📄 গভীর উপর নযর রেখো
কৃষক তার নতুন চাকরকে বলল- দেখ! এভাবে কাজ চলবে না। তোমার হাল বাঁকা যায়। এ সব লাইনে উপাদিত ফসল কোনও কাজে আসবে না। সামনে কোনও জিনিসের উপর তোমার দৃষ্টি নিবন্ধ রাখ এবং সেদিকে চলতে থাক। দেখ, গাভীটি ক্ষেতের ঐ পার্শ্বে দাঁড়ানো আছে। হাল চালাতে শুরু কর আর দৃষ্টি গাভীর উপর স্থির দৃষ্টি রাখ। তবে হাল সোজা লাইনে চলবে। চাকর বলল- খুব ভাল কথা। দশ মিনিট পরে কৃষক যখন ফিরে আসল তখন দেখল হাল সারা ক্ষেত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষক বলল, আরে থামো! থামো!
চাকর সেখান থেকেই বলল- জনাব! আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি, আমি আপনার কথা মতই কাজ করছি। আমি তো গাভীর উপর দৃষ্টি নিবন্ধ রেখে সোজা যেতেই চাই। কিন্তু গাভী তো কোনও এক জায়গায় থামে না। উদ্দেশ্যহীন চিন্তাহীন জীবন কাটানো আহমকের মত পরিকল্পনা ব্যর্থতার আহবান ছাড়া আর কি হতে পারে?
সফলকাম ও নিষ্ফল ব্যর্থ লোকদের মধ্যকার পার্থক্য এই নয় যে, তাদের মধ্যে কে কতটুকু কাজ করে। প্রকৃত কারণ হচ্ছে, বুদ্ধিমত্তার সাথে কে কতটুকু কাজ করে। তাদের একজনের জ্ঞানবুদ্ধি কম, কিন্তু সে নিজের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য নিজের পূর্ণ শক্তি-সমার্থ ব্যয় করে দেয়। অন্যজনের জ্ঞানবুদ্ধি প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা দশগুণ বেশি। কিন্তু সে নিজের শক্তি-সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগায় না, সামনে কি করতে হবে একথাও কখনও সে উপলব্দি করতে পারে না।
এমন ব্যক্তির মোকাবেলা কেউ করতে পারে না, যার কোনও মহৎ উদ্দেশ্য থাকে আর সে তাতে দেহ-মন ও ধ্যান পুরো ব্যক্তিত্ব ও শক্তি-সামর্থ নিয়ে উঠে পড়ে লাগে। বড় বড় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মেহনতী ও কঠিন শক্তিমান ব্যক্তিও তার মোকাবেলা করার যোগ্য নয়।
📄 দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন
মেজর উইলিয়াম ম্যাক ফিনলে উদাহিউ অঞ্চল থেকে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সংসদের স্পিকার তাকে নিম্নোক্ত পরামর্শ দেন-
সফলতা ও খ্যাতি লাভ করার জন্য জরুরী হল, আপনি বিশেষ কোনও একটি বিষয় নিয়ে সামনে অগ্রসর হবেন। কখনও যে বিষয়ই সামনে আসবে সে সম্পর্কেই কথা বলতে শুরু করবেন না। আপনি নিজে ঐ বিশেষ বিষয়ের উপরই নিজের কথা সীমিত রাখবেন, যার উপর আপনি বিশেষভাবে অধ্যয়ন করে দক্ষ্য হয়েছেন। আপনি অভিজ্ঞ ও দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন। আইনের কোন বিশেষ ধারাকে নিজের অধ্যয়ণের বিষয় বস্তু নির্ধারণ করে নিন। আপনি ট্যাক্স কমানোর বিষয় কেন গ্রহণ করেন না? এটা এমন এক বিষয়, যা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত নির্ধারিত হবে না। এতে মুতালা'আ বা অধ্যায়ণের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
মেজর উইলিয়ামের কর্ণকুহরে স্পিকারের ঐ বক্তব্য সারাক্ষণ বাজতে থাকে। তিনি বিশেষভাবে ট্যাক্স কমানোর সূত্র সম্পর্কে গবেষণা শুরু করেন। খুব দ্রুত তিনি এ বিষয়ে পারিদর্শিদের মধ্যে গণ্য হয়ে যান। সংসদে তার উত্থাপিত এ বিল পাশ করার সময়টিই ছিল তার কংগ্রেস জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।
