📄 ২. কোমল ভাষা
নিজেকে ভাবগম্ভীর ও ভয়ঙ্কর বানিয়ে কারও মন জয় করা যায় না। তবে হাঁ, সম্বোধিত ব্যক্তি তার প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত হতে পারে। আর যদি তার মতই উগ্র স্বভাবের লোক হয়, তাহলে সুস্পষ্টতই সে ঘৃণা ও অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। সুতরাং রুক্ষ ও কর্কষ ভাষা ব্যবহারের পূর্বে একটু চিন্তা করে দেখুন, এতে কি আপনি অন্যের মনে নিজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করছেন না শত্রুতা? সাথে সাথে আপনি একজন মুসলমান হিসেবে নবীজীর এ শিক্ষাও সামনে রাখুন।
হযরত জাবের রাযি বলেন, নবীজী বলেছেন- কোমল ভাষা থেকে মাহরুম (বঞ্চিত) ব্যক্তি সমস্ত কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়।
📄 ৩. ঠাট্টা বিদ্রূপ না করা
হাসি-তামাশা ছলে কারও ইজ্জত-সম্মানে আঘাত হানা পরষ্পর শত্রুতা সৃষ্টির মূল কারণ। গতকাল পর্যন্ত আপনি কথায় কথায় যাদেরকে নিজের তামাশার পাত্র বানিয়েছেন আজ তার থেকে কোনও মঙ্গলের আশা কিভাবে করতে পারেন? হযরত আলী রাযি. বলেন-
جراحات السنان لها التيام + ولا يلتام ماجرح اللسان
"তরবারির ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়, কিন্তু জবানের ক্ষত কখনও নিরাময় হয় না।
ঠাট্টা করা মূলতঃ নির্বোধ কম আকল ও অকর্মা লোকদের কাজ। কুরআনে কারীমে এসব লোকদেরকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তোমরা যাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছ, হতে পারে তারা তোমাদের অপেক্ষা উত্তম।
📄 ৪. দোষারোপ না করা
وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ
"তোমরা একে অপরকে দোষারোপ কর না এবং মন্দ নামে ডেকো না।"
কুরআনের আহকামের হক্কানিয়্যাত ও সত্যতা আমাদের বাস্তব জীবনে পরিলক্ষিত হয়। অন্যের মনে নিজের ভালোবাসা জন্মানোর লক্ষ্যে তার ইজ্জত করা আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য। কাউকে অভিসম্পাত করা এবং কারও নাম বিকৃত করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। নতুবা কি বা কোন প্রয়োজনে শুধু শুধু কেউ আমাদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলবে?
📄 ৫. ولا تجـوا কারো দোষ ত্রুটি তালাশ কর না।
ولا تجسّسوا
"কারও দোষ ত্রুটি তালাশ কর না।"
মনে করুন, কেউ আপনার দোষ-ত্রুটি তালাশ করে এবং আপনাকে লাঞ্ছিত করার ধান্দায় থাকে আপনি তার জঘন্য কাজের কথা জানার পরও কি তার সাথে সরল মুখে কথা বলতে আগ্রহ দেখাবেন? কখনও নয়। তদুপরি কি দরকার আছে একজন দুশমন তৈরী করার? ঘটনাক্রমে যদি কারও দোষ-ত্রুটি আপনি জেনেও যান তাহলে নবীজীর এ শাশ্বত বাণীর উপর আমল করুন। "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনও মুসলমান ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, পরোকালে আল্লাহ তা'আলা তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।"
স্মরণ রাখবেন! আমাদেরকে মুহতাসিব বা বুযুর্গ বানিয়ে দুনিয়ায় পাঠানো হয়নি। স্বয়ং নিজেকেই ভাল হতে হবে এবং ভালোর উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে। অনুরূপভাবে কুরআনের আহকামের উপর আমল করতঃ কারও পিছনে তার দোষ চর্চা করবেন না। একথা যখন সে জেনে যাবে তখন তার কাছে আপনার কি মর্যাদা থাকবে? বিষয়টি দু' একজনের মাঝে সিমাবদ্ধ না থেকে চরম দুর্ঘটনা পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে।