📄 প্রফুল্লতা আল্লাহ তা’আলার দান
খোশ মেযাজী বা প্রফুল্ল মন-মানসিকতা লোক বাস্তবিকই একটি শক্তিশালী প্রতিষেধক। যা ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যক্তিই সুস্থ ও পবিত্র হয়ে যায়। দুশ্চিন্তা ও উদাসীনতাকে খোশ মেযাজের পবিত্র পানির সাহায্যে ধৌত করে নিন।
ক্যালিফোর্নিয়া শহরের এক মহিলাকে নানা দুঃখ-কষ্ট বরাবরই পিষ্ট করছিল। যার মানসিক সুস্থতাও বিকৃত হয়ে যাচ্ছিল। সে একবার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিল, আমি নিজের দুঃখ-যাতনা ও হতাশাকে দূরে নিক্ষেপ করব। এর বোঝা এখন থেকে আর বহন করব না। আরও সিদ্ধান্ত নিল, আমি দিনে নূন্যতম তিনবার অবশ্যই হাসব। চাই এর কোনও কারণ থাক বা না থাক। সামান্য কারণেই সে দিনে তিনবার প্রাণ খুলে হাসতে থাকে। অতিদ্রুত এ মহিলার স্বাস্থ্য সুস্থ ও সবল হয়ে যায়। শুধু তাই নয়। তার ঘরও প্রফুল্লতায় ভরে ওঠে। হাসি এক প্রকার আসমানী মহৌষধ। মানুষ সব সময় হাসি-খুশী ও আনন্দ-আপ্লুত থাকলে ডাক্তারের কি প্রয়োজন?
হাসি মূলত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একটি শক্তিবর্ধক প্রতিষেধক। মতবিরোধ ও বিরোধিতা বিদূরীত করে মনের মধ্যে সাম্য-মৈত্রী ও সমতা আনয়ণের ক্ষেত্রে বিরাট কার্যকর। গদি বিশিষ্ট সোফায় বসে মানুষ যেভাবে শান্তি পায়, অনুরূপভাবে হাসিতেও শান্তি পাওয়া যায়। যেভাবে গাড়ীতে গদি বিশিষ্ট সীটে উপবিষ্ট ব্যক্তির ধাক্কা অনুভব হয় না, তদ্রূপ জীবনের দুশ্চিন্তা দুঃখ-যাতনা, রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি মানুষ তখনই ভুলে যায়, যখন সে প্রাণ খুলে হাসে। নিজের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যতা ও প্রশান্তি হাসিল করার জন্য জরুরী হল, নিজের হাস্যরসের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিকে উন্মুক্ত ছেড়ে দেওয়া। হাসি এক ধরনের ব্যায়াম, যা আমাদের আনন্দ-উল্লাসের ভাবধারাকে খোরাক যোগায়। জনৈক ডাঃ বলেন, হাসি আমাদের শারীরিক গ্রন্থিগুলোর জন্য পথ্য বা মহৌষধ নয়। কিন্তু হাসিতে কখনও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ে না। হাসির কারণে শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিজ নিজ কাজ উত্তমরূপে আঞ্জাম দিয়ে থাকে। এতে পাকস্থলির হজমশক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। রক্ত চলাচল ভালভাবে হয়।
হাস্যেজ্জলতা যাদুর মত কাজ করে। তা বিস্ময়কর অভূতপূর্ব কারিশমা দেখায়। মানসিক শক্তিকে দ্বিতীয়বার সঞ্চয় করে। এতে মানুষের কর্মক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সুতরাং প্রাণ খুলে হাসুন। যদি এভাবে হাসতে না পারেন, তবে মুচকি হাসি হলেও দিন।
📄 হাস্যোজলতা ও আকাংখা পূজা
