📄 সম্পূর্ণ সেথানকার
জার্মানের মহাকবি গোয়েটে বলেন, "তুমি যেখানেই থাক, সম্পূর্ণরূপে সেখানকার হও।" এটা অনেক বড় একটা মন্ত্র যে, একটি কাজকে শুধু একবারেই কর। হাতে যে কাজ রয়েছে তাতে নিজের পুরো বক্তিত্ব ও শক্তি ব্যয় কর। ফল কি হবে, তা চিন্তা করো না। কাজ শেষ করার পর যাই হোক প্রশ্ন করবে না।
📄 নিজের শক্তিকে একনিষ্ট কর
এক গবেষক বলেন, "যুবসমাজের কাজ করবারে ব্যর্থতার একটি বড় কারণ হল, তারা মনকে একনিষ্ঠ করতে পারে না। পৃথিবীর যারা বড় হয়েছেন, সফলকাম হয়েছেন, তারা নিজের শক্তি ও ক্ষমতাকে বিশেষ কোনও এক দিকেই নিবিষ্ট রেখেছিলেন। পূর্ণ মনোযোগ ছাড়া কাজ করার কোনও অর্থ নেই। যে কাজ আপনার সাময়িক প্রয়োজন। আজকের অতিব্যস্ত সময় যে নিজের প্রচেষ্টাকে বিকৃত করে, সে সফলকাম হওয়ার আশা করতে পারে না।
মানসিক চঞ্চলতাই অধিকাংশ ব্যর্থতার কারণ, দুর্বল ইচ্ছা, অমনোযোগ ইত্যাদির জন্য বিংশ শতাব্দিতে কোন স্থান নেই। যে মেহনত ভ্রান্ত পথে করা হবে, তাতে শুধুমাত্র নিজের কর্মক্ষমতাই বরবাদ হওয়া ছাড়া ফল কি হবে? হতে পারে, সব সময় কাজ করার পরও মানুষ জীবনে উন্নতি করতে পারে না। এক শিশু নিজের খেলনা ইঞ্জিন সম্পর্কে বলছিল, এটা গাড়ীর মত ধোঁয়া ছাড়ে। এটা মিশিনের মত বাঁশি বাজায়। কিন্তু এটি যায় না কোথাও।"
📄 গভীর উপর নযর রেখো
কৃষক তার নতুন চাকরকে বলল- দেখ! এভাবে কাজ চলবে না। তোমার হাল বাঁকা যায়। এ সব লাইনে উপাদিত ফসল কোনও কাজে আসবে না। সামনে কোনও জিনিসের উপর তোমার দৃষ্টি নিবন্ধ রাখ এবং সেদিকে চলতে থাক। দেখ, গাভীটি ক্ষেতের ঐ পার্শ্বে দাঁড়ানো আছে। হাল চালাতে শুরু কর আর দৃষ্টি গাভীর উপর স্থির দৃষ্টি রাখ। তবে হাল সোজা লাইনে চলবে। চাকর বলল- খুব ভাল কথা। দশ মিনিট পরে কৃষক যখন ফিরে আসল তখন দেখল হাল সারা ক্ষেত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষক বলল, আরে থামো! থামো!
চাকর সেখান থেকেই বলল- জনাব! আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি, আমি আপনার কথা মতই কাজ করছি। আমি তো গাভীর উপর দৃষ্টি নিবন্ধ রেখে সোজা যেতেই চাই। কিন্তু গাভী তো কোনও এক জায়গায় থামে না। উদ্দেশ্যহীন চিন্তাহীন জীবন কাটানো আহমকের মত পরিকল্পনা ব্যর্থতার আহবান ছাড়া আর কি হতে পারে?
সফলকাম ও নিষ্ফল ব্যর্থ লোকদের মধ্যকার পার্থক্য এই নয় যে, তাদের মধ্যে কে কতটুকু কাজ করে। প্রকৃত কারণ হচ্ছে, বুদ্ধিমত্তার সাথে কে কতটুকু কাজ করে। তাদের একজনের জ্ঞানবুদ্ধি কম, কিন্তু সে নিজের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য নিজের পূর্ণ শক্তি-সমার্থ ব্যয় করে দেয়। অন্যজনের জ্ঞানবুদ্ধি প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা দশগুণ বেশি। কিন্তু সে নিজের শক্তি-সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগায় না, সামনে কি করতে হবে একথাও কখনও সে উপলব্দি করতে পারে না।
এমন ব্যক্তির মোকাবেলা কেউ করতে পারে না, যার কোনও মহৎ উদ্দেশ্য থাকে আর সে তাতে দেহ-মন ও ধ্যান পুরো ব্যক্তিত্ব ও শক্তি-সামর্থ নিয়ে উঠে পড়ে লাগে। বড় বড় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মেহনতী ও কঠিন শক্তিমান ব্যক্তিও তার মোকাবেলা করার যোগ্য নয়।
📄 দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন
মেজর উইলিয়াম ম্যাক ফিনলে উদাহিউ অঞ্চল থেকে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সংসদের স্পিকার তাকে নিম্নোক্ত পরামর্শ দেন-
সফলতা ও খ্যাতি লাভ করার জন্য জরুরী হল, আপনি বিশেষ কোনও একটি বিষয় নিয়ে সামনে অগ্রসর হবেন। কখনও যে বিষয়ই সামনে আসবে সে সম্পর্কেই কথা বলতে শুরু করবেন না। আপনি নিজে ঐ বিশেষ বিষয়ের উপরই নিজের কথা সীমিত রাখবেন, যার উপর আপনি বিশেষভাবে অধ্যয়ন করে দক্ষ্য হয়েছেন। আপনি অভিজ্ঞ ও দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন। আইনের কোন বিশেষ ধারাকে নিজের অধ্যয়ণের বিষয় বস্তু নির্ধারণ করে নিন। আপনি ট্যাক্স কমানোর বিষয় কেন গ্রহণ করেন না? এটা এমন এক বিষয়, যা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত নির্ধারিত হবে না। এতে মুতালা'আ বা অধ্যায়ণের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
মেজর উইলিয়ামের কর্ণকুহরে স্পিকারের ঐ বক্তব্য সারাক্ষণ বাজতে থাকে। তিনি বিশেষভাবে ট্যাক্স কমানোর সূত্র সম্পর্কে গবেষণা শুরু করেন। খুব দ্রুত তিনি এ বিষয়ে পারিদর্শিদের মধ্যে গণ্য হয়ে যান। সংসদে তার উত্থাপিত এ বিল পাশ করার সময়টিই ছিল তার কংগ্রেস জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।
যে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে কোনও এক চিন্তাধারায় নিয়োজিত করতে পারে, অবশ্যই সে কিছু না কিছু অর্জন করে নিতে পারবে। আর যদি তার মধ্যে যোগ্যতা ও জ্ঞান থাকে, তবে তার সফলতা আরও বেড়ে যায়। নিজেকে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে নিবিষ্ট করার যোগ্যতা জীবনের জন্য সীমাহীন জরুরী। কিন্তু সাথে সাথে আরেকটি চরমসত্য হল, আপনি যে কাজে লেগে আছেন, মহান কবি গোয়েটের মতে আপনাকে সম্পূর্ণরূপে তাই হতে হবে। তার জন্য সতেজ থাকতে হবে। তাতে নিজের মন-মানস, শক্তি-সামর্থ, বোধশক্তি ও যোগ্যতা সবই নিবিষ্ট করতে হবে। তবেই সফলতা তোমার গলায় এসে বিজয়মালা পরাবে। পৃথিবীতে আজ যারা কীর্তিমান ও সফলকাম ব্যক্তিত তারা সকলেই এমন লোক ছিলেন, যাদের সামনে সঠিক চিন্তধারা ছিল, যাদের জীবনের যে কোনও একটি আভিষ্ঠ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল। আমি এর দৃষ্টান্ত স্বরূপ জন হ্যাপেন্সের জীবনকর্ম পেশ করতে চাই। তিনি ঘোষণা করেছিলেন- আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত হয়েছে যে, আমি নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করব। আমি যত অঢেল ধন-সম্পদ কামাই করি, তা ঋণ প্রার্থী বা ভিখারীদের জন্য নয়। লোকেরা তাকে বড় কৃপন ও কাজুস বলত। কিন্তু এতেও তার উপর কোনও প্রভাব পড়ত না। কয়েক বছর পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য একটিই ছিল। ফলে কয়েক লাখ ডলার কামাতে তিনি সফল হন। অতঃপর তিনি নিজের এ সম্পত্তি উদার হস্তে দান করে দেন। পচিশ লাখ ডলার এক বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। বিশ লাখ ডলার অপর এক কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের নামে দান করেন। তিনি নিজের ব্যবসা জীবনের শুরুতে যে নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করেন, সবই তার অনুকূলে ছিল।