্য দিয়েছেন যে, যখন খোলার জন্য প্রতিপালকের হুকুম হবে, তখন চোখ খুলবে আর যখন চোখ বন্ধ করার হুকুম হবে, তখন চোখ বন্ধ করে দিবে। আল্লাহ তা'আলা যেখানে দেখার অনুমতি দেবেন, সেখানে দৃষ্টি দেবে আর যেখানে দৃষ্টি দিতে বারণ করবেন, সেখানে দৃষ্টি দিবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিজের দৃষ্টি হেফাযত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে এমন ঈমান দান করবেন, যার মিষ্টতা ও স্বাদ সে মনের মধ্যে অনুভব করবে।

আধুনিক সভ্যতার দাবীদারদের দৃষ্টিভঙ্গি হল, দেখার দ্বারা কি আর ক্ষতি হয়? শুধু দেখছেই মাত্র। এটি কোনও ভুল বা অন্যায় কাজ তো নয়। তাহলে আমরা কখনও কি এসব ক্ষতির কথা ভেবেছি।

* বাঘ-ভল্লুক যদি মানুষের সামনে এসে পড়ে এবং মানুষ তাকে শুধুমাত্র দেখে। তাহলে এ দেখার কারণে তার শরীর ও মনে কি রকম প্রভাব পতিত হয়। একবার ভাবুন।
* সবুজ শ্যামল গাছ-পালা, পত্র-পল্লব ও পুষ্পরাজি প্রভৃতি শুধুমাত্র দেখা হয়। এসব দেখে কেন মন ভরে যায়, প্রফুল্ল হয়?
* কাউকে কোনও বিপদ-আপদে নিমজ্জিত দেখা মাত্র মন কেন অস্থির ও চঞ্চল হয়ে ওঠে?
* কারও বড় দোকান, ঘর-বাড়ী, প্রাসাদ-কুটির কিংবা দামী গাড়ী প্রভৃতি মানুষ তো শুধুমাত্র দেখে। কিন্তু তৎক্ষণাত তার মনের মধ্যে আফসুস, আশা, হতাশা, অস্থিরতা, লোভ-লালসা প্রভৃতি অবস্থা কেন সৃষ্টি হয়? কারণ কি? ঐ সব তো সে দেখেছিল মাত্র।
* কোনও সুশ্রী সুন্দরীকে দেখেই তাকে মন বিলিয়ে দেয় মানুষ। তা কেন? তাকে তো দেখেছিল মাত্র।
* সম্রাট জাহাঙ্গীর যুবরাজ থাকাকালে মীনা বাজারের নবাব যাইখানের পরমা সুন্দরী কন্যাকে মন বিনিময় করেন। মীনা বাজারের আঙ্গুরী পার্ক থেকে আগত এক গৃহপরিচারিকা আরয করলেন- যুবরাজ! বাদশা সালামত আপনাকে তলব করেছেন। যুবরাজের হাতে এক জোড়া কবুতর ছিল। ঐ সুন্দরী সামনে থেকে আসছিল। তাকে যুবরাজ বলল- আমার কবুতর জোড়াটি তুমি একটু রাখ, আমি এখনই ফিরে আসছি। ফিরে এসে সুন্দরীর হাতে একটি কবুতর দেখে প্রশ্ন করল- আরেকটি কবুতর কি হয়েছে।
সুন্দরীঃ জাহাঁপানা। ওটা একটু বেড়াতে গেছে?
যুবরাজঃ কিভাবে?
সুন্দরী দ্বিতীয় কবুতরটিও ছেড়ে দিয়ে বলল- এভাবে।
সুস্ত্রীর এ আচরণ যুবরাজ হতভম্ব হয়ে গেল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বিবাহ করে নিল। ভাবুন! এ দৃশ্য দেখে কিছুই কি হয়নি? চোখ খুলুন দেখুন। বারবার দেখুন! এ হতে বাস্তব জ্ঞান লাভ করবেন।

নোট ও কাগজের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম ব্যক্তিকে বা বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করুন- নোট দেখলে তার অবস্থা কেমন হয় আর সাদা কাগজ দেখলে তার অবস্থা কেমন হয়? নোট তো কেবল দেখেছিল মাত্র।

