📄 ইউরোপীয় জীবন ব্যবস্থা বা পশ্চিমা সমাজতন্ত্রের শিক্ষা
বিশ্ব মানবতার হিতাকাঙ্খী জনাব রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সামাজিক জীবন ও ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা অধ্যয়নের পর ইউরোপীয়গণ যে শিক্ষা সাধারণ মানুষদেরকে দিয়ে থাকে তা কি ইসলামী না ইউরোপীয় শিক্ষা তা অধ্যয়ন করুন এবং পরিমাপ করুন। ফায়সালা হবে স্বয়ং।
📄 নিজের অবস্থায় কিভাবে পরিবর্তন আনবেন ?
মানুষের মনের জোর সীমাহীন। মনের ধ্যান-ধারণা যেরূপ হবে ভাগ্যও তদ্রুপ হবে। আমরা জীবনে যা কিছু হতে চাই নিজের চিন্তাশক্তির মাধ্যমে হতে পারি। আমরা যে কোনও কাজ করতে চাইলে, তা করতে পারি। মনের শক্তি অপরাজেয়; পর্যুদস্ত করার মত নয়। এ শক্তি আমাদের চিন্তা-ধারণার মাঝে সীমাবদ্ধ। আমাদের চিন্তাধারা যদি আমাদের চাহিদা মাফিক হয়ে যায়, তবে আমরা কি না করতে পারি? আমাদের জীবনের লক্ষ্য স্থির করার মত যে আছে? স্বয়ং আমরাই কি নই? আমাদের জীবন গঠন কি আমাদের চিন্তাধারা মাফিক হয় না? আমরা যদি নিজেদেরকে চাহিদা মাফিক কাজে নিয়োজিত করি, তাহলে যেসব কাজ করার আকাঙ্খা আমাদের রয়েছে তাতে আমরা সফলতা লাভ করতে পারি। স্বীয় ভাগ্য গঠনের শক্তি যখন আমাদেরই তখন হতাশা বা নিরাশা কিসের?
মঞ্চে এসে যখন কোনও ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার কাজ করে, তখন সকলেই বলে, মঞ্চে আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি এসেছেন। দুনিয়ায়ও এমনই হয়। দুনিয়ার মঞ্চে এসে যদি আপনি ধনীর ভূমিকা পালন করেন, তবে আপনাকে ধনাঢ্য বলা হবে। দরিদ্রের ভূমিকা পালন করলে দরিদ্র বলা হবে। ঈমানদারের ভূমিকা রাখলে ঈমানদার বলা হবে। আবার বেঈমানের ভূমিকা রাখলে আপনাকে বেঈমানই বলা হবে। মঞ্চ অভিনেতার মনের অপরাজেয় শক্তির রহস্য আমরা ভালভাবে জানি। একবার এক অভিনেতা বলেন- আমি কখনও অসুস্থ হই না। কেননা আমার মনে কখনও কোনও খায়েশ হয় নি। আমার খায়েশ তো একটিই যে, কখন সময় হবে আর আমি মঞ্চে উঠে অভিনয় শুরু করব। হাজারও দর্শক যারা অধিক আগ্রহে আমার অভিনয়ের অপেক্ষায় থাকে, তাদের কারণে আমার ব্যক্তিত্ব, সাহস ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
হেজী ইভার্নেগ প্রসিদ্ধ এক অভিনেতা ছিলেন। "দ্য বিলেন্স" চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ছিল শীর্ষ চরিত্রের। তার ডাক্তার একবার তাকে চেকাপ করার পর বিশ্রামের পরামর্শ দেন। ডাক্তার আরও বলেন- যদি সে নিয়মিত অভিনয় করে যায় তবে তার জীবনের আশঙ্কা আছে। কিন্তু অভিনয়ের সময় হলে তাকে দমানো গেল না। মঞ্চে ওঠে গেল এবং অভিনয়ে এমনভাবে ডুবে গেল যে, নিজের স্বাস্থের ব্যাপারে একেবারে খেয়াল রইল না। তার অভিনয় পূর্বের মত কেবল ভাল হয়নি বরং ডাক্তারের ভবিষ্যদ্বাণীও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দর্শককূলের সাবাশ! সাবাশ! ধ্বনী এবং নিজের সফলতায় তার এত আনন্দ হল যে, তখুনি তার রোগ নিরাময় হয়ে গেল। এ হচ্ছে মনের জোরের প্রতিক্রিয়া। মনের জোর বিরাট ব্যাপার। দৃঢ় ইচ্ছা-শক্তি মানুষকে শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে মনপ্রাণ ও পূর্ণ যোগ্যতা দিয়ে নিজের কাজ উদ্ধার করতে বাধ্য করে।
