📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ধনাঢ্যতা, ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান

📄 ধনাঢ্যতা, ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান


ইসলামের দৃষ্টিতে ধন-সম্পদ দোষণীয় কিছু নয়। কিন্তু ঐ সময় দোষণীয় হয়, যখন তা মানুষকে আল্লাহ তা'আলার স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং আখেরাতের চিন্তা ফিকির নিঃশেষ হয়ে যায়।

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আরয করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আমার পোশাক অত্যন্ত দামী হোক, মাথায় তৈল লাগানো থাক, জুতাও উন্নত মানের হোক, আমার লাঠি ভাল ধরনের হোক। নবীজী বললেন- এ সব কটিই পছন্দনীয় এবং আল্লাহ তা'আলা এ সুন্দর রুচীকে ভাল দৃষ্টিতে দেখেন। (মুসতাদরাকে হাকেম)

ইসলামের দৃষ্টিতে ধন-সম্পদ দোষণীয় কিছু নয়। কিন্তু ঐ সময় দোষণীয় হয়, যখন তা মানুষকে আল্লাহ তা'আলার স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং আখেরাতের চিন্তা ফিকির নিঃশেষ হয়ে যায়।

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আরয করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আমার পোশাক অত্যন্ত দামী হোক, মাথায় তৈল লাগানো থাক, জুতাও উন্নত মানের হোক, আমার লাঠি ভাল ধরনের হোক। নবীজী বললেন- এ সব কটিই পছন্দনীয় এবং আল্লাহ তা'আলা এ সুন্দর রুচীকে ভাল দৃষ্টিতে দেখেন। (মুসতাদরাকে হাকেম)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সম্পদ শালী হবেন কিভাবে?

📄 সম্পদ শালী হবেন কিভাবে?


ধনাঢ্যতার চিন্তাধারার কারণেই ধন-সম্পদ হাসিল হয়। দুনিয়ায় কোনও জিনিসের স্বল্পতা আছে এ ধারণাই ভ্রান্ত। যে মনে করে দুনিয়ায় এত এত ধন-ভাণ্ডার পড়ে আছে, সেই ধনী হয়, আমীর হয়। যে ধন-সম্পদের আশা রাখে, সেই ধনবান হয়। সে দরিদ্রতা-দৈন্যতাকে অস্বীকার করে। দরিদ্রতার কাছে নত স্বীকার করে না। তার উদ্দেশ্য বাস্তবিকই "ধন-দৌলত" হয়। নিজের এ অভিষ্ট লক্ষ্য সফল করার জন্য সে সব সময় মনে এ চিন্তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে।

যথারীতি নিজের মনকে বলতে থাকে- আমার পিতা আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, সবই আমার। তার উপর আমার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এ চিন্তা সব সময় তাকে উৎসাহ দিতে থাকে যে, কিছু কর, কিছু হও। সে নিজের এ অভিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিটি কদম ফেলে। যে ব্যক্তি নিজের সকল চিন্তাধারাকে একই উদ্দেশ্যে ধন-সম্পদের উপর নিবন্ধ রাখে, তার চিন্তাধারা বিচ্ছিন্ন থাকে না। তার কাছে নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই কেবল ফুটে উঠে। কাজেই সে নিজের সঠিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যস্থির করার ক্ষেত্রে সফলকাম হয়। এ সঠিক উদ্দেশ্যের জন্য মনের একাগ্রতা একান্ত জরুরী ও আবশ্যক।

