📄 তারিক বিন যিয়াদের ভূমিকা
কঠিন পরিশ্রম ও কৃতত্বকে ধরে রাখার জন্য মহাবীর তারিক বিন যিয়াদ স্পেনে যাওয়ার পর সকল নৌযান জ্বালিয়ে দিয়ে নিম্নোক্ত ভাষণ দেন। যার প্রতিটি শব্দই দৃঢ়সংকল্প স্বাধীনতা, এমনকি কঠিন পরিশ্রমের সবক দেয়।
আমার বন্ধুগণ! সমুদ্র তোমাদের পেছনে আর শত্রু বাহিনী তোমাদের সামনে। আজ বিশ্ব মানবতার দৃষ্টি তোমাদের উপর নিবন্ধ। ইচ্ছে করলে তোমরা ইসলাম ও মুসলমানদের পরাজয়ের কারণ হতে পার, ইচ্ছে করলে তোমরা বিশ্বের বুকে ইসলামের বিজয়পতাকা উড্ডীন করতে পার।
স্মরন রেখো! তোমাদের মা তোমাদেরকে আজকের দিনের জন্যই প্রসব করেছেন। মাতৃকূলের ইজ্জত-শরম রেখো। এ হালাল রক্তের সম্মান রক্ষা কর। তোমাদের দায়িত্ব যা প্রথম দিনই তোমাদের উপর অর্পিত হয়েছে। শত্রু বাহিনী আজ তোমাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু তোমরা শত্রুবাহিনীকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছ। তোমরা শত্রু বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়। পেছনে ফিরে যাওয়ার পথ তোমাদের জন্য বন্ধ। (মুসলমান ফাতেহীন)
উপরিউক্ত ভাষণের প্রতিটি শব্দে দৃঢ়তা এবং শত্রুর প্রতি এক হুংকার ছিল। যার ফলে ইসলামের শির চিরউন্নত এবং শত্রুবাহিনীর চরম পরাজয় সাধিত হয়।
📄 ইবনে যোবায়েরের অভিব্যক্তি
আমি ইয়ামানের শহর সান'আতে ছিলাম। আমি উপলব্দি করলাম, সেখানকার প্রতিটি নাগরিক চেষ্টা-তদবীর ও মেহনতে অগ্রগামী হওয়ার সংগ্রাম করছে। এ চেষ্টাই তাদের সফলতার কারণ ছিল। তারা প্রত্যেক কাজকর্মে এমনই সফলতা লাভ করেছেন, যাতে কোনও ব্যর্থতা নেই।
📄 সম্পূর্ণ সেথানকার
জার্মানের মহাকবি গোয়েটে বলেন, "তুমি যেখানেই থাক, সম্পূর্ণরূপে সেখানকার হও।" এটা অনেক বড় একটা মন্ত্র যে, একটি কাজকে শুধু একবারেই কর। হাতে যে কাজ রয়েছে তাতে নিজের পুরো বক্তিত্ব ও শক্তি ব্যয় কর। ফল কি হবে, তা চিন্তা করো না। কাজ শেষ করার পর যাই হোক প্রশ্ন করবে না।
📄 নিজের শক্তিকে একনিষ্ট কর
এক গবেষক বলেন, "যুবসমাজের কাজ করবারে ব্যর্থতার একটি বড় কারণ হল, তারা মনকে একনিষ্ঠ করতে পারে না। পৃথিবীর যারা বড় হয়েছেন, সফলকাম হয়েছেন, তারা নিজের শক্তি ও ক্ষমতাকে বিশেষ কোনও এক দিকেই নিবিষ্ট রেখেছিলেন। পূর্ণ মনোযোগ ছাড়া কাজ করার কোনও অর্থ নেই। যে কাজ আপনার সাময়িক প্রয়োজন। আজকের অতিব্যস্ত সময় যে নিজের প্রচেষ্টাকে বিকৃত করে, সে সফলকাম হওয়ার আশা করতে পারে না।
মানসিক চঞ্চলতাই অধিকাংশ ব্যর্থতার কারণ, দুর্বল ইচ্ছা, অমনোযোগ ইত্যাদির জন্য বিংশ শতাব্দিতে কোন স্থান নেই। যে মেহনত ভ্রান্ত পথে করা হবে, তাতে শুধুমাত্র নিজের কর্মক্ষমতাই বরবাদ হওয়া ছাড়া ফল কি হবে? হতে পারে, সব সময় কাজ করার পরও মানুষ জীবনে উন্নতি করতে পারে না। এক শিশু নিজের খেলনা ইঞ্জিন সম্পর্কে বলছিল, এটা গাড়ীর মত ধোঁয়া ছাড়ে। এটা মিশিনের মত বাঁশি বাজায়। কিন্তু এটি যায় না কোথাও।"