📄 দুশ্চিন্তা
যে কোনও সাধারণ মানুষের জীবনে সময় সময় দুশ্চিন্তা এসে থাকে। কিন্তু সন্দেহ প্রবণ লোকদের সব সময় কোনও না কোনও ব্যাপারে মারাত্মক দুশ্চিন্তা পীড়িত করতে থাকে। কারও ধন-সম্পদ ছিনতাই হওয়ার আতঙ্ক হয়। কারও চাকুরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। কারও কারও নিজের হুঁশ-বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় কিংবা কারও পরীক্ষায় ফেল হওয়া কিংবা নাম্বার কম পাওয়ার দুশ্চিন্তা হয়ে থাকে। এ ধরনের লোক নিজেকে হেফাযত করা এবং সান্ত্বনা দেওয়ার লক্ষ্যে নানা ধরনের পদ্ধতি ও পন্থা অবলম্বন করে। তন্মধ্যে নিম্নে কিছু প্রদত্ত হল।
ক. বিনয়-নম্রতা ও আনুগত্য অবলম্বন করে। কেননা তার ধারণা মতে কোন মানুষ বাধ্যগত ব্যক্তিকে কষ্ট বা বিপদে ফেলে না।
খ. নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে। যাতে সহজে কেউ তার ক্ষতি সাধনে সফলকাম হতে না পারে।
গ. পিছ পা হওয়ার মাঝেই মুক্তি মনে করে। জীবনের সংগ্রাম ও মারদাঙ্গা থেকে পালিয়ে ঘরকুণো হয়ে বসে।
ঘ. নিজের চিন্তা-ধারা ও হতবুদ্ধিতার বোঝাকে লাঘব করার চেষ্টা করে।
ঙ. সীমাতিরিক্ত খাওয়া বা পরিশ্রমে শরীর বিনষ্ট করে নিজের ভুল পেরেশানীতে ডুবে থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সন্দেহ প্রবণ লোক কমবেশি স্বাভাবিক জীবন যাপন করে। পক্ষান্তরে মাজনুন বা পাগল লোক সম্পূর্ণ এর বিপরীত। সে যথারীতি রোগাক্রান্ত থাকে। তার চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত সেবা শুশ্রুষা ও তত্ত্বাবধান জরুরী হয়ে পড়ে। পাগলামীর বাহ্যিক আলামতগুলো হল-
১. দুনিয়া ছেড়ে চিন্তা জগতে ডুবে যায়।
২. বিস্ময়কর ও নির্বোধের মত আচরণ করে।
৩. অবাস্তব শব্দ শুনে আর কাল্পনিক ছবি দেখে।
৪. বাচ্চাদের মত আচরণ করে। যেমন, উল্টো দিকে চলে। বিছানায় প্রস্রাব পায়খানা করে দেয় ইত্যাদি।
৫. রোগী সকল মানুষের প্রতি খারাপ ধারণা করে। সব সময় মনে করে যে, লোকজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
৬. কোনও কোনও রোগী নিজে নিজে ধোঁকা খায়। তার কাছে মনে হয়, সে কোনও বড় ব্যক্তিত্ব বা রাজা-বাদশা কিংবা খোদা।
৭. কোনও কোনও রোগী মোমের মত হয়ে থাকে। তার পুরা দেহটা জড়পদার্থের মত যে দিকে খুশি ঘুরানো যায়।
৮. এ রোগী অধিকাংশ সময় উত্তেজিত থাকে। কোনও প্রশ্নের জবাব দু তিন মিনিটের পূর্বে দিতে পারে না। অকারণেই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাঁদতে থাকে।
৯. রোগী সব সময় পেরেশান ও চিন্তিত থাকে। কখনও কখনও আত্মহননের উপরও উদ্বুদ্ধ হয়ে যায়।
- সাইন্স ম্যাগাজিন
📄 স্বাস্থ্য রক্ষা ও ইসলামী শিক্ষা
• ইসলাম আশা-আকাঙ্খা ও আত্মপ্রচেষ্টার ধর্ম। হতাশা ও নৈরাশ্যকে ইসলাম কুফর সাব্যস্ত করে।
• সুখ-দুঃখ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত বলে মনে করবে।
• ভাল-মন্দ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত বলে মনে করবে। সকল দুঃখ-কষ্ট সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার সাথে সহ্য করবে। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে। তার উপরই ভরসা রাখবে। কখনও নিরাশ হবে না। ইসলামের এসব নীতিমালা বিশদভাবে নিম্নে আলোচনা করা হল। বিষয়গুলো অন্তর্দৃষ্টিতে অধ্যয়ন করুন।
📄 সুস্থতার সাতটি পন্থা
স্মরণ রাখবেন, দৃঢ় সংকল্প এবং তার উপর আমল করা দুটি ভিন্ন জিনিস। আপনি শরীরচর্চা বাড়াতে চান, কফি পানের অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন কিংবা রূহের হাকীকত বা আত্মার বাস্তবতা নিয়ে গবেষণা করতে চান কিংবা শুধু আঙ্গুল ফুটানোর বদঅভ্যাস দূর করতে চান, তাহলে জেনে রাখুন, এসব কাজের সফলতা আপনার ইচ্ছার দৃঢ়তার উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দীর্ঘ জীবনের পুরনো অভ্যাস বদলে ফেলা ও সহসাই তা ত্যাগ করা চাট্টিখানি কথা নয় কিংবা বাচ্চার খেলনাও নয়। আরামের বস্তু ও বদ অভ্যাসের বৈশিষ্ট্য এমন যে, তা আপনাকে নিজ অবস্থা থেকে সরে আসতে দিবে না। তা বিদূরীত করার জন্য চেষ্টা শুরু করে তাকে স্বজোরে আঘাত করা অতি জরুরী।
জনৈক এম, ডি দশ বছর ধরে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো মানুষের মধ্য থেকে বিদূরীত করার খেদমত করেছেন। তিনি মানুষের ভেতরকার বিকৃত রুচি ও অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। ক্ষতিকর অভ্যাসসমূহের উপর বিজিত হওয়ার উপায়গুলো খুব সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ এবং মনে ধরার মত ব্যাখ্যা করার যোগ্যতা তার মধ্যে প্রচুর রয়েছে। তিনি মানুষের সামনে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন যে, নাইজেরিয়াতে কিভাবে বদঅভ্যাস মৃত্যু মুখে পৌঁছে দিয়েছিল? সাথে সাথে নিজের ঐ গবেষণার কথাও বলেন, যা স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রে বদঅভ্যাস পীড়িত লোকদের চিকিৎসা কালীন সময় করেছিলেন। একদিকে তিনি বলেন- যত দ্রুত সম্ভব হয় বদঅভ্যাস বিদূরীত করা এবং কুস্বভাব ত্যাগ করার জন্য কঠোর মেহনত শুরু করতে হবে। কেননা তড়িৎ পদক্ষেপই উত্তম প্রতিষেধক। অপর দিকে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন যে, সুস্থ জীবন যাপনের পদক্ষেপ বিলম্বে নেওয়া হলেও একে বিলম্ব বলা উচিৎ নয়। তিনি বলেন- এমন লোকের সাথেও আমার সাক্ষাত হয়েছে, যারা স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গ্রহণে আদৌ প্রস্তুত নয়। কিন্তু আমার এমন একজন লোকের সাথেও সাক্ষাত হয়নি, যে স্বাস্থ্য সম্মত অভ্যাস গ্রহণ করতে সক্ষম নয়। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিম্নোক্ত সাতটি পরামর্শ দিয়ে থাকেন।