বন্ধুগণ! তীক্ষ্ণ দৃষ্টির এ প্রভাব যার উপর পতিত হয়েছে সেই শিকার।

মোটকথা, চোখ চুরি করে, হাত সম্প্রসারিত হয় এবং গুনাহ হয়ে যায়। ইসলাম এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে পর্দার বিধান দিয়েছে। সহশিক্ষার ব্যাপারে এক ব্যক্তি মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন- খোলা গোশত আছে এবং কুকুরও আছে। তাহলে কুকুর কি গোশত রেখে চলে যাবে। কখনও নয়। অভিজ্ঞ লোকদের গবেষণা মতে দৃষ্টির প্রভাব মাধ্যম হয়ে ভ্রুন ও হরমোন সিস্টেমের উপর পতিত হয়। এ ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার কারণে সকল প্রকার শারীরিক ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়ে পড়ে এবং অসংখ্য রোগ-ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ডাক্তার নিকালসন ডেভিজের অভিজ্ঞতা

📄 ডাক্তার নিকালসন ডেভিজের অভিজ্ঞতা


প্রসিদ্ধ এ মনোবিজ্ঞানী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন- দৃষ্টি যেখানে পতিত হয় সেখানেই স্থির হয়ে যায়। অতঃপর এর ভাল বা মন্দ প্রভাব পাকস্থলী, (Nerves) মস্তিষ্ক (Braines) এর হরমোনসের উপর পতিত হয়। স্ত্রী-কন্যা, মা-বোন ছাড়া অন্য মহিলাকে দেখার কারণে বিশেষতঃ কামভাব নিয়ে দেখার কারণে হরমোন সিস্টেমের মধ্যে আমি বিশেষ সমস্যা লক্ষ্য করেছি। অন্য মানুষও হয়ত লক্ষ্য করেছেন। কেননা এসব দৃষ্টির প্রভাব বিষাক্ত আর্দ্রতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং হরমোনজী গ্যালেণ্ডাস এমন তীক্ষ্ণ, শরীরে বিপরীত বিষাক্ত আর্দ্রতা বের করে দেয়। যার ফলে সমস্ত শরীর ওলট-পালট হয়ে যায়।

মারাত্মক দরিদ্র কোনও ব্যক্তি বিরাট বড় ধনী লোক দেখলে তার ভেতর হিংসার কারণে হরমোনজে এমন আর্দ্রতা সৃষ্টি হয়, যার ফলে তার দেহ-মন প্রভাবিত হয়ে পড়ে। আমার ভালোভাবে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, এমন বিপদজনক অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার আশ্রয় নিতে হবে। (ইসলাম আওর মুস্তাশরিকীন)

বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে একথা সস্পুষ্পট বলতে পারি যে, দৃষ্টির হেফাজত না করার কারণে মানুষ এমন ডেপরিশন, অশান্তি, অস্থিরতা এবং হতাশার শিকার হয়। যার চিকিৎসা অসম্ভব। কেননা দৃষ্টি মানুষের চিন্তাধারা ও জযবাকে বিক্ষিপ্ত করে। আর এ বিক্ষিপ্ততা তার পারিবারিক জীবনের উপর সর্বাধিক প্রভাব ফেলে।

এভাবে তাদের কেউ লায়লা হয় আর কেউ হয় মজনু। বাস্তবিকই ইসলাম শান্তির ধর্ম। এমন ব্যক্তি যখন দ্বীন-ধর্মের হিসেবে কাউকে ভাল অবস্থানে দেখবে আর তার নিজের মধ্যে যদি ঈমান ও তাকওয়ার কমতি থাকে তাহলে সে তৎক্ষণাত হিংসা-বিদ্বেষ এবং ক্রোধের শিকার হয়ে যাবে। অথবা সে ঐ অবস্থায় পৌঁছুতে না পারার কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। এভাবে সে এক সময় এমন মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে, যা দিনদিন বাড়তে থাকবে।

এক ব্যক্তি বলেন- মাত্র তিনদিন গাইরে মাহরাম, বৈচিত্রময় প্রাসাদ এবং গাড়ীর উপর আমার দৃষ্টি নিবন্ধ রাখি। (এখন আমার রাত দিন এ-ই কাজ) মাত্র তিন দিন পরে আমার শরীরে ব্যাথা, ক্লান্তি-অবসাদ ও অস্থিরতা অনুভব করছি।

আমার শরীরের গ্রন্থিগুলো খিচে, মাথা ঝিম ঝিম করে। হাত-পায়ে দুর্বলতা এসে পড়ে। যদি এ অবস্থার উন্নতির জন্য প্রচলিত চিকিৎসা করি (সাধারণ ডাক্তারগণের যেমন চিকিৎসা পদ্ধতি) তাহলে ক্ষণিকের জন্য প্রশান্তি আসে। পরে আবার ঐ অবস্থা হয়। শেষ পর্যন্ত এর চিকিৎসা এই দাঁড়ায়, আমি নিজের দৃষ্টি হেফাজত করি, সব দৃষ্টিতে একথা বলি- একটি পতিত মাটি এবং ইহা শুধুই মাটি। কিছু দিন যাবৎ বিশেষভাবে ইহাই অনুশীলন করি, তখন আমি এমনিতেই সুস্থতা লাভ করি।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মানুষের প্রতি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য

📄 মানুষের প্রতি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য


বোর্ড অফ সাইকুলজী এর বিশ্লেষণ

মানব দেহে এমন এক সিস্টেম রয়েছে, যার সম্পর্ক চিন্তাধারার সাথে। চিন্তাধারায় যখন পরিবর্তন আসে, সাথে সাথে মানুষের মেযাজ-মর্জিও পরিবর্তন হয়ে যাবে। চিন্তা-ভাবনা যদি ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষের শারীরিক নেযাম সবসময় সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম থাকবে। চিন্তা-ভাবনা যদি নেতিবাচক হয় তাহলে অল্প সময় শরীর নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে। ডাক্তার জ্যাকী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন- যখনই কাউকে ঘৃণার দৃষ্টিতে অথবা ঘৃণিত ভাষায় সম্বোধন করবে, তৎক্ষণাত এমন এক হরমোন জন্ম নেয়, যার মধ্যে হিস্টাসিনের আধিক্যতা থাকে। আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিম্নোক্ত ক্ষয়-ক্ষতিতে পতিত হয়।

• দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা বিশেষতঃ দূরের দৃষ্টি বেশি প্রভাবিত হয়।
• শরীর ভারসাম্যহীন, অকেজো ও জীর্ণশীর্ণ এবং মস্তিষ্ক পেরেশান হবে।
• স্মরণ শক্তি হ্রাস পাবে এবং লোপ পাবে।
• হৃদরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
• মনের রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাবে।
• কিডনী রোগীর কিডনী ফুলে যাবে।

এ ব্যপারে এখনও গবেষণা চলছে যে, মানুষের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে পরবর্তীতে মস্তিষ্কের উপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কত বেশি পতিত হয়। (নিউ ইয়ার্ক টাইম্‌স্।)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বোর্ড অফ সাইকুলজী এর বিশ্লেষণ

📄 বোর্ড অফ সাইকুলজী এর বিশ্লেষণ


মানব দেহে এমন এক সিস্টেম রয়েছে, যার সম্পর্ক চিন্তাধারার সাথে। চিন্তাধারায় যখন পরিবর্তন আসে, সাথে সাথে মানুষের মেযাজ-মর্জিও পরিবর্তন হয়ে যাবে। চিন্তা-ভাবনা যদি ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষের শারীরিক নেযাম সবসময় সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম থাকবে। চিন্তা-ভাবনা যদি নেতিবাচক হয় তাহলে অল্প সময় শরীর নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে। ডাক্তার জ্যাকী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন- যখনই কাউকে ঘৃণার দৃষ্টিতে অথবা ঘৃণিত ভাষায় সম্বোধন করবে, তৎক্ষণাত এমন এক হরমোন জন্ম নেয়, যার মধ্যে হিস্টাসিনের আধিক্যতা থাকে। আর অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিম্নোক্ত ক্ষয়-ক্ষতিতে পতিত হয়।

• দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা বিশেষতঃ দূরের দৃষ্টি বেশি প্রভাবিত হয়।
• শরীর ভারসাম্যহীন, অকেজো ও জীর্ণশীর্ণ এবং মস্তিষ্ক পেরেশান হবে।
• স্মরণ শক্তি হ্রাস পাবে এবং লোপ পাবে।
• হৃদরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
• মনের রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাবে।
• কিডনী রোগীর কিডনী ফুলে যাবে।

এ ব্যপারে এখনও গবেষণা চলছে যে, মানুষের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে পরবর্তীতে মস্তিষ্কের উপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কত বেশি পতিত হয়। (নিউ ইয়ার্ক টাইম্‌স্।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00