যে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে কোনও এক চিন্তাধারায় নিয়োজিত করতে পারে, অবশ্যই সে কিছু না কিছু অর্জন করে নিতে পারবে। আর যদি তার মধ্যে যোগ্যতা ও জ্ঞান থাকে, তবে তার সফলতা আরও বেড়ে যায়। নিজেকে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে নিবিষ্ট করার যোগ্যতা জীবনের জন্য সীমাহীন জরুরী। কিন্তু সাথে সাথে আরেকটি চরমসত্য হল, আপনি যে কাজে লেগে আছেন, মহান কবি গোয়েটের মতে আপনাকে সম্পূর্ণরূপে তাই হতে হবে। তার জন্য সতেজ থাকতে হবে। তাতে নিজের মন-মানস, শক্তি-সামর্থ, বোধশক্তি ও যোগ্যতা সবই নিবিষ্ট করতে হবে। তবেই সফলতা তোমার গলায় এসে বিজয়মালা পরাবে। পৃথিবীতে আজ যারা কীর্তিমান ও সফলকাম ব্যক্তিত তারা সকলেই এমন লোক ছিলেন, যাদের সামনে সঠিক চিন্তধারা ছিল, যাদের জীবনের যে কোনও একটি আভিষ্ঠ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল। আমি এর দৃষ্টান্ত স্বরূপ জন হ্যাপেন্সের জীবনকর্ম পেশ করতে চাই। তিনি ঘোষণা করেছিলেন- আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত হয়েছে যে, আমি নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করব। আমি যত অঢেল ধন-সম্পদ কামাই করি, তা ঋণ প্রার্থী বা ভিখারীদের জন্য নয়। লোকেরা তাকে বড় কৃপন ও কাজুস বলত। কিন্তু এতেও তার উপর কোনও প্রভাব পড়ত না। কয়েক বছর পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য একটিই ছিল। ফলে কয়েক লাখ ডলার কামাতে তিনি সফল হন। অতঃপর তিনি নিজের এ সম্পত্তি উদার হস্তে দান করে দেন। পচিশ লাখ ডলার এক বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। বিশ লাখ ডলার অপর এক কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের নামে দান করেন। তিনি নিজের ব্যবসা জীবনের শুরুতে যে নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করেন, সবই তার অনুকূলে ছিল।
📄 মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি উৎসাহ
"ডেকে যায় যে সন্তর্পনে বলে যায় মোরে,
জীবনের পথে দাড়ানোর সময় নাই ওরে,,
দেখি যে হাত আমি তুমি নাহী দেখ,
বলে যে, মোরে সামনে যাও দৌড়ে"
প্রসিদ্ধ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাক্তার জর্জ এফ শার্ডির বয়স যখন উনিশ বছর, তখন তিনি তার পিতাকে বললেন, আমি এ লম্বা ছুটিতে বাইরে কোথাও গিয়ে কিছু টাকা-পয়সা উপার্জন করতে চাই। বৃদ্ধ পিতা তাকে বললেন- বাবা! আমাকে ছেড়ে তুমি কোথাও যেও না। কিন্তু একদিন ঐ যুবক মিস্টার ডগলাসের প্রসিদ্ধ একটি বাণিজ্যিক এজেন্সীতে যায়। সেখানে গিয়ে যুবক শার্ডি মিস্টার ডল্লাসকে বললেন, আমার একটি চাকরি দরকার। মিস্টার ডগলাস বললেন, এ মুহূর্তে তোমাকে দেওয়ার মত আমাদের হাতে কানও চাকরি নেই। ডগলাসের কথায় যুবক খানিকটা অপমান বোধ করে বলল, আমি জানি আপনার কাছে চাকরি আছে।
শার্ডি বিভিন্ন জিনিসের মডেল তৈরীতে পারদর্শী ছিল। তৎক্ষণাৎ কলম দ্বারা কয়েকটি দাগ দিয়ে সে অত্যন্ত সুন্দর একটি রাজ হাঁসের আকৃতি বানিয়ে মিস্টার ডাগলাসকে দেখাল। মিস্টার ডগলাস আশ্চর্য হয়ে বলল- তুমি এত সুন্দর ছবি আঁকতে পার?