কতনা ভাল হত যদি অতীত স্মৃতিগুলো ভুলার ক্ষমতা আমাদের থাকত। যেসব ঘটনা ও কথা যেগুলো স্মরণ হওয়া মাত্রই আমাদের মন-প্রাণ চিন্তায়-অস্থিরতায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়, এ সব চিন্তাধারা আমাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য অন্ধ করে দেয়। তা ভুলে যাওয়াই ভবিষ্যতের জন্য শ্রেয়। ক্ষতিকারক কথা ও স্মৃতিসমূহ ভুলে যান। কাপুরুষতায় কি উপকার আছে? ভবিষ্যতের ফিকির করুন।
আমাদের মধ্যে যদি এ শক্তি থাকে তথা মনকে কেবল মাত্র ভালভাল চিন্তা-ভাবনায় শোভিত রাখা, যাতে আমাদের চেতনা বাড়ে। স্বতন্ত্রতা বাড়ে। জীবনের কাজকর্মে সফলতা বাড়ে। তাহলে কতই না ভাল হত। দুর্ভাগ্যবশতঃ কিছু লোকের জন্ম স্বভাবতই কি এমন হয়, যারা হাসি-খুশির ঘটনাগুলি স্মরণ করতে ব্যর্থ হয়? কারও সাথে দেখা সাক্ষাত হলে স্বভাবতঃ তারা নিজের দুঃখ-দুর্দশা বা কষ্ট যাতনার কথা বলবে কিংবা ভবিষ্যতের দুঃখের কথা বলবে। কিছু শোনালে দুর্ঘটনার কথা শোনাবে, আহ! কত বড় বিপদ ছিল। তারা নিজের সুখের দিনগুলির অথবা আনন্দঘন মুহূর্ত গুলোর কথা কখনও শুনাবে না। তারা নেতিবাচক কথাবার্তাই বলে বেড়ায়। কষ্টের দিনগুলো তাদের মনে এমন রেখাপাত করেছে যে, সব সময় ভাবতে থাকে আহ' আমাকে দুঃখ-দুর্দশা ঘিরে রেখেছে।
পক্ষান্তরে কিছু লোক এমন আছে, যারা সব সময় সুন্দর ও ভাল জিনিসের কথা বলে। শুভ-সুন্দর দিনগুলোকে স্মরণ করে। আনন্দের ঘটনাবলী স্মরণ করে মনকে প্রফুল্ল করে। আমি এ ধরনের কতিপয় ব্যক্তি সম্পর্কে জানি। তাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের ঝড় এসেছে। তাদের ধন-সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। কষ্ট-যাতনা ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু খুব কমই তারা এসব কথা আলোচনা করেছে। এমনকি তাদের পাশে বসেও বুঝতে পারবেন না যে, কখনও তাদের উপর কষ্ট-যাতনা ও ঝড়-ঝাপটা এসেছিল। আপনি ভাববেন, সম্ভবত এ লোকের আদৌ কোন শত্রু ছিল না। সকলেই ছিল তাদের প্রতি দয়াবান। এরাই ঐ মহান ব্যক্তি, যারা আমাদেরকে নিজেদের পথে ডাকেন আর আমরা তাদের ভালোবাসি। নিজের প্রফুল্লচিত্ততার তোহফা ঐ ব্যক্তি বণ্টন করতে পারে, যে ব্যক্তি উদারচিত্ত হয় এবং মানবতা-প্রেমী হয়, যাদের মন-মগজ সব সময় প্রফুল্লতার চিন্তায় পরিপূর্ণ থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বদমেজাজী হয়, সে ব্যক্তি নিন্দাবাদ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অভিসম্পাত ছাড়া কথাই বলে না।
কিছু কিছু লোকের মস্তিষ্ক কাঁটা-ময়লা স্তূপের মত। তাদের মাথায় কোন নিয়ম-শৃংখলা থাকে না। তাদের চিন্তাধারা বিক্ষিপ্ত থাকে। কিন্তু আমরা যেভাবে দৈনন্দিন বাড়ীঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার প্রয়োজন অনুভব করি, অনুরূপভাবে দৈনন্দিন আমাদের মন-মস্তিষ্ক পরিচ্ছন্ন করা কর্তব্য। মস্তিষ্ক থেকে ময়লা বের করে দিন। অপ্রয়োজনীয় বেকার অনর্থক চিন্তা-ভাবনা দেমাগে ঢুকিয়ে রাখার দ্বারা কি লাভ? আবরণ কেটে দিলে যেভাবে নিচের ঝিলের পানি স্পষ্ট দেখা যায়, তদ্রূপভাবে বেকার অনর্থক চিন্তাভাবনা বিদূরীত করে দিলে চিন্তাধারা স্পষ্ট নির্মল, উন্নত ও আনন্দঘন হয়ে যায়।