যার চিন্তাধারা এদিক-ওদিক বিক্ষিপ্ত থাকে, সে বেকারত্বের অস্থিরতায় নিজের সময় নষ্ট করে। সে নিজের মাকসাদ ও উদ্দেশ্য সফল করার জন্য নিজের সমস্ত চেষ্টা-তদবীর ব্যয় করে না। কাজেই সে সফলতা অর্জন করতে পারে না। আপনার উদ্দেশ্য যদি সুস্পষ্ট হয়, তা যদি সব সময় মনের ভেতর থাকে এবং সফলতা লাভের জন্য নতুনভাবে চিন্তা-ফিকির করতে থাকেন, আপনার নিয়মিত সে অনুপাতে কাজ করার আগ্রহ, চেষ্টা-তদবীর ও চিন্তা-ভাবনার দ্বারা লক্ষ্যবস্তু আপনার কাছে আসতে থাকে। আপনি সজাগ দৃষ্টিতে ও সচেতনভাবে বড় বড় চেষ্টা-তদবীর করবেন। নিজের কাজ সমাধা করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যায় পড়বেন না। আপনি সজাগ থেকে সফলতার কোনও লাভজনক ও উপযুক্ত সময় নষ্ট করবেন না।

এ জগতের কোন সীমা নেই। কুদরতের ভাণ্ডারে কোনও জিনিসের স্বল্পতা নেই। এ ধন-সম্পদ একক কারও উত্তরাধিকার নয়। এতে কারও পূর্ব অধিকার নেই। এ ধন-সম্পদ অর্জন করার ক্ষমতাও আমাদের মাঝে প্রচুর। কিন্তু যখন আমরা আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তি থেকে নিজেদেরকে আলাদা করে রাখি, তখন আমরা তুচ্ছ, নগন্য নিরিহ ও অযোগ্য হয়ে যাই। যে নালার সম্পর্ক সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাতে পানি আসবে কোত্থেকে? আল্লাহ তা'আলার বিশাল ঝর্ণার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখার দ্বারাই আমার মাঝে বিরাট শক্তির স্রোত এসে যায়। মানুষ যখন নিজেকে আল্লাহ তা'আলার থেকে দূরে এবং পৃথক করে রাখে, তখন সে দুর্বল হয়ে যায়। নিজেকে যখন জাগতিক শক্তির একাংশ মনে করে সে চলে, তখন বরাবরই তার অনুভব হয়, কুদরতের সমূহ শক্তিই আমার আছে, তখন সে সমুদ্রের মত গভীর, পাহাড়ের মত অটল ও বিশাল হয়ে যায়। অতঃপর দৈন্যতার বিরুদ্ধে চেষ্টা-তদবীর করার ক্ষেত্রে সে আর একাকী থাকে না। সে বন্ধু-বান্ধব ও সাহায্যকারী বিহীন অসহায় থাকে না। যে নিজেকে দৈন্যতা থেকে ভিন্ন মনে করে চলে, কুদরত তার সাহায্য করে দেখিয়ে দেয়। তাতে মানুষের মাঝে এমন আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয় যে, সে অফুরন্ত ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, সৌন্দর্য ও সফলতা লাভের হকদার হয়ে যায়।

কিছু লোক বলে থাকে- দুনিয়ার সৃষ্টি এমনভাবে হয়েছে, এখানে কিছু লোক আমীর ও ধনাঢ্য থাকবে। আর বাকি লোক তাদের অনুগ্রহ-অনুকম্পা নিয়ে বেঁচে থাকবে। দুনিয়ার সুখ-শান্তির মাধ্যম সীমীত। কাজেই সব লোক এক রকম আমীর ও ধনী হতে পারে না। যে ব্যক্তি চেষ্টা-তদবীর করে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সেই ধন-সম্পদ অর্জন করে সুখ-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে। বাকী লোকদের জন্য শুধু দুঃখ আর দুঃখই রয়েছে।

এসব চিন্তাধারাই ভুল। এসব শুধু সন্দেহ-সংশয়। নিজেকে ধোঁকা দেওয়ার কথা। আল্লাহ তা'আলা কাউকে বড় কিংবা ছোট বানান নি। এটা তো মানুষেরই কাজ। যে ব্যক্তি ধন-দৌলত দখল করে আছে, তার এতটুকু অন্যায় নেই বরং তার অন্যায়ই বেশি যে ব্যক্তি এ অবস্থা সহ্য করে। আপনি যখন প্রচুর অর্থ-সম্পদ উপার্জন করা নিজের ইচ্ছাধীনই মনে করেন না, তখন অঢেল ধন-সম্পদ পাওয়ার জন্য আপনি চেষ্টা-তদবীরই কিভাবে করতে পারেন?

আল্লাহ তা'আলা কি দুর্বল? যত মানুষ তিনি সৃষ্টি করলেন, তাদের জীবন ধারনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসমূহ বন্দোবস্ত করার কথা কি তার জানা নেই? বাস্তবিকই আল্লাহ তা'আলা সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দ্বারা দুনিয়া ভরে রেখেছেন। মানব জীবনের সমূহ প্রয়োজন মেটানোর জিনিসপত্র এ দুনিয়ায় রয়েছে। কিন্তু মানুষ নিজের কারণেই তা থেকে বঞ্চিত থাকে।

জীবন ধারণের জন্য সর্বাধিক প্রয়োজনীয় জিনিস তরিতরকারী। মানুষ বলে- তরিতরকারির অভাব। কিন্তু অর্থনীতি বিশেষজ্ঞগণ এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন। তারা বলেন- দুনিয়ার অনেক জায়গা এমনও রয়েছে, যেখানে চাষাবাদ করা হয়নি। তন্মধ্যে অনেক জমি খুবই উর্বর, তাতে কুদরতি উর্বরতা এখনও রক্ষিত রয়েছে যা এ পর্যন্ত খরচ হয়নি। এ জমির যদি সঠিক ব্যবহার হয় তবে উৎপাদন দ্বিগুণ নয় অবশ্যই আরও বহুগুণ বেশি হবে। আর পৃথিবীর আবাদ জমিগুলোও উত্তম পরিচর্যা এবং বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের মাধ্যমে এমন এমন অবস্থায় উন্নীত করা যায়, যার দ্বারা জমির চেহারাই পাল্টে যাবে আর ফলনও বাড়বে প্রচুর।

প্রাচীন যুগে ঘরে আলো পাওয়ার জন্য চর্বি ব্যবহার করা হত। সমুদ্রে যখন তিমি মাছের অভাব দেখা দিল, তখন চরম তৈল সংকট সৃষ্টি হল। কিন্তু কেরোসিন তৈলের সন্ধান পাওয়ায় আলোর সমস্যা কেটে গেল। কিছু দিন পর বিজ্ঞানীরা বললেন- ভূ-গর্ভে খনিজ তেলের অভাব দেখা দিয়েছে, তখন মানুষ ঘাবড়ে গেল। কিন্তু এখন গ্যাস-বিদ্যুতের সাহায্যে অনেক কাজ সমাধা হচ্ছে। প্রয়োজন হল সকল আবিষ্কারের মা। বিদ্যুৎ উদপাদন ও বৈদ্যুতিক জিনিসের স্বল্পতার কারণে ভবিষ্যতে এটমিক শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় সন্ধান পাওয়া গেছে। সুতরাং একথা সুস্পষ্ট যে, মানুষ যদি নিজের মেধার সঠিক ব্যবহার করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলার অবিনশ্বর ভাণ্ডার থেকে মানুষ নিজের জন্য কল্যাণকর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুফে নিতে পারে। মানুষ যদি চিন্তাশীল, সচেতন, যোগ্য ও পরিশ্রমী হয়, তাহলে তার কোনও জিনিসের অভাব থাকে না। আল্লাহ তা'আলার চিরস্থায়ী ভাণ্ডারের সীমাহীন ও বিস্তর ধন-সম্পদ পড়ে আছে। এখনও তার একাংশের উপর মানুষ জয় লাভ করেনি। মহান বিজ্ঞানী 'নারায়ণ' দুনিয়ার প্রশস্ততার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন-

