📄 ১. হাস্যেজ্জল থাকা
ঠোটের কোনায় হাসির রেখা লেগে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাগের কারণে মানুষের ৪৬টি অঙ্গ প্রভাবিত হয়। আর হাসিতে হয় চৌদ্দটি। সম্ভবতঃ অট্টহাসি ও ক্রোধ উভয় অবস্থায় মেরুদণ্ডে চোট বা আঘাত লাগে পক্ষান্তরে মুচকি হাসির কারণে অন্তত মেরুদণ্ড সমান্তরাল থাকে। তাছাড়া আমরা কেন শরীরে অযথাই বোঝা চাপিয়ে দেব। নবীজীর শিক্ষাও তাই। নিজের ভাইয়ের সাথে মুচকি হাসির সাথে মিলিত হও। এটাও একটা সদকা।
📄 ২. কোমল ভাষা
নিজেকে ভাবগম্ভীর ও ভয়ঙ্কর বানিয়ে কারও মন জয় করা যায় না। তবে হাঁ, সম্বোধিত ব্যক্তি তার প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত হতে পারে। আর যদি তার মতই উগ্র স্বভাবের লোক হয়, তাহলে সুস্পষ্টতই সে ঘৃণা ও অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। সুতরাং রুক্ষ ও কর্কষ ভাষা ব্যবহারের পূর্বে একটু চিন্তা করে দেখুন, এতে কি আপনি অন্যের মনে নিজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করছেন না শত্রুতা? সাথে সাথে আপনি একজন মুসলমান হিসেবে নবীজীর এ শিক্ষাও সামনে রাখুন।
হযরত জাবের রাযি বলেন, নবীজী বলেছেন- কোমল ভাষা থেকে মাহরুম (বঞ্চিত) ব্যক্তি সমস্ত কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়।
📄 ৩. ঠাট্টা বিদ্রূপ না করা
হাসি-তামাশা ছলে কারও ইজ্জত-সম্মানে আঘাত হানা পরষ্পর শত্রুতা সৃষ্টির মূল কারণ। গতকাল পর্যন্ত আপনি কথায় কথায় যাদেরকে নিজের তামাশার পাত্র বানিয়েছেন আজ তার থেকে কোনও মঙ্গলের আশা কিভাবে করতে পারেন? হযরত আলী রাযি. বলেন-
جراحات السنان لها التيام + ولا يلتام ماجرح اللسان
"তরবারির ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়, কিন্তু জবানের ক্ষত কখনও নিরাময় হয় না।
ঠাট্টা করা মূলতঃ নির্বোধ কম আকল ও অকর্মা লোকদের কাজ। কুরআনে কারীমে এসব লোকদেরকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তোমরা যাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছ, হতে পারে তারা তোমাদের অপেক্ষা উত্তম।
📄 ৪. দোষারোপ না করা
وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ
"তোমরা একে অপরকে দোষারোপ কর না এবং মন্দ নামে ডেকো না।"
কুরআনের আহকামের হক্কানিয়্যাত ও সত্যতা আমাদের বাস্তব জীবনে পরিলক্ষিত হয়। অন্যের মনে নিজের ভালোবাসা জন্মানোর লক্ষ্যে তার ইজ্জত করা আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য। কাউকে অভিসম্পাত করা এবং কারও নাম বিকৃত করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। নতুবা কি বা কোন প্রয়োজনে শুধু শুধু কেউ আমাদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলবে?