📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শত্রুতা ও তালাক

📄 শত্রুতা ও তালাক


মনোবিজ্ঞানীগণ বলেন, আমরা যখন এমন কোনও ঘটনাকে সামনে রাখি, যা আমাদের লাঞ্ছনা-গঞ্জনার কারণ ছিল এবং তা ব্রেন থেকে মুছে না ফেলি, তাহলে ব্রেন এমন সবকাজে নিমজ্জিত হয়ে যায়, যা আমাদের জানা মতে শত্রুতা-বিদ্বেষ লালনের মূল কারণ। কাজেই আমরা আশপাশের সব জিনিসের উপরই নাক ছিটকাই, ঘৃণা করি। এসব মনস্তাত্ত্বিকগণ তালাকের কারণ অনুসন্ধান করলে একথাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, অর্ধেকের বেশি তালাকের ঘটনার পেছনে কারণ ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে সাধারণ ব্যাপার নিয়ে মতপার্থক্য। এ মতবিরোধের কারণ বিদূরীত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু স্ত্রী পেছনের ঘটনা ভুলতে চাইত না অথবা স্বামী পেছনের ঘটনা মাটিচাপা দিতে প্রস্তুত ছিল না। অবশেষে ঘটনা তালাক পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, অতীতের ঘটনা ও সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় না করা বরং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অতীতকে স্মৃতির পাতা এমনভাবে মুড়িয়ে রাখা উচিৎ যেভাবে আমরা বই-পুস্তক পড়ে বন্ধ করে রাখি। ফেল-সূফ উর্দুন বলেন- আমরা অযথাই শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষের আগুনে জ্বলে পুড়ে নিজেকে ধ্বংস করে দেই। আমরা অতীতের দুঃখ-কষ্টের উপর অশ্রু ফেলে আমাদের যে মহান চিন্তা চেতনা বিনষ্ট করি, তা যদি ঐ সব অবস্থা ও পটপরিবর্তন এবং শুধরানোর কাজে ব্যয় করতাম, যা আমাদের জন্য কষ্ট-যাতণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে নিশ্চিতভাবে বিকৃত অবস্থা ও শত্রুতা-বিদ্বেষের মূল কারণ মিটিয়ে দিতে আমরা সফলকাম হব।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 একটি জ্বলন্ত উপমা

📄 একটি জ্বলন্ত উপমা


জনৈক ইংরেজ জর্জ এক বন্দীর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সে বন্দী ষোল বছর যাবৎ বিনা অপরাধে জেলখানায় পুড়ে মরছিল। তার উপর হত্যার অভিযোগ ছিল। প্রকৃত হত্যাকারী ছিল তার চাচা। সে সবসময় অপরাধের কথা অস্বীকার করত। ফলে চাচার পাপের শাস্তি ভাতিজাকে ভোগ করতে হয়। অবশেষে সে জেল থেকে মুক্তি পেল, তবে প্রতিশোধের জন্য নয় বরং নতুন জীবন শুরু করার লক্ষ্যে। চল্লিশ বছর বয়সে সে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। যাতে ওয়ায-নসীহতের তরীকা শিখতে পারে এবং ফিরে গিয়ে কারাগারের পাশে নেক ও নেক কাজের তাবলীগ করতে পারে। যার মধ্যে তাদের কল্যাণ নিহিত ছিল। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে ক্ষমা ও সহানুভূতির ব্যাপারে সীমাহীন উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি গোম্বা ও রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষমা ও সহানুভূতির সাথে কাজ করে, তাকে বিরাট কল্যাণের রূপকার সাব্যস্ত করা হয়েছে। অধুনা বিশ্বের ডাক্তার-কবিরাজগণও আমাদেরকে ক্ষমা ও সহানুভূতির উপদেশ দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ৮০% মাথা ব্যথা, বদহজমী, রক্তশূন্যতা, ব্লাড পেশার এবং পাকস্থলীর রোগ-ব্যাধির মূল কারণ স্থায়ী দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট এবং জীবনের তিক্ততা নিয়ে দুর্ভাবনা। এমনকি এতে হৃদরোগ পর্যন্ত হয়ে যায়। এটা কেবল তাদের বেলায়ই ক্ষতিকর নয়, যারা নিজের শক্তি সামর্থের চেয়ে বেশি কাজ করে বরং যারা সুখ-স্বাচ্ছন্দেও জীবন যাপন করে তাদের পক্ষেও খারাপ।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনার কারণ

📄 নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনার কারণ


সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শতকরা চল্লিশভাগ মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হয়ত চালকদের মানসিক অবস্থা অথবা যাত্রীদের ব্যক্তিগত জটিলতা, এলোমেলো ও দুশ্চিন্তাই দায়ী। যেগুলো মাথায় চেপে তাদেরকে আকস্মিক দূর্ঘটনা সম্পর্কে উদাসীন করে দিয়েছে। ঘরের আঙ্গিনায় মহিলাদের সামনে যেসব ঘটনা ঘটে থাকে, তার অধিকাংশের পেছনে এই মানসিক বিকারগ্রস্থতা ও উদাসীনতাই কাজ করে। তেল বা গ্যাসের চুলা কিংবা হিটার জ্বলছে কিন্তু মহিলার মাথায় নিজের ভাগ্যের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা চেপে বসেছে তখনই তার কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে অগ্নি দগ্ধ হয়।