এক জায়গায় আমরা এমন কিছু লোকের সাক্ষাত পেয়েছি, যারা প্রায় কুণ্ঠাসা। অনায়াসে যাদের কোন কাজ করা হয় না। কারণ, তারা নিজেদের খেয়ালকেই দেমাগ থেকে বাইরে ফেলতে প্রস্তুত হয় না। তারা ঐ সব গৃহিনীর মত যারা নিজের ঘর থেকে তুচ্ছ জিনিস সমূহও বাইরে ফেলতে অপ্রস্তুত বরং চিন্তা করে 'কখনও কাজে লেগে যাবে।' কিন্তু স্মরণ রাখবেন, ময়লা-আবর্জনা বাইরে ফেলে দেওয়া ঘরের সৌন্দর্যের জন্য আবশ্যক। অনুরূপভাবে বেকার ও বাজে চিন্তা দেমাগ থেকে বিদূরীত করা এবং মুছে ফেলা বড় এক সৌন্দর্য ও যোগ্যতা। কখনও কখনও এমন লোকেরও দেখা পাই, যাদের মন সাধারণ লোকের মত। যেমন ঘাত্রীবাহী সাধারণ বাসে সুন্দর ও ভাল ভাল মহিলা-পুরুষও বসে থাকেন। কখনও কখনও মদ্যপ-জুয়াড়িও বসে থাকে। বাসের কন্ট্রাক্টর ঐ ব্যক্তিকেই সিটে বসিয়ে দেন, যে আগে আসে। অনুরূপভাবে এ লোকও ঐ ব্যক্তির চিন্তা ধারাই গ্রহণ করে, যে প্রথমে তার সাথে সাক্ষাৎ করে। তার নিজস্ব কোনও জ্ঞান-বুদ্ধি থাকে না। এ লোক সব ধরনের খেয়াল-চিন্তা মনে গেঁথে নেয়। চাই চিন্তাকারী ভাল কিংবা খারাপ হোক। ভাল-মন্দের মাঝে পার্থক্য জ্ঞান তার থাকে না। তার দেমাগ ক্যামেরার মত হয়ে থাকে। যে বিষয়ই ক্যামেরার সামনে আসে, তাই গ্রহণ করে নেয়। এ ধরনের মানুষ নিজের মন-মস্তিষ্ক স্বচ্ছ নির্মল রাখতে সক্ষম হয় না। মন্দ চিন্তা-ভাবনা দূরে রাখতে ব্যর্থ হয়। তার ভেতর পরস্পর বিরোধী চিন্তা-ধারার তৎপরতা সব সময় বহাল থাকে। চিন্তাধারার ভার সাম্যতা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ভাল লোকের সাথে থাকলে ভাল কাজ করবে আর খারাপ লোকের সাথে থাকলে খারাপ কাজ করবে। তাদের মাঝে ভাল-মন্দের পার্থক্য জ্ঞান থাকে না।
সর্বোন্নত চরিত্রের একটি আলামত হল, মানুষের মধ্যে এতটুকু যোগ্যতা থাকবে যে, সে কাজকর্মে ভাল-মন্দ ও মঙ্গল-অমঙ্গলের পার্থক্য করতে সক্ষম হবে। কল্যাণকর চিন্তা-ধারার মাধ্যমে অকল্যাণকর দুশমন চিন্তাধারাকে আলাদা করতে সক্ষম হবে। জীবন বিপন্নকারী চিন্তাধারা যে ব্যক্তি নিজের মন-মস্তিস্ক থেকে বিদূরীত করতে সক্ষম হবে, সে ব্যক্তিই অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোক। কারও মন যতক্ষণ পর্যন্ত নেতিবাচক ঘটনাবলি স্মরণ এবং খারাপ চিন্তাধার আচ্ছন্ন থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে কোনও ভাল কাজ করতে পারে না। মস্তিষ্ক সক্রিয় ও সুস্থ থাকা আবশ্যক। তখনই তার মধ্যে চেতনা, প্রফুল্লতা, খোশমেযাজী, অলোকরশ্মি এবং কার্যক্ষমতা বা কাজের যোগ্যতার চমক পরিস্ফুটিত হয়।
📄 বলবে যেমন ফলবে তেমন
