📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সন্দেহ প্রবণতার যাদু

📄 সন্দেহ প্রবণতার যাদু


মানুষের উপর ঝুট-ঝামেলা আবর্তিত হলে তার কাজকর্মে যেসব অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা দেয়, কোনও সাধারণ মানুষও কি তা থেকে মুক্ত থাকার দাবী করতে পারে? কিন্তু আমরা এখানে যেসব কাজকর্মের কথা আলোচনা করব, তা কেবল ব্রেণের রোগীদের থেকেই প্রকাশ পায়। সহজে বুঝার জন্য আমরা এ ধরনের রোগীদেরকে দুভাগে বিভক্ত করতে পারি।
(ক) সন্দেহ প্রবণ Neurotics
(খ) উন্মাদ, Psychotics
প্রথম প্রকার লোক নিজ জীবনে এমন হাস্যকর কাজকর্ম করে থাকে, যাতে তার চেনা-জানা লোকদের কাছে তার রোগের খবর খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তথাপি এসব লোকের হাস্যকর কাজকর্ম বাদ দিয়ে সাধারণ জীবন যাত্রা কম বেশি স্বাভাবিক ধরনেরই হয়ে থাকে। সে নিজের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করে, কামাই রোজগার করে। তার অস্তিত্ব কারও উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না পক্ষান্তরে মাজনূন বা পাগল ব্যক্তিকে সম্পূর্ণরূপে অন্যের মুখাপেক্ষী ও সাহায্য প্রত্যাশী হতে হয়। সে নিজের কোনও কাজকর্ম করতে পারে না। ফলে এ প্রকৃতির অধিকাংশ লোক স্বীয় পরিবার ও স্বজনদের জন্য শুধু বোঝাই নয় বরং রীতিমত আযাবেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্দেহ প্রবণ লোক যেসব আচরণে প্রবৃত্ত হয় তন্মধ্যে হিস্টোরিয়াই প্রধান। মানুষ অজান্তেই ছোট ছোট রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় স্বাধারণ মানুষও হঠাৎ হঠাৎ মাথা ব্যথা অথবা অন্য কোনও সাধারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কিন্তু সন্দেহ প্রবণ ব্যক্তির রোগ অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য মনোস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা অথবা অবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগের মূল কারণ দূরীভূত করা জরুরী। হিস্টোরিয়া আক্রান্ত একটি শিশুর ঘটনা লক্ষ্য করুন। হঠাৎ করেই সে একদিন ল্যাংড়াতে শুরু করে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে বলে, বগলের কাছে ব্যথা রয়েছে। কদিন পর তার রং হলুদ হয়ে গেল এবং ওজন কমতে আরম্ভ করল। ডাক্তারগণ গভীরভাবে তাকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করলেন। কয়েকটি এক্সরে নিলেন। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হল না। কোনও কোনও ডাক্তারের অভিমত ছিল, সম্ভবতঃ পাজরের হাড্ডিতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। কিন্তু নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছিলেন না। আশ্চর্যের কথা হল, তার মা যখনই ব্যথাস্থান ছুয়ে দেখত, মেয়েটি ব্যথায় অস্থির হয়ে যেত। অথচ ডাক্তারদের মতে এত ব্যথা হওয়ার কোনও কারণ ছিল না। কখনও কখনও সে মায়ের কোলে মাথা ফেলে রাখত এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নিষ্প্রাণ ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকত। কখনও ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। মায়ের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করত। তার মুখে আঘাত করত। হাতের নাগালে যা পেত তা দিয়ে মায়ের গায়ে আঘাত করত। অবশেষে এক অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী মেয়েটিকে পরীক্ষ-নিরিক্ষা করলেন। তখনই সকল জট খুলে গেল। তার পিতা-মাতার পরস্পর সম্পর্কে মারাত্মক টানাপোড়েন ছিল। ঘরে প্রতিদিনই বাগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। বাগড়া বিবাদের এ দৃশ্য বাচ্চার কাছে বড়ই অসহ্যকর ছিল। ফলে সে একারণেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে।
মনোস্তাত্ত্বিক এ তথ্য উদঘাটনের পর পিতা-মাতা পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ বন্ধ করে দেন। উভয়ই বাচ্চার চিকিৎসা ও দেখা শোনায় যত্নবান হন। পিতা-মাতার কাছে তার রোগের মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে গেলে তারা নিজেদের সংশোধন করে নেন। ফলে বাচ্চা অল্প কদিনেই সুস্থ হয়ে ওঠে।
এমনই এক ঘটনা ঘটেছে এক ষোড়ষী মেয়ের জীবনে। তার বংশ ছিল অনেক বড়। মা সারা দিন গৃহস্থলির কাজে ব্যস্ত থাকতেন। এক মেরু (নামের ষোড়ষী কন্যাটি) ছাড়া তাকে সহযোগীতা করার মত আর কেউ ছিল না। কাজেই স্কুল থেকে ফিরে এসে মেয়েটিকে গৃহস্থলীর সকল কাজকর্ম করতে হত। বেচারীকে ঝাড়ু দেওয়া, হাড়ি পাতিল মাঝা, কাপড় কাচা, রান্না-বান্নাসহ নানা কাজে এত কষ্ট করতে হত যে, তাতে তার বিরক্তি ও বিতৃষ্ণা এসে যায়। একদিন কোনও ব্যাপারে মা তাকে ধমকালেন। তখন সেও রেগে গিয়ে গালমন্দ শুরু করে। এতে মা রাগ হয়ে তাকে ঝাটা ফিকে মারে। ওটা গিয়ে পড়ে মেয়েটির চোখের ওপর। এতে তার দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। কয়েকজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ তার চোখের পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেন। সকলেই বলেন- এর চোখের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু মেয়ের দৃষ্টিশক্তি অকেজো হয়ে গিয়েছিল। সে দেখতে পেত না। অনুরূপভাবে এক ভদ্রলোক ছিলেন। তার স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। কোনও প্রকার সমস্যা ও রোগ-ব্যাধি ছিল না। কিন্তু বার্ষিক চেকাপের সময় এলে তার ব্লাড পেশার দেখা দিত। বিশেষজ্ঞগণ শত চেষ্টা করেও এর ডাক্তারী কোনও কারণ বের করতে পারলেন না। অবশেষে যখন তার জীবনধারা পর্যালোচনা করা হয় তখন এক বিষ্ময়কর তত্ত্ব বেরিয়ে আসে। ছাত্র জীবনে তাকে খুব মেহনতী ও যোগ্য মনে করা হত। I.A পাশ করার পর তার ডাক্তারী অথবা ইঞ্জিনিয়ারী পড়ার আগ্রহ ছিল খুব। পরীক্ষা শেষে ঘরে এসে কোন এক পরীক্ষার খাতা সম্পর্কে বলেছিল, একশত ভাগ সঠিক উত্তর দিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ পরীক্ষার এ ফলাফল বের হওয়ার পর দেখা গেল, ঐ খাতায় ফেল নাম্বার এসেছে। এ ঘটনায় সে এত বেশি মর্মাহত হল যে, সে পরীক্ষাকেই ভয় পেতে থাকে। এ ভয়-ভীতি তার হৃদয়ের গভীরে গেঁথে যায়। ফলে বার্ষিক ডাক্তারী চেকাপের সময় এলে সে হাই ব্লাড পেশারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পাগলামী