"আমি তো বিশাল অথৈসমুদ্রের তীরে দণ্ডায়মান এক শিশুর মত দোলা খাচ্ছি। এ পৃথিবী সীমাহীন। এ প্রশস্ত প্রান্তরের সীমানা নেই। আল্লাহ তা'আলার কত ভাণ্ডার না জানি এখনও লুকিয়ে আছে। যাতে মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণের বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ধরনের সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে। মানুষের কাজ হল, এ সব মাধ্যম ও উসীলা সন্ধান করা, অফুরন্ত ধন-সম্পদ অর্জন করা এবং যথাস্থানে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মানুষ নিজের মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও চিন্তা-চেতনা প্রয়োগ করবে। সে যদি নিজের ভিতরের শক্তি ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের চেষ্টা-তদবীর করে, তাহলে বিজয়-সফলতা তারই পদচুম্বন করবে। সফলতা সব সময়ই চেষ্টা-তদবীরের দাস।"
(ওয়ার্ল্ড ম্যান এন্ড ডায়মণ্ড)

ধনাঢ্যতার চিন্তাধারার কারণেই ধন-সম্পদ হাসিল হয়। দুনিয়ায় কোনও জিনিসের স্বল্পতা আছে এ ধারণাই ভ্রান্ত। যে মনে করে দুনিয়ায় এত এত ধন-ভাণ্ডার পড়ে আছে, সেই ধনী হয়, আমীর হয়। যে ধন-সম্পদের আশা রাখে, সেই ধনবান হয়। সে দরিদ্রতা-দৈন্যতাকে অস্বীকার করে। দরিদ্রতার কাছে নত স্বীকার করে না। তার উদ্দেশ্য বাস্তবিকই "ধন-দৌলত" হয়। নিজের এ অভিষ্ট লক্ষ্য সফল করার জন্য সে সব সময় মনে এ চিন্তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে।

যথারীতি নিজের মনকে বলতে থাকে- আমার পিতা আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, সবই আমার। তার উপর আমার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এ চিন্তা সব সময় তাকে উৎসাহ দিতে থাকে যে, কিছু কর, কিছু হও। সে নিজের এ অভিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিটি কদম ফেলে। যে ব্যক্তি নিজের সকল চিন্তাধারাকে একই উদ্দেশ্যে ধন-সম্পদের উপর নিবন্ধ রাখে, তার চিন্তাধারা বিচ্ছিন্ন থাকে না। তার কাছে নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই কেবল ফুটে উঠে। কাজেই সে নিজের সঠিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যস্থির করার ক্ষেত্রে সফলকাম হয়। এ সঠিক উদ্দেশ্যের জন্য মনের একাগ্রতা একান্ত জরুরী ও আবশ্যক।

যার চিন্তাধারা এদিক-ওদিক বিক্ষিপ্ত থাকে, সে বেকারত্বের অস্থিরতায় নিজের সময় নষ্ট করে। সে নিজের মাকসাদ ও উদ্দেশ্য সফল করার জন্য নিজের সমস্ত চেষ্টা-তদবীর ব্যয় করে না। কাজেই সে সফলতা অর্জন করতে পারে না। আপনার উদ্দেশ্য যদি সুস্পষ্ট হয়, তা যদি সব সময় মনের ভেতর থাকে এবং সফলতা লাভের জন্য নতুনভাবে চিন্তা-ফিকির করতে থাকেন, আপনার নিয়মিত সে অনুপাতে কাজ করার আগ্রহ, চেষ্টা-তদবীর ও চিন্তা-ভাবনার দ্বারা লক্ষ্যবস্তু আপনার কাছে আসতে থাকে। আপনি সজাগ দৃষ্টিতে ও সচেতনভাবে বড় বড় চেষ্টা-তদবীর করবেন। নিজের কাজ সমাধা করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যায় পড়বেন না। আপনি সজাগ থেকে সফলতার কোনও লাভজনক ও উপযুক্ত সময় নষ্ট করবেন না।