সুচিন্তা ভাগ্যেরই অপর নাম। এখন আপনিই নিজের ভাগ্য নির্ণয় করে নিন। চেতনার সাথে সফলতার অপেক্ষা করুন। ভালোবাসার মাধ্যমে ভালবাসা পাবেন; ঘৃণায় জন্মাবে ঘৃণা। ভালবাসায় সফলতা ও ধন-সম্পদ লাভ হবে। ঘৃণায় ব্যর্থতা ও দৈন্যতাই জুটবে।
উন্নত চিন্তাধারা, গৌরবময় আচার-ব্যবহার এবং উদারতা একটি অপরটির বিপরীত। এ সবের পরস্পরিক সম্পর্ক প্রফুল্লচিত্ততা ও খোশ-মেযাজীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এটা সতঃসিদ্ধ কথা যে, 'যেমন রোপন করবে তেমই ফলন পাবে।' কারণ, এমনটি আদৌ সম্ভব নয় যে, মানুষ রোপর করবে বড়ই বিচি আর ফলন ধরবে আম। কিন্তু একথা জানা সত্ত্বেও মানুষ কাৰ্য্য ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ভুলে যায়। কি আশ্চর্য। মনের লালিত কাজটি করতে গিয়ে মানুষ ঐ নিগুঢ় বাস্তবতা থেকে চোখ এড়িয়ে যায় যে, ফল তেমনই হবে, যেমন বীজ রোপন করবে। আমরা আনন্দ-খুশি, সুখ-স্বাচ্ছন্দ এবং প্রশান্তির ফসল কিভাবে আশা করতে পারি? কয়েক বছর যাবত আমরা নিজের যে চিন্তধারায় আচ্ছন্ন, এর বিপরীত ফসলের আশা আমরা কিরূপে করতে পারি? আমরা যখন নিজের মনে রোগ-ব্যাধির চিন্তাধারা রোপন করছি, তাহলে সুস্থতার কিভাবে আস্বাদন করতে পারি? আমরা ঐ কৃষককে অবশ্যই উন্মাদ ও পাগল বলব, যে কণ্টকাকীর্ণ ঝোপ থেকে যা কাটাদার বীজ রোপন করে তা থেকে গম পাওয়ার আশা করে। অথচ আমরা মনের মাঝে ভয়-ভীতির বীজ বপন করি, পেরেশানী-অস্থিরতার বীজ রোপন করি, দুশ্চিন্তার বীজ রোপন করি আর যখন বীজ অনুযায়ী ফল হয়, বিস্মিত হয়ে যাই। ধানের বীজে কেবল ধানই উৎপাদন হতে পারে আর গমের বীজে গম। ফসলের মত মানুষের সফলতা এক প্রকার বীজ। মেহনত, পরিচর্যা, পানি ইত্যাদির ভিত্তিতেই পরিপক্ক হয়। বীজ ভাল না হলে ফসলও ভাল হতে পারে না। বীজ ভাল হল কিন্তু দুর্বল বা নিম্নমানের হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপাদন হবে না।
যে ব্যক্তি অকৃতকার্য ও ব্যর্থ চিন্তা-ভাবনার বীজ নিজের মনে রোপন করে, সে কখনও সফলতার ফসল হাসিল করতে পারে না। সে যদি প্রবৃত্তিপুজার বীজ রোপন করে, ভারসাম্যতার সাথে সুস্থতার বীজ রোপন করে, পবিত্রতার বীজ রোপন করে, সততার বীজ রোপন করে, ধনাঢ্যতার বীজ রোপন করে তাহলে সে ঐ রকম ফসলই পাবে।
একতা ও মিত্রতার প্রেরণা একপ্রকার শক্তি। আর বিরোধিতা ও বিচ্ছিন্নতার জযবা হল দুর্বলতা। সব সময় হতাশাগ্রস্থ থাকার জযবা ঐ সব আগাছার মত যেগুলো উৎপন্ন হলে ফসল দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের জীবনকর্ম অতি সহজ হয়ে যাবে, যদি আমরা বুঝতে সক্ষম হই যে, মনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি ঠিক তদ্রুপ কাজ করে, যেরূপভাবে কাজ করে বৈজ্ঞানিক নীতিমালা অথবা শরীর সংক্রান্ত নীতিমালা। মন-মস্তিষ্কে উদিত সকল চিন্তা-ভাবনাই একপ্রকার বীজ। যার ফসল নিম্নমানের হয়ে থাকে। চাই সে বীজ বরই বীজ হোক বা গোলাপ বীজ হোক বা আমের বীজই হোক।