এ মহান বিশ্বাসই মানুষের সমস্ত শারীরিক অযোগ্যতার উপর জয় লাভের যোগ্যতা অর্জন করে। মানুষ যখন মনে করে, তার পক্ষে চেষ্টা করা অসম্ভব, অমুক কাজ করা তার সাধ্যের বাইরে, তখনও এ মহান বিশ্বাস তাকে কাজের জন্য বাধ্য করে। ফলে কাজটা হয়েই যায়। কখনও কখনও আমরা ভাবি, এ কাজ তো আমরা আদৌও করতে পারব না। কিন্তু হঠাৎ ঢেউ ওঠে যায় আর আমরা ঐ কাজ করতে বাধ্য হই। তখন আমাদের সুপ্ত প্রতিভা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। এ শক্তির জোরে আমরা কাজটি করতে থাকি।
অভিনেতা, খেলোয়াড়, রাজনীতিবিদ, গায়ক এবং কবি সাহিত্যিকদের সামনে যখন কোনও পরীক্ষা আসে, তখন তাদের ভেতর কঠিন শক্তির স্রোত উথলে ওঠে। তাদের আত্মশক্তি ও মনের জোর শারীরিক দুর্বলতার উপর বিজয় লাভ করে। তাদের যোগ্যতা এত তীক্ষ্ণ হয়ে যায় যে, তাদের দেহে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। ফলে তাদের শরীর অসুস্থ থাকলেও তখন সুস্থ হয়ে যায়। যদি সুস্থ থাকে তবে শক্তির রত্ন ভাণ্ডার হয়ে যায়।
আমেরিকায় যখন গৃহযুদ্ধ চলছিল এবং চরম যুদ্ধবস্থা বিরাজ করছিল, সে সময় জাতীয় সৈন্যবাহিনীর জেনারেল গ্র্যান্টের পায়ে অত্যধিক প্ররিশ্রমের কারণে ভীষণ ব্যথা ছিল। কাজেই রণক্ষেত্র সে নিজে গেল না। এক জায়গায় অবস্থান করে যুদ্ধ পরিচালনা করছিল। অবস্থা ছিল মারাত্মক। প্রতিপক্ষ সৈন্যবাহিনীর কমাণ্ডার রণক্ষেত্র দখল নিয়েছে। তাতে গ্র্যান্টের সৈন্যদের বিরাট ক্ষতি হয়। একদিন নিজের শরীরে কমাণ্ডার গ্র্যান্ট দেখলেন- বিদ্রোহী সৈন্যরা আপোষ মীসাংসার শুভ্র ঝাণ্ডা উড়িয়ে দিয়েছে। এ আকস্মিক ঘটনায় গ্র্যান্টের উপর এমন প্রভাব পড়ল যে, চরম আগ্রহোদ্যমে ইজি চেয়ার ছেড়ে ছুটতে থাকেন। বিজয় নেশা এতই প্রবল ছিল যে, তিনি পা ব্যথার কথা একেবারে ভুলে গেলেন।
সানফ্রান্সকুতে যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, তখন কয়েকজন মুখ ঝলসানো রোগী মুহূর্তের মধ্যে সেরে গেল এবং জীবন বাঁচানোর প্রবল ইচ্ছা তাদের ভেতর এমন শক্তি সঞ্চার করল যে, তারা নিরাপদ স্থানের উদ্দেশ্যে ছুটে পালাতে লাগল। বস্তুতঃ মানুষ নিজের আভ্যন্তরীণ শক্তি সম্পর্কে অবগত নয়। সে আদৌ জানে না, তার মাঝে এত শক্তি-ক্ষমতা এবং যোগ্যতার অথৈ সমুদ্র তরঙ্গায়িত হচ্ছে। কিন্তু আকস্মাৎ স্রোত এসে গেলে শক্তির সাগর উত্তাল হতে থাকে। নিস্তেজ ঢেউগুলো জোয়ার ভাটা হয়ে মানুষের হেফাযতের জন্য, তার সাহায্যে এগিয়ে আসে। কেউ জানে না, পূর্বে এ শক্তি কোথায় লুকায়িত ছিল? আসলে মানুষের হৃদয়ের গহীনে এ শক্তি স্বপ্ননিদ্রায় সব সময় বিদ্যমান থাকে। মানুষ নিজেই তা জানে না। হঠাৎ সময় আসে। অজানা মনোবল যেখানে ঢেউ তোলে, সেখানেই এই শক্তি তরঙ্গায়িত হতে থাকে। কখনও কখনও লজ্জাকর ও ভীতিজনক বিপদ-আপদও সুযোগ মত অসাধারণ বীরত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে দেখা যায়। যে ব্যক্তি অন্ধকারে যেতে ভয় পায়, সে-ও কয়েকবার স্রোতধ্বনি শুনে হাসতে হাসতে জীবন বাজি লাগিয়ে দেয়।
হাজারো মহিলা নিজের শারীরিক কষ্ট-ক্লেশ উপেক্ষা করে গৃহস্থলির কাজকর্ম যথারীতি করে যায়। কেননা সে জানে, যদি সে খাট-পালঙ্কে বসে থাকে তবে ঘরের পুরা ব্যবস্থাপনা বিনষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য সে নিয়মিত কাজে লেগে থাকে। কাজের ব্যস্ততায় সে নিজের কষ্ট-ক্লেশ ভুলে যায়। আর বাস্তবিকই তার শারীরিক কষ্ট এমনিতেই দূর হয়ে যায়। সে বলে বেড়ায়, আরে ভাই! আমাদের রোগ-শোকের সময় কোথায়? চিন্তাশক্তির দৃঢ়তার কারণে তার সাধারণ ক্লান্তি-শ্রান্তি ও কষ্ট এমনিতেই দূর হয়ে যায়। এতই শক্তিশালী চিন্তাধারার প্রভাব।