📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ১. নিজের সুস্থতার জিম্মাদার হও

📄 ১. নিজের সুস্থতার জিম্মাদার হও


একবার সুস্থতার গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করুন এবং দৃঢ় সংকল্প করার পর মনে করুন, আপনি রাজ্য জয় করে ফেলেছেন। সর্বাধিক দূর্ভেদ্য স্থান অতিক্রম করে ফেলেছেন। আল্লাহ তা'আলার সাহায্যও আপনার জন্য এসে গেছে। তার তাওফীক আপনার বন্ধু হয়ে গেছে। কাজ সমাধার জন্য যা প্রয়োজন আপনার কাছে তা রয়েছে। আর যতটুকু বাকি আছে, তাও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এসে যাবে। এটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। বেভান সুণ্ডার্স তার একটি গ্রন্থে লিখেছেন, আমি যে জিনিসের প্রচার করি স্বয়ং আমিও তার উপর আমল করি। আমি রোগীদের বলে থাকি, তুমি রোগের পরিপূর্ণ রেকর্ড রাখবে। আমি রোগীদের কারও রেকর্ড নিজ ফাইলে রাখি না। তিনি বলেন- রোগী নিজের সম্পর্কে ডাক্তার অপেক্ষা ভালো জানে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ২. নৈরাশ ডেকে আনবে না

📄 ২. নৈরাশ ডেকে আনবে না


আসল লক্ষ্য স্থল স্থির করুন। কাজ যত বেশি কিংবা ভারীই হোক তথাপি নিজের চাহিদা ও আশানুরূপ ফল না পেলেও নিরাশ হবেন না। অপরাজেয় থাকুন। দৃঢ় অবিচল থাকুন। অবশ্য আপনার চাহিদা ও আশা আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মাফিক হওয়া বাঞ্চনীয়। নৌকা চালানো আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। কিন্তু হয়ত সাইকেল চালানো কঠিন হবে না। নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উঁচু থেকে উচুঁতর রাখা উত্তম। নিজের অবস্থা বিচারে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তা পরিবর্তন ও সংশোধন করা থেকে পিছ পা হবেন না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ৩. নিজের সাধ্যমত চলা-ফেরা করা

📄 ৩. নিজের সাধ্যমত চলা-ফেরা করা


চলা-ফেরা করার সময় অতি দ্রুত কিংবা মন্থরভাবে পা ফেলা উচিৎ নয় বরং চলার গতি এমন হওয়া উচিৎ, যেভাবে সারাজীবন চলা যায়। কেননা তা সারা জীবনেরই কাজ। উত্তম হল, আপনি প্রথমে দশ ভাগের এক ভাগ জোর দেবেন এবং এ শক্তির উপর দৃঢ়ভাবে চলতে থাকবেন। অতঃপর ধীরে ধীরে গতি বাড়াবেন। এমন করবেন না যে, কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ঘনঘন খুব জোর দেবেন আর তারপর ছেড়ে দিবেন।

ডাক্তার সুণ্ডার্স বলেন, বিজ্ঞোচিত কাজ হয় ধীরস্থিরভাবে। কিন্তু তা বহুদূর পর্যন্ত পৌছে দেয়। এভাবে পর্যাক্রমে এগিয়ে যাওয়া উন্নতির নির্ভরযোগ্য সোপান। এ পন্থা বিশেষতঃ সেসব লোকের জন্য যথোপযুক্ত, যারা বছরের পর বছর চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করেন এবং নিজের সুস্থতা কামনা করেন। ডাক্তার হিন্স কর্ভাস এম, ডি বলেন, বৃদ্ধ লোকদের জন্য ব্যায়াম শান্তিপূর্ণভাবে শুরু করা উচিৎ। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে হাত পা হেলানো, শরীর নাড়ানোর অভ্যাস করা উচিৎ। তিনি আরও বলেন, বুড়োদের শরীরে যুবকদের মত চঞ্চলতা ও দ্রুতি সৃষ্টি হয় না। কাজেই ব্যায়াম প্রথম থেকে আরম্ভ করা উচিৎ এবং নিয়ম মাফিক ক্রমান্বয়ে ব্যায়ামকে আগে বাড়ানো উচিৎ।