📄 পাগলামী


বিবেক অগ্রাহ্য কোন খেয়াল মাথায় চাপার নাম পাগলামী। উদাহরণস্বরূপ হাই স্কুলের এক ছাত্র সব সময় বলতে থাকত "আমি খারাপ হব না।" এমনকি পড়াশোনায় বসলেও অনিচ্ছায়ই তার মুখ থেকে একথা বেড়িয়ে আসত। এভাবে তার মনোযোগ বিনষ্ট হয়ে যায়। সে কোন কাজ ভালভাবে আঞ্জাম দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। বহু পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর জানা গেল, ছেলেটির বাবা অত্যন্ত কঠিন মনের মানুষ। ভুলেও কখনও তাকে আদর-স্নেহ করে না। এমনকি ভালভাবে কথাও বলে না। কথায় কথায় অভিসম্পাত করে এবং ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ধমকি দেয়।
একবার ছেলেটি মজাক করে সহোদরা ছোট বোনের চেয়ার উল্টে দিয়েছিল। ফলে তার পাজরের হাড্ডি জখম হয়ে যায়। তিন মাস পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হল। এ অপরাধের কারণে বাবা ছেলেটিকে মারাত্মকভাবে প্রহার করে। উঠতে বসতে ভর্ৎসনা ও অভিশাপ করতে থাকে। ফলে ঘটনাটি ছেলেটির ব্রেণে গভীর রেখাপাত করে। সে সারাক্ষণ বোনের অসুস্থতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকে এবং মনে মনে কষ্ট পেতে থাকে। ফলে সে "আমি খারাপ হব না" বাক্যটি জপতে শুরু করে। আজ এ বাক্যটি ভুলার জন্য লাখো প্রচেষ্টা করে। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার মুখে বাক্যটি এসে যায়। দীর্ঘ কয়েক মাস পর ছেলেটি আরোগ্য লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অনেচ্ছিক আচরণ

📄 অনেচ্ছিক আচরণ


কিছু কিছু রোগীদের থেকে হাস্যকর আচরণ প্রকাশ পায় সত্য। কিন্তু ঐ কাজে লিপ্ত হওয়ার পেছনে তার ইচ্ছার কোনও দখল থাকে না। অর্থাৎ সেচ্ছায় সে ঐ কাজে লিপ্ত হয় না।
উদাহরণ স্বরূপ কারও হাত ধোয়ার রোগ আছে। কারও সাথে সে হাত মিলায় বা মুসাফাহা করে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সাবান দ্বারা ভালমত তার হাত না ধৌত করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ হাত স্বশরীরে লাগাবে না। এমনভাবে পৃথক ঝুলিয়ে রাখবে, যেন তা তার শরীরেরই অংশ নয়। বেবি-টক্সেী ইত্যাদিতে বসার প্রয়োজন হলে সর্বদা একাকী বসবে। যেন অবাঞ্ছিত কিছু লেগে হাত দুর্গন্ধযুক্ত না হয়ে যায়।
আরেক ব্যক্তি ঝুটা পানিকে ঘৃণা করে। একবার জনৈক ব্যক্তি তার টিউব ওয়েলে মুখ লাগিয়ে পানি পান করেছিল। ব্যাস, কি আর করা! সে লোকটি পুরো পাম্প উঠিয়ে ফেলে এবং নিজে উপস্থিত থেকে তা ভালভাবে পরিষ্কার করে পুনরায় বসিয়ে নেয়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তির পা ধোয়ার পাগলামী রয়েছে। অযু করতে বসলে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত সে পা ধৌত করতে থাকে। কোনও সাবান বা ব্রাশ দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে তা নয় বরং বসে শুধু পানি ঢালতে থাকে এবং হাতে ঘষতে থাকে। কয়েক বার এমন হয়েছে যে, বসে তার পা ধুতে ধুতেই নামাযের জামাআত শেষ।
আমার পরিচিত এক ভদ্রলোক আছেন। তার ঘরে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে সুস্থতা লাভ করে, তবে তার বাচ্চা-কাচ্চারা বাকি ঔষধ পথ্য সেবন করে ফেলে। ওগুলে ফেলে রেখে নষ্ট করা আদৌ পছন্দ করে না। এমন লোকও পাওয়া যায়, যারা রাতে ঘুমানোর পূর্বে ঘরের বাইরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে রাখে। তারপর রাতে তিন চার বার ওঠে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে আসে, বাস্তবিকই তালা লাগানো আছে কি নেই?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অযৌক্তিক ভয় ভীতি

📄 অযৌক্তিক ভয় ভীতি


সন্দেহ প্রবণ লোক একেবারে খামোখা বিষয়েও ভয় পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক পর্যায়ে রণক্ষেত্র ভারি উত্তপ্ত ছিল। নিরাপদ ক্যাম্পে বসেও এক সিপাহী প্রচণ্ড রকমের ভীত সন্ত্রস্ত ছিল। তাই সে গোলা বর্ষণের মুহূর্তেই সেখান থেকে পালিয়ে আসে। তার উপর মনোস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায় যে, শৈশবে একবার সে বাবার ঘড়ি চুরি করেছিল। তা বিক্রি করে যখন ঘরে ফিরছিল। পথিমধ্যে এক চাপা গলিতে পাগলা কুকুর দেখতে পায়। তাকে দেখেই ঐ কুকুর জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। তাতে সে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ঘটনাটি তার কাছে বিরাট পীড়াদায়ক ছিল। এতে তার মন ভীষণ আতঙ্কে উঠে, সংকীর্ণ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আসল ঘটনা তো তার ব্রেণ থেকে মুছে গেছে। কিন্তু এখনও সে সংকীর্ণ ও বিপদসংকুল স্থানে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়।

তেলাপোকা খুবই ক্ষুদ্র ও অক্ষতিকারক একটি পোকা। কিন্তু এক মহিলা এটাকে মারাত্মক ভয় করে। ঘরে যখন কোনও তেলাপোকা দেখতে পায়, তখন সে চেঁচাতে চেঁচাতে টেলিফোনের দিকে দৌড়ায় এবং তাকে তেলাপোকার কবল থেকে উদ্ধার করার জন্য স্বীয় স্বামীকে অফিস ফেলে তৎক্ষণাত বাড়ী আসার জন্য তাগাদা দেয়। কয়েকবার তো এমন হয়েছে যে, স্বামী বেচারা জরুরী কাজে দূর শহরে ব্যস্ত ছিল। আর সে মহিলা জরুরী ভিত্তিতে তাকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে ফোনে ডাকতে থাকে। এ ধরনের আহমকী ও মূর্খতাজনিত ভয়-ভীতি কয়েক প্রকারের হতে পারে। উচ্চস্থানের ভয়, প্রশস্ত বা খোলা ময়দানে ভয়, আবদ্ধ জাগার ভয়, ক্ষুদ্র জীবাণুর ভয়, ভীড় বা মানুষের ভয়, বিষ প্রয়োগের আতংক, জীব-জন্তুর আতঙ্ক ও ভয়ের ভয় অর্থাৎ এমন আতঙ্ক যে, আমি ভয় পাব। বাহ্যতঃ এসব ভয় ভীতি নিতান্তই অযৌক্তিক ও দূর্বোধ্য মনে হয়। কিন্তু যদি এর গোঁড়ায় পৌছার চেষ্টা করা হয়, তবে দেখা যাবে- এসব ভয়-ভীতি একেবারে অমূলক নয়। এর পেছনে অবশ্যই কোনও কারণ রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00