📄 মনোবিজ্ঞানীদের গবেষনা
এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানীগণ বিশেষতঃ মিস্টার কট ও জোমঞ্জর তাদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার পর বলেন, যদি কোনও বাচ্চারও সম্মুখে প্রশংসা করা হয়, তবে আশঙ্কা আছে যে, তার স্বভাব-চরিত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এসে যাবে। আমি এমনও দেখেছি যে, আজ যদি কোনও শিশুর প্রশংসা করা হয় আর পরবর্তীতে তার প্রশংসা না করা হয়, তাহলে সে একে নিজের লাঞ্ছনা মনে করবে। আর সব সময় অপেক্ষায় থাকবে, কেউ যেন তার প্রশংসা করে। ঠিক এসময় বাচ্চা শিশুরা ধীরে ধীরে বদ অভ্যাসের প্রতি ঝুকে পড়ে। জোমঞ্জ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন- যদি কারও সম্মুখে তার প্রশংসা করা হয়। আর সে ব্যক্তি এক কাজকে নিজের দায়িত্ব মনে করে, তাহলে তার অধঃপতন তরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমনও দেখা গেছে যে, তার মেযাজ মর্জিই পাল্টে গেছে। তার মন-মানসিকতায় বিরাট পার্থক্য এসে গেছে। (মাহনামায়ে নফসিয়াত)।
📄 অতিরিক্ত প্রশংসা করার নিষেধ
• হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা আমার প্রশংসায় অতিরঞ্জন কর না যেমনটা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে খ্রিস্টানরা করেছে। আমি আল্লাহ তা'আলার বান্দা। তোমরা আমার ব্যাপারে এতটুকুই বল যে, আপনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
📄 মনস্তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণ
যে ব্যক্তির কোনও ভাল গুণ আছে, যদি তার নিজের মাঝে সে গুণটি কখনও পরিলক্ষিত না হয়, তাহলে শুধু এতটুকু যে, মনে হচ্ছে তার মাঝে এ ভাল গুণ আছে। এধরনের অতিরঞ্জিত প্রশংসাকে অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজন বলা হয়। নিঃসন্দেহে এতে তার অবস্থাটাই সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এ বিরূপ অবস্থা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। যখন একটা ভাল গুণ তার মাঝে থাকে না।
এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যাচ্ছে। মিস্টার ওয়াশিংটন কোন এক অনুষ্ঠানে তার জনৈক বন্ধুসহ আমন্ত্রিত মেহমান হোন। এক বন্ধু মিস্টার সাহেবের প্রসংশা করলেন। আর তাও এমন ভঙ্গিতে যে, তার পদ মর্যাদা অপেক্ষা বহুগুণ বেশি। এতে মিস্টার ওয়াশিংটন বিরাট প্রভাবিত হয়ে বললেন, বন্ধু আমি সে ব্যক্তি যাকে তোমরা সবাই চেন-জান? আমার স্থান থেকে তোমরা কখনও আমাকে কথায় উপরে উঠিয়ো না। এমন যেন না হয় যে, অবশেষে আমি এ মিথ্যে সম্মেলনকে নিজের জন্য অপমান মনে করি। (মাহনামায়ে নফসিয়্যাত)
📄 ফলপ্রসূ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
অভিজ্ঞ সমাজবিদগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে নিম্মোক্ত ভাষায় আলোচনা করেছেন। মানুষ সমাজের সৌন্দর্য। সকলের সামনেই তার স্বরূপ ফুটে উঠে। এ চেহারার কারণেই তাকে চেনা যায়। কিন্তু তার পরিচিতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তার দৃষ্টিভঙ্গি। তার আচারণ ও দৃষ্টিভঙ্গি কি সকলের সামনে একই রকম এবং ভারসাম্যপূর্ণ কিংবা পাত্র অনুযায়ী হয়? নিশ্চিত জেনে নিন। প্রত্যেক মানুষ তার রূপ, কথা বার্তা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী খ্যাতি পায়। সম্মানযোগ্য ব্যক্তি সেই, যে নিজের অবস্থা মাফিক প্রত্যেক স্থান-পাত্র ভেদে একই রকম হয়ে থাকে। তার মনুষত্য ব্যক্তি মর্যাদা সৌহার্দ সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধ ইত্যাদিতে পার্থক্য না হয়। এমন ব্যক্তি বাস্তবিকই সমাজের জন্য গর্বিত পুরুষ। (জিন্দেগী খুশ গাওয়ার করে)