আমরা যে ধান্দা বা পেশা গ্রহণ করেছি, তা আমাদের মানসিক বীজের বাস্তব দৃষ্টান্ত। আমরা যদি নিজের মনের ভেতর ধন-সম্পদ উপার্জনের বীজ রোপন করি, তাহলে আমরা অবশ্যই তা হাসিল করব। আর যদি হীন চিন্তা-ধারার বীজ রোপন করি, তাহলে ব্যর্থতাই আমাদের হস্তগত হবে। যদি দৈন্যতা ও দরিদ্রতার চিন্তা-ভাবনা গেঁথে রাখি তাহলে বাস্তবিকই আমরা হতদরিদ্র হয়ে যাব।
জীবনের ফসল চিন্তা-ধারার বীজ অনুযায়ীই উৎপাদন হয়। আমরা কোনও স্বার্থপর মানুষ দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেই। আমরা জানি তার লাঞ্ছনা মিশ্রিত চেহারা স্বার্থপরতার জযবার ফসল। পক্ষান্তরে আমরা যখন কোন স্থির শান্ত প্রকৃতির সচেতন সফল লোক দেখি, তখন আমাদের বুঝ হয়ে যায় যে, এ ব্যক্তি উন্নত চিন্তাধারা, কল্যাণ ও সফলতার ফসল রোপন করেছে। কোনও ব্যক্তি যদি চাকু দিয়ে নিজের গোশত কাটতে আরম্ভ করে, তাহলে গোশত কেটে রক্ত ঝরা ও ব্যথা অনুভব হওয়ার উপর তার বিস্মিত হওয়া উচিত নয়। কেননা সে কাজই এমন করেছে। তদুপরি ফলের উপর বিস্ময় কেন? অনুরূপ কোন মানুষ যদি ক্রোধ ও রাগের বশবর্তি হয়ে অপর কাউকে আক্রামাত্মক কথা বলে, তাহলে তাকেও ক্রোধে ভরা আক্রমণাত্মক কথা শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আপনি যদি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে প্রষ্ঠিত করতে চান, নিজের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আনতে চান কিংবা এমন শক্তি অর্জন করতে চান, যাতে গোলামীর জিঞ্জির ছিঁড়ে স্বাধীনতার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হতে পারেন, যদি নিজের ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন আনতে চান, তাহলে আজ এখন থেকেই নিজের ভেতর উচ্চ আশা-আকাঙ্খা, প্রফুল্লতচিত্ততা, খোশমেযাজী, সচেতনতা, মেহনত, ধৈর্য, বন্ধুত্ব, হৃদ্যতা, কামিয়াবী ও সফলতার বীজ রোপন করুন। নিজের মনকে সৃষ্টিশীল কর্মঠ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বানান, তাহলে আপনার জীবনে বিস্ময়কর পরিবর্তন আসবে এবং আপনার যাবতীয় উচ্চাকাঙ্খা ও স্বপ্ন আশা পূরণ হবে।
📄 বদ অভ্যাস সম্পদের শত্রু ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান
ইসলাম সব সময় বদঅভ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
• তোমরা দুটি থেকে দূরে থাক। একটি হল, কাপুরুষতা; অপরটি হল অলসতা। কেননা কাপুরুষ হলে হক-সত্য বরদাশত করতে পারবে না আর অলস-উদাস হলে হক আদায় করতে পারবে না। • খারাপ-অসৎ বন্ধুদের থেকে বাঁচো। কেননা সে তোমার পরিচয় হয়ে যাবে। • কৃপণতা অপেক্ষা খারাপ কোন রোগ নেই। • অনর্থক অহেতুক কথাবার্তা থেকে বেঁচে থাক। শুধু যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কথা বল। এ সব বদঅভ্যাসও মানুষকে ধনবান হওয়া থেকে বিরত রাখে, বাঁধা সৃষ্টি করে।