শার্ডি বিনয়ভরে বলল, জী পারি।
মিস্টার ডগলাস বললেন, আচ্ছা। আমরা তোমাকে প্রতি সপ্তাহে আট ডলার বেতন দিব। অভার টাইমে প্রতি ঘণ্টায় আট স্যান্ট করে দেব।
যুবক শার্ডি বলল, আমি রাজি আছি।
মিস্টার ডগলাস বললেন, তাহলে তুমি আগামী দিন থেকে কাজ শুরু করে দাও।
যুবক শার্ডি বলল, কেন? এখন থেকে শুরু করলে অসুবিধা কোথায়?
মিস্টার ডগলাস বললেন, ঠিক আছে। এখনই শুরু করে দাও। এরপর ম্যানেজারকে বললেন, এ ছেলেটাকে কাজের সুবিধার্থে একটি রুমের ব্যবস্থা করে দিন।
মিস্টার ডগলাস ইতোমধ্যে আরও জানতে পারলেন, এ যুবক প্রতি মিনিটে এক শত পঁচিশ শব্দেরও বেশী শর্ট হ্যান্ড লিখতে পারে। মিস্টার ডগলাস একদিন তার সামনে সংবাদপত্রের একটি বিষয় পড়ে তাকে পরীক্ষা করলেন। অতঃপর তিনি তাকে নিজের ব্যক্তিগত সেক্রেটারী বানাতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। যুবক অস্বীকার করে বলল- না, আপনার সেক্রেটারী নয় বরং আমি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার হতে চাই।
মিস্টার ডগলাস তখন তাকে বিদ্রুপ করে বললেন, তোমার মন-মস্তিস্ক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য তৈরী হয়েছে। তুমি এখন আর ডাক্তার হতে পারবে না। বিশ বছর পর মিস্টার ডগলাস একবার ঠিকই (সেই যুবক) ডাক্তার জর্জ এফ শার্ডির কাছে চিকিৎসা করাতে যান। এজন্যই অভিজ্ঞ লোকেরা বলেছেন, সুস্পষ্ট চিন্তাধারা, দৃঢ়সংকল্প ও অবিরাম চেষ্টা ব্যতিত জীবনে সফলকাম হওয়ার দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
📄 ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করুন
আপনি যদি কোনও কাজে এমনভাবে লেগে যান, যেন সে কাজই আপনার সব কিছু, তাহলেই আপনি পরিপূর্ণভাবে লাভবান হতে পারবেন। কেননা আপনি ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করেছেন। এ মূল্য হচ্ছে, ঈমানদারী, পরিশ্রম এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করা। জীবনে চেষ্টা-সাধনা ছাড়া করার আর কী বা আছে।
এক যুবক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে চাকুরির জন্য দরখাস্ত দিয়েছিল। ব্যবসায়ী তার সম্পর্কে বলল- হ্যা, আমি জানি এ লোকের চাকুরির প্রয়োজন। এর মাঝে ঈমাদারী আছে। এ পদের জন্য এ ব্যক্তি উপযুক্ত। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে আমি অফিস হতে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গলির কোনায় কিছু বখাটে-বেকার ছেলেদের সাথে আড্ডা মারতে দেখি। আমার প্রতিষ্ঠানের চাকুরিতে এমন কোনও যুবককে রাখতে চাই না, যে কোনও গলির কিনারায় অহেতুক দাঁড়িয়ে ধুমপান করে। সে আমার পার্টি ও আমার কাজের দূর্নাম করবে তার নিজের অবসর সময়টুকু তাকে কোনও ভাল কাজে ব্যয় করা উচিৎ।
ডঃ লর্ড ক্যামবিল যখন ছাত্র ছিলেন তখন তিনি লিখেছেন, সফলতা লাভের কোনও সুযোগ পাওয়ার জন্য আমাকে অন্যের তুলনায় অনেক বেশি দৃঢ়তার সাথে মেহনত করতে হবে। আমার সঙ্গিসাথীরা যখন থিয়েটারে থাকবে, তখন আমাকে কামরায় থাকতে হবে। যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে, আমাকে তখন পড়া লেখায় মগ্ন থাকতে হবে। যখন তারা আনন্দ ভ্রমণে গ্রামে থাকে তখন আমাকে শহরে থেকে কাজ করতে হবে।