ডাক্তার সুণ্ডার্স বলেন, ব্যায়াম প্রথমে লঘু হওয়া উচিৎ। যাতে সামান্য কষ্ট ও ক্লান্তি আসবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে কঠিন ব্যায়ামের দিকে যাবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ৪. সামান্য কষ্ট সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকুন

📄 ৪. সামান্য কষ্ট সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকুন


মানুষ অশান্তি ও অসুস্থতাকে একই জিনিস মনে করে। ডাক্তার সুণ্ডর্স বলেন, বিষয়টি এমন নয় বরং হুবহু বিপরীত। অর্থাৎ দুঃখ-কষ্ট এবং অসুস্থতার বাস্তবতা আদৌ এক নয়। উদাহরণ স্বরূপ আপনি শরীরচর্চার প্রোগ্রাম শুরু করলেন। তাহলে শরীরের এমন স্থানেও চোট লাগার সম্ভাবনা আছে, যে দিকে আপনি কখনও ভ্রুক্ষেপ করেননি। অধিকন্তু যে ব্যক্তি পূর্বে শরীরিক প্ররিশ্রমের কাজ করেনি, তার ব্যাপারে একথা প্রায় নিশ্চিত বলা যায়। ডাক্তার সুণ্ডর্স বলেন, ব্যথা চেনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোমর ব্যথাক্রান্ত হওয়ার কারণ এ-ও হতে পারে যে, আপনার পেটের কল-কব্জা দুর্বল কিংবা তাতে খিচুনী-উত্তেজনা আছে। ফলে শরীর মালিশ করার প্রয়োজন। ব্যায়ামের কারণে যদি শরীর ব্যথা সৃষ্টি হয়, তাহলে ব্যথা দূর হওয়া পর্যন্ত ব্যয়াম না করা উচিৎ। ব্যথা দূর হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ধীরস্থিরভাবে ব্যায়াম শুরু করা উচিৎ।

কফি বা নেশা ব্যবহার ছেড়ে দিলে মাথা ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে এর পীড়াদায়ক কারণগুলো একেবারে গৌণ করে দেখা হয়। মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন বা নেশা ব্যবহার কারীর আঠার ঘণ্টা পর মাথা ব্যথা শুরু হয়। প্রথম প্রথম মনে হয় মাথায় কিছু ঢুকে গেছে এবং মাথা ভার ভার লাগছে। তার পর মাথাব্যথা শুরু হয়। তিন চার ঘণ্টা পর্যন্ত মারাত্মকভাবে এ অবস্থা বিরাজ করে। এমন কি দু' একদিন পর্যন্তও অপরিবর্তিত থাকে। এ ব্যথা দূর করার জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট পন্থা হল, চা-কফি পান করা বা এমন হাই পাওয়ারের বড়ি সেবন করা, যা সাধারণতঃ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বাজারে পাওয়া যায়। নেশাগ্রস্থের কাছে তা ভাল লাগলেও আসল জিনিস থাকবে বহাল তবিয়তে।

প্রখ্যাত মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার রিচার্ড ফেভাক্স এমন লোকদের জন্য একটি সাদাসিধে তদবীর আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে কফি পান করা ছাড়াই মাথা ব্যথা দূর করা যায়। তা হল, আক্রান্ত ব্যক্তি কফি পানের স্থলে যদি এমন কফি ব্যবহার শুরু করে, যার দ্বারা নেশা দূরীভূত হয় এবং নিয়মিত কফি ব্যবহার ত্যাগ করে নেশামুক্ত কফি পান করতে শুরু করে, তবে নেশার মাত্রা কেবল এ পরিমাণই থাকবে যা তার জন্য ক্ষতিকর নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00