অফিস, কল-কারখানায় দূর্ঘটনা ঘটার কারণও তাই। অফিসারদের মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা আরোপের কারণে কর্মচারীরা ভিতরে ভিতরে যন্ত্রনাদগ্ধ হতে থাকে। আর প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সুচারুরূপে আঞ্জাম দেওয়ার পরিবর্তে কাজটি তারা বিকৃত ও বিনষ্ট করে ফেলে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুক্তির পথ

📄 মুক্তির পথ


প্রশ্ন হয়, আমরা এসব চিন্তা-ভাবনা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারি? এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষপূর্ণ অনুভূতির কারণগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। জানতে হবে, এগুলো আমাদের চিন্তা-ভাবনায় কখন কোথা থেকে কিভাবে স্থান করে নিয়েছে। তাহলে আমরা অতি দ্রুত বুঝতে পারব যে, ভুল ও অন্যায় মূলতঃ আমাদের নিজেদেরই ছিল। কিন্তু মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতেও প্রস্তুত নয়। সে সব সময় উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায় মত্ত থাকে।

সুমার সট মাহিম বলেন- একি আশ্চার্যের বিষয় নয় যে, আমরা নিজের বড় বড় হাতিয়ারকে অন্যের সামন্য ও তুচ্ছ হাতিয়ারের মুকাবিলায় কত কম বিপদজনক মনে করি। এর কারণ সুস্পষ্ট। আমরা নিজের হাতিয়ারকে আত্মরক্ষামূলক ভাবি। ফলে এ ব্যাপারে কোনও অভিযোগ তুলি না। কিন্তু অন্যের হাতিয়ারকে আমাদের জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক ভাবি। ফলে তা একদম বরদাশ করি না। দ্বিতীয়তঃ নিজেদের মধ্যে দূর্ঘটনাগুলোকে একেবারে ভুলে যাওয়ার যোগ্যতা তৈরি করা জরুরী।

জনৈক সাহিত্যিক এক দম্পতির ঘটনা প্রসঙ্গে লিখেন- তাদের পালক পুত্র এক যুদ্ধে মারা যায়। ছেলেটি ঐ দম্পতির কাছে জীবনের চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল। তারা সিদ্ধান্ত নিল, মাতম-মার্সিয়া করে ছেলেটির সুন্দর অতীতকে কষ্ট ও যন্ত্রনাদগ্ধ করব না বরং তারা ছেলেটির স্মৃতি চারণে নিজ খরচে এক মাদরাসা খুলে দিল। মাদ্রাসার নাম রাখল ছেলেটির নামে। সেখানে যুদ্ধে নিহত লোকদের সন্তান-সন্তাতিদের শিক্ষা-দিক্ষার ব্যবস্থা করল। শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে কণ্ঠনালী পবিত্র রাখাই যথেষ্ট নয় বরং এ জযবাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যত গঠনের পেছনে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমতা ও বিচক্ষণতার দাবী। জীবন সৌন্দর্য ও সৌকর্যের প্রতিচ্ছবি।

যেভাবে ভালবাসা থেকে ভালবাসা জন্ম নেয়, তদ্রুপ বিদ্বেষ থেকে বিদ্বেষ জন্ম নেয় এবং তা লালন করে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, সময়-সুযোগ ও চিন্তা-শক্তিকে শত্রুতা-বিদ্বেষ লালনে নষ্ট না করা। আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া সত্ত্বেও জীবনের সৌন্দর্যের স্বাদ উপভোগ করার মত যোগ্যতা আমাদের ভেতর থাকতে হবে। এ কেমন জীবন যে, সূর্য উদয় হয় আবার অস্ত যায় আর আমরা নিজের বাজে চিন্তা-ভাবনাই ডুবে থাকি। পাখি ডাকে, আমরা শুনি না। ফুল ফুটে, পাপড়ি মেলে, আমরা চোখ খুলে তাকাই না। নিজেকে নিয়েই আচ্ছন্ন থাকি। জীবন বড় সুন্দর ও মনোহর। তবু কেন আমরা নিজেদের শত্রুতা-বিদ্বেষ ভুলে জীবনের স্বাদ গ্রহণ করি না। নিজের দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনাগুলো কেন অজানা অতল গহ্বরে দাফন করি না। তবেই তো আমরা জীবন তরী তার শেষ ঠিকানায় নঙ্গর করার পূর্বে জীবনের সৌন্দর্য ও সৌকর্যে অভিভূত হতে পারব।
(ইজদেওয়াজী নফসিয়াত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00