📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মনস্তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণ

📄 মনস্তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণ


যে ব্যক্তির কোনও ভাল গুণ আছে, যদি তার নিজের মাঝে সে গুণটি কখনও পরিলক্ষিত না হয়, তাহলে শুধু এতটুকু যে, মনে হচ্ছে তার মাঝে এ ভাল গুণ আছে। এধরনের অতিরঞ্জিত প্রশংসাকে অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজন বলা হয়। নিঃসন্দেহে এতে তার অবস্থাটাই সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এ বিরূপ অবস্থা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। যখন একটা ভাল গুণ তার মাঝে থাকে না।

এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যাচ্ছে। মিস্টার ওয়াশিংটন কোন এক অনুষ্ঠানে তার জনৈক বন্ধুসহ আমন্ত্রিত মেহমান হোন। এক বন্ধু মিস্টার সাহেবের প্রসংশা করলেন। আর তাও এমন ভঙ্গিতে যে, তার পদ মর্যাদা অপেক্ষা বহুগুণ বেশি। এতে মিস্টার ওয়াশিংটন বিরাট প্রভাবিত হয়ে বললেন, বন্ধু আমি সে ব্যক্তি যাকে তোমরা সবাই চেন-জান? আমার স্থান থেকে তোমরা কখনও আমাকে কথায় উপরে উঠিয়ো না। এমন যেন না হয় যে, অবশেষে আমি এ মিথ্যে সম্মেলনকে নিজের জন্য অপমান মনে করি। (মাহনামায়ে নফসিয়‍্যাত)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ফলপ্রসূ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

📄 ফলপ্রসূ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি


অভিজ্ঞ সমাজবিদগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে নিম্মোক্ত ভাষায় আলোচনা করেছেন। মানুষ সমাজের সৌন্দর্য। সকলের সামনেই তার স্বরূপ ফুটে উঠে। এ চেহারার কারণেই তাকে চেনা যায়। কিন্তু তার পরিচিতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তার দৃষ্টিভঙ্গি। তার আচারণ ও দৃষ্টিভঙ্গি কি সকলের সামনে একই রকম এবং ভারসাম্যপূর্ণ কিংবা পাত্র অনুযায়ী হয়? নিশ্চিত জেনে নিন। প্রত্যেক মানুষ তার রূপ, কথা বার্তা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী খ্যাতি পায়। সম্মানযোগ্য ব্যক্তি সেই, যে নিজের অবস্থা মাফিক প্রত্যেক স্থান-পাত্র ভেদে একই রকম হয়ে থাকে। তার মনুষত্য ব্যক্তি মর্যাদা সৌহার্দ সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধ ইত্যাদিতে পার্থক্য না হয়। এমন ব্যক্তি বাস্তবিকই সমাজের জন্য গর্বিত পুরুষ। (জিন্দেগী খুশ গাওয়ার করে)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রতিবেশিক কষ্ট দেওয়া

📄 প্রতিবেশিক কষ্ট দেওয়া


• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তি কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্টতা হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদে নয়। (মুসলিম)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নিউজার্সির প্রতিবেশী

📄 নিউজার্সির প্রতিবেশী


নিউজার্সির গাঞ্চান এলাকায় বিজডন শহরে ক্রি নামে একজন মহিলা ছিলেন। তিনি নিজ ফ্লাটেই বসবাস করতেন। তিন সন্তানের এক পরিবার তার পাশের ফ্লাটে থাকত। ঐ বাচ্চারা স্বভাবতঃ অধিকাংশ সময় নিজেদের ফ্লাট (তৃতীয় তলায়) থেকে নিচে ঝুকে ঝুকে দেখত। এক জায়গায় রেলিংয়ের ভাঙ্গা ছিল। বাচ্চারা সেখানে মাথা ঢুকিয়ে নিচে দেখত। ক্রি তার বাচ্চাদের প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন। কিন্তু এদের মা বাচ্চাদের প্রতি খুব একটু লক্ষ্য রাখত না। একদিন ক্রি কিছুটা দূরে ছিলেন। এমন সময় রেলিংয়ের ফাঁকা দিয়ে ঐ প্রতিবেশী বাচ্চা নিচে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বাচ্চাটি ঝুলন্ত সুন্দর একটি কাপড়ের আচল ধরার চেষ্টা করছিল। স্পষ্টতই শিশুর এই প্রচেষ্টা তাকে মুহূর্তের মধ্যে নিচে নিপতিত করতে পারত। তৎক্ষণাত ক্রির মন সহমর্মিতার প্রেরণায় ব্যাকুল হয়ে উঠল।

কিন্তু সে চিৎকার করে বলল না যে, এ-ই ছেলে! ফিরে এসো! নতুবা নিচে পড়ে যাবে। বরং সে অত্যন্ত স্নেহ আদরের সাথে বলল, বাবা এ খেলনা গুলো নাও এবং খুব সোহাগের সাথে তাকে নিজের কাছে ডাকল। বাচ্চাটি ঐ সুন্দর কাপড় ভুলে ক্রির প্রতি আকৃষ্ট ও মনোযোগী হয়ে গেল। ধীরে ধীরে ঐ বিপদজনক অবস্থা থেকে সরে এসে তার দিকে এগুতে লাগল। ক্রিও এগিয়ে এসে তাকে সামলে নিল।

এ ঘটনা বাড়ির মালিকের কান পর্যন্ত পৌঁছে। তিনি এ সংবাদ দৈনিক পত্রিকায় এভাবে প্রকাশ করেন যে, যদি প্রতিবেশি ক্রি হায় হায় করত কিংবা চিৎকার করে বাচ্চাটিকে ডাকত, তবে বাচ্চা সে আতঙ্কেই নিচে পড়ে যেত। কিন্তু ক্রি তা, ক্রি এমনটি না করে বরং তিনি মনোবিজ্ঞানের পন্থা গ্রহণ করে বাচ্চাকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করেন। সবশেষে সংবাদপত্রে লিখেন, গোটা ইউরোপ-আমেরিকার কেউ কি এমন আছে, যে প্রতিবেশীর এতটুকু হক আদায় করবে। তার সমবেদনা জানাবে। জান মালের হেফাযত করবে, আদৌ কেউ এমন নেই। (নিউজ ওয়েক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00