📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রবৃত্তি দমন ও খাহেশাতে নফসানী

📄 প্রবৃত্তি দমন ও খাহেশাতে নফসানী


আপনি সংকল্প করুন, আপনি নিজেকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তাহলে আমি বলব, আপনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি। যদি আপনার মাঝে নফসকে দমন করার মানসিকতা না থাকে, তাহলে আপনার সকল শিক্ষাই অনর্থক। যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি নিজের মেযায-মর্জিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে বড় কোন কাজে সফলতার আশা করতে পারে না। প্রবৃত্তি দমন করতে না পারার কারণে হাজারও লোকের জীবন বরবাদ হয়ে গেছে। তাদের উচ্চাকাঙ্খা, অভূতপূর্ব যোগ্যতা এবং শিক্ষা-দীক্ষা কেবল এ কারণেই বেকার হয়ে গেছে যে, তাদের মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল না। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কারও সন্দেহ ছিল না। কিন্তু তাদের মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল না বলে তাদের গোটা জীবনটাই বেকার হয়ে গেছে।

আমরা প্রত্যেহ সংবাদপত্রে পড়ে থাকি, কেউ ক্রোধান্বিত হয়ে কাউকে আহত করেছে। গুলি করে উড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাশ ফায়ার করে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে। এর মূল্য তাকে দিতে হয়েছে। নিজের জীবন অথবা জীবনের স্বাধীনতার নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। কারাগারে গিয়ে বন্দীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। সাজা ঘরে গিয়ে শিশুদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। তাদের কতজন ক্রোধের শিকার ছিল।

আমি বহু বয়োবৃদ্ধ লোককে চিনি, যাদের জীবন শুধু এ জন্য বিগড়ে গিয়েছে যে, তারা অস্বাভাবিক রাগী ছিল। নিজের সাথে নীতি বিরোধীলোকদের নিয়মানুবর্তিতা এবং নিয়ম নীতির মূল্যায়ন ও সম্মান করতে পারত না। শুধুমাত্র এ কারণেই তাদেরকে উঁচু ও সম্মানজনক স্থান হতে হতাশ হতে হয়েছে। ক্রোধের কারণে কি ক্ষতি হবে তারা এর পরোয়া করেনি। তারা নিজের জবান নিয়ন্ত্রণে রাখেনি। অকথ্য ভাষা তারা ব্যবহার করেছে। কেননা ক্রোধের কারণে তারা উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাদের সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।

কত পাগল আছে, যারা ক্রোধের বশে নিজের ধ্যান-ধারণা জবরদস্তি অন্যের মস্তিষ্কে চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ফলে নিজের ভবিষ্যতই বিকৃত করে দেয়। এক ব্যবসায়ীর সাথে আমার পরিচয় আছে। সে অল্প কদিনের মধ্যেই নিজের সমস্ত ব্যবসা বরবাদ করে দিয়েছে। কারণ, শুধুমাত্র এই ছিল যে, সে নিজের গ্রাহকদেরকে বলত- তার মতামত কি? নিজের মতের প্রাধান্য দিতে গিয়ে সে ক্রোধান্বিত হয়ে যেত। গ্রাহকরা তাকে ছেড়ে চলে যেত। তার ক্রোধ যখন অতিমাত্রায় বেড়ে যেত, তখন সে আগে-পিছে না ভেবে মুখে যা আসত বলতে থাকত। সে অকারণেই এমনভাবে ক্রোধান্বিত হত। তার কর্মচারিরাও আতংকে দৌড়াতে থাকত। ধীরে ধীরে তার ব্যবসা নষ্ট হয়ে যায় এবং দেউলিয়া হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়।

অনেকে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে শয়তান হয়ে যায়। সে মানুষই আর থাকে না। এক লোক এমন ছিল, যখন ক্রোধান্বিত হত তখন তার সামনে যা কিছু থাকত সবকিছু সে ভেঙ্গে চুরে তছতনছ করে ফেলত। সে কাউকে গালমন্দ করতেও বিরত থাকত না। ক্রোধান্বিত হওয়ার কারণে তার চোখ লাল হয়ে যেত। আর এ অবস্থা দেখে চেনা-জানা সকলেই দূরে পলায়ণ করত যখন তার উপর ক্রোধের ভূত সওয়ার হয়ে যেত তখন সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ত। বস্তুতঃ ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলে তখন মানুষ বাস্তবিকই আধা পাগল হয়ে যায়। যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ দমন করতে পারে না, তাকে বুদ্ধিমান বলা যায় না। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মানুষ এমন কাজ করে ফেলে, যার জন্য তাকে জীবনভর পস্তাতে হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00