এ জগতের কোন সীমা নেই। কুদরতের ভাণ্ডারে কোনও জিনিসের স্বল্পতা নেই। এ ধন-সম্পদ একক কারও উত্তরাধিকার নয়। এতে কারও পূর্ব অধিকার নেই। এ ধন-সম্পদ অর্জন করার ক্ষমতাও আমাদের মাঝে প্রচুর। কিন্তু যখন আমরা আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তি থেকে নিজেদেরকে আলাদা করে রাখি, তখন আমরা তুচ্ছ, নগন্য নিরিহ ও অযোগ্য হয়ে যাই। যে নালার সম্পর্ক সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাতে পানি আসবে কোত্থেকে? আল্লাহ তা'আলার বিশাল ঝর্ণার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখার দ্বারাই আমার মাঝে বিরাট শক্তির স্রোত এসে যায়। মানুষ যখন নিজেকে আল্লাহ তা'আলার থেকে দূরে এবং পৃথক করে রাখে, তখন সে দুর্বল হয়ে যায়। নিজেকে যখন জাগতিক শক্তির একাংশ মনে করে সে চলে, তখন বরাবরই তার অনুভব হয়, কুদরতের সমূহ শক্তিই আমার আছে, তখন সে সমুদ্রের মত গভীর, পাহাড়ের মত অটল ও বিশাল হয়ে যায়। অতঃপর দৈন্যতার বিরুদ্ধে চেষ্টা-তদবীর করার ক্ষেত্রে সে আর একাকী থাকে না। সে বন্ধু-বান্ধব ও সাহায্যকারী বিহীন অসহায় থাকে না। যে নিজেকে দৈন্যতা থেকে ভিন্ন মনে করে চলে, কুদরত তার সাহায্য করে দেখিয়ে দেয়। তাতে মানুষের মাঝে এমন আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয় যে, সে অফুরন্ত ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, সৌন্দর্য ও সফলতা লাভের হকদার হয়ে যায়।

কিছু লোক বলে থাকে- দুনিয়ার সৃষ্টি এমনভাবে হয়েছে, এখানে কিছু লোক আমীর ও ধনাঢ্য থাকবে। আর বাকি লোক তাদের অনুগ্রহ-অনুকম্পা নিয়ে বেঁচে থাকবে। দুনিয়ার সুখ-শান্তির মাধ্যম সীমীত। কাজেই সব লোক এক রকম আমীর ও ধনী হতে পারে না। যে ব্যক্তি চেষ্টা-তদবীর করে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সেই ধন-সম্পদ অর্জন করে সুখ-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে। বাকী লোকদের জন্য শুধু দুঃখ আর দুঃখই রয়েছে।

এসব চিন্তাধারাই ভুল। এসব শুধু সন্দেহ-সংশয়। নিজেকে ধোঁকা দেওয়ার কথা। আল্লাহ তা'আলা কাউকে বড় কিংবা ছোট বানান নি। এটা তো মানুষেরই কাজ। যে ব্যক্তি ধন-দৌলত দখল করে আছে, তার এতটুকু অন্যায় নেই বরং তার অন্যায়ই বেশি যে ব্যক্তি এ অবস্থা সহ্য করে। আপনি যখন প্রচুর অর্থ-সম্পদ উপার্জন করা নিজের ইচ্ছাধীনই মনে করেন না, তখন অঢেল ধন-সম্পদ পাওয়ার জন্য আপনি চেষ্টা-তদবীরই কিভাবে করতে পারেন?

আল্লাহ তা'আলা কি দুর্বল? যত মানুষ তিনি সৃষ্টি করলেন, তাদের জীবন ধারনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসমূহ বন্দোবস্ত করার কথা কি তার জানা নেই? বাস্তবিকই আল্লাহ তা'আলা সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দ্বারা দুনিয়া ভরে রেখেছেন। মানব জীবনের সমূহ প্রয়োজন মেটানোর জিনিসপত্র এ দুনিয়ায় রয়েছে। কিন্তু মানুষ নিজের কারণেই তা থেকে বঞ্চিত থাকে।

জীবন ধারণের জন্য সর্বাধিক প্রয়োজনীয় জিনিস তরিতরকারী। মানুষ বলে- তরিতরকারির অভাব। কিন্তু অর্থনীতি বিশেষজ্ঞগণ এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন। তারা বলেন- দুনিয়ার অনেক জায়গা এমনও রয়েছে, যেখানে চাষাবাদ করা হয়নি। তন্মধ্যে অনেক জমি খুবই উর্বর, তাতে কুদরতি উর্বরতা এখনও রক্ষিত রয়েছে যা এ পর্যন্ত খরচ হয়নি। এ জমির যদি সঠিক ব্যবহার হয় তবে উৎপাদন দ্বিগুণ নয় অবশ্যই আরও বহুগুণ বেশি হবে। আর পৃথিবীর আবাদ জমিগুলোও উত্তম পরিচর্যা এবং বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের মাধ্যমে এমন এমন অবস্থায় উন্নীত করা যায়, যার দ্বারা জমির চেহারাই পাল্টে যাবে আর ফলনও বাড়বে প্রচুর।

প্রাচীন যুগে ঘরে আলো পাওয়ার জন্য চর্বি ব্যবহার করা হত। সমুদ্রে যখন তিমি মাছের অভাব দেখা দিল, তখন চরম তৈল সংকট সৃষ্টি হল। কিন্তু কেরোসিন তৈলের সন্ধান পাওয়ায় আলোর সমস্যা কেটে গেল। কিছু দিন পর বিজ্ঞানীরা বললেন- ভূ-গর্ভে খনিজ তেলের অভাব দেখা দিয়েছে, তখন মানুষ ঘাবড়ে গেল। কিন্তু এখন গ্যাস-বিদ্যুতের সাহায্যে অনেক কাজ সমাধা হচ্ছে। প্রয়োজন হল সকল আবিষ্কারের মা। বিদ্যুৎ উদপাদন ও বৈদ্যুতিক জিনিসের স্বল্পতার কারণে ভবিষ্যতে এটমিক শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় সন্ধান পাওয়া গেছে। সুতরাং একথা সুস্পষ্ট যে, মানুষ যদি নিজের মেধার সঠিক ব্যবহার করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলার অবিনশ্বর ভাণ্ডার থেকে মানুষ নিজের জন্য কল্যাণকর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুফে নিতে পারে। মানুষ যদি চিন্তাশীল, সচেতন, যোগ্য ও পরিশ্রমী হয়, তাহলে তার কোনও জিনিসের অভাব থাকে না। আল্লাহ তা'আলার চিরস্থায়ী ভাণ্ডারের সীমাহীন ও বিস্তর ধন-সম্পদ পড়ে আছে। এখনও তার একাংশের উপর মানুষ জয় লাভ করেনি। মহান বিজ্ঞানী 'নারায়ণ' দুনিয়ার প্রশস্ততার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন-

"আমি তো বিশাল অথৈসমুদ্রের তীরে দণ্ডায়মান এক শিশুর মত দোলা খাচ্ছি। এ পৃথিবী সীমাহীন। এ প্রশস্ত প্রান্তরের সীমানা নেই। আল্লাহ তা'আলার কত ভাণ্ডার না জানি এখনও লুকিয়ে আছে। যাতে মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণের বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ধরনের সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে। মানুষের কাজ হল, এ সব মাধ্যম ও উসীলা সন্ধান করা, অফুরন্ত ধন-সম্পদ অর্জন করা এবং যথাস্থানে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মানুষ নিজের মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও চিন্তা-চেতনা প্রয়োগ করবে। সে যদি নিজের ভিতরের শক্তি ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের চেষ্টা-তদবীর করে, তাহলে বিজয়-সফলতা তারই পদচুম্বন করবে। সফলতা সব সময়ই চেষ্টা-তদবীরের দাস।"
(ওয়ার্ল্ড ম্যান এন্ড ডায়মণ্ড)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00